নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito। ঠাকুর নিগমানন্দ মোদের আরাধ্যদেবতা।সকল কর্ম ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্পিত হলো।জয়গুরু🙏🌺
(Joyguru)

শাস্ত্রে আছে, 'গুরুকে আসন দিবে, বসন দিবে, ভূষণ দিবে ও বাহন দিবে।' এ কথার তাৎপর্য কী জান?" প্রথমে আসন। আসন অর্থে কি খাট, ...
24/08/2026

শাস্ত্রে আছে, 'গুরুকে আসন দিবে, বসন দিবে, ভূষণ দিবে ও বাহন দিবে।' এ কথার তাৎপর্য কী জান?"
প্রথমে আসন। আসন অর্থে কি খাট, পালা চেয়ার ইত্যাদি? না, তা নয়;— হৃদয়াসন । হৃৎপদ্মে গুরুকে সতত চিন্তা করবে, অপরের চিন্তা যেন হৃদয়ে স্থান না পায়। এইভাবে গুরুকে আসন দিবে।

দ্বিতীয়, বসন; বসন অর্থে কি গরদ, তসর, শাল দোশালা ইত্যাদি? না, তা নয়। বসন হলো আচ্ছাদন, গুরুদেব ইষ্টমন্ত্ররূপ যে অমূল্য জিনিষ প্রদান করেছেন, তাহা মূল্যবান ধনরত্নের ন্যায় অতি গোপনে ও সাবধানে রাখবে, যেন কেহ জানতে না পারে। ইষ্টমন্ত্র কাহারও নিকট প্রকাশ করিতে নাই।

তৃতীয়, ভূষণ ; ভূষণ অর্থে হার, চেইন, আংটি ও অলঙ্কারাদি কী? না, তা নয়। এর তাৎপর্য এই যে, বহুমূল্য বস্ত্রাভরণাদি পরিয়া মানুষ ভিতরে-ভিতরে সর্বদা মনে অপরিসীম আনন্দ ও গৌরব অনুভব করবে। কেননা ইষ্টমন্ত্র প্রভাবে যাহা লাভ করি যায়, পৃথিবীতে এমন কোন বস্তু নাই যদ্দ্বারা তাহা লাভ করা যেতে পারে। এইজন্যই ইষ্টমন্ত্রকে অমূল্য রত্ন বলে। ইহা দ্বারা ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ এই চতুর্বর্গ লাভ হয়ে থাকে। সুতরাং ইষ্টমন্ত্ররূপ মহারত্ন যে লাভ করেছে তাহার ন্যায় ভাগ্যবান ব্যক্তি আর কে আছে? এই কথা সর্বদা মনে মনে স্মরণ করে গৌরব অনুভব করবে।

তারপর চতুর্থ, বাহন; বাহন অর্থে হাতী-ঘোড়া-নৌকা-পাল্কী ইত্যাদি যান নয়। বাহনের যেমন স্বীয় ইচ্ছায় কোন কাজ করিবার যো নাই, প্রভুর ব্যবহারের জন্যই তার প্রয়োজন এবং প্রভুর ইচ্ছাতেই সে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, তার নিজের কোন মতামত বা ওজর-আপত্তি চলে না, শিষ্যের হৃদয়টিও সর্বদা সেইরূপ প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। আদেশমাত্র নির্বিচারে গুরুর আদেশ পালন করিবে, কাজের ভালমন্দ, ফলাফল, শুভাশুভ, ন্যায়-অন্যায় কিছুই বিচার করিবে না। ইহাই হইল এ সবের তাৎপর্য।"

শ্রীশ্রী১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব।
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর
#ঠাকুরেরজন্মোৎসব #নিগমকথামৃত

নদীয়া জেলার কুতুবপুর গ্রামের জাত বালক নলিনীকান্ত( চট্টোপাধ্যায়) চার চারটি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে হয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর নি...
18/08/2026

নদীয়া জেলার কুতুবপুর গ্রামের জাত বালক নলিনীকান্ত( চট্টোপাধ্যায়) চার চারটি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে হয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর নিগমানন্দ।
এই যে তিনি পরবর্তী জীবনে পরিব্রাজকাচার্য পরমহংস শ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী হবেন,নির্বিকল্প সমাধি থেকে ব্যুত্থিত হবেন,জগতের একজন বরিষ্ঠ সদ্গুরু হবেন, বা এরকমই কোনো জগৎখ্যাত মহাপুরুষ হবেন,তার কিছু কিছু পূর্বাভাস কিন্তু জানা গিয়েছিল।শ্রীশ্রী ঠাকুরকে নিয়ে লেখা নানা তথ্যে তার বহু প্রমান দেখা যায়। আর মাত্র ৯ দিন পরেই শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের আবির্ভাব তিথি। ১৪৬তম শুভ আবির্ভাব তিথির প্রাক্কালে আসুন তা জেনে নিই---

