07/05/2022
বুদ্ধকে ব্রাহ্মণীকরণে স্বামী বিবেকানন্দের যোগদান
👉সংগৃহীত পোস্ট
আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুদ্ধকে নিয়ে অনেক প্রকার মিথ্যা সমাচার প্রচারিত হচ্ছে। সমাচার ইহা প্রচারিত হচ্ছে যে, বুদ্ধমার্গে নির্বাণের কথা রয়েছে, এজন্য সেখানে অন্ধবিশ্বাস রয়েছে, পুনর্জন্ম রয়েছে। দ্বিতীয় সমাচার ইহা যে, বুদ্ধ নাস্তিক ছিলেননা, বরং তিনি ঈশ্বরের উপর কিছুই তো বলেননি। মৌন থেকে তিনি ঈশ্বরকে সমর্থন করেছেন। এরকমভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো ভাবে ভ্রম প্রচার ও প্রসার করা হচ্ছে। পূর্বে আমি স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে দু’টি লেখা প্রকাশ করেছি, এ লেখাতেও আমি দেখাব যে, স্বামীজী মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে কিভাবে বুদ্ধের গলায় বাহ্মণীকরণের চাকু বসিয়েছেন, খড়্গ চালিয়েছেন, সে সব এখানে উদ্ঘাটন করে দেখাব।
সর্ব প্রথমে আমি ইহা বলব যে, এধরণের খবর আসে কোত্থেকে? এগুলির উৎস কোথায়? যদি আমি উৎসের কথা বলি তাহলে এ সমস্ত মিথ্যাচার প্রসারিত হয়েছে, যাঁরা ব্রাহ্মণ ধর্মের ঠিকাদার তাঁদের দ্বারা প্রচারিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মুখ্য একজন ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি তাঁর পুস্তক ‘ভগবান বুদ্ধ এবং তাঁর বাণী’ নামক গ্রন্থের ১৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে-‘বৌদ্ধ লোকেরা নির্বাণ নামক অবস্থা বিশেষে বিশ্বাস রাখেন। এ অবস্থা হল দ্বৈত-জগতের অতীত অবস্থা। বেদান্তী লোক যাকে ব্রহ্ম বলে থাকেন, এ নির্বাণও হল ঠিক তাহাই এবং বৌদ্ধ ধর্মের সমস্ত উপদেশ সমূহের ইহাই মর্ম যে, সে হারানো নির্বাণ অবস্থাকে আবার প্রাপ্ত করতে হবে। (স্বামী বিবেকানন্দ, ভগবান বুদ্ধ এবং তাঁর বাণী, পৃ-১৩)।
এখন দেখুন যে, এখানে স্বামী বিবেকানন্দ বৌদ্ধ মার্গের নির্বাণ শব্দকে ব্রাহ্মণীকরণ করে দিয়েছেন। আপনাদের সবাই স্বামী বিবেকানন্দের উপরোক্ত উদ্ধৃত যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে আবার আমি আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করছি যে, এখানে তিনি দু’টি বিষয় বলছেন। প্রথমত, ‘বেদান্তী লোক যাকে ব্রহ্ম বলে থাকেন, নির্বাণও হল ঠিক তাহাই‘, দ্বিতীয়ত, তিনি বলছেন-‘নির্বাণের হারানো অবস্থাকে পুণরায় লাভ করতে হবে।’
