BKC YOUTH FORUM

BKC YOUTH FORUM সনাতন ধর্ম তথা ভগবান শ্রী চৈতন্য মহাপ?

হরে কৃষ্ণ
15/05/2022

হরে কৃষ্ণ

#নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত

***ভগবান শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব ও ভগবানের সঙ্গে হিরণ্যকশিপুর মহাযুদ্ধ!

**ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব ভক্ত প্রহ্লাদকে বলেছেন-

"বর্ষে বর্ষে তু কর্তব্যং মমসন্তুষ্টি কারণম।
মহাগুহ্যম ইদম্ শ্রেষ্ঠং মানবৈর্ভবভীরুভি।।

অর্থাৎ আমার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে চতুর্দশী ব্রত কর্তব্য।জন্ম-মৃত্যুময় সংসার ভয়-ভীত মানুষ এই পরম গোপনীয় ও শ্রেষ্ঠ ব্রত পালন করবে

****দৈত্য-বালকেরা সবাই প্রহ্লাদের উপদেশ নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রহণ করেছিল। তারা তাদের শিক্ষক ষণ্ড ও অমর্কের বৈষয়িক উপদেশ গ্রহণ করল না। অসুর বালকেরা কৃষ্ণভক্তিতে নিষ্ঠাপরায়ণ হয়ে যাচ্ছে দেখে ষণ্ড ও অমর্ক ভয়ভীত হয়ে রাজা হিরণ্যকশিপুর কাছে সমস্ত পরিস্থিতি জানালাে। অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে বলল, হে মন্দবুদ্ধি, তুই আমার শাসন লংঘন করেছিস, তুই একটা জেদী মূর্খ। আজই তােকে যমালয় পাঠাবাে। তুই জানিস, আমি ক্রুদ্ধ হলে সমগ্র ত্রিভুবন কাঁপে, আর তুই কার বলে ভয়শূন্য হয়ে আমার নির্দেশ অতিক্রম করছিস।

** প্রহ্লাদ বললেন, হে পিতৃদেব, দয়া করে আপনি আপনার আসুরিক প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করুন। আপনি বলের কথা জিজ্ঞেস করছেন, পরমেশ্বর শ্রীহরিই সমস্ত বলের উৎস। আপনার বলও তার কাছ থেকে আসছে। ইন্দ্রিয়ের বল, মনের বল, দেহের বল সব তিনিই। আপনার বিপথগামী মন ছাড়া আপনার এই জগতে কোনও শত্রু নেই। আপনি আমাকে অনর্থক শত্রু মনে করছেন। আপনার শরীরের ছয় রিপুর আপনি দাসত্ব করছেন, অথচ আপনি গর্বভরে মনে করছেন যে- আপনি ত্রিভুবনের সমস্ত শত্রুকে জয় করেছেন। এসব আপনার নিদারুণ অজ্ঞতা।

** হিরণ্যকশিপু বলল, ওরে হতভাগা মূর্খ প্রহ্লাদ, তুই নিজেকে অতি বুদ্ধিমান বলে মনে করছিস, এর মানে হল আমার হাতে তাের মরবার ইচ্ছা হয়েছে। এক্ষুনি তাের মস্তক বিচ্ছিন্ন করব, তাের পরম আরাধ্য ভগবান এসে তােকে রক্ষা করুক। আমি দেখতে চাই। নেশাগ্রস্ত উন্মত্তের মতাে হয়ে ক্রোধান্ধ হিরণ্যকশিপু খড়গ তুলে তিরস্কার করছিল।

**হিরণ্যকশিপু বলল, তুই যে সবসময় বলি যে তাের কোনও জগদীশ্বর আছে, সে নাকি সবার ঊর্ধ্বে। সে নাকি সবার নিয়ন্তা এবং সর্বব্যাপ্ত। তবে বল, সে জগদীশ্বর কোথায়, সে যদি সর্বত্রই থাকে, তাহলে আমার সামনের এই স্তম্ভটাতে কি সে আছে? ধুপধাপ শব্দে পদচারণ করে হিরণ্যকশিপু চিৎকার করে রাজ সিংহাসনের সম্মুখভাগে একটি স্তম্ভে সজোরে মুষ্ট্যাঘাত করতে লাগল।

**সেই সময় স্তম্ভ থেকে এক ভয়ংকর ধ্বনি উত্থিত হল। সেই ধ্বনিতে যেন ব্রহ্মাণ্ড কম্পিত হয়েছিল। বহু দেবতা মনে করেছিলেন, হায় এই আমাদের গ্রহলোকটি বুঝি নষ্ট হয়ে গেল! সেই অদ্ভুত প্রচণ্ড ধ্বনি কেউ কখনও পূর্বে শুনেনি। অসুরেরা ভয়ে ভীত হয়েছিল। দেখা গেল, স্তম্ভ ভেঙ্গে তার ভেতর থেকে এক অদ্ভুত রূপ আবির্ভূত হলেন। সেই রূপটি না মানুষের, না সিংহের। ভক্ত প্রহ্লাদ মনে করেছিলেন, ভগবানকে আমি দর্শন করলেও পিতা হিরণ্যকশিপু না দর্শন করতে পারেন, আবার স্বতন্ত্র ভগবানও স্তম্ভ থেকে আবির্ভূত হতে পারেন কিংবা না হতেও পারেন। পিতা আমাকে যদি বধ করে, করতেও পারে, সেটিই ভগবানের ইচ্ছা হতেও পারে কিংবা না হতেও পারে। কিন্তু আমি স্থিরভাবেই জানি একমাত্র রক্ষাকর্তা পরম নিয়ন্তা হছেন শ্রীহরি। তাঁর ইচ্ছা বিনা কোনও অবস্থাতেই কেউ আমার শরীর নষ্ট করতে পারবে না।

** ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই পরিস্থিতিতে ভক্তের বাক্যের সত্যতা প্রমাণ করবার জন্য স্তম্ভ থেকে প্রকাশিত হলেন। শ্রীহরি আশ্বাস দিলেন প্রহ্লাদকে “ভয় করাে না, আমি উপস্থিত আছি।”
অসুর হিরণ্যকশিপু তাকে দেখে বিস্ময়ান্বিত হয়ে চিন্তা করল, এ আবার কোন্ ধরনের জীব! রূপটি বিশাল ভয়ংকর ক্রোধান্বিত রূপ। দুটি চোখ তার স্বর্ণের মতাে উজ্জ্বল। উজ্জ্বল কেশররাশি তার ভয়ংকর মুখমণ্ডলকে বিস্তার করেছে। বড় বড় ভয়ানক দন্তসারি। জিহ্বাটি ক্ষুরধার খড়গের মতাে
চঞ্চল। উন্নত দুই কর্ণ নিশ্চল। মুখ এবং নাসিকা বিবর পর্বতের গুহার মতাে। চোয়াল ভয়ংকরভাবে বিস্তীর্ণ। তার শরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। তার গ্রীবা হ্রস্ব ও স্থূল। বক্ষোদেশ বিশাল। উদর কৃশ। শরীরের লোম চন্দ্র কিরণের মতাে শুভ্র। তার অসংখ্য বাহু। সেই বাহুসমূহ যেন সেনাবাহিনীর মতো চতুর্দিকে বিস্তৃত। বাহুসমূহে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম এবং অন্যান্য অস্ত্রাদি ধারণ করে রয়েছেন। তিনি এভাবে দৈত্য দানব এবং নাস্তিকদের বিনাশ করবার জন্য উদ্যত হয়েছেন। আর তিনি ভীষণ গর্জন করছিলেন।

**এইরকম রূপ দেখে হিরণ্যকশিপু মনে মনে ভাবল মহা মায়াবী বিষ্ণু আমাকে হত্যা করার এই পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু তার এই চেষ্টায় আমার আর কি হতে পারে? আমার সঙ্গে কে যুদ্ধ করতে পারবে? আমাকেও আবার ওই বিষ্ণু ভয় দেখায় ? এই বলে হাতীর মতাে বিশাল-শরীর হিরণ্যকশিপু একটি গদা ধারণ করে ভগবানকে আক্রমণ করল। ক্রোধান্বিত হয়ে দ্রুতবেগে গিয়ে নৃসিংহদেবকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করল। কিন্তু নৃসিংহদেবের জ্যোতিতে হিরণ্যকশিপুর প্রভাব অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। যত বড় ভয়ংকর সাপ হােক না কেন পক্ষীরাজ গরুড় তাকে যেভাবে গ্রাস করে, হিরণ্যকশিপুকে নৃসিংহদেব সেভাবে গ্রহণ করলেন।
গরুড় যেমন খেলাছলে কখনও কখনও সাপকে মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযােগ দেয়, তেমনি নৃসিংহদেব তার কবল থেকে অসুর হিরণ্যকশিপুকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযােগ দিলেন। মেঘের আড়াল থেকে সেই ঘটনা দেবতারা দর্শন করছিলেন। কিন্তু তারা অত্যন্ত বিচলিত হয়েছিলেন, নৃসিংহদেবের হাত থেকে বুঝি সে নিষ্কৃতি পেয়ে গেল। এদিকে হিরণ্যকশিপু মনে করল যে, এই মায়াবী বিষ্ণু আমার শক্তিতে ভীত হয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তখন সে ঢাল ও খড়গ নিয়ে পুনরায় মহাবেগে ভগবানকে আক্রমণ করল। ভগবান তখন অট্টহাস্য করে বাজপাখীর মতাে তীব্রগতিতে হিরণ্যকশিপুকে গ্রহণ করেছিলেন। সেই যুদ্ধটি মাটিতে বা পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ থাকল না, আকাশমার্গেও চলতে লাগল। নৃসিংহদেবের সুতীব্র অট্টহাসির ফলে ভয়ে হিরণ্যকশিপুর চোখ মুদিত হয়েছিল। যে দুর্ধর্ষ হিরণ্যকশিপু ইন্দ্রের মহা বজ্রের আঘাতেও অক্ষত থাকে, সেই দুর্ধর্ষ অসুরকে ভগবান এমনভাবে ধরেছিলেন যে সে কেবল হাত পা সঞ্চালন করছিল, কিন্তু কিছুতেই নিজেকে মুক্ত করতে পারল না।

গ্রন্থসূত্র- ভক্তবৎসল শ্রীনৃসিংহদেব

ব্রত তালিকা গৌরাব্দ 536
15/05/2022

ব্রত তালিকা গৌরাব্দ 536

12/04/2022

আজ পবিত্র শ্রীকামদা একাদশী ব্রত

*"কামদা" একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য*

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের "কামদা" একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য বরাহ পুরাণে বর্ণিত আছে।

মহারাজ যুধিষ্টির বলেন- হে বাসুদেব ! আপনি কৃপা করে আমার কাছে কামদা একাদশীর মহিমা কীর্তন করুন।

শ্রীকৃষ্ণ বলেন-হে মহারাজ ! এই একাদশী ব্রত সম্পর্কে এক বিচিত্র কাহিনী বর্ণনা করছি। আপনি একমনে তা শ্রবণ করুন। পূর্বে মহর্ষি বশিষ্ঠ মহারাজ দিলীপের কৌতুহল নিবারণের জন্য এই ব্রত কথা কীর্তন করেছিলেন।

ঋষি বশিষ্ঠ বলেন- হে মহারাজ। কামদা একাদশী তিথি পাপনাশক ও পূণ্যদায়িনী। পূর্বকালে মনোরম নাগপুরে স্বর্ণনির্মিত গৃহে বিষধর নাগেরা বাস করত। তাদের রাজা ছিলেন পুণ্ডরীক। গন্ধর্ব, কিন্নর ও অস্পরাদের দ্বারা তিনি সেবিত হতেন। সেই পুরীমধ্যে অস্পরা শ্রেষ্ঠ ললিতা ও ললিত নামে গন্ধর্ব স্বামী-স্ত্রী রূপে ঐশ্বর্য্যপূর্ণ এক গৃহে পরমসুখে দিনযাপন করত।

একদিন পুণ্ডরীকের রাজসভায় ললিত একা গান করছিল। এমন সময় ললিতার কথা তার মনে পড়ল। ফলে সঙ্গীতের সুর-লয়-তাল-মানের বিপর্যয় ঘটল। কর্কটক নামে এক নাগ ললিতের মনোভাব বুঝতে পারল। গানের ছন্দভঙ্গের ব্যাপারটি সে পুণ্ডরীক রাজার কাছে জানাল। তা শুনে সর্পরাজ ক্রোধভরে কামাতুর ললিতকে-'রে দুর্মতি ! তুমি রাক্ষস হও' বলে অভিশাপ দান করল। সঙ্গে সঙ্গে সেই ললিত ভয়ঙ্কর রাক্ষসমূর্তি ধারণ করল। তার হাত দশ যোজন বিস্তৃত, মুখ পর্বত গুহাতুল্য, চোখ দুটি প্রজ্বলিত আগুনের মতো, ঊর্দ্ধে আট যোজন বিস্তৃত প্রকাণ্ড এক শরীর সে লাভ করল। ললিতের এরকম ভয়ঙ্কর রাক্ষস শরীর দেখে ললিতা মহাদুঃখে চিন্তায় ব্যাকুল হলেন। স্বেচ্ছাচারী রাক্ষস ললিত দুর্গম বনে ভ্রমণ করতে লাগল। ললিতা কিন্তু তার সঙ্গ ত্যাগ করল না। ললিত নির্দয়ভাবে মানুষ ভক্ষণ করত। এই পাপের ফলে তার মনে বিন্দুমাত্র শান্তি ছিল না। পতির সেই দুরবস্থা দেখে ব্যথিত চিত্তে রোদন করতে করতে ললিতা গভীর বনে প্রবেশ করল ।

