Proper Dawah Organization -PDO

Directions Website

Proper Dawah Organization -PDO Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Proper Dawah Organization -PDO, Religious organisation, Ranisankail.

19/08/2026

দিবস পালন: একটি শারঈ পর্যালোচনা
(৯ অথবা ১২ই রবিউল আওয়াল-এর করনীয়)

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهداى و الكتاب المنير، و الصلاة على رسوله الذي قال قد تركتكم على البيضاء ليلها
মানবসমাজে কোনো বিশেষ ঘটনা বা ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্দিষ্ট দিন বা দিবস উদযাপনের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিবস পালন করে থাকে। যেমন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা হিন্দু সম্প্রদায় পালন করে নানাবিধ তিথি ও উৎসব। আবার আধুনিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ে কালচারাল ফ্যাসিস্ট থেকে শুরু করে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার মানুষেরা পহেলা বৈশাখ, ২৬শে মার্চ কিংবা ১৬ই ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিবসসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদযাপন করে থাকে। তবে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিটি কাজের মাপকাঠি হতে হবে পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ। অতএব, ইসলামে এই 'দিবস পালন-এর শারঈ বিধান কী, তা বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে দালিলিক আলোকেই আলোচনা করা হলো।

ইসলামের দিবস পালন: ইসলামিক দিবস পালনের বিধান আছে কিন্তু তা ইচ্ছে মতো না। শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দিন রয়েছে। যেমন চাঁদ ওঠলেই সিয়াম পালন আবার চাঁদ উঠলেই ঐদিন ঈদ পালন করতে হবে। অর্থাৎ ইসলামের দিবস গুলি নির্দিষ্ট , কোন মানুষ ইচ্ছে করলেই নতুন একটি দিনের নতুন কোন আমল বা ঐদিন পালন করার বিধান চালু করতে পারে না। যদিও সেটা ইসলামের কোন ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে হয় যেমনঃ ১৭ই রমজান বদর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন র্যালী, মানববন্ধন বা বদরী দিবস পালন করা, হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কারবালায় শাহাদাতের শোক পালনার্থে দশে মহররম কে শোক দিবস ঘোষণা করা।
সোজা কথা হল শরীয়াহতে দিবস নির্দিষ্ট। পরবর্তীতে আর কেউ কোন দিনকে দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বিশেষ কোন নীতিতে কোন আমল করবে তা শরীয়াহতে গ্রহণযোগ্য নয়।
শরীয়তে নির্ধারিত ঈদ ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা যায়েজ নয়। বলেছেন ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলি।
হাদিসে আছে
"لا تتخذوا شهرا عيدا ولا يوما عيدا
তোমরা কোন মাস বা দিনকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করো না।
হাদীসটি যদিও মুরসাল তবুও অন্যান্য হাদিসের সহায়ক অর্থ হিসেবে বোঝা যেতে পারে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন لا تجعلوا قبري عيدا
তোমরা আমার কবরকে ঈদের স্থানে পরিণত করো না।
এর মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে যে, মুসলিমদের জন্য ঈদ শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট দিনের জন্যই শারিয়ত সম্মত, যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, এবং শুক্রবার। এই দিনগুলির বাইরে অন্য কোন দিন বা মাসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা বা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করা শারিয়াহতে অনুমোদিত নয় এবং তা বিদআত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলী লিখেছেন,
وأصل هذا: أنه لا يشرع أن يتخذ المسلمون عيدا إلا ما جاءت الشريعة باتخاذه عيدا وهو يوم الفطر ويوم الأضحى وأيام التشريق وهي أعياد العام ويوم الجمعة وهو عيد الأسبوع وما عدا ذلك فاتخاذه عيدا وموسما بدعة لا أصل له في الشريعة.!
এটির মূল কথা হল, মুসলিমদের জন্য ঈদ (আনন্দের দিন) হিসাবে কোন দিন গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদি না তা ইসলামী শরিয়ত দ্বারা নির্ধারিত হয়। শরিয়ত অনুযায়ী ঈদ শুধুমাত্র দুটি বিশেষ দিন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা এবং তশরিকের তিনটি দিন বাৎসরিক ঈদ। এছাড়া, শুক্রবারকে সপ্তাহের ঈদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর বাইরে অন্য কোন দিন বা সময়কে ঈদ বা উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা শারিয়তসম্মত নয় এবং তা একটি বিদআত, যার কোন ভিত্তি ইসলামে নেই।
(লাতায়িফুল মাআ'রিফ, ইবনে রজব আল হাম্বলী, ১ম খণ্ড পৃঃ ১১৮ অনলাইন মাকতাবায়ে শামেলা)

