30/07/2026
#রাজবন_বিহারের_দুটি_বিরল_পাথর_প্রসঙ্গে!
➡️১৯৮৪ সালের কোন একসময় রাজবন বিহারের দেশনালয়ে পরমপূজ্য বনভন্তে জুরাছড়ি থানার মিতিঙ্গছড়ি গ্রামের নিবাসী বিশিষ্ট দায়ক বাবু উপেন্দ্র লাল চাকমা(ইনি রাজবন বিহারের শ্রদ্ধেয় জ্ঞান প্রিয় মহাস্থবির মহোদয়ের গৃহী পিতা)'কে ডেকে বললেন যে, "তোমাদের মিতিঙ্গাছড়ি ছড়ার পাশে পদ্মাসনে বসা চিহ্ন বিশিষ্ট দু'টি গোলাকার পাথর আছে। ঐ পাথর দু'টি এখানে নিয়ে এসো।" পূজ্য বনভন্তের এবম্বিধ ইঙ্গিত ও নির্দেশ পেয়ে উপেন্দ্র লাল বাবু জনৈক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে দু'টো পাথরের খোঁজ বনভন্তেকে অবগত করালে পূজ্য ভন্তে বলেন যে, "ঐ পাথরগুলো নয়, আরো পাথর নতুন করে খোঁজাখুঁজি করে সেগুলো বের করো"। পরবর্তীতে বাবু উপেন্দ্র লাল চাকমা পাথর দু'টি সংগ্রহ করার খবর তাঁকে দিলে তিনি পাথরগুলো রাজবন বিহারে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে বনভন্তে নির্দেশে পাথরগুলো নিয়ে আসার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে লুলাংছড়ি মৌজা ও কুসুমছড়ি মৌজার লোক একত্রে মিলে পাথর দু'টি রাজবন বিহারে নিয়ে আসেন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, ঐ পাথর দু'টি নিয়ে সাধারণ জনতার মাঝে খুবই আগ্রহ সৃষ্টি হয় যে, 'বনভন্তে কেন পাথর দু'টি আনতে বললেন!' তাই এ সম্বন্ধে বনভন্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, বহু অতীত কালে মুনি-ঋষিরা ঐ পাথর দু'টিতে উপবেশন করে ধ্যান-সাধনা করেছিলেন। অতীব আশ্চর্যের বিষয়, সে সময় (১৯৮৪ ইং সন) পূজ্য বনভন্তে কখনও জুরাছড়ি এলাকায় যায়নি। এরপর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐ পাথর দু'টি উৎসর্গ করা হয়। আর সে-ই অনুষ্ঠানে পূজ্য বনভন্তে পাথরগুলোর উপর উপবেশন করে দেশনা প্রদান ও অনুষ্ঠান কার্য সম্পাদন করেন।
পাথরগুলো দেখতে অনেকটা গোলাকৃতির। সেগুলোর উপরিভাগ পদ্মাসন উপবিষ্ট হওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যামান রয়েছে। পাথরগুলো রাজবন বিহারে নিয়ে আসার পর বনভন্তের নির্দেশ পাথরগুলো উপর বনভন্তের নাম, তাঁর গৃহী পিতা হারুমোহন চাকমার নাম, বাবু উপেন্দ্র লাল চাকমার নাম, চিত্ত সংযম প্রভৃতি কিছু লেখা হয়।
উল্লেখ্য, পাথরগুলো যে স্থান হতে খুঁজে বের করা হয়েছিল, সে স্থান স্মরণীয় করে রাখার জন্য শ্রদ্ধেয় জ্ঞানপ্রিয় ভন্তে উদ্যোগে সে স্থানে ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্বাণ করা হয়।
তথ্যসূত্র- সদ্ধর্ম আলোকিত কীর্তিমান লোকোত্তর মহামানব পূজ্য বনভন্তে।
গ্রন্থকার শোভিত ভিক্ষু।