নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito। ঠাকুর নিগমানন্দ মোদের আরাধ্যদেবতা।সকল কর্ম ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্পিত হলো।জয়গুরু🙏🌺
(Joyguru)

অনেক ভক্তেরই আকাঙ্ক্ষা , আমি তাহাদিগকে কোন না কোন রূপ বিভূতি দর্শন করাইয়া আশ্চর্যান্বিত করি। একদিন হাওড়ার হেমবাবু (হেম...
24/03/2026

অনেক ভক্তেরই আকাঙ্ক্ষা , আমি তাহাদিগকে কোন না কোন রূপ বিভূতি দর্শন করাইয়া আশ্চর্যান্বিত করি। একদিন হাওড়ার হেমবাবু (হেমচন্দ্র ঘোষ) আমার পা টিপিতে টিপিতে আমাকে বলিলেন,— ঠাকুর !আপনার কোন বিভূতি দেখিবার একান্ত ইচ্ছা হইয়াছে। আমি বলিলাম, তোমরা জজ কোর্টের প্রবীণ উকিল হইয়া যে আমার পদসেবা করিতেছ—ইহাই আমার বিভূতি আমার অন্য কোন বিভুতি নাই।

বিভূতি প্রদর্শন করা বা বিভূতি দর্শন করা যে অধ্যাত্ম জগতে খুব বড় ব্যাপার বা প্রদর্শনকারীর কিম্বা দর্শনকারীর উচ্চাবস্থা— তা কিন্তু নয় । তবে অধ্যাত্ম জগতে যাহারা অজ্ঞ তাহাদিগকে বিভূতি দর্শন করাইয়া বিস্ময়ান্বিত করা যায় বটে। বিভূতি দর্শন করা অপেক্ষা সংস্কার কাটানই উচ্চাবস্থা। যার যত সংস্কার কাটিয়াছে সে তত উপরে উঠিয়াছে । সংস্কারই আমাদের বন্ধন। কত শত শত জন্মের সংস্কার আমাদের চিত্তের মধ্যে পুঞ্জীভূত হইয়া রহিয়াছে , তাহার ইয়ত্তা নাই। এই সংস্কার কাটিয়া মুক্ত হইতে পারিলেই তো মুক্তি। যাঁর চিত্তে কোন সংস্কার নাই, তাঁর চিত্ত আকাশের মত নির্মল ; পরিচ্ছদরহিত—জীবন্মুক্ত । তাঁর ব্রহ্মানন্দ অবাধিত।
-----ঠাকুর নিগমানন্দ।

