04/12/2023
লতিফার পরিচয় বা লতিফার কত প্রকার ও কি কি?
লতিফার পরিচয়: মানব দেহে ১০টি লতিফা আছে (১) ক্বল্ব (২) রুহ, (৩) সির (৪) খফি (৫) আখ্ফা (৬) নফ্স (৭) আব্ (৮) আতশ (৯) খাক্ (১০) বাদ্।
এগুলোর মধ্যে প্রথম ৫টি আলমে আমর বা সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত এবং শেষোক্ত ৫টি আলমে খলক বা স্থুল ও দৃশ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত।
➤ আলমে আমর হচ্ছে ঐ জগত যা আল্লাহ পাকের নির্দেশ মাত্রই সৃষ্টিপ্রাপ্ত ফাইয়াকুন হয়েছিলো।
➤ আলমে খলক হচ্ছে ঐ জগত যা আল্লাহ্ পাকের নির্দেশে ক্রমান্বয়ে বিকাশ লাভ করেছে।
আলমে আমর পবিত্র আরশে মোয়াল্লা হতে উপরে অবস্থিত বস্তুহীন অদৃশ্য অনন্ত জগতকে বলা হয়। আলমে খলক আরশের নিচে অবস্থিত দৃশ্য ও স্থল জগতকে বলে। ক্বলব, রুহ্, সির, খফি, আখ্ফা এই পাঁচটি লতিফা জ্যোতিষ্মান ও উজ্জল। এগুলোর মূল অদৃশ্য জগতের বিভিন্ন মকামে আছে। মানব দেহের ৫টি স্থানে এই লতিফাগুলোর সম্পর্ক ও সংশ্রব আছে। এই সম্পর্ক ও সংশ্রবের কারণে দেহস্থিত স্থানগুলোকে ক্বল্ব, রুহ্, সির, খফি, আখ্ফা বলা হয়। মানব দেহে অবস্থিত রুহ্, ক্বলব, সির, খফি, আখ্ফা আলমে আমরে অর্থাৎ, অদৃশ্য জগতে নফ্স ও কলবের মূল একই স্থানে অবস্থিত।
বাতাস ও রুহ একই মূলে অবস্থিত।
পানি ও সির একই মূলে অবস্থিত।
আগুন ও খফি একই মূলে অবস্থিত।
মাটি ও আখ্ফা একই মূলে অবস্থিত। এই পাঁচটি অবস্থান আল্লাহ্র ﷻ হাবিব মুহাম্মদ ﷺ নামের পাঁচটি বর্ণের স্থানে সম্পৃক্ত। নবিজির নূরের বিকাশেই এগুলো আলোকিত ও সমুজ্জল আছে ও থাকবে। নূরের বিকাশ অনুপাতে প্রত্যেকটি লতিফার ভিন্ন ভিন্ন রঙ আছে।
𖣔 কলবের রঙ হরিদ্রা, তাই নফসের রঙও হরিদ্রা। কিন্তু নফ্স যখন বিশুদ্ধ হয়ে যায় তখন ইহার কোন রঙ অনুভূত হয় না।
𖣔 রুহের রঙ লাল। এই কারণে বাতাসের মাঝেও সেই লালিমা বিদ্যমান আছে।
𖣔 সিরের রঙ শ্বেত। এই কারণে পানিও সাদা। যদিও বলা হয় পানির কোন রঙ নেই। যে পাত্রে রাখা হয় ইহা সে পাত্রেরই রঙ ধারণ করে। পানির মাঝে যে সচ্ছতা শুভতা দেখা যায় তা সিরের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই।
𖣔 খফির রঙ কালো। আর এ কারণেই আগুনের চুড়ান্ত রঙও কালো। আগুনকে যতই তীব্রভাবে প্রজ্জলিত করা হয় শেষ ফল হলো ইহার রঙ কালো হয়ে যায়, একমাত্র খফির সাথে সম্পর্ক থাকার কারণেই।
𖣔 আখ্ফার রঙ নীল। আর এই কারনেই মাটিরও রুপ নীল। এই পৃথিবীতে বিভিন্ন রঙের মাটি পাওয়া যায়। তবে নীল রঙের মাটিই আসল মাটি।
𖣔 লতিফায়ে ক্বলব প্রত্যেক নারী পুরুষের বাম স্তনের দুই আঙ্গুল নিচে লতিফাতে কলবের স্থান। ইহা সকল লতিফার মূল।
