Hare Krishna হরে কৃষ্ণ

Hare Krishna হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মীয় রীতনীতি জানতে পেইজের সাথে সংযুক্ত থাকুন।

✅ শ্রীরামচন্দ্র দীপাবলীর দিনই অযোধ্যায় ফিরেছিলেন কি? সত্য না মিথ❓আজকাল কিছু মানুষ প্রচার করছে যে মর্যাদাপুরুষোত্তম ভগবা...
21/10/2025

✅ শ্রীরামচন্দ্র দীপাবলীর দিনই অযোধ্যায় ফিরেছিলেন কি? সত্য না মিথ❓

আজকাল কিছু মানুষ প্রচার করছে যে মর্যাদাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরাম দীপাবলীর দিনই অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। কিন্তু যদি আমরা বাল্মীকি রামায়ণের মূল শ্লোকগুলো দেখি, তবে এই ধারণাটি মিথ্যা ও পরবর্তী কল্পনা বলে প্রমাণিত হয়।

১. বাল্মীকি রামায়ণ [২.৩.৪] অনুযায়ী
চৈত্রঃ শ্রীমানয়ং মাসঃ পুণ্যঃ পুষ্পিতকাননঃ।
যৌবরাজ্যায় রামস্য সর্বমেবোপকল্প্যতাম্ ॥
রাজ্ঞস্তূপরতে বাক্যে জনঘোষো মহানভূৎ।
অর্থাৎ, শ্রীরামের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল চৈত্র মাসে। কিন্তু সেই রাজ্যাভিষেকের একদিন পূর্বেই তাঁকে ১৪ বছরের বনবাসে যেতে হয়। অতএব তাঁর বনবাসের শুরু হয় চৈত্র মাসেই।

রাজা দশরথ তখন শ্রীরামকে যজ্ঞোপলক্ষ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
ত্বয়া যতঃ প্রজাশ্চেমাঃ স্বগুণৈরনুরঞ্জিতাঃ॥
তস্মাৎ ত্বং পুষ্যযোগেন যৌবরাজ্যমবাপ্নুহি।
বাল্মীকি রামায়ণ ২.৩.৪০
অর্থাৎ, যেহেতু তুমি তোমার শুভগুণে এই প্রজাদের স্নেহ ও সন্তুষ্ট করেছ, অতএব তুমি পুষ্য নক্ষত্রের শুভযোগে যুবরাজ্য লাভ করো।
কিন্তু সেই একই দিনে, পিতার কৈকেয়ীকে প্রদত্ত বর পূরণ করতে, শ্রীরাম অযোধ্যা ত্যাগ করে বনবাসে গমন করেন। অতএব এটি ছিল চৈত্র মাস, যে মাসে তিনি অযোধ্যা ত্যাগ করেছিলেন।

এখন, যদি বনবাসের কাল ১৪ বছর পরে সম্পূর্ণ হয়, তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনও চৈত্র মাসেই হওয়া উচিত, কারণ ১৪ বছরের গণনা শুরু ও শেষ একই মাসে হয়।

অন্যদিকে, দীপাবলী তো পড়ে কার্তিক মাসে, তাহলে কীভাবে শ্রীরামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তন দীপাবলীর দিনে ঘটল? এ প্রশ্নেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি পরবর্তী যুগের গঠিত কাহিনী, মূল বাল্মীকি রামায়ণ-এর বর্ণনা নয়।

