উত্তর চন্ডীপুর মেহের আলী মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Ramganj
  • উত্তর চন্ডীপুর মেহের আলী মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ

উত্তর চন্ডীপুর মেহের আলী মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ ফি সাবিলিল্লাহ

নামাজ ও সিজদাহ্ হলো আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি যোগাযোগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সিজদাহ্ কেবল একটি শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং এট...
21/05/2026

নামাজ ও সিজদাহ্ হলো আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি যোগাযোগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সিজদাহ্ কেবল একটি শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং এটি চরম বিনয় ও আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।

​নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সিজদাহর গুরুত্ব এবং পেরেশানি মুক্তির উপায়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১. সিজদাহ্ বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছে নিয়ে যায়

​মানুষ যখন সিজদাহ্ করে, তখন সে দুনিয়ার সব মোহ ছেড়ে দিয়ে তার সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ (কপাল) মাটিতে ঠেকিয়ে দেয়। এই বিনয় আল্লাহ খুব পছন্দ করেন।

​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সিজদারত থাকে। সুতরাং তোমরা (সিজদায়) বেশি বেশি দোয়া করো।"
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৮২)

​২. বিপদ ও দুশ্চিন্তায় নামাজের নির্দেশ (কুরআনের আলো)

​আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, জীবনের কঠিন সময়ে ধৈর্য এবং নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে।

​কুরআনের আয়াত:
"তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।"
— (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪৫)

​অর্থাৎ, যখনই মনে হবে পেরেশানি আপনাকে ঘিরে ধরেছে, তখনই সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন। আল্লাহ আপনার মনের ভার লাঘব করে দেবেন।

​৩. সিজদাহ্ মনের সংকীর্ণতা ও অস্থিরতা দূর করে

​রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যখনই কোনো বড় দুশ্চিন্তা আসত, তিনি দ্রুত নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আল্লাহ তাআলা রাসূল (সা.)-কে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন:

​কুরআনের আয়াত:
"আমি জানি যে, তাদের (কাফিরদের) কথা তোমার মনে কষ্ট দেয়। সুতরাং তুমি তোমার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং সিজদাহ্ কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।"
— (সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯৭-৯৮)

​এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মানুষের কটু কথা বা দুনিয়াবি কোনো চাপ যখন মনকে বিষিয়ে তোলে, তখন সিজদাহ্ প্রশান্তির মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।

​৪. গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি

​অনেক সময় আমাদের জীবনে পেরেশানি আসে আমাদেরই করা কোনো ভুলের কারণে। সিজদাহ্ করলে আল্লাহ সেই গুনাহগুলো মুছে দেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।

​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে বেশি বেশি সিজদাহ্ করো। কেননা তুমি যখনই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি সিজদাহ্ করো, আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন।"
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৭৫)

​৫. সিজদাহ্ হলো জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম

​আমরা দুনিয়ার পেরেশানি নিয়ে চিন্তিত থাকি, কিন্তু সিজদাহ্ আমাদের চিরস্থায়ী জীবনের দুশ্চিন্তাও দূর করে দেয়। একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এক খাদেম রাবীআহ বিন কাব (রা.)-এর কাছে নবীজী জানতে চাইলেন, "তুমি আমার কাছে কী চাও?"

​রাবীআহ (রা.) বললেন, "আমি জান্নাতে আপনার সাথী হতে চাই।"
রাসূল (সা.) বললেন, "তাহলে তুমি বেশি বেশি সিজদার মাধ্যমে (অর্থাৎ নফল নামাজ পড়ে) আমাকে সাহায্য করো।"
— (সহিহ মুসলিম)

​অর্থাৎ, সিজদাহ্ কেবল দুনিয়ার বিপদ নয়, পরকালের কঠিন পথও সহজ করে দেয়।

​৬. সিজদাহ্ শয়তানকে পরাজিত করে

​মানুষের মনের অধিকাংশ পেরেশানি ও কুচিন্তা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। যখন কোনো মুমিন সিজদাহ্ করে, শয়তান তখন চরম হতাশ ও লজ্জিত হয়ে পড়ে।

​রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যখন মানুষ সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদাহ্ দেয়, তখন শয়তান দূরে গিয়ে কাঁদতে থাকে আর বলে— হায় আফসোস! আদম সন্তানকে সিজদার আদেশ দেওয়া হলো আর সে সিজদাহ্ করে জান্নাতী হলো, কিন্তু আমাকে সিজদার আদেশ দেওয়া হয়েছিল আর আমি অবাধ্য হয়ে জাহান্নামী হলাম।"
— (সহিহ মুসলিম)

​শয়তান যখন আপনার থেকে দূরে সরে যাবে, আপনার মনের অস্থিরতা ও কুমন্ত্রণা এমনিতেই কমে আসবে।

​৭. সিজদাহ্ মানুষের চেহারায় নূর ও মনে প্রশান্তি আনে

​সিজদার প্রভাব কেবল আত্মিক নয়, শারীরিকও। সিজদাহ্ করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা মানসিক চাপ (Stress) কমাতে সাহায্য করে। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

​"তাদের কপালে সিজদার চিহ্ন থাকবে।"
— (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯)

​মুফাসসিরিনগণ বলেন, এই চিহ্ন কেবল দাগ নয়, বরং এটি হলো ইবাদতের সেই নূর যা একজন মুমিনের চেহারায় প্রশান্তি হয়ে ফুটে ওঠে। যার চেহারা ও মনে আল্লাহর নূর থাকে, দুনিয়ার ছোটখাটো বিপদ তাকে বিচলিত করতে পারে না।

​৮. শোকরের সিজদাহ্ (সিজদায়ে শোকর)

​পেরেশানি কমানোর একটি বড় চাবিকাঠি হলো কৃতজ্ঞতা। যখনই কোনো খুশির খবর পাবেন বা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পাবেন, তৎক্ষণাৎ সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন।

✅ ​রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো সুসংবাদ পেতেন, আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদায় পড়ে যেতেন। (আবু দাউদ)