#শ্রীশ্রী_ঠাকুরের_আবির্ভাব_নিয়ে_সদ্গুরু_সমর্থিত__আগামবাণী----
সেদিন ভবানীপুরের শ্রী যুক্ত সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়,এম.এ.বি.এল. মহাশয় কালীঘাটের শ্রী সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত নামে ৬।৭ বছরের একটি বালককে নিয়ে ঠাকুরের (শ্রীশ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বমীর) নিকট উপস্থিত হলেন।ঠাকুর বললেন,আপনারা যা ইচ্ছা প্রশ্ন করুন।এই ছেলেটি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবেন।' ঠাকুর কিছুক্ষন পরে বললেন "এই ছেলেটি জাতিস্মর "।ভবিষ্যতে দেশের একটি বিখ্যাত লোক হবেন।কিন্তু জাতিস্মরত্ব আর বেশিদিন থাকবে না।"
একজন প্রশ্ন করলেন -" ভগবান অবতীর্ণ হইলে, এবার তিনি কিভাবে কার্য করিবেন? সুরেন্দ্রনাথ বললেন-- " এবারে যিনি অবতার, তিনি শুধু জ্ঞান বা ভক্তি লইয়া কার্য্য করিলে চলবে না।এবার বুদ্ধদেবের জ্ঞান এবং মহাপ্রভুর ভক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে - না হলে তার কথা গ্রাহ্য হবে না।"

আমাদের ঠাকুর সমন্ধে বলতে হবে - তিনি অবতার নন,সদ্-গুরু।কিন্তু তিনি জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয়ী আদর্শের পথ দেখিয়েছেন।কিঞ্চিৎ পার্থক্য থাকলেও বুদ্ধদেব এবং শঙ্করাচার্য উভয়েই জ্ঞান পথের পথিক।পরন্ত শঙ্করাচার্যকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।তিনি বেদান্তের ভিত্তিতে "ভক্তিরেব গরীয়সী"ও বলেছেন।আর মহাপ্রভু তো কেবলা ভক্তির পথে চলেছেন।
ঠাকুর নিগমানন্দদেব বলেছেন,জ্ঞানপথ - যে জ্ঞান কিনা ভক্তিমিশ্র।আর ভক্তিপথ, অর্থাৎ জ্ঞান মিশ্রা ভক্তি।বলেছেন উহাই প্রকৃত পথ।তার মতে ভক্তিবিরোধী জ্ঞানবাদী, নয়তো ভক্তিবাদী জ্ঞান-বিরোধী -- উভয়ই ভুল।জ্ঞান মানে শুধুই জ্ঞানপথ,আর ভক্তি মানেই শুধু ভক্তিপথ ধারণাটি ঠিক নয়।বলেছেন,জ্ঞান যখন ভক্তিতে আশ্রয়ী হয়,তখন জ্ঞান বিষয়টা বহিরাবরণ হয়ে দাঁড়ায়।

বলতে পারি পূর্বোক্ত ভবিষ্যৎবাণী আমাদের ঠাকুরকে অনেকাংশে লক্ষ্য করে। 'শঙ্করের মত আর গৌরাঙ্গের পথ" তিনিই বলেছেন। ভবিষ্যৎবাণীটির সময় শ্রীশ্রী ঠাকুরের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছরের পাশাপাশি ।

★ #কাশিমবাজারের_রাণী_স্বর্ণময়ীর_সভাপন্ডিত প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী শ্যামাচরণ মহাশয় কর্তৃক নলিনীকান্তের কোষ্ঠী বিচার-----

১১বছর বয়সে নলিনীকান্তের উপনয়ন হলো।তিনি ত্রিসন্ধ্যা গায়ত্রীজপ পূজাদি ভক্তি সহকারে করতে লাগলেন।কিন্তু খুব শীঘ্রই ধর্মকাজে তাঁর ঘোর অনাস্থা ও অবিশ্বাস এসে পড়ল।কারন হিসেবে বলা হয়েছে যে,এর মূলে ছিল তার যুক্তিবাদী তেজস্বী মন,সত্যানুরাগ ও সত্যানুসন্ধিৎসা।এবং তা প্রভাবিত ছিল বাংলার সমকালীন গৌরবময় যুগের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভৃতি নানা মনীষীর উদ্যত লেখনী দ্বারা।পরন্ত তাঁর সদাকৈশর সত্যসুন্দরকেই আঁকড়ে ধরে ছিল।অন্যায় অযৌক্তিককে বর্জন করতে লাগল।সন্মানীয়কে সন্মান দিতে অকুন্ঠ থাকলেও তিনি ব্রাহ্মণত্বের মিথ্যে অভিমানকে অগ্রাহ্য করলেন।ভন্ডামি ও কপটতা হয়ে উঠল তার দুচক্ষের বিষ।আবার,নিজের ভুল বুঝতে পারলে নিজেকে শুধরেও নিচ্ছিলেন তিনি।
এদিকে মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ের পাঠে তার মেধার পরিচয় মিলতে লাগল।এসময়ে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ( তার দাদু সম্পর্কীয়) ও স্নেহশীলা জননী মাণিকসুন্দরীর তিরোধান হলে দারুণ শোকাহত হলেন তিনি।অন্যদিকে বলিষ্ঠ নৈতিকতা সত্ত্বেও তাঁর অব্রাহ্মণোচিত আচরণ,অত্যাচারিত নিরীহ নির্দোষ জনের পাশে অকুতোভয়ে দাড়ানো,এমনকি অপরাধী ব্যক্তিকে সাজা দেওয়াতেও দলবদ্ধ তৎপরতা,দুর্দমতা ইত্যাদিতে পিতা ভুবনমোহন খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়লেন।
এসময়েই পিতা এক বিখ্যাত জ্যোতিষীরর সাক্ষাৎ পান।তিনি হলেন কাশিমবাজারের রাণী স্বর্ণময়ীর দ্বারপণ্ডিত শ্যামাচরণ বিদ্যার্ণব মশাই।তিনি বিশেষ কাজে মেহেরপুর এসেছিলেন।ভুবনমোহন ছেলের কোষ্ঠী নিয়ে তার কাছে এলেন।জ্যোতিষী বিচার করে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, " আপনার এই পুত্র মহারাজচক্রবর্তী হইবার কথা,কিন্তু সংসারে ইহার অবস্থিতি দেখা যাইতেছে না।.. জাতক অদ্বিতীয় মহাপুরুষ হইবে মনে হয়।ইহার ভবিষ্যৎ জীবন অতি অদ্ভুত ঘটনায় পরিপূর্ণ। বহু কর্ম,বহু জ্ঞান, বহু মত, বহু পথ,বহু বিপদ, বহু সম্পদ, বহু মান,বহু নিন্দা, বহু ত্যাগ,ও বহু লাভ এর জীবনের বিশেষত্ব।.. সংসারে থাকিলে জাতক নিশ্চয়ই রাজা হইবে।কিন্তু শিব অংশে ইহার জন্ম, সুতরাং উদাসী হওয়া সম্ভব।' এবং জাতকের কররেখা দেখেও তিনি একই অভিমত জানালেন।অতঃপর জাতককে তিনি আশীর্বাদ জ্ঞাপন করলেন। (সদ্-গুরু নিগমানন্দ কথা --যোগেশ্বর গঙ্গোপাধ্যায় অবলম্বনে)

