Rajbana Vihar, Rangamati, Bangladesh

Rajbana Vihar, Rangamati, Bangladesh A monastery that follows Forest Tradition, beautiful sightseeing place of Bangladesh & so on.
(274)

13/08/2026
13/08/2026

একসময় প্রজ্ঞাবংশ ভন্তে পূজ্যষ্পদ বনভন্তেকে প্রশ্ন করেন- ভন্তে, হিন্দুদের কথিত পুণ্নাম নিরয় কি রকম? বনভন্তে বলেন- আগে হিন্দুধর্মীয় অনেক পুস্তক পড়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে বুদ্ধ জ্ঞানের দ্বারা জানতেছি সেগুলো সবই কাল্পনিক। তাদের সাধনাগুলোও লৌকিক সাধনা, সেগুলো দ্বারা মুক্ত হওয়া যায় না। আমি রামকৃষ্ণ পরমহংসকেও জ্ঞানযোগে অবলোকন করে থাকি। সে চতুর্থ ধ্যান লাভ করতঃ লৌকিক ঋদ্ধির অধিকারী হয়েছে মাত্র; দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করতে পারেনি। আর লৌকিক ঋদ্ধি দেখায়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নিজেকে মহাজ্ঞানী, মহাধ্যানীরূপে প্রচার করেছিল। চাকমা জন সাধারণের মুখে উচ্চারিত ধ্যানী শিবচরনকেও আমি অবলোকন করে থাকি। শিবচরনও লৌকিক ঋদ্ধি লাভ করেছে মাত্র। তজ্জন্য তার গোজেন লামায় বলেছে- “না লাগিবে অন্নবস্ত্র, না লাগিবে শিলা বৃষ্টি আর”। ঋদ্ধির বলে সে স্বীয় ইচ্ছা মত খাবার হতে শুরু করে সবই নিজে বানিয়ে ব্যবহার করতে পারে। সেই লৌকিক ঋদ্ধিকে মারের ঋদ্ধিও বলা চলে। শিবচরন তার গোজেন লামায় আরো বলেছে-“যখন এখানে ধার্মিক রাজা হবে, তখন সে আবার জন সমাজে বের হবে”। সে ধনী লোক হলে সুখ হবে মনে করে। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে সে জঙ্গলে ধ্যান করতঃ লৌকিক ঋদ্ধি লাভ করে লোক জনের থেকে অদৃশ্যমান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তুপ্রকৃত মুক্তির পথ লাভ করতে পারেনি। লৌকিক ঋদ্ধি শেষ হয়ে গেলে সেও বিপদে পড়বে। সে আবার সাধারণ গৃহীকুলে জন্মগ্রহণ করতঃ বিবিধ দুঃখ কষ্টের ভাগী হবে। চাকমারা বলে থাকে শিবচরন ফকির হয়ে গিয়েছে। তবে এরূপ ফকির হওয়াও সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। ইচ্ছা করলেও যে কেউ জন্তু ফকির হতে পারে না। মনোপ্রদোষিকা দেবতাগণ পুণ্য ক্ষয়ে স্বর্গ থেকে চ্যুত হয়ে মনুষ্যলোকে উৎপন্ন হলে তারা ধ্যানী বা ফকির হয়ে থাকে। সেরূপ মনোপ্রদোষিকা দেবতাগণ মনুষ্যলোকে উৎপন্ন হলে কিছুতেই গৃহবাসে থাকে না। তারা গৃহবাস ত্যাগ করে অরণ্যে গিয়ে সাধনা করতঃ ধ্যানী, ফকির ইত্যাদি হয়ে লোকের অগোচরে চলে যায়।

13/08/2026
13/08/2026

#ধর্মীয়_গান

হে সীবলী
লাভীশ্রেষ্ঠ ওগো সীবলী,
পূজিতে তোমারে

রেখেছি মনের মন্দিরে প্রদীপ জ্বালি
ধূপ-দীপ আর পূজার সম্ভার
সাজিয়ে রেখেছি পূজার ডালা
লহ প্রভু মোর ভক্তির প্রণাম মালা।

