শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ।

  • Home
  • Bangladesh
  • Sandwip
  • শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ।

শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ। জয় রাম,জয় গোবিন্দ

🌹রাম ঠাকুর ও যোগীশ্বর কালীপদ গুহ রায়ের প্রথম মহামিলন🌹একদিন 'পরমবন্ধু' যোগীশ্বরকে বললেন, 'রাম তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।'...
30/04/2026

🌹রাম ঠাকুর ও যোগীশ্বর কালীপদ গুহ রায়ের প্রথম মহামিলন🌹

একদিন 'পরমবন্ধু' যোগীশ্বরকে বললেন, 'রাম তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।'

যোগীশ্বর আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'রাম আবার কে?'

পরমবন্ধু বললেন, খুব বড় সাধু। বড় সাধু বললেও তাঁর পরিমাপ হয় না। তন্ত্র ও যোগের যুগ্ম রশ্মি ধরে আছেন তিনি।'

যোগীশ্বর তাঁকে কখনো দেখেন নি। সানন্দে রাজী হন। 'বন্ধু' বললেন, 'আগামী কাল বেলা তিনটের সময় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তরে প্রধান ফটকের সামনে রাম অপেক্ষা করবে। সে সময় যেয়ো।'

যোগীশ্বর নিজেই এই সাক্ষাৎকারের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনটের সময় উত্তর গেটে গিয়ে দেখেন গৌরকান্তি, দীর্ঘদেহ, উজ্জ্বল নয়ন এক ব্যক্তি খড়ম পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে ধুতি এবং একটি হাফহাতা ফতুয়া। যোগীশ্বর বুঝতে পারলেন ইনিই সাধুমহলে বহুলশ্রুত খ্যাতনামা ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ রামঠাকুর।

স্থানটি জনবিরল। জাপানী বোমার ভয়ে শহর থেকে লোক প্রায় গ্রামের দিকে চলে গেছে। এগিয়ে যেতেই শ্রীমৎ রামঠাকুর সহাস্যে অভ্যর্থনা করলেন যোগীশ্বরকে।

বললেন, 'এসো, এসো, কালীভাই।' প্রেমভরে জড়িয়ে ধরলেন। পরম উৎসাহে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা হলো। দেখে মনে হচ্ছিল পূর্ণ ব্রহ্মজ্ঞ রামঠাকুর যেন নন, ইনি আনন্দোজ্জ্বল এক তরুণ।

কথাপ্রসঙ্গে রামঠাকুরকে যোগীশ্বর প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা, এই যাঁকে আমি 'বন্ধু' বলে ডাকি, আসলে ইনি কে?'

শুনেই দিব্য আনন্দের আভা ছড়িয়ে পড়লো রামঠাকুরের চোখে মুখে। বললেন, 'ভাই, ইনি হচ্ছেন সেই মহাশক্তি-ঋষি, মুনিরা, আমাদের মতো সাধকেরা যুগে যুগে যাঁকে ভক্তিভরে ধ্যেয়ায়।'

যোগীশ্বর বললেন, 'তা আমায় ইনি এমন করে ধরেছেন কেন বলুন তো?'

উত্তর দিলেন রামঠাকুর, 'কালীভাই, তোমার যে জন্ম জন্মান্তরের সুকৃতি আছে। তাই তোমার পেছনে এমন ভাবে লেগে রয়েছেন।' রসিকতা করে মন্তব্য করলেন, 'ভাই, ইনি তো সব সময় মানুষকে এড়িয়ে চলেন, সহজে ধরা দেন না, তোমার কাছে যখন ধরা পড়ে গেছেন, আচ্ছা করে শিক্ষা দিয়ে দাও তো ভাই।' বলেই কিশোর বালকের মতো হাসিতে ফেটে পড়লেন।

কথাবার্তায় প্রায় দু'ঘণ্টা কেটে গেছে। যোগীশ্বরের হঠাৎ মনে হলো পাঁচটার সময় নিমতলায় একজনের সঙ্গে দেখা করতে হবে। রামঠাকুর প্রশ্ন করলেন, 'তোমার কি হলো? চিন্তা করছ যেন।'

