নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ

  • Home
  • Bangladesh
  • Rangpur
  • নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ

নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ ━═❈﷽❈═━
তরিকা য়ারা করেন তারা এই পেজ?

লতিফার পরিচয় বা লতিফার কত প্রকার ও কি কি?লতিফার পরিচয়: মানব দেহে ১০টি লতিফা আছে (১) ক্বল্ব (২) রুহ, (৩) সির (৪) খফি (৫) ...
04/12/2023

লতিফার পরিচয় বা লতিফার কত প্রকার ও কি কি?

লতিফার পরিচয়: মানব দেহে ১০টি লতিফা আছে (১) ক্বল্ব (২) রুহ, (৩) সির (৪) খফি (৫) আখ্ফা (৬) নফ্স (৭) আব্ (৮) আতশ (৯) খাক্ (১০) বাদ্।

এগুলোর মধ্যে প্রথম ৫টি আলমে আমর বা সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত এবং শেষোক্ত ৫টি আলমে খলক বা স্থুল ও দৃশ্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত।

➤ আলমে আমর হচ্ছে ঐ জগত যা আল্লাহ পাকের নির্দেশ মাত্রই সৃষ্টিপ্রাপ্ত ফাইয়াকুন হয়েছিলো।

➤ আলমে খলক হচ্ছে ঐ জগত যা আল্লাহ্ পাকের নির্দেশে ক্রমান্বয়ে বিকাশ লাভ করেছে।

আলমে আমর পবিত্র আরশে মোয়াল্লা হতে উপরে অবস্থিত বস্তুহীন অদৃশ্য অনন্ত জগতকে বলা হয়। আলমে খলক আরশের নিচে অবস্থিত দৃশ্য ও স্থল জগতকে বলে। ক্বলব, রুহ্, সির, খফি, আখ্ফা এই পাঁচটি লতিফা জ্যোতিষ্মান ও উজ্জল। এগুলোর মূল অদৃশ্য জগতের বিভিন্ন মকামে আছে। মানব দেহের ৫টি স্থানে এই লতিফাগুলোর সম্পর্ক ও সংশ্রব আছে। এই সম্পর্ক ও সংশ্রবের কারণে দেহস্থিত স্থানগুলোকে ক্বল্ব, রুহ্, সির, খফি, আখ্ফা বলা হয়। মানব দেহে অবস্থিত রুহ্, ক্বলব, সির, খফি, আখ্ফা আলমে আমরে অর্থাৎ, অদৃশ্য জগতে নফ্স ও কলবের মূল একই স্থানে অবস্থিত।
বাতাস ও রুহ একই মূলে অবস্থিত।
পানি ও সির একই মূলে অবস্থিত।
আগুন ও খফি একই মূলে অবস্থিত।
মাটি ও আখ্ফা একই মূলে অবস্থিত। এই পাঁচটি অবস্থান আল্লাহ্‌র ﷻ হাবিব মুহাম্মদ ﷺ নামের পাঁচটি বর্ণের স্থানে সম্পৃক্ত। নবিজির নূরের বিকাশেই এগুলো আলোকিত ও সমুজ্জল আছে ও থাকবে। নূরের বিকাশ অনুপাতে প্রত্যেকটি লতিফার ভিন্ন ভিন্ন রঙ আছে।

𖣔 কলবের রঙ হরিদ্রা, তাই নফসের রঙও হরিদ্রা। কিন্তু নফ্স যখন বিশুদ্ধ হয়ে যায় তখন ইহার কোন রঙ অনুভূত হয় না।

𖣔 রুহের রঙ লাল। এই কারণে বাতাসের মাঝেও সেই লালিমা বিদ্যমান আছে।

𖣔 সিরের রঙ শ্বেত। এই কারণে পানিও সাদা। যদিও বলা হয় পানির কোন রঙ নেই। যে পাত্রে রাখা হয় ইহা সে পাত্রেরই রঙ ধারণ করে। পানির মাঝে যে সচ্ছতা শুভতা দেখা যায় তা সিরের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই।

𖣔 খফির রঙ কালো। আর এ কারণেই আগুনের চুড়ান্ত রঙও কালো। আগুনকে যতই তীব্রভাবে প্রজ্জলিত করা হয় শেষ ফল হলো ইহার রঙ কালো হয়ে যায়, একমাত্র খফির সাথে সম্পর্ক থাকার কারণেই।

𖣔 আখ্ফার রঙ নীল। আর এই কারনেই মাটিরও রুপ নীল। এই পৃথিবীতে বিভিন্ন রঙের মাটি পাওয়া যায়। তবে নীল রঙের মাটিই আসল মাটি।

𖣔 লতিফায়ে ক্বলব প্রত্যেক নারী পুরুষের বাম স্তনের দুই আঙ্গুল নিচে লতিফাতে কলবের স্থান। ইহা সকল লতিফার মূল।

𖣔 লতিফায়ে রুহ, প্রতিটি মানুষের ডান দুধের দুই আঙ্গুল নিচে লতিফায়ে রুহের স্থান। রুহের কার্যক্রমের উপরই মানব দেহের সক্রিয়তা বিরাজমান। রুহ চলে গেলে মানুষকে মৃত বলে আখ্যায়িত করা হয়।

𖣔 লতিফায়ে সির, ইহার অবস্থান হলো বাম দুধের দুই আঙ্গুল উপরে কিছুটা বুকের কড়ার দিকে। ইহার সাহায্যে আল্লাহ পাকের গোপন ভেদ উদঘাটন করা যায়।

𖣔 লতিফায়ে খফি, ইহার স্থান ডান স্তনের দু'আঙ্গুল উপরে ইষৎ বক্ষের দিকে অবস্থিত। বান্দাহ যখন আনুগত্যের কপাল জমিনে স্থাপন করে সিজদার হালতে গোপনভাবে আল্লাহর সাথে প্রেমালাপ করে জিকির আজকারে মাধ্যমে আল্লাহর গোপন তথ্যের মহাসাগর পাড়ি দিতে থাকে, তখন ঘোষণা করেন, হে আমার বান্দারা আমি এক লুকায়িত মহা ধন আমাকে তোমরা অনুসন্ধান করো।

𖣔 লতিফায়ে আখ্ফা, ইহার স্থান বক্ষস্থলের মাঝখানেস। প্রকৃত পক্ষে শীর্ষ চূড়ার স্থান দখল করে আছে। প্রত্যেক পথের শেষ প্রান্তে পৌছতে পারলে পথের যাবতীয় মহা গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং মহা জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়।

𖣔 লতিফায়ে নফ্স, ইহার কপালের মাঝখানে অবস্থিত। প্রাথমিক অবস্থায় এই নফ্স বান্দাহকে সর্বদাই মন্দ ও গর্হিত কাজের দিকে প্ররোচিত করে। তারপর বান্দাহ যখন আল্লাহর জিকির আজকার মুর্শিদের দেওয়া তালীম ঠিকভাবে আদায় করে তখন ঐ নফ্স রূপান্তরিত হয়ে নফসে লাউয়্যামাহ হয়ে যায়। তখন তার মধ্য হতে মন্দ কাজ প্রকাশিত হলে নফ্সকে ধিক্কার দিয়ে থাকে এবং স্বীয় মন্দ কাজের জন্য অনুশোচনা করে অনুতপ্ত হয়। এভাবে রিয়াজত মোরাকাবা ইবাদত করতে করতে ইহা পুনরায় নফসে মুত্বমাইন্নাতে রূপান্তরিত হয়। ইহা নফসের সর্বোচ্চ মক্বাম। তখন নফ্স তার গোলামে পরিণত হয়। অথচ প্রথমে সে নফসের গোলাম ছিলো। এ জন্যই বলা হয় কোনো ব্যক্তি যতদিন নফসের গোলাম থাকবে ততদিন পশু আর তার মাঝে পার্থক্য থাকে না, আর যখন নফ্সকে গোলামে পরিণত করতে পারবে তখন ফেরেশতাদের চেয়ে মর্যাদা বেড়ে যাবে।