জন্ম দিবস পালন: জন্ম দিবস পালনের কোন বিধান আলাদা করে বর্ণিত হয়নি তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সোমবারে সিয়াম পালনের ব্যাপারে বলেছেন
ذلك يوم ولدت فيه ويوم بعثت فيه او أنزل على فيه
এটি এমন একটি দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি (নবীরূপে) প্রেরিত হয়েছি অথবা ঐ দিনে আমার প্রতি (সর্বপ্রথম) অহী অবতীর্ণ করা হয়েছে। (মুসলিমঃ ১১৬১)
এখান থেকে বোঝা যায় যে, তিনি তার জন্মদিন সোমবারে সিয়াম পালন করেছেন আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ।
জন্ম দিবসে আলাদা করে কেক কেটে অথবা অনুষ্ঠান করে পালন করার কোন বিধান নেই। বড়জোর শুকরিয়া স্বরূপ সেই দিনের সিয়াম পালন করা যেতে পারে তাতে কোন অসুবিধা নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের জন্ম দিবস পালন: কারো জন্ম দিবস পালন করতে হলে জন্মদিন বা জন্ম তারিখ জানা আবশ্যক। সেই সময় জন্মের তারিখ মনে রাখার কোন রেওয়াজ ছিল না। তাই তিনি যে রাসুল হবেন তাই তার জন্ম তারিখ সবাই মনে রাখবে এমনটিও সম্ভব ছিল না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জম্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক গণ মতভেদ করেছেন কেউ ৯ রবিউল আউয়াল আবার কেউ ১২ই রবিউল আউয়াল বলে মত দিয়েছেন। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ছিল সোমবার সকাল বেলা, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ মোতাবেক এপ্রিল/নিসান-এর ২০ তারিখ, ৫৭১খ্রিষ্টাব্দ।
আবার সাপ্তাহিক দিবস পালন করবে নাকি বাৎসরিক দিবস পালন করবে সেটিও একটি ভাববার বিষয়! নবী সাল্লাহু সালামের হাদিস থেকে প্রতি সোমবারের সিয়াম পালনের ব্যাপারের হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, তিনি প্রতি সপ্তাহে তার জন্মের শুকরিয়া করতেন সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বছরে একদিন সিয়াম পালন করেছেন এমনটি নয় বরং প্রতি সোমবার সিয়াম পালন করেছেন কেউ চাইলে তার জন্মদিন হিসেবে সেই দিন সিয়াম পালন করতে পারে কিন্তু বাৎসরিক তারিখ হিসেবে নয়।