২.
তে বসন্তম্ অনুপ্রাপ্তম্ প্রতিবেদ্য পরস্পরম্।
নষ্ট সন্দেশ কাল অর্থা নিপেতুর্ধরণী তলে ॥
বাল্মীকি রামায়ণ ৪.৫৩.৫
অর্থাৎ, শরৎ ঋতুতে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) দক্ষিণ দিকের উদ্দেশ্যে প্রেরিত বানরবাহিনী পথভ্রষ্ট হয়ে এক বিশাল গুহায় প্রবেশ করে এবং শেষপর্যন্ত এক বৃহৎ প্রাসাদে পৌঁছে। গুহা থেকে বাইরে এসে সমুদ্রতীরে পৌঁছালে তারা উপলব্ধি করে যে অনেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তখন ইতিমধ্যেই বসন্ত ঋতু (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) উপস্থিত হয়েছে।
বানররা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বুঝল যে এখন বসন্ত ঋতু এসেছে। তারা এই কথাও উপলব্ধি করল যে সীতার সংবাদ যথাসময়ে সুগ্রীবের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে। এই ভাবনায় তারা মাটিতে বসে পড়ল।
তারপর সম্পাতির পরামর্শ অনুযায়ী, শ্রীহনুমান সেই দিনই লঙ্কার উদ্দেশ্যে গেলেন।
হনুমান এক সম্পূর্ণ রাত্রি লঙ্কায় অবস্থান করলেন। সেখানে তিনি সীতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং রাক্ষসদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন; পরের দিনই তিনি ফিরে এলেন।
ফিরে এসে যখন তিনি বানরদের কাছে নিজের কার্যকলাপের বর্ণনা দিলেন, তখনই তাঁরা মধুবনে অল্পক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেই দিনই কিষ্কিন্ধায় ফিরে গেলেন।
সীতার সংবাদ শুনেই শ্রীরাম যুদ্ধযাত্রা শুরু করলেন। সেই দিন নক্ষত্র ছিল উত্তর ফাল্গুনী।
(১) কিষ্কিন্ধা থেকে সাগর পর্যন্ত যাত্রার সময়কাল রামায়ণে উল্লেখ করা হয়নি।
(২) প্রচলিত সংস্করণের বর্ণনায়, তিনি সাগরদেবের প্রতি প্রার্থনায় তিন দিন অতিবাহিত করেছিলেন,
তস্য রামস্য সুপ্তস্য কুশ আস্তীর্ণে মহী তলে।
নিয়মাদপ্রমত্তস্য নিশাস্তিস্রোঽভিজগ্মতুঃ॥
বাল্মীকি রামায়ণ ৬.২১.১০
অর্থাৎ, নিয়মপালনকারী শ্রীরাম, কুশে বিছানো ভূমিতে শয়ান হয়ে তিন রাত্রি অতিবাহিত করলেন।
(৩) সেতুবন্ধ নির্মাণে পাঁচ দিন ব্যয়িত হয়েছিল।
(৪) লঙ্কায় পৌঁছাতে পূর্ণ এক দিন লেগেছিল এবং সেই রাতে শ্রীরাম সুবেল পর্বতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।
(৫) পরের দিন অঙ্গদকে দূতরূপে রাবণের কাছে পাঠানো হয়, এবং সেদিনই যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রথম দিনে ইন্দ্রজিৎ নাগাস্ত্র দ্বারা শ্রীরাম ও লক্ষ্মণকে বেঁধে ফেলেছিল। কিন্তু গরুড়ের আগমনে তারা মুক্ত হন।
(৬) যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে রাবণ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে, শ্রীরামের হাতে পরাজিত হলেও প্রাণরক্ষা পায়। কুম্ভকর্ণকে তখন জাগানো হয়।
(৭) তৃতীয় দিনে কুম্ভকর্ণ নিহত হয়, ইন্দ্রজিৎ ৬৭ কোটি বানরকে নিধন করে, আর লক্ষ্মণ গুরুতর আহত হন। তখন হনুমান সঞ্জীবনী পর্বত নিয়ে এসে লক্ষ্মণকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
(৮) যুদ্ধের চতুর্থ দিনে ইন্দ্রজিৎ নিহত হয় কৃষ্ণ চতুর্দশী তিথিতে (সম্ভবত ফাল্গুন মাসে),
অভ্যুত্থানং ত্বমদ্যৈব কৃষ্ণপক্ষচতুর্দশীম্।
কৃত্বা নির্যাহ্যমাবাস্যাং বিজয়ায় বলৈর্বৃতঃ॥
বাল্মীকি রামায়ণ ৬.৯২.৬৬
অর্থাৎ, আজই কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে প্রস্তুত হও, আগামী অমাবস্যায় সৈন্যসহ বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করো।
(৯) শ্রীরাম ও রাবণের যুদ্ধ অমাবস্যা দিনে শুরু হয় এবং পূর্ণ এক দিন ধরে চলে।
(১০) শ্রীমদ্ রামায়ণ অনুযায়ী, হনুমান ভরতের কাছে সংবাদ দেন যে পরের দিন, যখন নক্ষত্র থাকবে পুষ্য, তখন শ্রীরাম অযোধ্যায় পৌঁছাবেন,
তং গঙ্গাং পুনরাসাদ্য বসন্তং মুনিসংনিধৌ।
অবিঘ্নং পুষ্যযোগেন শ্বো রামং দ্রষ্টুমর্হসি ॥
বাল্মীকি রামায়ণ ৬.১২৬.৫৪
অর্থাৎ, গঙ্গার তীরে ভরদ্বাজ মুনির নিকটে অবস্থানরত শ্রীরামকে আপনি আগামীকাল পুষ্যনক্ষত্রযোগে বিনা বাধায় দর্শন করবেন।