অন্তরে মম গাহে মঙ্গল আরতি
লহ প্রভু মোর পূজার অঞ্জলি
হে প্রভু সীবলী।।

#গীতিকার: অমলেন্দু বিকাশ চাকমা

#সুরকার ও কন্ঠশিল্পী : রনজিত দেওয়ান

13/08/2026

কঠিন চীবর দানের স্মৃতি-২০১৫
রাজবন বিহার, রাঙামাটি

13/08/2026

☸️☸️পরমপূজ্য বনভন্তের উপদেশ☸️☸️

কুশল চিত্ত কিভাবে উৎপত্তি হয় জান কি? এক সময় এক বড়ুয়া নাকি আনন্দ মিত্র ভান্তেকে জিজ্ঞাসা করেছিল—ভান্তে, আমার কেন কুশল চিত্ত একেবারে উৎপন্ন হয় না, বরং অকুশল চিত্ত উৎপন্ন হয়ে থাকে।

কুশল চিত্ত কি করে উৎপত্তি হয়? আনন্দ মিত্র ভান্তে উত্তরে বলেছিলেন—তোমার যখন কুশল চিত্ত উৎপন্ন হয় না, তুমি প্রত্যেক দিন কিছু কিছু ছাই একটি গাছের গোড়ায় ছিটে (ছিটিয়ে) দিও। এতে গাছটি অতি সহসা বেড়ে উঠবে আর তোমার চিত্তে কুশল বৃদ্ধি পাবে। বড়ুয়া বাবু মাথামু- কিছুই না বুঝে স্থান ত্যাগ করল।

আনন্দ মিত্র ভান্তে যদি এরূপ বলতেন-তুমি তৃষ্ণাকে জমা ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করতেছ বলে তোমার কুশল চিত্ত উৎপন্ন হচ্ছে না। সুতরাং তুমি তৃষ্ণাকে ক্ষয় কর, ধ্বংস কর তাহলে কুশল চিত্ত উৎপন্ন হবে।

বুদ্ধ বলেছেন, যেই চিত্ত জীবন দুঃখে দুঃখজনক, তৃষ্ণাজনক, পরিপোষক, পরিবর্ধক সেই চিত্ত অকুশল। যেই চিত্ত তৃষ্ণা ধ্বংসকারক সেই চিত্ত কুশল। তাহলে কুশল চিত্ত কিভাবে উৎপত্তি হয়। তৃষ্ণাকে ক্ষয় করলে, ধ্বংস করলে কুশল চিত্ত উৎপত্তি হয়।

যেই ব্যক্তি তৃষ্ণাকে ক্ষয় করে, ধ্বংস করে তার কুশল চিত্ত উৎপত্তি হয়। আর যেই ব্যক্তি তৃষ্ণাকে জমা করে, বৃদ্ধি করে তার অকুশল চিত্ত উৎপন্ন হয়। কিভাবে তৃষ্ণাকে ক্ষয়, ধ্বংস করবে? ইচ্ছা করলে তৃষ্ণাকে ক্ষয়, ধ্বংস করা যায়। আবার, কোন বিষয়ের প্রতি অলোভ হয়ে অবস্থান করলে তৃষ্ণা ক্ষয়, ধ্বংস হয়ে যায়। লোভের কারণে তৃষ্ণাকে ক্ষয়, ধ্বংস করা যায় না।
🙏🙏🙏সাধু===সাধু===সাধু🙏🙏🙏

12/08/2026

যং পরে সুখমো আহু, তদরিযা আহু দুক্খতো,
যং পরে দুক্খতো আহু, তদরিযা সুভতো বিদূ। ৩৯

#অর্থাৎ___ অন্যজন যাহাকে সুখ বলিয়া থাকে আর্য্যগণ তাহাকে দুঃখ বলিয়া থাকেন, অন্যজন যাহাকে দুঃখ বলিয়া থাকে, আর্য্যগণ তাকাকে সুখ বলিয়া জানেন।

