Md Zakirul Islam Zakir

Md Zakirul Islam Zakir দুই দিনের এই দুনিয়ায়,,
সামান্য একটা মেয়ের জন্য জীবন নষ্ট করার সময় নাই,,😎

স্বামী : কাল রাতে স্বপ্নে এক ডানাকাটা পরী এসেছিল আমার কাছে 😍স্ত্রী : তাই? তারপর?🙂স্বামী : ওহ, কী সুন্দর। একেবারে রূপকথার...
12/08/2023

স্বামী : কাল রাতে স্বপ্নে এক ডানাকাটা পরী এসেছিল আমার কাছে 😍

স্ত্রী : তাই? তারপর?🙂

স্বামী : ওহ, কী সুন্দর। একেবারে রূপকথার মতো😇

স্ত্রী : নিশ্চয়ই সে একা ছিল!🙄

স্বামী : আরে তুমি জানলে কিভাবে?🤨

স্ত্রী : জানি😌

স্বামী : কিভাবে, বলো না!😑

স্ত্রী : ওর স্বামী মানে রাজকুমার এসেছিল আমার স্বপ্নে!😏😪

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন Md Zakirul Islam Zakir

>🎤==> এক মুসুল্লি হুজুরকে প্রশ্ন করলো,             আচ্ছা হুজুর!!দাজ্জালের কপালে          কাফের লেখা থাকা সত্বেও মানুষ   ...
12/08/2023

>🎤==> এক মুসুল্লি হুজুরকে প্রশ্ন করলো,
আচ্ছা হুজুর!!দাজ্জালের কপালে
কাফের লেখা থাকা সত্বেও মানুষ
কিভাবে তার অনুসারী হবে ??🤔

>🎤==> হুজুর বললেন, যেভাবে মানুষ
সিগারেটের প্যাকেটে "ধুমপান মৃত্যু
ঘটায়" লেখা থাকা স্বত্বেও ধুমপান
করে//_____ ঠিক সেই ভাবে!!

09/08/2023

আমি একটি মেয়েকে খুবই ভালোবাসি!'ফেসবুকে পরিচয়!'২ বছর রিলেশন!'দেখা হয়েছে কয়েকবার!' আমাদের বিয়েও হয়ে গেছে!'মেসেঞ্জারে সে কবুল বলেছে,আমিও বলেছি!'প্রমান স্বরূপ আমার কাছে স্ক্রিনশট আছে!'কিন্তু,বিবাহিত হয়া সত্ত্বেও সে আমাকে ঠকাইয়া ১ মাস আগে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে নিছে!'আমাকে আজ জানাইলো আর মেসেজ দিতে মানা করলো!'এখন আমার প্রশ্ন বিবাহিত একটি মেয়ে স্বামী থাকার পরেও কেমনে আরেকজনকে বিয়ে করে?'আমাদের ডি/ভোর্সও হয় নাই!'আমি কি তাইলে মেসেঞ্জারে আমার সাথে বিয়ের সকল প্রমাণসহ থানায় কেস করে তার নতুন বিয়ে ভেঙে দিতে পারবো?'আমার কাছে বিয়ের সকল পোক্ত প্রমান এবং স্ক্রিনশট আছে!' সে ৩ বার কবুল লিখেছিলো,আমিও লিখছিলাম!'

প্লিজ সকলে পরামর্শ দিন প্রমানগুলি সহ আমি কি কি পদক্ষেপ নিতে পারি?'🙂

Collect

#ফান পোস্ট

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন এখনি জয়েন হন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা গল্প গুলো মন ছুঁয়ে যাবে

08/08/2023

----একটা ছবি পাঠিয়েছি।AI দিয়ে নু'ড ভিডিও বানিয়ে ইন্ঠারনেটে ছাড়ার ব্যবস্থা করুন।

---ঠিক আছে স্যার।ভিডিও আপলোড কি আমরাই করবো?

---হ্যাঁ।আমি কোনো রিস্ক নিতে চাই না।

নিজের প্রাক্তনের চূড়ান্ত স/র্ব/না/শ করার পথ খুঁজে পেলো রাজিব।তাই টাকার বিনিময়ে তার ছবি এআই এজেন্টের কাছে পাঠিয়ে সেটা ভাইরাল করার ব্যবস্থা করলো।

এর দুদিন পরের ঘটনা!

রাজিব হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে আছে।কি ভাবছেন প্রাক্তনকে শায়েস্তা করতে গিয়ে রাজিব হাসপাতালে কেনো?
সে কি তবে ধরা পড়েছে!না সেরকম কোনো ব্যপার নয়।আসলে তাড়াহুড়া করে প্রাক্তনের ছবির জায়গায় নিজের ছবি আপলোড দিয়ে ফেলেছিলো সে।আজ সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে রাজীবের উল*ঙ্গ ভিডিও ভাইরাল।সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রাজিব আজ চিকিৎসকের দ্বারস্থ।
🤣🤣🤣🤣
লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ
গল্পের নাম : #এ.আই_কেরামতি
Md Zakirul Islam Zakir

08/08/2023

আমার বন্ধু মামুন আর ওর স্ত্রী ফারিয়ার প্রথম এনিভার্সারি অনুষ্ঠানে এসে খুব অবাক হয়ে গেলাম। এত আলোকসজ্জা আর দামী সুট কোটের ভিড়ে সাধারণ পাঞ্জাবি পরা আমাকে খুব বেমানান লাগছিলো। তাই আমি সবার থেকে একটু দূরে আলাদা ভাবেই বসে ছিলাম। হঠাৎ মামুন এসে বললো,
~কিরে, তুই কখন আসলি? আমরা সবাই ঐখানে আড্ডা দিচ্ছি আর তুই একা এইখানে কি করছিস?

আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- কেক কখন কাটবি? আমার একটু তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে
মামুন তখন বললো,
~বাসায় যেতে হবে মানে! সালা আজ সারারাত পার্টি করবো। তা ভাবীকে কেন নিয়ে আসিস নি?
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
-- এমনিতেই আনি নি

মামুনের জোরাজোরিতে বন্ধু মহলের আড্ডায় আমিও সামিল হলাম। আমার সব বন্ধু বান্ধব ওদের স্ত্রীদের নিয়ে এসেছে। এক বন্ধু আরেক বন্ধুর স্ত্রীদের সৌন্দর্য্যের প্রশংসায় খুব ব্যস্ত। রাকিব মামুনের স্ত্রীকে দেখে বললো,
"ভাবী, আপনাকে খুব হট লাগছে "
তেমনি রাকিবের স্ত্রীকে মামুন বলছে,
"ভাবী, এই শাড়িতে আপনাকে জোশ লাগছে "

বন্ধু রিয়াদ আবার সবার চেয়ে একধাপ এগিয়ে। ও মামুনের স্ত্রী ফারিয়াকে দেখে বললো,
"ভাবী, আপনাকে দেখে তো আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন তো আমার স্ত্রীকে আর ভালো লাগবে না। মনে প্রাণে শুধু আপনাকেই চাইবো।"

এমন কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। আর ফারিয়া লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে বললো,
"ভাইয়া আপনি একটু বেশি বেশিই বলেন। আর ভাইয়া আমার আগের ফেইসবুক আইডিতে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুন আইডি দিয়ে আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি"

আমি চুপচাপ ওদের কথা শুনছিলাম। এমন সময় ফারিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না
মামুন হেসে বললো,
~ও আমার ভার্সিটি লাইফের রুমমেট পিয়াস
ফারিয়া অবাক হয়ে বললো,
- উনিই তোমার সেই লাভার বয় রুমমেট? যে একটার পর শুধু প্রেম করতো?