𖣔 লতিফায়ে আব (পানি) লতিফায়ে আতশ (আগুন) লতিফায়ে খাক (মাটি) লতিফায়ে বাদ (বাতাস) এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই মানব দেহের সর্বত্রই এগুলোর অবস্থান।

খোদা ও অলীর কৃপা যদি নাহি হয়,
ফেরেশতা হলেও তার ভাগ্য তমোময়।

হে আল্লাহ্! তুমি যখন ইহজগতে আমাদিগকে তাঁহাদের জামানায় সৃষ্টি করো নাই, সায়্যিদুল মুরসালিন নবিয়ে পাক, সাহিবে লাওলাক, সিয়্যাহে আফলাক্ব ﷺ এর তোফায়েলে পরবর্তিকালে তাঁহাদের দলভুক্ত করিয়া তাহাদের সহিত আমাদের হাশর বা পূণরুন্থান করিও। আমিন।
তরিকায়ে খাস মোজাদ্দেদিয়া
⍣⃝◡̈⃝︎⍣⃝ নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ

প্রসঙ্গঃ ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ এবং জন্মবার্ষিক পালনঃ(১) হযরত আব্বাস রাঃ নূর নবি ﷺ-এঁর জন্ম প্রসঙ্গে ৯ম হিজরীতেএকটি কবিতায় বল...
17/09/2023

প্রসঙ্গঃ ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ এবং জন্মবার্ষিক পালনঃ

(১) হযরত আব্বাস রাঃ নূর নবি ﷺ-এঁর জন্ম প্রসঙ্গে ৯ম হিজরীতেএকটি কবিতায় বলেছেনঃ–
-{ وانت لما ولدت اشرقت الأرض - وضاءت بنورك الأفق}
অর্থঃ ”হে প্রিয় রসূল, আপনি যখন ভূমিষ্ঠ হন, তখন পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিলো এবং আপনার নূরের ছটায় চতুর্দিক আলোময় হয়ে গিয়েছিল।”
– (নশরুত ত্বীব, মাওয়াহিব, বিদায়া ও নিহায়া)

(২) বিশিষ্ট সাহাবি হযরত হাসসান বিন সাবিত রাঃ মিলাদুন্নবি নবি ﷺ বর্ণনা প্রসঙ্গে একখানি কবিতাগ্রন্থ লিখেছিলেন এবং হুযুর নবি ﷺ-কে শুনিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যার নাম রাখা হয়েছিল 'দিওয়ানে হাসসান বিন সাবিত'। তিনি লিখেন,

أنك ولدت مبرا من كل عيب -كأنك خلقت كما تشاء -
وضم الاله اسمه الي اسمه -إذا قال في الخمس المؤذن اشهد
وشق له من اسمه ليجله فذو العرش محمود ومذا محمد -

অর্থঃ ”হে প্রিয় রসূল ﷺ, আপনি সর্বপ্রকার দোষ- ত্রুটিমুক্ত হয়েই মাসুম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। মনে হয়, যেনো আপনার ইচ্ছা অনুযায়ীই আপনার বর্তমান সুরত পয়দা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ আযানের মধ্যে আপন নামের সাথে আপনার নাম সংযোজন করেছেন, যখন মুয়াযযিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযানে উচ্চারণ করেন, أشهد أن لا اله الا الله وأنى رسول الله 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলাল্লাহ' ﷺ। আর আল্লাহ আপন নামের অংশ দিয়ে তাঁর প্রিয় হাবিবের নাম রেখেছেন। আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' এবং ইনি হলেন 'মুহাম্মদ [ﷺ]'।”

মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ নামের সৃষ্টি হয়েছে এবং আহাদ থেকে আহমদ নামের সৃষ্টি হয়েছে (আল-হাদিস)। মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ গঠনে একটি 'و' অক্ষর বাদ দিতে হয় এবং আহাদ থেকে আহমদ গঠনে একটি ”م” অক্ষর যোগ করতে হয়। যোগ বিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি সুফী- সাধকগণের নিকট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ মাহমুদ ও মুহাম্মদ এবং আহাদ ও আহমদ অতি ঘনিষ্ঠ। আল্লাহ্‌র ﷻ নামটি চার অক্ষরবিশিষ্ট এবং মুহাম্মদ ও আহমদ নামটিও চার অক্ষরবিশিষ্ট। প্রধান ফেরেশতা, প্রধান আসমানী কিতাব, প্রধান সাহাবি, প্রধান মাযহাব ও প্রধান তরিকার সংখ্যা চার চার এবং সৃষ্টির প্রধান উপাদানও চারটি। যথাঃ আব, আতিশ, খাক, বাদ (আগুন, পানি, মাটি, বায়ু)। কালেমা তাইয়েবার তাওহীদ অংশ বারো অক্ষরবিশিষ্ট এবং রিসালাত অংশও বারো অক্ষরবিশিষ্ট। নবি করিম ﷺ-এঁর নামকরণ এবং কালেমাতে আল্লাহর সাথে মুহাম্মদ নাম সংযোজন, সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। এতে মানুষের কোন হাত নেই। সুতরাং এই পরিকল্পনার তাৎপর্য পূর্ণভাবে উপলব্ধি করাও মানুষের সাধ্যাতীত ব্যাপার।

এখানে উপরোল্লিখিত হযরত আব্বাস ও হযরত হাসসান রাঃ সাহাবীদ্বয়ের কাব্য রচনার ঘটনাটি ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন ও স্মরণিকা প্রকাশের একটি উত্তম দলিল ও প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে সূরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঈদ ও পবিত্র আনন্দানুষ্ঠান পালনের কথা উল্লেখ করেছেন। সূরা বাক্বারাতে মূসা আঃ ও বনী ঈসরাইলগণের নীলনদ পার হওয়া এবং প্রতি বৎসর এ উপলক্ষ্যে আশুরার রোযা ও ঈদ পালন করা এবং সূরা মায়েদায় ঈসা আঃ ও বনী ঈসরাইলের হাওয়ারীগণের জন্য আকাশ থেকে আল্লাহ কর্তৃক যিয়াফত হিসেবে মায়েদা অবতীর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঐ দিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করার কথা কুরআনে উল্লেখ আছে
– (সূরা মায়িদাঃ আয়াত ১১৪)।

বনী ঈসরাইলের উপর আল্লাহর রহমত নাযিলের স্মরণে যদি প্রতি বৎসর ঐ দিনে ঈদ পালন করা যায়, তাহলে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ামত রহমাতুল্লিল ‘আলামিন ﷺ-এঁর আগমন দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বৎসর ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালন করা যাবে না কেনো? হুযুর করিম ﷺ-কে এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ”ইয়া রসূলাল্লাহ ﷺ! প্রতি সোমবার আপনার রোযা রাখার কারণ কি?” হুযুর ﷺ বললেনঃ ”এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই (সোমবার, ২৭ রমযান) আমার উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।”
[সহিহ মুসলিম ২৬১৩-২৬১৬ বাঃ ইঃ ফাঃ, ২৬০৩-২৬০৬ ইংরেজী মুসলিম শরিফ]

উক্ত প্রমাণাদিই ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালনের স্বপক্ষে জোরালো দলিল।

