10/04/2025
🌼একাদশী ব্রত পালনে এত দ্বি-মত কেন? এর শাস্ত্রীয় সমাধান কি?
উত্তর:-👉একাদশী ব্রত সর্বোত্তম ব্রত যা পালন করার মাধ্যমে ভগবানকে সহজে সন্তুষ্ট করা যাবে। (পদ্ম পূরাণ) একাদশী থাকার অর্থ হচ্ছে দেহগত চাহিদাগুলো খর্ব করে ভগবানের মহিমা কীর্তন ভগবানের সেবা করে সময়ের সদ্ব্যবহার। এক কথায় একাদশ ইন্দ্রিয় (পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চ কর্ম ইন্দ্রিয় এবং মন) ভগবানের সেবায় নিযুক্ত করাই হলো একাদশী পালনের সার্থকতা।
👉একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বা তৈরি খাদ্য বর্জন করতে হবে। যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল ও সরিষা একাদশী ব্রত পালন না করলে মাতৃহত্যা, পিতৃহত্যা, ব্রহ্ম হত্যা, বহুবিধ পাপ হবে।
👉একাদশী ব্রত ৮বছর থেকে ৮০ বছর বয়সী সকল নারী-পুরুষের, বিধবা,সধবা সবার পালন করা আবশ্যক। (কাত্যায়ন স্মৃতি শাস্ত্র)
👉চিকিৎসা শাস্ত্রেও বলা হয়েছে মাসে এক বা দুই দিন যদি আমাদের পাকস্থলীকে আমরা কিছুটা বিশ্রাম দিই তবে পুনরায় তা পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে সক্ষম হয়।
🌼একাদশী ব্রত ১দিন আগ পিছ করে রাখার কারণ ও তার সমাধান :-👉সূর্যোদয়ের পূর্বে ২(দুই)মুহূর্ত অর্থাৎ ৯৬ মিনিট আগে যদি একাদশী তিথি থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে ঐ দিনই একাদশীর উপবাস করা বিধেয়। (গরুড় পুরাণ ও শিব রহস্য বচন)
👉বিদ্ধা একাদশী:উদাহরণ -যদি একাদশী শুরু হয় বুধবার ভোর ৫.৪২ মিনিটে এবং ছেড়ে যায় শেষ রাত্রি ৩.৫০ মিনিটে,তবে এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বুধবার সারা দিন একাদশী তিথি ছিল কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় বুধবার সূর্যোদয়ের ২ মূহুর্ত পূর্বে অর্থাৎ ৪.২৯ মিনিটে একাদশী ছিল না। কারণ একাদশী লেগেছিল ৫.৪২ মিনিটে। অতএব তার আগে দশমী তিথি ছিল। তাই এটা দশমী বিদ্ধা একাদশী।
এক্ষেত্রে শাস্ত্রে দশমী একাদশী বাদ দিয়ে দ্বাদশী তিথিতে একাদশীর উপবাস থাকার বিধান দেওয়া হয়েছে।
👉একাদশী তিথির পরের দিন যদি মহাদ্বাদশী থাকে তবে এই ব্রত দ্বাদশীতে করতে হয়।
দশমী যুক্ত একাদশী পালন করা উচিত নয়।(কাত্যায়ন স্মৃতি)
👉বিশেষ নোট :- ১ মূহুর্ত= ৪৮ মিনিট।
১ প্রহর= ৩ ঘন্টা।
উপবাস শব্দের অর্থ হলো ভগবানের নিকটে থাকা।
বছরে ২৬ টি একাদশী ব্রত রয়েছে। তবে সাধারণত ২৪ টি একাদশী ব্রত পালন করতে হয়। ৮ টি মহাদ্বাদশী ব্রত আছে।
🙏🏾বিস্তারিত জানতে হলে বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়ন করুন ।🙏🏾
৷