মামুন মুচকি হেসে ওর স্ত্রীকে বললো,
~এখন সে আর লাভার বয় নেই। বিয়ের পর একদম ফেসে গেছে। বাবা মা জোর করে গ্রামের কোন মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বন্ধু আমার এমন মনমরা হয়ে গেছে

রিয়াদ তখন আমায় বললো,
~ তোকে কতবার বলেছি ডিভোর্স দিয়ে দে। যে মেয়েকে নিয়ে সমাজে চলতে পারিস না। বন্ধুদের কোন পার্টিতে নিয়ে যেতে পারিস না এমন মেয়ের সাথে তো থাকার কোন মানেই হয় না

মামুনের স্ত্রী ফারিয়া তখন বললো,
- রিয়াদ ভাইয়া ঠিকিই বলেছে। এমন আনস্মার্ট মেয়ের সাথে থাকার কোন মানেই হয় না। আপনি বরং ডিভোর্স দিয়ে দেন

জবাবে আমি কিছু না বলে শুধু মামুনের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-- অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে। কেকটা এখন কেটে ফেল। আমার তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে

মামুন কিছুটা রেগে গিয়ে বললো,
~আরে তুই এত যাই যাই করছিস কেন? বাসায় গিয়ে এই অশিক্ষিত আনস্মার্ট বউয়ের থেকে কি এমন পাবি যে যেতে পাগল হয়ে গেছিস

আমি মুচকি হেসে তখন মামুনকে বললাম,
-- বাসায় গিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী একসাথে ভাত খাবো। আমার স্ত্রী আমার জন্য না খেয়ে বসে আছে। বিয়ের পরের দিন সকালে আমার স্ত্রী ফজরের সময় আমায় ডেকে বলেছিলো, আপনি সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ান আমি পিছনের কাতারে আছি। স্ত্রীর মুখ থেকে এমন কথা শুনে আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বলেছিলাম,
আমি নামাজ শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারি না
আমার স্ত্রী আমার হাতটা ধরে মুচকি হেসে বলেছিলো,
সমস্যা নেই আমি আপনাকে শিখিয়ে দিবো

টেবিলের উপর ধূলোপড়া কোরআন শরীফটা মুছতে মুছতে আমার স্ত্রী আমায় বলেছিলো,
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী জিনিসটা এইভাবে অযত্নে রেখেছেন কেন? নিশ্চয়ই এটা চর্চা করেন না
জবাবে আমি মাথা নিচু করে বলেছিলাম,
আমি কোরআন পড়তে পারি না
আমার স্ত্রী মুচকি হেসে আমার হাতটা ধরে বলেছিলো,
সমস্যা নেই আমি শিখিয়ে দিবো
এখন তুই বল, আমার স্ত্রী কি অশিক্ষিত?

মামুন আমার কথা শুনে চুপ করে আছে। আমি তখন রিয়াদকে বললাম,
-- তোকে কে বলেছে আমার স্ত্রী আনস্মার্ট? তুই তো আমার স্ত্রীকে কখনোই দেখিস নি। আমার স্ত্রী হলো দুনিয়ার সবচেয়ে স্মার্ট মেয়ে। আর তার স্মার্টনেস শুধু আমিই দেখি অন্য কোন পরপুরুষ না। মেয়েদের স্মার্টনেস মানে এই না যে হাইহিল জুতা, পাতলা শাড়ি, চুলে রঙ আর মুখে অকৃত্রিম কিছু জিনিস মেখে অনুষ্ঠানে যাওয়া। নিজের শালীনতা বজায় রেখেও স্মার্ট হওয়া যায়

মামুনের স্ত্রী ফারিয়াকে বললাম,
--আপনার চোখে স্মার্টনেস মানে হলো নিজেকে কামিনীরুমে পরপুরুষের সামনে উপস্থাপন করা আর আমার স্ত্রীর চোখে স্মার্টনেস হলো পরপুরুষের কামনার চোখ থেকে নিজেকে রক্ষা করা

যাবার আগে মামুনের কাঁধে হাত রেখে বললাম,
--তুই হয়তো ভাবছিস আমি আনস্মার্ট মেয়েকে বিয়ে করেছি দেখে এমন মনমরা হয়ে গেছি। কিন্তু তোর এটা ভুল ধারণা । আমি এমন হয়েছি আমার অতীত জীবনের কর্মকান্ডের জন্য। আমি সত্যি আজ খুব অনুতপ্ত আমার আগের কর্ম কান্ডের জন্য ৷ এত পাপের মাঝেও নিশ্চয়ই কোন ভালো কাজ করেছিলাম যার জন্য আল্লাহ আমায় এমন একজন স্ত্রী দিয়েছেন। যদি পারিস নিজের স্ত্রীকে আর অন্যের স্ত্রীকে সম্মান দিতে শিখ। তোর স্ত্রীকে দেখলে অন্য একটা পুরুষের মাথা ঠিক থাকে না। এখন বুঝতে পারছিস তুই তোর স্ত্রীকে কামিনী রূপে মানুষের সামনে প্রদর্শন করছিস

---
-----

কলিংবেল বাজাতেই আমার স্ত্রী শ্রাবণী দরজা খুললো। আমায় দেখে মুচকি হেসে বললো,
- আসতে এত দেরি হলো যে?
আমি ওরজন্য আনা কেকটা ওর মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে বললাম,
-- অর্ধেকটা আমি খেয়েছি আর বাকি অর্ধেকটা তোমার জন্য নিয়ে এসেছি

স্ত্রী
আবুল_বাশার_পিয়াস

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন Md Zakirul Islam Zakir

07/08/2023

পিয়াস প্রতিবার অফিস থেকে ফেরার সময় তার বুক পকেটে করে শ্রাবণীর জন্য একটা বেলি ফুলের মালা কিনে নিয়ে যায়। আর শ্রাবণী প্রতিবার সেই বেলি ফুলের মালাটা পিয়াসের মুখে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলে,
~তোমার এইসব ঢং আমার একদম সহ্য হয় না।
পিয়াস মুচকি হেসে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য আর শ্রাবণী বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে,
~আজ কারেন্ট বিল দেওয়া শেষ দিন ছিলো,
ঘরে বাজার নেই ৩ দিন ধরে, বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য অনেক চাপ দিচ্ছে।

শ্রাবণীর বলা কথাগুলো ওয়াশরুম থেকে পিয়াস ঠিকিই শুনতে পায় কিন্তু তারপরও না শুনার অভিনয় করে পিয়াস ওয়াশরুমের আয়নায় তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়...

আজ পিয়াস যখন অফিস থেকে বাসায় ফিরে তখন শ্রাবণীর জন্য বুক পকেটে বেলি ফুলের মালা নেয় নি। শ্রাবণী যখন দরজা খুললো তখন পিয়াস শ্রাবণীর হাতে বুক পকেট থেকে বের করে একটা স্বর্ণের চেইন শ্রাবণীর হাতে দিয়ে বললো,
-- এই বার তো তুমি এটা আমার মুখে ছুড়ে মারতে পারবে না..

মাঝ রাতে যখন পিয়াসের ঘুম ভাঙে তখন তাকিয়ে দেখে পাশে শ্রাবণী নেই।বেলকনিতে এসে দেখে শ্রাবণী বসে কাঁদছে। পিয়াস শ্রাবণীর মাথায় হাত রাখতেই শ্রাবণী পিয়াসকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
~ তুমি আজ কেন আমার জন্য বেলি ফুলের মালা আনো নি? আমি এইসব সোনার চেইন চাই না। আমার বেলিফুলের মালা চাই। তুমি এখনি আমাকে বেলি ফুলের মালা এনে দাও...

পিয়াস মাঝ রাতে হাটছে বেলিফুলের মালার খুঁজে। আর মনে মনে ভাবছে, শ্রাবণী মেয়েটা খুব অদ্ভুত। কখনো নিজের ভালোবাসাটা প্রকাশ করে না। শ্রাবণী ঠিকিই ওর মুখে বেলি ফুলের মালা ছুড়ে মারে কিন্তু ও একটু আড়ালে চলে গেলেই শ্রাবণী সেই মালাটা তুলে নেয় আর মিটমিট করে হাসে...
----
-------

ভার্সিটিতে পড়া ছেলেটার নাম মামুন। প্রেমে পড়ে যায় তার ছাত্রী মুন্নির। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়া মুন্নীর কাছে সব কিছু স্বপ্নের মত মনে হচ্ছিলো। দুজনে প্রতিরাতে ভালোবাসার একটার পর একটা ইট বসিয়ে ভালোবাসার ঘর বানাচ্ছিলো। এখন শুধু ভালোবাসার ঘরের ছাদটা বাকি, মানে বিয়ে...