উল্লেখ্য, মু’মিনের ঈদ মাত্র দু’টি নয়, ঈদ মোট ৯টি। যথাঃ- (১) ঈদে রামাদ্বান, (২) ঈদে কুরবানি, (৩) ঈদে আরাফা, (৪) ঈদে জুমআ, (৫) ঈদে শবে বারাআত, (৬) ঈদে শবে ক্বাদর, (৭) ঈদে আশুরা, (৮) ঈদে নুযুলে মায়েদা এবং (৯) ঈদে মিলাদুন্নবি। সবগুলোই কুরআনে, হাদিসে ও বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

ইন্তেকাল দিবস পালন হয় না কেনো❓
আরেকটি বিষয় প্রশ্ন সাপেক্ষ! তা হচ্ছে, নবি করিম ﷺ -এঁর শুধু জন্মতারিখ পালন করা হয় কেনো, ইন্তেকাল তো একই দিনে হয়েছিল? সুতরাং একসাথে জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করাইতো যুক্তিযুক্ত। যেমন অন্যান্য মহামানব ও ওলি- গাউসদের বেলায় মৃত্যু দিবসে ওরস পালন করা হয়ে থাকে।

প্রথমঃ উত্তর- হলো, আল্লাহ পাক কুরআন মাজিদে নির্দেশ করেছেন নিয়ামত পেয়ে খুশী ও আনন্দ করার জন্য। নিয়ামত পাওয়া জন্ম উপলক্ষ্যেই হয়। যেমন কুরআনে আছেঃ-
{ قُلْ بِفَضْلِ اللّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُواْ هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ }

অর্থঃ ”হে নবি! আপনি এ কথা ঘোষনা করে দিন, মুসলমানগণ খোদার ফযল ও রহমত পাওয়ার কারণে যেনো নির্মল খুশি ও আনন্দোৎসব করে। এটা তাদের যাবতীয় সঞ্চিত সম্পদ থেকে উত্তম।”
(সূরা ইউনুসঃ আয়াতঃ ৫৮)

তাফসিরে রুহুল মায়ানি উক্ত আয়াতে 'ফযল' ও 'রহমত' অর্থে হযরত মুহাম্মদ [ﷺ]-এঁর নাম উল্লেখ করেছেন। এটা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ এর ব্যাখ্যা। রসূল ﷺ-এঁর একহাজার চারশত নামের মধ্যে 'ফযল', 'রহমত', বরকত', 'নিয়ামত' ও 'নূর' প্রভৃতি অন্যতম গুণবাচক নাম, যা গ্রন্থের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং নিয়ামত প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে শুকরিয়া আদায়ের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান করাই কুরআনের নির্দেশ। সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে নবিজি'র জন্মোৎসব পালন করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ ও জশনে জুলুস কুরআনের আলোকেই প্রমাণিত।
দেখুন তাফসিরে রুহুল মায়ানই সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।)

মোদ্দাকথা, আল্লাহ্ সুবহানাহু তা'আলা হুযুর ﷺ-এঁর আবির্ভাব উপলক্ষ্যে আনন্দোৎসব করার নির্দেশ করেছেন। কিন্তু ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করতে বলেন নি। তাই আমরা আল্লাহ্‌র ﷻ নির্দেশ মানি।

দ্বিতীয়ঃ উত্তর- নবি করিম ﷺ নিজে সোমবারের রোযা রাখার কারণ হিসেবে তাঁর পবিত্র বেলাদাত ও প্রথম ওহী নাযিলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ বা ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করার কথা উল্লেখ করেন নি। যদি করতেন, তাহলে আমরা তা পালন করতাম। সুতরাং একই দিনে ও একই তারিখে নবি করিম ﷺ-এঁর জন্ম এবং ইন্তেকাল হলেও মৃত্যুদিবস পালন করা যাবে না। এটাই কুরআন-হাদিসের শিক্ষা।

তৃতীয়ঃ উত্তর- নবি করিম ﷺ তো স্বশরীরে হায়াতুন্নবি। হায়াতুন্নবির আবার মৃত্যুদিবস হয় কি? মৃত ব্যক্তির জানাজা হয়, নবিজির কি জানাজা হয়েছিলো? তিনি নিজে জানাজা না করে দরূদ পড়তে আদেশ দিয়ে গেলেন কেন? কেউ কি জীবিত পিতার মৃত্যুদিবস পালন করে? আসলে ওরা কোনটাই পালনের পক্ষে নয়। শুধু ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালনকারীদেরকে ঘায়েল করার লক্ষ্যেই এইসব শয়তানী কূটতর্কের অবতারণা করে থাকে। ওরা শয়তানের প্রতিনিধি। আমরা কুরআন নাযিলের আনন্দোৎসব‌ করি শবে ক্বদরে এবং নবিজি'র আগমনের আনন্দোৎসব পালন করি ১২ই রবিউল আউয়ালে। ওরা কোনটাই পালনের পক্ষপাতী নয়। আমরা সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতের নির্দেশ পালন করি।
নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ

ইসলামের পুনর্জাগরণে মুজাদ্দিদে আলফেসানির (আঃ)                                      ভূমিকা— ফখরুল ইসলাম নোমানীমহান রাব্বু...
04/09/2023

ইসলামের পুনর্জাগরণে মুজাদ্দিদে আলফেসানির (আঃ)
ভূমিকা—

ফখরুল ইসলাম নোমানীমহান রাব্বুল আলামিন দুনিয়ার আকাশকে যেমন অসংখ্য নক্ষত্রের মাধ্যমে সাজিয়েছেন তেমনি আধ্যাত্মিক আকাশকে তার প্রিয় বান্দা তথা গাউস-কুতুব, অলি-আবদাল, আওতাদ, নুক্বাবা-নুজাবা প্রমুখের মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন। তাঁর সেই আধ্যাত্মিক আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন যুগশ্রেষ্ঠ অলিয়ে কামেল ইমামে রাব্বানি মুজাদ্দিদে আলফেসানি হজরত শায়খ আহমদ ফারুকি সিরহিন্দি আঃ।

প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর এক হাদিসে এ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের (কল্যাণে) প্রত্যেক শতাব্দীতে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি তাদের দীনকে সংস্কার করবেন। (আবু দাউদ) তারই ধারাবাহিকতায় হজরত শায়খ আহমদ ফারুকি সিরহিন্দি আঃ এর আগমন ঘটে। তিনি ছিলেন ইমামে রাব্বানি মুজাদ্দিদে আলফেসানি।

মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন ইসলামি পন্ডিত। তিনি ফিকহের হানাফি ধারা ও নকশবন্দি সুফি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাকে মুজাদ্দিদে আলফেসানি বলা হয় যার অর্থ ‘দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক’। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় তার গঠিত ‘দ্বীনে এলাহি’ নামক ফেতনা ও ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধীতার জন্য তিনি অধিক পরিচিত।

মুজাদ্দিদ অর্থ হচ্ছে সংস্কারক। আলফ মানে হাজার আর সানী অর্থ হচ্ছে দ্বিতীয়। অতএব, মুজাদ্দিদে আলফেসানি অর্থ হচ্ছে দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক। শায়খ আহমদ ফারুকি সিরহিন্দি ছিলেন দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ।

মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর জন্মের সময় জালালুদ্দীন আকবর ছিলো ভারতবর্ষের শাসক। আকবরের পিতা হুমায়ূন, আকবরের জন্মের পর থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমনে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছিলো। তাই ভারতবর্ষের এই ভাবী সম্রাটের লেখা-পড়ার সুযোগ হয়নি। অশিক্ষিত এই ব্যক্তি অতিঅল্প বয়সেই পিতার সিংহাসনে বসে। সম্রাট নিজে অশিক্ষিত থাকলেও জ্ঞানের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিলো। তাই সে তার দরবারে জ্ঞানী-গুণীদের সমাবেশ ঘটালো। ওই সময় জ্ঞানী বলতে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাই ছিলো; যাদেরকে সমাজ আলেম হিসেবে জানতো। সাধারণত রাজা-বাদশাদের পাশে দুনিয়াদার আলেমরাই জমা হয়। সম্রাট আকবরের কাছে বিতর্ক ছিলো একটি প্রিয় বিষয়। তাই সম্রাট দরবারী আলেমদের দিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান করতো। অপরিণামদর্শী দুনিয়াদার ওই আলেমরা শরয়ী বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক করতো। একজন একটি বিষয় প্রমাণ করেছে তো আরেকজন ওই বিষয়টিকে প্রতিহত করেছে। এর দ্বারা ধীরে ধীরে আকবরের মনে ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ সংশয় বাসা বাঁধতে থাকে। আলেমদের মধ্য থেকে একশ্রেণীর প্ররোচনায় প্রথমে সে নিজেকে মুজতাহিদ দাবী করে এবং বলে নবি মুহাম্মদ ﷺ এর নবুওয়াতের সীমা ছিলো একহাজার বছর পর্যন্ত। এখন নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এখন থেকে চলবে সম্রাটে আকবরের ‘দ্বীনে এলাহি’। এভাবে সে দ্বীন ইসলামকে রহিত করে ‘দ্বীনে এলাহি’ নামে নতুন ধর্মের প্রবর্তন করে।

ইসলামের সংকটময় মুহূর্তে মুজাদ্দিদে আলফেসানি সম্রাট আকবরের দ্বীনে এলাহি প্রবর্তন নিছক একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থান পরিবর্তন ছিলো না। বরং তা ছিলো ইসলামী বিশ্বের বড় এক অংশের পরিবর্তন। যার শাসক ছিলো সমকালীন প্রতাপশালী একজন ব্যক্তি। যে শাসকের দরবারে ছিলো যুগের সূর্যসন্তানেরা। দ্বীন ইসলামের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজন ছিলো একজন মুজাদ্দিদের; যিনি আকবরের এই ফেতনার মোকাবেলায় দ্বীন ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরে হকের মশাল জ্বালাবেন। তাই আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করলেন শায়খ আহমদ ফারুকি সিরহিন্দি আঃ কে।

জন্ম ও বংশ পরিচয়মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর নাম হচ্ছে- আবুল বারাকাত বদরুদ্দীন শায়খ আহমদ নকশেবন্দি সিরহিন্দি আঃ। তিনি ৯৭১ হিজরিতে (মোতাবেক ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের তৎকালীন পাতিয়ালি রাজ্যের বিখ্যাত শহর সিরহিন্দে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম আবদুল আহাদ। পিতা আবদুল আহাদ শায়খ আবদুল কুদ্দুস গাঙ্গোহির মুরিদ ছিলেন। তার বংশানুক্রম হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।

শিক্ষা জীবন মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি পবিত্র কুরআনুল কারিমের হেফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি শিয়ালকোটের বিখ্যাত আলেম কামাল কাশ্মীরীর কাছে চলে যান। সেখানে তিনি হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরের সঙ্গে সঙ্গে আরবি সাহিত্যও ভালোভাবে অধ্যয়ন করেন। সেখানকার শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি নিজ এলাকায় ফিরে, অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু জ্ঞানার্জনের অদম্য আগ্রহ তাকে পুনরায় রাহতাস ও জৌনপুরে নিয়ে যায়। তিনি আগ্রায় অবস্থান করেন। তথায় তিনি আবুল ফজল ও আবুল ফায়জের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষালাভ করেন। সেখানে থাকাবস্থায় তিনি অতি কাছ থেকে সমসাময়িক চিন্তাধারা,রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড দেখার সুযোগ পান। সেখানে থাকাবস্থায়ই তাঁর পিতা তাঁকে সিরহিন্দে যেতে বলেন।

আধ্যাত্মিক শিক্ষামুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ নিজ পিতার কাছ থেকে চিশতিয়া তরীকায় দীক্ষা গ্রহণ করেন। ওই সময় হয়তো তিনি সোহরাওয়ার্দিয়া ও কাদরিয়া তরিকার দীক্ষাও লাভ করেছিলেন। তার উস্তাদ শায়খ ইয়াকুব কাশ্মীরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মাধ্যমে তিনি আরো একটি তরিকার শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কোনটার দ্বারাই তিনি পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। ১০০৮ হিজরিতে হজযাত্রায় দিল্লি পৌঁছলে তার জনৈক বন্ধু খাজা বাকীবিল্লাহ নকশেবন্দি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কামালাত সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। শাইখের প্রতি অন্তরে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তিনি তার খেদমতে হাজির হন। খাজা সাহেবের সান্নিধ্যে অল্পদিন অবস্থান করার দ্বারা মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর বহুদিনের আধ্যাত্মিক অতৃপ্তির অবসান ঘটে। অপর দিকে খাজা সাহেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ সাহেবের সততা, সরলতা, সুন্নতের অনুসরণ ও শরিয়তের পালন দেখে অভিভূত হন। এরপর মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ নিজ শায়খের নির্দেশে নিজ এলাকা সিরহিন্দে ফিরে আসেন।

স্বভাব-চরিত্র মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ ছিলেন রাসুলে করিম ﷺ এর পূর্ণ অনুসারী। মানুষে মানুষে তিনি কোনো পার্থক্য করতেন না। বাদশাহ-ফকিরকে দেখতেন একই নজরে। এমনকি গরিবকে তিনি প্রাধান্য দিতেন। আমির লোকদের হাদিয়া তিনি গ্রহণ করতেন না। তবে গরিবের হাদিয়া গ্রহণ করতেন সন্তুষ্ট-চিত্তে। জীবনে শাহি-দরবারে কখনো গমন করেননি। তাঁর দরবারে যত হাদিয়া উপস্থিত হতো তিনি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত লোকদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতেন। মানুষের দুঃখ সহ্য করতে পারতেন না। তা দূর করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তিনি বন্ধুবৎসল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও অমায়িক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। অপরের সালামের অপেক্ষা তিনি করতেন না। আগেই সালাম দিতেন, মুসাফাহার জন্য আগেই হাত বাড়িয়ে দিতেন।