নলিনীকান্ত সমন্ধে এমন পূর্বাভাস স্পষ্টতই অক্ষরে অক্ষরে যে সত্য হয়েছিল, সে কথা বলাই বাহুল্য।

★ #শ্রীমৎ_স্বামী_ভাস্করানন্দ_সরস্বতীর_রহস্যাবৃত কথা ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ইঙ্গিতময় বাণী---

পিতা ভুবনমোহন অল্পবয়সী পুত্র নলিনীকান্তকে নিয়ে কোনোভাবে কাশীধাম এসেছিলেন।সেখানে তিনি শ্রীমৎ স্বামী ভাস্করানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।নলিনীকান্তকে দেখে স্বামীজী বললেনঃ "লেড়কা মহারাজ- চক্রবর্তী হো যায়ে গা"। কথাটি বলে তিনি এমনভাবে হাসলেন যে, পিতা পুত্র এর অর্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না যে, এটা আনন্দ, না,পরিহাস।

আসলে ভগবানের ইচ্ছা, যা মানুষের কাছে গোপনীয়,তা তাঁরা প্রকাশ করতে পারেন না।কারন প্রকাশ করলে অহংকার বা অবসাদের কারনে উদ্দিষ্টজনের সমূহ ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে স্বামীজী রাজা- রাজড়া শব্দটি সাধারন
অর্থে বলেননি।পরন্ত সন্ন্যাসীকেও সাধুগন মহারাজ বলেন,সে অর্থেই তিনি "মহারাজচক্রবর্তী" - শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।যেমনটি ভবিষ্যতে নলিনীকান্ত হয়েছিলেন ঠাকুর নিগমানন্দ রূপে।

★নলিনীকান্তের বয়স যখন বছর ছয়, তখন কার্যোপলক্ষে তাকে সাথে নিয়ে পিতা ভুবনমোহন একবার কলকাতায় আসেন।তিনি সময় করে একদিন পুত্রসহ ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সাক্ষাৎ করতে আসেন।পরমহংসদেব তখন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত

নলিনীকান্তকে দেখামাত্র কাছে এসে তিনি সস্নেহে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বললেন,' আহা! ছেলেটিতো বেশ।আপনার ছেলে?" ভুবনমোহন বললেন, আজ্ঞে হাঁ।পরমহংসদেব বললেন ' বেশ বেশ--- দেখে খুশি হলাম।ভরা কলসী দেখেই প্রাণ ঠান্ডা হয়,খুব জোরে ধাক্কা মারলেও নাড়াতে পারা যায় না।লোকে সংসার করে ছেলেমেয়ে রেখে যায়।আমি তো আর সংসার করিনি।আমি কাদের রেখে যাব অনেক সময় বসে ভাবি।দেখি, আমার চিন্তার কারন নাই।যাঁর কাজ তিনিই করছেন-- মানুষ তার একটুখানি সংসারের চিন্তা করেই অস্থির হয়ে যায়।আর তিনি এই বিরাট ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে সংসার করছেন-- কোথাও একটু ত্রুটি নেই,একটু ভুল নেই।

বলতে বলতে তিনি ভাবস্থ হলেন।ভাবাবস্থা কাটার পর গদ্গদভাবে বললেন,"জন্মান্তরে যারা সব সেরে আসে,তাদের বেশিদিন বড় কিছু করতে হয়না।আপনিই সব জোগাড় হয়ে আসে।একে দেখে আজ খুশি হলাম।সংসারে যাবে না গো, যাবে না! " তাঁদের বিদায়কালে বললেন মাঝে মাঝে একে এনে আমাকে দেখিও।'

বস্তুত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এমন ইঙ্গিতময় কথায় মধ্য দিয়ে নলিনীকান্ত ভবিষ্যৎ অত্যুচ্চ মহিমা বিষয়ে সুদৃঢ় পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠিত হয়।এবং সময়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরও তেমনিই মহোচ্চ আসনে আরূঢ় হয়েছিলেন।