একসময় মামুন আর মুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর মুন্নির কাছে মনে হতে লাগলো তার ভালোবাসার ঘরের একটা একটা ইট খুলে যাচ্ছে। বাস্তবতার ভূমিকম্পের কাছে তার ভালোবাসার ঘরটা খুব হালকা। একদিন মামুন অফিস থেকে এসে শুনতে পায় পাশের বাসার ভাবী মুন্নিকে বলছে,
~"ভাবী দেখেন রোজ রোজ আপনাদের মাছ মাংস আমার ফ্রিজে রাখতে পারবো না। পারলে নিজেরা একটা কিনে নেন"...

মুন্নি যখন অবেলায় শুয়ে আছে তখন মামুন মুন্নিকে বললো,
-- রাত ৯ টা বাজে। শো-রুম কি এখন খোলা পাবো?
মুন্নি চমকে গিয়ে মামুনের দিকে তাকিয়ে বললো,
- কিসের শো-রুম?
মামুন মুচকি হেসে বললো,
-- তোমার জন্য একটা ফ্রিজ কিনতাম...

মুন্নি শোরুমের একদিক থেকে অন্যদিকে ঘুরে ঘুরে ফ্রিজ দেখছে। তার চোখে মুখে দুনিয়ার সব আনন্দ। আর মামুন বারবার মানিব্যাগটা দেখছে আর মনে মনে ভাবছে, মাস শেষে হবার আগেই আবার ঋণ করতে হবে...
---
--------

ডাক্তার তানিয়াকে দেখে ওর স্বামী হাসানকে বললো,
- আপনার স্ত্রীর পেঠের বাচ্চা উল্টে গেছে। এই মুহূর্তে সিজার না করলে মা বাচ্চা দুজনকে বাচ্চানো কষ্টকর হবে..

হাসান ভয়ে ভয়ে ডাক্তার কে বললো,
-- সিজার করতে কত খরচ হবে?
ডাক্তার বললো,
- সবকিছু মিলিয়ে ৩০ হাজারের মত খরচ হবে
হাসান ডাক্তারের কথা শুনে বললো,
-- আপনি অপারেশন শুরু করেন আমি টাকার ব্যবস্থা করছি।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে হাসন তার মানিব্যাগটা খুলে দেখে মানিব্যাগে ৭২০ টাকার মত আছে। অথচ তার দরকার ৩০ হাজার টাকা....

হাসানের কোলে সদ্য জন্ম নেওয়া তার মেয়ে। আর পাশে শুয়ে আছে তার স্ত্রী তানিয়া। তানিয়া হাসানের হাতটা ধরে বললো,
- তুমি আমার জন্য তোমার মায়ের শেষ স্মৃতি গহনাগুলো বিক্রি করে দিয়েছো তাই না?

হাসান মুচকি হেসে তানিয়ার কপালে চুমু দিয়ে বললো,
-- কে বলেছে গহনা গুলো আমার মার শেষ স্মৃতি? এই তো আমার মা আমার কোলে শুয়ে আছে...
|
|
এই ঘটনা গুলো হলো মধ্যবিত্ত পরিবারের। মধ্যবিত্ত পারিবারের পুরুষের স্ত্রীগুলো খুব বদমেজাজি খিটখিটে হয়। কিন্তু এই বদমেজাজি স্ত্রীগুলোই সংসারটাকে মাসের ২০ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত কিভাবে টেনে নিয়ে যায় সেটা কেউ জানে না...

মধ্যবিত্ত পরিবারের পুরুষ গুলো হয়তো স্ত্রীকে দামী শাড়ি দামী গহনা উপহার দিতে পারে না। কিন্তু কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপমান করে সেটা সহ্য করতে পারে না...

পকেটে ১০০ টাকাও নেই অথচ স্ত্রী আর সন্তানের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করার পরিবারটার নাম হলো মধ্যবিত্ত...

দিন শেষে বেঁচে থাকুক প্রতিটা মধ্যবিত্ত পরিবার। বেঁচে থাকুক ওদের লুকানো ভালোবাসা গুলো..

মধ্যবিত্ত_পরিবার
আবুল_বাশার_পিয়াস

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়ে-📗 Md Zakirul Islam Zakir

06/08/2023

গল্পঃঃপরকীয়ার_শাস্তি 💔
অন্তিম/শেষ পর্ব

(শা/রী/রি/ক সম্পর্ক করার পর)

-আমি এই স*মাজেই বা মু*খ দেখাবো কি করে,
দরজা ধাক্কানো আর মিতুকে রাগী সুরে ডাকার আওয়াজ বেড়ে যেতে লাগল।
- মিতু মাথায় হাত দিয়ে এটার সমাধান খুজে বেরাচ্ছি, কি করলে সব ঠিকঠাক করা যাবে।
একটুপর সমাধান খুজে পেয়ে মাথার উপড়ে ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে অট্ট হাসিতে মেতে উঠল। আর বলতে লাগলো, হ্যা এই ফ্যানই আমার সবকিছুর সমাধান।
-একটা ও*ড়না ফ্যা*নের সাথে বে**ধে দি*য়ে ওড়*নার ফা*সটা গ*লার সা*থে সেট করে ফেলল মি*তু।
মিতুর গ*ঙ্গানোর আওয়াজ পেয়ে মিতুর বাবা জোরে জোরে দরজা ধাক্কিয়ে ভে*ঙ্গে ফেলল।
দরজা ভে*ঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখে মিতু গলায় ওড়না পেচিয়ে আ**ত্ন*হ*ত্যা করেছে।
- রাকিবের কাছে মি*তুর মৃ**ত্যুর খবর পৌছালো এবং রাকিব খবর পেয়ে একটুও কষ্ট পেলনা,
কারন রাকিবতো এখন আরেকটা নতুন মিতুকে খুজাতেই ব্যস্ত,
-প্রায় বছর খানিক পর রাকিব কে বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছে।
রাকিবের বন্ধুরাও মেয়ে দেখার কাজে ব্যাস্ত।
- মোনালিসা নামের একটি মেয়েকে সবার খুব পছন্দ হল, মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর রাকিবেরও পছন্দ হয়েছে খুব।
বিয়ের কথা পাকা করা হল, ছেলে এবং মেয়ের মতামতেই বিয়েটা দেওয়া হয়েছে।
-বাসর ঢুকেই রাকিব একটু হতভম্ব হয়ে গেল, কারন মেয়েটি কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিলো।
রাকিব তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে তার একটা বান্ধবীর সাথে কথা বলতেছিল।
কিছুদিনের মধ্যেই রাকিব মেয়েটিকে খুব ভালোবাসে ফেলে, মেয়েটি রাকিবকে খুব ভালোবাসে।
এভাবে ভালোই দিনকাল চলতে থাকে রাকিবের...
দুই বছর পর...
রাকিবের বউ মোনালিসা প্রেগ*নে*ন্ট, রাকিব বাবা হতে চলেছে।
মোনালিসাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিছুক্ষন পর রাকিবের কোলে একটি ফুটফুটে কন্যা শন্তান দেখা যায়, হ্যা মোনালিসার কন্যা শন্তান জন্ম হয়েছে।
- রাকিব তার মেয়ের নাম রেখেছে টুশি, টুশি এখন ৩য় শ্রেনীতে পড়ে।
রাকিবের বউ মোনালিসা প্রতিদিন টুশিকে স্কুলে দিয়ে আসে এবং নিয়ে আসে।
প্রতিদিনের মতো আজকেও মোনালিসা টুশিকে স্কুলে ঠিকি দিতে গেছে কিন্তু আর ফিরেনি আসেনি।
-পরে জানতে পারা যায় মোনালিসার একটি ছেলের সাথে প*রকিয়া ছিল, মো*নালিসা তার সাথেই পালিয়ে গেছে।
এদিকে রাকিবও প্রায় ভুলেগেছে মোনালিসাকে। টুশির কথা ভেবে রাকিব আর বিয়ে করেনি।
- টুশি এখন ক্লাস ১০ এ পড়ে, কিছুদিনপর টুশির S.S.C পরিক্ষা।
তাই রাকিব একমাসের জন্য অফিস ছুটি নিয়েছে,
টুশিকে রাত জেগে পড়ানো, টুশির খাওয়ার ব্যাবস্হা সব রাকিব করছে, টুশিকে কোন কাজই করতে দেয়না।
টুশিও মন দিয়ে পড়ালেখা করছে।
-আজ টুশির প্রথম পরিক্ষা, তাই রাকিব টুশিকে স্কুলে দিতে গেছে,
টুশি দেখতে অনেক সুন্দর, টুশির দিকে কয়েকটা ছেলে কেমন ভাবে তাকাচ্ছিলো,
এভাবে তাকাতে দেখে রাকিবের কেমন খারাপ লাগলো, তাই রাকিব স্কুলের বাইরে দাড়িয়ে আছে টুশির পরিক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।
টুশি ছাড়া তো রাকিবের আর কেউ নেই, তাই টুশিকে খুব ভালোবাসে রাকিব।
-রাকিবের সাদা-কালো চুল আর চোখে একটা পুরোনো চশমা।
রাকিব ছেলেদের দিকে তাকাচ্ছে আর ভাবছে সেও একসময় এই ছেলেদের মতোই খুব মডেলিং ছিলো।
কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব মডেলিং আর ভালো লাগেনা।
রাকিবের বড়লোক বন্ধুরাও আর রাকিবের খবর নেয়না।
খুব জানতে ইচ্ছে করছে আমার বড়লোক বন্ধুরা কেমন আছে তাদের দেখতেও ইচ্ছে করছে খুব।
পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,

