21/07/2025
রাজতন্ত্রকে আমাদের সমাজে হারাম অথবা বিদআত মনে করা হয়। শিয়া সম্প্রদায় সর্বদাই রাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী, তার সাথে যুক্ত হয়েছে কথিত হানাফি সমাজ, যাদের নিজেদেরই আকীদা, আমল ভেজাল।
|````|~|````|~|````|~|````|~|````|~|````|~|````|~|````|~|````|
হানাফিদের প্রধান মুফতী শায়খ তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ বলেন:-
আপনারা দেখেছেন রাজতন্ত্র এমন একটি অস্পষ্ট ব্যাপক শব্দ যে, তার প্রকারসমূহের মধ্যে স্বেচ্ছাচার রাজত্ব থেকে নিয়ে নামমাত্র রাজত্ব পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এমন রাজা অতিবাহিত হয়েছে যার যবানই ছিল আইন; আবার এমন রাজাও আছে যার কিছুই করার নেই। এটাও রাজত্ব, ওটাও রাজত্ব। যা হোক, এই চার-পাঁচ প্রকারের রাজতন্ত্র পাওয়া যায়। এতে একটি কথা স্পষ্ট হয় যে, যখন থেকে দুনিয়াতে গণতন্ত্রের খুব ধুম পড়েছে, তখন থেকে রাজত্ব এবং রাজতন্ত্র শব্দ দুটি বদনামে পরিণত হয়েছে। আর বদনামে পরিণত হওয়ার কারণে রাজতন্ত্রকে শুধু অনিষ্ঠকর মনে করা হয়। মানে রাজতন্ত্র ও রাজত্ব সবসময়ই খারাপ, কখনো ভালো হতে পারে না। এ কারণে অনেককে বলতে শোনা যায়, ইসলামে রাজতন্ত্র নেই ... । এটা আসলে সেই প্রোপাগান্ডার ফল, গণতন্ত্রের ধুম যেটা সৃষ্টি করেছে। অন্যথায়, রাজতন্ত্র একটি শিরোনামমাত্র। এই শিরোনামের আওতাধীন বস্তু ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। এই শিরোনামের আওতায় রাজত্ব ভালোও হতে পারে, মোনাসিবও হতে পারে, আবার গলদও হতে পারে।
যদি আপনি কুরআন মজিদের দিকে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখতে পাবেন আল্লাহ তাআলা তালূত নামের একব্যক্তিকে বাদশাহ বানিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তিনি এ বিষয়টিকে এহসান হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আমি তাকে বাদশাহ করে পাঠিয়ে তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছি। এমনইভাবে বনী ইসরাইলের উপর যেসব এহসান হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে - وجعلناكم ملوكا অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে বাদশাহ করেছেন। একই তরীকায় হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এবং হযরত দাউদ আলাইহিস সালামকে বাদশাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন যারা গণতন্ত্রের পূজারী, তারা যখন এসব আয়াত সামনে আসে তখন বিভিন্ন রকমের হীলা-বাহানা এবং তাফসীর ও ব্যাখ্যা শুরু করে দেন। বলেন, এখানে 'মালিক' বলে অমুক উদ্দেশ্য; ইসলামে রাজতন্ত্র নেই। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে এই যে, রাজতন্ত্র, বাদশাহী অথবা সালতানাত - নাম যা-ই দেওয়া হোক না কেন, দেখতে হবে তার ক্ষমতা কতখানি এবং তিনি কোন নীতিমালার উপর হুকুমত পরিচালনা করছেন। যদি সেই নীতিমালা সঠিক হয় তাহলে নাম চাই 'বাদশাহী' হোক, চাই রাজতন্ত্র হোক, চাই খেলাফত হোক, অথবা অন্যকিছু এতে কিছুই যায় আসে না এবং এই হুকুমতকে খারাপও বলা যায় না। কাজেই একথা মাথায় রাখতে হবে, আমাদের এখানে যে রাজতন্ত্র বা বাদশাহীকে পুরোপুরি খারাপ মনে করা হয়, তা আসলে আমাদের যুগে গজিয়ে ওঠা কিছু মডার্ন চিন্তাবিদের প্রোপাগান্ডা। এর বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তীতে আপনাদের সামনে পেশ করে দিব।
অন্যথায় 'রাজতন্ত্র' শব্দের মধ্যে কিছুই নেই। এটা সঠিকও হতে পারে, গলদও হতে পারে; ভালোও হতে পারে, মন্দও হতে পারে। শাসকের নাম বাদশাহ রাখো, খলীফা রাখো, সুলতান রাখো অথবা রাষ্ট্রপতি রাখো- ইসলাম এখানে কোন অন্তরায় নয়। নামের কারণে কোন-কিছু যায় আসে না। শাসক কোন নীতিমালার অধীনে, কোন আইনের অধীনে এবং কোন ব্যবস্থাপনার অধীনে হুকুমত পরিচালনা করছেন - সেটাই হচ্ছে আসল কথা।
- ইসলাম ও রাজনীতি, ৫২-৫৩; মাকতাবাতুল হেরা।
: