19/08/2026
দিবস পালন: একটি শারঈ পর্যালোচনা
(৯ অথবা ১২ই রবিউল আওয়াল-এর করনীয়)
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهداى و الكتاب المنير، و الصلاة على رسوله الذي قال قد تركتكم على البيضاء ليلها
মানবসমাজে কোনো বিশেষ ঘটনা বা ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্দিষ্ট দিন বা দিবস উদযাপনের প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিবস পালন করে থাকে। যেমন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা হিন্দু সম্প্রদায় পালন করে নানাবিধ তিথি ও উৎসব। আবার আধুনিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ে কালচারাল ফ্যাসিস্ট থেকে শুরু করে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার মানুষেরা পহেলা বৈশাখ, ২৬শে মার্চ কিংবা ১৬ই ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিবসসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদযাপন করে থাকে। তবে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিটি কাজের মাপকাঠি হতে হবে পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ। অতএব, ইসলামে এই 'দিবস পালন-এর শারঈ বিধান কী, তা বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে দালিলিক আলোকেই আলোচনা করা হলো।
ইসলামের দিবস পালন: ইসলামিক দিবস পালনের বিধান আছে কিন্তু তা ইচ্ছে মতো না। শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট দিন রয়েছে। যেমন চাঁদ ওঠলেই সিয়াম পালন আবার চাঁদ উঠলেই ঐদিন ঈদ পালন করতে হবে। অর্থাৎ ইসলামের দিবস গুলি নির্দিষ্ট , কোন মানুষ ইচ্ছে করলেই নতুন একটি দিনের নতুন কোন আমল বা ঐদিন পালন করার বিধান চালু করতে পারে না। যদিও সেটা ইসলামের কোন ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে হয় যেমনঃ ১৭ই রমজান বদর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন র্যালী, মানববন্ধন বা বদরী দিবস পালন করা, হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কারবালায় শাহাদাতের শোক পালনার্থে দশে মহররম কে শোক দিবস ঘোষণা করা।
সোজা কথা হল শরীয়াহতে দিবস নির্দিষ্ট। পরবর্তীতে আর কেউ কোন দিনকে দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বিশেষ কোন নীতিতে কোন আমল করবে তা শরীয়াহতে গ্রহণযোগ্য নয়।
শরীয়তে নির্ধারিত ঈদ ছাড়া অন্যকোনো দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা যায়েজ নয়। বলেছেন ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলি।
হাদিসে আছে
"لا تتخذوا شهرا عيدا ولا يوما عيدا
তোমরা কোন মাস বা দিনকে ঈদ হিসাবে গ্রহণ করো না।
হাদীসটি যদিও মুরসাল তবুও অন্যান্য হাদিসের সহায়ক অর্থ হিসেবে বোঝা যেতে পারে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন لا تجعلوا قبري عيدا
তোমরা আমার কবরকে ঈদের স্থানে পরিণত করো না।
এর মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে যে, মুসলিমদের জন্য ঈদ শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট দিনের জন্যই শারিয়ত সম্মত, যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, এবং শুক্রবার। এই দিনগুলির বাইরে অন্য কোন দিন বা মাসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা বা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করা শারিয়াহতে অনুমোদিত নয় এবং তা বিদআত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইমাম ইবনে রজব আল হাম্বলী লিখেছেন,
وأصل هذا: أنه لا يشرع أن يتخذ المسلمون عيدا إلا ما جاءت الشريعة باتخاذه عيدا وهو يوم الفطر ويوم الأضحى وأيام التشريق وهي أعياد العام ويوم الجمعة وهو عيد الأسبوع وما عدا ذلك فاتخاذه عيدا وموسما بدعة لا أصل له في الشريعة.!