- কিরে রাকিব কেমন আছিস?
-- আরে বন্ধু রনি তুই, তুই এতোদিন কোথায় ছিলি?
- আমিতো দেশের বাইরে থাকি, আর তুই এখানে কি করছিস, তোর এই অবস্থা কেনো? কলেজের সবথেকে স্মার্ট ছেলেটার এই অবস্থা হবে ভাবতে পারিনি।
-- আমার মেয়ে টুশি পরিক্ষা দিচ্ছে তাই আরকি বসে আছি।
- ও আচ্ছা ঠিক আছে, থাক আমাকে বাসায় যেতে হবে, আর ভালো থাকিস।
-- আচ্ছা যা।
রনি গাড়িতে উঠে চলে গেল। আমি সেখানে বসে ভাবছি,
কলেজে সাইকেল না নিয়ে আসতে পাড়া, প্রতিদিন পুরাতন একটা ময়লা শার্ট পড়ে আসা ছেলেটা আজ গাড়িতে করে যাচ্ছে, চোখের কোনে পানি জমে এলো।
টুশির পরিক্ষা শেষ টুশিকে নিয়ে বাসায় এলাম।
এভাবে প্রতিদিন টুশিকে নিয়ে যাওয়া আসা করি, টুশির S.S.C পরিক্ষা শেষ হয়ে গেলো,
তাই টুশিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য একটা ভালো ছেলে খুজছি,
কিছুদিন পর...
- অফিসে বসে বসে মোবাইল চালচ্ছিলাম, কেউ একজন ভিডিও মেসেজ দেওয়ায়, মেসেজটা অপেন দেখেই যেন হাত পা কাপতে শুরু করলো।
নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিনা, আমার মেয়ে টুশির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
-চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে লাগলো, টুশি কোন ছেলের সাথে লুকিয়ে সে** ভিডিও বের করবে ভাবতে পারিনি।
তারাতারি করে বাসায় এসে টুশির রুমে ঢুকে দেখি টুশি বি**ষ খেয়ে আ*ত্ন*হ*ত্যা করেছে।
বিছানার পাশে একটা চিরকুট পেয়ে পড়তে শুরু করলাম,
"আমাকে ক্ষমা করে দিও বাবা, আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসতাম, আর ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আমাকে এতোটা নিচে নামতে হয়েছে। আমি ভাবিনি ছেলেটা আমার ভিডিও ফা*স করে দিবে, আমাকে ক্ষমা করে দিও বাবা"
টুশিকে মাটি দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে ফাকা রাস্তা দিয়ে হাটছি, কিছুক্ষণ পর একটা পুকুরপাড়ে এসে বসলাম।
- আজ মিতুকে খুব মনে পড়ছে,
আমি চোখ থেকে দাগ পড়া চশমাটা খুলে রাখলাম, একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছি।
কিছুক্ষণপর ভেজা ভেজা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, আজ চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে,
-ফিরে এসেছে, হ্যা ফিরে এসেছে তবে মিতু নয়, মিতুর সাথে করা আমার অন্যায় আমার পাঁ*প।

# # প্রকৃতির নিয়ম বড়ই অদ্ভুদ, আপনি আজ অন্যকে ঠকাবেন। তো কাল হোক কি পরশু হোক বা কোনো একদিন ঠিক প্রকৃতি অপনাকে সেটা উপহাড় সরুপ ফিরিয়ে দিবে।।
(গল্পটা কেমন হয়েছে সবাই জানাবেন,)
লেখা আল আমিন

সমাপ্ত

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন 📕- Md Zakirul Islam Zakir -📗

আপনি দুপুরে গোসলের পর যখন ভেজা কাপড় গুলো ছাদে শুকাতে  দিতে যান তখন প্রায় সময় দেখা যায় রশিতে আপনারি পরিবারের ছোট বোন কিংব...
06/08/2023

আপনি দুপুরে গোসলের পর যখন ভেজা কাপড় গুলো ছাদে শুকাতে দিতে যান তখন প্রায় সময় দেখা যায় রশিতে আপনারি পরিবারের ছোট বোন কিংবা বড় বোন নয়তো আপনার মায়ের ব্যবহৃত ব্রা ঝুলছে

তখন আপনি কি করেন?

চোখটা হয়তো সাথে সাথে অন্য দিকে সরিয়ে নেন নয়তো পাশে থাকা ওড়না দিয়ে চোখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে সেটা ঢেকে দেন। ভুলেও চোখটা আর এইদিকে ফিরান না

সেইম একই জিনিসটা যখন পাশের বাসার ছাদে কিংবা বেলকনিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তখন হা করে তাকিয়ে থাকেন আর পাশে থাকা বন্ধুকেও খুব আগ্রহসহকারে দেখান

আমার কলেজ জীবনের একটা কাহিনী বলি

আমরা যে মেসে থেকে পড়াশোনা করতাম সেই মেসের পাশের বিল্ডিংয়ে মারিয়া আর মৌরি নামের দুইজন যমজ বোন থাকতো। দুইজনেই ভার্সিটিতে পড়াশোনা করতো। আমাদের মেস আর উনাদের বাসা এতটাই কাছাকাছি ছিলো যে খুব সহজেই আমাদের মেসের ছাদ থেকে উনাদের বাসার ছাদে যাওয়া যেতো।
আমরা যেহেতু সবাই ইন্টারে পড়াশোনা করতাম সেই হিসাবে উনারা আমাদের থেকে বড় ছিলো। প্রায় সময় উনারা দুইবোন আমাদের দিয়ে দোকান থেকে এটা ওটা আনাতেন। বিকালবেলা আমরা ছাদে গেলে আর আপুরাও ছাদে আসলে নানা বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতো। দুইজন আপুই খুব মিষ্টি করে আমাদের সাথে হেসে কথা বলতেন

একদিন খেয়াল করি কয়েকজন বন্ধু রুমের ভিতর জড়োসড়ো হয়ে কি যেন করছে। আমি যখন প্রশ্ন করি,
-- কিরে, কি করছিস তোরা? আর তোদের হাতে কি?
রায়হান তখন হেসে বললো,
- ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছি
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- মানে!
তখন রায়হান তার হাতে রাখা ব্রাটা দেখিয়ে বললো,
- এটা মৌরি আপুর
আর সজীব তার হাতেরটা দেখিয়ে বললো,
-- এটা মারিয়া আপুর