★ #নলিনী_দেখলেন_পায়ের তলায় সৌরজগৎ পড়ে আছে----
পাড়ার ছেলেময়েরা হয়তে তখন খেলছে।বালক নলিনীকান্ত উদাস হয়ে দাওয়ায় বসে আছেন।হঠাৎ দেখছেন সারা দুনিয়া যেন আলোয় আলোয় ভরে গিয়েছে! আর অমনি নিজে মাটি ছেড়ে শূন্যে উধাও।মুহূর্তে পৃথিবী ছেড়ে কত উঁচুতে চলে গিয়েছেন।সেখান থেকে গ্রহ-নক্ষত্র,চাঁদ সূর্য সব দেখা যাচ্ছে।দেখছেন, সূর্য স্থির, আর পৃথিবী ও গ্রহমন্ডলী পাক খাচ্ছে তার চারপাশ।
পরে আবার সেসব দেখতে ইচ্ছে করছে তাঁর।গালে হাত দিয়ে বসে থেকেছেন।মা ডাকাডাকি করলে বিরক্ত হয়েছেন।আবার যখন তিনি এসব ভূলেছেন,তখন হঠাৎ একদিন সেরকমই হয়েছে।দেখেছেন,পায়ের তলায় সৌরজগৎ পড়ে আছে বড়ো মানচিত্রটির মতো।(ঐ গ্রন্থ অবলম্বনে)

এতে আমরা নিশ্চিত করে বুঝে নিই জন্মান্তরের সাধনাই তাঁকে এ জন্মে বিনা ভূমিকায় করতলগত হতে আসছে।অতএব এজন্মেও যে তিনি সাধনার উচ্চ পীঠে স্থিত হতে পারেন,তাতে আর সন্দেহ কোথায়?

★ #সন্ধ্যা_দেখানোর_কালে_নলিনীকান্তর_ভগবতী দর্শন-----
বয়স যখন আট- নয় বছর, তখন মামাবাড়ি রাধাকান্তপুর থেকে নলিনীকান্ত পিত্রালয় কুতবপুরে সেবার এসেছেন।সেদিন সন্ধ্যায় জেঠি-মা বললেন, 'চন্ডীমন্ডপে সন্ধ্যাটা দেখিয়ে আয় তো নলিন!' তিনি চন্ডীমন্ডপে এসে দেখেন, ওখানে যেন আলো জ্বলছে।তাহলে আগেই কি কেউ দীপ জ্বালিয়ে গেছে? চন্ডীমন্ডপের পৈঠায় পা দিয়েই নলিনী দেখলেন মঙ্গলঘটের কাছে দপ্ করে আগুন জ্বলে উঠল যেন।নিমেষেই ব্যাপারটা ঘটে গেল।স্তম্ভিত নলিনীকান্তর চোখের সামনেই সেই আলোর মধ্যে ফুটে উঠল ছোট্ট একটি সুন্দরী মেয়ে। ' মা মা গো' ডেকে প্রদীপ ফেলে ভয়ে উর্ধ্ধশ্বাসে পালিয়ে এলেন নলিনী।
মা হাসিমুখে বললেন, ' দুর বোকা,ভূত হবে কেন?চন্ডীমন্ডপে মায়ের ঘট স্থাপনা করা আছে।সেখানে কি ভূতপ্রেত আসতে পারে।তুই আজ মা ভগবতীকে দেখেছিস।আমার ভাগ্যধর ছেলে তুমি।'
নলিনী ভগবতী সমন্ধে অযথা মন্তব্য করলে মা বোঝালেন, ' ছি বলতে নেই এমন করে।আমি যেমন তোর মা, তিনিও তোর মা।তিনিই আসল মা নলিন,তোর আমার সকলের মা।এ মা মরে যাবে একদিন,কিন্তু ঐ মা চিরদিন থাকবে তোর সঙ্গে সঙ্গে।তুই ভয় না পেলে মা হয়তো কথাও বলতেন।'
এ সংবাদে ভুবনমোহন খুশি হতে পারেননি।কারন একটি প্রবাদ চলে আসছিল-- ভট্টাচার্য (চট্টোপাধ্যায়) পরিবারের একটি ছেলেকে নিয়ে তাঁদের কুলদেবী এ গ্রাম ত্যাগ করবেন।পূজার্চনাকালে তিনি দুএকটা অলৌকিক দর্শন পেলেও ধ্যান-বিনাই ওইটুকু ছেলেকে দেবী দেখা দেবেন কেন? তাহলে কি ওর অকালমৃত্যু হবে? নাকি ওর সন্ন্যাস হবে? ( বাংলার সাধনা ও শ্রীশ্রীনিগমানন্দদেব-নারায়ণী দেবী, অবলম্বনে)
তাই আমরা বলতে পারি, এব্যাপার একটাই পূর্বাভাস দেয় যে,নলিনীকান্ত একদিন তারা মায়ের সাধনা করবেন।হয়তো বা মুনি বশিষ্ঠের মতো মা-তারাকে বধুরূপে লাভ করার পথে চলবেন।