#খুদ্দক_নিকাযে_সুত্ত_নিপাত____দ্বযতানুপস্সনা_সুত্ত

#সাধনানন্দ_মহাথের_বনভান্তেকৃত_অনুবাদ_1987

12/08/2026

#বুদ্ধের কাছে উপদেশ নিয়ে দুই ভিক্ষু বন্ধু বনে গেলেন যোগ সাধনার জন্য। তাঁদের মধ্যে একজন প্রমাদ আর আলস্যের বশে ঐ পথে বেশীদূর অগ্রসর হতে পারলেন না। অন্যজন কিন্তু অপ্রমত্ত থেকে অবিচল নিষ্ঠায় লক্ষ্যের দিকে এহিয়ে চললেন, অবশেষে অভীষ্ট ফল অর্হত্ত্বও লাভ করলেন। সাধনকাল শেষ হলে উভয় বন্ধু বুদ্ধের কাছে ফিরে এসে যার যেমন ফল লাভ হয়েছে তাঁকে তা বললেন। শুনে বুদ্ধ বললেন:-

"অপ্পমত্তো পমত্তেসু সুত্তেসু বহুজাগরো।
অবলস্সং'ব সীঘস্সো হিত্বা যাতি সুমেধসো"।। ২৯

#অনুবাদঃ বেগবান ঘোড়া যেমন দুর্বল ঘোড়াকে পেছনে ফেলে যায়, জ্ঞানী ব্যক্তিও তেমনি অনবধানদের মধ্যে অবহিত আর নিদ্রিতদের মধ্যে জাগ্রত থেকে সাধন পথে এগিয়ে চলেন।

#ব্যাখ্যাঃ- জন্মমরণসঙ্কুল এই সংসারে মানুষ একনিষ্ঠ সাধনার বলেই আনন্দময় মুক্তির অধিকারী হতে পারে। আর সাধনার পথে সব থেকে বড় সহায় হল অপ্রমাদ অর্থাৎ কর্তব্যকার্যে অবিচল নিষ্ঠা, সংযম ও চিত্তের বিশুদ্ধতা।

#খুদ্দক_নিকাযে____ধম্মপদ

12/08/2026

☸️☸️পরমপূজ্য বনভন্তের উপদেশ☸️☸️

এক সময় শ্রদ্ধেয় বনভান্তে নিজ আবাসিক ভবনে আয়োজিত সঙ্ঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান ও একটি পাকা রুম (মৈত্রী ভবন) দান উপলক্ষ্যে সমবেত দায়ক-দায়িকাবৃন্দের প্রতি দেশনা প্রদানকালে বলেন—শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস করে ধর্মদেশনা শ্রবণ করলে তা’ ফলদায়ক হয়। কি বিশ্বাস করা? চারি আর্য সত্যের প্রতি বিশ্বাস করা। অন্যদিকে, মার আকৃষ্ট চিত্তে ধর্মদেশনা শ্রবণ করলে দুঃখ পেতে হয়। ভগবান যেমন সত্ত্বদিগকে চারি আর্যসত্য সম্বলিত সদ্ধর্মের বাণী শুনায়, তেমনি মারও সত্ত্বদিগকে ভোগ বিলাসের সুখ বর্ণনা করে পরধর্ম শুনায়।

বুদ্ধকে বিশ্বাস করলে চারি আর্য সত্যের বাণী শ্রবণ করলে সদ্ধর্ম লাভ হয়; আর মারকে বিশ্বাস করতঃ ভোগ বিলাসের কথা শ্রবণ করলে পরধর্ম লাভ হয়। তাই বুদ্ধকে বিশ্বাস করার অর্থ চারি আর্যসত্য জ্ঞানকে বিশ্বাস করা বুঝায়। এটা জ্ঞান, সদ্ধর্ম এবং সুখ। কিন্তু মারকে বিশ্বাস করলে অজ্ঞান, মূর্খতা বৃদ্ধি পেয়ে মিথ্যাদৃষ্টি হয়।

