31/08/2024
গ্রেফতার এড়ানোর জন্য যীশু লুকিয়ে ছিলেন গেতশিমান বাগানে। একটু আগে তিনি লাস্ট সাপার করলেন তাঁর ১২ সাহাবীর সাথে। এরপর জুডাস বা এহুদা বেরিয়ে গেল। বাগানে প্রার্থনারত ছিলেন যীশু, বারবার তিনি প্রার্থনা করছেন যেন তাঁকে গ্রেফতার না করতে পারে, ঈশ্বর যেন তাঁকে রক্ষা করেন; আর সাহাবীরা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বিশ্বাসঘাতক জুডাস ইহুদী ইমাম কায়াফার কাছে গেল আর ৩০ রুপার মুদ্রা দাবি করল যীশুকে ধরিয়ে দেবার বিনিময়ে। কায়াফা রাজি হলেন আর সৈন্য আনতে পাঠালেন। সৈন্য নিয়ে জুডাস রওনা হল যীশুকে ধরিয়ে দেবার উদ্দেশ্যে।
বাগানে এসে পোঁছাল জুডাসের দল। একটা হৈচৈ এর মধ্যে যীশু গ্রেফতার হলেন। সাহাবীরা সবাই পালিয়ে গেলেন।
যীশুকে সানহেদ্রিনে নেয়া হল। সানহেদ্রিন হল ইহুদী বিচারসভা। যীশুকে এই অভিযোগে দোষী করা হল যে, তিনি নিজেকে ঈশ্বরপুত্র দাবি করেছেন। যীশু কোন কথা বললেন না। কেবল একটা কথা বললেন, “তোমরা বলছ এ কথা।”
তাঁকে তখন নিয়ে যাওয়া হয় গভর্নর পন্টিয়াস পাইলেটের (Pontius Pilete) কাছে। দাবি জানায় ইহুদী ইমামরা তাঁকে শাস্তি দেয়ার, ক্রুশে চড়ানোর। পাইলেট নিজে যীশুকে কিছু প্রশ্ন করে বললেন, তাঁর কাছে এ লোককে দোষী মনে হয়নি। তাই তাঁকে শাস্তি দিতে চান না তিনি।
তিনি যীশুকে পাঠালেন রাজা হেরোদের কাছে। হেরোদ আর তাঁর সৈন্যরা যীশুকে অপমান করল, তাঁকে ব্যঙ্গ করল। তাঁকে ইহুদীদের রাজা বলে উপহাস করল আর একটা রাজার মতো আলখাল্লা পড়িয়ে দিল। এরপর তাঁকে আবার নিয়ে আসা হল পাইলেটের কাছেই।
ইহুদী ইমামরা তখন যীশুর বিরুদ্ধে জনতাকে উত্যক্ত করে তুললো। পাইলেট তখন বললেন, প্রতি বছর এ উৎসবের সময় একজন অপরাধীকে মুক্ত করে দেয়া হয়। জনতার সামনে তিনি ২ জনকে রাখলেন, কাকে মুক্ত করে দেয়া উচিত বলে মনে করে জনতা? ১ জন ছিল যীশু খ্রিস্ট, আরেকজন ছিল কুখ্যাত খুনি যীশু বারাব্বা। দুজনের নামই ছিল যীশু, ঈসা।
জনতা রায় দিল, যীশু বারাব্বাকে ছেড়ে দেয়া হোক আর যীশু খ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারা হোক।
পাইলেট বললেন, যীশুকে মারছ তোমরাই, আমি না। এ লোকের মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী না। এর রক্তের ভার তোমাদের উপর। এটা যেন সবাই মনে রাখে। এ কথা বলে তিনি যীশুকে ক্রুশে চড়ানোর আদেশ দিলেন। (মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ক্ষমতা কেবল রোমান গভর্নরের ছিল, ইহুদীদের ছিল না, এ জন্যই পাইলেটের কাছে আসা।)
শুরু হল যীশুকে নির্যাতন করা। তাঁকে অনেক অনেক আঘাত করা হল। তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল। তাঁকে মুকুট পড়ানো হল, তবে রাজার মুকুট না, কাঁটার মুকুট। তাঁর জামা খুলে নেয়া হল, টুকরো টুকরো করা হল…
নিয়মমাফিক নিজের ক্রুশ নিজেকেই বহন করতে হয়। তাই যীশুর কাঁধে চড়িয়ে দেয়া হল তাঁর ক্রুশ। প্রচণ্ড ভারি সেই ক্রুশ নিয়ে তাঁকে হেঁটে যেতে হল পাহাড়ের উপরে গল্গথা নামের স্থান পর্যন্ত। পথে তিনি বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন। মাঝে এক মহিলা যে যীশুর অনুসারী ছিল তাঁকে পানি খাওয়াতে এলো কিন্তু সৈন্যরা ফেলে দিল সেই পানি। সাইমন নামের এক ভক্ত তাঁর ক্রুশ বহন করতে চাইল, কিন্তু তাঁকে তাড়িয়ে দিল সৈন্যরা।
