Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh: PBSB

Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh: PBSB Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh is an ancient Theravadin Monastic Sangha in CHT's, Bangladesh. Estd: 1958

একবিংশ শতাব্দীতে ভিক্ষুসংঘ: আধুনিক মনন ও প্রাচীন বিনয়ের এক অপূর্ব সমন্বয় লিখেছেন: ভিকখু বিপস্সি সময় গতিশীল। সময়ের পরিক্র...
26/03/2026

একবিংশ শতাব্দীতে ভিক্ষুসংঘ: আধুনিক মনন ও প্রাচীন বিনয়ের এক অপূর্ব সমন্বয়

লিখেছেন: ভিকখু বিপস্সি

সময় গতিশীল। সময়ের পরিক্রমায় ভৌগোলিক পটপরিবর্তন হয়। বস্তু পরিবর্তন ঘটে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের পালাবদল হয়। একই সাথে মানুষের খাদ্যাভাস, জীবনযাত্রা ও চিন্তারও প্রতিফলন ঘটে। বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজকের একবিংশ শতাব্দীতে এসে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের স্বরুপতা ও মননশীলতা কেমন হওয়া উচিত-তা নিয়ে বৌদ্ধ দর্শনের মৌলিক নীতিবিধানকে সমুন্নত রেখে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করা যেতে পারে। আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে সময় বদলায় কিন্তু বিনয় বা নৈতিকতার ভিত্তি অপরিবর্তিত থেকে যায়। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এটিও মনে রাখতে হবে, আধুনিকতা মানে বুদ্ধের শিক্ষাকে বাদ দিয়ে নয় সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থায় অবদান রাখা: বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল একজন ভিক্ষু হিসেবে ত্রিপিটক মূখস্থ বা একমুখী শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না বরং বুদ্ধি, বিবেচনা, যোগ্য ও দক্ষতার সাথে লব্দ জ্ঞানকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বুদ্ধের বাণীকে নিছক অলৌকিকভাবে উপস্থাপন না করে বরং তাত্ত্বিক, বিশ্লেষণধর্মী, যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্বপ্নবাজ তরুণ প্রজন্মের দৌড়গড়ায় পৌছে দেয়া। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, বিশ্ব ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্যক স্বচ্ছধারণা থাকা প্রয়োজন। ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করা। ধর্মপ্রচারের সুবিধার্থে মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা। যাতে করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধের অহিংস নীতি ও সাম্যর বাণী তুলে ধরতে সহজতর হয়। তথ্য প্রযুক্তি ও মিডিয়া লিটারেসির মাধ্যমে ইন্টারনেট জগতে ভূল তথ্য বা অপপ্রচার রোধে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সচেতন ও দক্ষতা অর্জন করা। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সদ্ধর্মের প্রচার ও প্রসারে সোশ্যাল মিডিয়াকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা। নেট দুনিয়ায় অনলাইন ধম্মক্লাস, কাউন্সেলিং করা। তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মতত্ত্বে সম্যক ধারণা রাখা। অর্থাৎ, সদ্ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা। এতে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। একবিংশ শতাব্দীতে ভিক্ষুসংঘকে সংকীর্ণ মানসিকতার উর্ধ্বে গিয়ে মৈত্রীর রসায়নে সকল ধর্ম ও বর্ণ মানুষের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সচেতন থাকা।

সক্রিয় সামাজিক ভূমিকা রাখা: ভিক্ষুসঙ্ঘ কেবল পূজনীয় অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মহিত ও পরহিতে কাজ চালিয়ে নেয়া। কেবলমাত্র অরণ্যচারী কিংবা বিহারবাসী হয়ে নয় বরং সমাজের সংকটে সক্রিয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বৌদ্ধ বিহারসমূহকে নিছক উপাসনালয় নয় বরং জ্ঞানচর্চার আদর্শ পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলা। যেখানে তরুণ প্রজন্ম নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ চিন্তার খোরাক পাবে। বর্তমান ভোগবাদী সমাজব্যবস্থায় মানুষ নানা মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। মানসিক বিষন্নতা, অবসাদগ্রস্থ মানুষকে পরিত্রাণে বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর হিসেবে মেডিটেশন বা ধ্যানের মাধ্যমে মানুষের দুশ্চিতা দূর করতে সাহায্যে করতে পারে। একই সাথে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে- যা কিছু অহিতকর, পরিহানীমূলক, কলহ-অশান্তি সৃষ্টি হয়, মাদক বাণিজ্য ও সূরাপানের কুফল এবং জাতিগত বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল, পাঠাগার ও দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিচালনায় জনসচেতনতা তৈরি করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীতে সেবামূলক কাজে অংশ নিয়ে আর্তমানবতায় সেবায় নিবেদিত হওয়া।

পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি ও অবদান রাখা: গৌতমের জন্ম, সিদ্ধিলাভ, ধর্মপ্রচার, ভ্রমণ এবং নির্বাণ সবকিছু পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্ক ছিল। তিনি প্রকৃতিকে পছন্দ করতেন। তাঁকে প্রকৃতিপ্রেমী বললেও অমূলক হবে না। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত বিধি এবং সকল প্রাণীর সাথে সহাবস্থানের আহ্বান করে গেছেন। বৈশ্বিক দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন এবং সংকট মোকাবেলায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, প্লাস্টিক পণ্য বর্জন এবং অরণ্য সংরক্ষণে ভিক্ষুগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

চারিত্রিক নির্মলতা ও বিনয় রক্ষা: ভোগবাদী সমাজে ভিক্ষুদের সরল জীবনযাপন আত্মমুক্তির সহায়ক। লোভহীন, অর্থ ও সম্পদের মোহে না পড়ে ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল থাকা। ত্যাগ ও সরল জীবনযাপনে আদর্শ জীবনশৈলী গঠন করা। মধ্যমপন্থায় প্রজ্ঞানুশীলন করা। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করা যাতে তাঁর উপস্থিতিতে অনুসারিদের মনে প্রশান্তি আসে। কেননা, ভিক্ষুদের গ্রহণযোগ্যতা মূলত তাদের সংযমতা ও বিনয়ে। একবিংশ শতাব্দীতে ভিক্ষুগণ হবে আধুনিক, বাস্তববাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক অন্যদিকে বিনয়ী ও তপোনিষ্ঠ। তাঁরা সমাজের আলোকবর্তিকা, প্রজ্ঞা ও করুণার মাধ্যমে অশান্ত পৃথিবীকে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিবেন।

ভবতু সব্বমঙ্গলম- জগকে সর্বদা মঙ্গল বিরাজ করুক।



14/03/2026
পাভিসবা এর কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলন এবং মহামান্য সংঘরাজ ও উপসংঘরাজ অভিষেক অনুষ্ঠান - ২০২৬ খ্রি. এর আজ ২য় দিনে ৫ম মহামান...
13/03/2026

পাভিসবা এর কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলন এবং মহামান্য সংঘরাজ ও উপসংঘরাজ অভিষেক অনুষ্ঠান - ২০২৬ খ্রি. এর আজ ২য় দিনে ৫ম মহামান্য সংঘরাজ ও উপসংঘরাজ ভান্তেকে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধু ও জয়ধ্বনিতে অনুষ্ঠানমঞ্চে আগমনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলা বহু জৈষ্ঠ্য জ্ঞানী-গুনী ও প্রাজ্ঞ ভিক্ষুসংঘ উপস্থিত ছিলেন। সাবেক কেন্দ্রীয় সম্পাদক ভদন্ত শীলপাল মহাথেরো ও বর্তমান সম্পাদক ভদন্ত লোকমিত্র থের মহোদয়ের সঞ্চলনায় এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি যথাযোগ্য মর্যাদায় শেষ হয়।
সভার শুরুতে সর্বস্তরের জনগণ নব অধিষ্ঠিত মহামান্য সংঘরাজ ও মাননীয় সংঘরাজ ভান্তেদের পুষ্পপূজা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তারপর উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ ও দায়ক-দায়িকাবৃন্দ পাভিসবা এর প্রয়াত ৪ জন মহামান্য সংঘরাজকে বন্দনা নিবেদন করে মঞ্চে আসন গ্রহণ করলে অনুষ্ঠান যথারীতি শুরু হয়। দায়ক-দায়িকাদের পঞ্চশীল প্রদান করেন সংঘরাজ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো এবং দানোৎসর্গ করে দেন ভদন্ত তি রত্তন জ্যোতি থেরো মহোদয়। তারপর বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, মহানগর শাখাসহ ব্যক্তিবিশেষ এবং উপজেলা প্রশাসন, কার্বারী-হেডম্যান এসোসিয়েশন, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিহার সংস্থা হতে শ্রদ্ধেয় নব অধিষ্ঠিত মহামান্য সংঘরাজ ও মাননীয় উপসংঘরাজ ভান্তেদেরকে পুষ্পস্তবক, ক্রেস ও নানান শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বিদের বক্তব্যর পর মাননীয় উপসংঘরাজ ভান্তে ও সংঘরাজ ভান্তে আশীর্বাদমূলক উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্য মূল্যবান বক্তব্য দেন। তারপর সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে আজকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেন।