যোগীশ্বর বললেন, 'নিমতলায় পাঁচটার সময় একজনের সঙ্গে দেখা করার কথা। খুব জরুরী কাজ। তা দেখছি পাঁচটা তো বেজেই গেল। তাকে আর ধরা যাবে না।'

দিব্য মধুর হাসি ছড়িয়ে রামঠাকুর বললেন, 'এই কথা? তবে যাও নিমতলায়।'

যোগীশ্বর বললেন, 'কি আশ্চর্যের কথা, পর মুহূর্তেই আমি দেখছি- যার বাসায় আমি যাবো ঠিক তার বাড়ীর স্টপে নিমতলার ট্রাম থেকে আমি নামছি, রাস্তার উপরে পা রাখছি। বেলা পাঁচটার সময়, দিনের বেলাতে রামভাই আমাকে ফিজিকালি মুহূর্তের মধ্যে চালান করে দিলেন পাঁচ মাইল 'দূরেকার গন্তব্যস্থলে।'

পরদিন 'বন্ধু'র সঙ্গে সাক্ষাৎ হতেই তিনি সহাস্যে বললেন, 'রামের সঙ্গে দেখা করে কাল কেমন লাগলো তোমার?'

সব কথা বলে যোগীশ্বর বললেন, 'হিপনোটিজম্ নয়, ফিজিক্যালি রাম ভাই মুহূর্তে আমার এই শক্ত সমর্থ দেহটাকে দূরে চালান করে দিলেন?'
প্রসন্নকণ্ঠে 'বন্ধু' বললেন, 'হ্যাঁ রাম বললো-দিলাম আমার কালীভাইকে একটা ধাক্কা দিয়ে। আমাদের দুই সখার মধ্যে একটা মজা হয়ে গেল।'

জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর। জয় যোগীশ্বর শ্রীশ্রী কালীপদ গুহ রায়।

--------------------------------------

অদ্য ৩০ এপ্রিল রাত্রি ৮টা ৫৭মিনিট ৫৪সেকেন্ড পরবর্তী সময়ে পূর্ণিমা তিথি। (ভারতীয় সময় ৩০ মিনিট পূর্বে)পূর্ণিমা তিথি থাকবে ...
30/04/2026

অদ্য ৩০ এপ্রিল রাত্রি ৮টা ৫৭মিনিট ৫৪সেকেন্ড পরবর্তী সময়ে পূর্ণিমা তিথি। (ভারতীয় সময় ৩০ মিনিট পূর্বে)
পূর্ণিমা তিথি থাকবে আগামীকাল রাত্রি ১০টা ০৮মিনিট ৯সেকেন্ড পর্যন্ত।

আগামীকাল শুক্রবার ১ মে বৈশাখী/ বৌদ্ধ পূর্ণিমার উপবাস, শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পূজা ও ব্রত। শুধুমাত্র পূর্ণিমা তিথি দেখে নয়, নিয়ম মেনে #প্রদোষকালীন সময়ে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা করুন।

সূর্যাস্তের দেড় ঘণ্টা পূর্ব থেকে দেড় ঘণ্টা পরের সময় পর্যন্ত মোট তিন ঘণ্টাই প্রদোষকাল। প্রদোষ মানে সন্ধ্যা।

জয় রাম। জয় গোবিন্দ। জয় সত্যনারায়ণ।

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹ঠাকুরকে যে আচার্য্য মহাশয় কি চক্ষে দেখিতেন, সামান্য একটা কথাতেই তাহা বুঝা যাইবে। বৈকালে ভাগবতের অন্তত...
29/04/2026

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹

ঠাকুরকে যে আচার্য্য মহাশয় কি চক্ষে দেখিতেন, সামান্য একটা কথাতেই তাহা বুঝা যাইবে। বৈকালে ভাগবতের অন্ততঃ কিছুটা অধ্যয়ন করা আচার্য্য মহাশয়ের নিত্যকর্ম্মের মধ্যে ছিল। তিনি নিয়ম মত বৈকালে ভাগবত খুলিয়া বসিয়াছেন এমন সময় ঠাকুর আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

