18/08/2026
নদীয়া জেলার কুতুবপুর গ্রামের জাত বালক নলিনীকান্ত( চট্টোপাধ্যায়) চার চারটি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে হয়েছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর নিগমানন্দ।
এই যে তিনি পরবর্তী জীবনে পরিব্রাজকাচার্য পরমহংস শ্রী ১০৮ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী হবেন,নির্বিকল্প সমাধি থেকে ব্যুত্থিত হবেন,জগতের একজন বরিষ্ঠ সদ্গুরু হবেন, বা এরকমই কোনো জগৎখ্যাত মহাপুরুষ হবেন,তার কিছু কিছু পূর্বাভাস কিন্তু জানা গিয়েছিল।শ্রীশ্রী ঠাকুরকে নিয়ে লেখা নানা তথ্যে তার বহু প্রমান দেখা যায়। আর মাত্র ৯ দিন পরেই শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের আবির্ভাব তিথি। ১৪৬তম শুভ আবির্ভাব তিথির প্রাক্কালে আসুন তা জেনে নিই---
#শ্রীশ্রী_ঠাকুরের_আবির্ভাব_নিয়ে_সদ্গুরু_সমর্থিত__আগামবাণী----
সেদিন ভবানীপুরের শ্রী যুক্ত সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়,এম.এ.বি.এল. মহাশয় কালীঘাটের শ্রী সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত নামে ৬।৭ বছরের একটি বালককে নিয়ে ঠাকুরের (শ্রীশ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বমীর) নিকট উপস্থিত হলেন।ঠাকুর বললেন,আপনারা যা ইচ্ছা প্রশ্ন করুন।এই ছেলেটি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবেন।' ঠাকুর কিছুক্ষন পরে বললেন "এই ছেলেটি জাতিস্মর "।ভবিষ্যতে দেশের একটি বিখ্যাত লোক হবেন।কিন্তু জাতিস্মরত্ব আর বেশিদিন থাকবে না।"
একজন প্রশ্ন করলেন -" ভগবান অবতীর্ণ হইলে, এবার তিনি কিভাবে কার্য করিবেন? সুরেন্দ্রনাথ বললেন-- " এবারে যিনি অবতার, তিনি শুধু জ্ঞান বা ভক্তি লইয়া কার্য্য করিলে চলবে না।এবার বুদ্ধদেবের জ্ঞান এবং মহাপ্রভুর ভক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে - না হলে তার কথা গ্রাহ্য হবে না।"
আমাদের ঠাকুর সমন্ধে বলতে হবে - তিনি অবতার নন,সদ্-গুরু।কিন্তু তিনি জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয়ী আদর্শের পথ দেখিয়েছেন।কিঞ্চিৎ পার্থক্য থাকলেও বুদ্ধদেব এবং শঙ্করাচার্য উভয়েই জ্ঞান পথের পথিক।পরন্ত শঙ্করাচার্যকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।তিনি বেদান্তের ভিত্তিতে "ভক্তিরেব গরীয়সী"ও বলেছেন।আর মহাপ্রভু তো কেবলা ভক্তির পথে চলেছেন।