★ #ভূবনমোহনের_সামনে_দিগন্ত_আলো_করা_একটিতারা_খসে_পড়ল----
লেখিকা নারায়ণী দেবী তাঁর উপরি কথিত গ্রন্থে (আর্য্যদর্পন,ভাদ্র,১৩৭১সংখ্যা থেকে তিনি পেয়েছেন)লিখেছেন,রাধারমণ ভট্টাচার্য মশাইর কাছ থেকে একটা অদ্ভুদ খবর পেয়েছিলেন তাঁরা।ভুবনমোহনের জ্ঞাতিবোন অতি বৃদ্ধা এক প্রতিবেশিনী গল্প করেছিলেন যে,একবার ভুবনমোহন রাধাকান্তপুর থেকে মেহেরপুর যাচ্ছিলেন।সন্ধ্যা তখন সমাগত প্রায়।ভৈরব নদের তীর ধরে দ্রুত পায়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন দুর্গোৎসবের প্রয়োজনে।হঠাৎ দিগন্ত উদ্ভাসিত করে অদূরে ভৈরব নদের জলে একটা তারা খসে পড়ল।তাঁর আলো চোখ ধাঁধিয়ে তাঁকে যেন অবশ করে দিল।এর কিছুদিন পরেই জানা গেল তাঁর পত্নী মাণিকসুন্দরী অন্তঃসত্ত্বা।
হয়তো তাঁরা এমন জগৎআলোকরা সন্তান অচিরে লাভ করবেন, এরকম ইঙ্গিত ছিল এই দৃশ্যপটের অন্তরালে।এরকমই বুদ্ধদেব জন্মানোর আগে স্বপ্নে তাঁর জননী তাঁর কোলে পূর্ণচন্দ্রকে দেখেছিলেন।অন্য কোনো কোনো মনীষীর ক্ষেত্রেও এমন ঘটতে শোনা যায়।সংষ্কৃত সাহিত্যেও এরকম বর্ণনার নজির আছে।
এভাবেই মহাপুরুষের আবির্ভাব - বার্তার পূর্বাভাস লক্ষিত হয়।এ ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা মানুন-না- মানুন,আমাদের শ্রীশ্রীঠাকুর নিগমানন্দদেবের বেলায় সে যেন স্পষ্ট স্পষ্টভাবে আভাসিত হয়েছিল।

জয়গুরু...জয়গুরু...জয়গুরু...।

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।

“সার্বভৌম পথ হচ্ছে ঋষি-প্রদর্শিত সদাচার ও সংযমের পথ। আমরা ঋষিপ্রদর্শিত সদর রাস্তা দিয়ে চলব। মঠ-আশ্রম এই রাস্তার কথাই প্র...
15/08/2026

“সার্বভৌম পথ হচ্ছে ঋষি-প্রদর্শিত সদাচার ও সংযমের পথ। আমরা ঋষিপ্রদর্শিত সদর রাস্তা দিয়ে চলব। মঠ-আশ্রম এই রাস্তার কথাই প্রচার করছে। সুপথ দূরও ভাল। এ জন্মে পৌঁছাতে না পারি, তবু তো একটা সংস্কার অর্জিত হয়ে থাকবে।”

---পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব।

​শাস্ত্র ঋষিপ্রণীত। শাস্ত্রে সাধনার পথ সুনির্দিষ্ট করা হইয়াছে। সদর দরজা যেমন সকলের জন্য খোলা থাকে, তেমনি শাস্ত্রবর্ণিত বা ঋষিপ্রদর্শিত সাধনপথ হইল সকলের জন্য উন্মুক্ত। আর ভিতরের গুপ্তদরজা নিজস্ব দরজা, সেই দরজা সকলের জন্য নহে। তাই গুপ্তপথে সাধনা ব্যক্তিগত সাধনা। সদাচার ও সংযমের পথ হইল ঋষি-প্রদর্শিত সার্বভৌম পথ। এই পথ সকলের জন্য। তবে যাহারা সদাচার-সম্পন্ন ও সংযমী তাহারাই এই প্রশস্ত পথে আসিতে পারিবেন। ভগবান সৎ-তাই তিনি সদাচারসম্পন্ন ব্যক্তিগণকে ভালবাসেন। মানুষের মধ্যে যাহারা সত্যনিষ্ঠ, ধর্মনিষ্ঠ, ন্যায়বাদী, আচারবান তাহাদের সকলকেই ভালবাসেন এবং প্রশংসা করেন। যাঁহাকে লাভ করিবার জন্য সাধনা করিতে হয়, সাধক যদি তদ্বৎ গুণসম্পন্ন না হয়, তাহা হইলে তাঁহাকে লাভ করা সুদূরপরাহত। আচারনিষ্ঠ, সদাচারসম্পন্ন না হইয়া কিভাবে ভগবানকে সে লাভ করিবে? সমাজে একজন ধূর্ত, অধর্মপরায়ণ, মিথ্যাবাদী মানুষকে সদগুণসম্পন্ন ব্যক্তিগণ যেমন প্রত্যাখ্যান করেন, ভগবান বা কেন এইরূপ কদাচারসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্থান দিবেন বা কৃপা করিবেন?
​গুরুই ভগবান। সুতরাং প্রথমে শিষ্য গুরুর নিকট আসিয়া নিজের সদাচার ও সদগুণ দ্বারা তাঁহাকে সন্তুষ্ট করিবে। গুরুর নিকট শিষ্যকে প্রথমে পরীক্ষা দিতে হইবে। তাহাতে যদি শিষ্য উত্তীর্ণ হয়, তাহা হইলে জানিতে হইবে সে সাধনায় একদিন উত্তীর্ণ হইয়া ভগবানকে পাইবে বা তাহার মুক্তি-মোক্ষ লাভ হইবে। গুরু সদাচারসম্পন্ন এবং সংযমী। তাই তিনি শিষ্যকেও সেই শিক্ষা দেন-শিষ্য যাহাতে সদাচারসম্পন্ন ও সংযমী হইয়া শেষে মুক্তি-মোক্ষলাভ করিতে পারে। সাধনপথে গুরুই পথ-প্রদর্শক। শিষ্যের নিজের ইচ্ছামত কোন কিছু করা উচিত নহে। সবসময় গুরুর পরামর্শমত কর্ম করা উচিত। কারণ শিষ্য অজ্ঞ আর গুরু ত্রিকালজ্ঞ। ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান গুরুর নিকট প্রকাশিত। সেই কারণে গুরুর পরামর্শ ও নির্দেশ বিনা কোন কর্ম করা উচিত নহে। কোন্ সাধনার জন্য শিষ্য অধিকারী গুরু তাহা সুনির্দিষ্ট করিয়া দেন। অধিকারী ভিন্ন সাধনা করিতে গেলে তাহাতে কৃতকার্য হওয়া যায় না।
​সাত্ত্বিক আহার, সাত্ত্বিক পরিধান, সাত্ত্বিক কথোপকথন এবং সবসময় সাত্ত্বিক ভাব পোষণ করিলে মন নির্মল হইবে, চিত্ত শুদ্ধ হইবে। গুরুপদিষ্ট পথে মন্ত্রজপ, ধ্যানাদি.......