বাল্মীকিরামায়ণ [৬.১২৪.১–১৭] অনুযায়ী—
পূর্ণে চতুর্দশে বর্ষে পঞ্চম্যাং লক্ষ্মণাগ্রজঃ।
ভরদ্বাজাশ্রমং প্রাপ্য ববন্দে নিয়তো মুনিম্॥
সর্বং মমৈতদ্ বিদিতং তপসা ধর্মবৎসল।
সম্পতন্তি চ মে শিষ্যাঃ প্রবৃত্ত্যাখ্যাঃ পুরীমিতঃ॥
অহমপ্যত্র তে দদ্মি বরং শস্ত্রভৃতাং বর।
অর্ঘ্যং প্রতিগৃহাণেদময়োধ্যাং শ্বো গমিষ্যসি॥
অর্থাৎ, যখন রামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাস শেষ হলো, তখন তিনি পঞ্চমী তিথিতে ঋষি ভরদ্বাজের আশ্রমে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। পরের দিন সকালে, অর্থাৎ ষষ্ঠী তিথিতে, তিনি সেখানে থেকে অযোধ্যার পথে রওনা হন।

▪️এর বাইরে পদ্মপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী যদি দেখি,

সংস্কারো রাবণাদীনামমাবস্যাদিনেঽভবৎ ॥
বৈশাখাদিতিথৌ রাম উবাস রণভূমিষু ।
অভিষিক্তো দ্বিতীয়ায়াং লঙ্কারাজ্যে বিভীষণঃ ॥
সীতাশুদ্ধিস্তৃতীয়ায়াং দেবেভ্যো বরলম্ভনম্ ।
হত্বা চিরেণ লঙ্কেশং লক্ষ্মণাগ্রজ এব সঃ ॥
গৃহীত্বা জানকীং পুণ্যাং দুঃখিতাং রাক্ষসেন তু ।
আদায় পরয়া প্রীত্যা জানকীং স ন্যবর্তত ॥
বৈশাখস্য চতুর্থ্যাং তু রামঃ পুষ্পকমাশ্রিতঃ ।
বিহায়সা নিবৃত্তস্তু ভূয়োঽয়োধ্যাং পুরীং প্রতি ॥
পূর্ণে চতুর্দশে বর্ষে পঞ্চম্যাং মাধবস্যতু ।
ভরদ্বাজাশ্রমে রামঃ সগণঃ সমুপাবিশৎ ॥
নন্দিগ্রামে তু ষষ্ঠ্যাং স ভরতেন সমাগতঃ ।
সপ্তম্যামাভিষিক্তোঽসৌ ভূয়োঽধ্যায়াং রঘুদ্বহঃ ॥
দশৈকাধিকমাসাংস্তু চতুর্দশাহানি মৈথিলী ।
উবাস রামরহিতা রাবণস্য নিবেশনে ॥
দ্বিচত্বারিংশকে বর্ষে রামো রাজ্যমকারয়ৎ ।
সীতায়াশ্চ ত্রয়স্ত্রিংশদ্বৎসরাশ্চ তদাঽভবন্ ॥
স চতুর্দশবর্ষান্তে প্রবিশ্য চ পুরীং প্রভুঃ।
অয়োধ্যাং মুদিতো রামো হত্বা রাবণমাহবে॥
ভ্রাতৃভিঃ সহিতস্তত্র রামো রাজ্যমথাকরোৎ।
পদ্মপুরাণ পাতাল খণ্ড অধ্যায় ৩৬ [বঙ্গসংস্করণে ২১।৬৯-৯৩], স্কন্দপুরাণের ব্রহ্মখণ্ডের ধর্মারণ্যখণ্ডের ৩০তম অধ্যায়
অর্থাৎ, রাবণ ও অন্যান্যদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল অমাবস্যা তিথিতে। বৈশাখ মাসের প্রথম তিথিতে রাম যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেছিলেন। বৈশাখের দ্বিতীয় তিথিতে বিভীষণকে লঙ্কার রাজ্যাভিষেক করা হয়। বৈশাখের তৃতীয়াতে সম্পন্ন হয় সীতার শুদ্ধিকরণ এবং দেবতাদের কাছ থেকে বরলাভ। দীর্ঘকাল পরে লঙ্কাধিপতি রাবণকে বধ করে লক্ষ্মণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাম সেই অসুরক্লিষ্ট জনককন্যা সীতাকে পুনরায় গ্রহণ করেন এবং গভীর ভালোবাসা সহকারে তাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন। বৈশাখের চতুর্থীতে রাম পুষ্পক বিমানে আরোহন করে আকাশপথে পুনরায় অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেন। চৌদ্দ বছর পূর্ণ হলে বৈশাখের পঞ্চমীতে রাম ও তার সহচরগণ ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে অবস্থান করেন। বৈশাখের ষষ্ঠীতে তিনি নন্দিগ্রামে ভরতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সপ্তমীতে রঘুকুলতিলক রাম অযোধ্যায় রাজ্যাভিষিক্ত হন।

