27/03/2025
প্রজ্ঞানই ব্রহ্মঃ
এষ ব্রহ্ম,এষ ইন্দ্রঃ,এষঃ প্রজাপতিঃ, এতে সর্বে দেবাঃ,ইমানি চ পঞ্চমহাভূতানি-পৃথিবী বায়ুরাকাশ আপো জ্যোতীংত্যেতানি, ইমানি চ ক্ষুদ্রমিশ্রাণীব বীজানি,ইতরাণি চেতরাণি চ অন্ডজানি চ জারুজানি চ স্বেদজানি চোদ্ভিজ্জানি চ অশ্বা গাবঃ পুরুষা হস্তিনঃ,যৎকিঞ্চেদং প্রাণি জঙ্গমং চ পতরি চ যচ্চ স্থাবরম্ সর্বং তৎ প্রজ্ঞানেত্রং প্রজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিতং,প্রজ্ঞানেত্রো লোকঃ,প্রজ্ঐা প্রতিষ্ঠা,প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম।।
সরলার্থঃ
এই প্রজ্ঞানরূপে আত্মাই ব্রহ্ম।ইনিই ইন্দ্র,ইনিই প্রজাপতি(বিরাট),ইনিই এই সমূদয় দেবতা,ইনিই এই সকল পঞ্চমহাভূত (পৃথিবী,বায়ু,আকাশ,জল ও অগ্নি),ইনিই এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিশ্র (উভচর) প্রাণীর ন্যায় প্রাণী,ইনিই নানাবিধ জীবের উৎপাদক বদজ ইনিই অন্ডজ,জরায়ুজ,স্বেদজ (মশকাদি),উদ্ভিজ,অশ্ব,গরু মানুষ,হস্তী এবং অপর যাহা কিছু গতিশীল,পক্ষযুক্ত স্থাবর প্রাণী সমস্তই ইনি।সমস্তই প্রজ্ঞানেত্র, সমস্তই প্রজ্ঞানে আশ্রিত,প্রজ্ঞানই সমস্ত লোকের নেত্রস্বরূপ অর্থাৎ চালক,নিয়ামক;প্রজ্ঞাই সমস্ত জগতের প্রতিষ্ঠা, অতএব প্রজ্ঞানই ব্রহ্ম।
ব্যাখ্যাঃ
জীবের অন্তর্জগতে ব্রহ্মের যে প্রকাশ তাহারই কথা বলা হইয়াছে।এই শ্রুতিতে বহির্জগতে ব্রহ্মের প্রকাশরূপ সম্বন্ধে বলা হইতেছে।ব্রহ্মা,প্রজাপতি,ইন্দ্রাদি দেবগণ হইতে আরম্ভ করিয়া কীটপতঙ্গ,তৃণ-প্রস্তরাদি স্থাবর,জঙ্গম সমস্তই ব্রহ্মের ভবন বা ভূতি।এক অখন্ড চৈতন্যস্বরূপ অদ্বিতীয় ব্রহ্মই এই সমস্ত হইয়াছেন।
ইহারা সমস্তই প্রজ্ঞানেত্র অর্থাৎ প্রজ্ঞানস্বরূপ বহ্মদ্বারা চালিত ও নিয়ন্তিত অথবা এই সমস্তই তাঁহার সত্তায় সত্তাবান।ব্রহ্মসত্তা হইতে স্বতন্ত্র বা উহার বাহিরে কোনও সত্তা নাই।ব্রহ্মই নেতা,আর সমস্তই তাঁহার অধীন।প্রজ্ঞাই ইহাদের প্রতিষ্ঠা-ব্রহ্মের জ্ঞানেই ইহাদের স্থিতি।ভূ প্রভৃতি লোকও প্রজ্ঞাস্বরূপ ব্রহ্মের জ্ঞানে স্থিত,তাঁহার সত্তায় সত্তাবান।এই কারণেই প্রজ্ঞানই ব্রহ্ম।
-(তৈত্তিরীয় উপনিষদ-০৩/০১/৩২)।।