একদিন ললিতা বিন্ধ্যপর্বতে উপস্থিত হল । সেখানে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রম দর্শন করে মুনির কাছে হাজির হল। তার চরণে প্রণাম করে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। মুনিবর জিজ্ঞাসা করলেন-হে সুন্দরী ! তুমি কে, কার কন্যা কি কারণেই বা এই গভীর বনে এসেছ ? তা সত্য করে বল। তদুত্তরে ললিতা বলল- হে প্রভু ! আমি বীরধন্যা গন্ধর্বের কন্যা। আমার নাম ললিতা। আমার পতির পিশাচত্ব দূর হয় এমন কোন উপায় জানবার জন্য এখানে এসেছি।
তখনই ঋষি বললেন- চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের কামদা নামে যে একাদশী আছে, তুমি সেই ব্রত যথাবিধি পালন কর। এই ব্রতের পুণ্যফল তোমার স্বামীকে অর্পণ করলে তৎক্ষণাৎ তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হবে। বশিষ্ঠ ঋষি বললেন- হে মহারাজ দিলীপ ! মুনির কথা শুনে ললিতা আনন্দ সহকারে কামদা একাদশী পালন করল। তারপর ব্রাহ্মণ ও বাসুদেবের সামনে পতির উদ্ধারের জন্য বলল--'আমি যে কামদা একাদশীর ব্রত পালন করেছি, তার সমস্ত ফল আমার পতির উদ্দেশ্যে অর্পণ করলাম। এই পুণ‍্যের প্রভাবে তাঁর পিশাচত্ব দূর হোক। ' এই কথা উচ্চারণ মাত্রই ললিত শাপ মুক্ত হয়ে দিব্য দেহ প্রাপ্ত হল। পুনরায় গন্ধর্ব দেহ লাভ করে ললিতার সাথে সে মিলিত হল। তাঁরা বিমানে করে গন্ধর্বলোকে গমন করল।

হে মহারাজ , এই ব্রত যত্ন সহকারে সকলেরই পালন করা কর্তব্য। এই ব্রত ব্রহ্মহত্যা পাপবিনাশক এবং পিশাচত্ব মোচনকারী। এই ব্রত কথা শ্রদ্ধাপূর্বক পাঠ ও শ্রবণে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।

🙏জয় রাধামদনমোহন🙏

নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ অষ্টোত্তরশত শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ।বিশ্বব্যাপী শ্রীগৌড়ীয় মঠের প্রতিষ...
12/04/2022

নিত্যলীলা প্রবিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ অষ্টোত্তরশত শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ।

বিশ্বব্যাপী শ্রীগৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য জগতগুরু ১০৮ শ্রীশ্রীম্ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর প্রভুপাদ যখন ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তখন তাঁর সাথে সাথে অসংখ্য পুণ্যাত্মা শিষ্যরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ছিলেন শাস্ত্রজ্ঞ, বিদ্বান, ক্ষমাশীল, ত্যাগ এবং বৈরাগ্যের প্রতীক । আজ আমরা তেমনই একজন মহাত্মার কথা আলোচনা করব, তিনি হলেন ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ।

আবির্ভাব এবং বংশপরিচয়
শ্রীল শ্যামানন্দ এবং শ্রীল রসিকানন্দ প্রভুর স্মৃতি বিজড়িত পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায়, নারমা(Narma) গ্রামে ১৩২১ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ ১৯১৪ খ্রিঃ (এপ্রিল মাস) বুধবার বিখ্যাত জ্যোতিষ, জমিদার বৈকুন্ঠনাথ রায়ের গৃহে শ্রীশ্রী ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ আবির্ভাবলীলা করেছিলেন। তার মায়ের নাম ছিল রত্নময়ী দেবী। উনি ছিলেন পিতার তৃতীয় এবং সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। উনার বাল্যনাম ছিল "রাধারমণ"। বাল্যকালে উনি অনন্তদেব এবং শ্রীগোপাল দেবের পূজো করতেন।