✅ ​নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নিয়ামত বাড়িয়ে দেন এবং পেরেশানি কমিয়ে দেন।

১০. ​জীবনের ব্যস্ততায় সিজদাহ্ যেভাবে বাড়াবেন:

​✅ সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও নফল নামাজ: ফরজের পাশাপাশি সুন্নাত ও নফল নামাজের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন।

✅ তাহিয়াতুল ওজু: ওজু করার পর দুই রাকাত নামাজ পড়ার অভ্যাস করুন।

✅ ইশরাক ও চাশতের নামাজ: দিনের শুরুতে এই নামাজগুলো আপনার সারাদিনের কাজের জিম্মাদার আল্লাহর হাতে তুলে দেয়।

✅ সিজদায় দীর্ঘ সময় থাকা: তাড়াহুড়ো না করে সিজদায় গিয়ে অন্তত ৩ বারের বেশি (৫, ৭ বা ৯ বার) তাসবিহ পাঠ করুন এবং ধীরস্থিরভাবে আল্লাহর মহিমা অনুভব করুন।

১১. ​সারসংক্ষেপ: পেরেশানি কমাতে যা করবেন

​আপনি যদি চান আপনার মনের অস্থিরতা কমে যাক, তবে এই তিনটি কাজ নিয়মিত করতে পারেন:

✅ ​দীর্ঘ সিজদাহ্: নফল নামাজে সিজদায় গিয়ে নিজের ভাষায় (মনে মনে) আল্লাহর কাছে সব দুঃখ খুলে বলুন।

✅ ​তাহাজ্জুদ: রাতের শেষ তৃতীয়াংশের সিজদাহ্ মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

✅ ​ধৈর্য: সিজদার পর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখুন (তাওয়াক্কুল), কারণ তিনি সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।

৫ জন নবীর ৫টি দোয়া: যা "অসম্ভব"-কে "সম্ভব" করেছে! ​আমরা খুব সহজেই বলে ফেলি— "অসম্ভব!"চাকরি পাওয়া অসম্ভব," "ঋণমুক্ত হওয়া ...
05/05/2026

৫ জন নবীর ৫টি দোয়া: যা "অসম্ভব"-কে "সম্ভব" করেছে! ​আমরা খুব সহজেই বলে ফেলি— "অসম্ভব!

"চাকরি পাওয়া অসম্ভব," "ঋণমুক্ত হওয়া অসম্ভব," "সুস্থ হওয়া অসম্ভব।" কিন্তু আল্লাহর অভিধানে 'অসম্ভব' বলে কিছু নেই। তিনি শুধু বলেন "কুন" (হও) — আর তা হয়ে যায়।

​কুরআনে বর্ণিত ৫ জন নবীর এমন ৫টি পরিস্থিতি জানুন, যেখানে মানুষের সব যুক্তি ও বিজ্ঞান হার মেনেছিল, কিন্তু দোয়া বদলে দিয়েছিল সব!

​✅ ১. হযরত যাকারিয়া (আ.): যখন চিকিৎসায় অসম্ভব
​পরিস্থিতি: বৃদ্ধ বয়স, সাদা চুল, দুর্বল হাড় এবং স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা। বিজ্ঞানের ভাষায় সন্তান হওয়া ছিল অসম্ভব।
দোয়া:
​رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

(রাব্বি লা তাযারনি ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসীন)

অর্থ: "হে আমার রব, আমাকে একা রাখবেন না। আপনিই তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৯)
​ফলাফল: আল্লাহ তাঁকে বৃদ্ধ বয়সেই 'ইয়াহইয়া' (আ.)-কে দান করলেন।

শিক্ষা: মানুষ হাল ছাড়তে বললেও, আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়বেন না।

​✅ ২. হযরত মুসা (আ.): যখন শূন্য থেকে শুরু
​পরিস্থিতি: মিসর থেকে পালিয়ে মাদইয়ানে এসেছেন। হাতে টাকা নেই, থাকার ঘর নেই, খাবার নেই, এমনকি কোনো বন্ধুও নেই। একদম একা!

দোয়া:
​رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

(রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর)

অর্থ: "হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।" (সূরা কাসাস: ২৪)
​ফলাফল: আল্লাহ এক দোয়াতেই চাকরি, ঘর এবং জীবনসঙ্গী—সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিলেন।

​✅ ৩. হযরত ইবরাহীম (আ.): যখন পরিস্থিতিতে অসম্ভব
​পরিস্থিতি: বিশাল অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তিনি অটল ছিলেন।

দোয়া:
​حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

(হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল)

অর্থ: "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।" (সহীহ বুখারী)

(আল্লাহর নির্দেশ: হে আগুন, ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও। - সূরা আম্বিয়া: ৬৯)

​শিক্ষা: চারপাশের পরিস্থিতি যত উত্তপ্তই হোক, আল্লাহ চাইলে তা আপনার জন্য শান্তিময় হতে পারে।

​✅ ৪. হযরত ইউনুস (আ.): যখন উপায়ে অসম্ভব
​পরিস্থিতি: সমুদ্রের গভীরে, মাছের পেটের ভেতরে—তিন স্তরের অন্ধকারে বন্দি। বাঁচার কোনো জাগতিক উপায় নেই।

দোয়া:
​لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

(লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন)

অর্থ: "আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৭)
​ফলাফল: আল্লাহ মাছের পেট থেকে তাঁকে জীবন্ত উদ্ধার করলেন।

শিক্ষা: আপনি যদি সংকটের গভীরেও আটকে থাকেন, এই দোয়াটি আপনার মুক্তির চাবিকাঠি হতে পারে।

​✅ ৫. হযরত আইয়ুব (আ.): যখন সময়ের হিসাবে অসম্ভব
​পরিস্থিতি: দীর্ঘ ১৮ বছর কঠিন অসুস্থতা। সম্পদ, সন্তান, আত্মীয়—সব হারিয়েছেন। কিন্তু সবর হারাননি।
দোয়া:
​أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