নবীর জন্মদিন: নবী সাল্লাহু আলাই সালাম এর জন্মদিন নিয়ে কারো দ্বিমত নেই সবার কাছেই সোমবার প্রমাণিত। কিন্তু সমস্যা হল যারা বছরে একবার সেদিনটিকে উদযাপন করতে চাই তাদের জন্য। কেননা বাংলাদেশে ১২ই রবিউল আউয়াল বেশি বেশি প্রচারিত হলেও তার জন্ম তারিখের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের নিকট মতভেদ রয়েছে:
১. কেউ কেউ বলেছেন: ২ রা রবিউল আউয়াল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ কেউ বলেছেন ২ রা রবিউল আউয়াল। ইবনে আব্দুল বারর ইস্তেআব গ্রন্থে এ অভিমত উল্লেখ করেন এবং ওয়াকেদি এ বর্ণনাটি আবু মাশার নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাদানি থেকেও উদ্ধৃত করেন।আস-সিরাতুন নববিয়াহ”(১/১৯৯)।
২. কেউ কেউ বলেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “কেউ বলেছেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল। হুমাইদি এ বর্ণনাটি ইবনে হাজম থেকে বর্ণনা করেন। আর মালেক, উকাইল ও ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ প্রমুখ এটি বর্ণনা করেন জুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে। ইবনে আব্দুল বারর বলেন, ঐতিহাসিকরা এ মতটিকে সঠিক বলেছেন। হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারজেমি এ তারিখের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। হাফেজ আবুল খেতাব ইবনে দিহইয়াহ ‘আত-তানবির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ গ্রন্থে এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আস-সিরাতুন নববিয়াহ(১/১৯৯)
৩. কেউ কেউ বলেছেন: ১০ রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ বলেন: ১০ রবিউল আউয়াল। এ মতটি ইবনে দিহইয়াহ তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আসাকের এ মতটি আবু জাফর আল-বাকের থেকে এবং মুজালিদ নামক রাবী শা‘বি থেকে বর্ণনা করেন।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]
৪. কেউ কেউ বলেছেন: ১২ রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ বলেন ১২ রবিউল আউয়াল। ইবনে ইসহাক এ মতটি উল্লেখ করেন। ইবনে আবু শায়বাহ তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এ মতটি আফ্ফান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মিনা থেকে, তিনি জাবের ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তারা উভয়ে বলেছেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তি বাহিনীর বছর, ১২ ই রবিউল আউয়াল, সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। এ দিনেই তাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়, এ দিনেই তার মিরাজ হয়েছিল, এ দিনেই তিনি হিজরত করেছেন এবং এ দিনেই তিনি মারা যান’। জমহুর আলেমদের নিকট এ মতটিই বেশী প্রসিদ্ধ।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]
কেউ কেউ বলেন: তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন রমযান মাসে, কারো কারো মতে, সফর মাসে; ইত্যাদি আরও অভিমত রয়েছে।
কিছু মুসলিম গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ গবেষণা করে বের করেছেন যে, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ সোমবার ছিল! তাহলে এটা আরেকটি মত হল। এ মতটিও শক্তিশালী, এ তারিখটি ৫৭১ খৃষ্টাব্দের নিসান (এপ্রিল) মাসের বিশ তারিখ পড়ে। সমকালীন সিরাত প্রণেতাদের অনেকে এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারি ও সফিউর রহমান মোবারকপুরি অন্যতম।
আবু কাসেম আস-সুহাইলি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: গণিতবিদগণ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সৌরমাস “নিসান”এর বিশ তারিখে ছিল। [আর-রওদুল উন্ফ (১/২৮২)]
উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মিসরের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মরহুম মাহমুদ পাশা (মৃত্যু : ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ)-যিনি একাধারে জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, গণিতবিদ্যা, বই লেখা ও গবেষণায় পারদর্শী ছিলেন-বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ছিল সোমবার সকাল বেলা, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ মোতাবেক এপ্রিল/নিসান-এর ২০ তারিখ, ৫৭১খ্রিষ্টাব্দ। এ বছরটি হস্তি বাহিনীর ঘটনার প্রথম বছর। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন বনু হাশেম পল্লীতে আবু তালেবের ঘরে।[নূরুল ইয়াকিন ফি সিরাতে সাইয়্যেদিল মুরসালিন, পৃষ্ঠা-৯ আরও দেখুন: আর-রাহিকুল মাখতুম (পৃষ্ঠা নং: ৪১)]

