মুহাম্মাদ তামিম

মুহাম্মাদ তামিম ধর্মান্ধ

29/04/2023

মুসলিম তারুণ্যের স্বর্ণালী ইতিহাস নিয়ে ইমরান রাইহান হাফিজাহুল্লাহর অসাধারণ আলোচনা🌸

13/04/2023

কবুল করুন ইয়া রব!

10/04/2023

আহা পিচ্চিটা, মাশাআল্লাহ 💚

আল্লাহ তাকে অনেক বড় আলিম এবং দা'ঈ হিসেবে কবুল করুন।

09/04/2023

দ্বিতীয় হিজরি। পৃথিবী অবাক, বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে। কী ঘটতে যাচ্ছে! এটাও কি সম্ভব! ইতিহাস হয়রান! কী লিখবে ভেবে পাচ্ছে না। এমন আশ্চর্য ঘটনা দ্বিতীয়টা দেখেনি যে...
দৃশ্যপট ১:
যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে গেছে। শত্রু বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে এগিয়ে আসছে। এখন যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে থাকলে ক্ষতির সীমা থাকবে না। সামান্য অবহেলায় মদীনা পর্যন্ত হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তিনি এমন অনিবার্য যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত। উম্মত তাঁর সঙ্গ দিবে তো! নাকি বনী ইসরাঈলের মত অস্বীকার করে বসবে! তাছাড়া যুদ্ধ করার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদিও নেই। তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে?!

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মানসিক এই দুশ্চিন্তার কথা মহান সহচরগণ বুঝতে পারেন। সর্বপ্রথম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়ান। চমৎকারভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গ দানের মত ব্যক্ত করেন। তারপর হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়ালেন। তিনি বললেন– "আল্লাহ আপনাকে সত্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন। আমরা আপনাকে নবী হিসাবে মেনে নিয়েছি। এখন আপনি যা আদেশ করবেন, তাই আমরা পালন করবো। আমরা বনী ইসরাঈল নই। আমরা আপনার উম্মত।"

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের কথা শুনে খুব খুশি হলেন। অন্তর থেকে খুব দোয়া করলেন। নবীজি তবু পেরেশান। আনসারি সাহাবিগণ কিছু বলেনি এখনও। অথচ সাহাবীগণের মধ্যে অধিকাংশ আনসারি। তাছাড়া তাদের সাথে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী তারা মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য নয়। তারা সামরিক ব্যয়ভার বহন করবে, এতটুকুই। তারপরও নবীজি আশাবাদী। তিনি সবার দিকে লক্ষ্য করে পরামর্শ দানের আবেদন করেন। মূলত আনসারি সাহাবীদের লক্ষ্য করেই এই আবেদনটি করেছেন।

আনসারি সাহাবীদের অধিনায়ক ও পতাকাবাহক সা'দ ইবনে মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যাপারটি অনুধাবন করলেন। তিনি দাঁড়ালেন। নবীজি এবং তাঁর আনিত ধর্মের প্রতি আনুগত্যের কথা স্বীকার করলেন এবং বললেন– "হে আল্লাহ রাসূল, যদিও আমরা এই যুদ্ধ করতে বাধ্য নই, তবু আমরা আপনার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করবো। আমরা আপনাকে একা ছেড়ে কোথাও যাবো না। আমরা বনী ইসরাঈলের মতো আচরণ করবো না। আমরা আপনার ডানে বামে, সামনে পিছনে, চতুর্দিকে বেষ্টন দিয়ে যুদ্ধ করবো। আপনি বললে আগুণেও ঝাঁপ দিবো। আপনার আদেশের বিন্দুমাত্র খেলাফ করবো না।"

সা'দ বিন মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু'র এই কথা শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব আনন্দিত হলেন। চেহারা মোবারক খুশির দ্যুতিতে বহুগুণ উজ্জ্বল হয়ে গেলো। তিনি সাহাবিদেরকে সামনে বাড়তে আদেশ দিলেন। কাফেলা সামনে বাড়তে থাকলো।

দৃশ্যপট ২:
বদর প্রান্তর। একপাশে সহায়সম্বলহীন মুসলিম বাহিনী, অপর পাশে পূর্ণ সামরিক সজ্জায় সজ্জিত কাফের বাহিনী। উভয় দল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আচানক কাফের বাহিনী থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে উতবাহ, শায়বা এবং ওয়ালিদ বেরিয়ে আসে। চিৎকার করে ডাক দেয়, আর বলে– "কে আসবি আয়, আমাদের তরবারির খেলা দেখে যা।" তাদের ডাক শুনে তিনজন আনসারি সাহাবি খোলা তরবারি নিয়ে এগিয়ে যায়। আউয, মুআব্বিজ এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহুম। কুরাইশগণ তাদের সাথে মোকাবেলা করতে অস্বীকার জানায়। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কুরাইশী মুহাজির চায়।