ঠাকুর নিগমানন্দদেব বলেছেন,জ্ঞানপথ - যে জ্ঞান কিনা ভক্তিমিশ্র।আর ভক্তিপথ, অর্থাৎ জ্ঞান মিশ্রা ভক্তি।বলেছেন উহাই প্রকৃত পথ।তার মতে ভক্তিবিরোধী জ্ঞানবাদী, নয়তো ভক্তিবাদী জ্ঞান-বিরোধী -- উভয়ই ভুল।জ্ঞান মানে শুধুই জ্ঞানপথ,আর ভক্তি মানেই শুধু ভক্তিপথ ধারণাটি ঠিক নয়।বলেছেন,জ্ঞান যখন ভক্তিতে আশ্রয়ী হয়,তখন জ্ঞান বিষয়টা বহিরাবরণ হয়ে দাঁড়ায়।
বলতে পারি পূর্বোক্ত ভবিষ্যৎবাণী আমাদের ঠাকুরকে অনেকাংশে লক্ষ্য করে। 'শঙ্করের মত আর গৌরাঙ্গের পথ" তিনিই বলেছেন। ভবিষ্যৎবাণীটির সময় শ্রীশ্রী ঠাকুরের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছরের পাশাপাশি ।
★ #কাশিমবাজারের_রাণী_স্বর্ণময়ীর_সভাপন্ডিত প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী শ্যামাচরণ মহাশয় কর্তৃক নলিনীকান্তের কোষ্ঠী বিচার-----
১১বছর বয়সে নলিনীকান্তের উপনয়ন হলো।তিনি ত্রিসন্ধ্যা গায়ত্রীজপ পূজাদি ভক্তি সহকারে করতে লাগলেন।কিন্তু খুব শীঘ্রই ধর্মকাজে তাঁর ঘোর অনাস্থা ও অবিশ্বাস এসে পড়ল।কারন হিসেবে বলা হয়েছে যে,এর মূলে ছিল তার যুক্তিবাদী তেজস্বী মন,সত্যানুরাগ ও সত্যানুসন্ধিৎসা।এবং তা প্রভাবিত ছিল বাংলার সমকালীন গৌরবময় যুগের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভৃতি নানা মনীষীর উদ্যত লেখনী দ্বারা।পরন্ত তাঁর সদাকৈশর সত্যসুন্দরকেই আঁকড়ে ধরে ছিল।অন্যায় অযৌক্তিককে বর্জন করতে লাগল।সন্মানীয়কে সন্মান দিতে অকুন্ঠ থাকলেও তিনি ব্রাহ্মণত্বের মিথ্যে অভিমানকে অগ্রাহ্য করলেন।ভন্ডামি ও কপটতা হয়ে উঠল তার দুচক্ষের বিষ।আবার,নিজের ভুল বুঝতে পারলে নিজেকে শুধরেও নিচ্ছিলেন তিনি।
এদিকে মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ের পাঠে তার মেধার পরিচয় মিলতে লাগল।এসময়ে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ( তার দাদু সম্পর্কীয়) ও স্নেহশীলা জননী মাণিকসুন্দরীর তিরোধান হলে দারুণ শোকাহত হলেন তিনি।অন্যদিকে বলিষ্ঠ নৈতিকতা সত্ত্বেও তাঁর অব্রাহ্মণোচিত আচরণ,অত্যাচারিত নিরীহ নির্দোষ জনের পাশে অকুতোভয়ে দাড়ানো,এমনকি অপরাধী ব্যক্তিকে সাজা দেওয়াতেও দলবদ্ধ তৎপরতা,দুর্দমতা ইত্যাদিতে পিতা ভুবনমোহন খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়লেন।
এসময়েই পিতা এক বিখ্যাত জ্যোতিষীরর সাক্ষাৎ পান।তিনি হলেন কাশিমবাজারের রাণী স্বর্ণময়ীর দ্বারপণ্ডিত শ্যামাচরণ বিদ্যার্ণব মশাই।তিনি বিশেষ কাজে মেহেরপুর এসেছিলেন।ভুবনমোহন ছেলের কোষ্ঠী নিয়ে তার কাছে এলেন।জ্যোতিষী বিচার করে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, " আপনার এই পুত্র মহারাজচক্রবর্তী হইবার কথা,কিন্তু সংসারে ইহার অবস্থিতি দেখা যাইতেছে না।.. জাতক অদ্বিতীয় মহাপুরুষ হইবে মনে হয়।