শিক্ষাজীবন
কৃষ্ণের অহৈতুকী কৃপার ফলে বাল্যকালেই রাধারমণ তার আশ্চর্য কৃষ্ণভাবনাময় ক্রিয়াকলাপের দ্বারা শ্রীল ভক্তিদ্বয়িত মাধব মহারাজ, শ্রীল ভক্তিপ্রমোদ পুরী মহারাজ, শ্রীলভক্তিহৃদয় বন মহারাজের নজরে এসেছিলেন। এই বালককে দেখে সবাই আশ্চর্যান্বিত হয়ে যেতেন। পুত্রের দিব্য ভাব পরিলক্ষিত করে, উনার পিতা শ্রীচৈতন্য মঠের ভক্তদের সাথে" মঠে থেকে পুত্রের পড়াশোনার ব্যাপারে" আলোচনা করেছিলেন। তখন ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদকে এইকথা জানালে, প্রভুপাদ সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এইভাবেই ১১ বছরের বালক রাধারমণ কে উনার পিতা শ্রীচৈতন্য মঠে প্রেরণ করেন। প্রভুপাদের দীপ্ত চরণকমল বালক রাধারমণ কে তীব্র ভাবে মঠে থাকার জন্য আন্তরিক অনুপ্রেরণা জুগিয়ে ছিল। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজের পাশে নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলে উনাকে ভর্তি করানো হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি উনি শ্রীমঠের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে যোগদান করতেন। উনার কীর্ত্তনের প্রতি স্বভাবজাত অনুরাগ এবং সুমধুর বচন শ্রীল প্রভুপাদ এবং বাকি সন্ন্যাসী ভক্তদের মুগ্ধ করেছিল । স্কুলের পড়া শেষ করে উনি শ্রীধাম মায়াপুরের গৌরদাস পন্ডিতের নিকট সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রচারের হাতেখড়ি --
১৯৩০ সালে শ্রীধাম মায়াপুরে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত আধ্যাত্মিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন এবং এই অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য রাধারমণ কে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৯৩০ সালের ২০ মার্চ রাধারমণের সেবায় সুপ্রসন্ন হয়ে শ্রীল প্রভুপাদ উনাকে "গেরুয়া বস্ত্র" দান করেন।১৯৩৩ সালের ৬ জানুয়ারি শ্রীল প্রভুপাদ বাংলাদেশের ঢাকায় সাধারণ মানুষের মনে বৈদিক বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতি এবং কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের উদ্দেশ্যে একটি অনুপম প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে রাধারমনের অপ্রত্যাশিত জ্ঞানগর্ভ বৈদিক শাস্ত্র বিশ্লেষণের ক্ষমতা দেখে শ্রীল প্রভুপাদ খুব খুশী হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে, শ্রীল প্রভুপাদ রাধারমণকে শ্রীল ভক্তিহৃদয় বন মহারাজের সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের জন্য পাঠান। শ্রীল প্রভুপাদ, রাধারমণ কে হাওড়া জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার শ্রীপ্রপন্ন আশ্রমের দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন।প্রচারের দক্ষতা এবং সূক্ষ্ম পরিচালনার জন্য উনাকে রায়বেরিলি,শিখরপুর,পুণে এবং করাচিতে প্রেরণ করা হয়, যাতে হিন্দি ভাষায় মানুষের মধ্যে সহজে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচার করা যায়। ১৯৩৬ সালের ৮ মার্চ, শ্রীল প্রভুপাদ রাধারমণ কে বার্মায় পাঠান। রেঙ্গুনের উদ্দেশ্য রওনা দেওয়ার ঠিক পূর্বে শ্রীল প্রভুপাদ নিজে রাধারমণ কে দেখতে এসেছিলেন এবং আশীর্বাদ করে প্রসাদীমালা অর্পন করে বলেছিলেন, " প্রিয় রাধারমণ, তুমি খুব যুবক বয়সেই সাগর পাড়ি দিতে যাচ্ছ, ভগবান কৃষ্ণ, সর্বদা তোমার উপর কৃপা করুক"। মান্দালয়ে প্রচারের সময় যখন তিনি শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতের "জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস" এই শ্লোক পাঠ করছিলেন, তখন ভাবাবিষ্ট হয়ে উনি নিজে আরেকটি রচনা লিখেছিলেন, " গুরু দাসত্ব হয় মোর পরিচয়"। সেই রচনা পরবর্তীকালে শ্রীল প্রভুপাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল । নির্ভুল রচনা পড়ে প্রভুপাদ খুব খুশী হয়েছিলেন এবং পুরী গোস্বামী মহারাজকে "দৈনিক নদীয়া প্রকাশে" ছাপাতে আদেশ করেছিলেন । গুরু পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাধারমণ মায়াপুর পরিক্রমার জন্য গিয়েছিলেন।

বিশেষ উপাধি লাভ---
গুরু পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাধারমণ মায়াপুর পরিক্রমার জন্য গিয়েছিলেন।নিস্বার্থ প্রচারের জন্য শ্রীল প্রভুপাদ উনাকে "রাগ কুমুদ" উপাধি প্রদান করেছিলেন। প্রভুপাদ একটা সুন্দর শ্লোক লিখেছিলেন —
geetsevanuraktaya vipulotsahasamyuje
drahmachari padanka SRI radharaman sangyine
dhan pracharinisamsat satyaistasmai pradiyate
rag kumud ityaitadupanamadya sadaram
sunishuvasushuvhramshu shake mayapure vare

রাগ কুমুদ উপাধির কুমুদ শব্দটি পরবর্তীকালে উনার সন্ন্যাস নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। ১৯৩২ সালের ২৩ শে জানুয়ারি শ্রীল প্রভুপাদ মাদ্রাজে শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। নবদ্বীপ পরিক্রমার শেষে শ্রীল প্রভুপাদ রাধারমণ কে মাদ্রাজে সন্ন্যাসী ভক্তদের সাথে প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন।

সন্ন্যাস দীক্ষা এবং বিদেশে প্রচার--
শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের পরে রাধারমণ শ্রীল ভক্তিভূদেব শ্রুতি মহারাজের সাথে ভারতের বিভিন্ন তীর্থ ভ্রমণ করেন। অবশেষে, নিজের জন্মস্থানে ফিরে আসেন এবং শ্রীশ্রী রাধা কিশোরী মোহন জীউয়ের মন্দিরের পাশেই গভীর ভজন শুরু করেন। একদিন রাতে শ্রীল প্রভুপাদ উনাকে স্বপ্নে সন্ন্যাস গ্রহণের নির্দেশ দান করেন। ১৯৪২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শ্রীক্ষেত্র পুরীধামের ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দিরে শ্রীল ভক্তিবিচার যাযাবর মহারাজের কাছ থেকে উনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। উনার নাম হয় শ্রীল ভক্তিকুমুদ সন্ত মহারাজ। জীবনের ৩২ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে উনি প্রচার করেন।
১৯৭৫ সালে উনি ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড, অষ্ট্রিয়া, জার্মানি, বেলজিয়ামে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।

মঠ এবং বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা ----
মহারাজ রাধাগোপীনাথ, রাধাগোবিন্দ এবং রাধা মদনমোহন এই তিনটি বিগ্রহ যথাক্রমে শ্রীগৌরাঙ্গ আশ্রম, কেশিয়ারী,খরগপুর শ্রীচৈতন্য আশ্রম এবং শ্রীচৈতন্য আশ্রম, বেহালায় স্থাপন করেছিলেন। পুরীতে শ্রীচৈতন্য আশ্রমে উনি "রাধারমণ " বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। উত্তর ২৪ পরগনার শ্রীগৌর সারস্বত সন্ত গৌড়ীয় মঠে উনি " রাধা মাধব " জিউ বিগ্রহ স্থাপিত করেন। বৈষ্ণব দর্শনানুসারে উনি একাধিক গ্রন্থ লিখেছিলেন — "সংলাপে শিক্ষা" "পত্রে উপদেশ " "গীতা সিদ্ধান্ত সার" " সন্ত বাণী" "গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জীবনী" "দামোদর ব্রত মাহাত্ম্য " "মোহ কুঠার" " মোহ মুদগর" "ভক্তিগীতি"।

তিরোভাবলীলা----
২০১২ সালের ৭জানুয়ারি শ্রীল ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ মধ্যরাত্রি ১ঃ০৫ মিনিটে নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন। উনার প্রয়াণে গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগতের অমূল্য ক্ষতি হয়েছে। গৌড়ীয় গগনের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক শ্রীল ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ, যিনি উনার বৈষ্ণবীয় শান্ত,স্নিগ্ধ ব্যবহার এবং গুরু বাক্যপালনকারী হিসেবে আমাদের কাছে এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