নবীজি হামযা, উবায়দা ইবনে হারিস এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম-কে মোকাবেলার জন্য এগিয়ে যেতে বললেন। তাঁরা এগিয়ে গেলো। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। ওয়ালিদের বিপরীতে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, শায়বার বিপরীতে হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং উতবার বিপরীতে উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু। মুহূর্তের মধ্যেই ওয়ালিদ এবং শায়বার মস্তক ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়লো। উতবার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু আহত হয়ে পড়েছিলেন। ইতোমধ্যে আলী ও হামযা আপন আপন প্রতিদ্বন্দ্বীকে খতম করে ফেলেছিলেন। ফলে এবার এদিকে মনোনিবেশ করেন। এবং উতবার জীবনও সাঙ্গ করে দেন। উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে নিরাপদে যুদ্ধের ময়দান থেকে সরিয়ে আনেন।

যুদ্ধের সূচনা কাফেরদের জন্য বড় মন্দের বার্তা নিয়ে এলো। তারা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলো। ফলে মূল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদেরকে যুদ্ধে বিন্যাস্ত করে দিয়ে মহান রবের কদমতলে সেজদায় নত হয়ে পড়েন। কেঁদে কেঁদে স্বীয় রবের কাছে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন– "হে আল্লাহ! তুমি আমাদের বিজয় দান করো। আজ যদি আমরা হেরে যাই, তাহলে দুনিয়াতে তোমাকে ডাকার মতো আর কেউ থাকবে না। তোমার গুণকীর্তন কেউ করবে না। হে মহান মালিক! আপনিই বিজয় দানকারী। আপনিই সকল ক্ষমতার অধিকারী। আপনি আমাদের বিজয়ী করুন।"

নবীজি আত্মভোলা হয়ে যান। কেঁদে কেঁদে দোয়া করতে থাকেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবীজির অস্থিরতা দেখে ছুটে আসেন। নবীজিকে জড়িয়ে ধরেন। সান্ত্বনা দেন। আর বলেন– আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবেন না। আপনি শান্ত হোন।

দৃশ্যপট ৩:
যুদ্ধ শেষ। মুসলমানদের বিজয় হয়েছে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ সামনে প্রতিফলিত হয়ে আছে। ময়দানে ৭০ জন কাফেরের কর্তিত মস্তক পড়ে আছে। বাঘা বাঘা নেতাদের মস্তকও দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধের মূল প্ররোচক আবু জাহেল নিকৃষ্টভাবে মারা পড়েছে। কাফেররা ভয়ে পালায়ন করেছে। বন্দি হয়েছে অনেকেই। অস্ত্রহীন, বাহন-বিহীন, সহায়সম্বলহীন সাহাবীগণের হাতে প্রচুর গনিমতের মাল জমা হয়েছে।

এই যুদ্ধে ১৪ জন মহান সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। আল্লাহ তাঁদের উপর খুব সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদেরকে বদর প্রান্তেই দাফন করা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি করে। যুদ্ধ জয়ের ফলে বিশ্বনেতা হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্তৃত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। মদিনার নতুন রাষ্ট্রকে অন্য আরব গোত্রগুলি নতুন শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করে। মদিনার শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। মুসলিম উম্মাহর কাছে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ অনেক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হন।

হ্যাঁ হ্যাঁ, এতক্ষণ যাবৎ ১৭ই রমযানের কয়েকটি দৃশ্যপট এঁকে দেখালাম। মনে আছে তো, আজকেও কিন্তু ১৭ই রমযান। আসুন না– ১৭ই রমযানে ঘটিত বদরের প্রান্তে কতক্ষণ ঘুরে আসি। চেতনা গ্রহণ করি। ভবিষ্যৎ চলার পাথেয় এখান থেকে নেই। বদর যে আমাদের প্রেরণা। বদর আমাদের চিন্তার খোরাক। বদর আমাদের পথপ্রদর্শক। বদর আমাদের শিক্ষক। বদর আমাদের ভালোবাসা। বদর আমাদের সব।

05/04/2023

ইমাম সাহেব হাত না বেঁধেই দিব্যি নামাজ পড়িয়ে যাচ্ছেন। তার পেছনে থাকা মুসুল্লীদের কেউ নাভীর নীচে, কেউ নাভীর উপরে, কেউ আবার বুকের উপরে হাত বেঁধেছেন! অথচ কোন মারামারি নেই!"