মৃত্যুদিন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি সোমবার দিন মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুধবার মারা গেছেন মর্মে ইবনে কুতাইবার বর্ণনা সঠিক নয়। তবে এর দ্বারা যদি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন করা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক আছে।
মৃত্যু সাল: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি ১১ হিজরিতে মারা যান।
মৃত্যু মাস: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
কিন্তু এ মাসের নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে আলেমগণের মতপার্থক্য রয়েছে:
১. অধিকাংশ আলেম বলেছেন: রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ।
২.খাওয়ারেযমি বলেছেন : রবিউল আউয়ালের প্রথম তারিখ।
৩. ইব্নুল কালবি ও আবু মিখনাফ বলেছেন : রবিউল আউয়াল মাসের ২ তারিখ। সুহাইলি ও হাফেজ ইবনে হাজার এ মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

তবে অধিকাংশ আলেমের প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন:সুহাইলি প্রণীত আর-রওদুল উন্ফ (৪/৪৩৯-৪৪০), ইবনে কাছিরের আস-সিরাহ আন-নববিয়াহ (৪/৫০৯), ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (৮/১৩০)।
বর্তমানে যারা ১২ তারিখ জন্মদিন করে আবার যদি ১২ তারিখ মৃত্যু দিবস হয় তাহলে মৃত্যুর দিনেও হাসি উল্লাস, আনন্দ করা কিভাবে সম্ভব?
তাই তার জন্মদিন পালন বা মৃত্যুদিন পালন করার বিধান ইসলামে নেই। আমাদের সোমবার সিয়াম পালন করতে হয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর জন্য। তার জন্ম দিবস পালনের জন্য নয়।
অতএব বুঝা গেল নির্ধারিত দিন ব্যাতিত আর কোনদিনকে কোন ব্যক্তি দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে পারে না।
পরিশেষে পাঠকদের নিকট আমাদের বার্তা হচ্ছে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে ইবাদত, উৎসব এবং বিশেষ দিনসমূহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও সুনিরূপিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী বা তাবে-তাবেয়ীগণের সোনালী যুগে কোনো ধরনের বাৎসরিক জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস কিংবা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দিবস পালনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো দিবস বা উৎসবের অনুপ্রবেশ ঘটানো স্পষ্ট বিদআত, যা বর্জনীয়।
আমাদের দায়িত্ব হলো কোনো মনগড়া বাৎসরিক দিবস পালন না করে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহকে অনুসরণ করত প্রতি সোমবার নফল সিয়াম পালন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শকে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সঠিক সুন্নাহর ওপর কায়েম থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখকঃ Abdur Rahim Nasek
শুরা সদস্যঃ Muslim Activist Forum

সম্পাদকঃ আব্দুল হাকিম আশরাফ
শুরা সদস্য ও মুখপাত্রঃ Muslim Activist Forum

16/07/2026
ইনশাআল্লাহ আগামী শুক্রবারখুতবাহ প্রদান করবেন শাইখ আহমাদুল্লাহ  হাফিযাহুল্লাহ অধ্যায়নরত: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মাদিনা,...
02/07/2026

ইনশাআল্লাহ আগামী শুক্রবার
খুতবাহ প্রদান করবেন শাইখ আহমাদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ
অধ্যায়নরত: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মাদিনা, সৌদি আরব
এবং দায়ী প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ঠাকুরগাঁও।

🕌স্থান: রাউত নগর শিবু পাড়া বড় জামে মসজিদ
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও🕌

আশেপাশের দ্বীনি ভাইয়েরা আমন্ত্রিত
সৌজন্যে : Proper Dawah Organization
প্রপার দাওয়া অর্গানাইজেশন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।  ১৪ জুন ২০২৬ জাতীয় সংসদে হিজাব-নিকাবধারী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি সা...
14/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি । ১৪ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে হিজাব-নিকাবধারী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি সাধারণ আলেম সমাজের

সাধারণ আলেম সমাজ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব-নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে দেওয়া মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে উচ্চারিত প্রতিটি বক্তব্য জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে রাষ্ট্রের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। সেই জায়গা থেকে হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের নিয়ে কৌতুক, সন্দেহ কিংবা বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিত অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং আপত্তিকর।