‘দ্বীনে এলাহি’র বিরুদ্ধে সংগ্রামআগেই আলোচনা হয়েছে, মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর জন্মের সময় বাদশা আকবর ‘দ্বীনে এলাহি’ নামে এক নতুন মনগড়া ধর্ম প্রবর্তনের চেষ্টা করছিলো। শিক্ষাগ্রহণের সময়ে তিনি খুব কাছে থেকে আকবর ও তার ইসলাম বিরোধী নীতিকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কর্মজীবনে আসার পর তার কাছে আরো স্পষ্ট হয় যে, রাষ্ট্র কীভাবে দ্বীন ইসলামের বিরোধীতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এসব বোঝার পর, তার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঈমানী সুপ্ত আগুন জ্বলে ওঠে। পরিস্কার হয়ে ওঠে জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। অবস্থার পরিবর্তনই এখন তার মূল টার্গেটে পরিণত হয়। ফিকিরের মূল জায়গা দখল করে নেয়, হিন্দুস্তানে মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যতের চিন্তা। ইসলামের এহেন নাযুক পরিস্থিতিতে অন্যদের ন্যায় তিনি দর্শকের ভূমিকা পালন না করে অবতীর্ণ হলেন বিপ্লবের ময়দানে। ঠিক করলেন কর্মপন্থা।ময়দানে তার দাওয়াতি কর্মপন্থা ও আমাদের শিক্ষাদাওয়াত ও ইসলাহের ময়দানে মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ কঠোর কোনো কর্মসূচি দেননি। প্রথমে তিনি নিজের ভেতর থেকে সমস্ত রকমের জাগতিক স্বার্থকে বের করলেন। একমাত্র সংশোধন ও ইসলাহের নিয়তে রাজ্যের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপর তিনি রাজ্যের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের কাছে যাতায়াত শুরু করলেন।সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা শুরুতে তাকে অন্যদের মতোই ধান্দাবাজ মনে করলেও খুব দ্রুতই তার ব্যাপারে তাদের ধারণা পাল্টে যেতে থাকে। তারা দেখতে পেলো, তিনি শুধু রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ নয়; বরং তার ভেতর রয়েছে মনুষ্যত্বের যাবতীয় গুণাবলী। তার উপর বস্তুর কোনো কর্তৃত্ব চলে না; তিনিই বস্তুর উপর কর্তৃত্ব করেন। তখন তারা শায়খের সামনে নিজেদেরকে সোপর্দ করে দিলো। তার এই তৎপরতার সময় সম্রাট আকবর জীবিত ছিলেন। এর কিছু দিন পরেই আকবর মারা যায় আর ক্ষমতায় বসে সম্রাট জাহাঙ্গীর।

মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর কারাজীবনসম্রাট জাহাঙ্গীর মুজাদ্দিদে আলফেসানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে আকবরের তুলনায় বেশি সম্মান করতো। কিন্তু তার পাশের লোকেরা মুজাদ্দিদে আলফেসানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে ভালো চোখে দেখতো না। তাই ওরা সম্রাটকে কানপড়া দিতে শুরু করলো। পরামর্শ দিলো, তাকে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। এ জন্য সম্রাট একবার তাকে দরবারে ডেকে পাঠালো। ওই সময় নিয়ম ছিলো, যারা রাজ দরবারে আসবে সম্রাটকে সম্মানের সেজদা করবে।এ ব্যাপারে ইসলামের রীতি হচ্ছে, আগন্তুক সালাম দিবে, সেজদা নয়। তাই মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ দরবারে প্রবেশের পর সেজদা না করে, সালাম দিলেন। এতে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জেলে বন্দি করে। মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ কে জেলে আটক করা শাপেবর হলো। তিনি সুযোগকে কাজে লাগালেন। জেলখানায় তিনি দাওয়াতি কাজ শুরু করে দিলেন। এতে কয়েকজন অমুসলিম তার হাতে মুসলমান হয়। অসংখ্য অপরাধী তওবা করে গুনাহ থেকে ফিরে আসে। এ সময়ে শায়খ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মুরিদরা মুক্তির জন্য বিভিন্ন আন্দোলন শুরু করেন এবং সম্রাট নিজেও স্বীয় কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ কে জেল থেকে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর রমজান মাসে তিনি সম্রাটের কাছে কাটান। সম্রাট শায়খের পেছনে তারাবির নামায আদায় করেন। ওই সময় তিনি সম্রাটকে বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দেন। এভাবে আবারো রাজ পরিবার দ্বীনের পথে আসতে থাকে। যার সর্বশেষ ফলাফল হচ্ছে, বাদশা আলমগিরের মতো ন্যায়পরায়ন, আল্লাহভীরু শাসক। ইন্তেকাল মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ ছিলেন সুন্নতে নববির একান্ত অনুসারী। তাই তাঁর জীবনঘড়ি যখন ৬৩-তে পৌঁছল, তখন তিনি বললেন, সম্ভবত আমি আর বাঁচব না। কারণ নবিজি ﷺ এর বয়সও ছিলো ৬৩ বছর। তিনি ১০৩৪ হিজরির ২৮ সফর মোতাবেক ১৬২৪ ইং রোজ সোমবার বা মঙ্গলবার ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর কণ্ঠে অনুরণিত হচ্ছিল একটি ফার্সি কবিতার স্তবক, যার ভাবার্থ হলো, আজ ওই প্রিয়তমের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে, যাঁর জন্য আমি পুরো দুনিয়াকে উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত। তিনি আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তার দেওয়া কুরআন সুন্নাহর জীবন নির্দেশকা রয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তার দেখানো পথ অনুসরণ করে দুনিয়া ও পরকালের মুক্তি অর্জন করার তাওফিক দান করুক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার ভালোবাসা লাভে কুরআন-সুন্নাহর বিধানগুলো আদায়ের পাশাপাশি উল্লেখিত আমলগুলো সুন্নত তরিকায় যথাযথ পালন করার ও মুজাদ্দিদে আলফেসানি আঃ এর ইসলামের অসামান্য খেদমতকে কবুল করুন। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে উচুঁ মাকাম দান করুন। আমিন।

— যিনি বাদশাহ আকবরের দ্বীনে এলাহিকে ধ্বংস করে ভারতের জমিনের সঠিক ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মহান সত্তা, মহান সংস্কারক, মুজাদ্দেদিয়া তরিকার প্রবর্তক, আল্লামা শাইখ আহমদ ফারুকী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রাঃ) মাজার শরিফ, সিরহিন্দী ভারত।
আল্লাহ উনার মাজার শরিফ জিয়ারত করার তাওফিক দাও...!!!___ آَمِيّـٍـِـنْ...آَمِيّـٍـِـنْ. يَآرَبْ آلٌعَآلَمِِيِنِ 🤲

ইমাম রব্বানি শাইখ আহমেদ আল ফারুকি সিরহিন্দি (১৫৬৪ –১৬২৪) (شیخ احمد الفاروقی السرہندی ) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন ইসলামি পণ্ডিত। ভারতের সিরহিন্দে তার মাজার অবস্থিত।
নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ হযরত

.     বায়াত গ্রহণ ছাড়া মুসলমান হওয়া যায় না—পবিত্র কুরআন শরিফে আল্লাহ এটি স্পষ্ট ঘোষণা করছেনআসুন জেনে নিই কুরআন ও হাদিসের...
17/01/2023

. বায়াত গ্রহণ ছাড়া মুসলমান হওয়া যায় না—

পবিত্র কুরআন শরিফে আল্লাহ এটি স্পষ্ট ঘোষণা করছেন

আসুন জেনে নিই কুরআন ও হাদিসের আলোকে

হে রাসূল (ﷺ) যারা আপনার হাতে বায়াত গ্রহন করে তারা আল্লাহ্‌র ﷻ হাতেই বায়াত গ্রহন করে। আল্লাহ্‌র ﷻ হাত তাদের হাতের উপর।
🕊📖🕊 (সূরা আল ফাতহ ৪৮ আয়াত নং ১০ )

যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ করলো প্রকারান্তরে সে আল্লাহকেই অনুসরণ করলো।
🕊📖🕊( সূরা আন নিসা আয়াত নং ৮০ )

সাবধান নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ﷻ অলিগননের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
🕊📖🕊(সূরা ইউনুস ১০ আয়াত নং ৬২)

আমি আমার সৃষ্টির ( মানুষ) মধ্যে এমন একদলকে সৃষ্টি করেছি যারা মানুষকে সৎ পথ দেখাবে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।
🕊📖🕊(সূরা আল আ 'রাফ ৭ আয়াত নং ১৮১)

(হে রাসূল) যাকে আমি পথভ্রষ্ট করেছি, তার জন্য কোনো মুর্শিদ খুঁজে পাবে না।

🕊📖🕊(সূরা আল আ'রাফ আয়াত নং ১৮৬)

তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন (হে রাসূল) তার জন্য কোন মুর্শিদ অভিভাবকরুপে পাবেন না।
🕊📖🕊(সূরা আল কাহফ, আয়াত নং ১৭ )

আল্লাহ যাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তারা হলেন - নবিগণ সত্যবাদিগণ শহিদগণ ও সৎকর্ম পরায়ন ব্যক্তিগণ।
🕊📖🕊(সূরা আন নিসা আয়াত নং ৬৯)


নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ﷻ দল বিজয়ী।
🕊📖🕊(সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত নং ৫৬ )

তাঁরাই আল্লাহ্‌র ﷻ দল, জেনে রাখ আল্লাহ্‌র ﷻ দলই বিজয়ী।
🕊📖🕊(সূরা আল মুজাদালাহ, আয়াত নং ২২ )

হে হাবিব (ﷺ) আপনি যে বালি নিক্ষেপ করেছিলেন তা আপনি করেননি। বরং আল্লাহ নিজেই তা নিক্ষেপ করেছিলেন।
🕊📖🕊(সূরা আল আনফাল আয়াত নং ১৭ )

যারা মু'মিন আল্লাহ তাদের অভিভাবক।
🕊📖🕊 (সূরা আল বাকারা আয়াত নং ২৫৭ )

তিনি রাহমান (আল্লাহ), তার সমন্ধে যে অবগত আছে তাকে জিঙ্গেস করো।
🕊📖🕊 (সূরা আল ফুরকান, আয়াত নং ৫৯ )

নিশ্চয় আমি ভূ- পৃষ্ঠা আমার প্রতিনিধি প্রেরণ করবো।
🕊📖🕊(সূরা আল বাকারা আয়াত নং ৩০ )

আমি মানুষকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছি।
🕊📖🕊(সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত নং ৭০ )

আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না।
🕊📖🕊(সূরা বণী ইসরাঈল, আয়াত নং ১৫ )।

তাদের নিকট এমন কোন নবি রাসূল আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা করতো না।
🕊📖🕊(সূরা হিজর, আয়াত নং ১১ )

তারা নবিগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতো।
🕊📖🕊(সূরা বাকারা আয়াত নং ৬১ )

মানুষ কি তা মনে করে যে তারা যদি মুখে মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি তাহলে কি তাদেরকে বিনা পরীক্ষায় খাঁটি প্রেমিক বলে ছেড়ে দেব।
🕊📖🕊(সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ২ )

হে ঈমানদারগণ তোমরা মুসলমান না হয়ে মরিও না

হে মু'মিনগণ আল্লাহকে ভয় করো এবং সাদেকিন অর্থাৎ অলি আল্লাহদের সঙ্গ লাভ কর।
🕊📖🕊(সূরা তাওবা, আয়াত নং ১১৯ )

হযরত রাসূল পাক (ﷺ) বলেন,

যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর সাথে শক্রুতা পোষণ করে, আমি তাকে আমার সাথে যুদ্ধের জন্য আহবান করি।
🕊📖🕊বুখারি শরিফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৯৬৩। এবং মিশকাত শরিফ পৃষ্ঠা নং ১৯৭

সাবধান ! নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ﷻ অলিগণ অমর......
#নূরে_সিরহিন্দ_শরীফ_হযরত_মুজাদ্দিদ_আলফেসানী_রহঃ

অবশ্যই ওলিগণ যেসব খেয়ালের প্রভাব ক্রিয়ায় আল্লাহ প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে থাকেন, তা (খেয়াল কল্পনার মত অস্তিত্বহীন বস্তু না,...
13/01/2023

অবশ্যই ওলিগণ যেসব খেয়ালের প্রভাব ক্রিয়ায় আল্লাহ প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে থাকেন, তা (খেয়াল কল্পনার মত অস্তিত্বহীন বস্তু না, বরং আল্লাহ তাআলার জ্ঞান-ভান্ডারেরই রত্নসম্ভার হয়ে থাকে!”
নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ

.                         মাক্বামে মাহমূদহে মুসলমান! দুনিয়ার জমিনে তোমরা নবিজির শান উপলব্ধি করতে পারছো না কিন্তু কাল কিয়...
03/11/2022

. মাক্বামে মাহমূদ

হে মুসলমান! দুনিয়ার জমিনে তোমরা নবিজির শান উপলব্ধি করতে পারছো না কিন্তু কাল কিয়ামতের ময়দানে উনার শান ঠিকই দেখতে পাবে। যদি উনার শান বার বার শোনার পরেও, না মানতে পেরে মারা যাও তখন কি করে মুখ দেখাবে?

মহান আল্লাহ পাক বলেন,
عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا۞
অর্থাৎ, ❝নিশ্চয়ই আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমূদে অধিষ্ঠিত করবেন❞।
🕊📖🕊(সূরা ইসরা ৭৯)

আয়াত শরিফের তাফসিরে উল্লেখ আছে,
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، ثنا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} [الإسراء: ٧٩ ] قَالَ: ‌يُقْعِدُهُ ‌مَعَهُ ‌عَلَى ‌الْعَرْشِ۞
ইমাম মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ❝নিশ্চয়ই আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমূদে অধিষ্ঠিত করবেন❞ (সূরা ইসরা ৭৯) এর ব্যাখ্যায় বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবিব ﷺ কে কুদরতী আরশে নিজের পাশে বসাবেন।
(জামিউল উলুম লি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ৪/১১৬, আস সুন্নাহ লি আবি আছেম ১/৩০৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ إِنَّ مُحَمَّدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‌عَلَى ‌كُرْسِيِّ ‌الرَّبِّ ‌بَيْنَ ‌يَدَيِ ‌الرَّبِّ۞
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিনে হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ﷺকে মহান আল্লাহ পাকের নিকটে উনার জন্য সংরক্ষিত আসন মুবারকে বসাবেন।
🕊📖🕊(তাফসিরে তাবারী ১৭/৫৩২, ফতহুল বারী ১১/৪২৭)

ইবনে তাইমিয়াও তার ফাতোয়াতে উল্লেখ করেছে,
إذَا تَبَيَّنَ هَذَا فَقَدْ حَدَثَ الْعُلَمَاءُ الْمَرْضِيُّونَ وَأَوْلِيَاؤُهُ الْمَقْبُولُونَ: أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‌يُجْلِسُهُ ‌رَبُّهُ ‌عَلَى ‌الْعَرْشِ ‌مَعَهُ۞
প্রসিদ্ধ উলামায়ে কিরাম এবং মকবুল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের অভিমত এই যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক হাবিব ﷺ কে কুদরতী আরশে উনার পাশে বসাবেন।
🕊📖🕊(মাজমাউল ফাতাওয়া ৪/৩৭৪)

সেই মাকামে মাহমূদের শান কেমন হবে তা সহিহ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে,
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ مَاجَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ لَهُ اشْفَعْ لِذُرِّيَّتِكَ ‏۞ فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَإِنَّهُ خَلِيلُ اللَّهِ ‏۞ فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِمُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَإِنَّهُ كَلِيمُ اللَّهِ ‏۞ فَيُؤْتَى مُوسَى فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِعِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَإِنَّهُ رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ ‏۞ فَيُؤْتَى عِيسَى فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَأُوتَى فَأَقُولُ أَنَا لَهَا۞
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ﷺ আমাদেরকে ইরশাদ করেছেন, কিয়ামাতের দিনে মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থায় এদিকে সেদিকে ছুটাছুটি করতে থাকবে। অবশেষে সবাই হযরত আদাম আলাইহিস সালাম এর নিকট এসে বলবে, আপনার সন্তানদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন, আজকের এই দিনে জন্য আমি নই, বরং তোমরা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাও। কেননা তিনি আল্লাহর বন্ধু। সবাই হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর নিকট আসলে তিনি বলবেন, আজকের এই দিনে জন্য আমি নই, তবে তোমরা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাও। কেননা, তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তখন সকলে উনার নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আজকের এই দিনে জন্য আমি নই, তবে তোমরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাও। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত রূহ্‌ ও উনার কালিমাহ্‌। এরপর তারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আজকের এই দিনে জন্য আমি নই, তবে তোমরা, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ﷺ এর নিকট যাও। এরপর তারা আমার নিকট আসবে। আমি বলব, ‘আমিই এর জন্য যোগ্য’ আমি যাচ্ছি।
🕊📖🕊(মুসলিম শরিফ ১/১৮২: হাদিস শরিফ ৩২৬)