মৌরি আর মারিয়া আপু গোসলের পর এইগুলো যখন শুকাতে দিয়ে যায় তখন নাকি ওরা নিয়ে আসে। আমি ওদের অনেক বুঝিয়েছিলাম যে, এই কাজগুলো করা উচিত না। অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বাদে সুস্থ মানুষ এইকাজ গুলো করতে পারে না। এমনকি ওদের ভয়ও দেখিয়েছিলাম এইসব করলে আপুদের বলে দিবো। কিন্তু রায়হান আর সজীব আমায় উল্টো ভয় দেখিয়ে বললো, আমি এইসব বললে ওরা সবাই বলবে আমিও ওদের সাথে ছিলাম।
তারপরও আমি বারবার যখন ওদের বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম তখন রায়হান রেগে গিয়ে বলেছিলো,
- তোর এত জ্বলে কেন? ওরা তো আর তোর বোন না

প্রথম প্রথম আপুরা বুঝতে না পারলেও পরে যখন দেখলো প্রায় সময় উনাদের ব্যবহৃত জিনিস নাই হয়ে যাচ্ছে তখন তারা ঠিকিই বুঝতে পেরেছিলেন। তারপর থেকে আপুরা কখনো আমাদের সাথে কথা বলে নি। এমন কি কাউকে কখনোই দোকান থেকে কিছু আনতে বলে নি।

একদিন রিকশা দিয়ে কলেজ থেকে মেসে ফেরার পথে খেয়াল করি মৌরি আপু রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আমি আপুকে বললাম,
-- আপু, বাসায় যাবেন? চলেন একসাথে যাই
আপু শুকনো হাসি হেসে বললো,
- না, যাও তুমি
আমি তখন বললাম,
-- আপু আসেন তো। ভাই বোন যাবো সমস্যা কি?
আপু তখন হেসে বলেছিলো,
- ভাই বোন গেলে তো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যাটা হলো তোমরা তো আমাকে বোনের চোখে দেখো না

এই কথা বলে আপু অন্য একটা খালি রিকসা ডেকে চলে গেলো আর আমার ভিতর তখন বন্ধুদের সাবধান করতে পারি নি বলে অপরাধ বোধ কাজ করছিলো। এর ঠিক পরের দিন আমি এই মেস ছেড়ে অন্য মেসে চলে যায়। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, শুধু একা নিজে ভালো থাকলে হবে না। আমি যাদের সাথে বসবাস করবো তাদেরও ভালো হতে হবে। মানুষের ভিতর খারাপ অভ্যাস গুলো ছোঁয়াছে রোগের মত হয়। যা খুব সহজেই অন্য একটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যায়

মেস থেকে বের হবার সময় রায়হানকে একটা কথায় বলেছিলাম,
--তোর একটা বড় বোন আছে। তাই এই বিকৃত অভ্যাসটা পাল্টে ফেল। তা নাহলে এমন অবস্থা হবে যে কয়েকদিন পর নিজের বোনও তোর থেকে রেহাই পাবে না...

---
-------

আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষা চলছে। খাতা দেওয়ার ঠিক বিশ মিনিট পরেই একটা মেয়ে স্যারকে বললো,
"স্যার, একটু ওয়াসরুমে যাবো"

মেয়েটার কথা শুনে স্যার রেগে গিয়ে বললো,
-২০ মিনিট যেতে না যেতেই ওয়াসরুম পেয়ে গেছে? তা আগে থেকেই ওয়াসরুমের ভিতর বই রেখে এসেছো নাকি?

মেয়েটি মাথা নিচু করে বললো,
" স্যার প্লিজ, আমার এই মুহুর্তে যেতে হবে"

স্যার তখন মেয়েটিকে জোরে ধমক দিয়ে বললো,
- ১ ঘন্টার আগে কোন ওয়াসরুমে যাওয়া যাবে না। চুপচাপ পরীক্ষা দাও

স্যারের ধমক শুনে মেয়েটি চুপচাপ বসে ছিলো। আমি খেয়াল করছিলাম মেয়েটি খাতায় কিছু লিখছে না। বসে থেকে মেয়েটি যখন নিরবে চোখের জল ফেলছিলো। তখন স্যার চিৎকার করে বললো,
- সারাবছর লেখাপড়া না করে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরাঘুরি করবে আর পরীক্ষার হলে এসে কান্নাকাটি করবে

১ঘন্টা পার হবার পর স্যার যখন মেয়েটিকে বললো ওয়াসরুমে যেতে তখন মেয়েটি স্যারের কাছে জমাকৃত ভ্যানিটি ব্যাগটা সাথে নিয়ে ওয়াসরুমে যেতে চাইলো। স্যার তখন বললো,
-ব্যাগের ভিতর বই রেখেছো নাকি যে এটা নিয়ে ওয়াসরুমে যেতে হবে?
মেয়েটা মাথা নিচু করে বললো,
"স্যার আমার শারীরিক সমস্যা হচ্ছে"

স্যার তখন বললো,
- কি এমন সমস্যা শুনি যে সাথে ব্যাগ নিয়ে যেতে হবে?

আমি আর তখন সহ্য করতে পারছিলাম না। সোজা দাঁড়িয়ে বললাম,
-- স্যার, আপনি কি সত্যিই বুঝতে পারছেন না মেয়েটার কি সমস্যা হচ্ছে? নাকি তার মুখ থেকে শুনার জন্য এমন করছেন?

আমার কথা শুনে আমার পিছন থেকে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে বললো,
" স্যার বুঝবে কি করে, স্যার তো কোন মেয়ের ঘরে জন্ম নেয় নি। স্যার আকাশ থেকে টপ করে পরেছে "

সাথে সাথে কয়েকটা মেয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
"ব্যাগটা খুলে স্যারকে একটু দেখিয়ে যে তো ব্যাগের ভিতর বই না আছে প্যাড। আর একটা প্যাড স্যারকেও দিবি স্যার যেন সেটা পরে বসে থাকে"

মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসের সবাই স্যারকে অপমান করতে লাগলো। আর স্যার কি বলবে না বলবে এটা ভেবে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছিলো। আমি তখন ভাবছিলাম সমাজে যেমন অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ আছে তেমনি কিছু সুস্থ মানুষও আছে। শুরুটা সাহস করে আমি করেছিলাম আর শেষটা বাকিরা সবাই করছে

সব শিক্ষকরাই বাবার মত হয় না। কিছু কিছু শিক্ষক পরিমলের মতও হয়। যারা ছাত্রীদের ভোগের বস্তু বানিয়ে ফেলে।
আমাদের দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ মেয়েরা অপদস্ত হয় স্কুল কলেজ ভার্সিটির শিক্ষক দ্বারা।

কোন ছাত্রীই শিক্ষকের সামনে অশ্লীল পোশাক পরিধান করে যায় না। তবুও খবরের কাগজ খুললে দেখা যায় শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী ধর্ষিত...

---
-----

আমি গ্রামের বাড়ি গেলে প্রায় সময় আমার সমবয়সী এক ফুপাতো ভাই মামুনের দোকানে বসে আড্ডা দেই। আমি যখন আড্ডা দিতাম তখন প্রায় সময় খেয়াল করতাম দোকানে একটা হিন্দু মহিলা আসতো। মহিলাটা দোকানে এসে সুন্দর করে মামুনকে দাদা দাদা বলে ডাকতো।

একদিন মহিলাটা দোকানে এসে এক প্যাকেট বিস্কিট নিয়ে চলে গেলে মামুন আমায় বললো,
- দেখলি বৌদির কি সুন্দর ফিগার? দেখলে মাথা ঠিক থাকে না। এটা যদি দোকান না হয়ে বাসা হতো তাহলে কবেই বৌদিকে সাইজ করে ফেলতাম

আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
-- মানে! তুই কি ধর্ষণ করতি নাকি?