13/03/2026

৫ম মহামান্য সংঘরাজ ও মাননীয় উপসংঘরাজ ভান্তেদের অভিষেক ও ধর্মানুষ্ঠান - ২৬ খ্রি.
🙏🙏🙏

পাবলাখালী শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, দীঘিনালা, খা৩গড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলন ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দ📅 ১২ মার্চ ২০২৬ খ্রি.এবংসংঘরাজ ও উপসংঘরাজ অভিষেক অন...
12/03/2026

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় বার্ষিক সম্মেলন ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দ
📅 ১২ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
এবং
সংঘরাজ ও উপসংঘরাজ অভিষেক অনুষ্ঠান
📅 ১৩ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
📍 স্থান: পাবলাখালী শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গন
🎉 আয়োজনে: পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ, দীঘিনালা উপজেলা শাখা
চলমান এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অনুষ্ঠানের কিছু স্থির চিত্র।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও ভক্তিময় পরিবেশে আজ সমবেত হয়েছেন অসংখ্য ভিক্ষুসংঘ।

12/03/2026

সংঘরাজ ও উপসংঘরাজ ভান্তের সম্মেলনে আগমন। 🙏🙏

মাননীয় ভিক্ষু সংঘ,সম্মানিত সুধি,বন্দনা ও মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।আপনারা সকলেই অবগত রয়েছেন যে, আগামী ১২-১৩ মার্চ ২০২৬ ...
06/03/2026

মাননীয় ভিক্ষু সংঘ,সম্মানিত সুধি,
বন্দনা ও মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আপনারা সকলেই অবগত রয়েছেন যে, আগামী ১২-১৩ মার্চ ২০২৬ দুই দিন ব্যাপী পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রিয় বার্ষিক সম্মেলন এবং সংঘরাজ, উপসংঘরাজ বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আপনারা নিজ নিজ উপজেলা,জেলা সদর শাখা, পৌর শহর শাখা পক্ষ থেকে সকলেই উপস্থিত থেকে সম্মেলন ও অভিষেক অনুষ্ঠান সাফল্য মন্ডতি ও গৌরবান্বিত করার জন্য সানুনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিনীত
লোকমিত্র থের
সম্পাদক
কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটি
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ।

অনিত্য সংবাদপার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ পানছড়ি শাখার বর্ষীয়ান সংঘ সদস্য, সদ্ধর্মানুরাগী, পাকুজ্জ্যাছড়ি মিলন বৌদ্ধ বিহার...
17/02/2026

অনিত্য সংবাদ

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ পানছড়ি শাখার বর্ষীয়ান সংঘ সদস্য, সদ্ধর্মানুরাগী, পাকুজ্জ্যাছড়ি মিলন বৌদ্ধ বিহারের সুযোগ্য বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত নন্দবংশ মহাথেরো (৮৫ বৎসর) আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রি. সকাল ৯.০০ টা প্রয়াত হয়েছেন। তিনি পবিত্র বুদ্ধশাসনে বুদ্ধকুলপুত্র হিসেবে সুদীর্ঘ ২৩ টি বর্ষা যাপিত করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধদের কাছে তার এই ত্যাগের মহীমা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh: PBSB এর পক্ষ হতে প্রয়াত ভদন্ত নন্দবংশ মহাথেরো পারলৌকিক নির্বাণসুখ কামনায় পূণ্যদান করছি।

মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্হবির এর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর মাননীয় উপসংঘ...
30/01/2026

মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্হবির এর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর মাননীয় উপসংঘরাজ ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের মহোদয়ের গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলির উদ্বোধনী বক্তব্য
---------------------------------------------------------------------

আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ শুক্রবার
মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্হবির এর জাতীয় অন্তেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত তিনদিন ব্যাপি জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চে উপবিষ্ট পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ, মাননীয় সভাপতি, আশীর্বাদকবৃন্দ, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ ও সদ্ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকাবৃন্দ সকলকে যথাযোগ্য সম্মান, শ্রদ্ধা, বন্দনা, মৈত্রীপূর্ণ শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাচ্ছি।

আজ আমার গুরুভান্তের শেষ বিদায়ের সন্ধিক্ষণে আমরা উপনীত হয়েছি। মহাপূণ্যানুষ্ঠান সমাপ্তির পর গুরুভান্তেকে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তাঁর দেহধাতুর রাজসিক বিদায় হবে। এ দৃশ্য আমার ও আমাদের হৃদয়বিদারক হলেও জাগতিক বাস্তবতায় আমরা সকলেই অবতীর্ণ। তাঁর অনুপস্থিতি সমগ্র বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমাজে অপূরণীয় ক্ষতি এবং তা কখনো পূরণ হবার নয়। তাঁর শুণ্যতা বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজে দীর্ঘকাল বহমান থাকবে।

অগ্রমহাপণ্ডিত ড. গুরুভান্তের জীবন দর্শন ও কর্ম পার্বত্য অঞ্চলের বৌদ্ধ সমাজসহ এ অঞ্চলের আপামর মানুষের সমাজ জীবনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মহামতি গৌতম বুদ্ধের নির্দেশিত ‘চরথ ভিক্খবে বহুজন হিতায় বহুজন সুখায়’ শিক্ষা সফল প্রয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ে সমাজ পরিবর্তনের পথ প্রদর্শক হলেন মহান এ সাংঘিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর এ অবদান আমরা পাহাড়ের মানুষ কখনো অস্বীকার করতে পারি না।

গুরুভান্তে ১৯৫৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মহালছড়ি উপজেলায় সনামধন্য চেয়ারম্যান বিন্দু কুমার খীসার আমন্ত্রণে মুবাছড়ি গৌতম বিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। কাপ্তাই বাঁধের কারণে মুবাছড়ি গৌতম বিহার জলমগ্ন হলে ১৯৬০ সালে দিঘীনালাস্থ বোয়ালখালী দশবল রাজ বিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে আমন্ত্রিত হন। সেখানে তিনি সর্বপ্রথম ধর্মোদয় পালিটোল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টল বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।

অগ্গমহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধ্বজ উপাধিপ্রাপ্ত গুরুভান্তের আগমণ ছিলো পাহাড়ের মানুষের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ। তিনি কেবল সদ্ধর্ম প্রচারের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। আশ্রমভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে অনাথ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষা দিয়ে তিনি সমাজ রূপান্তরের সূচনা করেন। সদ্ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা বিস্তারের জন্য বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দান-দক্ষিণা থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে এবং তাঁর সার্বিক নির্দেশনায় মোনঘর প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭৪ সালে। সে প্রতিষ্ঠান আজও স্বমহিমায় পাহাড়ে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। মোনঘর প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে প্রায় সাত হাজারের অধিক ছাত্র ছাত্রী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত দেশে ও বিদেশে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি ছাত্র ছাত্রী প্রথম থেকে দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছে। এসব মহাকর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে একমাত্র গুরুভান্তের নির্দেশনায় ও আশীর্বাদে।

পাহাড়ের আদিবাসী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও সমতলের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সাথে সৌভ্রাতৃত্ব সম্পর্কের সেতুবন্ধনকারী ছিলেন গুরুভান্তে। তাঁর আগমণের ফলে সমতলে এসে বহু আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করেছে ও করে যাচ্ছে। এজন্য আমি সমতলের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিকট গভীর কুতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি গুরুভান্তের দেখানো পথ অনুসরন পূর্বক পাহাড়ের আদিবাসী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও সমতলের বড়ুয়া বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সাথে সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