সংগৃহীত

বৈষ্ণব সার্বভৌম সিদ্ধ  শ্রীশ্রীল জগন্নাথ দাস বাবাজী মহারাজের উপদেশামৃতঃ                                  ১) কখনো বিষয়ীর...
05/04/2022

বৈষ্ণব সার্বভৌম সিদ্ধ শ্রীশ্রীল জগন্নাথ দাস বাবাজী মহারাজের উপদেশামৃতঃ

১) কখনো বিষয়ীর অন্নগ্রহণ করিও না, গ্রহণ করিলে বিষয়ী হইয়া যাবে।

২) সাংসারিক অমঙ্গলকে ভগবানের দয়া বলিয়া জানিবে।

৩) 'সেবা করিয়াছি' বলিয়া ঢাক পিটাইয়ো না, তখন আর ইহাকে 'সেবা' বলা যাইবে না।

৪) গৌরধাম কৃপা করিলেই ব্রজবাস হয়।

৫) কখনো মর্কটবৈরাগীর (বিরক্তবেষী কপট সাধু) সহিত মিশিও না।

৬) অন্তরে ঐকান্তিক কৃষ্ণ সেবার জন্য অনুরাগ না আসিলে বাহিরে বেষগ্রহণ করিলে তাহাকে পরমহংস বলা যায় না।

৭) নির্জনভজনের ছলনায় অলস হইও না।

৮) অপরাধের সহিত লক্ষ লক্ষ মালা টানিবার চেয়ে বৈষ্ণবসেবার জন্য বাগানে চাষ ও গাছে জল দেওয়া অধিক মঙ্গলজনক। বৈষ্ণবসেবার ফলে শ্রীহরিনামে অকপট রুচি আসিবে।

৯) বৈষ্ণবের অনুকরণ করিও না, পুড়িয়া মরিবে। তাঁহার অকপট সেবা যাচনা কর।

১০) যিনি হরিসেবার অর্থ ভোগ করেন, তিনি মহাপাষণ্ডী।

১১) সাধারণ চোরের কখনো কখনো মঙ্গল হইয়া থাকে, কিন্তু গুরু-বৈষ্ণবের নামে অর্থ ভোগকারীর কখনোই মঙ্গল হয় না ।

১২) অন্যাভিলাষের সহিত গুরু-বৈষ্ণবের সেবা করলে তাঁহারা সেবকাভিমানীকে লাভ-পূজা-প্রতিষ্ঠা দিয়া সরে পড়েন।

১৩) আনুগত্যময় আচরণই সদাচার, স্বতন্ত্রতাই কদাচার।

১৪) কৃত্রিম অষ্টকালীন লীলা স্মরণপদ্ধতি রূপানুগ ভজনরীতি নহে শ্রীনামকীর্তনযোগে স্মরণই গোস্বামীগণের সিদ্ধান্ত।
-----------------------------------------------------------
হরে কৃষ্ণ 🙏

শ্রীধাম(মায়াপুর) প্রচারিনী সভাতে শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক শ্রীগৌর আশীর্ব্বাদ পত্রে "রাগকুমুদ" উপাধি প্রদান।----------------...
26/03/2022

শ্রীধাম(মায়াপুর) প্রচারিনী সভাতে শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক শ্রীগৌর আশীর্ব্বাদ পত্রে "রাগকুমুদ" উপাধি প্রদান।
------------------------------
প্রভুপাদ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সুযোগ্য, অতিপ্রিয় কয়েক জন শিষ্যের মধ্যে একজন হইলেন পরমারাধ্যতম অস্মদীয় গুরুপাদপদ্ম ত্রিদন্ডীস্বামী নিত্যলীলা প্রভিষ্ট ওঁ বিষ্ণুপাদ অষ্টত্তরশত শ্রীশ্রীমদ্ভক্তি কুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ। যাহার নাম ছিল শ্রীপাদ রাধারমন ব্রহ্মচারী।
শ্রীগৌরাবির্ভাব তিথিবাসরে শ্রীধাম মায়াপুরে শ্রীনবদ্বীপধাম প্রচারিণী সভার সভাপতি জগৎগুরু প্রভুপাদ শ্রীশ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর তাঁহার স্নেহস্নিগ্ধ সেবক শ্রীরাধারমন ব্রহ্মচারীকে শ্রীগৌর আশীর্ব্বাদ পত্রে "শ্রীরাগকুমুদ" উপাধিতে ভূষিত করিয়াছিলেন।

"শ্রীশ্রীমায়াপুরচন্দ্রো বিজয়েতেতমাম্।
শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম প্রচারিণ্যাঃ সভায়াঃ

শ্রীশ্রীগৌরাশীর্ব্বাদ পত্রম্

গীতসেবানুরক্তায় বিপুলোৎসাহসংযুজে।
ব্রহ্মচারিপদাঙ্কশ্রীরাধারমণ-সংজ্ঞিনে।
ধামপ্রচারিণীসংসৎসভৈস্তস্মৈ প্রদীয়তে।
রাগকুমুদ ইতোতদুপনামদ্য সাদরম।
মুনীষুবশুভ্রাংশু-শাকে মায়াপুরে বরে।
ফাল্গুনপূর্ণিমায়া শ্রীগৌরবির্ভাববাসরে।্

স্বাক্ষরিতঃ-শ্রীসিদ্ধান্ত সরস্বতী (সভাপতি)

অনুবাদঃ-শ্রীনাম সংকীর্ত্তনে অনুরাগী বিপুল উৎসাহী নিরাসক্ত ব্রহ্মচারী শ্রীরাধারমন। ধাম প্রচারকারী সঙ্গের প্রচারকের ভুমিকা তাঁহাকে দান করা হইল। বর্ত্তমানে "রাগকুমুদ" নামে অভিহিত হইলেন সমাদরে। শুভ্রচন্দ্রকরোজ্জ্বল ফাল্গুন পূর্ণিমা শ্রীগৌর আবির্ভাব তিথি বাসরে, শ্রীধাম মায়াপুরে।

পরবর্তীকালে গুরুমহারাজের সন্যাস গ্রহণ কালে সন্যাস নামে শ্রীল প্রভুপাদ প্রদত্ত "রাগকুমুদ" উপাধি হইতে কুমুদ শব্দ সংযোজিত হইয়া ত্রিদন্ডীস্বামী শ্রীমদ্ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী নামে ভূষিত হন

গ্রন্থ সূত্রঃ- শ্রীসন্ত চরিত চয়নিকা।
পরমারাধ্যতম শ্রীগুরুপাপদ্ম শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিকুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজের পূত জীবনী সাহিত্য।
""""""""""""""""""""""""""""""""""""
------------------------------সংগৃহীত।।