(আন্নি মাসসানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন)
অর্থ: "আমাকে কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (সূরা আম্বিয়া: ৮৩)

​ফলাফল: ১৮ বছর পর আল্লাহ তাঁকে পূর্ণ সুস্থতা এবং হারানো সব সম্পদ দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দিলেন।

শিক্ষা: ধৈর্য ধরুন, আল্লাহর দেওয়া সময় আপনার সময়ের চেয়ে নিখুঁত।

​💡 এক নজরে ৫টি আমল:

♦️​সন্তান বা উত্তরাধিকারের জন্য: যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া।

♦️​চাকরি বা আশ্রয়ের জন্য: মুসা (আ.)-এর দোয়া।

♦️​বিপদ ও শত্রুর ভয় থেকে বাঁচতে: ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া।

♦️​সংকট ও দুশ্চিন্তা মুক্তির জন্য: ইউনুস (আ.)-এর দোয়া।

♦️​দীর্ঘদিনের রোগমুক্তির জন্য: আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া।

​আপনার জীবনের "অসম্ভব" কোনটি? আজ রাতেই জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে এই নবীগণের ভাষায় চেয়ে দেখুন। আল্লাহ আমাদের প্রতিটা নেক দোয়া কবুল করুন। আমিন।

​💬 আপনার জীবনের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কোন দোয়াটি সবচেয়ে বেশি মিলে যাচ্ছে? কমেন্টে নম্বরটি লিখুন (১/২/৩/৪/৫)।

ইসলামিক জীবনদর্শন এবং দৈনন্দিন আমলের ওপর ভিত্তি করে ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ সহিহ হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো-১) নামাজ—ইমানের সীমার...
19/04/2026

ইসলামিক জীবনদর্শন এবং দৈনন্দিন আমলের ওপর ভিত্তি করে ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ সহিহ হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো-

১) নামাজ—ইমানের সীমারেখা!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মানুষের মধ্যে কুফর ও শিরকের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৮২)

২) নিয়ত ঠিক = সব ঠিক!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”
📚 (সহিহ বুখারি: ১, সহিহ মুসলিম: ১৯০৭)

৩) ভালো কথা = জান্নাত!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬০১৮)

৪) হাসিও সদকা!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমার ভাইয়ের মুখে হাসি দেওয়া তোমার জন্য সদকা।”
📚 (সুনান তিরমিজি: ১৯৫৬)

৫) রাগ থামানোই শক্তি!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“শক্তিশালী সে নয়… বরং যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬১১৪)

৬) পবিত্রতা—অর্ধেক ইমান!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২২৩)

৭) দোয়া—ইবাদতের সারাংশ!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“দোয়া হলো ইবাদতের সারমর্ম।”
📚 (সুনান তিরমিজি: ৩৩৭১)

৮) অল্প হলেও নিয়মিত!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়—যদিও অল্প হয়।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৪)

৯) সত্য পথ দেখায়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সত্য মানুষকে নেকির দিকে নিয়ে যায়…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৬০৭)

১০) মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৬০৭)

১১) ভালোবাসা ছাড়া ইমান নয়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমরা ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসো।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৫৪)

১২) দান—গুনাহ মুছে দেয়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সদকা গুনাহ মুছে দেয়, যেমন পানি আগুন নিভায়।”
📚 (সুনান তিরমিজি: ২৬১৬)

১৩) সহজ করো, কঠিন নয়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সহজ করো, কঠিন করো না।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬৯)

১৪) ধৈর্য—আলোর মতো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“ধৈর্য হলো আলো।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২২৩)

১৫) পরিচ্ছন্নতা প্রিয়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহ পবিত্র, পবিত্রতাকে ভালোবাসেন।”
📚 (সুনান তিরমিজি: ২৭৯৯)

১৬) অহংকার—জান্নাতের বাধা!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৯১)

১৭) মানুষকে সহজ করো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মানুষের সাথে সহজ আচরণ করো।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬১২৫)

১৮) কৃতজ্ঞতা—নিয়ামত বাড়ায়!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও করে না।”
📚 (সুনান তিরমিজি: ১৯৫৪)

১৯) মুসলিম = নিরাপদ মানুষ!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মুসলিম সে, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।”
📚 (সহিহ বুখারি: ১০)

২০) ভাইয়ের সাহায্য = আল্লাহর সাহায্য!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহ তার সাহায্য করেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

২১) ক্ষমা করো, মর্যাদা বাড়বে!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

২২) হিংসা—নেকি খেয়ে ফেলে!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“হিংসা নেকিকে ধ্বংস করে…”
📚 (সুনান আবু দাউদ: ৪৯০৩)

২৩) গীবত—ভাইয়ের মাংস খাওয়া!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমরা কি জানো গীবত কী?...”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৯)

২৪) দুনিয়া—মুমিনের কারাগার!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৯৫৬)

২৫) সেরা মানুষ—উপকারী!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মানুষের মধ্যে উত্তম সেই, যে মানুষের জন্য বেশি উপকারী।”
📚 (মুসনাদে আহমদ: ২৩৪০৩)

২৬) মসজিদে পদক্ষেপ—সওয়াব!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“প্রত্যেক পদক্ষেপে সওয়াব লেখা হয়…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৬৬৬)

২৭) কুরআন—শিফা!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“কুরআন হলো শিফা ও রহমত।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৮০৪)

২৮) সালাম ছড়াও!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমরা সালাম প্রচার করো…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৫৪)

২৯) অল্প খাবার—বরকত!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট…”
📚 (সহিহ বুখারি: ৫৩৯২)

৩০) সৎ সঙ্গ—সুগন্ধির মতো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“সৎ সঙ্গী কস্তুরীর বিক্রেতার মতো…”
📚 (সহিহ বুখারি: ৫৫৩৪)

৩১) খারাপ সঙ্গ—ক্ষতিকর!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“খারাপ সঙ্গী লোহার কামারের মতো…”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৬২৮)

৩২) হাসি—হৃদয় জয় করে!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তোমার ভাইয়ের জন্য হাসি সদকা।”
📚 (তিরমিজি: ১৯৫৬)

৩৩) নম্রতা—উচ্চ মর্যাদা!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে নম্র হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ করেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

৩৪) আল্লাহকে স্মরণে রাখো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“তুমি আল্লাহকে স্মরণে রাখো, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন।”
📚 (তিরমিজি: ২৫১৬)

৩৫) মুসিবতে ধৈর্য!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করা প্রকৃত ধৈর্য।”
📚 (সহিহ বুখারি: ১৩০২)

৩৬) দান—সম্পদ কমায় না!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“দান করলে সম্পদ কমে না।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

৩৭) মিথ্যা ত্যাগ করো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মিথ্যা ত্যাগ করো…”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬০৯৪)

৩৮) আল্লাহ সুন্দর!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম: ৯১)

৩৯) অন্যকে সহজ করো!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মানুষকে সহজ করো, কঠিন করো না।”
📚 (সহিহ বুখারি: ৬৯)

৪০) কথা কম, কাজ বেশি!

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে চুপ থাকে, সে নিরাপদ থাকে।”
📚 (তিরমিজি: ২৫০১)
---------সংগৃহিত
:
#হাদিস

📌 সন্তান গড়ার দায়িত্ব — ডিগ্রি নয়, দ্বীনই হোক সন্তানের সত্যিকারের পরিচয়.....---পৃথিবীতে একজন পিতামাতার জীবনে সবচেয়ে...
19/04/2026

📌 সন্তান গড়ার দায়িত্ব — ডিগ্রি নয়, দ্বীনই হোক সন্তানের সত্যিকারের পরিচয়.....

---

পৃথিবীতে একজন পিতামাতার জীবনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে সবচেয়ে বড় সাফল্যের ক্ষেত্র হলো তার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শুধু পার্থিব শিক্ষা, সম্পদ বা ডিগ্রি দিয়ে সন্তানের জীবন পরিপূর্ণ হয় না। যদি সন্তানের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের আলো এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সেই জীবন প্রকৃত অর্থে সফল নয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আজকের আলোচনায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সন্তান গড়ার দায়িত্ব ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।

---

🟦এক. সন্তান — আমানত, পরীক্ষা ও উপহার

সন্তান কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পিতামাতার কাছে একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঠিক হেফাজত করাই পিতামাতার প্রধান দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
> — (সূরা আত-তাহরীম, ৬৬ : ৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সরাসরি পিতামাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধু নিজে জান্নাতের পথে চললে চলবে না — পরিবার এবং সন্তানকেও সেই পথে পরিচালিত করতে হবে। এটি একটি ফরজ দায়িত্ব।

আল্লাহ আরও বলেন —

> "সম্পদ ও সন্তান হলো পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য।"
> — (সূরা আল-কাহফ, ১৮ : ৪৬)

কিন্তু এই সৌন্দর্যকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হয়, তাহলে এই সৌন্দর্যই আখিরাতে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

---

🟦দুই. সন্তানকে দীনি শিক্ষা দেওয়া — পিতামাতার সর্বোচ্চ কর্তব্য

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানের দীনি তরবিয়তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন —

> "প্রতিটি সন্তান ফিতরাতের (ইসলামি স্বভাব) উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক বানিয়ে দেয়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৫৮)

এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, একটি শিশু ইসলামের স্বভাব নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পিতামাতার অমনোযোগিতা ও ভুল পরিচালনার কারণে সে সঠিক পথ থেকে সরে যেতে পারে। সুতরাং দায়িত্বটি সম্পূর্ণরূপে পিতামাতার।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন —

> "পিতার পক্ষ থেকে সন্তানকে দেওয়া সর্বোত্তম উপহার হলো উত্তম আদব-আখলাক।"
> — (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ১৯৫২; শায়খ আলবানি এটিকে হাসান বলেছেন)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সম্পদ বা ডিগ্রি নয় — উত্তম চরিত্রই সন্তানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।

---

🟦 তিন. কুরআনের আলো ছাড়া জীবন অন্ধকার

অনেক পিতামাতা সন্তানকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান, লক্ষ টাকা খরচ করেন, কিন্তু কুরআন শেখানোর সময় করে উঠতে পারেন না। এটি একটি ভয়াবহ ভুল।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ দেখায় যা সবচেয়ে সঠিক।"
> — (সূরা আল-ইসরা, ১৭ : ৯)

কুরআন শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে থাকা মানে জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী আলো থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫০২৭)

সন্তানকে কুরআন শেখানো মানে তাকে সর্বোত্তম মানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা। এর চেয়ে বড় পাওনা একজন পিতামাতার জন্য আর কী হতে পারে?

---

🟦চার. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ — সন্তানের জন্য পথের আলো

শুধু কুরআন নয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহও সন্তানের জীবনের পাথেয় হওয়া প্রয়োজন। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ একে অপরের পরিপূরক।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।"
> — (সূরা আল-আহযাব, ৩৩ : ২১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আদর্শই হলো মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম মডেল। সন্তানের সামনে সেই আদর্শ তুলে ধরা পিতামাতার একটি পবিত্র দায়িত্ব।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এই দুটো আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না — আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।"
> — (মুওয়াত্তা মালিক, হাদিস নং ১৬৬১; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস নং ৩১৮)

এই হাদিসই প্রমাণ করে, কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা ছাড়া জীবনে সত্যিকারের সফলতা আসে না।

---

🟦 পাঁচ. সন্তানের জন্য সময় দেওয়া — একটি ইবাদত

আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে পিতামাতা সন্তানকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছেন। টাকা, গাড়ি, বাড়ি সবই দিচ্ছেন, কিন্তু নিজের উপস্থিতি দিচ্ছেন না। অথচ সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো পিতামাতার সান্নিধ্য, ভালোবাসা এবং সঠিক পথনির্দেশনা।

হযরত লুকমান আলাইহিস সালাম তার পুত্রকে যেভাবে নসিহত করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তা কুরআনে উল্লেখ করেছেন —

> "স্মরণ করো, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে দিতে বলেছিল — হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম।"
> — (সূরা লুকমান, ৩১ : ১৩)