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু 🙏

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।

“পরাভক্তি বা প্রেম জ্ঞানের পর লাভ হয়। তাই আগে শঙ্কর  পরে গৌরাঙ্গ। আগে জ্ঞান তারপর প্রেম। এইজন্য আমি তোমাদের শঙ্করের মত ও...
12/08/2026

“পরাভক্তি বা প্রেম জ্ঞানের পর লাভ হয়। তাই আগে শঙ্কর পরে গৌরাঙ্গ। আগে জ্ঞান তারপর প্রেম। এইজন্য আমি তোমাদের শঙ্করের মত ও গৌরাঙ্গের পথ অর্থাৎ শঙ্করের জ্ঞান আর গৌরাঙ্গের প্রেমটা দিতে চাচ্ছি। জ্ঞানের পর যে প্রেম সেটাই বড় প্রেম। সেটাই মধুর।..."

শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব।

বৎস! এই সংসারটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা দিয়া তৈরী। স্বার্থের জন্য এখানকার জীব না করিতে পারে এমন কাজ নাই। কিন্তু মোহবন্ধ জীব...
11/08/2026

বৎস! এই সংসারটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা দিয়া তৈরী। স্বার্থের জন্য এখানকার জীব না করিতে পারে এমন কাজ নাই। কিন্তু মোহবন্ধ জীব তাহা না বুঝিয়া সংসারকে সুখের মনে করিয়া কৃমি কীটের ন্যায় তাহাতে লিপ্ত হইয়া রহিয়াছে। ভগবান চক্ষু ফুটাইয়া না দিলে জীব তাহা উপলব্ধি করিতে পারে না। আমার ‘যোগীগুরু’র উৎসর্গ পত্রটা পড়িলেই তাহা উপলব্ধি করিতে পারিবে, আমি পিতা-মাতা, স্ত্রী, পুত্র, আত্নীয়, স্বজনের ব্যবহার কি রূপে চিত্রিত করিয়াছি। বিক্রমাদিত্যের বড় ভাই ভর্তৃহরি রাণীর ব্যভিচারে বিরক্ত হইয়া “ধিক্ তাঞ্চ তঞ্চ মদনঞ্চ ইমাঞ্চ মাঞ্চ” বলিয়া রাজ্য ছাড়িয়া বনে যান। রাজা সুরথও এই দশাপন্ন।
​সাংসারিক মায়িক ভালবাসার পরিণাম এইরূপই। সুতরাং আমার সন্তান হইয়া পুত্র, ধন-জন কেহই চিরকালের সাক্ষী নহে, সুতরাং তাহাদের কুব্যবহারে চঞ্চল হইয়া দুঃখ ভোগ করিলে কিম্বা রাগের বশে একটা কাণ্ড করিয়া বসিলে নিজেরই ক্ষতি। ধীর স্থির ভাবে সকল দিক বুঝিয়া কার্য্য করিবে। ---তোমাদের সদ্গুরুর হাতে জ্ঞান লাভ হইয়াছে। সাংসারিক সংস্রবে নীচে নামিয়া পড়িও না। সংসারের ঘাত-প্রতিঘাতে, রোগ-শোকে, দুঃখ-কষ্ট মায়ের দয়া। তোমার কেহ নয়, তুমিও কারাও নও। একথা ভুলিও না। তুমি ব্রহ্মময়ীর সন্তান অবিদ্যা যেন গ্রাস না করে।

---পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব।

বাইরের সুসজ্জিত ঘরে নির্দিষ্ট আসনে ঠাকুর বসিলে পর,মোক্তার রজনীবাবু তাঁকে জানাইলেন যে স্থানীয় বৃদ্ধ মোক্তার শ্রীযুক্ত হরক...
07/08/2026

বাইরের সুসজ্জিত ঘরে নির্দিষ্ট আসনে ঠাকুর বসিলে পর,মোক্তার রজনীবাবু তাঁকে জানাইলেন যে স্থানীয় বৃদ্ধ মোক্তার শ্রীযুক্ত হরকিশোর চট্টোপাধ্যায় মহাশয় দারুন শূলরোগে বহুদিন যাবৎ কষ্ট পাচ্ছেন।তাঁকে তদবস্থায় আপনার চরণতলে রোগমুক্তির জন্য আনা হয়েছে।এই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের একান্ত বিশ্বাস যে আপনার কৃপায় তিনি মুক্তি লাভ করবেন।