*কলিহত জীবের উদ্ধারের পথ।*****************************ভাগবত ধর্ম অনুশীলনে জীবের দুঃখ দূর হয় এবং শান্তি আসে। ব্রহ্মা, না...
22/03/2022

*কলিহত জীবের উদ্ধারের পথ।*
****************************
ভাগবত ধর্ম অনুশীলনে জীবের দুঃখ দূর হয় এবং শান্তি আসে।
ব্রহ্মা, নারদ শম্ভু, সনৎকুমার-সনক-সনন্দ ও সনাতন- এই কুমারগণ, কপিল, মনু, প্রহ্লাদ, জনকরাজ, ভীষ্মদেব, বলি মহারাজ, শুকদেব গোস্বামী, ও ধর্মরাজ যম-- এই দ্বাদশ মহাজন' ভাগবত ধর্মতত্ত্ব বিদিত আছেন। এই ভাগবত ধর্ম অতিশয় নির্মল, গুহ্য ও দুর্বোধ-- ইহা জানিতে পারিলে জীবের ভগবানের পরমপদ- প্রাপ্তি রূপ মুক্তিলাভ হইয়া থাকে।
"মহাজনো যেন গতঃ স পন্থাঃ।"
"মহাজনের যেই পথ, তা'তে হব অনুরত, পূর্বাপর করিয়া বিচার।"
মহাজনগণের আচরিত পথ অনুসরণ করাই আমাদের একমাত্র কর্তব্য।
এই কলিযুগে শ্রীভগবানের নাম সংকীর্তনের দ্বারা ভগবানে যে ভক্তিযোগ- তাহাই ইহজগতে জীব গণের পরম ধর্ম বলিয়া কথিত।
কলিযুগে হরিনাম ব্যতীত অন্য উপায়ে জীবের উদ্ধারের কোন পথ নাই।
"অতএব কলিযুগে নামযজ্ঞ সার।
আর কোন ধর্ম কৈলে নাহি হয় পার।।"
(চৈঃ ভাঃ আদি 14/139)।
সূর্য- চন্দ্র গ্রহণ কালে পুণ্য কর্মের সহিত হরিনাম করিবার প্রথা স্মরণাতীত কাল হইতে চলিয়া আসিতেছে। তাই কলিযুগাবতারী শ্রীগৌরহরি ফাল্গুনী- পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্রগ্রহণ ছলে জগতের সকলের মুখে হরি নাম উচ্চারণের অভিনয়সহ আবির্ভূত হইয়াছিলেন।
অতএব আমাদের এই ত্রিতাপ জ্বালা দুঃখ-কষ্ট হইতে রেহাই পেতে হইলে,শ্রীভগবান্ ও তাঁহার প্রিয় ভক্ত সাধু-গুরু-বৈষ্ণবগণের সহিত শ্রীনাম - সংকীর্তন ও তাহাদিগের সেবা করা একান্ত প্রয়োজন।

( মায়াপুর শ্রীচৈতন্য মঠ সংগৃহীত।।)

21/03/2022
পলাশ বাড়িতে গৌড়ীয় মঠের ছবি,,,,,,
21/03/2022

পলাশ বাড়িতে গৌড়ীয় মঠের ছবি,,,,,,

* *আজ 18 মার্চ 2022 সাল শুক্রবার ভগবান্ শ্রীগৌরহরির আবির্ভাব পৌর্ণমাসীর উপবাস,* *শ্রীশ্রীরাধা- মাধবের দোলযাত্রা ও বসন্ত ...
18/03/2022

* *আজ 18 মার্চ 2022 সাল শুক্রবার ভগবান্ শ্রীগৌরহরির আবির্ভাব পৌর্ণমাসীর উপবাস,* *শ্রীশ্রীরাধা- মাধবের দোলযাত্রা ও বসন্ত উৎসব।*
*আগামীকাল উপবাসের পারণ--- সূর্য উদয় সকাল 05/ 48 হইতে সকাল 09/ 46 মধ্যে।*
--------------------------------------
ভগবান্ শ্রীহরির অন্তরঙ্গ ভক্তগণ ভগবৎ দর্শনের জন্য উৎকণ্ঠাগ্রস্থ চিত্তে দুঃখ দূর করিবার জন্য এবং ভগবৎ বহির্মুখ দুষ্ট- অসুরগণের দ্বারা ভক্তগণের উপর অত্যাচার দূর করিবার জন্য ও ধর্ম স্থাপন অর্থাৎ ধ্যান, যাজন, পরিচর্যা, ভগবৎ নাম- সংকীর্তন প্রভৃতি স্থাপন করিবার জন্য ভগবান্ শ্রীহরি স্বয়ং এই প্রপঞ্চে অবতীর্ণ হইয়া থাকেন। এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি, স্থিতি ও প্রলয় কার্য অন্বয় ও ব্যতিরেক ক্রমে পরমেশ্বর ভগবান্ কর্তৃক সাধিত হয়। তিনি পূর্ণ সনাতন পুরুষ। তাহা হইতে অংশরূপে অনেক অবতার প্রকাশিত হয়।
"তবে প্রভু যুগধর্ম স্থাপন করিতে।
সাঙ্গোপাঙ্গে অবতীর্ণ হন পৃথিবীতে।।"
(চৈঃ ভাঃ আদি 2/21)।
দ্বাপর যুগাবতারী ভগবান্ ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি লইয়া শ্রীরাধার প্রণয় মহিমা কিরূপ? আমার অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত মাধুর্য- লীলা, যাহা শ্রীরাধা আস্বাদন করেন তাহাই বা কিরূপ, আমার অর্থাৎ (শ্রীকৃষ্ণের) মাধুর্য- লীলা আস্বাদনে শ্রীরাধার কি সুখ হয়--- এই তিনটি বিষয়ে লোভ জন্মিলে এই কলিযুগে শ্রীগৌরহরি রূপে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও যুগধর্ম প্রবর্তন ভগবানের অবতার সমূহের মাধ্যমে ঘটিয়া থাকে, তথাপি জীবকে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদনের অর্থাৎ দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর রসের আস্বাদন জগতৎ জীবকে জানাইবার জন্য "আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়।
আপনি না করিলে ধর্ম শিখান না যায়।।"
এইরূপে স্বয়ং ভগবান্ অবতারী রূপে কলিযুগে আবির্ভূত হইলেন।
অনর্পিত অর্থাৎ যাহা কোনকালে অর্পণ করা হয় নাই, সেই নিজের অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের উন্নত উজ্জল শ্রীকৃষ্ণ নাম- সংকীর্তন দ্বারাই জগতে সর্বসাধারণের নিকট প্রদান করিবার জন্য ভগবান শ্রীগৌড় সুন্দর সর্ব শুদ্ধ সত্ত শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের তনয় রূপে আবির্ভূত হইয়াছেন।
( মায়াপুর শ্রীচৈতন্য মঠ।
শ্রীধাম মায়াপুর- নবদ্বীপ- নদীয়া- পশ্চিমবঙ্গ।--- হইতে collected..