কিন্তু দীপাবলী তো হয় চতুর্দশী বা অমাবস্যা তিথিতে!
অতএব, রামের অযোধ্যা-প্রত্যাবর্তন দীপাবলীর দিনে হওয়া অসঙ্গত ও শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
যদি আমরা পুষ্য নক্ষত্রকে (যে নক্ষত্রে শ্রীরাম অযোধ্যা ত্যাগ করেছিলেন এবং পুনরায় প্রত্যাবর্তনও করেছিলেন) ষষ্ঠ তিথিতে সংঘটিত বলে ধরি, যেমনটি রামায়ণে উল্লেখ আছে, তবে প্রাথমিক জ্যোতিষ-নীতি অনুসারে সেই মাস বৈশাখ হতে হবে (অর্থাৎ পদ্মপুরাণের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ)। কিন্তু অসঙ্গতি দেখা দেয় কারণ বনবাসে যাওয়ার পূর্বে রামায়ণে মাসটিকে চৈত্র বলা হয়েছে (উপরের উদ্ধৃত অংশ অনুযায়ী), যা জ্যোতিষ-দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়—কারণ চৈত্র মাসের ষষ্ঠ তিথিতে পুষ্য নক্ষত্রের যোগ সম্ভব নয়। ষষ্ঠী তিথি ও পুষ্য নক্ষত্রের সংযোগ জ্যোতিষতত্ত্ব অনুযায়ী অসঙ্গত। এর অসঙ্গতির আরও প্রমাণ পাওয়া যায় এই যে, ভরতের জন্ম চৈত্র মাসের দশমী তিথিতে এবং পুষ্য নক্ষত্রে হয়েছে (বাল্মীকি রামায়ণ, ১.১৮.১৫), যা জ্যোতিষ মতে সম্পূর্ণ সঠিক। অর্থাৎ চৈত্র মাসের দশম তিথিতে পুষ্য নক্ষত্রের যোগ যথার্থ, কিন্তু চৈত্র মাসের ষষ্ঠ তিথিতে পুষ্য নক্ষত্রের যোগ জ্যোতিষতত্ত্ব অনুযায়ী অসংগত।

অর্থাৎ , শ্রীরামচন্দ্র মহারাজের অযোধ্যা-প্রত্যাবর্তন দীপাবলীর দিনে হয়নি। দীপাবলী-রামপ্রত্যাবর্তন-কথা পরবর্তী লোকপ্রচলিত কাব্যিক কাহিনি, যা বাল্মীকি রামায়ণ-এর মূল আখ্যানের সঙ্গে মেলে না। তবুও, দীপাবলীকে শ্রীরাম-প্রত্যাবর্তনের আনন্দোৎসব হিসেবে মানার প্রচলন ভক্তির পরম্পরায় দৃঢ় হয়েছে, যা ধর্মীয় আস্থার একটি প্রতীক কিন্তু ঐতিহাসিক বা শাস্ত্রীয় সত্য নয়।

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্যতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর থেকে সংগৃহীত

20/09/2025

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে

বৈষ্ণব নাম-ব্যুৎপত্তি অনুসারে, "হরে" শব্দটিকে ভগবান বিষ্ণুর অপর নাম "হরি" সম্বোধনসূচক পদ হিসাবে ব্যক্ত করা যায়, যার অর্থ "যিনি জাগতিক মোহ মুক্ত করেন"। তাই এই হরে কৃষ্ণের মূল মন্ত্রের ‘হরে’ শব্দটি ‘হরা’ (অর্থাৎ, যা হরণ করে) শব্দটির দ্যোতক। এটির মূর্তিরূপ হলেন পরম সত্ত্বা শ্রীকৃষ্ণের শাশ্বত সঙ্গী বা তার দিব্যলীলার শক্তি (‘নাদশক্তি’) রাধা। কলি-সন্তরণ মন্ত্রে রাধার নাম আটবার উচ্চারিত হয়েছে। এটি দিব্যপ্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ভগবানের অপর দুই রূপ "কৃষ্ণ" (যিনি সবাইকে আকর্ষণ করেন) ও "রাম"-এর (যিনি সকল আনন্দের কারণ) নাম চারবার করে উচ্চারিত হয়েছে।[৫][৬][৭][৮][৯]