তিনি হলেন সে স্বামীজী, যাঁর সম্পর্কে এরকম মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে যে, তিনি যদি কোন পুস্তক একবার দেখে নিতেন, তাহলে তিনি পুস্তকের সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হতেন। তাঁর স্মৃতি শক্তি এতই প্রখর ছিল যে, পৃষ্টা উল্টাতেই তিনি সমস্ত জ্ঞান আয়ত্ব করে নিতেন। আপনারা একটি প্রবাদ হয়তো শুনে থাকবেন যে, শয়তানের এরকম কাজই ত্বরান্বিত হয়। শয়তান তো বাস্তবে দেখা যায়না। কিন্তু প্রবাদটি খুবই প্রসিদ্ধ।
তিনি বুদ্ধের নামে পুস্তক তো লিখেছেন, কিন্তু বুদ্ধের সম্পর্কে তাঁর সামান্য জ্ঞানও যেমন ছিলনা, তেমনি বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন সম্পর্কেও তাঁর জ্ঞান ছিলনা।
বেদান্তের মধ্যে যে ব্রহ্ম শব্দ রয়েছে, তাহল সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক। তা হল একেবারেই মনগড়া শব্দ। ইহার সাথে বাস্তবিকতার কোন লেনাদেনাও নাই। যাঁরা বেদান্তী হয়ে থাকেন, তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে যে, ব্রহ্মই হল সত্য এবং সংসার হল ইহার বিবর্ত। এখন এখানে বিবর্ত শব্দকে ভালভাবে বুঝতে হবে। প্রকৃতিতে শারীরিকভাবে কেউ যদি বিকলাঙ্গ হয়, তখন বলা হয় এর মধ্যে বিকার এসেছে। যেমন হাতে যে মোবাইল ফোন রয়েছে, তা যদি নীচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায়, তাহলে তাতে বিকার এসেছে, মানে সেখানে আর কিছু দৃশ্যমান হয়না। বিবর্ত তাকেই বলা হয়, যা আভাস এরকমই হয় যে, এরমধ্যে বিকৃতি এসে তো গিয়েছে, ইহা হল অন্যকিছু। কিন্তু এরকম কোন কিছু হয়ইনি। উদাহরণের সাহায্যে আমরা ইহা বুঝতে চেষ্টা করব। যেমন আমরা অন্ধকারে কক্ষে প্রবেশ করেছি। সেখানে কোন রসির সাথে স্পর্শ হয়েছে। বা সে রসির স্পর্শে এমন প্রতীত হয়েছে যে, মনে হল ইহা সাপের মত। এ সাপ হল রসির বিবর্ত। বাস্তবে সাপ তো নয়ই। কিন্তু অন্ধকারে সেরকম মনে হচ্ছে।
অনুরূপভাবে বেদান্তীদের ভ্রম মায়ার কারণে জগত প্রতীত হয়ে থাকে। জগত হল ব্রহ্মের বিবর্ত। অর্থাৎ মনগড়া যা কিছু হচ্ছে, তাকে সত্য মনে করাই হল বেদান্তীদের সিদ্ধান্ত। স্বামী বিবেকানন্দও বুদ্ধ মার্গের নির্বাণকে বেদান্তের ব্রহ্মের সাথে তুলনা করে সেরকম ভ্রমই প্রসারিত করছে। যেখানে বৌদ্ধধর্মে নির্বাণকে জগতের বিবর্ত অর্থাৎ ভ্রম কখনো বলা হয়নি। এখানে নির্বাণের অর্থ হল মু্ক্তি। অর্থাৎ সংসার হতে মুক্তি। যা হল বিশ্বজনীন বা Universal Truth. স্বামী বিবেকানন্দের এ বাক্যকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তিনি বলেছেন যে-‘নির্বাণ হল হারানো অবস্থা, যা পুন প্রাপ্ত করতে হবে।’
সত্যিকার অর্থে এখানে এ নির্বাণ শব্দকে তিনি ব্রাহ্মণীকরণ করছেন। কেননা বেদান্তে অবতার বা পুনর্জন্মের বিষয় রয়েছে। সুতরাং সে পুনর্জন্মে আত্মা রয়েছে। সেটাকেই বার বার জন্ম নেওয়া হতে মুক্তিকে তাঁরা মোক্ষ বলে থাকেন এবং বৌদ্ধদের যে নির্বাণ শব্দ রয়েছে, তাকেও তারা মোক্ষের সমার্থক শব্দরূপে ব্যবহার করে থাকেন। যা হতে লোকের মধ্যে ভুল বার্তা প্রসারিত হয়েছে বা তাঁদের দ্বারা ভুল বার্তা প্রসারিত হয়েছে।
এখন ভাববার বিষয় ইহাই যে, বেদান্তে যে অমর আত্মার কথা রয়েছে, সে আত্মা তো জন্ম-জন্মান্তর পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে লুঠে-পুটে খেতে থাকে, সে আত্মাই পুন পুন জন্ম নিয়ে থাকে। কিন্তু বৌদ্ধধর্মে তো আত্মা নামের কিছুর অস্তিত্বই নাই। যে কেউ বৌদ্ধ মার্গে রয়েছেন, তাঁর তো মুক্তিই কাম্য। নির্বাণই লক্ষ্য। সেখানে আত্মার পুনর্জন্মের বিষয় তো প্রশ্নই আসেনা। এ বিষয়কে স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক চেপে দেওয়া হয়েছে এবং প্রচার করা হয়েছে যে, বৌদ্ধধর্মের যে নির্বাণ রয়েছে, তা হল বেদান্তের মত নির্বাণ।
এ কথার উপর ভর করে আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু নাস্তিকও বলে থাকেন যে, বৌদ্ধধর্মে পুনর্জন্ম রয়েছে, অতি ধার্মিকেরা স্বভাবত অন্ধই হয়ে থাকেন। তাঁরা স্বামী বিবেকীনন্দের মত বা মোল্লা শঙ্কর ত্রিবেদীর মত লোকদের দ্বারা যেভাবে ভ্রম প্রসারিত করা হয়েছে, সেরকম ভ্রমে ফেঁসে রয়েছেন। কিন্তু যাঁরা হলেন স্বঘোষিত নাস্তিক, তাঁদের তো চক্ষু খুলে দেখা উচিত যে, যাঁদের দ্বারা এ সমস্ত মিথ্যা সমাচার প্রসার করা হয়েছে, নির্বাণ এবং পুনর্জন্মকে নিয়ে তার এক অন্যতম উৎস হল স্বামী বিবেকানন্দ।
এবার আসুন বিবেকানন্দের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিথ্যা সমাচার প্রসারণের দিতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। তাঁর পুস্তকের ৯ পৃষ্টায় তিনি লিখেছেন যে-‘তাঁর ( বুদ্ধ) কাছ হতে অনেকবার ঈশ্বর সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন-‘আমি জানিনা।’ (স্বামী বিবেকানন্দ, ভগবান বুদ্ধ এবং তাঁর বাণী, পৃষ্টা-৯)।
এখানে স্বামী বিবেকানন্দ ইহা বলতে প্রয়াস করছেন যে, বুদ্ধও ঈশ্বর সম্পর্কে কিছুই বলেননি, তার মানে হল তিনি ছিলেন আস্তিক অর্থাৎ ঈশ্বর বিশ্বাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এরকম সমাচার আজকাল পাওয়া যাচ্ছে। এ যে ভ্রম বা মিথ্যা সমাচার তা স্বামী বিবেকানন্দই প্রসার করেছেন।