ইহার ভবিষ্যৎ জীবন অতি অদ্ভুত ঘটনায় পরিপূর্ণ। বহু কর্ম,বহু জ্ঞান, বহু মত, বহু পথ,বহু বিপদ, বহু সম্পদ, বহু মান,বহু নিন্দা, বহু ত্যাগ,ও বহু লাভ এর জীবনের বিশেষত্ব।.. সংসারে থাকিলে জাতক নিশ্চয়ই রাজা হইবে।কিন্তু শিব অংশে ইহার জন্ম, সুতরাং উদাসী হওয়া সম্ভব।' এবং জাতকের কররেখা দেখেও তিনি একই অভিমত জানালেন।অতঃপর জাতককে তিনি আশীর্বাদ জ্ঞাপন করলেন। (সদ্-গুরু নিগমানন্দ কথা --যোগেশ্বর গঙ্গোপাধ্যায় অবলম্বনে)
নলিনীকান্ত সমন্ধে এমন পূর্বাভাস স্পষ্টতই অক্ষরে অক্ষরে যে সত্য হয়েছিল, সে কথা বলাই বাহুল্য।
★ #শ্রীমৎ_স্বামী_ভাস্করানন্দ_সরস্বতীর_রহস্যাবৃত কথা ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ইঙ্গিতময় বাণী---
পিতা ভুবনমোহন অল্পবয়সী পুত্র নলিনীকান্তকে নিয়ে কোনোভাবে কাশীধাম এসেছিলেন।সেখানে তিনি শ্রীমৎ স্বামী ভাস্করানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।নলিনীকান্তকে দেখে স্বামীজী বললেনঃ "লেড়কা মহারাজ- চক্রবর্তী হো যায়ে গা"। কথাটি বলে তিনি এমনভাবে হাসলেন যে, পিতা পুত্র এর অর্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না যে, এটা আনন্দ, না,পরিহাস।
আসলে ভগবানের ইচ্ছা, যা মানুষের কাছে গোপনীয়,তা তাঁরা প্রকাশ করতে পারেন না।কারন প্রকাশ করলে অহংকার বা অবসাদের কারনে উদ্দিষ্টজনের সমূহ ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে স্বামীজী রাজা- রাজড়া শব্দটি সাধারন
অর্থে বলেননি।পরন্ত সন্ন্যাসীকেও সাধুগন মহারাজ বলেন,সে অর্থেই তিনি "মহারাজচক্রবর্তী" - শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।যেমনটি ভবিষ্যতে নলিনীকান্ত হয়েছিলেন ঠাকুর নিগমানন্দ রূপে।
★নলিনীকান্তের বয়স যখন বছর ছয়, তখন কার্যোপলক্ষে তাকে সাথে নিয়ে পিতা ভুবনমোহন একবার কলকাতায় আসেন।তিনি সময় করে একদিন পুত্রসহ ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সাক্ষাৎ করতে আসেন।পরমহংসদেব তখন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত
নলিনীকান্তকে দেখামাত্র কাছে এসে তিনি সস্নেহে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বললেন,' আহা! ছেলেটিতো বেশ।আপনার ছেলে?" ভুবনমোহন বললেন, আজ্ঞে হাঁ।পরমহংসদেব বললেন ' বেশ বেশ--- দেখে খুশি হলাম।ভরা কলসী দেখেই প্রাণ ঠান্ডা হয়,খুব জোরে ধাক্কা মারলেও নাড়াতে পারা যায় না।লোকে সংসার করে ছেলেমেয়ে রেখে যায়।আমি তো আর সংসার করিনি।আমি কাদের রেখে যাব অনেক সময় বসে ভাবি।দেখি, আমার চিন্তার কারন নাই।যাঁর কাজ তিনিই করছেন-- মানুষ তার একটুখানি সংসারের চিন্তা করেই অস্থির হয়ে যায়।আর তিনি এই বিরাট ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে সংসার করছেন-- কোথাও একটু ত্রুটি নেই,একটু ভুল নেই।
