31/08/2025
এই হাদিসটি আমাদেরকে ইসলামের মূল শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বুঝিয়ে দেয়। একজন প্রকৃত মুসলিম শুধু নামাজ, রোজা বা ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয় বরং তার আচার-আচরণ, ব্যবহার এবং কথাবার্তায়ও ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠতে হয়। উত্তম মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার থেকে অন্যরা শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্বস্তি অনুভব করে।
“হাত” বলতে বোঝানো হয়েছে কাজকর্ম বা ব্যবহার। অর্থাৎ, একজন মুসলিম কখনো অন্য মুসলিমকে আঘাত করবে না, অন্যের সম্পদ বা অধিকার ক্ষতি করবে না কিংবা কাউকে নির্যাতন করবে না। হাত দিয়ে সাহায্য করা, দান করা, অন্যকে উপকার করা... এগুলোই একজন ভালো মুসলিমের কাজ।
“জিহ্বা” বলতে বোঝানো হয়েছে কথা বা বাক্য ব্যবহার। অনেক সময় জিহ্বা দিয়েই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে থাকে। গীবত, অপবাদ, কটূক্তি, মিথ্যা কথা বা অন্যকে অপমান করা... এসব কাজ অন্যের মনে আঘাত করে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। উত্তম মুসলিম তার জিহ্বাকে এসব থেকে বিরত রাখে এবং সর্বদা সত্য, কোমল ও উপকারী কথা বলে।
এই হাদিস আমাদের শিখায় যে মুসলিম হওয়া মানে শুধু নিজের জন্য ভালো থাকা নয়, বরং অন্যের জন্যও নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। একজন প্রকৃত মুসলিম এমন মানুষ যাকে দেখে, যাকে শুনে এবং যার কাছাকাছি থেকে অন্যরা স্বস্তি ও শান্তি পায়।
অতএব, আমরা যদি চাই প্রকৃত অর্থে উত্তম মুসলিম হতে তবে আমাদের আচরণ, ব্যবহার ও কথাবার্তায় সতর্ক হতে হবে। হাত দিয়ে উপকার করতে হবে, ক্ষতি নয়। জিহ্বা দিয়ে সত্য ও কল্যাণের কথা বলতে হবে, আঘাত নয়। এভাবেই আমরা নিজেদেরকে সেই মুসলিমে পরিণত করতে পারব, যাদের সম্পর্কে নবী ﷺ বলেছেন “সবচেয়ে উত্তম মুসলিম সে, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।”