এরকম উদ্ধৃতিতে সোজাসুজি ইহা প্রমাণিত হয় যে, স্বামী বিবেকানন্দ হয়তো বুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই জানতেননা, বৌদ্ধ সাহিত্য সম্পর্কেও তাঁর সামান্য জ্ঞানও ছিলনা, অথবা তিনি সরাসরি ছিলেন ব্রাহ্মণ্যবাদী এজেন্ট, যিনি সবকিছু জেনে-বুঝেও বুদ্ধকে ব্রাহ্মণীকরণ করছেন এবং বিভিন্ন রকমের মিথ্যা সমাচার প্রসারিত করে ভারতের যে নাস্তিক দর্শন রয়েছে, তাকে জোর জবরদস্তি আস্তিক দর্শন বানাতে প্রয়াস করছেন।
এমনিতেই তো তিনি যে সমস্ত বিষয়ে মিথ্যা লিখেছেন সেগুলি তো পালি ত্রিপিটকেই বর্ণিত হয়েছে। এখানে আমি ত্রিপিটকেরই কিছু অংশের উদ্ধৃতি দেখাচ্ছি, সেখানেও দেখবেন যে, বুদ্ধ ছিলেন ঈশ্বরের ঘোর বিরুদ্ধে। অধ্যাপক ড. সুরেন্দ্র অজ্ঞাত দ্বারা এক বড়ই উত্তম পুস্তক হিন্দিতে লিখা হয়েছে-‘পুরাণো মে বুদ্ধ।’ সেখানে তিনি বিবেকনন্দের উক্ত বিষয়ের উপর অনেক প্রকার প্রমাণ দেখিয়েছেন। তিনি পালি ত্রিপিটকের দীর্ঘ নিকায়ের ‘তেবিজ্জ সূত্র’ এর উল্লেখ করে দেখিয়েছেন যে-‘বুদ্ধ ঈশ্বরবাদীদেরকে অন্ধদের সারি বা পংক্তি বলেছেন। কেননা , যারা ঈশ্বরের বিষয়ে বলছেন, দেখতে গেলে তাঁদের সাত পুরুষ পর্যন্ত কেহই কখনও ঈশ্বরকে দেখেননি। কেবল অন্ধের মত কপোল-কল্পিত কথাই বলে থাকেন। যেমন এক অন্ধ অন্য অন্ধদেরকে মার্গ দেখায়, এদেরও হল সেরকম স্থিতি। যে সকল অন্ধ মার্গ দর্শানোর দম্ভ করে থাকে, সে মার্গ তারা স্বয়ংও কখনও দেখেনি, কিন্তু তাদের নির্দেশিত মার্গে অন্য অন্ধরাও চলতে থাকে। এরকম অন্ধত্বই হল ঈশ্বরবাদ।’
এখানে পরিষ্কারভাবে ঈশ্বরবাদকে বুদ্ধ খণ্ডন করে দিয়েছেন। বুদ্ধ সামনে অগ্রসর হয়ে আরও কিছু উদাহরণ প্রস্তুত করেছেন। যেমন তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে-‘বৈশিষ্ট্য ঋষি যে স্ত্রীর কল্পনা করছেন, সে স্ত্রীকে তিনি কখনও দেখেননি, তবে কল্পনার পর কল্পনা করে যাচ্ছেন যে, সে স্ত্রী অনেক সুন্দর হবে, অনেক লাবণ্যময়ী হবে এরকম হবে, ওরকম হবে ইত্যাদি। সেরকম উদাহরণ দিতে দিয়ে একই সূত্রে বুদ্ধ পরে বলছেন যে-‘যে অবস্থা এরকম কামুকদের হয়, যেরকম অবস্থা ঈশ্বরবাদীদের হয়ে থাকে। যেমন সে স্ত্রীকামী না দেখেই, না জেনেই, এমনিতেই তার প্রতি কামনা করে থাকে, সেরকম ঈশ্বরবাদী বা ঈশ্বরকামীও হয়ে থাকে। এরকম লোকদের কথা কিভাবে প্রমাণিত হতে পারে? তার ঈশ্বর কি তার কল্পনা প্রসূত নয়?’ বুদ্ধ এরকম প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
