আদ-দাওয়াহ ট্রাস্ট Ad-Dawah Trust

আদ-দাওয়াহ ট্রাস্ট Ad-Dawah Trust প্রচলিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সাম্প্রদায়ীকতা মুক্ত এবং অলাভজনক একটি জনকল্যাণমুখী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

হালাল ও হারামের সীমারেখা পরিষ্কার করে এমন কুরআনের ১০টি আয়াত---১. হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ করা আল্লাহর নির্দেশ।সূরা: আ...
22/05/2026

হালাল ও হারামের সীমারেখা পরিষ্কার করে এমন কুরআনের ১০টি আয়াত

---

১. হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ করা আল্লাহর নির্দেশ।

সূরা: আল-বাকারাহ | আয়াত: ১৬৮

আরবি:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহান নাসু কুলু মিম্মা ফিল আরদি হালালান তাইয়্যিবা। ওয়ালা তাত্তাবিউ খুতুওয়াতিশ শাইতান। ইন্নাহু লাকুম আদুওউম মুবিন।

বাংলা অর্থ:
হে মানুষ! পৃথিবীতে যা হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ আমাদের জন্য হালাল ও পবিত্র খাবার নির্ধারণ করেছেন। শয়তান আমাদের হারামের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তাই হালাল-হারামের সীমা মেনে চলুন এবং পবিত্র জীবন যাপন করুন।

---

২. মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের মাংস হারাম করা হয়েছে।

সূরা: আল-বাকারাহ | আয়াত: ১৭৩

আরবি:
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইন্নামা হাররামা আলাইকুমুল মাইতাতা ওয়াদ দামা ওয়া লাহমাল খিনযিরি ওয়া মা উহিল্লা বিহি লিগাইরিল্লাহ। ফামানিদতুররা গাইরা বাগিন ওয়ালা আদিন ফালা ইছমা আলাইহ। ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।

বাংলা অর্থ:
তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে কেউ বাধ্য হলে, সীমালঙ্ঘনকারী ও সীমা অতিক্রমকারী না হয়ে, তার কোনো পাপ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন কোন খাবার হারাম। এই সীমারেখা মেনে চলা আমাদের ঈমানের অংশ। তবে জরুরি অবস্থায় আল্লাহ ক্ষমাশীল।

---

৩. মদ ও জুয়া শয়তানের কাজ এবং তা সম্পূর্ণ হারাম।

সূরা: আল-মায়িদাহ | আয়াত: ৯০

আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানু ইন্নামাল খামরু ওয়াল মাইসিরু ওয়াল আনসাবু ওয়াল আযলামু রিজসুম মিন আমালিশ শাইতানি ফাজতানিবুহু লাআল্লাকুম তুফলিহুন।

বাংলা অর্থ:
হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর নিশ্চয়ই ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

অনুপ্রেরণা:
মদ ও জুয়া শুধু হারামই নয়, এগুলো শয়তানের কাজ। এগুলো থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন এবং পবিত্র জীবন যাপন করুন। সফলতা এতেই নিহিত।

---

৪. সুদ খাওয়া কঠোরভাবে হারাম এবং তা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শামিল।

সূরা: আল-বাকারাহ | আয়াত: ২৭৫

আরবি:
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا.

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাযিনা ইয়া'কুলুনার রিবা লা ইয়াকুমুনা ইল্লা কামা ইয়াকুমুল্লাযি ইয়াতাখাব্বাতুহুশ শাইতানু মিনাল মাস্স। যালিকা বিআন্নাহুম কালু ইন্নামাল বাইউ মিছলুর রিবা। ওয়া আহাল্লাল্লাহুল বাইআ ওয়া হাররামার রিবা।

বাংলা অর্থ:
যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতে এমনভাবে দাঁড়াবে যেভাবে দাঁড়ায় ঐ ব্যক্তি যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এজন্য যে, তারা বলে ক্রয়-বিক্রয়ও তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।

অনুপ্রেরণা:
সুদ একটি মহাপাপ। আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন কিন্তু সুদ হারাম করেছেন। সুদমুক্ত জীবন গড়ুন এবং হালাল উপার্জনের পথে চলুন।

---

৫. অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভক্ষণ করা হারাম।

সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ২৯

আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا.

বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানু লা তা'কুলু আমওয়ালাকুম বাইনাকুম বিলবাতিলি ইল্লা আন তাকুনা তিজারাতান আন তারাদিম মিনকুম। ওয়ালা তাকতুলু আনফুসাকুম। ইন্নাল্লাহা কানা বিকুম রাহিমা।

বাংলা অর্থ:
হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

অনুপ্রেরণা:
ধোঁকা, প্রতারণা, ঘুষ বা অন্য কোনো অন্যায় পথে সম্পদ অর্জন হারাম। শুধু পারস্পরিক সম্মতিতে সৎ ব্যবসা হালাল। সততার পথে উপার্জন করুন।

---

৬. ব্যভিচারের কাছেও যেও না কারণ তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।

সূরা: আল-ইসরা | আয়াত: ৩২

আরবি:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়ালা তাকরাবুয যিনা। ইন্নাহু কানা ফাহিশাতাও ওয়া সাআ সাবিলা।

বাংলা অর্থ:
আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।

অনুপ্রেরণা:
ব্যভিচার শুধু হারামই নয়, আল্লাহ বলেছেন এর কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। পবিত্রতা রক্ষা করুন এবং হালাল পথে চলুন।

---

৭. আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করো না।

সূরা: আল-মায়িদাহ | আয়াত: ৮৭

আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.

বাংলা উচ্চারণ:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানু লা তুহাররিমু তাইয়্যিবাতি মা আহাল্লাল্লাহু লাকুম ওয়ালা তা'তাদু। ইন্নাল্লাহা লা ইউহিব্বুল মু'তাদিন।

বাংলা অর্থ:
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন তা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

অনুপ্রেরণা:
হালাল জিনিসকে হারাম মনে করা বা নিজের উপর অযথা কঠোরতা আরোপ করাও ভুল। আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা ভোগ করুন এবং কৃতজ্ঞ থাকুন।

---

৮. হারাম খাবার স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা: আল-মায়িদাহ | আয়াত: ৩

আরবি:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.

বাংলা উচ্চারণ:
হুররিমাত আলাইকুমুল মাইতাতু ওয়াদ দামু ওয়া লাহমুল খিনযিরি ওয়া মা উহিল্লা লিগাইরিল্লাহি বিহ।

বাংলা অর্থ:
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের মাংস এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবেহকৃত প্রাণী।

অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ আমাদের জন্য হারামের সীমা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। কোনো সন্দেহ নেই। তাই হালাল খাবার খান এবং পবিত্র থাকুন।

---

৯. অন্যায়ভাবে বিচারকদের কাছে সম্পদের মামলা নিয়ে যাওয়া হারাম।

সূরা: আল-বাকারাহ | আয়াত: ১৮৮

আরবি:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ.

বাংলা উচ্চারণ:
ওয়ালা তা'কুলু আমওয়ালাকুম বাইনাকুম বিলবাতিলি ওয়া তুদলু বিহা ইলাল হুক্কামি লিতা'কুলু ফারিকাম মিন আমওয়ালিন নাসি বিলইছমি ওয়া আনতুম তা'লামুন।

বাংলা অর্থ:
আর তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং জেনেবুঝে পাপের বিনিময়ে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ ভক্ষণ করার জন্য তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।

অনুপ্রেরণা:
ঘুষ দিয়ে বা মিথ্যা মামলা করে মানুষের সম্পদ হরণ করা ভয়ঙ্কর হারাম। সৎ পথে চলুন এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকুন।

---

১০. হত্যা, ব্যভিচার ও চুরি সহ সকল হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূরা: আল-আনআম | আয়াত: ১৫১

আরবি:
قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۖ وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ.

