24/03/2026
বাসন্তী পূজা ২০২৬🙏
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখনই ধরণীতে আগমন ঘটে দেবী দুর্গার আদি রূপের (রাজা সুরথের প্রবর্তিত আদি দুর্গা পূজার)। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো বাসন্তী পূজা, যা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে পালিত হয়। শাস্ত্র মতে, এটিই দেবী দুর্গার মূল আরাধনার সময়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আচারবিধি: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি ঋষি মেধসের পরামর্শে প্রথম বসন্তকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন নিজের হারানো রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য। তাই একেই দেবী দুর্গার আদি পূজা বলে গণ্য করা হয়। শরৎকালের দুর্গাপূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয় কারণ ভগবান রামচন্দ্র অকালে দেবীকে জাগ্রত করেছিলেন, কিন্তু বাসন্তী পূজার সময় দেবী স্বয়ং জাগ্রত থাকেন বলে ষষ্ঠীতে আলাদা করে বোধনের প্রয়োজন হয় না।
বিশেষ রীতি ও ভোগ: বাসন্তী পূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো বাসন্তী পোলাও। ঘি, কাজু-কিসমিস দিয়ে তৈরি হলুদ বর্ণের এই মিষ্টি পোলাও দেবীর অত্যন্ত প্রিয় ভোগ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া উত্তর ভারতে এই সময়টি চৈত্র নবরাত্রি হিসেবে নয় দিন ধরে দেবী শৈলপুত্রী থেকে সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনার মাধ্যমে পালিত হয়।
তাৎপর্য: যদিও বর্তমানে শারদীয়া দুর্গা পূজার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি, তবুও বাংলার অনেক বনেদি বাড়ি ও মণ্ডপে আজও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রাচীন এই বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৬ বাসন্তী পূজার নির্ঘণ্ট: ২০২৬ সালে চৈত্র নবরাত্রি বা বাসন্তী পূজা শুরু হচ্ছে ১৯শে মার্চ, বৃহস্পতিবার থেকে। তবে বাঙালির প্রধান উৎসবের চার দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমীর নির্ঘণ্ট নিম্নরূপ:
🔸মহাষষ্ঠী (৯ই চৈত্র, ২৪শে মার্চ, মঙ্গলবার): এই দিন দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণ জানানো হয়। ষষ্ঠী তিথি শুরু হবে ২৩শে মার্চ রাত্রি ৯টা ৩৭ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৪শে মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে।
🔸মহাসপ্তমী (১০ই চৈত্র, ২৫শে মার্চ, বুধবার): নবপত্রিকা স্নান ও মহাসপ্তমী পূজা। সপ্তমী তিথি শেষ হবে ২৫শে মার্চ বিকেল ৪টে ৪৯ মিনিটে।
🔸মহাষ্টমী (১১ই চৈত্র, ২৬শে মার্চ, বৃহস্পতিবার): এই দিনই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধিপূজার মাহেন্দ্রক্ষণ হলো ২৬শে মার্চ দুপুর ২টো ৬ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ৫৪ মিনিট পর্যন্ত।
🔸মহানবমী (১২ই চৈত্র, ২৭শে মার্চ, শুক্রবার): নবমী তিথি শেষ হবে ২৭শে মার্চ দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে।
🔸বিজয়াদশমী (১৩ই চৈত্র, ২৮শে মার্চ, শনিবার): দেবী বিসর্জন ও বিজয়াদশমী উদযাপিত হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া তিথি ও সময়সূচি স্থানীয় পঞ্জিকা ও গণনা ভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় রীতি ও পঞ্জিকা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।🙏