মামুন তখন বললো,
-সুযোগ পেলে অবশ্যই করতাম। বৌদির কাপড় পরার স্টাইল দেখেছিস? দেখলেই তো মাথা নষ্ট হয়ে যায়। মেয়েরা এইভাবে কাপড় পরেই দেখেই তো সমাজে এত ধ/র্ষ/ণ হয়

আমি মুচকি হেসে মামুনকে বললাম,
-- ধ/র্ষ/ণ করতে বাকি কোথায় রেখেছিস? ধর্ষণ তো কবেই করে ফেলেছিস। শুধু মেয়ের অমতে জোরে করে শারীরিক সম্পর্ক করাকেই ধর্ষণ বলে না। একটা মেয়ে নানা ভাবে ধর্ষিত হয়। কারো কথাতে ধর্ষিত হয় আবার কারো নোংরা চাহনিতেও ধর্ষিত হয়।

আমাদের ইসলাম ধর্মে মেয়েদের পর্দা করা ফরজ। তাই আমাদের ধর্মের মেয়েদের পর্দা করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে মুসলিম বাদেও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মেয়েরা আছে। এখন সেই ধর্মের মেয়ে গুলো পর্দা করবে না দেখে তোর ধর্ষণ করতে মন চাইবে এটা কেমন কথা?

আমাদের ধর্মে কোথাও লেখা নেই বেপর্দা মেয়েদের দেখলে তাকে ধর্ষন করো। রবং আমাদের ধর্মে লেখা আছে, কোন বেপর্দা নারীকে দেখলে তুমি তোমার দৃষ্টি সংযত রাখো..

মামুন আমার কথা শুনে চুপচাপ রইলো। আমি তখন ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম,
-- মহিলা তোর দোকানে এসে তোকে সর্বপ্রথম দাদা বলে ডাক দেয় আর তুই তাকে নিয়ে কত নোংরা চিন্তা করিস।
হতে পারে মহিলাটার ব্লাউজের পিছন দিকটা একটু বেশি খোলা। কিংবা শাড়ি পড়ার সময় পেটের কিছুটা অংশ বের হয়ে যায় কিন্তু তাতে কি হয়েছে? তুই তোর দৃষ্টিটা সংযত রাখ। এটা ঐ মহিলা আর ওদের ধর্মের বিষয়। তুই শুধু শুধু পাপ জমাতে যাস কেন?

আমার কথা কথা শুনে মামুন কিছুটা রেগে গিয়ে বললো,
- তোর লেকচার মারা শেষ হলে এখন তুই আসতে পারিস। মেয়েরা যদি দেখাতে পারে আর আমরা দেখলেই দোষ

আমি আর কিছু না বলে হাসতে হাসতে ওর দোকান থেকে বের হয়ে আসলাম আর ভাবতে লাগলাম, দুনিয়াতে কিছু মানুষ আছে যারা কখনোই ঠিক হবে না তেমনি এই দুনিয়া থেকে ধ/র্ষ/ণ মেয়েদের অপদস্ত করা অসম্মান করা এইগুলো কখনোই নির্মূল হবে না...

বদলাবে_না_এই_পৃথিবী
আবুল_বাশার_পিয়াস
পুরোনো গল্প

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন Md Zakirul Islam Zakir

06/08/2023

ছুটির দিন বেলকনিতে বসে পত্রিকা পড়ছি আর সিগারেট খাচ্ছি। সিগারেট শেষ হলে ওয়াশরুমে গেলাম। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি আমার ৪বছরের বাচ্চা ছেলে সাদমান ফেলে দেওয়া সিগারেটের অংশটা ঠিক আমার মত দুইহাতের আঙুলের মাঝে রেখে টানছে। দৃশ্যটা দেখে আমি পাথরের মত দাঁড়িয়ে রইলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী শ্রাবণী পিছন থেকে বললো,
-ভালোই হলো , আজ থেকে বাবা ছেলে একসাথে বসে সিগারেট টানবে। অফিস থেকে ফেরার সময় তোমার জন্য এক প্যাকেট সিগারেট আনবে আর তোমার ছেলের জন্য এক প্যাকেট

এইকথা বলে শ্রাবণী রাগে সাদমানকে গালে একটা থাপ্পড় মেরে আমার সামনে থেকে নিয়ে গেলো। আমি বেলকনিতে কতক্ষণ বসে চিন্তা করলাম। তারপর বাসা থেকে বের হয়ে পাশের চায়ের দোকান থেকে ১প্যাকেট সিগারেট কিনলাম...

সারাদিন বাহিরে থেকে সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি তখন শ্রাবণী বললো,
- সারাদিন কোথায় ছিলে? ফোনটাও বাসায় ফেলে গিয়েছিলে
আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- আজ ১৩ বছরের সম্পর্ক শেষ করে দিয়ে আসলাম
শ্রাবণী অবাক হয়ে বললো,
- মানে!
আমি বললাম,
-- ক্লাস টেন থেকে আমার সাথে সিগারেটের সম্পর্ক। বাবা কত শাসন করলো, মা কত কসম দিলো, তুমি কত বকাঝকা করলে তবুও সিগারেট ছাড়তে পারি নি। কিন্তু আজ যখন দেখলাম আমার বাচ্চা ছেলেটা আমায় দেখে সিগারেট খাওয়া শিখছে তখন আর সহ্য করতে পারলাম না। তাই আজ থেকে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিলাম...
|
|

কয়েকদিন পর শ্রাবণীর এক বান্ধবীর বাসায় আমরা দাওয়াতে গেলাম। খাওয়া দাওয়ার পর আমরা সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডা দিচ্ছি আর আমার ছেলে সারা বাসা ছুটাছুটি করছে। বিকাল দিকে যখন বাসায় ফিরবো তখন শ্রাবণীর বান্ধবী শ্রাবণীকে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে বললো,
~তোকে একটা কথা বলি কিছু মনে করিস না। তোর ছেলের পকেটে মনে হয় কিছু টাকা আছে। আমি যখন আমাদের বেডরুমে যায় তখন দেখি রিয়াদের( শ্রাবণীর বান্ধবীর স্বামী) শার্টের পকেটে তোর ছেলে যেন কি করছে। আমি বিষয়টা তখন খেয়াল করি নি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রিয়াদ বললো তার পকেট থেকে ৩ হাজার টাকা নাই। আসলে তোর ছেলে তো ছোট মানুষ ও তো টাকা কি বুঝে না। হয়তো খেলার চলেই পকেটে রেখেছে।

শ্রাবণী যখন আমাদের বাচ্চার পকেটে হাত দিলো তখন দেখলো সত্যি সত্যি সেখানে টাকা। শ্রাবণী টাকা গুলো বের করে ওর বান্ধবীর হাতে দিলে ওর বান্ধবী বললো,
~এক হাজার টাকা রেখে দে।আমি খুশি হয়ে তোর ছেলেকে দিলাম।
শ্রাবণী রাগে তখন বললো,
-দরকার নেই, আমরা এতটা অভাবে পরি নি

রিকসা দিয়ে বাসায় যখন ফিরছি তখন খেয়াল করি শ্রাবণী কেঁদে চোখের পানি নাকের পানি এক করে ফেলছে। কেন জানি আমার শ্রাবণী কান্না দেখে খুব হাসি পাচ্ছে। আমি হাসিটা অনেক কষ্টে চেপে শ্রাবণীকে বললাম,
--তুমি কাঁদছো কেন?