#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর #শ্রীশ্রীনিগমানন্দকথামৃত

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু
19/03/2026

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু

ঠাকুর বলেছেন,
মানুষ অপরকে যা উপদেশ দেয় তার একটিতেও যদি তার দৃঢ় বিশ্বাস থাকে,তবে উপদেষ্টা আর উপদেশপ্রার্থী উভয়েরই অশেষ মঙ্গল সাধিত হয়।শুধু উপদেশ শুনলে কিছু হয় না,উপদেশানুযায়ী কর্ম করতে হয়।সেই বেশী সাধু হতে পারবে, যে শত সহস্র উপদেশ না শুনে জীবনে একটা উপদেশ ঠিক মনে চলতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুর আরও বলেন, এক সাধু নির্জনে বসে ইশ্বরের সাধন ভজন করতেন। প্রতিদিন তাকে দুধ দিতে, এক গোয়ালার নদী পার হয়ে আসতে হতো । এই জন্য মাঝেমাঝে গোয়ালার অনেক দেরি হয়ে যেত দুধ নিয়ে আসার জন্য।সাধু একদিন তাতে বিরক্ত হয়ে তার দেরী হওয়ার কারন জিজ্ঞেস করল। সব কথা শুনে সে বললো---- 'কেন রে, তুই নেমে পার হোস্ কেন? রামনামে হনুমান সাগর পার হয়েছিল, আর তুই সামান্য নদীটা পার হতে পারিস না?' গোয়ালা বললো " কই তা তো আমি জানতাম না,আপনি আমায় এতদিন বলেননি কেন? আমি নিশ্চই পারব'। সাধু বললেন --- " নামে বিশ্বাস ক'রে নদীতে নামলেই অনায়াসে পার হয়ে যাবি।"....... সে শুনে খুব আনন্দিত হ'ল।সে নদীর কাছে গিয়ে 'রামনামে' বিশ্বাস ক'রে নদীতে নামা মাত্রই অনায়াসে চলে যেতে লাগল।যেখানে অত্যন্ত গভীর জল ছিল,সেখানে এখন এক হাটুঁ মাত্র!
ঠিক এইভাবে সে অনায়াসে তার পরদিন নদী পার হয়ে দুধ নিয়ে সাধুর কাছে এলো।সাধু তাকে জিজ্ঞেস করলেন---"আজ এত তাড়াতাড়ি এলি কি ক'রে রে?" সে বললেন -- প্রভু আপনি যে কাল বলেছিলেন,রামনামে বিশ্বাস করে নদীতে নামলেই অনায়াসে পার হওয়া যায়,আমি সেই কথায় বিশ্বাস করে রামনাম নিয়ে নদীতে নামতেই জল কমে গেল,আমি অনায়াসে পার হয়ে এলাম।' সাধু তো শুনেই অবাক।সে ত্রেতাযুগের কথা। কোথায় হনুমান আর কোথায় সামান্য গোয়ালা! সাধু উপদেশ হিসাবে দিয়েছিল মাত্র,কিন্তুু নামে তার বিশ্বাস ছিল না,তাই তিনি আশ্চর্য হয়ে ব্যাপার কি বুঝবার জন্য তার সাথে এলো।গোয়ালা রামনাম করে নদীতে নেমে গেল।সাধুও নাম করে নামল।গোয়ালা যতদুর যায় এক হাটুঁ জল,কিন্তুু সাধুজী একটুখানি নামতেই এক হাটুঁ,তারপর ক্রমে ক্রমে কাপড় ভিজল,এক গলা পর্যন্ত হয়ে সে ডুবে যেতে লাগলো।তারপর সাধু নদী থেকে উঠে এলো।গোয়ালা সব জানতে পারল।সাধুও লজ্জায় আর কখনও সেরূপ করত না।

#আবার_দেখুন_ঠাকুরের_পূর্ব জন্মের কথাই বলি,
সাধক ব্রহ্মানন্দ গিরি ছিলেন বিখ্যাত তন্ত্রসাধক। তাঁর গুরু তাঁকে যে মন্ত্র দিয়েছিলেন তা ছিল ত্রুটিযুক্ত। কিন্তু তিনি তা এমন বিশ্বাস নিয়ে জপ শুরু করলেন যে ইষ্টদেবী এসে দেখা দিলেন। কিন্তু ব্রহ্মানন্দ দেখলেন যে দেবীর রূপ বিকৃত। কারণ শুধালে দেবী বললেন, তোমার মন্ত্রেই ত্রুটি আছে তাই আমার রূপও ত্রুটিপূর্ণ।
কিন্তু ব্রহ্মানন্দের এমনই গুরুনিষ্ঠা, গুরুর প্রতি এতটাই বিশ্বাস যে তিনি পাল্টা বললেন, না তুমি আমার ইষ্টদেবী নও, আমার গুরুর প্রদেয় মন্ত্রই সঠিক, তা ভুল হতেই পারে না।
দেবী এরকম কয়েকবার বলেও যখন ব্রহ্মানন্দকে টলাতে পারলেন না, তখন নিষ্ঠাতে সন্তুষ্ট হয়ে স্বরূপে দর্শন দিলেন, আর সংশোধনের ব্যবস্থাও নিলেন।

