জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট ২

Directions

জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট ২ رجعوا إلى الإسلام
🌹اهل الحق🌹..ফিরে এসো ইসলামের দিকে...
🌹আহলে হক🌹

15/04/2026

মসজিদ কি ভাঙ্গা হয়েছে ? || মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী হাফি.
অনেকে তথ্য-সন্ত্রাস বলতে কি বুঝায় বুঝেন না। খুব সহজ উদাহরণে বাস্তবতা তুলে ধরছি।
বাস্তবতা!
১
বি-বাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের পাঘাচং গ্রামের একটি পুকুর। পুকুর ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে একটি নতুন মসজিদ। নাম মসজিদে বেলাল রা:। এ মসজিদ নির্মাণের শুরুতে এলাকার সকল মানুষই সমর্থন দিয়েছে। এমনকি আহলে হাদীস মতাদর্শী মোখলেস মজিবর আসাদ নামের লোকগুলোও।
২
আলোচিত সেই পুকুরটি মোখলেছ সাহেবের। তিনি সেই পুকুর ভরাট করতে শুরু করলেন ছেলেদের বাড়ি নির্মাণ করার কথা বলে। পুকুরের কুল ঘেঁষে নির্মাণাধীন মসজিদে বেলাল থাকা সত্ত্বেও আচমকা মুখলেস সাহেব পুকুরের ভরাট স্থানে সালাফী মসজিদ বানাবেন বলে ঘোষণা দিয়ে বসেন।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে মুখলেস সাহেবের মনোমালিন্য শুরু হয়।
৩
পুকুর পাড়ে মুখলেস সাহেবের দোকান "মা এন্টারপ্রাইজ এন্ড কনফেকশনারী"।
এখানে তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী নামাজ আদায় করেন।
৪
পুকুর ভরাট স্থানটি যেহেতু আগে পুকুর ছিল, এখনো অর্ধেক স্থান পুকুর। তার মানে এখানে কোনকালেই মসজিদ ছিল না। এখনো হয়নি। এখনো মসজিদের কোন কিছুই নির্মাণ করা হয়নি। সম্পূর্ণ বিরান জায়গা। তবে একটি সাইনবোর্ড টানানো আছে বাইতুল মামুর সালাফি মসজিদ নামে।
৫
গত 13 এপ্রিল এলাকার মানুষ পাশেই মসজিদ থাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করে যায়।
পরদিন ১৪ এপ্রিল স্কুলগামী দুই তিন জন ছেলে মোখলেস সাহেবকে বিষয়টা বলতে গেলে মুখলেস মুজিবরসহ কয়েকজন সেই ছেলেদের রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। ছয়টা ছেলেকে বি-বাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর ফলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয় এবং মোখলেছ সাহেবের দোকানের সামনে রাখা কিছু টিন এবং পুকুরের সামনে দেওয়া টিনের একটি বেড়া ভেঙে ফেলে।
এই হল বাস্তবতা। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ চোখেই দেখে আসতে পারেন।
কিন্তু সমস্ত লা-মাযহারী শায়েখরা ভিডিও বক্তব্য, সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদির মাধ্যমে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে একটি জঘন্য মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলল যে, বি-বাড়িয়ায় মসজিদ ভাঙচুর হয়েছে।
যেখানে কোন মসজিদের অস্তিত্বই নেই। কোন কালেই ছিল না। সেখানে কিভাবে মসজিদ ভাঙচুর হলো?
শুনেছিলাম একটি মিথ্যাকে ১০০ বার বললে নিজের কাছেই সত্য মনে হতে থাকে। গুজব এভাবেই প্রতিষ্ঠা পায়। বি-বাড়িয়ার ঘটনা মিথ্যা প্রতিষ্টা পাওয়ার, অসত্যকে সত্য দেখানোর তথ্য সন্ত্রাসের জলজ্যান্ত উদাহরণ।
যারা দূর থেকে মসজিদ ভাঙচুর এর কোরাস গাইছেন। তাদের কাছে অনুরোধ: যা শোনেন তাই বলে মিথ্যুক না হয়ে সরেজমিন তদন্ত করুন।
তারপর বলুন! লা'নাতুল্লাহি আলাল কাজিবীন

15/04/2026

হানাফিদের স্বলাত সহিহ হাদিসের আলোকে।
১. তাকবীর তাহরীমার জন্য উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো:
সূত্র: মুসলিম শরীফ হাদীস নং(৩৯১) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (৭৪৫) নাসাঈ শরীফ ১/১৪১ ইবনে মাজাহ শরীফ নং (৮৯৫) বাইহাকী শরীফ ১/৩০৭ হাদীস নং (৯৫৪) ত্বহাবী শরীফ ১/১৪৩-১৪৪ দারাকুতনী ১ /১৩৬ ৩/২৯ মুসতাদরাকে হাকিম ১/২২৬ মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৮*. তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানোর সময় আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিকভাবে রাখা: সূত্র: মুসতাদরাকে হাকিম ১/২৩৪(৮৫৬) সহীহ ইবনে খুযাইমা ১/২৩৪ (৪৫৬) (অবশিষ্ট-৫)*. ইমামের তাকবীরে তাহরীমা বলার পর সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা বলা: সূত্র: মুসলিম শরীফ হাদীস নং (৪১৬) বুখারী শরীফ ১/১৭৯ (৭৩৪)
২. হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠের উপর রাখা:
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন
লা-মাযহাবী আলেমদের কর্তৃক সম্পাদিত এবং তাদের নিজস্ব প্রকাশনী ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারীর ১ম খণ্ডের ৫৭৯ নং পৃষ্ঠায় এসেছেঃ
ووضع على رضى الله تعالى عنه كفه على رسغه الأيسر
‘আলী রাজিআল্লাহু আনহু (সলাতে) সাধারণত তাঁর ডান হাতের পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন। [সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স-১/৫৭৯]
قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَيْفَ يُصَلِّى فنظرت إليه فَقَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بأُذُنَيْهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ. أخرجه أبو داود (٧٢٧) والنسائي (٨٨٩) واللفظ له وأحمد ٤/٣١٨ وابن خزيمة (٤٨٠) وابن حبان (১৮৬০) وابن الجارود في المنتقى (২০৮) والبيهقي في السنن (২/২৭) بإسناد صحيح.
অর্থ: আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে নামায পড়েন তা আমি লক্ষ্য করবো। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং উভয় হাত কান বরাবর তুললেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।
আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭২৭; নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং ৮৮৯; মুসনাদে আহমদ ৪খ, ৩১৮পৃ; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৪৮০; ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১৮৬০; আলমুনতাকা লিইবনিল জারূদ, হাদীস নং ২০৮ ও বায়হাকী ২খ. ২৭ পৃ.। এ হাদীসটি সহীহ। মুআত্তা মালেক, হাদীস নং ৪২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২২৮৪৯; মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা, হাদীস নং ১৫৯৭; তাবারানী ফিল কাবীর, হাদীস নং ৫৭৭২; বায়হাকী, হাদীস নং ২৩২৬; শারহুস সুন্নাহ, হাদীস নং ৫৬৮; আওসাত লিইবনিল মুনযির, হাদীস নং ১২৮৬।
ইবনে খুযায়মা র. উক্ত হাদীসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন,
باب وضع بطن الكف اليمنى على الكف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহু সবগুলোর উপর রাখবে।
একইভাবে ইবনুল মুনযির রহ. তার আল আওসাত গ্রন্থে শিরোনাম দিয়েছেন,
ذكر وضع بطن كف اليمنى على ظهر كف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ কব্জি ও কব্জিসংলগ্ন বাহুর উপর রাখার আলোচনা।
وعند الدارمي ١/٢٨٣ بإسناد صحيح في حديث وَائِلٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيباً مِنَ الرُّصْغِ .