বিষয়টি আমাদের জন্য 'বিস্ময়কর' ||

- শাবীব তাশফী

13/03/2023

মিশরের "লিমান তুররা" কারা হাসপাতালের চৌদ্দ শিকের দুইপাশে দাঁড়িয়ে বিয়ে হয়েছিলো দুজনের। বর একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী। অপরাধ অন্য কিছু নয়, মিশরের ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া। ১৯৫৪ সালে যাঁকে গ্রেফতার করে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে কিছুদিন পর ফাঁসি বাতিল করে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। কনে খুব ভালো করেই জানতেন এখানে যাবজ্জীবন মানে ২৫ বছরের আগে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। কারান্তরীণ ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর অনেক ভেবে তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হন।

বিয়ের কয়েকদিন পরের ঘটনা। সদ্য বিবাহিত এই যুবককে অমানবিক নির্যাতন করে "ক্বানা" নামক অন্য একটি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো। এই "ক্বানা" কারাগারটি ছিলো রাজধানী কায়রো থেকে অনেক দূরের একটা জায়গা। যুবকের নবপরিণীতা বধু ননদকে সঙ্গে করে সেই কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। পথিমধ্যে অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হলো দুজনকে। যুবকের বোন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে ভাবিকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দিলেন। যুবক তাঁর বধু ও বোনের পথিমধ্যে ভোগান্তির কথা জেনেছিলেন। তিনি অত্যন্ত আবেগ তাড়িত কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন, "দেখো, আমি আশাবাদী ছিলাম খুব অল্প দিনের মধ্যে হয়তো বের হতে পারবো। কিন্তু সেই সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ দেখতে পাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট জামাল নাসের আমাদেরকে অফার করেছে, তাকে সাহায্য করলে সে আমাদের সসম্মানে মুক্তি দিয়ে দিবে। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি, আমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললেও আমি তার অন্যায় প্রস্তাবে রাজি হবো না। প্রিয়তমা, আমি তোমাকে একটা অনুরোধ করি। আমার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে হয়তো আরও অন্তত দুই দশক লেগে যাবে। তোমার এতো কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমার জন্য তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বরং তুমি এমন কাউকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করো যে তোমার পাশে সবসময় থাকতে পারবে। তোমার জীবনটাকে সুখে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে পারবে।"

স্ত্রী স্বামীর কথা শুনলেন। কিন্তু তিনি কিছু বলার আগেই কারারক্ষীরা কারার লৌহকপাট বন্ধ করে দিলো। তিনি বাড়ি ফিরে গিয়ে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লিখলেন। যার কিয়দংশ ছিলো এরকম,
"নিরন্তর পথ চেয়ে বসে আছি,
শুধু তোমার জন্য।
নাহয় সে পথ হোক জিহাদের।
লাল পথ ধরে পায়ে পায়ে
যাই চলো জান্নাতের দ্বারে।
সেই ওয়াদার খাতিরে,
ভয় কি?
লজ্জা কি?
কিসের বা বেদনা আমার?"

অবশেষে প্রায় ২০ বছর পর ১৯৭৩ সালে সেই যুবক মুক্তি পেলেন। ততদিনে বার্ধক্য এসে ভীড় করেছে। বিয়ের ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো মুক্ত পৃথিবীতে প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলো। আল্লাহর দ্বীনকে ভালোবেসে জীবনের সবচেয়ে স্বর্ণ সময়গুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন থেকে যে দম্পতি ঈমানের এক অনন্যসাধারণ নজীর স্থাপন করলেন, মহাকালও হয়তো সেটা টুকে রাখলো। নীলনদের তীরে হয়তো বিশাল কোনো ঢেউ আঁচড়ে পড়ে সম্মান জানাতে চাইলো এ মজলুম দম্পতিকে। কায়রো শহরের পাখিগুলো হয়তো একবার কিচির মিচির ধ্বনি তুলে প্রকাশ করতে চাইলো তাদের আনন্দের কল্লোলিত বার্তা।