পার্বত্য অঞ্চলে বিশুদ্ধ থেরবাদী সদ্ধর্ম শিক্ষা জাগরণের জন্য সুসংগঠিত ভিক্ষু সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৫৮ সালে একদল তরুন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিয়ে পার্বত্য চট্টল ভিক্ষু সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন রাজগুরু শ্রদ্ধেয় অগ্রবংশ মহাথের। পরবর্তীতে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়। সেসময় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সর্বজনগ্রাহ্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও ষষ্ঠ সংগীতিকারক রাজগুরু শ্রদ্ধেয় অগ্রবংশ ভান্তের সাথে গুরুভান্তের সম্পর্ক অত্যন্ত মাধুর্য ছিল। গুরুভান্তে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে সদ্ধর্ম প্রচার ও প্রসারে সহায়ক শক্তি হিসেবে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর প্রত্যেক সদস্য গুরুভান্তেকে গুরু সদৃশ সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। গুরুভান্তে বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন উক্ত সংগঠনে আমরা দুইজন তাঁর শিষ্য অগ্রজ প্রজ্ঞানন্দ ভান্তে সংঘরাজ ও আমি শ্রদ্ধালংকার ভিক্ষু উপসংঘরাজ হিসেবে মনোনীত হয়েছি।

তখনকার সময়ে আমরা তাঁর স্নেহধন্য শিষ্য মধ্যে আমার অগ্রজ শ্রদ্ধেয় বিমলতিষ্য মহাথের, অগ্রজ শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, অগ্রজ প্রিয়তিষ্য ভিক্ষু, আমি শ্রদ্ধালংকার ভিক্ষু ও জিনপাল ভিক্ষু। পাহাড়ে আমাদেরকে তখনকার সময়ে গুরুভান্তের পঞ্চপাণ্ডব শিষ্য হিসেবে অবিহিত করতেন। যদিও পরবর্তী সময়ে প্রিয়তিষ্য ভিক্ষু ও জিনপাল ভিক্ষু প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে গৃহী জীবনে ফিরে গেছেন। আমরা তিনজন যথাক্রমে অগ্রজ বিমলতিষ্য ভান্তে ৫৯ বর্ষা, অগ্রজ প্রজ্ঞানন্দ ভান্তে ৫৬ বর্ষা ও আমি শ্রদ্ধালংকার ভিক্ষু ৫৪ বর্ষা ভিক্ষু জীবনে অবতীর্ণ হয়েছি। আমাদের দীর্ঘ প্রব্রজ্যা জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না।
গুরুভান্তের পরম মমতায় ও সহযোগিতায় আমার বা আমাদের অর্বাচীন সমাজে কন্টকময় পথ অতিক্রম করে এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি।

শেষ বিদায় লগ্নে গুরুভান্তের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাঁর নৈর্বানিক সুখ কামনায় পূণ্য দান করছি। গুরুভান্তের নির্দেশিত পথ আমৃত্যু পর্যন্ত যেন লালন করতে পারি মহাসংঘের নিকট এ প্রার্থনা করছি।
পরিশেষে গুরুভান্তের স্নেহের ছায়ায় থেকে যদি অজ্ঞতাবশত কোন অপরাধ করে থাকি
গুরুভান্তে আমাকে ক্ষমা করুন
গুরুভান্তে আমাকে ক্ষমা করুন
গুরুভান্তে আমাকে ক্ষমা করুন।
সব্বে সত্ত্বা সুখীতা হোন্তু

Address

Moitree Vihara, Kataltoli, Banarupa
Rangamati
4500

Opening Hours

Monday 08:30 - 22:00
Tuesday 08:30 - 22:00
Wednesday 08:30 - 22:00
Thursday 08:15 - 22:00
Friday 08:30 - 22:00
Saturday 08:30 - 22:00
Sunday 08:30 - 22:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh: PBSB posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh: PBSB:

Share

Most Respected Venerable Rajguru Aggabamsha Mahathera who was joined the Sixth Buddhist Council as a Bangladeshi.

Born: November 23, 1913, Demised: January 5, 2008, Rajguru Aggavamsa Mahathera founder of Parbatya Bhikkhu Sangha Bangladesh.