অর্থাৎ দারিমী র. এর এক বর্ণনায় সহীহ সনদে ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত বাম হাতের কব্জির কাছাকাছি রাখতে দেখেছি। সুনানে দারিমী, ১খ, ২৮৩পৃ।
আবূ দাউদ শরীফের আরেক বর্ণনায় আছে,
ثم أخذ شماله بيمينه
অর্থাৎ অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরলেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৮৫০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ১২৬৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৪৭৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৯৪৫; মুজামে কাবীর লিত তাবারানী, ২২/৩৩; সুনানে বায়হাকী, হাদীস ২৫১৬।
হযরত হুলব আততাঈ রা. বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمنا فيأخذ شماله بيمينه. أخرجه الترمذي (٢٥٢) وابن ماجه (٨٠٩) وابن أبي شيبة (٣٩٥٥) والدارقطني ١/٢٨٥ وقال الترمذي: حديث حسن.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরতেন। তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৫২; তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান। ইবনে মাজা, হাদীস নং ৮০৯; ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৫।
মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় আছে, বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার বিবরণ দিতে গিয়ে ইয়াহইয়া র. ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখেছেন। নাসাঈ, হাদীস নং ৮৮৭, দারাকুতনী, হাদীস নং ১১০৪। আলবানী বলেছেন, সনদ সহীহ। (দ্র, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২খ, ২২৫ পৃ) মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬১; বুখারী শরীফ, ১১৯৮নং হাদীসের পূর্বে, বায়হাকী, হাদীস নং ২৩৩৩। এ হাদীসটির সনদ সহীহ। (কিতাবুল আছার, হা. ১২০)
৩. বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা:
ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা ও অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা
)۱(عن قبیصۃ بن ہلبؓعن ابیہ قال :کان رسول اللہ۔ ﷺ۔ یؤمنا فیأخذ شمالہ بیمینہ۰
رواہ الترمذی فی’’جامعہ‘‘ برقم ( ۲۵۲) کتاب الصلاۃ‘ باب ما جاء فی وضع الیمین علی الشمال وقال: حدیث ہلب حدیث حسن۰
)۲(عن عبد اللہ بن مسعودؓ قال : مر بی النبی۔ ﷺ۔ وأنا واضع یدی الیسری علی الیمنی فأخذ بیدی الیمنی فوضعہا علی الیسری
رواہ ابن ماجہ فی ’’سننہ‘‘ ۱/۴۴۱ ( ۸۱۱) قال المحقق : الحدیث صحیح.
অর্থ: (১) হযরত কবীসা ইবনে হুলবরহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নিজ পিতা হুল্‌ব রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রিয়নবী ﷺ আমাদের ইমামতী করতেন তখন ( হাত বাঁধার সময়) ডান হাত দ্বারা বাম ধরতেন । সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং (২৫২) ইবনে মাজাহ শরীফ ১/৪৪১ (৮০৯) মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬ (২২৭) (অবশিষ্ট-৬)
অর্থ: (২) হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা প্রিয় নবী ﷺ আমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আমি (নামাযে) আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রাখা অবস্থায় ছিলাম। (ইহা দেখে) প্রিয় নবী ﷺ আমার ডান হাত ধরে তা বাম হাতের উপর রেখে দিলেন। সূত্র: ইবনে মাজাহ শরীফ ১/৪৪১(৮৮১) অত্র কিতাবের মুহাক্কিক বলেন ا لحد يث অর্থাৎ হাদীসটি সহীহ। (অবশিষ্ট-৭)
উল্লেখ্য যে, এ অনুচ্ছেদে হাদীস শরীফে দু’ধরণের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছেঃ ১- বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। ২-ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরা। আর উভয় বিষয় বস্তুই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই ফুকাহায়ে কিরাম এতদুভয়ের মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য সাধন করেছেন যে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরা ও অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর বিছিয়ে রেখে দেওয়া, এতে উভয় হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়।
৪. নাভীর নিচে হাত বাঁধা:
লা-মাযহাবী আলেমদের কর্তৃক সম্পাদিত এবং তাদের নিজস্ব প্রকাশনী ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারীর ১ম খণ্ডের ৫৭৯ নং পৃষ্ঠায় এসেছেঃ
ووضع على رضى الله تعالى عنه كفه على رسغه الأيسر
‘আলী রাজিআল্লাহু আনহু (সলাতে) সাধারণত তাঁর ডান হাতের পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন। [সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স-১/৫৭৯]
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في تخريج أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في طوالع الأنوار: رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯। এর সনদ সহীহ। সুনান আত তিরমিজি, হাদিস নং ২৫২। হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী র. ও আল্লামা আবেদ সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ: ইবনে আবী শায়বা র. বর্ণনা করেছেন ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্রে হযরত ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।
নামাযে বাম কব্জির উপর ডান হাত রেখে দু’আঙ্গুল দ্বারা চেপে ধরা সুন্নত। একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা এ আমল প্রমাণিত । চার মাযহাবের সকল ইমাম ও আলেম এটাকেই সুন্নত পদ্ধতি আখ্যা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কনুই পর্যন্ত হাত রাখার পক্ষে কোন হাদীস নেই। পূর্বসূরিগণের কারো আমলও নেই। এমনিভাবে নাভির নীচে হাত রাখা সুন্নত। ইমাম আবূ হানীফা র. ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল র. দুজনই এটাকে সুন্নত বলেছেন। ইমাম মালেক রহ. এর মত হলো, ফরজ নামাযে হাত ছেড়ে রাখা সুন্নত। আর ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন, বুকের নীচে হাত বাঁধা সুন্নত।
বুকের উপর হাত বাঁধাকে চার ইমামের কেউই সুন্নত বলেননি। কোন মুহাদ্দিস বুকের উপর হাত বেঁধেছেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন মুহাদ্দিস এ সম্পর্কে কোন শিরোনামও উল্লেখ করেন নি। এসম্পর্কে যে হাদীসটি পেশ করা হয় সেটি সহীহ নয়। এ আলোচনার শেষ দিকে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনা আসছে। এখানে প্রথমত হাত বাঁধার পদ্ধতি সম্পর্কিত সহীহ হাদীসগুলো পেশ করা হচ্ছে। অতঃপর নাভির নীচে হাত রাখা সম্পর্কে হাদীসগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।
৫. প্রথম রাকা‘আতে ছানা পড়া:
সূত্র: আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং(৭৭৫) ও (৭৭৬) ইবনে মাজাহ্‌ শরীফ হাদীস নং (৮০৪) ও (৮০৬) মুসনাদে আহমাদ ৬/২৩০ সুনানে দারাকুতনী ১/২৯৮ (১১২৮) (অবশিষ্ট-১০)
৬. আউযুবিল্লাহ পড়া:
সূত্র: আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং(৭৭৫) (৭৬৪) ইবনে মাজাহ শরীফ হাদীস নং(৮০৭) মুসনাদে আহমদ ৪/৮০ তাবারানী কাবীর ২/১৩৪(১৫৬৮) (অবশিষ্ট-১১)
৭. বিসমিল্লাহ পড়া:
সূত্রঃ নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (৯০৬) মুস্তাদরাক ১/২৩২ (৮৪৯) সুনানে দারা কুতনী ১/৩০৫ (১১৫৫) সহীহ ইবনে খুযাইমা ১/২৫১ (৪৯৯) আল মুন্তাকা পৃষ্ঠা: ১০১ হাদীস নং (১৮৪) বাইহাকী শরীফ ২/৪৬ (২৩৯৪) (অবশিষ্ট-১২)
৮. কিরাত পড়া:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نهض من الركعة الثانية استفتح القراءة “بالحمد لله رب العالمين”.
হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্বিতীয় রাকাত থেকে উঠে দাঁড়াতেন তখন ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাবিবল আলামীন’-এর মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন।’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৮১৪; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ১৯৬৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৫০৭; মুসনাদে আহমদ ৬/৩১, ইমাম বুখারী, জুযউল কিরাআত খালফাল ইমাম, হাদীস ৭৭৮; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৯০২; ইবনে মাজাহ, হাদীস ৫০৮; মুসনাদে আহমাদ ৩/১০১, -ইমাম বুখারী, জুযউল কিরাআত খালফাল ইমাম, হাদীস ১৩০।
৯. কিরাতে সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলানো:
أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ» وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَا: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الْإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَزَادَ فَصَاعِدًا
উবাদা বিন সামেত রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, সূরা ফাতিহা না পড়লে নামায হবে না, [আরেক বর্ণনায় এসেছে] এবং অতিরিক্ত সূরা না পড়লেও নামায হবে না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৩৯৪
১০. একাকি সলাত পড়লে কিরাত অবশ্যই পড়া:
النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ لِمَنْ يُصَلِّي وَحْدَهُ ‏.‏
কুতায়বা ইবনু সাঈদ ..... উবাদা ইবনুুস-সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীছের সনদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ না করবে, তার নামায পূর্ণাংগ হবে না।
রাবী সুফিয়ান বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র একাকী নামায পাঠকারীর বেলায় প্রযোজ্য। (আবু দাউদ, হাদিসং ৮২২)
১১. জামাতে সলাত পড়লে কিরাত এর প্রয়োজন নেয় (ফাতিহা ও অতিরিক্ত সুরা):
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন
” وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون “
অর্থ: আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়।
এ আয়াত সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর বক্তব্য তাফসীরে তাবারী (৯খ. ১০৩পৃ.) ও তাফসীরে ইবনে কাসীরে (২খ. ২৮পৃ.) এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে-
وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون ” يعني في الصلاة المفروضة
অর্থ : যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমাদের প্রতি করুণা করা হয় অর্থাৎ ফরজ নামাযে।
হযরত ইবনে মাসঊদ রা. এর মতও তাই। তাফসীরে তাবারীতে বলা হয়েছে:
صلى ابن مسعود، فسمع أناسا يقرءون مع الامام، فلما انصرف، قال: أما آن لكم أن تفقهوا ؟ أما آن لكم أن تعقلوا ؟ وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا كما أمركم الله
অর্থাৎ হযরত ইবনে মাসঊদ রা. নামায পড়ছিলেন, তখন কতিপয় লোককে ইমামের সঙ্গে কেরাত পড়তে শুনলেন। নামায শেষে তিনি বললেন : তোমাদের কি অনুধাবন করার সময় আসেনি, তোমাদের কি বোঝার সময় হয় নি? যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং নীরব থাকবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। (৯ খ. ১০৩ পৃ.)*. জোরে কিরাত পড়া সলাতে হাদিসের দলিল:
হযরত আবূ মূসা আশআরী রা. বলেছেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا قرأ الإمام فأنصتوا، فإذا كان عند القعدة فليكن أوّل ذكر أحدكم التشهد. أخرجه مسلم (৪০৪) في باب التشهد في الصلاة، وأحمد في المسند ৪/৪১৫ (১৯৯৬১)، وأبو داود (৯৭৩) وابن ماجه (৮৪৭) واللفظ له. كلهم من طريق سليمان التيمي عن قتاده عن يونس بن جبير (أبي غَلَّاب) عن حَطّان بن عبد الله الرقَّاشي عنه. وليس سليمان متفردا فيه بل تابعه عمر بن عامر وسعيد بن أبي عروبة عند الدارقطني والبيهقي، وأبو عبيدة مجّاعة بن الزبير العتابي الأزدي أحد الثقات عند أبي عوانة. وقال مسلم – لما سأله أبو بكر ابن أخت أبي النضر عن تفرد سليمان-: تريد أحفظ من سليمان؟
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন ইমাম কুরআন পড়বে, তোমরা তখন চুপ করে থাকবে। আর বৈঠকের সময় তাশাহহুদ-ই প্রথম পড়তে হবে।
মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৪০৪; আবূ দাউদ, হাদীস নং ৯৭৩; ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৮৪৭; মুসনাদে আহমাদ, ৪খ, ৪১৫ পৃ, হাদীস নং ১৯৯৬১। ইমাম আহমদ, (দ্র. তামহীদ ১১/৩৪), ইমাম মুসলিম, ইবনুল মুনযির (দ্র. আল আওসাত, ৩/১০৫), ইমাম ইবনে জারীর তাবারী র. (দ্র. তাফসীরে তাবারী, ৯/১০৩) ও ইবনে হাযম জাহেরী (দ্র. আল মুহাল্লা, ২/২৭০) প্রমুখ এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন।
হাফেজ ইবনে তায়মিয়াও তার মাজমুউল ফাতাওয়ায় ইমাম মুসলিমের সহীহ বলাকে সমর্থন করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী র. ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন, এটি সহীহ হাদীস। (দ্র. ২/২৪২) আবূ দাউদ, হাদীস নং ৬০৪; নাসাঈ, হাদীস নং ৯২২-৯২৩; ইবনে মাজা, হাদীস নং ৮৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৮২০; মুসনাদে আহমদ, ২খ, ৩৭৬ পৃ; দারাকুতনী, ১খ, ৩২৭পৃ। ইমাম মুসলিম র. বলেছেন, هو عندي صحيح আমার দৃষ্টিতে এটি সহীহ। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৪০৪, বুখারী শরীফে হযরত আয়েশা রা. (হাদীস নং ৬৮৮) ও হযরত আনাস রা. (হাদীস নং ৩৭৮) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। মুয়াত্তা মালেক, পৃ,২৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৩১২, তিনি এটিকে হাসান বলেছেন। আবূ দাউদ, হাদীস নং ৮২৬; নাসায়ী, হাদীস নং ৯১৯; মুসনাদে আহমদ, ৪খ, ২৮৪পৃ; ইবনে মাজা, হাদীস নং ৮৪৮, ৮৪৯।
উল্লেখ্য, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে কুরআন পড়ছিলেন, তাতেই তাঁর কেরাতে সমস্যা হচ্ছিল। হযরত শায়খুল হিন্দ র. বলেছেন, ‘অনুচ্চস্বরে কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে তো আরো বেশী সমস্যা হওয়ার কথা।’ তাই যেসব নামাযে ইমাম অনুচ্চস্বরে কেরাত পড়েন সেসব নামাযেও যে মুক্তাদীর কেরাত পড়া উচিত নয়, সেটা এ হাদীসেরই দাবী।*. আস্তে কিরাত সলাতে হাদিসের দলিল:
হযরত জাবির রা. বলেছেন,
عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : كل من كان له إمام فقراءته له قراءة. أخرجه ابن أبي شيبة (٣٨٢٣) قال حدثنا مالك بن إسماعيل عن حسن بن صالح عن أبي الزبير عنه. وإسناده صحيح. وأخرجه عبد بن حميد في مسنده قال : ثنا أبو نعيم ثنا الحسن بن صالح عن أبي الزبير عنه مرفوعا. قال البوصري : إسناده صحيح على شرط مسلم. وأخرجه أحمد بن منيع في مسنده قال: أنا إسحاق الأزرق نا سفيان وشريك عن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداتعليق-١ د عن جابر مرفوعا. قال البوصري: إسناده صحيح على شرط الشيخين. وأخرجه الإمام محمد في الموطا (صـ٩٨) عن أبي حنيفة نا أبو الحسن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد بن الهاد عن جابر مرفوعا. وإسناده صحيح. وأخرجه أحمد عن أسود بن عامر – وهو ثقة – عن الحسن بن صالح عن أبي الزبير عن جابر مرفوعا (رقم 14643) وهو إسناد صحيح أيضا. وأخرجه ابن ماجه كذلك وفي إسناده جابر الجعفي (٨٥٠)
অর্থ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির ইমাম আছে, তার ইমামের কেরাতই তার কেরাত বলে গণ্য হবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৮২৩। এ সনদটি সহীহ।
মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমায়দে ভিন্ন সনদে এটি উদ্ধৃত হয়েছে। বূসিরী র. বলেছেন, এটি ইমাম মুসলিম এর শর্ত মোতাবেক সহীহ। আহমদ ইবনে মানী’ অন্য একটি সনদে তার মুসনাদ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বূসিরী বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ের শর্ত মোতাবেক সহীহ। (দ্র, শায়খ মুহাম্মদ আওওয়ামা কৃত মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বার টীকা)
মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, পৃ ৯৮; মুসনাদে আহমদ, ৩খ, ৩৩৯পৃ; (এ সনদ দুটিও সহীহ)। ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীস নং ৮৫০। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১২৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৪৬৪৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৫০, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১২৯৪,মুজামে ইবনুল আরাবী, হাদীস নং-১৭৫৫,সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২৩৩,মুসন্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-২৭৯৭,মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীসনং-৩৭৬৪, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী,হাদীস নং-২৮৯৭, মুসন্নাফ ইবনে আবীশাইবা, হাদীস নং-৩৭৭৯, মুসনাদে আবীহানীফা, হাদীস নং-২৫} এতে জাবের জু’ফী রয়েছে।
এ হাদীসে মুলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে, মুকতাদীর জন্য আলাদা করে সূরা ফাতেহা বা অন্য কোন সূরা পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং ইমামের কেরাতই তার জন্য যথেষ্ট হবে।
কেননা সূরা ফাতেহা হলো আল্লাহর দরবারে হেদায়াতের আবেদন। সকলের পক্ষ থেকে আবেদন একজনই পেশ করে। ইমামকেই সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রুকু, সেজদা, তাকবীর ও তাসবীহ হলো উক্ত দরবারের আদব। এজন্য এগুলো সকলকে পালন করতে হয়। *. নাফে র. থেকে বর্ণিত:
أن عبد الله بن عمر كان إذا سئل هل يقرأ أحد خلف الإمام قال إذا صلى أحدكم خلف الإمام فحسبه قراءة الإمام وإذا صلى وحده فليقرأ قال وكان عبد الله بن عمر لا يقرأ خلف الإمام. موطا مالك صـ ٢٩