শ্রীল গুরুমহারাজের দিব্যসন্যাস গ্রহনলীলা -----------------------------------------------সন্যাস কালঃ ১২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৪২ ...
28/02/2022

শ্রীল গুরুমহারাজের দিব্যসন্যাস গ্রহনলীলা
-----------------------------------------------
সন্যাস কালঃ ১২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৪২ খ্রিঃ, প্রাতঃকাল।

তিথিঃ- মাঘ কৃষ্ণা-ত্রয়োদশী,

সন্যাস গ্রহনের স্থানঃ ক্ষীরচোরা গোপিনাথ মন্দির, রেমুনা।

সন্যাসের সময় পৌরহিত্য করেনঃ শ্রীশ্রীল শ্রৌতী গোস্বামী মহারাজ ও শ্রীশ্রীল বৈখানস মহারাজ।

সন্যাস গুরুঃ শ্রীশ্রীল যায়াবর গোস্বামী মহারাজ।

সন্যাস নামঃ ত্রিদন্ডী স্বামী শ্রীশ্রীমদ্ভক্তি কুমুদ সন্ত গোস্বামী মহারাজ।

উল্লেখ্য যে, "কুমুদ" শব্দটি শ্রীল প্রভুপাদ প্রদত্ত শ্রীগৌরাশীর্বাদ পত্রে উল্লেক ছিল।

🙏🙏🙏শ্রীএকাদশী ব্রতএকাদশীব্রতের নিত্যতা চারটি১) শ্রীভগবান হরির সন্তুষ্টি বিধান২) শাস্ত্রোক্ত বিধি প্রাপ্তি৩) আহারের নিষিদ...
25/02/2022

🙏🙏🙏

শ্রীএকাদশী ব্রত

একাদশীব্রতের নিত্যতা চারটি
১) শ্রীভগবান হরির সন্তুষ্টি বিধান
২) শাস্ত্রোক্ত বিধি প্রাপ্তি
৩) আহারের নিষিদ্ধতা
৪) ব্রতের অকারণে অনিষ্টোৎপত্তি

১) শ্রীভগবান হরির সন্তুষ্টি বিধান
# শুক্লা বা কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী দিনে উপবাসী থাকিয়া দ্বাদশী দিনে আহার করিলে ঐ ব্রতে হরির পরমা প্রীতি সঞ্চার হয়। (মৎস পুরাণ ও ভবিষৎ পুরাণ)
একাদশী দিনে আহার নিষিদ্ধ, এই ব্রত নিশ্চয়ই হরির প্রীতিকর। (অগ্নি পুরাণ)
কি বিপ্র, কি ক্ষত্রিয়, কি বৈশ্য, কি শূদ্র, কি নারী যে কেহই হউক না কেন, ভক্তি সহকারে বিষ্ণু প্রীতিকর একাদশী ব্রত সাধন করিলে মোক্ষ লাভ করিতে পারে । (বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

২) শাস্ত্রোক্ত বিধি প্রাপ্তি
আয়ুক্ষয় যাবৎ একাদশীতে উপবাস কর্তব্য।(অগ্নিপুরান)

৩) আহারের নিষিদ্ধতা
পূর্বদিনে (সংযমদিনে, দশমীতে) রাত্রীভোজন, অপরদিনে (পারণ দিনে, দ্বাদশীতে) রাত্রীভোজন এবং মধ্য দিনে (উপবাস দিনে, একাদশীতে) দিবাভোজন ও রাত্রী ভোজন, উপবাস ফলকামী ব্যক্তি এই ভোজন চতুষ্টয় ত্যাগ করবে । (বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

৪) ব্রতের অকারণে অনিষ্টোৎপত্তি
হরিবাসর সমাগত হইলে ব্রহ্মহত্যাদি নিখিল পাতক অন্নমধ্যে অধিষ্টিত হয়, সুতরাং হরিবাসরে আহার করলে যাবতীয় পাতকই গৃহীত হইয়া থাকে । একাদশী না করিলে বিধবা ও মহাত্মা যতিকেও আপ্রলয় অন্ধতামিশ্র নরকে পচ্যমান হইতে হয় । (নারদীয় পুরাণ)

একাদশী দিনে আহার করিলে মাতৃঘাতী, পিতৃঘাতী, ভ্রাতৃঘাতী ও গুরুহন্তা পাপী বলিয়া পরিগণিত হইতে হয়, সে ব্যক্তি বিষ্ণুধাম হইতে বিচ্যুত হইয়া পড়ে। (স্কন্ধ পুরাণ)

পাতকী ব্যক্তি একাকীই নরকে গমন করে সত্য, কিন্তু যে ব্যক্তি একাদশীতে অন্ন ভোজন করে, সে পিতৃগণসহ নরকগামী হয়। (বিষ্ণুধর্ম্মোত্তর)
হরিবাসর উপস্থিত হইলে তদ্দিনে যখন পুরোডাশও (যজ্ঞায় হবির্বিশেষ) অভক্ষ্য বলিয়া পরিগণিত হয়, তখন অন্নপাকের বিষয় আর কি বলব ? (পদ্মপুরাণ)
বিধবা হইয়া একাদশীতে আহার করিলে তাহার সমস্ত সুকৃত বিনাশ পায় । (কাত্যায়নস্মৃতি)

একাদশীর নিত্যতা
শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ উভয় পক্ষে-
বিষ্ণুরহস্য, স্কন্ধপুরাণ, কুর্ম্মপুরাণ, ও নারদীয় পুরাণে লিখিত আছে শুক্লা একাদশী যেরূপ, কৃষ্ণাও তদ্রূপ জানিবে, ঐ উভয়ে বিন্দুমাত্রও প্রভেদ নাই ।
গো, তিল ও ব্রাহ্মন ইহারা কৃষ্ণ বর্ণ হইলেও যেরূপ দোষাবহ নহে, সেরূপ কি কৃষ্ণ, কি শুক্লা উভয়পক্ষীয় একাদশীই উপবাসের যোগ্য ।
একাদশীদ্বয়ের ভেদজ্ঞান করিলে আজন্ম পরিত্রানের আর উপায় দৃষ্ট হয় না । (সনৎকুমারের উক্তি)