১৯৮১ সালের এক সন্ধ্যা। রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয়তম এই বান্দা-বান্দীকে আরেকটু পরীক্ষা করে ঈমানের চুড়ান্ত মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ করে নিতে চাইলেন বোধহয়। মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম এ সিপাহসালারকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলো। সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শাহাদাৎ বরণ করানো হলো। শহীদের সম্মানিতা স্ত্রী এবার চিরদিনের মতো নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। ১৯৮১ সালের ৬ নভেম্বর ভোরবেলা যে চুড়ান্ত নিঃসঙ্গ জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো, ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার পরিসমাপ্তি ঘটলো। পরিসমাপ্তি ঘটলো একটি অনবদ্য অধ্যায়ের। এই মহীয়সী নারীর নাম আমিনা কুতুব। মিশরের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষনেতা সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ (রহঃ) এর ছোটবোন। তাঁর স্বামী ইখওয়ানের অন্যতম নেতা শহীদ কামাল আল সানানিরী। আল্লাহকে যাঁরা সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসতে পেরেছে, তাদের গল্পগুলো তো এমনই হবে। জাগতিক সব চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেষ আর ঠুনকো স্বার্থবাদী চিন্তাধারা তাদের পদতলে এসে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করে ফিরবে বারবার। আর আল্লাহর পথের সেনানীরা তার উপরে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করে যাবেন, "সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। আর মিথ্যা তো অপসৃত হবার জন্যই।" [সূরা বনী ইসরাইল-৮১]

[সংক্ষেপিত]

চিরকুটটা ভাজ করে বইয়ের মাঝে রেখে শুকনো ফুলটা বের করে সামিরা। লাল গোলাপ শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে। বইয়ের চাপে ফুলের পাপড়িরাও স...
01/12/2022

চিরকুটটা ভাজ করে বইয়ের মাঝে রেখে শুকনো ফুলটা বের করে সামিরা। লাল গোলাপ শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে। বইয়ের চাপে ফুলের পাপড়িরাও সব খুলে গেছে। ফুলের অস্তিত্ব বিলীনের পথে। এমনটা হবেই না বা কেন! বিয়ের নয় দিন পরেও কি আর ফুল তাজা থাকে! সামিরা মিট মিট করে হাসছে সামিউলের কান্ড দেখে…

: আপনার চিঠিটা পড়লাম…

: হুঁ।
লজ্জা ভরা কন্ঠে উত্তর দেয় সামিউল। মাথা নিচু করে আছে। মনটা যেন দোলনার মত করে দুলছে।

: যা বুঝলাম, আপনার আকিদাগত একটু সমস্যা আছে।

সামিরার মুখে এই কথা শুনে সামিউল পুরো থতমত খেয়ে যায়। মনের দোলনা যেন মুহুর্তেই ছিঁড়ে মাটিতে আঁচড়ে পড়ে!

: আপনার কথাটা তো ঠিক বুঝলাম না!

: বললাম যে, আপনার আকিদাগত ভুল আছে একটু।

: কোন ব্যাপারে বুঝিয়ে বলুন না, আমি তো কিছুই বুঝতেছি না।

: বিয়ের পরে যখন আমাকে বাসায় আনছিলেন, আমি কাঁদছিলাম। সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল। আর আপনি চিঠিতে লিখেছিলেন যে, আমি কেঁদেছিলাম বলে প্রকৃতিটাও কাঁদছিল। আপনি জানেন?
মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর পুত্র ইব্রাহীম (রাঃ) যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন সূর্য গ্রহণ হয়েছিল বলে লোকেরা বলতে শুরু করেছিল; ইব্রাহীম (রাঃ) এর মৃত্যুর কারণেই সুর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।”
সহীহ আল বুখারীর ১৬ নম্বর অধ্যায়ের ৯৮৬ নম্বর হাদিস এটি। মানে, কোনোকিছুতে প্রকৃতি শোক বা আনন্দ প্রকাশ করে না।

: আমি তো আসলে আবেগে লিখে ফেলেছিলাম।

: এমন কিছু বলা বা লেখা যাবে না, যেটা আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের কথাকে সমর্থন করেনা।

: হুঁ, ঠিক আছে।

: খাবেন কিছু? তাহলে বানিয়ে দিতাম…

: আচ্ছা, যেটা ভালো লাগে বানান, খাব।

সামিরা ঘর থেকে বেরিয়ে রান্না ঘরে চলে যায়। সামিউলের মাথা চক্কর দিতে থাকে। এই মেয়ে খুব ডেঞ্জারাস। চিঠির কোন উত্তর তো দিলই না, উল্টো সুক্ষ ভুলও বের করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল!