শ্রাবণী কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-কাঁদবো না তো কি করবো? একটা চোর জন্ম দিয়েছি

আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- যার মা একটা বড় ধরনের চোর সে তো চোর হবেই

শ্রাবণী চোখের জল মুছে বললো,
-মানে!
আমি তখন বললাম,
-- বাচ্চারা খুব অনুকরণ প্রিয় হয়। বড়রা যা করে ওরা তা দেখে সহজে শিখে ফেলে। তুমি সবসময় আমার পকেট থেকে টাকা সরাও আর সেটা আমার ছেলের সামনে। সে এটা দেখেই শিখেছে। দেখো আমাদের দেশে ৮৫% স্ত্রীরা স্বামীর পকেট থেকে চুপিচুপি টাকা সরায়। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত এই চুরিটা যেন বাচ্চারা না দেখে। বাচ্চাদের কৌতূহলী মন। ওরা একটা কিছু দেখলে আর ভুলে না

আমার কথা শুনে শ্রাবণী মুখ গোমড়া করে চুপ করে রইলো। আমি তখন ওর কানের কাছে আস্তে আস্তে বললাম,
-- আমাদের ছেলের কিন্তু বুদ্ধি আছে। দেখলে কি সুন্দর করে ছোট পকেটে ৩ হাজার টাকা রাখলো। তুমি যদি ঠিক মত ট্রেনিং দাও তাহলে ও ইন্টারন্যাশনাল চোর হতে পারবে। আর কপালে লেখা থাকলে ধুম20 মুভিটার করতে পারে

আমার কথা শুনে শ্রাবণী আবার কান্না শুরু করলো আর আমি এইবার জোরে জোরে হাসতে লাগলাম...

|
|

চাকরিতে প্রোমোশন পেয়েছি। সে উপলক্ষে বাসায় ছোটখাটো একটা পার্টি দিলাম। পার্টিতে অফিসের কিছু কলিগ আর কয়েটা বন্ধুকে দাওয়াত দিলাম। সবাই তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এসেছে। সেই অনুষ্ঠানে আমার ছোট বেলার বন্ধু মামুন ওর স্ত্রী আর ৪ বছরের বাচ্চা মেয়েটাও এসেছে। আমরা বড়রা একদিকে আড্ডা দিচ্ছি আর ছোট বাচ্চারা একসাথে খেলছে।

এমন সময় একটা বাচ্চা চিৎকার করে বললো,
" আমি বেন-টেন। আমার অনেক শক্তি"
এটা শুনে আমার ছেলে মামুনের মেয়ের হাত ধরে বললো,
" আমরা মটু-পাতলু"

এটা শুনে মামুনের মেয়েটা বললো,
"না আমরা মটু পাতলু না। আমি হলাম রাস্তার মেয়ে আর তুমি হলে জানোয়ারের বাচ্চা"

ছোট বাচ্চার মুখে এমন নোংরা কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেলাম।

আমার ছেলে তখন বললো,
"এটা কোন কার্টুন "

মামুনের মেয়েটা বললো,
"এটা কোন কার্টুন না। আব্বু আম্মুকে রাস্তার মেয়ে বলে আর আম্মু আব্বুকে জানোয়ারের বাচ্চা বলে। আম্মু আমায় বলেছে মটু-পাতলুর থেকে জানোয়ের বাচ্চা আর রাস্তার মেয়ে খুব বেশি শক্তিশালী "

রাত ১০ টা বাজে। সবাই চলে গেছে। কিন্তু মামুন আর ওর স্ত্রী রিমি কিছু না খেয়ে এখনো চুপচাপ বসে আছে। আমি মামুনের কাছে গিয়ে বললাম,
-- দেখ, স্বামী স্ত্রী ঝগড়া হবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া করা একদম উচিত না। ঝগড়া করলে রুমে দরজা লাগিয়ে ঝগড়া করবি যেন বাচ্চারা না শুনে। ছোট বেলায় বাচ্চাদের ব্রেইন খুব সতেজ থাকে। ওরা তখন একবার কিছু শুনলে সহজে সেটা ভুলে না। এইখানে তোর মেয়ের কোন দোষ নেই। কারণ সে তোদের মুখ থেকেই এইগুলো শুনেছে। আর নিজের স্ত্রীকে রাস্তার মেয়ে বলিস কোন কারণে? তুই কি রাস্তার মেয়েকে বিয়ে করেছিস?

মামুন আমার কথা শুনে চুপ করে রইলো। আমি ওর স্ত্রীকে বললাম,
-- ভাবী, আপনার মেয়ে যখন আপনার কাছে জানতে চেয়েছিলো রাস্তার মেয়ে জানোয়ারের বাচ্চা এইগুলোর মানে কি। তখন তাকে আপনি ভুল শিখিয়েছেন। বাচ্চারা যত ছোটই থাকুক না কেন ওদের কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ সেটা শিখাতে হয়। আর নিজের স্বামীকে জানোয়ারের বাচ্চা বলা সত্যি খুব খারাপ। ৭০% শিক্ষা একটা সন্তান তার বাবা মার থেকে পায়। আর আমাদের সন্তানদের জন্য হলেও আমাদের অভিভাবকদের উচিত নিজেদের শুধরে নেওয়া...

---
-----

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ শ্রাবণী আমার কাঁধে হাত রেখে বললো,
- সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে তাই না?
আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- ইচ্ছে করছে ঠিকি কিন্তু আমার সন্তানের সু-শিক্ষার জন্য হলেও আমি আর সিগারেট খাবো না

সন্তানের_সুশিক্ষা
আবুল_বাশার_পিয়াস

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন 📕- Md Zakirul Islam Zakir -📗

06/08/2023

আমি ডিপ্লোমা শেষ করে কেবল BSC তে ভর্তি হয়েছি। আর আমার গার্লফ্রেন্ড শ্রাবণী তখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একদিন শ্রাবণীর ডিপার্টমেন্টের এক স্যার শ্রাবণীকে ডেকে বললো উনার ছেলেকে যেন শ্রাবণী পড়ায়। আর শ্রাবণীও এতকিছু না ভেবে রাজি হয়ে গিয়েছিলো যেহেতু শ্রাবণীর হোস্টেলের পাশেই স্যারের বাসা ছিলো

ছেলেটার নাম তুষার আর ও ক্লাস সেভেনে পড়ে। প্রথমদিন ছেলেটাকে পড়িয়ে শ্রাবণী আমায় ফোন দিয়ে বললো,
-"জানো পিয়াস, আমায় যদি কোন টাকা না দেয় তবুও আমি এই ছেলেকে টিউশানি করাবো"

আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- কেন?

শ্রাবণী হাসতে হাসতে বললো,
- " প্রথমত ছেলেটা দেখতে অনেক কিউট আর নাতুস নুতুস( মোটা টাইপের) আর দ্বিতীয়ত ও দেখতে অনেকটা আবিদের( শ্রাবণীর ছোট ভাই) মত"

শ্রাবণী প্রতিবার যখন তুষারকে পড়াতে যেতো তখন ওর জন্য হয় চকলেট নয়তো চিপস কিছু না কিছু একটা কিনে নিয়ে যেত। আমি প্রায় সময় শ্রাবণীকে মজা করে বলতাম,
-- প্রতিদিন একসব চকলেট কিনে নিয়ে গেলে দেখা যাবে তোমার টিউশানির অর্ধেক টাকা চলে গেছে

শ্রাবণী তখন হেসে বলতো,
-"অর্ধেক টাকা গেলেও সমস্যা নেই। নিজের ভাইয়ের মতই তো কাউকে দিচ্ছি"

তুষার পড়ায় ফাঁকি দিলে শ্রাবণী ওকে যেমন কানমলা দিতো তেমনি পড়া পারলে শ্রাবণী ওর গাল টেনে আদরও করতো

একদিন বিকালের দিকে শ্রাবণী আমায় ফোন দিলো। আর ফোন দিয়ে এত পরিমাণে কান্না করছিলো ওর মুখ দিয়ে তখন কান্নাবাদে কিছু বের হচ্ছিলো না। আমি বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম কি হয়েছে আমায় বলো কিন্তু ও শুধু বলে ওর কিছু হয় নি ও এমনিতেই কাঁদছে

পরদিন সকালে আমি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যায়। শ্রাবণীর সাথে দেখা করে ওর হাতটা ধরে বলি কি হয়েছে আমায় সবটা খুলে বলো। প্রথম প্রথম শ্রাবণী কিছু বলতে চাচ্ছিলো না কিন্তু আমি যখন খুব জোর করছিলাম তখন ও ওর ব্যাগ থেকে একটা কাগজ আমার হাতে দিলো। আমি যখন কাগজটা হাতে নিয়ে পড়ছিলাম শ্রাবণী তখন মাথা নিচু করে নিরবে চোখের জল ফেলছিলো