এ থেকে আমরা এটাই শিক্ষা পাই, বিশ্বাসই হলো গুরু-গোবিন্দকে ভালোবাসার প্রধান পন্থা।

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু👏

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।
#জয়গুরু #শ্রীশ্রীঠাকুর

চিত্ত যে ভূমিতে অধিরোহন করলে সদ্ গুরুর ইচ্ছাকে প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য ঘটে, তোমাদের চিত্ত আমার আশীর্বাদ-বলে সেই ভূমিতে আর...
18/03/2026

চিত্ত যে ভূমিতে অধিরোহন করলে সদ্ গুরুর ইচ্ছাকে প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য ঘটে, তোমাদের চিত্ত আমার আশীর্বাদ-বলে সেই ভূমিতে আরোহন করুক।তোমরা আমার বিরাট ইচ্ছারই এক একটি মূর্ত প্রতীক হও- ইহাই আমার শেষ আশীর্বাদ।
-------ঠাকুর নিগমানন্দ।

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু 🙏

#জয়গুরু #স্বামীনিগমানন্দ #শ্ৰীশ্ৰীনিগমানন্দ_কথামৃতত

বৃক্ষের মূলে সিঞ্চিলে বারি প্রতি শাখে যায় যথা।গুরু আরাধিলে সর্ব দেবতা তুষ্ট হয়েন তথা।।জীবন মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পেত...
05/03/2026

বৃক্ষের মূলে সিঞ্চিলে বারি প্রতি শাখে যায় যথা।
গুরু আরাধিলে সর্ব দেবতা তুষ্ট হয়েন তথা।।

জীবন মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে গুরু বিনা গতি নেই। "গুরুধ্যানাৎ তথা নিত্যং দেহী ব্রহ্মময়ো ভবেৎ" অর্থাৎ ব্রহ্মবিদ্ গুরুর ধ্যানেও দেহী ব্রহ্মময় হইতে পারে(বিশ্বসার তন্ত্র)। যিনি অন্ধকার থেকে আলো বা জ্যোতির পথে নিয়ে যান তিনিই গুরু। যিনি এই অন্ধকার/অজ্ঞানতা নিরোধক গুরু তিনিই ব্রহ্মা,তিনিই বিষ্ণু, আবার তিনিই মহেশ্বর সৎ চিত্ত আনন্দ স্বরুপ। সেই সচ্চিদানন্দ স্বরুপ বা একমেবাদ্বিতীয়ম্" এর উপলব্ধি বা ধারনাই মানব জীবনের পরম উদ্দেশ্য।মানুষের জীবনের একমাত্র পরম লক্ষ্য মোক্ষপ্রাপ্তি বা নির্বাণ লাভ।তাই এই চরম প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন সাধনার,গুরু নির্দেশিত পদ্ধতিতে ক্রম পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়া।

কিন্তুু প্রশ্ন থেকেই যায় পরব্রহ্ম যিনি, তিনি জাগতিক দেহধারী গুরু হন কি করে? এ জগৎসত্ত্বা সেই পরম সত্ত্বারই বহিঃপ্রকাশ। " অহং বহূ স্যাম প্রজায়েয়" অর্থ্যাৎ আমি বহু হব। সুতরাং তিনি বহু হয়েছেন।বহু হয়ে তিনিই লীলা করে জীবকে শিক্ষা দিচ্ছেন আবার মুক্তি মোক্ষনির্বাণ বা চরম ও পরম প্রাপ্তির জন্য দীক্ষাও দিচ্ছেন। এজগতে যে আধারে পরম সত্ত্বার বিভাস উদ্ভাসিত হয়,তার গুণ সমুদয় বিকশিত হয় অর্থাৎ যে আধারে তিনি আবিষ্ট হন এবং যে আধারস্থিত "আমি" বা "আত্মা" নির্বিকল্প সমাধি ব্যুত্থিত হয়ে জীব জগতের কল্যাণের ভার প্রাপ্ত হন তখনই তিনি গুরু বা সদ্গুরু রুপে প্রকাশিত হন।তখন এই কলেবররুপী সচ্চিদানন্দ ঘন বিগ্রহের মধ্যেই অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের উৎসস্বরুপ জগদ্গুরু বা গুরুব্রহ্ম বা পরব্রহ্ম পরমেশ্বর প্রতিনিয়ত বিরাজ করেন।তাই এই সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহের পুজা করলে আর কোন পুজা অর্চনার আবশ্যক হয় না।