বাংলা উচ্চারণ:
কুল তাআলাও আতলু মা হাররামা রাব্বুকুম আলাইকুম আল্লা তুশরিকু বিহি শাইআ। ওয়া বিলওয়ালিদাইনি ইহসানা। ওয়ালা তাকতুলু আওলাদাকুম মিন ইমলাক।

বাংলা অর্থ:
বলুন, এসো, তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা তিলাওয়াত করি। তা হলো তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।

অনুপ্রেরণা:
আল্লাহ এই আয়াতে মৌলিক হারাম কাজগুলো স্পষ্ট করেছেন। শিরক, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, হত্যা সবকিছুই হারাম। এই সীমারেখা মেনে চলুন এবং আল্লাহভীরু জীবন যাপন করুন।

---

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল ও হারামের সীমারেখা বুঝে সে অনুযায়ী জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

#হালাল #হারাম #কুরআন #ইসলাম #আল্লাহ #ঈমান #শরিয়ত #ইসলামিকপোস্ট #আলকুরআন #মুসলিম #ইসলামিকজ্ঞান #পবিত্রতা #হালালউপার্জন #সুদমুক্ত #ইসলামিকজীবন #তাকওয়া #সীমারেখা #আল্লাহরবিধান

বি: দ্র: এই পোস্টে যে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে। বাংলা উচ্চারণ কখনোই আরবি উচ্চারণের বিকল্প নয়, এটি শুধুমাত্র একটি সাহায্যকারী মাধ্যম।

এবছর আরাফাতের ময়দানে হজ ১৪৪৭ হিজরির গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করবেন মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব যুগ শ্রেষ্ঠ ক...
18/05/2026

এবছর আরাফাতের ময়দানে হজ ১৪৪৭ হিজরির গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করবেন মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব যুগ শ্রেষ্ঠ কারীউল কুরআন ফজিলাতুশ–শাইখ ড. আলী বিন আব্দির রহমান আল–হুযাইফী (হাফিজাহুল্লাহ)

আলহামদুলিল্লাহপ্রতি সোমবার এর ন্যায় সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
05/05/2026

আলহামদুলিল্লাহ
প্রতি সোমবার এর ন্যায় সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

30/04/2026
যুবকদের প্রতি একগুচ্ছ সোনালী উপদেশ (শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. উপদেশ সহ)প্রশ্ন: শাইখ, আমাদের যুব সমাজকে কিছু গুরুত্বপ...
29/03/2026

যুবকদের প্রতি একগুচ্ছ সোনালী উপদেশ (শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. উপদেশ সহ)

প্রশ্ন: শাইখ, আমাদের যুব সমাজকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহা করুন যেন, দ্বীনের পথে থাকতে পারি, হারাম থেকে বেঁচে থাকতে পারি এবং আল্লাহ ও রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত পথে চলতে পারি।
উত্তর:
যৌবনকাল আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত। কিন্তু চতুর্দিকে যখন ফিতনার সয়লাব চলছে, এমন সময়ে দ্বীনের পথে অবিচল থাকা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ ও তৌফিক কামনা করার পাশাপাশি দৃঢ় মনোবল থাকা অপরিহার্য। অন্যথায় এই পথে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন।

নিম্নে বর্ণিত নসিহতগুলো মেনে চলে আশা করি, একজন মুসলিম যুবক দ্বীনের ওপরে প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারবে এবং তার দ্বারা দেশ ও জাতি উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

◈ ১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করা:

সালাত হলো মুমিনের ঢাল, যা তাকে পাপাচার থেকে রক্ষা করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

"নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" [সূরা আনকাবুত: ৪৫]

◈ ২. চোখের হেফাজত ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা:

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের এই যুগে কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা অপরিহার্য।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ

"যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের (লজ্জাস্থান) জামানত দেবে, আমি তার জান্নাতের জামিন হব।" [সহিহ বুখারি: ৬৪৭৪]

◈ ৩. সৎ সঙ্গী ও ভালো বন্ধু নির্বাচন:

মানুষ তার বন্ধুর আদর্শ ও চরিত্রের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হয়।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ

"মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন লক্ষ্য করে যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।" [সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৩৩-সহিহ]

◈ ৪. যৌবনকাল সম্পর্কে জবাবদিহিতার প্রস্তুতি:

কিয়ামতের ময়দানে যৌবনকাল সম্পর্কে বিশেষ প্রশ্ন করা হবে।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

لا تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ... وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاهُ

"কিয়ামতের দিন কোনো আদম সন্তান তার রবের নিকট থেকে এক কদমও নড়তে পারবে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়... (তার মধ্যে একটি হলো) তার যৌবনকাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে।" [সুনানে তিরমিজি: ২৪১৬-সহিহ]