আমরা লক্ষ্য করেছি, আলোচনার একপর্যায়ে তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যার মাধ্যমে হিজাবধারী নারীদের পরিচয় ও উপস্থিতিকে সন্দেহের চোখে দেখানো হয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদ এমন একটি স্থান, যেখানে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক প্রটোকল কার্যকর থাকে। সেখানে বোরকার আড়ালে ‘অন্য কেউ’ থাকার ইঙ্গিত বাস্তবতাবিবর্জিত হওয়ার পাশাপাশি পর্দানশীন নারীদের প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ ও সামাজিক অপমানের পরিবেশ তৈরি করে। একই সাথে এটি সংসদ সদস্যের ধর্মীয় পরিচয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।

একজন নারীর বোরকা-হিজাব পরার অধিকার কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। এটা তার ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংবিধানিক স্বাধীনতা এবং নাগরিক মর্যাদার অংশ। একজন নারী তার ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী পোশাক পরবেন—এই অধিকারকে কৌতুক, বিদ্রূপ বা সন্দেহের বিষয়ে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

হিজাব-নিকাব বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ নারীর ধর্মীয় পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও জীবনাচারের অংশ। তাই পর্দানশীন নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ইঙ্গিত, সন্দেহ কিংবা হাস্যরস শুধু পোশাককে নয়, তাদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও আঘাত করে। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো তাদের এই অধিকারকে সম্মান করা, নিরাপদ রাখা এবং মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা। হিজাব-নিকাব পালনকারী নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনো অনুগ্রহ নয়, এটা তাদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার।

আমরা ইতিবাচকভাবে লক্ষ্য করেছি যে, সংসদের ভেতরেই মাননীয় স্পিকার বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, এটি সংসদীয় মূল্যবোধ রক্ষার একটি দায়িত্বশীল অবস্থান। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় উক্ত মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সপাঞ্জ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুশীলনকে বিদ্রূপ বা সন্দেহ করার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা না পায়।

একই সঙ্গে আমরা সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন জাতির কাছে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মর্যাদা ভুল অস্বীকার করে নয়, ভুল সংশোধনের মধ্যেই প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো নারীকে তার ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে অপমানিত হতে হবে না, সন্দেহের চোখে দেখা হবে না এবং তার ঈমানি চর্চাকে বিদ্রূপের উপাদানে পরিণত করা হবে না। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক মর্যাদা এবং মানবিক সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না।

প্রেস বিবৃতিপশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ...
15/05/2026

প্রেস বিবৃতি
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ও মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ
১৫ মে ২০২৬
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে হিন্দুত্ববাদী উগ্র গোষ্ঠী কর্তৃক সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, মুসলিমদের হত্যা, নির্যাতন, মুসলিম নারীদের শ্লীলতাহানি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ও মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম।
প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ও মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম মনে করে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন রাজনৈতিক মতপার্থক্যের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্পূর্ণ অমানবিক, অন্যায় এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে,
নারী, শিশু ও বয়স্কসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এসব ঘটনা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ মানবিক সংকটই নয়; বরং সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্যও এক অশনিসংকেত।
মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম ও প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশনের দাবিসমূহঃ
১. পশ্চিমবঙ্গে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারগুলোর জানমাল, ইজ্জত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভেদ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৬. সকল নাগরিকের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রোপার দাওয়াহ অর্গানাইজেশন ও মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, মুসলিম বিশ্ব এবং শান্তিকামী সকল মানুষের প্রতি এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে।
বিবৃতি প্রদানকারী:
১. শাইখ ওবাইদুর রহমান মাদানী
প্রধান শুরা সদস্য,
Muslim Activist Forum
২. আব্দুল হাকিম আশরাফ
মুখপাত্র,
প্রপার দাওয়া অর্গানাইজেশন