ঠাকুরকে দেখিয়া আচার্য্য মহাশয় উঠিতে যাইতেছেন, এমন সময় ঠাকুর বলিলেন: "আপনে ভাগবত পড়েন।” আচার্য্য মহাশয় একবার সম্মুখে বিলম্বিত ভাগবতখানার দিকে এবং একবার ঠাকুরের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করিয়া বলিলেন: "কোন ভাগবত, এই ভাগবত, না ঐ ভাগবত?”
ঠাকুরকে দেখিলেই প্রথমটায় আচার্য্য মহাশয় কেমন যেন বিহ্বল হইয়া পড়িতেন। একদিন বৈকালে আমি, বীরেনবাবু ও আরও একজন ভদ্রলোক ঠাকুরকে সঙ্গে লইয়া তাহার বাড়ীতে আসিয়া পৌঁছিলাম। তখন গ্রীষ্মাবকাশ উপলক্ষে আমি ঢাকাতে ছিলাম। বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম যে বৃদ্ধ আচার্য্য মহাশয় তাহার ঠাকুর ঘরের বারান্দায় একখানা মাদুর পাতিয়া বসিয়া রহিয়াছেন। তিনি ঠাকুরকে দেখিয়াই তাড়াতাড়ি উঠিয়া দাঁড়াইতে চেষ্টা করিলেন কিন্তু পারিলেন না, আবার বসিয়া পড়িতে বাধ্য হইলেন। চিৎকার করিয়া হরিদাসবাবুকে ডাকিলেন এবং মাদুরখানা তুলিয়া উঠানে পাতিয়া দিতে অগ্রসর হইলেন। আবার কি ভাবিয়া মাদুরখানা রাখিয়া দিলেন এবং বারান্দার কোণ হইতে একটা বড় পাথরের বাটি তুলিয়া লইলেন, ইচ্ছা যে ঠাকুরের পা ধোয়াইয়া দিবার জন্য জল লইয়া আসিবেন। কিন্তু কূপ হইতে জল তুলিয়া আনা তাহার সাধ্যাতীত, সুতরাং আবার হরিদাসবাবুকে ডাকিলেন। শেষ পর্যন্ত কিছুই করিতে না পারিয়া অবশ হইয়া বসিয়া পড়িলেন এবং ঠাকুরের দিকে তাকাইয়া ঝরঝর করিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। আচার্য্য মহাশয়ের আচরণের মাধুর্য্য কিছুই প্রকাশ করিতে পারিলাম না, শুধু ইহাই বলিতে পারি যে এমন মৰ্ম্মস্পর্শী আত্ম-বিহ্বলতা অতি অল্পই দেখিয়াছি। ঠাকুরও যে ভাবে দাঁড়াইয়া ছিলেন এবং যে অপরূপ দৃষ্টিতে আচার্য্য মহাশয়ের দিকে তাকাইয়া ছিলেন, তাহাও অবর্ণনীয়, কিছুই বলিবার চেষ্টা করিব না।

জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹এই অনুকরণ দুই প্রকারের হইতে পারে, সজাগ এবং অন্ধ। যেখানে ইহা সজাগ সেখানে বিশেষ অনিষ্টের আশঙ্কা থাকে না...
28/04/2026