◈ ৫. তাওবা ও ইস্তিগফারের অভ্যাস করা:

মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক তবে ওই ব্যক্তির শ্রেষ্ঠ যে, ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لا ذَنْبَ لَهُ

"গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি এমন, যেন তার কোনো গুনাহই নেই।" [সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০-হাসান]

◈ ৬. আরশের নিচে ছায়া পাওয়ার সংকল্প:

যৌবনকালকে ইবাদতে কাটানোর পুরস্কার অত্যন্ত বিশাল। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাত শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন যারা আরশের নিচে ছায়া পাবে। তার মধ্যে একজন হলো:

وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ

"সেই যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে।" [সহিহ বুখারি: ৬৬০]

প্রিয় যুবক ভাই, একা থাকা অবস্থায় নিজেকে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত রাখুন। কারণ শয়তান একাকী মানুষকে সহজেই পথভ্রষ্ট করে। দ্বীনি ইলম অর্জনে সচেষ্ট থাকুন এবং সবসময় এই দোয়াটি করুন:

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

"হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।" [সুনানে তিরমিজি: ৩৫২২-সহিহ]

❑ মুসলিম যুবকদের জন্য আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর কিছু উপদেশ:
(শাইখের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রবন্ধ থেকে সংগৃহীত এবং সংক্ষিপ্ত)

যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দাঈ, ফকিহ এবং শিক্ষক সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর কয়েকটি আলোচনা থেকে যুবকদের জন্য কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নসিহত ও দিকনির্দেশনা নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:

✪ ১. ইলমে দ্বীন অর্জনে সচেষ্ট হওয়া:

যুবকদের প্রধান কাজ হলো, ইলমে নাফে বা কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনে সশরীরে পরিশ্রম করা এবং দ্বীনের সঠিক বুঝ হাসিলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করা। যেন তারা ভবিষ্যতে উম্মাহর পথপ্রদর্শক হতে পারে।

✪ ২. সঠিক বুঝ ও দূরদর্শিতা (بصيرة) তৈরি করা:

কুরআন ও সুন্নাহর নুসুস (টেক্সট) পড়ার সময় সেটির সঠিক মর্ম অনুধাবন করা জরুরি। কেবল ভাসাভাসা জ্ঞান নিয়ে তুষ্ট না থেকে বারবার অধ্যয়ন করা এবং শিক্ষক ও বিজ্ঞ সহপাঠীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সঠিক বুঝ নিশ্চিত করা উচিত।

✪ ৩. আমল ও দাওয়াহর সমন্বয়:

দ্বীন হলো চারটি বিষয়ের সমষ্টি: ইলম (জ্ঞান), আমল (প্রয়োগ), দাওয়াহ (প্রচার) ও সবর (ধৈর্য)। যা কিছু জানা হবে (যেমন: সালাত, জাকাত, পর্দা) তা আমল করতে হবে এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

✪ ৪. না জেনে কথা বলা থেকে বেঁচে থাকা:

বিনা ইলমে বা না জেনে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে কোনো কথা বলা কবিরা গুনাহ, যা শিরকের কাছাকাছি পর্যায়ের। শয়তান মানুষকে সর্বদা না জেনে কথা বলতে এবং অশ্লীলতার দিকে প্ররোচিত করে; তাই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

✪ ৫. কুরআন ও সুন্নাহর সাথে গভীর সম্পর্ক:

- নিয়মিত তিলাওয়াত, হিফজ এবং তাদাব্বুর (গভীর চিন্তা) করতে হবে। অর্থ বোঝার জন্য তাফসিরে ইবনে কাসীর বা বাগভি পাঠ করা যেতে পারে।

- অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের হাদিসের কিতাবগুলো যেমন—উমদাতুল আহকাম, বুলুগুল মারাম এবং আরবাঈন নববী (ইমাম নওয়াবির ৪০ হাদিস) মুখস্থ বা গভীরভাবে অধ্যয়ন করা।

✪ ৬. ভারসাম্য রক্ষা করা (ইফরাত ও তাফরিত বর্জন):