লেখাটা শ্রাবণীর স্টুডেন্ট তুষার শ্রাবণীকে নিয়ে লিখেছে। এই লেখাতে ওর স্টুডেন্ট শ্রাবণীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গার বর্ণনা দিয়েছে। শ্রাবণীকে দেখলে শ্রাবণী ওর মাথায় হাত রাখলে ওর কেমন লাগে সেটা লেখা। আর একটা মেয়ের উলঙ্গ ছবি আঁকা। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো ছবিটার নিচে লেখা শ্রাবণী ম্যাডাম

লেখাটা পড়ে আমি যখন ওর হাতটা ধরলাম ওর বাচ্চাদের মত কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-" যে ছেলেকে নিজের ছোট ভাইয়ের চোখে দেখেছি সেই ছেলে আমায় নিয়ে এতটা নোংরা ধারণা করে।গতকাল ভুল করে আমার খাতাটা রেখে ওর খাতাটা নিয়ে এসে পড়েছিলাম। তাই তো এইসব জানতে পেরেছি"

এমন সময় শ্রাবণীর ফোনটা বেজে উঠলো। শ্রাবণী তখন চোখের জলটা মুছতে মুছতে আমায় বললো,
-"স্যার( তুষারের বাবা) ফোন দিয়েছে। কি বলি বলো তো? আমি তো স্যারকে কাল বলেছি উনার ছেলেকে আর পড়াতে পারবো না। কাল থেকে বারবার স্যার আমায় ফোন দিয়ে জানতে চাইছে আমি কেন পড়াতে পারবো না"

আমি তখন শ্রাবণীকে সাথে নিয়ে ওর স্যারের বাসায় গেলাম। ওর স্যার ওর সাথে আমাকে দেখে খুব অবাক হয়েছিলো তারপর আমি যখন বললাম আমি শ্রাবণীর বাগদাতা তখন তিনি আমাকে ভিতরে আসতে বললেন। আমি ভিতরে গিয়ে শ্রাবণীকে বললাম, তুমি একটু অন্য রুমে যাও আমি স্যারের সাথে কথা বলছি

শ্রাবণী অন্য রুমে চলে গেলো আর ওর স্যার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- " কি হয়েছে বলো তো? হুট করেই শ্রাবণী বলছে ও আমার ছেলেকে আর পড়াবে না "

আমি তখন একটু হেসে স্যারকে বললাম,
-- আপনাদের বাসায় দেখলাম ওয়াইফাই আছে কিন্তু কম্পিউটার কোথাও দেখছি না

স্যার তখন বললো,
-" আজকাল স্মার্ট ফোন থাকলে কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়ে না। তারপরও কম্পিউটার কিনবো তুষার এসএসসি পাশ করলে। এখন কম্পিউটার কিনে দিলে সারাক্ষণ ও গেইম খেলবে"

আমি বললাম,
-- তুষারও কি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে?

স্যার হেসে বললো,
-" দিলাম কিনে। কি আর করবো, ছেলেকেও তো প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে"

আমি তখন মুচকি হেসে স্যারকে বললাম,
-- আপনার কি চটি বইয়ের কথা মনে আছে?

স্যার কিছুটা বিব্রত হয়ে বললো,
-"মানে!"
আমি তখন বললাম,
-- আমাদের সময় চটি বই ছিলো। ক্লাসের কিছু ছেলে সেই বই গুলো সংগ্রহ করতো আর দলবেঁধে পড়তো। সেইসব বইয়ে এমন কিছু গল্প থাকতো যা দেখে মাথা ঘুরতো। ভাই-বোনকে নিয়ে নোংরা কাহিনি, চাচা- ভাতিজিকে নিয়ে, শালী- দুলাভাই, ম্যাডাম- ছাত্র এমন কি আরো কিছু নিচু পর্যায়ের কাহিনী লিখা থাকতো যা আমার মুখ দিয়ে বের হবে না। আপনার আমাদের সময়ে সেই বই গুলো সংগ্রহ করা অনেক দুষ্কর ছিলো। তাই যেকেউ সংগ্রহ করতে পারতো না। কিন্তু বর্তমান স্মার্ট ফোনের যুগে এইগল্প গুলো খুঁজে বের করা কোন বিষয় না। ৫ সেকেন্ডের ভিতরেই সেইসব গল্পগুলো খুজে বের করা যায়। শুধু গল্প না p**n ওয়েবসাইটে ঢুকে অনেক কিছু দেখা যায়

স্যার অবাক হয়ে বললো,
-"এইসব কথা তুমি আমায় বলছো কেন?"

আমি বললাম,
-- আমি বলছি তার কারণ হলো আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ হয়েও অল্প বয়সে ছেলের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দিয়েছেন। অল্প বয়সী ছেলে থাকার পরেও বাসায় লাগিয়েছেন ওয়াইফাই আর যে কারণে আপনার ছেলে যেকোন সময় চাইলেই বিভিন্ন ১৮+ ওয়েবসাইটে সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারে। আমি মানছি সন্তান যেন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেজন্য অবিভাবকের সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে তারমানে এই না যে ক্লাস সেভেনে পড়ে বাচ্চার হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দিবেন। আপনার উচিত ছিলো ফোন না দিয়ে ছেলের হাতে কম্পিউটার তুলে দেওয়া। গেইমস খেলবে বলে ছেলেকে কম্পিউটার কিনে দেন না অথচ আজকাল ছেলে মেয়েরা কম্পিউটারের চেয়ে ফোনেই গেইমস খেলে বেশি। কম্পিউটারে গেইমস খেলে তবুও উপকারিতা আছে কি-বোর্ডে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় কিন্তু মোবাইলে গেইমস খেলে কোন উপকারিতা নেই

আমার কথাতে স্যার কিছুটা রেগে গিয়ে বললো,
-" এইসব জ্ঞান মূলক কথা আমায় বলছো কেন?"

আমি বললাম,
-- বলছি তার কারণ হলো আপনি একজন অসচেতন বাবা। আর আপনার ভুলের কারণেই আপনার ছেলে প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে..

আমি আমার পেকেটে রাখা কাগজটা স্যারের হাতে দিলাম। উনি কাগজটা ভালো করে দেখলে আমি উনার থেকে কাগজটা নিয়ে উনাকে বললাম,
-- এটা আপনার ছেলে ওর ম্যাডামের সম্পর্কে লিখেছে। আপনার ছেলে যদি ১৮+ সাইডে ঘুরাঘুরি না করতো তাহলে সে ম্যাডামকে বোনের চোখেই দেখতো। তাকে নিয়ে এইসব ভাবনা আসতো না। এর জন্য আপনার সন্তানের দোষ নেই আপনি দায়ী। এক কাজ করবেন আপনার ছেলেকে পড়ানোর জন্য কোন ছেলে স্টুডেন্ট রাখবেন কারণ আপনার ছেলে দৈহিক ভাবে ছোট থাকলেও প্রযুক্তির অপব্যবহারে মানসিক ভাবে বড় হয়ে গেছে...
---
-----

স্যারের বাসা থেকে বের হয়ে যখন আমি আর শ্রাবণী রাস্তায় হাটছি তখন খেয়াল করি শ্রাবণী আনমনে কি যেন ভাবছে। আমি শ্রাবণীকে বললাম,
-- কি হলো! কি ভাবছো?
শ্রাবণী বললো,
-" ভাবছি আমাদের সন্তান হলে ওর আশে পাশে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে দিবো না"
আমি তখন মুচকি হেসে বললাম,
-- প্রযুক্তির ছোঁয়া না পেলে আমাদের সন্তান একটা রাম ছাগলে পরিণত হবে

সন্তানের শরীরে প্রযুক্তি ছোঁয়া লাগুক কিন্তু সেই ছোঁয়ার অপব্যবহার যেন কোন সন্তান না করে সেদিকে প্রতিটা অবিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে

সমাপ্ত
প্রযুক্তির_অপব্যবহার
আবুল_বাশার_পিয়াস

যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন 📕- Md Zakirul Islam Zakir -📗

Address

Gaibandha Road
Rangpur
2854600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md Zakirul Islam Zakir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Md Zakirul Islam Zakir:

Share