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹

এই অনুকরণ দুই প্রকারের হইতে পারে, সজাগ এবং অন্ধ। যেখানে ইহা সজাগ সেখানে বিশেষ অনিষ্টের আশঙ্কা থাকে না, কারণ শোধরাইবার পথ উন্মুক্তই থাকে। কিন্তু অন্ধ অনুকরণের পাটোয়ারীতে রূপান্তরিত হইতে বিশেষ-বিলম্ব হয় না। বাহুল্য ভয়ে এই বিষয়ে শুধু একটি মাত্র দৃষ্টান্তের উল্লেখ করিব। আমার বিশিষ্ট বন্ধু হরিদাসবাবুর পিতা রুক্মিণীকান্ত আচার্য্য মহাশয়ের মত একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ও আদর্শ গৃহী জীবনে অতি অল্পই দেখিয়াছি। তিনি যে কিরূপ আত্মস্থ ছিলেন ছোট একটি ঘটনা বিবৃত করিলেই পাঠক-পাঠিকারা তাহা বুঝিতে পারিবেন। গ্রীষ্মাবকাশের ছুটিতে ঢাকা যাইতেছিলাম, নারায়ণগঞ্জ ষ্টেসনে হরিদাসবাবুর প্রতিবেশী আমাদের অপর একটি বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হইয়া গেল। তাহার নিকট শুনিলাম যে হরিদাসবাবুর বড় ছেলেটি পূর্ব্বের দিন জলে ডুবিয়া মারা গিয়াছে। কথাটা শুনিয়া মনটা অত্যন্ত বিষণ্ণ হইয়া গেল। ছেলেটিকে শিশুকাল হইতেই দেখিয়াছি এবং তাহার প্রতি স্বভাবতঃই একটা স্নেহা-কর্ষণ ছিল। কিন্তু সত্য কথা বলিতে কি, বিশেষ চিন্তিত হইয়াছিলাম এই ভাবিয়া যে এই শোক-সন্তপ্ত পরিবারের মধ্যে যাইবই বা কি করিয়া, আর বলিবই বা কি? সে দিন বৈকালে আর গেলাম না; রেলে, ষ্টীমারে ক্লান্ত হইয়া আসিয়াছি, আজ না-ই বা গেলাম, এই ভাবে মনকে বুঝাইলাম। পরের দিন প্রাতঃকালে চা খাইতে প্রায় ৮টা বাজিয়া গেল, ভয়ানক রৌদ্র উঠিয়াছে, ভীষণ গরম, সুতরাং যাওয়া হইল না। আমি সহজেই বুঝিতে পারিলাম যে আমার মনটা না-যাইবার অজুহাত খুঁজিয়া বেড়াইতেছে। বৈকালে কিন্তু আর না যাইয়া পারিলাম না, সন্ধ্যার একটু পরে হরিদাসবাবুর বাড়ী আসিয়া পৌঁছিলাম। সেখানে যাইয়া কিন্তু আমার সকল সঙ্কোচ ও দুর্ভাবনার অবসান হইয়া গেল। দেখিলাম যে আচার্য্য মহাশয় তাহার ঘরে তক্তা-পোশের উপর বসিয়া রহিয়াছেন, সমস্ত পরিবারটিই সেখানে। আচার্য্য মহাশয় ঠাকুর প্রসঙ্গ করিতেছেন এবং সকলে তন্ময় হইয়া তাহাই শুনিতেছে। একটা গভীর শোক-সন্তপ্ত পরিবারের এমন একটি সুস্থ, শান্ত, চিত্র জীরনে আর কখনও দেখি নাই। শুধু আচার্য্য মহাশয়ের প্রভাবেই ইহা সম্ভব হইয়াছিল। তিনি আমাকে একাধিকবার বলিয়াছেন যে যে-বস্তুর সন্ধানে দুই দুই বার ভারতের প্রায় সমস্ত তীর্থ পরিভ্রমণ করিয়া বেড়াইয়াছেন, আমাদের ভাগ্যে বৃদ্ধ বয়সে তাহা তিনি ঘরে বসিয়াই পাইয়াছেন। ঠাকুরকে যে তিনি কি চক্ষে দেখিতেন, সামান্য একটা কথাতেই তাহা বুঝা যাইবে। বৈকালে ভাগবতের অন্ততঃ কিছুটা অধ্যয়ন করা আচার্য্য মহাশয়ের নিত্যকর্ম্মের মধ্যে ছিল। তিনি নিয়ম মত বৈকালে ভাগবত খুলিয়া বসিয়াছেন এমন সময় ঠাকুর আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঠাকুরকে দেখিয়া আচার্য্য মহাশয় উঠিতে যাইতেছেন, এমন সময় ঠাকুর বলিলেন: "আপনে ভাগবত পড়েন।” আচার্য্য মহাশয় একবার সম্মুখে বিলম্বিত ভাগবতখানার দিকে এবং একবার ঠাকুরের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করিয়া বলিলেন: "কোন ভাগবত, এই ভাগবত, না ঐ ভাগবত?”

জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹আলোচনাটা দীর্ঘ হইয়া পড়িতেছে এবং পাঠক-পাঠিকারা হয়তো বিরক্ত হইয়া উঠিতেছেন কিন্তু বিষয়টা এত গুরুতর যে আর...
27/04/2026

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹

আলোচনাটা দীর্ঘ হইয়া পড়িতেছে এবং পাঠক-পাঠিকারা হয়তো বিরক্ত হইয়া উঠিতেছেন কিন্তু বিষয়টা এত গুরুতর যে আরও দুই চারিটি কথা না বলিয়া পারিতেছি না। ইষ্টপথের সর্ব্বপ্রধান বাধক এই পাটোয়ারী, সুতরাং ইহাকে যথাসম্ভব বিশ্লেষণ করিয়া বুঝিয়া লওয়া অবশ্য কর্তব্য বলিয়া মনে করি। পূর্ব্বে দুই প্রকারের পাটোয়ারীর উল্লেখ করিয়াছি। তৃতীয়তঃ আমার মনে হয় যে অনুকরণ প্রবৃত্তি হইতেও ধীরে ধীরে পাটোয়ারী গড়িয়া উঠিতে পারে। বিষয়টা জটিল এবং ইহা লইয়া অনায়াসেই একটা বিতর্কের সৃষ্টি হইতে পারে, সুতরাং আমাদিগকে সাবধানে অগ্রসর হইতে হইবে। ধৰ্ম্মজীবনের প্রথম অবস্থায় এই অনুকরণ প্রবৃত্তি একটু বিশেষ ভাবে সজাগ হইয়া উঠে। নিজের বিশেষ কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় যাঁহারা এই পথে বহুদিন ধরিয়া আছেন, তাহাদের সহিত আলাপ আলোচনা করিবার এবং কিছুটা তাহাদের অনুকরণ করিবার ইচ্ছা স্বভাবতঃই আসে। নিজের অভিজ্ঞতা হইতে বলিতে পারি যে যখন কেহ প্রথম ঠাকুরের সম্পর্কে আসিয়াছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখিয়াছি যে পুরাতন আশ্রিতবর্গের মধ্যে যাহাদের অধিক পছন্দ হইয়াছে, তাহাদের অনুকরণের একটা চেষ্টাও সঙ্গে সঙ্গেই আসিয়াছে। ইহা যে একটা গুরুতর অপরাধ এমন কথা আমি বলিতেছি না। পক্ষান্তরে, ক্ষেত্রবিশেষে ইহার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা যায় না। পাঁচজনকে দেখিয়াই শিখিতে হয় এবং নিজের পথ পরিষ্কার করিয়া লইতে হয়। কিন্তু ইহাতে বিপদের সম্ভাবনাও বড় অল্প নহে। একথা ভুলিলে চলিবে না যে প্রাক্তনানুসারে মানুষের দেহ, মন ও প্রকৃতির গঠন বিভিন্ন প্রকারের হইয়া থাকে এবং এই জন্যই যাহা একের পক্ষে স্বাভাবিক ও মঙ্গলপ্রদ, অপরের পক্ষে ঠিক তাহাই হয়তো অমঙ্গলের কারণ হইতে পারে। এই জন্যই ঠাকুর বলিয়াছেন "পরের বুদ্ধিতে অধিক চলিলে মলিন হয়। আপন বুদ্ধিই সমাদরের যোগ্য।” আরও বলিয়াছেন: "পরের ঐশ্বর্য্যের প্রতি লোভ করিতে নাই। নিজের যেটুকু ভক্তিশ্রদ্ধা ভগবান দেন সেইটুকু নিয়াই সন্তোষ থাকিতে হয়,” (বেদবাণী, প্রথম খণ্ড ২০২ এবং ২৮৮ নং)। একটু ধৈর্য্য ধরিয়া থাকিলে নিজ নিজ স্বভাবোপযোগী অভিষ্ট পন্থা আপনিই গড়িয়া উঠে। কিন্তু ধৈর্য্য বস্তুটা এ সংসারে নিতান্তই বিরল এবং সেই জন্যই তাড়াতাড়ি ফল পাইতে গিয়া যেমন "কষা আমে গুড় মাখিয়া লই” অন্যের অনুকরণ করিতে গিয়াও সেইরূপ নানাবিধ জঞ্জালের সৃষ্টি করিয়া ফেলি।

জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------

26/04/2026

🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹

আমিও দিদির উপর প্রতিশোধ লইবার এক ফন্দী আবিষ্কার করিলাম। যখন তখন পতিসেবার কথা তুলিয়া তাহাকে উত্যক্ত করিতাম এবং তিনিও ক্ষেপিয়া যাইতেন। ইহাতে যাহাই হউক কিছুটা সান্ত্বনা পাইতাম। একদিন বৈকালে প্রভাতবাবু আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং জানাইলেন যে রাত্রিতে তিনি এই খানেই থাকিবেন। আমি প্রমাদ গণিলাম; প্রভাতবাবু ভোজনবিলাসী লোক, আর এদিকে দিদির এমন মর্মান্তিক ব্যবস্থা। কিন্তু প্রভাতবাবু অবস্থাটা জানিতেন, নিজেই বাজারে গিয়া হাঁসের ডিম ও কিছু মাছ কিনিয়া আনিলেন, তৈল, মসলা প্রভৃতিও আলাদা লইয়া আসিলেন, যেন দিদির খপ্পরে আর কিছুতেই না পড়িতে হয়। নিজেই স্টোভ জ্বলিয়া আমার ঘরে ডিমগুলি সিদ্ধ করিবার আয়োজন করিলেন। ডিমগুলি সিদ্ধ হইয়া গিয়াছে, খোসাও ছাড়ান হইয়াছে, এইবার কড়ায় তেল চাপাইয়া ডালনা রান্না সুরু হইবে এমন সময় দিদি আসিয়া উপস্থিত হইলেন। "আমি থাকিতে প্রভাত রান্না করিবে, কি-ই বা রান্না, এতো আমি আধ ঘন্টায়ই রান্নাঘরের উনানে সারিয়া দিতে পারিতাম,আবার স্টোভ ধরান কিসের জন্য,” ইত্যাদি বলিয়া একেবারে স্টোভটির সামনে আসিয়া বসিলেন। কিন্তু প্রভাতবাবুও নাছোড়বান্দা, স্টোভটি ঘরের এক কোণে সরাইয়া নিয়া এমন ভাবে বসিলেন যে দিদির আর স্টোভের নিকটে যাইবার উপায় থাকিল না। আমি জিনিষগুলি আগাইয়া দিলাম এবং প্রভাতবাবু কড়ায় তেল ঢালিয়া দিলেন। দিদির কিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়, বোধ হয় তাহা দেখিবার জন্যই প্রভাতবাবু ইচ্ছা করিয়াই খানিকটা বেশী পরিমাণে তেল ঢালিয়া দিয়াছিলেন। দিদি একেবারে-হা হা করিয়া উঠিলেন এবং প্রভাতবাবুকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: "মুদির দোকান ফেল পড়বে যে।” আমরা কোন কথাই বলিলাম না, রান্না চলিতে লাগিল। ডিম ও মাছ প্রস্তুত হইয়া যাইতেই প্রভাস একটা এ্যালুমিনিয়মের প্যানে করিয়া চাল ধুইয়া লইয়া আসিল। প্রভাতবাবু যে ভাতও আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করিয়াছেন, ইহা আমি জানিতাম না। দিদি অনেক কিছুই বলিলেন, আমরা গ্রাহ্যও করিলাম না। কিন্তু আমাদের ফাঁড়া তখনও কাটে নাই, পরিবেশন করিবার জন্য তিনি উঠিয়া পড়িয়া লাগিলেন কিন্তু প্রভাতবাবু কিছুতেই স্বীকৃত হইলেন না। অনেক দিন পরে নিজের বাসায় পরিতোষপূর্ব্বক আহার করিলাম। আমাদের খাওয়া দেখিয়া দিদির মুখের যে অবস্থা হইয়াছিল, তাহা পাঠক-পাঠিকারা কল্পনা করিয়া লইবেন। আমি বলিয়া উঠিতে পারিব না।