তোমরা আমার এসব কথা বিশ্বাস করতে পারছ বলে মনে হয় না। কারণ এগুলো জ্ঞানের বিষয়, সাধারণের নিকট বোধগম্য হবার কথা নয়। মনচিত্তের মধ্যে চারি আর্যসত্য জ্ঞান, সম্যকদৃষ্টিভাব বিদ্যমান থাকলে তবেই এসব কথা বুঝা সম্ভব। তোমাদের মনচিত্ত যখন তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হবে, তখন বুঝতে পারবে কিরূপে পুনঃজন্মের উদয় বা উৎপত্তি হয় এবং কিরূপে পুনঃজন্ম নিরোধ হয়। মার প্রভাবিত চিত্ত তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হতে না পারলে পুনঃজন্ম হয় বা পুনঃজন্মের উদয় হয়।

অনেক মুসলিম ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলে আমাদের ধর্মে পুনঃজন্ম নেই। কিন্তু তা’ ঠিক নয়। অবিদ্যা অন্ধকার তাদের মনচিত্তে রয়েছে, কিভাবেই তারা পুনঃজন্ম দেখতে পাবে? বুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে আমি সে সব বিষয় দিবালোকের মত পরিষ্কারভাবে দেখে থাকি। মনচিত্তের মধ্যে মার থাকলে তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হতে দেয় না; ফলে ভবচক্রে পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করতে হয়। ধর্মদেশনা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে যদি মনচিত্ত মারের প্রভাব মুক্ত হয় তাহলে অবিদ্যা, তৃষ্ণার পরিসমাপ্তি ঘটে; লোকোত্তর সুখে উন্নীত হওয়া যায়।

তাই শাস্ত্রে দেখা যায়, ভগবান বুদ্ধের দেশনা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতাবৃন্দ স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী, অরহত্ব ফল লাভ করতেন। সেই সময়ের শ্রোতাবৃন্দ জ্ঞানের সহিত শ্রবণ করতেন আর ভগবান বুদ্ধ স্বীয় অসীম জ্ঞানশক্তির মাধ্যমে দেশনা করতেন। যারা অজ্ঞানের সহিত ধর্মদেশনা শ্রবণ করে, তারা বুদ্ধের বাণী না শুনে মারের কথাই শুনে মাত্র। চিত্তের মধ্যে মার থাকলে দুঃখ পেতে হয়, দুঃখ থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। আর নানা প্রকার অকুশলকর্ম সম্পাদন করতে হয়। সেই অকুশলকর্মের ফলে দিন দিন অধঃপতন ঘটতে থাকে।

যারা জ্ঞানের সহিত ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা বুদ্ধের বাণী শুনে, বিশ্বাস করে। তাদের সুখ, শান্তি সমৃদ্ধি লাভ হয়ে থাকে। তোমরা তো আজকে এই দান করতেছ, দানে বহুবিধ ফল হয়। যথা—দানে ইহ পরকাল সুখ হয়, দানে নির্বাণ প্রত্যক্ষ করা যায়। কিরূপে দান করতে হয় জান? তৃষ্ণা ক্ষয় করতে, অবিদ্যা ধ্বংস করতে। তৃষ্ণাকে ক্ষয় এবং অবিদ্যা ধ্বংস করাকে কুশল বলে।

যা দ্বারা তৃষ্ণা ক্ষয় হয় না, পুণ্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না তা’ অকুশল। অকুশলকর্ম সম্পাদন করলে ইহকালে দুঃখ পায়, পরকালে ততোপেক্ষা অধিক দুঃখ পেতে হয়। অকুশলকর্ম সম্পাদনকারী এইভাবে অধঃপতনে তলিয়ে যায়। যারা তৃষ্ণাকে ক্ষয়, ধ্বংস করতে তৎপর থাকে তারা কুশলকর্মই সম্পাদন করে। কুশলকর্ম সম্পাদন করলে ইহকালে সুখ, পরকালে ততোপেক্ষা অধিক পরিমাণে সুখ লাভ হয়।
সাধু===সাধু===সাধু

Address

Raj Bana Bihar, K K Roy Road
Rangamati
4500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rajbana Vihar, Rangamati, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Rajbana Vihar, Rangamati, Bangladesh:

Shortcuts

Share