18/04/2026

একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি‌ ছিলেন, তার নাম
‎হাতেম আল-আসম (রহ.) । এক বছর তার মনে হজে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগল, কিন্তু তার কাছে হজের খরচ ছিল না। তার (হজের জন্য) সফরে বের হওয়া বৈধ নয়; বরং সন্তানদের জন্য খরচ রেখে না গেলে এবং তাদের সন্তুষ্টি ছাড়া তার উপর হজও ফরয নয়।
‎হজের সময় ঘনিয়ে এলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
‎তার মেয়ে দেখল, তিনি দুঃখে কাঁদছেন। এবং মেয়েটিও ছিল খুব ধার্মিক।
‎(বাবা মেয়ের কথপোকথন)
‎মেয়ে তার বাবাকে বলল:
‎হে আমার বাবা, আপনি কেন কাঁদছেন?
‎বাবা:হজের সময় এসে গেছে।
‎মেয়ে:তাহলে আপনি হজে যাচ্ছেন না কেন?
‎বাবা:খরচ নেই।
‎মেয়ে:আল্লাহ আপনাকে রিজিক দেবেন।
‎বাবা:তোমাদের খরচ?
‎মেয়ে:আমাদেরকেও আল্লাহ রিজিক দেবেন।
‎বাবা:এই ব্যাপারটা তোমার মায়ের উপর নির্ভর করছে।
‎তখন মেয়েটি তার মাকে বোঝাল। শেষ পর্যন্ত মা ও অন্যান্য সন্তানরা বলল:
‎আপনি হজে যান, আল্লাহ আমাদের রিজিক দেবেন।
‎তখন তিনি তাদের জন্য মাত্র ৩ দিনের খরচ রেখে হজের উদ্দেশ্যে বের হলেন।
‎ এবং তিনি যখন বের হন তার নিজের কাছেও হজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। তিনি কাফেলার পেছনে পেছনে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
‎পথের শুরুতেই কাফেলার প্রধানকে একটি বিচ্ছু দংশন করল। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কে ঝাড়ফুঁক করতে পারে?
‎তারা হাতেমকে পেল। তিনি দোয়া পড়লেন, আল্লাহর ইচ্ছায় সঙ্গে সঙ্গেই লোকটি সুস্থ হয়ে গেল।
‎কাফেলার প্রধান বলল:
‎আপনার যাওয়া-আসার সমস্ত খরচ আমার দায়িত্ব।
‎তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এটা আমার জন্য তোমার পক্ষ হতে(রিজিক ) ব্যবস্থা। এখন আমার পরিবারের জন্য ও(রিজিক ) ব্যবস্থা করে দাও।
‎
‎এদিকে তিন দিন পার হয়ে গেল। পরিবারের খাবার শেষ হয়ে গেল।ক্ষুধার তীব্র তাড়না তাদের দেহ-মনকে ব্যথিত করতে লাগল। তখন তারা মেয়েটিকে দোষ দিতে শুরু করল। অথচ মেয়েটি হাসছিল!
‎তারা বলল: আমরা তো ক্ষুধায় মরতে বসেছি, তোমার হাসি পাচ্ছে!?
‎মেয়েটি বলল: আমাদের বাবা কি রিজিকদাতা, না রিজিকভোগী?
‎তারা বলল: রিজিকভোগী। রিজিকদাতা তো আল্লাহ।
‎মেয়েটি বলল: তাহলে রিজিকভোগী চলে গেছে, কিন্তু রিজিকদাতা তো রয়েছেন!
‎আশ্চর্যের বিষয় হল , ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
‎তারা জিজ্ঞেস করল: কে?
‎বাইরে থেকে উত্তর এল: আমীরুল মুমিনীন আপনাদের কাছে পানি চাইছেন।
‎
‎তারা একটি পাত্রে পানি ভরে দিল।
‎লোকটি পানি নিয়ে খলিফার নিকট চলে গেল। খলিফা পানি পান করে এমন মিষ্টি স্বাদ পেলেন, যা আগে কখনো পাননি।
‎তিনি জিজ্ঞেস করলেন:এই পানি কোথা থেকে এনেছো?