মাগরিবের আযান দিলে সালাতের জন্য মসজিদে চলে যায় সামিউল। বাসায় এসে ল্যাপটপটা কোলের উপরে নিয়ে বিছানায় বসে পড়ে। হঠাৎ খেয়াল করে, ল্যাপটপের স্কিনের উপরে ছোট আটার দলা দিয়ে আটকানো একটা কাগজ! কৌতুহলে সাথে সাথেই কাগজটা খুলে ফেলে সামিউল। তাতে ছোট্ট করে লেখা—

“অনেক ভালোবাসি সামিউল, ভালোবাসি আল্লাহ্‌র জন্যই...”

(সম্পাদিত, পরিমার্জিত)

05/10/2022

ভালোবাসি ইয়া রব, আপনাকে খুউব ভালোবাসি🙂

29/09/2022

আমি কখনোই পছন্দ করবো না, আমার মা-বোন-স্ত্রী মাহরাম ব্যতীত এমন কোথাও যাক, যেখানে ছেলে-মেয়ে উভয়ই একই উদ্দেশ্যে আসে। যদিও তা দ্বীনি কমিউনিটি হয় কিংবা দ্বীনের জন্য তারা একত্রিত হয় এবং তাদের ব্যবস্থাপনাও আলাদা আলাদা জায়গায় হয়। তারা তো বাসা থেকে একা বের হলেই আমি অস্থির হয়ে যাই। যদিও বাসার আশেপাশেই তারা থাকে। আর একটু দূরে গেলে অবস্থাটা কী হবে বলাই বাহুল্য! যদি আবার কোনো উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেলে-মেয়ে কোনো বিশেষ স্থানে আসে, আর যদি সাথে মাহরাম না থাকে, তাহলে তো…🙃

ফিতনা কিন্তু সূক্ষাতিসূক্ষ থেকেই শুরু হয়! আর সবথেকে বড় কথা, আমি নিজের জন্য যা পছন্দ করি না, তা আমার প্রিয় মানুষদের জন্য তো পছন্দ করিই না, এমনকি অন্যদের জন্যও তা পছন্দ করি না।🙂

28/09/2022

আমার শহর রূপকথাদের
আমার শহর বাস্তবের──
আমার শহর হয়তো ভুলের
হয়তো বা ঠিক হচ্ছে ফের।

আমার শহর বৃষ্টি ভেজা
কখনো বা রোদের ঝাঁজ──
আমার শহর ক্ষণে ক্ষণেই
দুঃখ মুছে ঈদের সাজ।

আমার শহর দুরন্ত খুব
হতেও জানে শান্ত বেশ──
আমার শহর কঠোর ভীষণ
দিলখোলায়ও নেই তো শেষ।

আমার শহর ব্যস্ত যে খুব
নিঝুম রাতেও কোলাহল──
আমার শহর জায়নামাজে
তবুও রোজ ঝরায় জল।

আমার শহর সুবাস ছড়ায়
কখনো বা সুবাসহীন──
আমার শহর তোমার কাছে
জমিয়েছে অনেক ঋণ।

আমার শহর জোছনা ভরা
কখনো গাঢ় অন্ধকার──
আমার শহর তোমায় নিয়ে
হারাতে চায় বারংবার।

আমার শহর হাসিখুশির
কখনো খুব বিষন্ন──
আমার শহর খুব নীরবে
তোমায় ভেবে হয় হন্য।

আমার শহর একলা ভীষণ
আমল খাতাও শূন্য──
আমার শহর তোমায় নিয়ে
কুড়াতে চায় পূণ্য।

আমার শহর তোমায় পেয়ে
একাকীত্ব ঘুচতে চায়──
আমার শহর খুব যতনে
তোমায় আগলে রাখতে চায়।

আমার শহর সবর জানে
কখনো ফের খুব অস্থির──
আমার শহর তোমায় পেয়ে
হৃদয়টা হোক সু-স্থির।

আমার শহর ধুকছে ভীষণ
একজনারই শূণ্যতায়──
আমার শহর ভরিয়ে দাও
তুমি এসে পূর্ণতায়।
আহা, পরিপূর্ণতায়…


কবিতা : আমার শহর
লেখা : মুহাম্মাদ তামিম

জীবন থেকে সব কিছু হারিয়ে যায়; কিন্তু সব কিছু ভোলা যায় না🙂
28/09/2022

জীবন থেকে সব কিছু হারিয়ে যায়; কিন্তু সব কিছু ভোলা যায় না🙂

Address

Rangpur
5470

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মুহাম্মাদ তামিম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to মুহাম্মাদ তামিম:

Share