বলতে বলতে তিনি ভাবস্থ হলেন।ভাবাবস্থা কাটার পর গদ্গদভাবে বললেন,"জন্মান্তরে যারা সব সেরে আসে,তাদের বেশিদিন বড় কিছু করতে হয়না।আপনিই সব জোগাড় হয়ে আসে।একে দেখে আজ খুশি হলাম।সংসারে যাবে না গো, যাবে না! " তাঁদের বিদায়কালে বললেন মাঝে মাঝে একে এনে আমাকে দেখিও।'
বস্তুত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এমন ইঙ্গিতময় কথায় মধ্য দিয়ে নলিনীকান্ত ভবিষ্যৎ অত্যুচ্চ মহিমা বিষয়ে সুদৃঢ় পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠিত হয়।এবং সময়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরও তেমনিই মহোচ্চ আসনে আরূঢ় হয়েছিলেন।
★ #নলিনী_দেখলেন_পায়ের তলায় সৌরজগৎ পড়ে আছে----
পাড়ার ছেলেময়েরা হয়তে তখন খেলছে।বালক নলিনীকান্ত উদাস হয়ে দাওয়ায় বসে আছেন।হঠাৎ দেখছেন সারা দুনিয়া যেন আলোয় আলোয় ভরে গিয়েছে! আর অমনি নিজে মাটি ছেড়ে শূন্যে উধাও।মুহূর্তে পৃথিবী ছেড়ে কত উঁচুতে চলে গিয়েছেন।সেখান থেকে গ্রহ-নক্ষত্র,চাঁদ সূর্য সব দেখা যাচ্ছে।দেখছেন, সূর্য স্থির, আর পৃথিবী ও গ্রহমন্ডলী পাক খাচ্ছে তার চারপাশ।
পরে আবার সেসব দেখতে ইচ্ছে করছে তাঁর।গালে হাত দিয়ে বসে থেকেছেন।মা ডাকাডাকি করলে বিরক্ত হয়েছেন।আবার যখন তিনি এসব ভূলেছেন,তখন হঠাৎ একদিন সেরকমই হয়েছে।দেখেছেন,পায়ের তলায় সৌরজগৎ পড়ে আছে বড়ো মানচিত্রটির মতো।(ঐ গ্রন্থ অবলম্বনে)
এতে আমরা নিশ্চিত করে বুঝে নিই জন্মান্তরের সাধনাই তাঁকে এ জন্মে বিনা ভূমিকায় করতলগত হতে আসছে।অতএব এজন্মেও যে তিনি সাধনার উচ্চ পীঠে স্থিত হতে পারেন,তাতে আর সন্দেহ কোথায়?
★ #সন্ধ্যা_দেখানোর_কালে_নলিনীকান্তর_ভগবতী দর্শন-----
বয়স যখন আট- নয় বছর, তখন মামাবাড়ি রাধাকান্তপুর থেকে নলিনীকান্ত পিত্রালয় কুতবপুরে সেবার এসেছেন।সেদিন সন্ধ্যায় জেঠি-মা বললেন, 'চন্ডীমন্ডপে সন্ধ্যাটা দেখিয়ে আয় তো নলিন!' তিনি চন্ডীমন্ডপে এসে দেখেন, ওখানে যেন আলো জ্বলছে।তাহলে আগেই কি কেউ দীপ জ্বালিয়ে গেছে? চন্ডীমন্ডপের পৈঠায় পা দিয়েই নলিনী দেখলেন মঙ্গলঘটের কাছে দপ্ করে আগুন জ্বলে উঠল যেন।নিমেষেই ব্যাপারটা ঘটে গেল।স্তম্ভিত নলিনীকান্তর চোখের সামনেই সেই আলোর মধ্যে ফুটে উঠল ছোট্ট একটি সুন্দরী মেয়ে। ' মা মা গো' ডেকে প্রদীপ ফেলে ভয়ে উর্ধ্ধশ্বাসে পালিয়ে এলেন নলিনী।