এটির মূল কথা হল, মুসলিমদের জন্য ঈদ (আনন্দের দিন) হিসাবে কোন দিন গ্রহণ করা বৈধ নয়, যদি না তা ইসলামী শরিয়ত দ্বারা নির্ধারিত হয়। শরিয়ত অনুযায়ী ঈদ শুধুমাত্র দুটি বিশেষ দিন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা এবং তশরিকের তিনটি দিন বাৎসরিক ঈদ। এছাড়া, শুক্রবারকে সপ্তাহের ঈদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর বাইরে অন্য কোন দিন বা সময়কে ঈদ বা উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা শারিয়তসম্মত নয় এবং তা একটি বিদআত, যার কোন ভিত্তি ইসলামে নেই।
(লাতায়িফুল মাআ'রিফ, ইবনে রজব আল হাম্বলী, ১ম খণ্ড পৃঃ ১১৮ অনলাইন মাকতাবায়ে শামেলা)
জন্ম দিবস পালন: জন্ম দিবস পালনের কোন বিধান আলাদা করে বর্ণিত হয়নি তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম সোমবারে সিয়াম পালনের ব্যাপারে বলেছেন
ذلك يوم ولدت فيه ويوم بعثت فيه او أنزل على فيه
এটি এমন একটি দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি (নবীরূপে) প্রেরিত হয়েছি অথবা ঐ দিনে আমার প্রতি (সর্বপ্রথম) অহী অবতীর্ণ করা হয়েছে। (মুসলিমঃ ১১৬১)
এখান থেকে বোঝা যায় যে, তিনি তার জন্মদিন সোমবারে সিয়াম পালন করেছেন আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ।
জন্ম দিবসে আলাদা করে কেক কেটে অথবা অনুষ্ঠান করে পালন করার কোন বিধান নেই। বড়জোর শুকরিয়া স্বরূপ সেই দিনের সিয়াম পালন করা যেতে পারে তাতে কোন অসুবিধা নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের জন্ম দিবস পালন: কারো জন্ম দিবস পালন করতে হলে জন্মদিন বা জন্ম তারিখ জানা আবশ্যক। সেই সময় জন্মের তারিখ মনে রাখার কোন রেওয়াজ ছিল না। তাই তিনি যে রাসুল হবেন তাই তার জন্ম তারিখ সবাই মনে রাখবে এমনটিও সম্ভব ছিল না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জম্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক গণ মতভেদ করেছেন কেউ ৯ রবিউল আউয়াল আবার কেউ ১২ই রবিউল আউয়াল বলে মত দিয়েছেন। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ছিল সোমবার সকাল বেলা, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ মোতাবেক এপ্রিল/নিসান-এর ২০ তারিখ, ৫৭১খ্রিষ্টাব্দ।
আবার সাপ্তাহিক দিবস পালন করবে নাকি বাৎসরিক দিবস পালন করবে সেটিও একটি ভাববার বিষয়! নবী সাল্লাহু সালামের হাদিস থেকে প্রতি সোমবারের সিয়াম পালনের ব্যাপারের হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, তিনি প্রতি সপ্তাহে তার জন্মের শুকরিয়া করতেন সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বছরে একদিন সিয়াম পালন করেছেন এমনটি নয় বরং প্রতি সোমবার সিয়াম পালন করেছেন কেউ চাইলে তার জন্মদিন হিসেবে সেই দিন সিয়াম পালন করতে পারে কিন্তু বাৎসরিক তারিখ হিসেবে নয়।
নবীর জন্মদিন: নবী সাল্লাহু আলাই সালাম এর জন্মদিন নিয়ে কারো দ্বিমত নেই সবার কাছেই সোমবার প্রমাণিত। কিন্তু সমস্যা হল যারা বছরে একবার সেদিনটিকে উদযাপন করতে চাই তাদের জন্য। কেননা বাংলাদেশে ১২ই রবিউল আউয়াল বেশি বেশি প্রচারিত হলেও তার জন্ম তারিখের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের নিকট মতভেদ রয়েছে:
১. কেউ কেউ বলেছেন: ২ রা রবিউল আউয়াল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ কেউ বলেছেন ২ রা রবিউল আউয়াল। ইবনে আব্দুল বারর ইস্তেআব গ্রন্থে এ অভিমত উল্লেখ করেন এবং ওয়াকেদি এ বর্ণনাটি আবু মাশার নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাদানি থেকেও উদ্ধৃত করেন।আস-সিরাতুন নববিয়াহ”(১/১৯৯)।
২. কেউ কেউ বলেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “কেউ বলেছেন: ৮ ই রবিউল আউয়াল। হুমাইদি এ বর্ণনাটি ইবনে হাজম থেকে বর্ণনা করেন। আর মালেক, উকাইল ও ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ প্রমুখ এটি বর্ণনা করেন জুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে। ইবনে আব্দুল বারর বলেন, ঐতিহাসিকরা এ মতটিকে সঠিক বলেছেন। হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারজেমি এ তারিখের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। হাফেজ আবুল খেতাব ইবনে দিহইয়াহ ‘আত-তানবির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ গ্রন্থে এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আস-সিরাতুন নববিয়াহ(১/১৯৯)
৩. কেউ কেউ বলেছেন: ১০ রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ বলেন: ১০ রবিউল আউয়াল। এ মতটি ইবনে দিহইয়াহ তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আসাকের এ মতটি আবু জাফর আল-বাকের থেকে এবং মুজালিদ নামক রাবী শা‘বি থেকে বর্ণনা করেন।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]
৪. কেউ কেউ বলেছেন: ১২ রবিউল আউয়াল।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: কেউ বলেন ১২ রবিউল আউয়াল। ইবনে ইসহাক এ মতটি উল্লেখ করেন। ইবনে আবু শায়বাহ তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এ মতটি আফ্ফান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মিনা থেকে, তিনি জাবের ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তারা উভয়ে বলেছেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তি বাহিনীর বছর, ১২ ই রবিউল আউয়াল, সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। এ দিনেই তাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়, এ দিনেই তার মিরাজ হয়েছিল, এ দিনেই তিনি হিজরত করেছেন এবং এ দিনেই তিনি মারা যান’। জমহুর আলেমদের নিকট এ মতটিই বেশী প্রসিদ্ধ।[আস-সিরাতুন নববিয়াহ (১/১৯৯)]