‎তারা বলল: হাতেমের বাড়ি থেকে।
‎
‎তিনি(আমিরুল মু'মিনিন) বললেন:তাকে ডাকো,
‎আমি তাকে পুরস্কৃত করব।
‎তারা বলল:তিনি তো হজে গেছেন।
‎তখন খলিফা নিজের মূল্যবান কোমরের বেল্ট খুলে বললেন:এটা তাদের জন্য।
‎তারপর বললেন:যার উপর আমার কোনো অধিকার আছে (অর্থাৎ, যে আমাকে ভালোবাসে), সে-ও দিক।
‎তখন মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা সবাই নিজেদের মূল্যবান বেল্ট খুলে দিল। এত বেশি জমা হলো যে এক ব্যবসায়ী সবগুলো কিনে তাদের ঘর স্বর্ণে ভরে দিল যা তাদের সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট।
‎তারা(হাতেমের পরিবারের সদস্যরা) কিছু স্বর্ণ দিয়ে খাবার কিনল এবং খুশিতে আত্মহারা। কিন্তু তখন সেই মেয়েটি কাঁদতে শুরু করলো।
‎
‎মা বললেন: হে আমার মেয়ে তুমি বড়ই অদ্ভুত! আমরা যখন ক্ষুধায় কাঁদছিলাম, তুমি হাসছিলে। আর এখন আল্লাহ যখন আমাদের স্বচ্ছলতা দিলেন, তুমি কাঁদছো!?
‎মেয়েটি বলল: এই সৃষ্টিজীব (খলিফা), যে নিজের কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতাও রাখে না, সে আমাদের দিকে একবার দয়া দৃষ্টিতে তাকিয়েই আমাদের সারা জীবনের জন্য সমৃদ্ধ করে দিল।
‎তাহলে সমগ্র জগতের অধিপতি আল্লাহর ব্যাপারটা কেমন হবে!
‎এটাই আল্লাহর প্রতি ভরসা।
‎এটাই সেই রিজিকদাতার উপর বিশ্বাস, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমান।
‎এটাই ঈমানের শক্তি, এটাই আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের শক্তি।
‎সুবহানাল্লাহ! আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এর তুলনায়?
‎
‎আল্লাহ যখন তোমাকে হেদায়েতের পথে বেছে নিয়েছেন, তা তোমার কোনো বিশেষত্বের কারণে নয়, কিংবা তোমার ইবাদতের কারণেও নয়—বরং এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি রহমত, যা তোমাকে আচ্ছাদিত করেছে।
‎তিনি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে তা তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারেন।
‎তাই নিজের আমল বা ইবাদত নিয়ে কখনো অহংকার করো না,
‎আর যে পথভ্রষ্ট হয়েছে তাকে কখনো তুচ্ছজ্ঞান করো না।
‎কারণ আল্লাহর রহমত যদি তোমার উপর না থাকত, তবে তুমি-ই তার জায়গায় থাকতে।
‎
‎গল্পটি আরবি থেকে অনুবাদ ।
‎মুল গল্প https://t.me/quratainy2/119781
‎
অনুবাদক : আব্দুল হাকিম আশরাফ
শুরা সদস্য Muslim Activist Forum
‎

আমাদের অন্যতম রাহবার ও পথপ্রদর্শক শাইখ: আহমাদ সাইফ আল মাদানি-কে আল্লাহ সর্বত্রই হেফাজত করুন আমিন।
22/03/2026

আমাদের অন্যতম রাহবার ও পথপ্রদর্শক শাইখ: আহমাদ সাইফ আল মাদানি-কে আল্লাহ সর্বত্রই হেফাজত করুন আমিন।

Address

Ranisankail

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Proper Dawah Organization -PDO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share