আহারের পর দিদি প্রভাতবাবুকে বলিলেন: "খাওয়া তো হইল, এইবার একটু ঠাকুরের কথা বল, শুনি।” প্রভাতবাবু সমস্তই জানিতেন, সুতরাং তিনি তৎক্ষণাৎ বলিলেন: "ঠাকুরের তো ঐ এক কথা, পতিসেবা, পতিব্রতা ধৰ্ম্ম।” দিদি ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিলেন, "তোমাদের যেমন ঠাকুর তেমন তোমরা” ইত্যাদি অনেক কিছু বলিয়া নিজের ঘরে চলিয়া গেলেন। ইহার কয়েক দিন পরে একটা অনিবার্য কারণে দিদি আমাদের ঘাড় হইতে নামিলেন, আমরা হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিলাম। দিদি ঢাকা চলিয়া গেলেন।

এই দিদির স্বামী, সংসার, আত্মীয়, পরিজন, সবই ছিল, মধ্যবিত্ত গৃহস্থ হিসাবে অবস্থাও নেহাৎ মন্দ ছিল না। কিন্তু এসব কিছুই তাহার ভাল লাগিল না, হঠাৎ তাহাকে এক অস্বাভাবিক ও উৎকট ধর্মচর্চ্চায় পাইয়া বসিল। ধৰ্ম্মটৰ্ম্ম অবশ্য সবই বাজে,আসল মতলব লোকের কাছে একটু বাহাবা পাওয়া, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা। তিনি আহার ছাড়িয়া দিলেন এবং তাহার আচরণের দ্বারা দেখাইতে লাগিলেন যে সংসারে তাহার কোনও আসক্তি নাই। কেহ কেহ যে তাহার আচরণে তাহাকে একজন প্রকৃত ধৰ্ম্মপরায়ণা বলিয়া ভুল না করিলেন এমনও নহে, সুতরাং তাহার একটু খ্যাতিও হইল। কিন্তু ইহার সমস্তটাই কৃত্রিম, শীঘ্রই তিনি চুরি করিয়া খাইতে আরম্ভ করিলেন। চুরি করিয়া খাওয়া সকল সময়ে জোটে না, ফল দাঁড়াইল এই যে নব্য মনস্তাত্ত্বিকেরা যাহাকে অবদমন (repression) বলে, তাহারও তাহাই হইল, নিজে খাইতে পান না বলিয়া অপরের তৃপ্তিপূর্ব্বক আহারও আর তিনি সহ্য করিতে পারেন না। যা-তা করিয়া ঠাকুরের কাঁচকলা তৈয়ার করার এবং আমাদিগকে নির্বিচারে খাওয়ার কষ্ট দেওয়ার ইহাই অন্তর্নিহিত কারণ। কৃত্রিমতা আশ্রয় করিয়া চলিতে চলিতে এই মানসিক বিকৃতি তাহায় মজ্জাগত হইয়া গিয়াছিল এবং ইচ্ছা করিলেও তাহার আর ফিরিবার উপায় ছিল না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই ভাবেই কাটাইয়া গিয়াছেন। পাটোয়ারী যে কি ভয়াবহ বিকৃতি এবং একবার আরম্ভ হইলে ইহা যে কি মর্মান্তিক দুরবস্থার মধ্যে লইয়া যাইতে পারে, এই দিদিই তাহার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------

Address

Sandwip
4300

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ।:

Share