কেউ কেউ বলেন: তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন রমযান মাসে, কারো কারো মতে, সফর মাসে; ইত্যাদি আরও অভিমত রয়েছে।
কিছু মুসলিম গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ গবেষণা করে বের করেছেন যে, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ সোমবার ছিল! তাহলে এটা আরেকটি মত হল। এ মতটিও শক্তিশালী, এ তারিখটি ৫৭১ খৃষ্টাব্দের নিসান (এপ্রিল) মাসের বিশ তারিখ পড়ে। সমকালীন সিরাত প্রণেতাদের অনেকে এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারি ও সফিউর রহমান মোবারকপুরি অন্যতম।
আবু কাসেম আস-সুহাইলি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: গণিতবিদগণ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সৌরমাস “নিসান”এর বিশ তারিখে ছিল। [আর-রওদুল উন্ফ (১/২৮২)]
উস্তাদ মুহাম্মদ আল-খুদারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মিসরের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মরহুম মাহমুদ পাশা (মৃত্যু : ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ)-যিনি একাধারে জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, গণিতবিদ্যা, বই লেখা ও গবেষণায় পারদর্শী ছিলেন-বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ছিল সোমবার সকাল বেলা, রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ মোতাবেক এপ্রিল/নিসান-এর ২০ তারিখ, ৫৭১খ্রিষ্টাব্দ। এ বছরটি হস্তি বাহিনীর ঘটনার প্রথম বছর। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন বনু হাশেম পল্লীতে আবু তালেবের ঘরে।[নূরুল ইয়াকিন ফি সিরাতে সাইয়্যেদিল মুরসালিন, পৃষ্ঠা-৯ আরও দেখুন: আর-রাহিকুল মাখতুম (পৃষ্ঠা নং: ৪১)]
মৃত্যুদিন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি সোমবার দিন মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুধবার মারা গেছেন মর্মে ইবনে কুতাইবার বর্ণনা সঠিক নয়। তবে এর দ্বারা যদি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন করা বুঝিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক আছে।
মৃত্যু সাল: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি ১১ হিজরিতে মারা যান।
মৃত্যু মাস: এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
কিন্তু এ মাসের নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে আলেমগণের মতপার্থক্য রয়েছে:
১. অধিকাংশ আলেম বলেছেন: রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ।
২.খাওয়ারেযমি বলেছেন : রবিউল আউয়ালের প্রথম তারিখ।
৩. ইব্নুল কালবি ও আবু মিখনাফ বলেছেন : রবিউল আউয়াল মাসের ২ তারিখ। সুহাইলি ও হাফেজ ইবনে হাজার এ মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।
তবে অধিকাংশ আলেমের প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন:সুহাইলি প্রণীত আর-রওদুল উন্ফ (৪/৪৩৯-৪৪০), ইবনে কাছিরের আস-সিরাহ আন-নববিয়াহ (৪/৫০৯), ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (৮/১৩০)।
বর্তমানে যারা ১২ তারিখ জন্মদিন করে আবার যদি ১২ তারিখ মৃত্যু দিবস হয় তাহলে মৃত্যুর দিনেও হাসি উল্লাস, আনন্দ করা কিভাবে সম্ভব?
তাই তার জন্মদিন পালন বা মৃত্যুদিন পালন করার বিধান ইসলামে নেই। আমাদের সোমবার সিয়াম পালন করতে হয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর জন্য। তার জন্ম দিবস পালনের জন্য নয়।
অতএব বুঝা গেল নির্ধারিত দিন ব্যাতিত আর কোনদিনকে কোন ব্যক্তি দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে পারে না।
পরিশেষে পাঠকদের নিকট আমাদের বার্তা হচ্ছে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে ইবাদত, উৎসব এবং বিশেষ দিনসমূহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও সুনিরূপিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী বা তাবে-তাবেয়ীগণের সোনালী যুগে কোনো ধরনের বাৎসরিক জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস কিংবা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দিবস পালনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো দিবস বা উৎসবের অনুপ্রবেশ ঘটানো স্পষ্ট বিদআত, যা বর্জনীয়।
আমাদের দায়িত্ব হলো কোনো মনগড়া বাৎসরিক দিবস পালন না করে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহকে অনুসরণ করত প্রতি সোমবার নফল সিয়াম পালন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শকে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সঠিক সুন্নাহর ওপর কায়েম থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।
লেখকঃ Abdur Rahim Nasek
শুরা সদস্যঃ Muslim Activist Forum
সম্পাদকঃ আব্দুল হাকিম আশরাফ
শুরা সদস্য ও মুখপাত্রঃ Muslim Activist Forum