শেষ পর্যন্ত পোঁছাল সবাই পাহাড়ে। সেখানে ক্রুশ মাটিতে বিছানো হল, সেখানে শোয়ান হল যীশুকে, হাতুড়ি দিয়ে পেরেক গাঁথা হল তাঁর হাতে, তাঁর পায়ে। ছিটকে বেরিয়ে এলো রক্তের স্রোত। এরপর ক্রুশ উপরে তোলা হল। তাঁর সাথে আরও ২ জন চোরকে ক্রুশে দেয়া হয়েছিল। যীশুর ক্রুশের উপর লেখা হয়েছিল, “নাসরাতের যীশু- ইহুদীদের রাজা।”
ক্রুসিফিক্সনের ঘটনার সময় সামনে যীশুর পরিচিতদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিল তারা হল, ইউহান্না (John), মা মেরি, আর মেরি মাগডালিন। একজন মা হয়ে নিজের চোখের সামনে সন্তানের সব কষ্ট দেখতে হল মেরিকে।
সেদিন ছিল শুক্রবার। যাকে এখন খ্রিস্টানরা বলে গুড ফ্রাইডে। দুপুর ৩টার সময় যীশু চিৎকার করে উঠলেন, “ইলাহি !! ইলাহি !! লামা সাবাখতানি ???” (হে ঈশ্বর! হে ঈশ্বর!! কেন তুমি আমায় পরিত্যাগ করলে?) এরপর তিনি ধীরে ধীরে মারা গেলেন। {উল্লেখ্য, আর কোন হিব্রু বাক্য না জানলেও, উপরের এ বাক্যটি সকল খ্রিস্টান জানে, মুখস্ত করে। আর যারা খ্রিস্টধর্ম নিয়ে নাড়াচাড়া করেন তাদেরও মুখস্ত এ বাক্যটি… মুখস্ত করে ফেললে ভাল }
এরপর তাঁর লাশ নামানো হল। তাঁর লাশ কোলে নিয়ে অনেক কাঁদলেন মা মেরি। কাঁদল মেরি মাগডালিন আর জন।
জোসেফ আরামাথিয়া (যে যীশুর রক্ত ধারণ করে সেই পাত্রে, হলি গ্রেইলে) ছিল অনেক ধনী। তাঁর নিজস্ব পাথরের কবরে রাখা হল যীশুকে। এত তাড়াতাড়ি কেন? কারন, শনিবার ইহুদীদের সাপ্তাহিক ধর্মীয় ছুটির দিন, সাব্বাথ, ঐদিন এসব কাজ হারাম মনে করত তারা। তাই শুক্রবারেই সব কিছু শেষ করতে চাইল তারা।
পরদিন শনিবার, কিছুই হল না। সবাই শোক পালন করল।
এরপর দিন, রবিবার। ইস্টার সানডে বলে খ্রিস্টানরা এখন। সেদিন সকাল সকাল মহিলারা (মেরি মাগডালিন সহ) গেল যীশুর কবরে, সুগন্ধি দিতে। গিয়ে দেখল কবরের মুখের পাথর সরানো!! আর, যীশুর লাশ নেই!! কবর ফাঁকা! অবাক ব্যাপার!!! কাফনের কাপড় পড়ে আছে। সেই কাফনের কাপড় আজও আছে সংরক্ষন করা। এর নাম Shroud Of Turin. নামটা মনে রাখবেন।
একটা সূত্রে বলা হয়, মেরি মাগডালিন একা গেলেন ওখানে আর গিয়ে দেখলেন এক ফেরেশতাকে। “ফেরেশতা” বললেন, যীশু আবার “জীবিত” হয়েছেন। এ ঘটনাকে বলে The Resurrection of Christ.
ইতোমধ্যে একটা গুজব অবশ্য ছড়িয়ে গেল, ইহুদী নবী যীশু মিরাকল দেখিয়েছেন, তিনি আসলেই তাহলে ঈশ্বরপুত্র, মৃত্যুকে হার মানিয়েছেন তিনি!
কয়েকজন সাহাবীর কাছে দেখা দিলেন পুনর্জীবিত বা পুনরুত্থিত যীশু (The Resurrected Jesus)… তাদের সাথে কথা বললেন। আর চলে যাবার আগে অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে গেলেন তিনি সাহাবীদের, তারা তাঁর ধর্ম প্রচার করতে পারবে সবার কাছে, আর এজন্য তারা সব বিদেশি ভাষায় চাইলেই কথা বলতে পারবে।
Resurrection এর ৪০ দিন পর যীশুকে আকাশে তুলে নেয়া হল, সাহাবীদের সামনে। এটাকে বলে The Ascension.
এবং, ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তিনি আবার আসবেন, এসে হত্যা করবেন Antichristকে। এ দ্বিতীয় আগমনকে বলে The Advent of Christ.
এই হল সংক্ষেপে ঘটনা।