আমাদের সবার চিন্তা ও ফিকির করা দরকার আমরা কোন নবির উম্মত। কত বেমেছাল মর্যাদা উনার। সমস্ত সৃষ্টি জগৎ উনার নেকদৃষ্টির জন্য ঝুঁকে আছে, উনার অনুগ্রগের মুখাপেক্ষি সবাই। উনারই আলোচনা ছলাত সালামে ব্যাস্ত কায়িনাত। উনার শাফায়াতের ভিখারী হয়ে কড়জোরে থাকবে সবাই……..

আমরা আশরাফুল মখলুকাত!!
না চাইতেই আমরা সেই রসূলে উম্মত!!

আমাদের কি করনীয়? আমরা কি উনার ছানা সিফাত প্রশংসায় মশগুল আছি? আমাদের আদেশ করা হয়েছে সলাত ও সালামে জবানকে সিক্ত রাখতে আমার কি সেটা করছি?
আর অপরদিকে যারা শান মান আলোচনা, প্রশংসা সহ্যই করতে পারে না তাদের কি ফলাফল হবে??
মহান আল্লাহ পাক আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুন।
#নূরে_সিরহিন্দ_শরীফ_হযরত_মুজাদ্দিদ_আলফেসানী_রহঃ

সমস্ত নবিগণ ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালন করেছেন । নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।কুরআন মাজিদের সূরা আলে ইমরানের আয়াত ৮১-৮২ আল্ল...
08/10/2022

সমস্ত নবিগণ ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালন করেছেন । নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কুরআন মাজিদের সূরা আলে ইমরানের আয়াত ৮১-৮২ আল্লাহ্‌ বললেন—
ﻭﺍﺫ ﺍﺧﺬ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻴﺜﺎﻕ ﺍﻟﻨﺒﻴﻦ ﻟﻤﺎ ﺍﺗﻴﺘﻜﻢ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﻭﺣﻜﻤﺔ ﺛﻢ ﺟﺎﺋﻜﻢ ﺭﺳﻮﻝ ﻣﺼﺪﻕ ﻟﻤﺎ ﻣﻌﻜﻢ ﻟﺘﺆﻣﻨﻦ ﺑﻪ ﻭﻟﺘﻨﺼﺮﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﺃﻗﺮﺭﺗﻢ ﻭﺍﺧﺬﺗﻢ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻜﻢ ﺍﺻﺮﻯ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺍﻗﺮﺭﻧﺎ ﻗﺎﻝ ﻓﺎﺷﻬﺪﻭﺍ ﻭﺍﻧﺎ ﻣﻌﻜﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺎﻫﺪﻳﻦ. ﻓﻤﻦ ﺗﻮﻟﻰ ﺑﻌﺪ ﺫﻟﻚ ﻓﺎﻭﻟﺌﻚ ﻫﻢ ﺍﻟﻔﺎﺳﻘﻮﻥ .

অর্থাৎ, ❝হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের কথা, যখন আল্লাহ্‌ তায়ালা সমস্ত নবিগণ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এ কথার উপর যে, যখন আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত দিয়ে দুনিয়ায় প্রেরণ করবো; তারপর তোমাদের কাছে আমার মহান রাসূল যাবেন এবং তোমাদের নবুয়ত ও কিতাবের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর উপর ইমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে❞। আল্লাহ্‌ বললেনঃ ❝তোমরা কি এ সব কথার উপর অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ ? তখন তাঁরা সকলেই সমস্বরে বলেছিলেন, – আমরা অঙ্গীকার করছি❞। আল্লাহ্‌ বললেনঃ ❝তাহলে তোমরা পরস্পর সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে মহাসাক্ষী রইলাম❞ (আয়াতঃ ৮১) ❝অতঃপর যে কোন লোক এই অঙ্গীকার থেকে ফিরে যাবে- সেই হবে নাফরমান বা কাফির❞।
🕊📖🕊(আল ইমরানেরঃ আয়াতঃ ৮২)
🕊📖🕊(খাসায়েসুল কুবরা-১খন্ড, পৃষ্ঠা- ১৮)

➥ উপরের আয়াতের দ্বারায় আল্লাহ্‌পাক সমস্ত নবিগণ (আঃ) কে দিয়ে ওয়াদা করিয়েছেন যে তিনি তাঁর মনোনীত রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (ﷺ) -কে দুনিয়াতে পাঠাবেন, সেই সম্পর্কে যেনো তাঁরা তাদের উম্মাতের কাছে রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (ﷺ) -এর গুণগান, আদর্শ ও জন্ম বা মিলাদ সস্পর্কে যেনো আলোচনা করে । আর নবিগণ আল্লাহ্‌র হুকুম মতো তাদের উম্মাদের কাছে ঈদে মিলাদুন্নবি (ﷺ) করেছেন।
নবি (আঃ) ঈদে মিলাদুন্নবি (ﷺ) পালন করেছেন এবার বিস্তারিত জানা যাক।

☛ আদম আলাইহিস সালামের মিলাদ পাঠ ও কেয়াম—

➽ প্রত্যেক নবি নিজ নিজ যুগে আমাদের প্রিয়নবি ও আল্লাহ্‌র ﷻ হাবিবের আবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। হযরত আদম (আঃ) তাঁর প্রিয় পুত্র ও প্রিতিনিধি হযরত শীস (আঃ) কে নূরে মুহাম্মদির তাজিম করার জন্য নিম্নোক্ত অসিয়ত করে গেছেন ।
অর্থঃ ❝আদম (আঃ) আপন পুত্র হযরত শীস (আঃ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ- হে প্রিয় বৎস! আমার পরে তুমি আমার খলিফা। সুতরাং এই খেলাফতে তাকওয়ার তাজ ও দৃঢ় একদিনের দ্বারা মজবুত করে ধরে রেখো। আর যখনই আল্লাহ্‌র ﷻ নাম যিকির করবে, তাঁর সাথেই মুহাম্মদ ﷺ এর নামও উল্লেখ করবে। তাঁর কারণ এইঃ আমিরূহ ও মাটির মধ্যবর্তি থাকা অবস্থায়ই তাঁর পবিত্র নাম আরশের পায়ায় আল্লাহ্‌র ﷻ নামের সাথে লিখিত দেখেছি। এরপর আমি সমস্ত আকাশ ভ্রমণ করেছি। আকশের এমন কোন স্থান ছিলনা যেখানে মুহাম্মদ ﷺ এর নাম অঙ্কিত পাইনি। আমার বর আমাকে বেহেস্তে বসবাস করতে দিলেন। বেহেস্তের এমন কোন প্রাসাদ ও কামরা পাইনি যেখানে মুহাম্মদ ﷺ এর নাম লেখা ছিলনা। আমি মুহাম্মদ ﷺ এর এর নাম আরও লিখিত দেখেছি বেহেস্তের সমস্ত বৃক্ষের পাতায়, বিশেষ করে তুবা বৃক্ষের পাতায় পাতায় ও সিদরাতুল মুন্তাহার বৃক্ষের পাতায় পাতায়, পর্দায় কিনারায় এবং ফেরেস্তাগ্ণের চোখে মনিতে ঐ নাম অঙ্কিত দেখেছি । সুতরাং হে শীস! তুমি এই নাম বেশি বেশি করে জপতে থাক। কেননা, ফেরেস্তাগণ পূর্ব হতেই এই নাম জপনে মশগুল রয়েছেন❞।
🕊📖🕊(জুরকানী শরিফ ও খাসায়েসুল কুবরা-১খন্ড, পৃষ্ঠা- ১৭)
[উল্লেখ যে, সর্বপ্রথম দুনিয়াতে ইহাই ছিলো যিকরে মিলাদুন্নবি (ﷺ)]