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রা.কে যখন জিজ্ঞেস করা হতো, ইমামের পেছনে কুরআন পড়া যাবে কিনা? তিনি বলতেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের পেছনে নামায পড়ে তখন ইমামের পড়াই তার জন্য যথেষ্ট হয়। আর যখন একাকী পড়ে, তখন যেন নিজেই কেরাত পড়ে। নাফে বলেন, ইবনে উমর রা. ইমামের পেছনে কুরআন পড়তেন না। (মুয়াত্তা মালেক, পৃ২৯, (৪৩), আব্দুর রাযযাক (২৮১৪), মুসনাদে ইবনুল জাদ (১১৫০), তাহাবী (১৩১২, ১৩১৭) দারাকুতনী (১৫০৩), বায়হাকী (২৯০১, ২৯০৩)। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা (৩৭৮০), মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক (২৮০৩), তাহাবী (১৩০৭), তাবারানী কৃত আল আওসাত (৪০৪৯), মুজামে কাবীর (৯৩১১) তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৩; তিনি এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন। মুয়াত্তা মালেক, পৃ ২৮, নং ৩৮; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক (২৭৪৫) মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা (৩৬২১), আল কিরাআতু খালফাল ইমাম লিল বুখারী (১৭৪), নাসাঈ কুবরা (২৮৯৯), শারহু মুশকিলিল আছার (১৩০১), বায়হাকী (১২৪২), মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার (৩২০৩) আল কিরাআতু খালফাল ইমাম লিল বায়হাকী (৩৫৮) এ হাদীসে জাবির রা. স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, সূরা ফাতেহা পড়া ইমাম বা একাকী নামায আদায়কারীর জন্য আবশ্যক। মুক্তাদীর জন্য সেটা আবশ্যক নয়। এ কথা দ্বারা তিনি যেন উবাদা ইবনুস সামেত রা. কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদীসের ব্যাখ্যা করে দিলেন, যে হাদীসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা পড়ে না, তার নামাযই হয় না।
হযরত জাবির রা. বুঝিয়ে দিলেন, এ বিধানটি মুক্তাদির জন্য নয়। ইমাম বা একা নামায আদায়কারীর জন্য। আবূ দাউদ শরীফে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না র. থেকেও অনুুরূপ কথা উদ্ধৃত হয়েছে।
হযরত উবাদা ইবনুস সামিত রা. কর্তৃক বর্ণিত ঐ হাদীসটি বর্ণনা করার পর আবূ দাউদ র. বলেন, قال سفيان : لمن يصلي وحده অর্থাৎ সুফিয়ান র. বলেছেন, একা নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে এই হাদীস। (দ্র, হাদীস নং ৮২২)
ইমাম তিরমিযী র. ইমাম আহমাদ থেকেও একই কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
واما أحمد بن حنبل فقال معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب إذا كان وحده
অর্থাৎ আহমাদ র. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন সূরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয় না এটা তখন, যখন কেউ একা নামায পড়ে। ইমাম আহমাদ র. এক্ষেত্রে জাবির রা. এর উল্লিখিত হাদীসটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে বলেন,
فهذا رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم تأول قول النبي صلى الله عليه وسلم لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب أن هذا إذا كان وحده
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথার ‘যে সূরা ফাতেহা পড়েনি তার নামায হয়নি’ এ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটা তার ক্ষেত্রে যে একা নামায আদায় করে।
ইমাম তিরমিযীও হযরত উবাদা রা. এর হাদীসটিকে মুকতাদীর বিধান বলে মনে করতেন না। এই কারণে ‘কিরাআত খালফাল ইমাম’ বা মুকতাদীর জন্য কেরাত পড়া অনুচ্ছেদে হাদীসটি উল্লেখ না করে তিনি এর ঊনচল্লিশ অনুচ্ছেদ পূর্বে ما جاء أنه لا صلاة إلا بفاتحة الكتاب অনুচ্ছেদে নামাযে ফাতেহার কি গুরুত্ব সেটা বোঝাবার জন্য উল্লেখ করেছেন।
এখন বলুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হযরত জাবির রা. ইমাম বুখারী র. এর উস্তাদের উস্তাদ প্রখ্যাত মুহাদ্দিস সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না, ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম আহমাদ, এবং ইমাম তিরমিযী বলছেন, এ হাদীসটি মুকতাদীর জন্য নয়। আর আমাদের লা-মাযহাবী ভাইয়েরা বলেন, এটা মুকতাদীর জন্যও। আমরা কার কথা মানবো?
তাছাড়া অধিকাংশ ইমাম ও আলেম যারা ইমামের পেছনে মুকতাদীর কুরআন পড়া জরুরী মনে করতেন না, তাদেরও তো একই মত। ইমাম আহমাদ র. কত জোর দিয়ে বলেছেন,
ما سمعنا أحدا من أهل الإسلام يقول إن الإمام إذا جهر بالقراءة لا تجزئ صلاة من خلفه إذا لم يقرأ وقال هذا النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعون وهذا مالك في أهل الحجاز وهذا الثوري في اهل العراق وهذا الأوزاعي في أهل الشام وهذا الليث في أهل مصر ما قالوا لرجل صلى وقرأ إمامه ولم يقرأ هو صلاته باطلة . المغني لابن قدامة (١/٣٣٠
অর্থাৎ ইমাম যখন উচ্চস্বরে কেরাত পড়ে, তখন তার পেছনে মুকতাদী যদি কেরাত না পড়ে তবে মুকতাদীর নামায হবে না: এমন কথা আহলে ইসলামের কাউকে আমরা বলতে শুনিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, ও তাবেয়ীগণ, মদীনাবাসীদের মধ্যে ইমাম মালেক, ইরাকবাসীদের মধ্যে সুফিয়ান ছাওরী, শামবাসীদের মধ্যে ইমাম আওযায়ী, ও মিসরবাসীদের মধ্যে লায়ছ ইবনে সা’দ, এঁদের কেউই একথা বলেননি – ইমাম যখন কুরআন পড়বে, তখন পেছনে মুকতাদী যদি না পড়ে তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। (ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনী, ১খ, ৩৩০পৃ)
হায় আফসোস! ইমাম আহমদ র. যা জীবনেও শুনেননি, কোন আলেম যে বিষয়ে মত দেননি, সে বিষয়ের দিকে এখন মুসলমানদেরকে জোরেশোরে ডাকা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে, এছাড়া নামাযই হবে না।
১২. তাকবীর বলা অবস্থায় রুকুতে যাওয়া:
সূত্র: বুখারী শরীফ হাদীস নং (৭৮৯) মুসলিম শরীফ হাদীস নং (৩৯২) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (৮৩৬) নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (১০২২) সুনানে দারা কুতনী হাদীস নং (১০৯৯) *. রুকুতে উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা
সূত্র: বুখারী শরীফ হাদীস নং(৭৯০) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (৮৬৭) তিরমিযী শরীফ হাদীস নং (২৫৯) *. রুকুতে হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা
সূত্র: সহীহে ইবনে খুযাইমা ১/৩২৪ (৬৪২) সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং (১৯২৫) মুস্তাদরাক ১/৩৫০ (৮২৬) তাবারানী কাবীর ২২/১৯ (২৬) (অবশিষ্ট-১৩)*. রুকুতে উভয় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখা, কনুই বাঁকা না করা:
সূত্র: তিরমিমী শরীফ হাদীস নং (২৬০) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (৭২৪) (অবশিষ্ট-১৪)
১৩. রুকুতে থেকে উঠার সময় “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলা:
সুত্র: সহীহ বুখারী (৭৩৫), সহীহ মুসলিম (৩৯২)।*. “রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ” বলা।
সহীহ বুখারী (৭৩৪), সহীহ বুখারীর (৭৮৯)
১৪. তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য কোন সময় হাত:
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏
২৫৭. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন উপস্থিত লোকদের বললেন আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের মত সালাত পড়ব? এরপর তিনি সালাত পড়লেন এবং তাতে প্রথমবার অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য কোন সময় হাত তুললেন না। - সিফাতুস সালাত, মূল-মিশকাত ৮০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫৭।
এই বিষয়ে বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান। একাদিক সাহাবী ও তাবিঈ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) ও কূফাবাসী আলিমদের অভিমতও এ-ই।
সুত্র: সিফাতুস সালাত, মূল-মিশকাত ৮০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৫৭, মুসনাদে আবী আওয়ানা-১/৪২৩,হাদীস নং-১৫৭২, আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৪৮, ৭৫০ , নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ১০৬১, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৩০৪, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-১২০৭২, সুনানে বায়হাকী-৫/৭২-৭৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৯৯৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১০০২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৮৭৮, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১৫৫২, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৭৪৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০৯৯৮, মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-৯১২, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৭৮৬, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৪২৮} সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৩৬৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৬৮১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৬, মুসনাদে আহমদ, ১খ, ৩৮৮পৃ, সান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৭, ২৪৫৮, ২৪৬১, ২৪৬৯; তাহাবী শরীফ, ১খ, ১১১পৃ। গায়রে মুকাল্লিদ আলেম শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী সাহেবও স্বীকার করেছেন যে,এ হাদীস দোষণীয় হবার কোন কারণ নেই। বরং তিনি স্পষ্ট ভাষায় একে সহীহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন {সহীহ ওয়া জঈফ সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১০২৬।
১৫. তাকবীর বলতে বলতে সিজদায় যাওয়া।
সুত্র: সহীহ বুখারী (৮০৩)
১৬. সিজদায় যাওয়া আগে হাটু মাটিতে রাখা:
সুত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৭১৯, ২৭২০, আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৮৩৮; তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৬৮; নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ১০৮৯; ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীস নং ৮৮২; ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৬২৬; ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১৯০৯ ও ইবনুস সাকান (দ. আছারুস সুনান,পৃ. ১৪৮) তিরমিযী বলেছেন এটি হাসান গারীব, দারাকুতনী, হাদীস ১৩০৪, হাকেম, হাদীস ৮২২ ও বায়হাকী, হাদীস ২৬৩২, সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৬২৮।
১৭. সিজদা হতে সিনা ও মাথা স্বাভাবিক সোজা রেখে সরাসরি দাঁড়ানো, শরীরের উপরিভাগ নুইয়ে না দেওয়া:
قال ابن أبي شيبة (ط عوامة): حدثنا أبو خالد الأحمر ، عن محمد بن عجلان ، عن النعمان بن أبي عياش ، قال : أدركت غير واحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ، فكان إذا رفع رأسه من السجدة في أول ركعة والثالثة ، قام كما هو ولم يجلس.