সংক্রান্তি প্রভৃতিতে –
সংক্রান্তিতে একাদশী হইলে তদ্দিনই উপবাসের উপযুক্ত । ঐ তিথি পুণ্যস্বরূপা ও সর্ব্বপাপহারিণী । (কাত্যায়নী স্মৃতি)
নিশ্চিত জানিবে যে, শনি ও রবিবার এবং সংক্রান্তি ও গ্রহণ এই সমস্ত কালে একাদশী ত্যাগ করিতে নাই । (দেবলের উক্তি)

বিষ্ণুরহস্য – ভীষণ আপন্ন অবস্থায় বা বিপুল আনন্দ সময়ে অথবা জননাশৌচে ও মরণাশৌচেও কদাচ দ্বাদশীব্রত ত্যাজ্য নহে। (সূতকাদিতে)

উপবাস দিনে শ্রাদ্ধ নিষিদ্ধ –
একাদশী দিনে শ্রাদ্ধ করিলে দাতা, ভোক্তা ও প্রেত তিন জনেরই নরকগতি লাভ হয় । (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)

একাদশী অধিকারী –
আট বৎসর বয়ঃক্রমের পর অপুর্ণ অশীতি বর্ষ যাবৎ শুক্লা ও কৃষ্ণ উভয়পক্ষীয় একাদশীতে উপবাস করা মানবের বিধেয় । (কাত্যায়ন স্মৃতি)
কি বৈষ্ণব, কি শৈব সকলের পক্ষেই একাদশীব্রত করা কর্তব্য (বিষ্ণুধর্মোত্তর)

স্কন্ধ পুরাণে শিবের উক্তি –
হরিবাসরে আহার করিলে তাহাকে শৈব বা সৌর অথবা আশ্রমী কিংবা তীর্থসেবী বলিয়া পরিগণিত করা যায় না, সে শ্বপচ অপেক্ষাও সমধিক পাপী । হে শঙ্করী ! মদ্ভক্তি আশ্রয়পূর্বক হরিবাসরে আহার করিলে সেই দুষ্ট পাতকীকে মদীয় অপ্রিয়কারী বলে জানবে ।
মহাভারতে উদ্দ্যেগ পর্বে প্রকাশিত আছে – জল, ফল, মূল, ক্ষীর, ঘৃত, ব্রহ্মন কামনা, গুরুর বচন ও ঔষুধ এই আটটি ব্রত নাশক নহে ।
কাশ্যপপঞ্চরাত্রে লিখিত আছে, দীক্ষিত ও ভক্তনিষ্ঠ যে বৈষ্ণব ইহধামে মদীয় উথান-দিবসে, শয়নাহে ও পার্শ্ব-পরিবর্তনে ফল মূল সেবন করে আমি কদাচ তদীয় অপরাধ মার্জ্জনা করি না, আপ্রলয় তাহাকে ভীষণ নরকে নিপাতিত করিয়া রাখি ।

একাদশী মাহাত্ম্য
যেরূপ দাবানল সমুদ্রগত হইয়া গহবরস্থ শুষ্ক ও আর্দ্র কাষ্ঠ্রাশিকে ভস্মীভূত করে, তদ্রুপ শ্রীহরিবাসরে নিখিল পাতক বিনাশ করিয়া দেন । (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)
হে বিপ্র ! কলিযুগে যে সকল ব্যক্তি উচ্ছিন্ন পথাবলম্বী ও নিষ্ঠুরতা নিবন্ধন কলূষিতাত্মা হইয়াছে, একাদশী ভিন্ন সংসারে তাহাদিগের উদ্ধারের উপায় আর নেই ।
সর্বশেষ লিখিত আছে একাদশী-ব্রত-কথা শ্রবণ করিলে, তদব্রতানুষ্ঠানে অনুমোদন করিলে এবং একাদশী ব্রতাচরণার্থ মানবগনের (হৃদয়) শ্রদ্ধা জন্মাইয়া দিলে অখিল পাপ হইতে পরিত্রান লাভ করতঃ গরুধ্বজের অত্যুত্তমপদ বৈকুন্ঠধামে গতি লাভ করিতে পারে ।

একাদশী দ্বিবিধ – সম্পূর্ণা ও বিদ্ধা । বিদ্ধাও আবার পূর্ববিদ্ধা, পরবিদ্ধা প্রভৃতি ভেদে অনেকবিধ । তাহার মধ্যে পূর্ববিদ্ধা পরিত্যজ্য ।
একাদশী, ষষ্ঠী, পূর্ণিমা, চতুর্দ্দশী, তৃতীয়া, চতুর্থী, অমাবস্যা ও অষ্টমী এই সকল তিথি পরবিদ্ধা হইলে উপবাসে গ্রাহ্য, কিন্তু পূর্ববিদ্ধা হইলে পরিত্যজ্য । (সারদা পুরাণ)
কুর্ম্পুরাণ, নারদীয় পুরাণ, বিষ্ণুরহস্যে লিখিত আছে – দশমী শেষসংযুক্ত একাদশীতে উপবাস করিলে, সেই মূঢ়মতির দ্বাদশ বার্ষিকী একাদশীর ফল হ্রাস পায় । উদাহরণ –
ক) গান্ধারীর ১০০ পুত্র নিহত (ধৃতরাষ্ট্র মৈত্রিয় সংবাদ)
খ) সীতার বনবাস (বাল্মিকী মুনি)
গ) মান্ধাতৃপত্নীর পতি, পুত্র ও বান্ধব বিয়োগ (বশিষ্ট মুনি)
যে শাস্ত্রে দশমীবিদ্ধা দ্বাদশী প্রতিষ্ঠাতা আছে, ব্রহ্মোক্তি হইলেও তাহা আমার নিকট শাস্ত্র বলিয়া গ্রাহ্য নহে । (সূত-শৌনক সংবাদ)
মনুষ্যেরা শুক্রমায়ায় বিমোহিত হইয়া দানবজয়ার্থ দশমীবিদ্ধা একাদশী ব্রত করিতেছে, অতএব হে মার্কেন্ডেয়, তোমার মঙ্গল হউক ! তুমি মদীয় আদেশে ধরাতলে গমন পূর্বক দশমীবেধ বিষয়ে শুক্রমায়া বিধুরিত কর ।
যে ব্যক্তি দশমীবিদ্ধা একাদশীতে উপবাস করে, তাহাকে ভগবদ্বিদ্বেষী বলিয়া অবগত হইবে । কেননা, ভগবান দ্বাদশীরূপ পরিগ্রহ করিয়াছেন, সুতরাং দশমীবিদ্ধা একাদশী পরিত্যাজ্য, তাহাতে সন্দেহ নাই ।

Hare Krishna (BKCYF)

Address

Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BKC YOUTH FORUM posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to BKC YOUTH FORUM:

Share