02/09/2025
কোশা_কুশি_পরিচয়ঃ
কোশাকুশি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা কোষা (জলপাত্র) থেকে। কোশা হলো কাঁসার বা পিতলের বা তামার তৈরী বড় পাত্র যাতে জল রাখা হয়। এবং কুশি হলো আরেকটা ছোট পিতলের পাত্র যাতে করে জল তোলা হয়।
ছবিতে তিন ধরনের কোশার ছবি দেখানো হল, বর্তমানে শুধুমাত্র ৩. নম্বরটি দেখতে পাওয়া যায়।
১.প্রথমটির নাম= যোনী কোশা।
২.দ্বিতীয়টির নাম= নাভী কোশা।
৩.তৃতীয়টির নাম= আনন্দ কোশা।
এবং ছোটটির নাম= কুশী। (আচমনীয়)
তন্ত্রোক্ত শক্তিপূজাতে যোনী কোশা প্রশস্ত।
শিব ও বিষ্ণুপূজাতে নাভী কোশা প্রশস্ত।
এবং আনন্দকোশা সমস্ত দেব পূজাতেই প্রশস্ত।
এখন দৃষ্টি দেয়া যাক এর মধ্যে যে জল নেয়া হয় তা কোন জল সে-সম্পর্কে, তার আগে আমাদের দৃষ্টি দিতে হয় দুটি মন্ত্রের দিকে —
ওঁ গঙ্গে চ যমুনা চৈব গোদাবরি সরস্বতী
নর্মদে সিন্ধু কাবেরি জলেহস্মিন সন্নিধিং কুরু।
"পরে"-
ওঁ কুরুক্ষেত্র গয়া গঙ্গা প্রভাস পুষ্করিণী চ
তীর্থান্যেতানি পুণ্যানি আবাহনকালে ভবন্ত্বিহ।
সাতটি নদী গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু, কাবেরী মোট ৭টি নদীর জল এবং কুরুক্ষেত্রে, গয়া, গঙ্গা, প্রভাস, পুষ্কর মোট ৫ টি তীর্থের জলকে আবাহন করে ঐ কোশাতে স্হির করা হয়, তারপর শুরু হয় সেই জল দিয়ে পুজোর যাবতীয় কাজ।
৭টি নদীর জলতো আশাকরি সকলে বুঝেছেন, কিন্তু ৫টি তীর্থের জলকে কিভাবে বা কোথায় পাব?
আসুন তেমন প্রশ্নের নিরসন করা যাক—
🌼কুরুক্ষেত্রঃ
পুরাকালে ব্রহ্মা শত মতান্তরে হাজারটি যজ্ঞ করেছিলেন এই কুরুক্ষেত্র নামক স্থানে সেই স্হানটি হতে ভক্তদের ক্রমে ক্রমে মাটি নিয়ে যেতে যেতে এমন বিশাল কুন্ড বা পুষ্কর যা আয়তনে দৈর্ঘ্য প্রস্থে দেড় কিঃমিঃ। তাছাড়া গীতা ১/১ শ্লোকে বলছে,
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুত্সবঃ৷
মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়৷৷
"এই পুকুরের জল বেশ পবিত্র তাই একে আবাহন করা হয়।
🌼গয়াঃ
এই তীর্থে বর্ণনা আর কি বলবো, আপনারা সকলে কমবেশি জানেন, ফল্গুধারার পরিচয় বড় মধুময় এবং বেশ বড় যা পরে কোন আলোচনায় করবো।
🌼গঙ্গাঃ
হিমালয় - সাগর পর্যন্ত এর বিস্তার, তবে এর বিশেষ দুটি স্হান বেশ তাৎপর্য পূর্ণ ১টি হলো গঙ্গাসাগর, ২য়টি হলো কনখোল যা হরিদ্বার ঋষিকেশের মাঝামাঝি।
🌼প্রভাষঃ
এটি গুজরাটের সমুদ্র সীমার কাছে, যেখানে দ্বাদশ জ্যোতির লিঙ্গের একটি সোমনাথ মন্দিরের সামনে ১/২ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত।
🌼পুষ্করঃ
এটা রাজস্থান অবস্হিত।