ঠাকুর বললেন -- "ব্যাধি পাপজ ও কর্মজ ভেদে দুইরকম আছে।পাপজ -ব্যাধি- আরোগ্যকারীকে সকল পাপের ভার নিতে হয়"

আর্তভক্তের আর্তনাদে ঠাকুরের প্রান গলে গেল।শেষে বললেন --"একটা পিতলের পাত্রে দুই-তিন সের সরষের তেল নিয়ে রোগীর শয্যাপার্শ্বে জ্বাল চড়াতে হবে।"

ঠাকুরের কথামত সেইরূপ ব্যবস্থা হলো।উতপ্ত গরম তেল হতে যখন ধোঁয়া উঠতে লাগল, তখন সেই তেলে ঠাকুর দক্ষিণ পদের গোড়ালি ডুবিয়ে নিয়ে সেই তেল দ্বারা রোগীর পেটে মর্দন করতে ও মন্ত্র পাঠ করতে লাগলেন। আধা ঘন্টা পর রোগী সুস্থ হয়ে ঠাকুরের পদধূলি গ্রহণ করে বাড়ি ফিরলেন।

আমাদের ঠাকুর ইচ্ছাশক্তি প্রভাবেও অনেক দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্থকে ব্যাধিমুক্ত করে দিয়েছেন।তাদের মধ্যে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন স্থলের জমিদার পুত্র শ্রীযুক্ত নরেশচন্দ্র পাকড়াশী।দূরারোগ্য ব্যাধিতে তার শরীরের অবস্থা হয়েছিল একদম " ঝাঁটার কাঠির উপর আলুর দমের মত "। চলন শক্তিহীন , ডাক্তার কবিরাজ পরিত্যক্ত এই ব্যাক্তি ঠাকুরের আকর্ষণে সুদূর কলকাতা হতে একাকী জলপাইগুড়ি জেলার আলিপুরদুয়ারে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন ঠাকুরের চরণপ্রান্তে। যার পেটে এক চামচ তরল বার্লি পর্যন্ত সহ্য হতো না, সেই তিনি কিনা ঠাকুরের কৃপায় , ঠাকুরের আদেশে ভরপেট প্রসাদ খেয়ে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন! সুস্থ স্বাভাবিক জীবন লাভ করে আরও ৬০ বছর জীবিত ছিলেন মৃতপ্রায় এই মানুষটি শুধু মাত্র ঠাকুরের অসীম কৃপা, করুণায়।

পর্ব-২

#নিগমকথামৃত
#অলৌকিক_শক্তি
জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু👏👏

ঠাকুরের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি ছিল ভালোবাসার শক্তি। তিনি জগতকে প্রাণ দিয়া ভালোবাসিয়া ফেলিয়াছিলেন। জগতের প্রতিটি জীব এবং বস...
06/08/2026

