05/03/2026
ইরান: সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু
ইরানের প্রতি আমাদের শত্রুতা ও ঘৃণার গভীর শিকড় রয়েছে।
ইরাকি লেখিকা রাগদ আবদুর রিদা আল-জাবিরি ইরানের প্রভাবাধীন মিলিশিয়াদের অধীনে বসবাসকারী জনগণের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
“পবিত্র অজ্ঞতা—এটি ইরানের তৈরি!”
যেহেতু এক সময় ইরাকিরাই ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি,
তাই ইরান তাদের জীবনকে বছরের প্রতিটি দিনে শোক ও মাতমে পরিণত করেছে।
“হুসাইন নিহত হওয়ার শোক” শেষ না হতেই শুরু হয় “হুসাইনের চল্লিশা” (আরবাঈন)।
এটি শেষ হলে শুরু হয় “ফাতিমা (জাহরা)-এর শোক”।
এরপর “আব্বাসের শোক”,
তারপর “জয়নাবের শোক”,
তারপর “কাজিমের শোক”,
তারপর “শাবানিয়া”,
তারপর “সাজ্জাদের শোক”,
তারপর “মুসাওয়ীর শোক” —
এভাবেই সারা বছর ধরে চলতে থাকে।
প্রতি বছর মুহাররম মাসে “আশুরার শোক” নামে এসব কর্মসূচির সূচনা হয়।
এদিকে সারা বছর ইরাকিরা দৌড়াচ্ছে
নাজাফ থেকে কারবালা,
কারবালা থেকে সামররা—যেখানে তথাকথিত “সার্দাব” (গর্ত) আছে।
এক কবর থেকে আরেক কবর,
এক মাতম থেকে আরেক মাতমে।
অন্যদিকে একই সময়ে ইরান নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে
একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে,
সামরিক শিল্প ও অস্ত্র উৎপাদনে,
বিভিন্ন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে—
এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথেও তারা বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এটি সেই ফারসি কূটচাল, যার মাধ্যমে ইরানের পাগড়িধারী আলেমরা ইরাকিদের জীবনকে এমন করুণ অবস্থায় নিয়ে গেছে যে তারা ইরানি দর্শনার্থীদের পা ধোয়া ও মালিশ করাকেও জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়ার কাজ বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে—তারা পরে যা-ই করুক না কেন।
এজন্য তারা এই কাজের জন্য প্রতিযোগিতা করে।
ইরানের সহযোগিতায় এবং তাদের আমেরিকান মিত্রদের সহায়তায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে সেই বিশাল ইরাকি সেনাবাহিনীকে,
যে সেনাবাহিনী আট বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে ছিল।
তার বদলে তারা নতুন এক বাহিনী গঠন করেছে:
• একটি অংশ হুসাইনের দর্শনার্থী ও বিভিন্ন মাজার রক্ষা করে
• আরেক অংশ রাস্তার মধ্যে ছড়িয়ে থাকে—বিভিন্ন সামরিক পদমর্যাদার লোকেরা মাথায় মাংস-ভাত ভরা পাত্র বহন করে ইরান ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের খাওয়ানোর জন্য।
এটাই আজকের ইরাকের অবস্থা।
অথচ আশির দশকের শেষে ইউনেস্কো ঘোষণা করেছিল যে মধ্যপ্রাচ্যে নিরক্ষরতা দূর করতে সক্ষম প্রথম দেশ ছিল ইরাক।
জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিক পতন সামরিক পতনের চেয়েও বেশি ভয়াবহ, বেশি কঠিন ও বেশি বিপজ্জনক।
এই কারণেই প্রিয় ইয়েমেনে বর্তমানে এত বেশি উৎসব ও অনুষ্ঠান দেখা যায়—
এটি একই পরিকল্পনা, একই ফারসি ষড়যন্ত্র।
সাবধান হোন—
ইরান ধ্বংস করেছে
