05/03/2026
বৃক্ষের মূলে সিঞ্চিলে বারি প্রতি শাখে যায় যথা।
গুরু আরাধিলে সর্ব দেবতা তুষ্ট হয়েন তথা।।
জীবন মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে গুরু বিনা গতি নেই। "গুরুধ্যানাৎ তথা নিত্যং দেহী ব্রহ্মময়ো ভবেৎ" অর্থাৎ ব্রহ্মবিদ্ গুরুর ধ্যানেও দেহী ব্রহ্মময় হইতে পারে(বিশ্বসার তন্ত্র)। যিনি অন্ধকার থেকে আলো বা জ্যোতির পথে নিয়ে যান তিনিই গুরু। যিনি এই অন্ধকার/অজ্ঞানতা নিরোধক গুরু তিনিই ব্রহ্মা,তিনিই বিষ্ণু, আবার তিনিই মহেশ্বর সৎ চিত্ত আনন্দ স্বরুপ। সেই সচ্চিদানন্দ স্বরুপ বা একমেবাদ্বিতীয়ম্" এর উপলব্ধি বা ধারনাই মানব জীবনের পরম উদ্দেশ্য।মানুষের জীবনের একমাত্র পরম লক্ষ্য মোক্ষপ্রাপ্তি বা নির্বাণ লাভ।তাই এই চরম প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন সাধনার,গুরু নির্দেশিত পদ্ধতিতে ক্রম পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়া।
কিন্তুু প্রশ্ন থেকেই যায় পরব্রহ্ম যিনি, তিনি জাগতিক দেহধারী গুরু হন কি করে? এ জগৎসত্ত্বা সেই পরম সত্ত্বারই বহিঃপ্রকাশ। " অহং বহূ স্যাম প্রজায়েয়" অর্থ্যাৎ আমি বহু হব। সুতরাং তিনি বহু হয়েছেন।বহু হয়ে তিনিই লীলা করে জীবকে শিক্ষা দিচ্ছেন আবার মুক্তি মোক্ষনির্বাণ বা চরম ও পরম প্রাপ্তির জন্য দীক্ষাও দিচ্ছেন। এজগতে যে আধারে পরম সত্ত্বার বিভাস উদ্ভাসিত হয়,তার গুণ সমুদয় বিকশিত হয় অর্থাৎ যে আধারে তিনি আবিষ্ট হন এবং যে আধারস্থিত "আমি" বা "আত্মা" নির্বিকল্প সমাধি ব্যুত্থিত হয়ে জীব জগতের কল্যাণের ভার প্রাপ্ত হন তখনই তিনি গুরু বা সদ্গুরু রুপে প্রকাশিত হন।তখন এই কলেবররুপী সচ্চিদানন্দ ঘন বিগ্রহের মধ্যেই অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের উৎসস্বরুপ জগদ্গুরু বা গুরুব্রহ্ম বা পরব্রহ্ম পরমেশ্বর প্রতিনিয়ত বিরাজ করেন।তাই এই সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহের পুজা করলে আর কোন পুজা অর্চনার আবশ্যক হয় না।
সদ্গুরুর মহিমা প্রসঙ্গে রামদাসস্বামী "দাসবোধ" মহাগ্রন্থে বলেছেন। " স্পর্শমণির স্পর্শ লোহাকে সোনাতে পরিনত করতে পারে, তবে স্পর্শমণি লোহা বা সোনাকে স্পর্শমণি করতে পারে না।কিন্তু সদ্গুরু তার প্রতি তদগতপ্রান শিষ্যকে সদ্গুরুই করে তুলতে পারে।
*সদ্গুরুর সঙ্গে স্পর্শমণির তুলনা চলে না।কারন স্পর্শমণি দ্বারা কৃত সোনা অপর বস্তুকে সোনায় পরিনত করতে পারে না।কিন্তু সদগুরুই পারেন তাঁর শিষ্যকে গুরুপদে উন্নীত করতে। ঠাকুর যেমনটি তাঁর শিষ্য শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবকে গুরুপদে অধিষ্ঠিত করেছেন। শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবই ঠাকুরকে নারায়ন রূপে দর্শন করেছিলেন।
আমরা অজ্ঞানান্ধ মোহমুগ্ধ জীব। তাই সেই ব্রহ্মসত্ত্বার প্রকাশ মানবদেহধারী গুরুতে দর্শন করতে সক্ষম।জ্ঞানাঞ্জন শলাকা দিয়ে সেই মায়া আবরণ শবচ্ছেদের মত ব্যবচ্ছেদ না করলে দিব্যদৃষ্টি সম্ভব নয়।আর দিব্যদৃষ্টি ছাড়া তার অতুল ঐশ্বর্য দর্শনের আশাও দুরাশা মাত্র। অভয়, চিত্তশুদ্ধি, আত্মজ্ঞানে নিষ্ঠা, দান,চিত্তসংযম,যজ্ঞ,তপস্যা,বেদপাঠ,অহিংসা,সত্য, অক্রোধ,ত্যাগ সরলতা,অপরের নিন্দা না করা,লোভ না করা,শান্ত,অমানিতা,জীবে দয়া,মৃদুতা,কুকর্মে লজ্জা,ধীরভাব,তেজ, ক্ষমা,ধৈর্য,পবিত্রতা, প্রভৃতি রক্ষা ও একাগ্র প্রার্থনার মাধ্যমেই শ্রীগুরুর অপার করুণা লাভ হয়,এবং একমাত্র তার কৃপা করুণা হলেই জীবের অন্ধত্ব নাশ হয়ে দিব্যদৃষ্টি লাভ হয়।তখন তার কাছে আর সদ্গুরু ও পরব্রহ্মে কোন বিভেদ থাকে না। তখনই তার উপলব্ধি হয় গুরুব্রহ্মা গুরুবিষ্ণু গুরুর্দ্দেবো মহেশ্বর এর তাৎপর্য্য।
(জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু)🌼🌸🙏
নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।
তথ্যসুত্রঃগুরু পুজাপদ্ধতি, গুরুগীতা,ইত্যাদিগ্রন্থসমূহ)