12/08/2026
☸️☸️পরমপূজ্য বনভন্তের উপদেশ☸️☸️
এক সময় শ্রদ্ধেয় বনভান্তে নিজ আবাসিক ভবনে আয়োজিত সঙ্ঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান ও একটি পাকা রুম (মৈত্রী ভবন) দান উপলক্ষ্যে সমবেত দায়ক-দায়িকাবৃন্দের প্রতি দেশনা প্রদানকালে বলেন—শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস করে ধর্মদেশনা শ্রবণ করলে তা’ ফলদায়ক হয়। কি বিশ্বাস করা? চারি আর্য সত্যের প্রতি বিশ্বাস করা। অন্যদিকে, মার আকৃষ্ট চিত্তে ধর্মদেশনা শ্রবণ করলে দুঃখ পেতে হয়। ভগবান যেমন সত্ত্বদিগকে চারি আর্যসত্য সম্বলিত সদ্ধর্মের বাণী শুনায়, তেমনি মারও সত্ত্বদিগকে ভোগ বিলাসের সুখ বর্ণনা করে পরধর্ম শুনায়।
বুদ্ধকে বিশ্বাস করলে চারি আর্য সত্যের বাণী শ্রবণ করলে সদ্ধর্ম লাভ হয়; আর মারকে বিশ্বাস করতঃ ভোগ বিলাসের কথা শ্রবণ করলে পরধর্ম লাভ হয়। তাই বুদ্ধকে বিশ্বাস করার অর্থ চারি আর্যসত্য জ্ঞানকে বিশ্বাস করা বুঝায়। এটা জ্ঞান, সদ্ধর্ম এবং সুখ। কিন্তু মারকে বিশ্বাস করলে অজ্ঞান, মূর্খতা বৃদ্ধি পেয়ে মিথ্যাদৃষ্টি হয়।
তোমরা আমার এসব কথা বিশ্বাস করতে পারছ বলে মনে হয় না। কারণ এগুলো জ্ঞানের বিষয়, সাধারণের নিকট বোধগম্য হবার কথা নয়। মনচিত্তের মধ্যে চারি আর্যসত্য জ্ঞান, সম্যকদৃষ্টিভাব বিদ্যমান থাকলে তবেই এসব কথা বুঝা সম্ভব। তোমাদের মনচিত্ত যখন তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হবে, তখন বুঝতে পারবে কিরূপে পুনঃজন্মের উদয় বা উৎপত্তি হয় এবং কিরূপে পুনঃজন্ম নিরোধ হয়। মার প্রভাবিত চিত্ত তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হতে না পারলে পুনঃজন্ম হয় বা পুনঃজন্মের উদয় হয়।
অনেক মুসলিম ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলে আমাদের ধর্মে পুনঃজন্ম নেই। কিন্তু তা’ ঠিক নয়। অবিদ্যা অন্ধকার তাদের মনচিত্তে রয়েছে, কিভাবেই তারা পুনঃজন্ম দেখতে পাবে? বুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে আমি সে সব বিষয় দিবালোকের মত পরিষ্কারভাবে দেখে থাকি। মনচিত্তের মধ্যে মার থাকলে তৃষ্ণা থেকে মুক্ত হতে দেয় না; ফলে ভবচক্রে পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করতে হয়। ধর্মদেশনা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে যদি মনচিত্ত মারের প্রভাব মুক্ত হয় তাহলে অবিদ্যা, তৃষ্ণার পরিসমাপ্তি ঘটে; লোকোত্তর সুখে উন্নীত হওয়া যায়।
তাই শাস্ত্রে দেখা যায়, ভগবান বুদ্ধের দেশনা শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতাবৃন্দ স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী, অরহত্ব ফল লাভ করতেন। সেই সময়ের শ্রোতাবৃন্দ জ্ঞানের সহিত শ্রবণ করতেন আর ভগবান বুদ্ধ স্বীয় অসীম জ্ঞানশক্তির মাধ্যমে দেশনা করতেন। যারা অজ্ঞানের সহিত ধর্মদেশনা শ্রবণ করে, তারা বুদ্ধের বাণী না শুনে মারের কথাই শুনে মাত্র। চিত্তের মধ্যে মার থাকলে দুঃখ পেতে হয়, দুঃখ থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। আর নানা প্রকার অকুশলকর্ম সম্পাদন করতে হয়। সেই অকুশলকর্মের ফলে দিন দিন অধঃপতন ঘটতে থাকে।
যারা জ্ঞানের সহিত ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা বুদ্ধের বাণী শুনে, বিশ্বাস করে। তাদের সুখ, শান্তি সমৃদ্ধি লাভ হয়ে থাকে। তোমরা তো আজকে এই দান করতেছ, দানে বহুবিধ ফল হয়। যথা—দানে ইহ পরকাল সুখ হয়, দানে নির্বাণ প্রত্যক্ষ করা যায়। কিরূপে দান করতে হয় জান? তৃষ্ণা ক্ষয় করতে, অবিদ্যা ধ্বংস করতে। তৃষ্ণাকে ক্ষয় এবং অবিদ্যা ধ্বংস করাকে কুশল বলে।
যা দ্বারা তৃষ্ণা ক্ষয় হয় না, পুণ্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না তা’ অকুশল। অকুশলকর্ম সম্পাদন করলে ইহকালে দুঃখ পায়, পরকালে ততোপেক্ষা অধিক দুঃখ পেতে হয়। অকুশলকর্ম সম্পাদনকারী এইভাবে অধঃপতনে তলিয়ে যায়। যারা তৃষ্ণাকে ক্ষয়, ধ্বংস করতে তৎপর থাকে তারা কুশলকর্মই সম্পাদন করে। কুশলকর্ম সম্পাদন করলে ইহকালে সুখ, পরকালে ততোপেক্ষা অধিক পরিমাণে সুখ লাভ হয়।
সাধু===সাধু===সাধু