ـ أخرجه في «مصنفه» (4011)، قال النيموي: وإسناده حسن.
অর্থ: হযরত নু’মান ইবনে আইয়াশ রহ. বলেন, আমি একাধিক সাহাবাকে পেয়েছি। (তাঁদের কেউ) যখন প্রথম ও তৃতীয় রাকা‘আতে সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন, যেভাবে আছেন সেভাবে না বসে দাঁড়িয়ে যেতেন।
-মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (৪০১১), আল্লামা নীমাভী রহ. বলেন, এর সনদ হাসান। [আসারুসসুনান পৃ.১৫০]
قال ابن أبي شيبة : حدثنا عبد الرحمن بن مهدي ، عن سفيان ، عن الزبير بن عدي ، عن إبراهيم : أنه كان يسرع القيام في الركعة الأولى من آخر سجدة.
-أخرجه في «مصنفه» (4010). وهذا إسناد رجاله ثقات.
অর্থ: হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি প্রথম রাকা‘আতে দ্বিতীয় সিজদা হতে দ্রুত দাঁড়িয়ে যেতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (৪০১০), এ বর্ণনার রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।
১৮. বৈঠক করা:
বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা ডান পা সোজাভাবে খাড়া রাখা:
সুত্র: সহীহ মুসলিম ৪৯৮,
১৯. সালাম ফেরানো:
সুত্র: সহীহ মুসলিম ৪৩১,
আল্লাহ সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন

15/04/2026

উক্ত আলোচরাটি ভালো করো পড়ুন।
(আবু দাউদ ৭৫৯ ও ইবসে খুযাইমা ৪৭৯ উভয় হাদিসের সনদ সহিহ না।) *. হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠের উপর রাখা:
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন
লা-মাযহাবী আলেমদের কর্তৃক সম্পাদিত এবং তাদের নিজস্ব প্রকাশনী ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারীর ১ম খণ্ডের ৫৭৯ নং পৃষ্ঠায় এসেছেঃ
ووضع على رضى الله تعالى عنه كفه على رسغه الأيسر
‘আলী রাজিআল্লাহু আনহু (সলাতে) সাধারণত তাঁর ডান হাতের পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন। [সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স-১/৫৭৯]
قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَيْفَ يُصَلِّى فنظرت إليه فَقَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بأُذُنَيْهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ. أخرجه أبو داود (٧٢٧) والنسائي (٨٨٩) واللفظ له وأحمد ٤/٣١٨ وابن خزيمة (٤٨٠) وابن حبان (১৮৬০) وابن الجارود في المنتقى (২০৮) والبيهقي في السنن (২/২৭) بإسناد صحيح.
অর্থ: আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে নামায পড়েন তা আমি লক্ষ্য করবো। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং উভয় হাত কান বরাবর তুললেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।
আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭২৭; নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং ৮৮৯; মুসনাদে আহমদ ৪খ, ৩১৮পৃ; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৪৮০; ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১৮৬০; আলমুনতাকা লিইবনিল জারূদ, হাদীস নং ২০৮ ও বায়হাকী ২খ. ২৭ পৃ.। এ হাদীসটি সহীহ। মুআত্তা মালেক, হাদীস নং ৪২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২২৮৪৯; মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা, হাদীস নং ১৫৯৭; তাবারানী ফিল কাবীর, হাদীস নং ৫৭৭২; বায়হাকী, হাদীস নং ২৩২৬; শারহুস সুন্নাহ, হাদীস নং ৫৬৮; আওসাত লিইবনিল মুনযির, হাদীস নং ১২৮৬।
ইবনে খুযায়মা র. উক্ত হাদীসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন,
باب وضع بطن الكف اليمنى على الكف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহু সবগুলোর উপর রাখবে।
একইভাবে ইবনুল মুনযির রহ. তার আল আওসাত গ্রন্থে শিরোনাম দিয়েছেন,
ذكر وضع بطن كف اليمنى على ظهر كف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ কব্জি ও কব্জিসংলগ্ন বাহুর উপর রাখার আলোচনা।
وعند الدارمي ١/٢٨٣ بإسناد صحيح في حديث وَائِلٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيباً مِنَ الرُّصْغِ .
অর্থাৎ দারিমী র. এর এক বর্ণনায় সহীহ সনদে ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত বাম হাতের কব্জির কাছাকাছি রাখতে দেখেছি। সুনানে দারিমী, ১খ, ২৮৩পৃ।
আবূ দাউদ শরীফের আরেক বর্ণনায় আছে,
ثم أخذ شماله بيمينه
অর্থাৎ অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরলেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৮৫০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ১২৬৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৪৭৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৯৪৫; মুজামে কাবীর লিত তাবারানী, ২২/৩৩; সুনানে বায়হাকী, হাদীস ২৫১৬।
হযরত হুলব আততাঈ রা. বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمنا فيأخذ شماله بيمينه. أخرجه الترمذي (٢٥٢) وابن ماجه (٨٠٩) وابن أبي شيبة (٣٩٥٥) والدارقطني ١/٢٨٥ وقال الترمذي: حديث حسن.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরতেন। তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৫২; তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান। ইবনে মাজা, হাদীস নং ৮০৯; ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৫।
মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় আছে, বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার বিবরণ দিতে গিয়ে ইয়াহইয়া র. ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখেছেন। নাসাঈ, হাদীস নং ৮৮৭, দারাকুতনী, হাদীস নং ১১০৪। আলবানী বলেছেন, সনদ সহীহ। (দ্র, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২খ, ২২৫ পৃ) মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬১; বুখারী শরীফ, ১১৯৮নং হাদীসের পূর্বে, বায়হাকী, হাদীস নং ২৩৩৩। এ হাদীসটির সনদ সহীহ। (কিতাবুল আছার, হা. ১২০)*. বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা:
ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা ও অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা
)۱(عن قبیصۃ بن ہلبؓعن ابیہ قال :کان رسول اللہ۔ ﷺ۔ یؤمنا فیأخذ شمالہ بیمینہ۰
رواہ الترمذی فی’’جامعہ‘‘ برقم ( ۲۵۲) کتاب الصلاۃ‘ باب ما جاء فی وضع الیمین علی الشمال وقال: حدیث ہلب حدیث حسن۰
)۲(عن عبد اللہ بن مسعودؓ قال : مر بی النبی۔ ﷺ۔ وأنا واضع یدی الیسری علی الیمنی فأخذ بیدی الیمنی فوضعہا علی الیسری
رواہ ابن ماجہ فی ’’سننہ‘‘ ۱/۴۴۱ ( ۸۱۱) قال المحقق : الحدیث صحیح.