লুকমান আলাইহিস সালামের সন্তানকে দেওয়া উপদেশগুলো কুরআনে সংরক্ষিত হয়েছে। কারণ সেগুলো ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ ও চিরন্তন। প্রতিটি পিতামাতাকে তার সন্তানের সাথে এভাবেই কথা বলতে হবে — ভালোবাসার সাথে, প্রজ্ঞার সাথে।

---

🟦 ছয়. সন্তান ভালো হলে পিতামাতাও উপকৃত হন মৃত্যুর পরেও

এখানে একটি অসাধারণ বাস্তবতা রয়েছে। একজন পিতামাতা সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তুললে, মৃত্যুর পরেও সেই সুফল পেতে থাকবেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি জিনিস ছাড়া — সাদাকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায়, এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৩১)

এই হাদিসটি স্পষ্ট করে দেয় — নেক সন্তান শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও পিতামাতার সম্পদ। সন্তানকে দীনদার করে গড়ে তোলা মানে আখিরাতের জন্য বিনিয়োগ করা।

---

🟦 সাত. ডিগ্রি বনাম দীন — ভারসাম্যই আদর্শ পথ

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার — ইসলাম কখনো পার্থিব শিক্ষার বিরোধী নয়। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।"
> — (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

কিন্তু পার্থিব জ্ঞানের সাথে দীনি জ্ঞানের সমন্বয় না থাকলে সেই শিক্ষা মানুষকে কখনো প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে পারে না। ডিগ্রিধারী মানুষ হওয়া এবং প্রকৃত মানুষ হওয়া — এই দুটো এক কথা নয়। প্রকৃত মানুষ হতে হলে দীনের আলো অপরিহার্য।

---

🟦 আট. পিতামাতার ব্যর্থতার পরিণতি

যে পিতামাতা সন্তানকে শুধু পার্থিব সুখ-সম্পদের দিকে ধাবিত করেন এবং দীনি শিক্ষা থেকে দূরে রাখেন, তাদের জন্য কুরআনে সতর্কবাণী রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন —

> "হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এই কারণে গাফেল হয়, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।"
> — (সূরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩ : ৯)

সন্তানের পেছনে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে গিয়ে যদি দীনের দিকটি উপেক্ষিত হয়, তবে এই সন্তানই হবে পরকালে ক্ষতির কারণ।

---

🟦নয়. কীভাবে সন্তানকে গড়বেন — ব্যবহারিক পদক্ষেপ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান গড়ার কিছু ব্যবহারিক পথ —

◼️প্রথমত, শৈশব থেকেই সন্তানকে কালিমা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া শেখান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "সাত বছর বয়সে সন্তানকে নামাজের আদেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে না পড়লে তাকে প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৫; শায়খ আলবানি সহিহ বলেছেন)

◼️দ্বিতীয়ত, নিজে আদর্শ হোন। সন্তান বাবার মুখের কথা নয়, বাবার জীবন দেখে শেখে।

◼️তৃতীয়ত, প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় সন্তানকে দিন। তার কথা শুনুন, তার প্রশ্নের উত্তর দিন, তার সাথে দীনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।

◼️চতুর্থত, ভালো সঙ্গ নিশ্চিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

> "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। অতএব, তোমরা লক্ষ্য করো কার সাথে বন্ধুত্ব করছ।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৭৮; শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন)

◼️পঞ্চমত, সন্তানের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তার সন্তানের জন্য দোয়া করতেন —

> "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করো এবং আমার বংশধরদেরও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করো।"
> — (সূরা ইব্রাহিম, ১৪ : ৪০)

---

একটি সন্তান পৃথিবীর সমস্ত ডিগ্রি ও সম্পদ অর্জন করতে পারে, কিন্তু যদি তার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় না থাকে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ না থাকে, কুরআনের আলো না থাকে — তাহলে সেই সন্তান প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়নি। আর এই ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে তার পিতামাতাকেও।

তাই আজই সংকল্প নিন — সন্তানকে সময় দিন, তার সাথে কুরআন পড়ুন, রাসুলের গল্প বলুন, নামাজে পাশে দাঁড় করান, দোয়া করুন। পার্থিব সাফল্যের পাশাপাশি তাকে আখিরাতের সাফল্যের দিকে পরিচালিত করুন।

তখনই আপনার জীবন সফল হবে, তখনই আপনি একজন সত্যিকারের পিতামাতা হিসেবে আল্লাহর দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে আদর্শ পিতামাতা হওয়ার এবং সন্তানদের কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

স্ত্রীকে কৌশলে মিথ্যা বলার বিধান :আসমা বিনতে ইয়াজি রাদিয়াল্লাহু আনহা - বলেন , " রাসূলﷺ বলেছেন , তিন অবস্থা ব্যতীত মিথ্...
19/04/2026

স্ত্রীকে কৌশলে মিথ্যা বলার বিধান :

আসমা বিনতে ইয়াজি রাদিয়াল্লাহু আনহা - বলেন , " রাসূলﷺ বলেছেন , তিন অবস্থা ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয় । স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য মিথ্যা বলা , যুদ্ধে মিথ্যা বলা এবং দুজনের মাঝে সমঝোতা করার জন্য মিথ্যা বলা ।"
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ- এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী বোঝা যায় যে , এ হাদীস দ্বারা বিশেষ প্রয়োজনে মিথ্যা বলার অবকাশ রয়েছে তা ঠিক , তবে তা কৌশলে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত । আর ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে জারির তাবারী -এর মতে মূলত মিথ্যা বলা একদমই নাজায়েয । তবে যুদ্ধের ময়দানে মিথ্যা বৈধ হওয়ার অর্থ হলো সেখানে ' কৌশল ' অবলম্বন করা বৈধ । সেটি সুস্পষ্ট মিথ্যা নয় ।
..

খলিফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু - এর যুগে এক লোক নিজের স্ত্রীকে বলল , “ তোমাকে আল্লাহর কসম বলছি , তুমি কি আমাকে ভালোবাসো ? " স্ত্রী বলল , “ আল্লাহর কসম করেই যেহেতু বলেছ , তাহলে ( আমি বলব ) ' না ' । " লোকটি বের হয়ে গেল এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু - এর কাছে এল । উমার ও তার স্ত্রীর কাছে লোক পাঠিয়ে ডেকে আনলেন এবং বললেন , “ তুমি কি তোমার স্বামীকে বলেছ যে , তুমি তাকে ভালোবাসো না ? ” সে বলল , “ হে আমিরুল মুমিনীন, সে আমাকে আল্লাহর কসম করে বলেছে , তো আমি কি মিথ্যা বলব ? তিনি বললেন , মিথ্যা বলতে । সব ঘরই ভালোবাসার ওপর বাঁধা হয় না । তবে মানুষ ইসলাম ও সামাজিক মর্যাদার কারণে একসঙ্গে বসবাস করে ।

বোঝা গেল যে , স্ত্রীকে খুশি করতে তার গুণ ও রূপের বর্ণনা বাড়িয়ে বলা যাবে , তার রান্না সুস্বাদু না হলেও বাড়িয়ে প্রশংসা করা যাবে । তবে অন্য কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলা যাবে না । মিথ্যা বললে আস্তা ভঙ্গ হবে ও বিশ্বাস নষ্ট হবে । আর এভাবে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হবে ।

তবে কৌশল ছাড়া সরাসরি মিথ্যা বলা বা নিজের কোনো অপকর্ম ঢাকতে মিথ্যা বলা জায়েয নেই ।

~ মুহসিনীন, পৃষ্ঠা: ১৮৫

রিজিক বৃদ্ধির আমল ▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ১ : যতবার ইচ্ছে। اللَّهُمَّ  مَـٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ و...
19/04/2026

রিজিক বৃদ্ধির আমল

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ১ : যতবার ইচ্ছে।

اللَّهُمَّ مَـٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
تُولِجُ الَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَ تُولِجُ النَّهَارَ فِي الَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ ۖ وَتَرْزُقُ مَن تَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍۢ

আল্ল-হুম্মা মা-লিকাল মুলকি তুউ্ তিল মুলকা মাং তাশা----উ ওয়া তাংঝিউ'ল মুলকা মিম্ মাং তাশা----উ ওয়াতু ই'ঝ্ঝু মাং তাশা----উ ওয়া তুযিল্লু মাং তাশা----উ বি ইয়াদিকাল্ খইর। ইন্নাকা আ'লা কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর।
তুলিজুল্ লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া তুলিজুন্নাহা-র ফিল্লাইলি ওয়া তুখরিজুল্ হা'ই ইয়া মিনাল মাইয়েতি ওয়া তুখ্ রিজুল মাইয়েতা মিনাল হা'ইয়ি ওয়া তারঝুক্বু মাং তাশা----উ বিগইরি হি'ছা-ব।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। আপনি যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছে সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছে অপমান করেন। আপনারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। আপনি রাতকে দিনের ভিতরে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের ভিতরে প্রবেশ করান। আর আপনিই জীবিতকে মৃতের ভিতর থেকে বের করে আনেন এবং মৃতকে জীবিতের ভিতর থেকে বের করেন। আর আপনিই যাকে ইচ্ছে বেহিসাব রিযিক দান করেন।
(সুরা আল ইমরান : ২৬, ২৭)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ২ : যতবার ইচ্ছে।

اللَّهُمَّ رَبَّنَا انْزِلْ عَلَيْنَا مَا بِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدً الْأَوَّلِنَا وَاخِرِنَا وَ آيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرَّزِقِينَ

আল্ল-হুম্মা রব্বানা~ আংঝিল্ আ'লাইনা মা---- বিদাতাম্ মিনাছ্ ছামা---- ই তাকুনু লানা ই'দাল্লি আওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আ ইয়াতাম্ মিংকা ওয়ার ঝুক্বনা ওয়া আংতা খইরুর রঝিক্বিন।
অর্থ: হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন; এটা আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। আর আমাদেরকে রিয্ক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা।
(সুরা মায়িদাহ্ : ১১৪)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৩ : যতবার ইচ্ছে।

ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻟِﻤَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﺖَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻦْ ﺧَﻴْﺮٍ ﻓَﻘِﻴﺮٌ

(রব্বি ইন্নী লিমা আংঝালতা ইলাইয়্যা মিন খয়রিং ফাক্বির)
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই করবেন আমি তো তারই ভিখারী। (সুরা কাসাস : ২৪)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৪ : ফজরের পর ৭০ বার পড়বেন।

اللهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ

(আল্লাহু লাতীফুম্ বি-ই'বাদিহি ইয়ারঝুক্বু মাইয়্যা শা----উ ওয়া হুওয়াল ক্ব-ই-য়্যুল আ'ঝিঝ্)
অর্থ: আল্লাহতায়ালা নিজের বান্দাদের প্রতি মেহেরবান। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।
(সূরা শুরা : ১৯)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৫ : যতবার ইচ্ছে।

اللهُمَّ أَكْثِرُ مَا لِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَنِي

(আল্ল-হুম্মা আকসির মালী ওয়া বা-রিক লী ফী-মা আ'তইতানী)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে দিন এবং যা কিছু আমাকে দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন। (হাদিসে বর্নিত দু'আ)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৬ : যতবার ইচ্ছে।

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِي رِزْقِي بِغَيْرِ حِسَابٍ

(আল্ল-হুম্মা বারিক লী ফী রিঝ্ক্বী বিগইরি হি'ছাব)
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রিযিকে অশেষ বরকত দান করুন। (হাদিসে বর্নিত দু'আ)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৭ : যতবার ইচ্ছে।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ، وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ، وَبَارِكْ لِيْ فِي رِزْقِيْ

(আল্ল-হুম্মাগফিরলি যাম্বি ওয়া ওয়াস্ সি' লী ফী দা-রী ওয়া বা-রিক লী ফী রিঝ্ক্বী)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন, আমার ঘরে প্রশস্ততা দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দিন। (হাদিসে বর্নিত দু'আ)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৮ : যতবার ইচ্ছে।

اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
(আল্ল-হুম্মাক্ ফীনি বিহা'লালিকা আ'ন হা'রমিকা ওয়া আগনীনি বিফাদ্ লিকা আ'ম্মান ছিওয়াক)
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার হালাল দ্বারা পরিতুষ্ট করে আপনার হারাম থেকে ফিরিয়ে রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আপনি ছাড়া অন্য সকলের থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন। (হাদিসে বর্নিত দু'আ)

▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৯ : যতবার ইচ্ছে।

اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

(আল্ল-হুম্মা ইন্নি আস্ আলুকাল হুদা ওয়াত্ তু-ক্ব ওয়াল আ'ফাফা ওয়াল গিনা)
অর্থ: হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, সুস্থতা ও সম্পদ প্রার্থনা করছি। (হাদিসে বর্নিত দু'আ)

◾মাগরিবের পর সুরা ওয়াকিয়াহ্ তিলাওয়াত করবেন। তাছাড়াও যখনই সময় পাবেন সুরা ওয়াকিয়াহ্ তিলাওয়াত করতে বা শুনতে পারেন।
আর যত বেশি সম্ভব হয় ইস্তেগফার আর দুরদ পড়বেন। এককথায় জবানে আঠার মতো ইস্তেগফার আর দুরদ লাগিয়ে রাখবেন।

বিঃদ্রঃ আরবি উচ্চারণের সাথে মিলিয়ে পড়বেন। শুধু বাংলা উচ্চারণ দেখে পড়লে উচ্চারণ শুদ্ধ হবে না।

সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের ১০০ নির্দেশনাঃ০১. কথাবার্তায় কর্কশ হবেন না। (০৩ঃ১৫৯)০২. রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন (০৩ঃ১৩৪)।০৩. অন্যের সাথে ভা...
19/04/2026

