26/05/2026
গীতা রত্নাবলী (পর্ব ০২)
[গীতায় ত্রিলোক মীমাংসা]
अपि त्रैलोक्यराज्यस्य हेतोः किं नु महीकृते।
निहत्य धार्तराष्ट्रान्नः का प्रीतिः स्याज्जनार्दन॥
অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে।
নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রান্নঃ কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন ॥
[গীতা ১/৩৫]
[অপি। ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য। হেতোঃ। কিং। নু। মহীকৃতে।
নিহত্য। ধার্তরাষ্ট্রান্। নঃ। কা। প্রীতিঃ। স্যাৎ। জনার্দন।]
পদার্থ – (ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য, অপি, হেতোঃ) তিন লোকের রাজ্যের জন্যও আমি এদের মারার প্রয়াস করবো না (কিং, নু) তো (মহীকৃতে) পৃথিবীর রাজ্যের জন্য অর্থাৎ যখন আমি তিন লোকের রাজ্যের জন্যও এদের মারতে প্রয়াস করবো না তো এই তুচ্ছ ভূমির জন্য তো কথাই নেই (ধার্তরাষ্ট্রান্, নিহত্য) ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদেরকে মেরে (নঃ) আমাদের (জনার্দন) হে জনার্দন ! (কা, প্রীতিঃ, স্যাৎ) কী লাভ হবে।
সরলার্থ – আমি তিন লোকের রাজ্যের জন্যও এঁদের মারতে প্রয়াস করবো না তো এই তুচ্ছ ভূমির জন্য তো কখনো নয়। হে জনার্দন ! ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদেরকে মেরে আমাদের কী লাভ হবে।
ভাষ্য – এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে, ত্রিলোক কী কী ? উত্তর - পবিত্র বেদ, উপনিষদ, দর্শন, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি শাস্ত্রে ত্রিলোকের বিশেষ উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থববেদের ১ম কাণ্ডের ১ম সূক্তের ১ম মন্ত্রে তিন লোকের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও যজুর্বেদে এই ত্রিলোকের উল্লেখ পাওয়া যায় - “ও৩ম্ দ্যৌঃ শান্তিরন্তরিক্ষং শান্তিঃ পৃথিবী শান্তিঃ” [যজুর্বেদ ৩৬.১৭] অর্থাৎ দ্যুলোক, অন্তরিক্ষলোক এবং পৃথিবীলোক শান্তিময় হোক। অতএব সেই তিন লোক হলো - (i) দ্যুলোক, (ii) অন্তরিক্ষলোক এবং (iii) পৃথিবীলোক।
দ্যুলোক = মহর্ষি যাস্ক নিরুক্তে বলেছেন - “দ্যাবৌ দ্যোতনাৎ” [নিরুক্ত ২.২০] অর্থাৎ দ্যুতিময় হওয়ায় দ্যু নাম হয়েছে। দ্যুতি অর্থ হলো আলোক, দীপ্তি, জ্যোতি বা কিরণ। সহজভাবে, এই মহাবিশ্বের দ্যুতিময় বস্তুসমূহ অর্থাৎ সূর্যাদি নক্ষত্র মহাশূন্যের যে স্থানে অবস্থিত তাকে বলা হয় দ্যৌঃ বা দ্যুলোক। এছাড়াও তাণ্ড্যব্রাহ্মণে বলা রয়েছে - “আদিত্যেন দিশা নক্ষত্রৈঃ তেনা দৌলোকঃ” [তাণ্ড্যব্রাহ্মণ ১০.১.১] অর্থাৎ সূর্য, দিন, নক্ষত্রসমূহ সেখানে অবস্থান করার কারণে এর নাম দ্যুলোক।
অন্তরিক্ষলোক = মহর্ষি যাস্ক নিরুক্তেই বলেছেন - “অন্তরিক্ষং কস্মাৎ ? অন্তরা ক্ষান্তং ভবতি, অন্তরা ইমে বা” [নিরুক্ত ২.১০] অর্থাৎ অন্তরিক্ষ নাম কেন হয়েছে ? কারণ এটি দ্যুলোক এবং পৃথিবীলোকের মধ্যের স্থান। অথবা ঐ দুই লোকের মধ্যে অস্থিত হওয়ায় এর নাম অন্তরিক্ষ।
পৃথিবীলোক = যে স্থানে মনুষ্য বাস করে জীবন-যাপন করে তাকেই পৃথিবীলোক বলা হয়।
গীতার এই শ্লোকে অর্জুন ত্রিলোক বলতে “দ্যুলোক, অন্তরিক্ষলোক এবং পৃথিবীলোক-কে বুঝিয়েছেন। কাল্পনিক স্থান বিশেষ “স্বর্গলোক, নরক-লোক, মর্ত্ত্যলোক” নয়।
🖋️ শ্রী রজিৎ চন্দ্র বর্মন
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক,
বাংলাদেশ অগ্নিবীর, রংপুর বিভাগীয় শাখা