অর্থ: (১) হযরত কবীসা ইবনে হুলবরহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নিজ পিতা হুল্‌ব রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রিয়নবী ﷺ আমাদের ইমামতী করতেন তখন ( হাত বাঁধার সময়) ডান হাত দ্বারা বাম ধরতেন । সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং (২৫২) ইবনে মাজাহ শরীফ ১/৪৪১ (৮০৯) মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬ (২২৭) (অবশিষ্ট-৬)
অর্থ: (২) হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা প্রিয় নবী ﷺ আমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আমি (নামাযে) আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রাখা অবস্থায় ছিলাম। (ইহা দেখে) প্রিয় নবী ﷺ আমার ডান হাত ধরে তা বাম হাতের উপর রেখে দিলেন। সূত্র: ইবনে মাজাহ শরীফ ১/৪৪১(৮৮১) অত্র কিতাবের মুহাক্কিক বলেন ا لحد يث অর্থাৎ হাদীসটি সহীহ। (অবশিষ্ট-৭)
উল্লেখ্য যে, এ অনুচ্ছেদে হাদীস শরীফে দু’ধরণের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছেঃ ১- বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। ২-ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরা। আর উভয় বিষয় বস্তুই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই ফুকাহায়ে কিরাম এতদুভয়ের মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য সাধন করেছেন যে, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরা ও অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর বিছিয়ে রেখে দেওয়া, এতে উভয় হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়।*. নাভীর নিচে হাত বাঁধা:
লা-মাযহাবী আলেমদের কর্তৃক সম্পাদিত এবং তাদের নিজস্ব প্রকাশনী ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারীর ১ম খণ্ডের ৫৭৯ নং পৃষ্ঠায় এসেছেঃ
ووضع على رضى الله تعالى عنه كفه على رسغه الأيسر
‘আলী রাজিআল্লাহু আনহু (সলাতে) সাধারণত তাঁর ডান হাতের পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন। [সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স-১/৫৭৯]
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في تخريج أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في طوالع الأنوار: رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯। এর সনদ সহীহ। সুনান আত তিরমিজি, হাদিস নং ২৫২। হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী র. ও আল্লামা আবেদ সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ: ইবনে আবী শায়বা র. বর্ণনা করেছেন ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্রে হযরত ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।
নামাযে বাম কব্জির উপর ডান হাত রেখে দু’আঙ্গুল দ্বারা চেপে ধরা সুন্নত। একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা এ আমল প্রমাণিত । চার মাযহাবের সকল ইমাম ও আলেম এটাকেই সুন্নত পদ্ধতি আখ্যা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কনুই পর্যন্ত হাত রাখার পক্ষে কোন হাদীস নেই। পূর্বসূরিগণের কারো আমলও নেই। এমনিভাবে নাভির নীচে হাত রাখা সুন্নত। ইমাম আবূ হানীফা র. ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল র. দুজনই এটাকে সুন্নত বলেছেন। ইমাম মালেক রহ. এর মত হলো, ফরজ নামাযে হাত ছেড়ে রাখা সুন্নত। আর ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন, বুকের নীচে হাত বাঁধা সুন্নত।
বুকের উপর হাত বাঁধাকে চার ইমামের কেউই সুন্নত বলেননি। কোন মুহাদ্দিস বুকের উপর হাত বেঁধেছেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন মুহাদ্দিস এ সম্পর্কে কোন শিরোনামও উল্লেখ করেন নি। এসম্পর্কে যে হাদীসটি পেশ করা হয় সেটি সহীহ নয়। এ আলোচনার শেষ দিকে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনা আসছে। এখানে প্রথমত হাত বাঁধার পদ্ধতি সম্পর্কিত সহীহ হাদীসগুলো পেশ করা হচ্ছে। অতঃপর নাভির নীচে হাত রাখা সম্পর্কে হাদীসগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।এসব থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, লা-মাযহাবী ভাইয়েরা হাদীসটির ভুল অর্থ বুঝে কনুই পর্যন্ত হাত বিস্তার করে থাকেন।
নাভির নীচে হাত রাখার দলিল
১
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في تخريج أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في طوالع الأنوار: رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯। এর সনদ সহীহ।
হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী র. ও আল্লামা আবেদ সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ: ইবনে আবী শায়বা র. বর্ণনা করেছেন ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্রে হযরত ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।
এ হাদীসটি সম্পর্কে কেউ কেউ শুধু এতটুকু আপত্তি উত্থাপন করেছেন যে, মুসান্নাফের কোন কোন পা-ুলিপিতে এটি বিদ্যমান নেই। কিন্তু এ আপত্তি হাদীসের অনেক কিতাবের ক্ষেত্রেই চলে। তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, সহীহ ইবনে হিব্বান প্রভৃতি কিতাব দেখুন, এক পা-ুলিপিতে এমন কিছু হাদীস পাওয়া যায়, যা অন্য পা-ুলিপিতে নেই। তিরমিযী শরীফের মুবারকপুরী, আহমাদ শাকের ও শুআয়ব আরনাউতের তিন কপিতেই এ তারতম্য দেখা যায়। সুতরাং এটা কোন আপত্তি হতে পারে না। যারা নিজের চোখে হাদীসটি মুসান্নাফে দেখেছেন তাদের কথাই গ্রহণযোগ্য হবে।
২
হযরত আলী রা. বলেন,
السُّنَّةُ وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى الْكَفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود (في رواية ابن الأعرابي وابن داسة) ٧٥٦ وأحمد ١/١١٠ (٨٧٥) وابن أبي شيبة (٣٩٦٦) والدارقطني ١/٢٨٦ والضياء في المختارة ٢/٧٧٢ وفيه عبد الرحمن بن إسحاق الواسطي وهو ضعيف. ولكن يشهد له الحديث السابق.
অর্থ: সুন্নত হলো তালু নামাযের সময় তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখা। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৬; মুসনাদে আহমদ ১খ, ১১০ পৃ, হাদীস নং ৮৭৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৬; দারাকুতনী, ১খ, ২৮৬পৃ; যিয়া ফিল মুখতারা, ২খ, ৭৭২পৃ।
এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রয়েছেন। তিনি দুর্বল। তবে প্রথম হাদীসটি এর সমর্থন করছে।
৩
হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন,
أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود (٧٥٨) وفيه عبد الرحمن المذكور.
অর্থ: নামাযে হাতের তালু অপর তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে হবে। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৮।
এতেও পূর্বোক্ত আব্দুর রহমান রয়েছেন।
৪
হযরত আনাস রা. বলেছেন,
ثلاث من أخلاق النبوة تعجيل الإفطار وتأخير السحور ووضع البد اليمنى على اليسرى في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن حزم في المحلى تعليقا ٣/٣٠
অর্থ: তিনটি বিষয় নবীস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ইফতারে বিলম্ব না করা, সাহরী শেষ সময়ে খাওয়া, এবং নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখা। ইবনে হাযম, আল মুহাল্লা, ৩খ, ৩০পৃ। তিনি এর সনদ উল্লেখ করেন নি।
৫
হাজ্জাজ ইবনে হাসসান র. বলেন,
سمعت أبا مجلز أو سألته قال : قلت كيف يصنع قال : يضع باطن كف يمينه على ظاهر كف شماله ويجعلها أسفل من السرة . أخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه. (٣٩٦٣)
অর্থ: আমি আবূ মিজলায র. (বিশিষ্ট তাবেয়ী)কে বলতে শুনেছি, অথবা হাজ্জাজ বলেছেন, আমি আবূ মিজলায র.কে জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে হাত বাঁধবে? তিনি বললেন, ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে রেখে নাভির নীচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৩। এর সনদ সহীহ।
৬
ইবরাহীম নাখায়ী র. (যিনি তাবেয়ী ছিলেন) বলেন,
يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة . أخرجه ابن أبي شيبة ٣٩٦٠
অর্থ: নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬০ । এর সনদ হাসান।
ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইসহাক ইবনে রাহাওয়াই বলেছেন,
تحت السرة أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع.
অর্থাৎ নাভির নীচে হাত বাঁধার হাদীস অধিক শক্তিশালী এবং বিনয়ের নিকটতর। মাসাইলুল ইমাম আহমদ ওয়া ইসহাক, লি ইসহাক ইবনে মানসুর আলকাওসাজ, মৃত্যু ২৫১, নং ২১৪ ; ইবনুল মুনযির, আলআওসাত, ৩খ,২৪৩ পৃ|
সাহাবা-তাবেয়ীন কীভাবে আমল করেছেন-এ বিষয়ে ইমাম তিরমিযী রাহ. (২৭৯ হি.) বলেন-
والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم، يرون أن يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة، ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة، ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة، وكل ذلك واسع عندهم.
অর্থাৎ আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীন ও তাঁদের পরবর্তী মনীষীগণ এই হাদীসের উপর (ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরা) আমল করেছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত এই ছিল যে, নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতে হবে। তাঁদের কেউ নাভীর উপর হাত রাখার কথা বলতেন, আর কেউ নাভীর নিচে রাখাকে (অগ্রগণ্য) মনে করতেন। (তবে) দুটো নিয়মই তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল।-জামে তিরমিযী ১/৩৪
বস্ত্তত এটা হচ্ছে হাত বাঁধার হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা ও প্রায়োগিক পদ্ধতি। সাহাবা-তাবেয়ীনের যমানা থেকে এ দুটি নিয়মই চলে আসছে। পরবর্তীতে জুমহূর ফকীহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ এ দুই নিয়ম গ্রহণ করেছেন। এভাবে উম্মাহর তাওয়ারুছ ও ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে নামাযে হাত বাঁধার যে নিয়ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছেছে তা উল্লেখিত হাদীসসমূহেরই ব্যবহারিক রূপ। এ কারণে পরবর্তী যুগে বিচ্ছিন্ন কোনো নিয়ম আবিষ্কার করে তাকে হাদীস শরীফের উপর আরোপ করা হাদীসের তাহরীফ ও অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। উপরোক্ত দুই নিয়মের মাঝে নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়মটি রেওয়ায়েতের বিচারে অগ্রগণ্য। ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. (২৩৮ হি.) বলেছেন, ‘নাভীর নিচে হাত বাঁধা রেওয়ায়েতের বিচারে অধিক শক্তিশালী এবং ভক্তি ও বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’
تحت السرة أقوى في الحديث تحت السرة أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع
তাবেয়ী আবু মিজলায লাহিক ইবনে হুমাইদ রাহ. (মৃত্যু : ১০০ হি.-এর পর) নামাযে কোথায় হাত বাঁধবে-এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৯৬৩
এই রেওয়ায়েতের সনদ সহীহ।
সনদসহ রেওয়ায়েতটির পূর্ণ আরবী পাঠ এই -
حدثنا يزيد بن هارون قال : أخبرنا الحجاج بن حسان قال : سمعت أبا مجلز ـ أو سألته ـ قال : قلت كيف أصنع؟ قال : يضع باطن كف يمنيه على ظاهر كف شماله ويجعلها أسفل من السرة.