পবিত্র কোরআনের ১০০ নির্দেশনাঃ

০১. কথাবার্তায় কর্কশ হবেন না। (০৩ঃ১৫৯)
০২. রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন (০৩ঃ১৩৪)।
০৩. অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। (০৪ঃ ৩৬)
০৪. অহংকার করবেন না। (০৭ঃ ১৩)
০৫. অন্যকে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করুন (০৭ঃ ১৯৯)
০৬. লোকদের সাথে ধীরস্থির হয়ে শান্তভাবে কথা বলুন। (২০ঃ ৪৪)
০৭. উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। (৩১ঃ ১৯)
০৮. অন্যকে উপহাস করবেন না (৪৯ঃ ১১)
০৯. পিতামাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন। (১৭ঃ ২৩)
১০. পিতামাতার প্রতি অসম্মানজনক শব্দ উচ্চারণ করবেন না। (১৭ঃ ২৩)
১১. অনুমতি না নিয়ে পিতামাতার শোবার ঘরে প্রবেশ করবেন না। (২৪ঃ ৫৮)
১২. ঋণ গ্রহণ করলে তা লিখে রাখুন। (০২ঃ ২৮২)
১৩. কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। (০২ঃ ১৭০)
১৪. ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিন। (২ঃ ২৮০)
১৫. কখনো সুদের সাথে জড়িত হবেন না। (০২ঃ ২৭৫)
১৬. কখনো ঘুষের সাথে জড়িতে হবেন না। (০২ঃ১৮৮)
১৭. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। (০২.১৭৭)
১৮. আস্থা রাখুন (০২ঃ ২৮৩)
১৯. সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করবেন না। (২:৪২)
২০. ইনসাফের সাথে বিচার করবেন। (০৪ঃ ৫৮)
২১. ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান। (০৪: ১৩৫)
২২. মৃতদের সম্পদ তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করুন। (০৪ঃ ০৭)
২৩. মহিলাদের উত্তরাধিকারের অধিকার আদায় করুন। (০৪ঃ ০৭)
২৪. এতিমদের সম্পত্তি গ্রাস করবেন না। (০৪.১০)
২৫. এতিমদের রক্ষা করুন। (০২.২২০)
২৬. অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করবেন না। (০৪ঃ ২৯)
২৭. মানুষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করুন। (৪৯ঃ ০৯)
২৮. সন্দেহ এড়িয়ে চলুন। (৪৯ঃ ১২)
২৯. গুপ্তচরবৃত্তি করবেন না, কুৎসা রটাবেন না। (৪৯ঃ ১২)
৩০. আল্লাহর বিধানুসারে বিচার করুন। (০৫ঃ ৪৫)
৩১. সাদাকাতে সম্পদ ব্যয় করুন। (৫৭ঃ০৭)
৩২.দরিদ্রকে খাবার খাওয়ান। (১০৭ঃ ০৩)
৩৩. অভাবীকে অভাব পুরুণের উপায় বাতলে দিন। (০২ঃ ২৭৩)
৩৪. অপব্যয় করবেন না। (১৭ঃ ২৯)
৩৫. খোঁটা দিয়ে দানকে নষ্ট করে দিবেন না। (০২ঃ ২৬৪)
৩৬. অতিথিকে সম্মান করুন। (৫১ঃ ২৬)
৩৭. কেবলমাত্র নিজে আমল করে তারপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যকে আমল করার আদেশ দিবেন। (০২ঃ৪৪)
৩৮. কাউকে গালাগালি করবেন না। (০২ঃ ৬০)
৩৯. লোকজনকে মসজিদে যেতে বাধা দিবেন না। (০২ঃ ১৪৪)
৪০. কেবল তাদের সাথেই লড়াই করুন, যারা আপনার সাথে লড়াই করে (০২ঃ ১৯০)
৪১. যুদ্ধের শিষ্টাচার মেনে চলুন। (০২ঃ ১৯১)
৪২. যুদ্ধেংদেহী হবেন না। (০৮ঃ১৫)
৪৩. দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। (০২ঃ ২৫৬)
৪৪. সকল নবির উপর ঈমান আনুন। (২: ২৮৫)
৪৫. স্ত্রীর মাসিকের সময় যৌন মিলন করবেন না। (০২ঃ ২২২)
৪৬. আপনার শিশুকে পূর্ণ দুবছর বুকের দুধ খাওয়ান। (০২ঃ ২৩৩)
৪৭. অননুমোদিত উপায়ে যৌন মিলন করবেন না। (১৭ঃ ৩২)
৪৮. যোগ্যতা অনুসারে নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করুন। (০২ঃ ২৪৭)
৪৯. কোনো ব্যক্তিকে সামর্থ্যের বাহিরে বেশি বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। (০২ঃ ২৮৬)
৫০. বিভক্তি উসকে দিবেন না। (০৩ঃ ১০৩)
৫১. মহাবিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করুন (৩: ১৯১)
৫২. আমল অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলাদের সমান পুরষ্কার পাবেন; তাই আমল করুন। (৩: ১৯৫)
৫৩. 'মাহরাম' আত্মীয়কে বিবাহ করবেন না। (০৪ঃ ২৩)
৫৪. পুরুষ হিসেবে মহিলাদের সুরক্ষা দিন। (০৪ঃ ৩৪)
৫৫. কৃপণ হবেন না । (০৪ঃ ৩৭)
৫৬. অন্তরে পরশ্রীকাতরতা পুষে রাখবেন না। (০৪ঃ ৫৪)
৫৭. একে অপরকে হত্যা করবেন না। (০৪ঃ ৯২)
৫৮. প্রতারণার পক্ষে ওকালতি করবেন না। (০৪ঃ ১০৫)
৫৯. পাপ কাজে এবং আগ্রাসনে সহযোগিতা করবেন না। (০৫ঃ০২)
৬০. সৎ কাজে সহযোগিতা করুন। (০৫ঃ ০২)
৬১. সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনোকিছু সত্য বলে গ্রহণ করবেন না। ( ০৬ঃ ১১৬)
৬২. ন্যায়বিচার করুন। (০৫ঃ ০৮)
৬৩. অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। (০৫ঃ ৩৮)
৬৪. পাপ ও বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করুন (০৫ঃ ৬৩)
৬৫. মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস ভক্ষণ থেকে দূরে থাকুন। (০৫ঃ ০৩)
৬৬. মাদক এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন (৫:৯০)
৬৭. জুয়া খেলবেন না। (০৫ঃ ৯০)
৬৮. অন্য ধর্মের দেবদেবীদের অবমাননা করবেন না। (০৬ঃ ১০৮)
৬৯. ক্রেতাকে ঠকানোর উদ্দ্যেশ্যে মাপে কম দিবেন না। (০৬ঃ ১৫২)
৭০. খান এবং পান করুন; তবে অপচয় করবেন না। (০৭ঃ ৩১)
৭১. নামাজের সময় ভালো পোশাক পরিধান করুন। (০৭ঃ ৩১)
৭২. আশ্রয় প্রার্থীকে সুরক্ষা দিন, সহযোগিতা করুন। (০৯ঃ ০৬)
৭৩. বিশুদ্ধতাকে আঁকড়ে ধরুন। (০৯ঃ ১০৮)
৭৪. আল্লাহর রহমতের আশা কখনই পরিত্যাগ করবেন না। (১২ঃ ৮৭)
৭৫. অজ্ঞতাবশত ভুল করলে আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করুন। ( ১৬ঃ ১১৯)
৭৬. মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করুন হিকমা ও উত্তমভাবে। (১৬ঃ ১২৫)
৭৭. অন্যের পাপের বোঝা কাউকে বইতে হবে না, বিশ্বাস করুন। (১৭ঃ ১৫)
৭৮. দারিদ্র্যের ভয়ে আপনার বাচ্চাদের হত্যা করবেন না। (১৭ঃ ৩১)
৭৯. যে বিষয়ে জ্ঞান আপনার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে কারও পিছু লাগবেন না। (১৭ঃ ৩৬)
৮০. নিরর্থক কাজ থেকে দূরে থাকুন। (২৩ঃ ০৩)
৮১. অনুমতি না নিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করবেন না। (২৪ঃ ২৭)
৮২. যারা আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন, এই বিশ্বাস রাখুন। (২৪:৫৫)
৮৩. জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করুন। (২৫ঃ ৬৩)
৮৪. পৃথিবীতে আপনার অংশকে অবহেলা করবেন না। (২৮ঃ ৭৭)
৮৫. আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকবেন না। (২৮ঃ ৮৮)
৮৬. সমকামিতার ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হবেন না। (২৯ঃ ২৯)
৮৭. সৎ কাজের আদেশ দিন, অসৎ কাজে বাধা দিন। (৩১ঃ ১৭)
৮৮. জমিনের উপর দম্ভভরে ঘুরে বেড়াবেন না। (৩১ঃ ১৮)
৮৯. মহিলারা তাদের জাকজমকপূর্ণ পোষাক প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (৩৩ঃ ৩৩)
৯০. আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন, বিশ্বাস রাখুন। (৩৯ঃ ৫৩)
৯১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। (৩৯ঃ ৫৩)
৯২. ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করুন। (৪১ঃ ৩৪)
৯৩. পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। (৪২ঃ ১৩)
৯৪. সর্বোত্তম মানুষ হওয়ার লড়াই করুন। (৪৯ঃ ১৩)
৯৫. বৈরাগ্যবাদী হবেন না। ( ৫৭ঃ ২৭)
৯৬. জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাপৃত হোন। ( ৫৮ঃ ১১)
৯৭. অমুসলিমদের সাথে সদয় এবং নিরপেক্ষ আচরণ করুন। (৬০ঃ ০৮)
৯৮. লোভ থেকে নিজেকে বাঁচান। (৬৪ঃ ১৬)
৯৯. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (৭৩ঃ ২০)
১০০. পিছনে ও সামনে লোকের নিন্দা করবেন না (১০৪ঃ ০১)

#হাদিস

Address

Ramganj
3720

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when উত্তর চন্ডীপুর মেহের আলী মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share