এগুলি তো গেল ত্রিপিটকের কথা। যাঁরা বুদ্ধের অনুগামী লোক ছিলেন তাঁরাও ঈশ্বরবাদের জোরদার খণ্ডন করেছেন। বুদ্ধ চরিতম্ নামে সংস্কৃতে পরবর্তী সময়ে আচার্য অশ্বঘোষ দ্বারা যে কাব্য গ্রন্থ লিখা হয়েছে, সেখানেও ঈশ্বরবাদের খণ্ডন করা হয়েছে। বুদ্ধ চরিতম্ গ্রন্থের অষ্টাদশ অধ্যায়ের বিংশতিতম শ্লোকে বলা হয়েছে-‘যদি এ জগত ঈশ্বর দ্বারা রচিত হত, তাহলে এরকম অব্যবস্থিত কখনো হত না এবং কোনও প্রাণী যেমন দুঃখ হতে পীড়িত হতনা, তেমনি নানা যোনীতেও ঘুরাফিরা করতনা। যেরকম তুমি বলছ।’ অর্থাৎ অন্য ঈশ্বরবাদীদের উপর এখানে কটাক্ষ করে বলছেন।
এ পুস্তকের পরবর্তী দ্বাবিংশতি শ্লোকে আবার বলা হয়েছে-‘যদি সত্যিকার অর্থে ঈশ্বর হয়ে থাকত, তাহলে ঈশ্বরের সম্পর্কে কখনও সন্দেহ যেমন উৎপন্ন করতনা, তেমনি বিপত্তির সময় ঈশ্বরকে কেহ অপশব্দও করতনা এবং অন্য দেবী-দেবতাদেরও পূজা করতনা।’
ইহা হল বুদ্ধ চরিতমের কথা। এ বিষয়ে লাইনে অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যেগুলি উল্লেখ করলে আলেখ্যের কলেবরই কেবল বৃদ্ধি পাবে। সেগুলির সর্বত্রই কেবল ঈশ্বরকে খণ্ডনই খণ্ডন করা হয়েছে।
এখানে আরেকটি গ্রন্থের উল্লেখ করব। তা হল চর্যাবতার। সে গ্রন্থের প্রজ্ঞা পারমিতায়ও এ বিষয়ে লিখা হয়েছে। গ্রন্থের লেখক হলেন আচার্য শান্তিদেব। তিনি লিখেছেন যে-‘ যদি তুমি ঈশ্বরের কথা বলে থাক এবং তাকে সৃষ্টির রচয়িতা বলে থাক, তাহলে তোমাকে ইহা প্রমাণ করতে হবে যে, ঈশ্বর নামক কোন কিছু রয়েছে এবং এর অস্তিত্ব রয়েছে। ( বোধি চর্যাবতার, প্রজ্ঞা পারমিতা, শ্লোক নং ১১৯)।
আপনি সুপ্রসিদ্ধ বৌদ্ধ দার্শনিক ধর্মকীর্তির (ষষ্ট বা সপ্তম শতাব্দী) নাম শুনে থাকবেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘প্রমাণ বর্তিকা’র স্ববৃত্তিতে এতটুকু পর্যন্ত লিখেছেন যে-‘ঈশ্বরকে মান্য করা বা ইহা বলা যে, ঈশ্বর দুনিয়া বানিয়েছেন, ইহা হল মুর্খ ব্যক্তির পাঁচ লক্ষণের মধ্যে একটি। ( প্রমাণ বর্তিকা, স্ববৃত্তি, অধ্যায় ১, শ্লোক-৩৪২)।
অর্থাৎ বুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বৌদ্ধ সাহিত্যেই ঈশ্বরকে খণ্ডন করা হয়েছে। তাও সম্পূর্ণ পরিস্কার ভাবে। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ কেন দেখতে পাননি যে, বৌদ্ধদের দ্বারা ঈশ্বরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে? বিবেকানন্দের কি বিবেক শূণ্য হয়ে গিয়েছিল? আসলে তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই এজেন্ট। আমরা দেখতে পাই যে, বিবেকানন্দ অনেক ভ্রামক সমাচার প্রসারিত করে বুদ্ধকে ব্রাহ্মণীকরণ করেছেন এবং তিনি আরও অনেক ভ্রামক প্রচার করে রেখেছেন। সমগ্র ভারতবাসী তথা সারা বিশ্বের মনুষ্য সমাজ এ সকল ব্রাহ্মণ্য পাঠক কিনবা লেখকরা চিনতে ও বুঝতে পারে।
🙏সাধু🌺সাধু🙏সাধু🙏