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.ও (মৃত্যু : ৯৬ হি.) এই ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৯৬০
এই রেওয়ায়েতের সনদ হাসান। সনদসহ রেওয়ায়েতটির পূর্ণ আরবী পাঠ এই-
حدثنا وكيع، عن ربيع، عن أبي معشر، عن إبراهيم قال : يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة.
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশশাইবানী রাহ. (১৮৯ হি.) বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. নাভীর নিচে হাত বাঁধতেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা এই নিয়মই অনুসরণ করি এবং এটিই (ইমাম) আবু হানীফার সিদ্ধান্ত।’-কিতাবুল আছার, হাদীস : ১২১
সনদসহ রেওয়ায়েতটির আরবী পাঠ এই-
قال محمد : أخبرنا الربيع بن صبيح، عن أبي معشر، عن إبراهيم : أنه كان يضع يده اليمنى على يده اليسرى تحت السرة. قال محمد : وبه نأخذ وهو قول أبي حنيفة رحمه الله. (كتاب الصلاة، باب الصلاة قاعدا والتعمد على شيء أو يصلي إلى سترة)
প্রসঙ্গত আগেই বলা হয়েছে যে, সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল হচ্ছে হাত বাঁধা সংক্রান্ত মারফূ হাদীসসমূহের ব্যবহারিক রূপ। এ কারণে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহ. ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ-এর সূত্রে হাত বাঁধার মরফূ হাদীস বর্ণনা করার পর এই নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।
রেওয়ায়েতটি এই-
أخبرنا أبو حنيفة، عن حماد عن إبراهيم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعتمد بإحدى يديه على الأخرى في الصلاة، يتواضع لله تعالى. قال محمد : ويضع بطن كفه الأيمن على رسغه الأيسر، تحت السرة، فيكون الرسغ في وسط الكف، (كتاب الأثار، كتاب الصلاة، باب الصلاة قاعدا والتعمد على شيء أو يصلي إلى سترة)
ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে এক হাতের উপর অন্য হাত বাঁধতেন। এভাবে তিনি আল্লাহর সামনে বিনীত হতেন।’
(ইমাম) মুহাম্মাদ বলেন, ‘ডান হাতের তালু বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে, নাভীর নিচে; সুতরাং কব্জি থাকবে হাতের তালুর মাঝে।’-কিতাবুল আছার, হাদীস : ১২০
খাইরুল কুরূন ও পরবর্তী যুগের হাদীস ও ফিকহের বিখ্যাত ইমামগণও নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম গ্রহণ করেছেন।
ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. (৬২০ হি.) বলেন, নামাযে কোথায় হাত বাঁধা হবে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা আছে। (ইমাম) আহমদ রাহ. থেকে বর্ণিত, দুই হাত নাভীর নিচে রাখবে। এটি (হযরত) আলী রা., আবু হুরায়রা রা., আবু মিজলায রাহ., ইবরাহীম নাখায়ী রাহ., (সুফিয়ান) ছাওরী রাহ., ইসহাক (ইবনে রাহুয়াহ) রাহ. থেকে বর্ণিত।-আলমুগনী ২/১৪১
উল্লেখ্য, ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. ‘আলমুগনী’তে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. থেকে মোট তিনটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। তবে মূল মতন অর্থাৎ ‘মুখতাসারুল খিরাকী’তে শুধু নাভীর নিচে হাত বাঁধার কথাই বলা হয়েছে।
আরবী পাঠ-ويجعلهما ويجعلهما تحت سرته
‘মুখতাসারে’র ভূমিকায় লেখক ইমাম আবুল কাসিম উমার ইবনুল হুসাইন আলখিরাকী (৩৩৪ হি.) বলেছেন, ‘আমি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর মাযহাব অনুসারে (শরীয়তের মাসাইল) এই কিতাবে সংকলন করেছি।’
اختصرت هذا الكتاب ليقرب على متعلمه على مذهب أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل رضي الله عنه.
-আলমুগনী ১/৭-৮
শায়খ আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আবুল খায়ের রাহ. (মৃত্যু ৫৫৮ হি.) বলেন, (ইমাম) আবু ইসহাক (আলমারওয়াযী) রাহ. বলেছেন, ‘এক হাত অন্য হাতের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’-আলবায়ান ফী মাযাহিবিল ইমামিশ শাফেয়ী ২/১৭৫ উল্লেখ্য, ইমাম আবু ইসহাক আলমারওয়াযী রাহ. শাফেয়ী মাযহাবের একজন প্রসিদ্ধ মনীষী। ইমাম শাফেয়ী রাহ. নাভীর উপর (বুকের নিচে) হাত বাঁধার নিয়ম গ্রহণ করলেও আবু ইসহাক মারওয়াযী নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়মকেই অগ্রগণ্য মনে করেছেন।
ইমাম নববী রাহ. (৬৭৬ হি.) বলেন, (ইমাম) আবু হানীফা, (সুফিয়ান) ছাওরী ও ইসহাক (ইবনে রাহুয়াহ) বলেন, ‘দুই হাত নাভীর নিচে রাখবে। আমাদের (শাফেয়ী মাযহাবের) মনীষীদের মধ্যে আবু ইসহাক আলমারওয়াযী রাহ.ও তা গ্রহণ করেছেন। আর ইবনুল মুনযির তা বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা, (ইবরাহীম) নাখায়ী ও আবু মিজলায রাহ. থেকে।
তিনি আরো বলেন, ‘আলী ইবনে আবী তালিব রা. থেকে দুটি রেওয়ায়েত আছে : এক. নাভীর উপর হাত বাঁধা, দুই. নাভীর নিচে হাত বাঁধা।
-আলমাজমূ শরহুল মুহাযযাব ৪/৩৩০
উল্লেখ্য, জনৈক গবেষক একটি রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধার অনুসারী ছিলেন। কিন্তু তার এই প্রয়াস যথার্থ নয়। কারণ হাদীস ও ফিকহের বিখ্যাত মনীষীগণ ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম গ্রহণ করেছেন। ইবনুল মুনযির রাহ. (৩১৮ হি.) স্বয়ং ইসহাক ইবনে রাহুয়াহর দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, ‘নাভীর নিচে হাত বাঁধা রেওয়ায়েতের বিচারে শক্তিশালী এবং ভক্তি ও বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’
সুতরাং এখানে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। আর যে রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, তিনি বুকের উপর হাত বাঁধতেন ঐ রেওয়ায়েতেও তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, তিনি বিতর নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধতেন বা বুকের নিচে।
আরবী পাঠ-
كان إسحاق يوتر بنا ... ويضع يديه على ثدييه أو تحت الثديين.
আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি যে, নাভীর নিচে ও নাভীর উপরে (বুকের নিচে) দু’ জায়গায় হাত বাঁধার নিয়মই সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগে ছিল। তাঁরা একটিকে অগ্রগণ্য মনে করলেও কেউ অন্যটিকে অনুসরণযোগ্য মনে করতেন। তো ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. যদি নাভীর নিচে হাত বাঁধাকে অগ্রগণ্য মনে করার পর কখনো কখনো নাভীর উপরে হাত বাঁধার নিয়ম অনুসরণ করে থাকেন তাতে আশ্চর্যের কী আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই একটি অস্পষ্ট রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে কোনো একটি বিচ্ছিন্ন মত কারো উপর আরোপ করার অবকাশ নেই। এটি বরং আরোপকারীর দলীল-প্রমাণের দৈন্য এবং শুযূয ও বিছিন্নতাকেই প্রকটভাবে প্রকাশিত করে দেয়।
মূল আলোচনায় ফিরে আসি। এ পর্যন্ত আমরা খাইরুল কুরূন ও পরবর্তী যুগের হাদীস ও ফিকহের বিখ্যাত ইমামগণের ফতোয়া ও আমল লক্ষ্য করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবা-তাবেয়ীনের যমানায় নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম ব্যাপকভাবে অনুসৃত হয়েছে, যা হাত বাঁধার মরফূ হাদীসমূহেরই ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক রূপ।
নাভীর নিচে হাত বাঁধা যেমন সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল ও ফতোয়া দ্বারা প্রমাণিত তেমনি মারফূ রেওয়ায়েতের সূত্রেও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।
নাভীর নিচে হাত বাঁধার মারফূ রেওয়ায়েত
ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখবে।’
ويستحب أن يضع المصلي يده اليمنى على كوع يده اليسرى في الصلاة، في وقوفه كله فيها.