ইরাক,
সিরিয়া,
লেবানন,
ইয়েমেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে যাতে আমেরিকার কাজ সহজ হয়।
অবশেষে এক নোংরা খেলায় তারা নিজেদের অর্থ মুক্ত করার লক্ষ্যও অর্জন করেছে।
তারা একটি যুদ্ধকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে—
এবং এখন তারা জমি ও সম্পত্তি কিনতে শুরু করেছে।
ফারসিরা একটি ভুয়া ধর্মীয় আবরণের মাধ্যমে সাফাভি ফারসি সাম্রাজ্য পুনরুজ্জীবিত করতে চায়।
আরেকজন ইরানি লেখক মুহাম্মদ আত-তাহির ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন:
আল্লাহর জন্য এবং ইতিহাসের জন্য—
• তুমি যদি আফগান হও—ইরানই আমেরিকানদের কাবুলে প্রবেশে সহায়তা করেছে।
• তুমি যদি ইরাকি হও—ইরানই সেখানে সুন্নিদের হত্যা করেছে এবং আমেরিকান দখলদারিত্বকে সহায়তা করেছে।
• তুমি যদি সিরিয়ান হও—ইরানই সেই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করেছে যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে।
• তুমি যদি লেবানিজ হও—ইরানই তোমার রাষ্ট্রকে দুর্বল করে মিলিশিয়া তৈরি করেছে যার নাম দিয়েছে “হিজবুল্লাহ”।
• তুমি যদি ইয়েমেনি হও—ইরানই হুথিদের সমর্থন দিয়ে তোমার দেশ ধ্বংস করেছে।
• তুমি যদি শির্কের বিরুদ্ধে হও—ইরানই কবর ও মাজারকে উপাসনার স্থান বানিয়েছে।
• তুমি যদি অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ নেওয়ার বিরুদ্ধে হও—ইরান “খুমুস” নামে মানুষের সম্পদ নেওয়াকে বৈধ করেছে।
• তুমি যদি ব্যভিচারের বিরুদ্ধে হও—ইরান “মুতআ বিবাহ” নামে এটিকে প্রচার করে।
• তুমি যদি রাসূল ﷺ-কে ভালোবাসো—ইরান রাসূল ﷺ-এর সম্মানকে আঘাত করেছে এবং তাঁর স্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছে।
• তুমি যদি সাহাবীদের ভালোবাসো—ইরান তাদের গালি দেয় ও অভিশাপ দেয়।
• তুমি যদি নবীর সুন্নাহ ভালোবাসো—ইরান তা অস্বীকার করেছে।
• তুমি যদি মুনাফিকি, মিথ্যা, বিশ্বাসঘাতকতা ও অঙ্গীকার ভঙ্গকে ঘৃণা করো—
ইরান “তাকিয়্যা” নামে এসবকে বৈধ করেছে।
• তুমি যদি আল্লাহর কিতাব কুরআন ভালোবাসো—
ইরান কুরআন নিয়েও সন্দেহ সৃষ্টি করে।
• আর তুমি যদি ইরানের প্রতিবেশী হও—
তাহলে নিশ্চিত হও যে তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
“ফারসিদের না আছে ধর্ম, না অঙ্গীকার, না নৈতিকতা।”
এটাই ইরান এবং এটাই তাদের ভূমিকা।
এই শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহর উপর নেমে আসা সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন এটি—
বরং এটি আরব ও মুসলিমদের প্রথম শত্রু।
তাই —
ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত।
আজ যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে— (আম্রিকা) তারাই এক সময় তাকে শক্তি দিয়েছিল।
এটি আল্লাহর কৌশল—যেখানে অত্যাচারীদের ষড়যন্ত্র তাদের নিজেদের উপরই ফিরে আসে এবং তারা একে অপরকে ধ্বংস করে।
প্রতিটি স্বাধীনচেতা ইরানি, আরব ও মুসলিমের উচিত এই শাসনের পতনে আনন্দিত হওয়া—
এবং এই পতনে কেবল এই উম্মাহর বিচ্যুত লোকেরাই দুঃখিত হবে।
- লিখেছেন ড. আবদুস সালাম তালিব