দ্বীনের পথে চলার সময় ইফরাত (চরমপন্থা বা বাড়াবাড়ি) এবং তাফরিত (শিথিলতা)—উভয়টি বর্জন করে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে।

✪ ৭. উপকারী কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা:

শায়খ ইবনে বায (রহ.) যুবকদের জন্য বিশেষ কিছু কিতাবের নাম প্রস্তাব করেছেন:

- আকিদা ও মূলনীতি: কিতাবুত তাওহিদ, তিনটি মূলনীতি (সালাসাতুল উসুল)।
- হাদিস: সহীহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আরবায়া, মুত্তাওয়াত মালেক ও মুসনাদে আহমদ।
- ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর 'যাদুল মাআদ', 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন' এবং 'ইগাছাতুল লাহফান'।
- এছাড়া ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর 'মুনতাকাল আখবার' এবং ইবনুল আসিরের 'জামেউল উসুল'।

✪ ৮. উম্মাহর সেবায় অন্যান্য বিদ্যা অর্জন:

দ্বীনি জ্ঞানের পাশাপাশি যদি সম্ভব হয় তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জাগতিক বিদ্যা অর্জন করাও সওয়াবের কাজ, যাতে উম্মাহর সেবা করা যায়।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে ও আমাদের সকল যুবককে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
- আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি

🌴 ইরানের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য! (যাঁরা গত ৭০ বছরের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের জন্য) 📜১. ১৯৪৮ সালের আ...
23/03/2026

🌴 ইরানের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য! (যাঁরা গত ৭০ বছরের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের জন্য) 📜

১. ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ: এই যুদ্ধে ইরান আরব দেশগুলোর বিপক্ষে গিয়ে ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন করেছিল। ⚔️

২. ১৯৫৬ সালের যুদ্ধ: এই যুদ্ধেও ইরান আরবদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাথে দাঁড়িয়েছিল। ⚔️

৩. ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ: আরব-ইসরায়েল সংঘাতের এই পর্যায়েও ইরান আরবদের বিপক্ষে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছিল। ⚔️

৪. ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ: পূর্বের ন্যায় এই যুদ্ধেও ইরান আরবদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে ছিল। ⚔️

৫. ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ: এই যুদ্ধে নিজেদের স্বার্থে ইসরায়েল আরব দেশ ইরাকের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিল। ⚔️

৬. ১৯৮৮ সালের আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ: মুসলিম দেশ আজারবাইজানের বিপক্ষে গিয়ে ইরান খ্রিস্টান প্রধান দেশ আর্মেনিয়াকে সমর্থন করেছিল। ⚔️🇦🇲

৭. ১৯৯৪ সালের চেচনিয়া-রাশিয়া যুদ্ধ: চেচেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ইরান কার্যত রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছিল। ⚔️🇷🇺

৮. ২০০১ সালের আফগানিস্তান-আমেরিকা যুদ্ধ: এই যুদ্ধে ইরান আফগানদের বিপক্ষে গিয়ে আমেরিকার জন্য নিজেদের আকাশপথ উন্মুক্ত করে দেয় এবং মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করে। ✈️🇺🇸

৯. ২০০৩ সালের ইরাক-আমেরিকা যুদ্ধ: এই যুদ্ধেও ইরান আরবদের বিপক্ষে গিয়ে পরোক্ষভাবে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমকে সুবিধা পৌঁছে দিয়েছিল। ⚔️

১০. ২০২০ সালের আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ: সাম্প্রতিক এই যুদ্ধেও ইরান তুর্কি মুসলিমদের (আজারবাইজান) বিপক্ষে গিয়ে পুনরায় আর্মেনিয়ার পাশে দাঁড়ায়। ⚔️🇦🇲

উপসংহার:
এই হলো ইরানের আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক কৌশলের কিছু বাস্তব উদাহরণ। আরব এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে ইরানি নেতৃত্বের সম্পর্ক ও নীতির এই তালিকাটি আসলে অনেক দীর্ঘ। ⚠️

Address

Rangpur

Telephone

+8801742344107

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আদ-দাওয়াহ ট্রাস্ট Ad-Dawah Trust posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to আদ-দাওয়াহ ট্রাস্ট Ad-Dawah Trust:

Share