-আলমুহাল্লা ৩/২৯
সারসংক্ষেপ : নামাযে হাত বাঁধা সুন্নাহ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক সাহাবী তা বর্ণনা করেছেন। এই সুন্নাহর ব্যবহারিক রূপ খাইরুল কুরূনে কী ছিল তা সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল ও ফতোয়া এবং সে যুগ থেকে চলে আসা ‘আমলে মুতাওয়ারাছ’ দ্বারা প্রমাণিত, যা ইবাদত-বন্দেগীর সঠিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী সূত্র। এ সূত্রে নামাযে হাত বাঁধার দু’টি নিয়ম পাওয়া যায় : নাভীর নিচে হাত বাঁধা ও নাভীর উপর (বুকের নীচে) হাত বাঁধা। দু'টো নিয়মই আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীনের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল, যা ইমাম তিরমিযী রাহ. জামে তিরমিযীতে বর্ণনা করেছেন। তবে রেওয়ায়েতের বিচারে নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়মটি অগ্রগণ্য। ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ রাহ. তা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন।
খাইরুল কুরূন ও পরবর্তী যুগের হাদীস-ফিকহের বড় বড় ইমাম এই নিয়ম গ্রহণ করেছেন। এঁদের মধ্যে ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উপরন্তু বেশ কিছু মরফূ হাদীসেও নাভীর নিচে হাত বাঁধার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে।*. বুখারী ৭৪০ ‍দিয়ে বাহুর উপর বাহু দলিল দেয় অথচ হাদিসটি ভুল ব্যাখ্যা করে লা-মাযহাবী আহলে হাদিসরা।
হাত বাঁধার নিয়ম সম্পর্কিত হাদীস:
১. হযরত সাহল ইবনে সা’দ রা. বলেন,
كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ. صحيح البخاري (٧٤٠ )، موطا مالك برواية أبي مصعب الزهري (৪২৬)، مسند أحمد (২২৮৪৯)، مستخرج أبي عوانة (১৫৯৭)، الطبراني في الكبير (৫৭৭২)، البيهقي (২৩২৬)، البغوي في شرح السنة (৫৬৮)، الأوسط لابن المنذر (১২৮৬).
অর্থ : মানুষকে এই আদেশ দেওয়া হতো যে, তারা যেন নামাযে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখে। বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৭৪০; মুআত্তা মালেক, হাদীস নং ৪২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২২৮৪৯; মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা, হাদীস নং ১৫৯৭; তাবারানী ফিল কাবীর, হাদীস নং ৫৭৭২; বায়হাকী, হাদীস নং ২৩২৬; শারহুস সুন্নাহ, হাদীস নং ৫৬৮; আওসাত লিইবনিল মুনযির, হাদীস নং ১২৮৬।
২. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,
قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَيْفَ يُصَلِّى فنظرت إليه فَقَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بأُذُنَيْهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظهر كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ. أخرجه أبو داود (٧٢٧) والنسائي (٨٨٩) واللفظ له وأحمد ٤/٣١٨ وابن خزيمة (٤٨٠) وابن حبان (১৮৬০) وابن الجارود في المنتقى (২০৮) والبيهقي في السنن (২/২৭) بإسناد صحيح.
অর্থ: আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে নামায পড়েন তা আমি লক্ষ্য করবো। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং উভয় হাত কান বরাবর তুললেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।
আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭২৭; নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং ৮৮৯; মুসনাদে আহমদ ৪খ, ৩১৮পৃ; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৪৮০; ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১৮৬০; আলমুনতাকা লিইবনিল জারূদ, হাদীস নং ২০৮ ও বায়হাকী ২খ. ২৭ পৃ.। এ হাদীসটি সহীহ।
ইমাম নাসায়ী এ হাদীসটির উপর অনুচ্ছেদ শিরোনাম দিয়েছেন موضع اليمين من الشمال في الصلاة অর্থাৎ সালাতে বাম হাতে ডান হাতের স্থান।
ইবনে খুযায়মা র. উক্ত হাদীসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন,
باب وضع بطن الكف اليمنى على الكف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহু সবগুলোর উপর রাখবে।
একইভাবে ইবনুল মুনযির রহ. তার আল আওসাত গ্রন্থে শিরোনাম দিয়েছেন,
ذكر وضع بطن كف اليمنى على ظهر كف اليسرى والرسغ والساعد جميعا
অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ কব্জি ও (কব্জিসংলগ্ন) বাহুর উপর রাখার আলোচনা।
وعند الدارمي ١/٢٨٣ بإسناد صحيح في حديث وَائِلٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيباً مِنَ الرُّصْغِ .
অর্থাৎ দারিমী র. এর এক বর্ণনায় সহীহ সনদে ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডান হাত বাম হাতের কব্জির কাছাকাছি রাখতে দেখেছি। সুনানে দারিমী, ১খ, ২৮৩পৃ।
আবূ দাউদ শরীফের আরেক বর্ণনায় আছে,
ثم أخذ شماله بيمينه
অর্থাৎ অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরলেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭২৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৮৫০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ১২৬৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৪৭৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৯৪৫; মুজামে কাবীর লিত তাবারানী, ২২/৩৩; সুনানে বায়হাকী, হাদীস ২৫১৬।
৩. হযরত হুলব আততাঈ রা. বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمنا فيأخذ شماله بيمينه. أخرجه الترمذي (٢٥٢) وابن ماجه (٨٠٩) وابن أبي شيبة (٣٩٥٥) والدارقطني ١/٢٨٥ وقال الترمذي: حديث حسن.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত (চেপে) ধরতেন। তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৫২; তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান। ইবনে মাজা, হাদীস নং ৮০৯; ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৫।
মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় আছে, বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার বিবরণ দিতে গিয়ে ইয়াহইয়া র. ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখেছেন।
৪. হযরত ওয়াইল রা. বর্ণনা করেন,
رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان قائما في الصلاة قبض بيمينه على شماله. أخرجه النسائي رقم ৮৮৭ ، والدارقطني رقم ১১০৪. وقال الألباني : صحيح الإسناد.
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন ডান হাত দিয়ে বাম হাত চেপে ধরতেন। নাসাঈ, হাদীস নং ৮৮৭, দারাকুতনী, হাদীস নং ১১০৪। আলবানী বলেছেন, সনদ সহীহ।
৫. হযরত শাদ্দাদ ইবনে শুরাহবীল রা. বলেন,
رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما يده اليمنى على يده اليسرى قابضا عليها يعني في الصلاة . رواه البزار والطبراني .ذكره الهيثمي في مجمع الزوائد ٢/٢٢٥ وقال: وفيه عباس بن يونس ولم أجد من ذكره
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাত দিয়ে বাম হাত চেপে ধরে আছেন। অর্থাৎ নামাযে। বাযযার ও তাবারানী এটি উদ্ধৃত করেছেন। (দ, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২খ, ২২৫ পৃ)
৬. জারীর আদ দাব্বী বলেন,
كان عليّ إذا قام في الصلاة وضع يمينه على رسغه .أخرجه ابن أبي شيبة (٣٩٦١) موصولا والبخاري تعليقا قبل حديث رقم ١١٩٨. كتاب العمل في الصلاة ، باب إستعانة اليد في الصلاة الخ ولفظ البخاري : ووضع عليّ كفه على رسغه الأيسر إلا أن يحكَّ جلدا أو يصلح ثوبا.
অর্থ: আলী রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁর ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬১; বুখারী শরীফ, ১১৯৮নং হাদীসের পূর্বে, বায়হাকী, হাদীস নং ২৩৩৩। এ হাদীসটির সনদ সহীহ।
বুখারী শরীফে এটি এভাবে এসেছে, আলী রা. তার (ডান) হাতের তালু বাম হাতের কব্জির উপর রাখেন। তবে শরীর চুলকানো বা কাপড় ঠিক করার জন্য হলে ভিন্ন কথা। (অর্থাৎ তখন ডান হাত সরানোর প্রয়োজন পড়ত।)
এ হাদীসগুলোর কোন কোনটি থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন। আর কোন কোনটি থেকে বোঝা যায়, তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরতেন। কিন্তু বাম হাতের কোন জায়গা ধরতেন? অধিকাংশ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তিনি বাম হাতের কব্জি ধরতেন।
এসব হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে চার মাযহাবের আলেমগণ সেই পদ্ধতিকেই অবলম্বন করেছেন যেভাবে হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ আমল করে থাকেন।
ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন, ويضع بطن كفه الأيمن على رسغه فيكون الرسغ في وسط الكف অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের কব্জির উপর রেখে নাভির নিচে বাঁধবে। তাহলে কব্জি হাতের তালুর মাঝখানে থাকবে। (কিতাবুল আছার, হা. ১২০)
সুতরাং এটি নামাযে হাত বাঁধার মাসনূন তরীকা। এ সম্পর্কে দ্বিধা ও সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

Address

Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট ২ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share