𖣔 লতিফায়ে রুহ, প্রতিটি মানুষের ডান দুধের দুই আঙ্গুল নিচে লতিফায়ে রুহের স্থান। রুহের কার্যক্রমের উপরই মানব দেহের সক্রিয়তা বিরাজমান। রুহ চলে গেলে মানুষকে মৃত বলে আখ্যায়িত করা হয়।
𖣔 লতিফায়ে সির, ইহার অবস্থান হলো বাম দুধের দুই আঙ্গুল উপরে কিছুটা বুকের কড়ার দিকে। ইহার সাহায্যে আল্লাহ পাকের গোপন ভেদ উদঘাটন করা যায়।
𖣔 লতিফায়ে খফি, ইহার স্থান ডান স্তনের দু'আঙ্গুল উপরে ইষৎ বক্ষের দিকে অবস্থিত। বান্দাহ যখন আনুগত্যের কপাল জমিনে স্থাপন করে সিজদার হালতে গোপনভাবে আল্লাহর সাথে প্রেমালাপ করে জিকির আজকারে মাধ্যমে আল্লাহর গোপন তথ্যের মহাসাগর পাড়ি দিতে থাকে, তখন ঘোষণা করেন, হে আমার বান্দারা আমি এক লুকায়িত মহা ধন আমাকে তোমরা অনুসন্ধান করো।
𖣔 লতিফায়ে আখ্ফা, ইহার স্থান বক্ষস্থলের মাঝখানেস। প্রকৃত পক্ষে শীর্ষ চূড়ার স্থান দখল করে আছে। প্রত্যেক পথের শেষ প্রান্তে পৌছতে পারলে পথের যাবতীয় মহা গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং মহা জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়।
𖣔 লতিফায়ে নফ্স, ইহার কপালের মাঝখানে অবস্থিত। প্রাথমিক অবস্থায় এই নফ্স বান্দাহকে সর্বদাই মন্দ ও গর্হিত কাজের দিকে প্ররোচিত করে। তারপর বান্দাহ যখন আল্লাহর জিকির আজকার মুর্শিদের দেওয়া তালীম ঠিকভাবে আদায় করে তখন ঐ নফ্স রূপান্তরিত হয়ে নফসে লাউয়্যামাহ হয়ে যায়। তখন তার মধ্য হতে মন্দ কাজ প্রকাশিত হলে নফ্সকে ধিক্কার দিয়ে থাকে এবং স্বীয় মন্দ কাজের জন্য অনুশোচনা করে অনুতপ্ত হয়। এভাবে রিয়াজত মোরাকাবা ইবাদত করতে করতে ইহা পুনরায় নফসে মুত্বমাইন্নাতে রূপান্তরিত হয়। ইহা নফসের সর্বোচ্চ মক্বাম। তখন নফ্স তার গোলামে পরিণত হয়। অথচ প্রথমে সে নফসের গোলাম ছিলো। এ জন্যই বলা হয় কোনো ব্যক্তি যতদিন নফসের গোলাম থাকবে ততদিন পশু আর তার মাঝে পার্থক্য থাকে না, আর যখন নফ্সকে গোলামে পরিণত করতে পারবে তখন ফেরেশতাদের চেয়ে মর্যাদা বেড়ে যাবে।
𖣔 লতিফায়ে আব (পানি) লতিফায়ে আতশ (আগুন) লতিফায়ে খাক (মাটি) লতিফায়ে বাদ (বাতাস) এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই মানব দেহের সর্বত্রই এগুলোর অবস্থান।
খোদা ও অলীর কৃপা যদি নাহি হয়,
ফেরেশতা হলেও তার ভাগ্য তমোময়।
হে আল্লাহ্! তুমি যখন ইহজগতে আমাদিগকে তাঁহাদের জামানায় সৃষ্টি করো নাই, সায়্যিদুল মুরসালিন নবিয়ে পাক, সাহিবে লাওলাক, সিয়্যাহে আফলাক্ব ﷺ এর তোফায়েলে পরবর্তিকালে তাঁহাদের দলভুক্ত করিয়া তাহাদের সহিত আমাদের হাশর বা পূণরুন্থান করিও। আমিন।
তরিকায়ে খাস মোজাদ্দেদিয়া
⍣⃝◡̈⃝︎⍣⃝ নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