মা হাসিমুখে বললেন, ' দুর বোকা,ভূত হবে কেন?চন্ডীমন্ডপে মায়ের ঘট স্থাপনা করা আছে।সেখানে কি ভূতপ্রেত আসতে পারে।তুই আজ মা ভগবতীকে দেখেছিস।আমার ভাগ্যধর ছেলে তুমি।'
নলিনী ভগবতী সমন্ধে অযথা মন্তব্য করলে মা বোঝালেন, ' ছি বলতে নেই এমন করে।আমি যেমন তোর মা, তিনিও তোর মা।তিনিই আসল মা নলিন,তোর আমার সকলের মা।এ মা মরে যাবে একদিন,কিন্তু ঐ মা চিরদিন থাকবে তোর সঙ্গে সঙ্গে।তুই ভয় না পেলে মা হয়তো কথাও বলতেন।'
এ সংবাদে ভুবনমোহন খুশি হতে পারেননি।কারন একটি প্রবাদ চলে আসছিল-- ভট্টাচার্য (চট্টোপাধ্যায়) পরিবারের একটি ছেলেকে নিয়ে তাঁদের কুলদেবী এ গ্রাম ত্যাগ করবেন।পূজার্চনাকালে তিনি দুএকটা অলৌকিক দর্শন পেলেও ধ্যান-বিনাই ওইটুকু ছেলেকে দেবী দেখা দেবেন কেন? তাহলে কি ওর অকালমৃত্যু হবে? নাকি ওর সন্ন্যাস হবে? ( বাংলার সাধনা ও শ্রীশ্রীনিগমানন্দদেব-নারায়ণী দেবী, অবলম্বনে)
তাই আমরা বলতে পারি, এব্যাপার একটাই পূর্বাভাস দেয় যে,নলিনীকান্ত একদিন তারা মায়ের সাধনা করবেন।হয়তো বা মুনি বশিষ্ঠের মতো মা-তারাকে বধুরূপে লাভ করার পথে চলবেন।
★ #ভূবনমোহনের_সামনে_দিগন্ত_আলো_করা_একটিতারা_খসে_পড়ল----
লেখিকা নারায়ণী দেবী তাঁর উপরি কথিত গ্রন্থে (আর্য্যদর্পন,ভাদ্র,১৩৭১সংখ্যা থেকে তিনি পেয়েছেন)লিখেছেন,রাধারমণ ভট্টাচার্য মশাইর কাছ থেকে একটা অদ্ভুদ খবর পেয়েছিলেন তাঁরা।ভুবনমোহনের জ্ঞাতিবোন অতি বৃদ্ধা এক প্রতিবেশিনী গল্প করেছিলেন যে,একবার ভুবনমোহন রাধাকান্তপুর থেকে মেহেরপুর যাচ্ছিলেন।সন্ধ্যা তখন সমাগত প্রায়।ভৈরব নদের তীর ধরে দ্রুত পায়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন দুর্গোৎসবের প্রয়োজনে।হঠাৎ দিগন্ত উদ্ভাসিত করে অদূরে ভৈরব নদের জলে একটা তারা খসে পড়ল।তাঁর আলো চোখ ধাঁধিয়ে তাঁকে যেন অবশ করে দিল।এর কিছুদিন পরেই জানা গেল তাঁর পত্নী মাণিকসুন্দরী অন্তঃসত্ত্বা।
হয়তো তাঁরা এমন জগৎআলোকরা সন্তান অচিরে লাভ করবেন, এরকম ইঙ্গিত ছিল এই দৃশ্যপটের অন্তরালে।এরকমই বুদ্ধদেব জন্মানোর আগে স্বপ্নে তাঁর জননী তাঁর কোলে পূর্ণচন্দ্রকে দেখেছিলেন।অন্য কোনো কোনো মনীষীর ক্ষেত্রেও এমন ঘটতে শোনা যায়।সংষ্কৃত সাহিত্যেও এরকম বর্ণনার নজির আছে।
এভাবেই মহাপুরুষের আবির্ভাব - বার্তার পূর্বাভাস লক্ষিত হয়।এ ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা মানুন-না- মানুন,আমাদের শ্রীশ্রীঠাকুর নিগমানন্দদেবের বেলায় সে যেন স্পষ্ট স্পষ্টভাবে আভাসিত হয়েছিল।
জয়গুরু...জয়গুরু...জয়গুরু...।
নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।