"হরে রাম" শব্দদুটির "রাম" নামটিকে কখনো কখনো কৃষ্ণের আরেক নাম 'রাধারমণ' (যিনি রাধার প্রিয়তম) হিসাবেও ব্যক্ত করা হয়। তবে সাধারণভাবে এটিকে, কৃষ্ণের আগের অবতার, রামায়ণের রাম হিসাবে উল্লেখ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে, কৃষ্ণের অগ্রজ ভ্রাতা বলরাম-এর খণ্ডনাম হিসাবেও এর অনুবাদ করা হয়।[১০]

কলিসন্তরন উপনিষদের মতে, এই মন্ত্রটি জোরে জোরে উচ্চারণ করলে কলিযুগের সকল কুপ্রভাব দূরীভূত হয়। এছাড়া বিভিন্ন পুরাণে (ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ, পদ্মপুরাণ) ও রাধাতন্ত্রে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রটি পাওয়া যায়।

হিন্দুধর্মের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে এই মন্ত্রটি বিশেষ জনপ্রিয়। খ্রিস্টীয় ১৬শ শতাব্দীতে ভক্তি আন্দোলনের নেতা চৈতন্য মহাপ্রভু সারা ভারতে বিশেষত বাংলা ও উড়িষ্যায় "প্রতি নগরে ও গ্রামে" ভ্রমণ করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে এই "মহামন্ত্র"টি জনপ্রিয় করে তোলেন।[১১] গৌড়ীয় বৈষ্ণব প্রথা অনুসারে, মন্ত্রটি উচ্চৈঃস্বরে বারংবার সংগীতবাদ্য সহযোগে ভজন, দলবদ্ধভাবে কীর্তন বা একান্তভাবে মনে মনে জপ করা হয়। কারণ, এই সম্প্রদায়ের অনুগামীরা মনে করেন, মন্ত্রের শব্দ উচ্চারণকারী ও শ্রোতাকে মুক্তি দান করবে।[১২]

ভগবানের নাম উচ্চারণ এবং নাম প্রচারে এই কীর্তনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। আসলে কীর্তন হলো শ্রীভগবানের কীর্তি সূচক গান। সর্বসাধারণের মধ্যে ভক্তি ধর্ম প্রচারে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কীর্তনকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন । বৃন্দাবনদাসের 'চৈতন্যভাগবত'-এর মধ্যখণ্ড ত্রয়োবিংশ অধ্যায়ে আছে :

" নিরবধি সভেই জপেন কৃষ্ণ নাম।

প্রভুর চরণ কায়মনে করি ধ্যান।।

সন্ধ্যা হৈলে আপনার দ্বারে সব মেলি।

কীর্তন করেন সভে দিয়া হাতে তালি।।

এইমতো নগরে নগরে সংকীর্তন।

করাইতে লাগলেন শচীর নন্দন।।"

- এই ধারার অনুগমন করেই যোগ - ভক্তি মার্গের সাধক ভাদুড়ী মহাশয় - মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ আহিরীটোলা ঘাট থেকে গঙ্গাবক্ষে কীর্তনে বের হন। কালনা পর্যন্ত কীর্তন চলে। পরে ফিরে আসেন সিমলা স্ট্রিটে।[১৩]

১৯৬০-এর দশক থেকে, মন্ত্রটিকে শ্রীকৃষ্ণ ও চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐকান্তিক ভক্ত অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তার গুরুর (শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর) নির্দেশে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহর (১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে) থেকে শুরু করে জীবনের শেষ এগারো বছর ধরে মোট চৌদ্দবার বিশ্ব পরিক্রমা করে গোটা পশ্চিমী বিশ্বে একটি সুপরিচিত শব্দসমাহারে পরিণত করেন।[১৪]

Address

Bolorampur, Bahadurpur, Pangsha, Rajbari
Rajabari
7720

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hare Krishna হরে কৃষ্ণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category