সদ্গুরুর মহিমা প্রসঙ্গে রামদাসস্বামী "দাসবোধ" মহাগ্রন্থে বলেছেন। " স্পর্শমণির স্পর্শ লোহাকে সোনাতে পরিনত করতে পারে, তবে স্পর্শমণি লোহা বা সোনাকে স্পর্শমণি করতে পারে না।কিন্তু সদ্গুরু তার প্রতি তদগতপ্রান শিষ্যকে সদ্গুরুই করে তুলতে পারে।
*সদ্গুরুর সঙ্গে স্পর্শমণির তুলনা চলে না।কারন স্পর্শমণি দ্বারা কৃত সোনা অপর বস্তুকে সোনায় পরিনত করতে পারে না।কিন্তু সদগুরুই পারেন তাঁর শিষ্যকে গুরুপদে উন্নীত করতে। ঠাকুর যেমনটি তাঁর শিষ্য শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবকে গুরুপদে অধিষ্ঠিত করেছেন। শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবই ঠাকুরকে নারায়ন রূপে দর্শন করেছিলেন।

আমরা অজ্ঞানান্ধ মোহমুগ্ধ জীব। তাই সেই ব্রহ্মসত্ত্বার প্রকাশ মানবদেহধারী গুরুতে দর্শন করতে সক্ষম।জ্ঞানাঞ্জন শলাকা দিয়ে সেই মায়া আবরণ শবচ্ছেদের মত ব্যবচ্ছেদ না করলে দিব্যদৃষ্টি সম্ভব নয়।আর দিব্যদৃষ্টি ছাড়া তার অতুল ঐশ্বর্য দর্শনের আশাও দুরাশা মাত্র। অভয়, চিত্তশুদ্ধি, আত্মজ্ঞানে নিষ্ঠা, দান,চিত্তসংযম,যজ্ঞ,তপস্যা,বেদপাঠ,অহিংসা,সত্য, অক্রোধ,ত্যাগ সরলতা,অপরের নিন্দা না করা,লোভ না করা,শান্ত,অমানিতা,জীবে দয়া,মৃদুতা,কুকর্মে লজ্জা,ধীরভাব,তেজ, ক্ষমা,ধৈর্য,পবিত্রতা, প্রভৃতি রক্ষা ও একাগ্র প্রার্থনার মাধ্যমেই শ্রীগুরুর অপার করুণা লাভ হয়,এবং একমাত্র তার কৃপা করুণা হলেই জীবের অন্ধত্ব নাশ হয়ে দিব্যদৃষ্টি লাভ হয়।তখন তার কাছে আর সদ্গুরু ও পরব্রহ্মে কোন বিভেদ থাকে না। তখনই তার উপলব্ধি হয় গুরুব্রহ্মা গুরুবিষ্ণু গুরুর্দ্দেবো মহেশ্বর এর তাৎপর্য্য।
(জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু)🌼🌸🙏

নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito।
তথ্যসুত্রঃগুরু পুজাপদ্ধতি, গুরুগীতা,ইত্যাদিগ্রন্থসমূহ)

শুভ দোল পূর্ণিমা🙏 জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু (📷: SB SB)
03/03/2026

শুভ দোল পূর্ণিমা🙏

জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু

(📷: SB SB)

22/02/2026

Address

Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নিগম কথামৃত। Nigam Kothamrito। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share