➽ হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মিলাদ পাঠ ও কেয়াম ।

হযরত ইবরাহিম (আঃ) এবং হযরত ইসমাইল (আঃ) যখন আল্লাহ্‌র ﷻ ঘর তৈরি করেছিলেন, তখন হযরত ইবরাহিম (আঃ) উক্তা ঘরের নির্মান কাজ করার জন্য এবং নিজের ভবিষ্যৎ সন্তানাদিদের মুসলিম হয়ে থাকার জন্য আল্লাহ্‌র ﷻ দরবারে ফরিয়াদ করার পর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা কেয়াম করে নবি করিম (ﷺ) এর আর্বিভাব আরবে ও হযরত ইসমাইলের বংশে হওয়ার জন্য এভাবে দু'আ করেছিলেন।

➽ মহান রব্বুল আলামিন আল্লাহ্‌ তায়াল বলেন—

❝হে আমাদের রব! তুমি এই আরব ভূমিতে আমার ইসমাইলের বংশের মধ্যে তাঁদের মধ্যে হতেই সেই মহান রাসূলকে প্রেরণ করো – যিনি তোমার আয়াতসমূহ তাদের কাছে পাঠ করে শুনাবেন, তাদেরকে কুরআন সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে তাদেরকে কুরআন পবিত্র করবেন❞।
🕊📖🕊(সূরাঃ- আল বাকারা, আয়াতঃ- ১২৯)

এখানেও দেখা যায়- হযরত ইবরাহিম (আঃ) রাসূলুল্লাহর আবির্ভাবের চার হাজার বৎসর পূর্বেই মুনাজাত আকারে তাঁর আবির্ভাব, তাঁর সারা জিন্দেগীর কর্ম চাঞ্চল্য ও মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির ক্ষমতা বর্ণনা করে হুজুর (ﷺ) -এর মিলাদুন্নবী সারাংশ পাঠ করেছেন এবং এই মুনাজাত বা মিলাদ দাঁড়ানো অবস্থায়ই করেছেন – যা পূর্বেই দুটি আয়াতের মর্মে বুঝা যায়। 🕊📖🕊ইবনে কাছির তাঁর আল-বিদায় ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ড ২৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন উক্ত দু'আর করার সময় ইবরাহিম (আঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন।
নবি করিম (ﷺ) বলেন ❝আমি হযরত ইবরাহিম (আঃ) -এর দু'আর ফসল❞। হযরত ইবরাহিম (আঃ) আল্লাহ্‌র ﷻ নিকট থেকে চেয়ে আমাদের প্রিয় নবি (ﷺ) কে আরবে ইসমাইল (আঃ) -এর বংশ নিয়ে এসেছেন। এটা উপলব্ধির বিষয়। আশেকে ছাড়া এ মর্ম অন্য কেউ বুঝবেনা। বর্তমানে মিলাদ শরিফে রাসূলে পাকের আবির্ভাবের যে বর্ণনা দেয়া হয়- তা হযরত ইবরাহিম (আঃ) -এর দু'আর তুলনায় সামান্যতম অংশ মাত্র । সুতরাং আমাদের মিলাদ শরিফ পাঠ ও কেয়াম হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামেরই সুন্নাহ।
🕊📖🕊[ইবনে কাছির তাঁর আল-বিদায় ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ড ২৬১ ]

➽ হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মিলাদ কেয়াম—

নবি করিম (ﷺ) -এর ৫৭০ বৎসর পূর্বে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আবির্ভাব। তিনি তাঁর উম্মত হাওয়ারী জন্য (নবি ইস্রাইল) কে নিয়ে নবি করিম (ﷺ) -এর মিলাদ শরিফ পাঠ করেছেন। উম্মতের কাছে তিনি আখেরি জামানার পয়গম্বর (ﷺ) এর নাম ও সানা সিফাত এবং তাঁর আগমন বার্তা এভাবে বর্ণনা করেছেন ।

➽ মহান রব্বুল আলামিন আল্লাহ্‌ তায়াল বলেন—

❝হে আমার প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করে দেখুন ঐ সময়ের কথা- যখন মারিয়ম তনয় ঈসা (আঃ) বলেছিলেনঃ হে বনী ইসরাইলঃ আমি তোমাদের কাছে নবি হয়ে প্রেরিত হয়েছি। আমি আমার পূর্ববর্তী তাওরাত কিতাবের সত্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং এমন এক মহান রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি- যিনি আমার পরেই আগমন করবেন এর তাঁর নাম হবে আহমদ (ﷺ) (মুহাম্মদ ﷺ)❞।
🕊📖🕊(সূরাঃ- আস সাফ, আয়াতঃ ৬)

হযরত ঈসা (আঃ) -এর ভাষণ সাধারনতঃ দাঁড়ানো বা কেয়াম অবস্থায় হতো যা ইহুদি খ্রীষ্টানরাও জানে। এটাই ভাষণের সাধারণ রীতিও বটে। ইবনে কাছির তাঁর আল-বিদায় ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ২য় খন্ড ২৬১ পৃষ্ঠায় লিখেছেনঃ ❝ঈসা (আঃ) দাঁড়ানো বা কেয়াম অবস্থায় তাঁর উম্মত হাওয়ারীদেরকে নবিজির আগমনের সুসংবাদ দিয়ে বক্তৃতা করেছিলেন❞। সুতরাং মিলাদ ও কিয়াম হযরত ঈসা (আঃ) -এর সুন্নাত এবং তা নবিযুগের ৫৭০ বৎসর পূর্ব হতেই।
🕊📖🕊 [ইবনে কাছির তাঁর আল-বিদায় ওয়ান নিহায়া]

☛ উক্তা কুরআন শরিফের আয়াত ও হাদিস শরিফ দ্বারা বোঝা গেলো নবিগণ তাদের উম্মাতের কাছে মিলাদুন্নবি ﷺ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এটা ছিলো আল্লাহ্‌ ও নবিগণের সুন্নাত। সুতরাং আমরা যদি ঈদে মিলাদুন্নবি ﷺ পালন না করি তাহলে স্বয়ং আল্লাহ্‌ ও তাঁর নবিগণ কে অস্বীকার করা হবে। সাবধান! সাবধান!

☯ বিঃদ্রঃ- হে আল্লাহ্‌! আমাদেরকে প্রকৃত মুমিন না হওয়া পর্যন্ত্য মউত দেবেন না, এ দু'য়া হুজুরপাক (ﷺ) -এর ওসিলায় কবুল করুন। #ওয়াসসাল্লাম
#নূরে_সিরহিন্দ_শরীফ_হযরত_মুজাদ্দিদ_আলফেসনী_রহঃ

Address

Rangpur
5400

Telephone

+8801713710745

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to নূরে সিরহিন্দ শরীফ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী রাঃ:

Share