ঠাকুরের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি ছিল ভালোবাসার শক্তি। তিনি জগতকে প্রাণ দিয়া ভালোবাসিয়া ফেলিয়াছিলেন। জগতের প্রতিটি জীব এবং বস্তু ছিল তাঁহার ভালোবাসার পাত্র। শিষ্যভক্তদিগকে তিনি ভালোবাসিয়া আপন করিয়া লইয়াছিলেন এবং তাহাদের নিকট হইতেও ভালোবাসা আকাঙ্ক্ষা করিয়াছিলেন। তিনি আকুল কণ্ঠে বলিয়া গিয়াছেন—‘‘তোরা আমায় একটু ভালোবাস্। আমি তোদের ভয়ের ঠাকুর নই, ভালোবাসার ঠাকুর, এ কথা যেন সর্বদা স্মরণ থাকে।''
​আমরা একাধারে তাঁহার মধ্যে পিতা, মাতা, বন্ধু, সখা এবং প্রিয়তমের সন্ধান ​পাইয়াছি, তাঁহার নিকট হইতে অলৌকিক ভালোবাসা পাইয়া ধন্য হইয়াছি। অন্য অলৌকিক শক্তি অপেক্ষা তাঁহার প্রাণঢালা পাগলকরা ভালোবাসাই আমাদিগকে তাঁহার শ্রীচরণে চিরসংযুক্ত করিয়া রাখিয়াছে।
​গুরুভ্রাতা শ্রীযুক্ত শিশিরকুমার বসু তাঁহার ‘শ্রীশ্রীনিগমানন্দ-স্মৃতি’তে লিখিয়াছেন—‘‘তাঁহার দর্শনমাত্র যুবকগণ পতিপ্রাণা ভার্যার সুকোমল অঙ্গস্পর্শ ত্যাগ করিয়া এই সহজ সরল লোকটির ভিতর অনন্ত সৌন্দর্যের সঙ্কেত পাইয়া একবস্ত্র গৃহত্যাগ করিয়া আসিয়া অনুক্ষণ তাঁহাকে ছায়ার ন্যায় অনুসরণ করিয়াছে।'' (২য় সংস্করণ, পৃঃ ২১৫)
​ইহার প্রমাণ স্বামী যোগানন্দ ও স্বামী শুদ্ধানন্দ মহারাজ। যুবক যোগেন্দ্রনাথ এবং যুবক সুরেন্দ্রনাথ একদিন এইভাবেই ঠাকুরের ভালোবাসার আকর্ষণে আকৃষ্ট হইয়া সংসার ত্যাগ করিয়া আসিয়াছিলেন। যুবতী পত্নীর রূপ-গুণ-ভালোবাসা তাঁহাদিগকে সংসারে বাঁধিয়া রাখিতে পারে নাই, বাঁধিয়া রাখিতে পারে নাই সদ্যঃপ্রস্ফুটিত শিশু-সন্তানের কোমল বাহুর বন্ধন বা তাহাদের আধ আধ মধুর বুলি।
​গৃহস্থ ভক্তেরাও যে পিতা-মাতার ভালোবাসা, স্ত্রী-পুত্রের আকর্ষণ উপেক্ষা করিয়া ঠাকুরের চরণতলে ক্ষণেকের তরেও উপস্থিত হইয়া তাঁহার ভালোবাসা পাইয়া নিজেদের জীবন ধন্য করিয়াছেন—এ উদাহরণেরও অপ্রতুলতা নাই।
​গুরুভ্রাতা নারায়ণদাস নন্দী তখন মার্টিন কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার। ঠাকুর হালিশহর আসিয়াছেন শুনিয়াই তিনি তিনদিনের ছুটি লইয়া বাড়ী আসিয়াছেন। তাঁহার পিতৃদেব অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাৎ তাঁহাকে দেখিয়া আনন্দিত। বৃদ্ধের ইচ্ছা রোজগারী যুবকপুত্র তাঁহার নিকটে বসিয়া তাঁহার সহিত কথাবার্তা বলুক, শ্রদ্ধা এবং স্নেহের আদান-প্রদান হউক। কিন্তু এ কী! তিনি বাড়ী আসিয়াই বস্ত্র পরিবর্তন করিয়া ছুটিয়া চলিলেন আশ্রমে শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীচরণসান্নিধ্যে। কয়েক ঘণ্টার পর ফিরিয়া আসিলে বৃদ্ধ পিতা জিজ্ঞাসা করিলেন—‘‘হাঁরে ফকির, তুই তোর ঠাকুরের কাছে এমন কি পাস্, যার জন্য বাড়ীতে মুহূর্তমাত্র অপেক্ষা না ক'রে আশ্রমে ছুটে যাস্। ঠাকুর কি তোকে আমার চাইতেও বেশী ভালোবাসেন?'' নারায়ণদা নতমস্তকে ধীর কণ্ঠে উত্তর দিলেন—‘‘বাবা! আপনার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাই তা' অপরিসীম, কিন্তু ঠাকুরের ভালোবাসা সুগভীর এবং অনুপম

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু
ঠাকুরের লৌকিক বিদ্যা ও অলৌকিক শক্তি।

ঠাকুর নিগমানন্দের রোগনিরাময়শক্তি ছিল অসাধারন।অলৌকিকভাবে তিনি রোগ নিরাময় করতে পারতেন মন্ত্রশক্তি অথবা ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগে।...
02/08/2026

ঠাকুর নিগমানন্দের রোগনিরাময়শক্তি ছিল অসাধারন।অলৌকিকভাবে তিনি রোগ নিরাময় করতে পারতেন মন্ত্রশক্তি অথবা ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগে।মন্ত্রশক্তি প্রয়োগে ফুটন্ত সরিষার তেলে গোড়ালি চুবাইয়া শূলরোগীর পেটের উপর তিনি তা মালিশ করে দিতেন স্বীয় তপ্ততৈলসিক্ত গোড়ালি সঞ্চালনে।উতপ্ত তৈলস্পর্শে রোগীর পেটের চামড়ার উপর ফোস্কা পড়ে যেত।ফুটন্ত তেলে গোড়ালি চুবান সত্ত্বেও ঠাকুরের গোড়ালিতে বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া দেখা যেত না।নবনীতকোমল অলক্তলোহিত গোড়ালি তাঁহার অবিকৃতই থাকিয়া যাইত,তিনি কোনরূপ যন্ত্রণাও অনুভব করতেন না। এসম্পর্কে একটি প্রমান উদ্ধৃত করা হলোঃ

তেলীপাড়া হতে ১।০ সের সরিষার তেল এনে পিতলের মালসায় তেল চড়াইয়া জ্বাল দেওয়া আরম্ভ হলো।হরচন্দ্রবাবু কাছেই চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন।তেল ফুটে উঠলে ঠাকুর গিয়ে দাঁড়িয়ে বাম পা খানা ওই ফুটন্ত তেলে ডুবিয়ে তাহার পেটে ঘষে দিলেন।সাথে সাথে পট্ পট্ করে ফুটে হরচন্দ্রবাবুর পেটের উপর ফোসকা পড়ে গেল।
প্রথমদিন ঠাকুরকে যারা ঠাট্টা করেছিল,সেই ছোকরাদের একজন গোবিন্দ ভট্টাচার্য।সে ভালো গায়ক,ঠাকুরকে দুখানা গান শুনিয়েছে।ঠাকুরকে সে বলল, 'দেখি আপনার পায়ের তলা।' দেখল কিছই হয়নি,যেমন তেমনি আছে।বহুলোক সমবেত হয়ে এই এই ফুটন্ত তেলে পা ডুবানোর দৃশ্য দেখেছিলো।"

#অলৌকিক_শক্তি
আর্যদর্পণ, ১৩৮১ ভাদ্র সংখ্যা,

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।
জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু

Address

Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share