10/03/2026
আজ থেকে শুরু হচ্ছে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাৎসরিক মহোৎসব
চট্টগ্রামের দোহাজারীতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাৎসরিক মহোৎসব ও আশ্রমের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। জগতের কল্যাণ কামনা এবং বিশ্বে সকল মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
ঋষি পরম্পরায় অলংকৃত কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন পরমহংস মহাযোগী Swami Sureshwarananda Puri গুরুমহারাজ। তাঁর আধ্যাত্মিক আদর্শ ও ধর্মীয় দর্শনের আলোকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎসব উদযাপন পরিষদ ১৪৩২ বঙ্গাব্দের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহোৎসব আগামী ১০ মার্চ (২৫ ফাল্গুন) ব্রহ্মমুহূর্তে ধ্বজা উত্তোলন ও সমবেত উপাসনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। একইদিন বিকাল ২টা ০১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান “তপোবন সঙ্গীত”। সন্ধ্যা ৫টা ০১ মিনিটে সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনা এবং সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে গুরুমহারাজের জীবন ও দর্শন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১০টা ০১ মিনিটে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞ এবং শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের শুভ অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে।
হরিনাম সংকীর্তনে অংশ নেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুপরিচিত কীর্তন সম্প্রদায়, যার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের গোপাল বাড়ি সম্প্রদায়, ভোলার বৈষ্ণব নারায়ণ দে সম্প্রদায়, পটিয়ার জিরি এলাকার জয় জগন্নাথ সম্প্রদায়, নোয়াখালীর সমাধি আশ্রম সম্প্রদায় এবং ভোলার প্রভু নিত্যানন্দ সম্প্রদায়।
দ্বিতীয় দিন ১১ মার্চ (২৬ ফাল্গুন) সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে গুরুমহারাজের সমাধিস্নান ও পুষ্পিত অলংকরণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে মঙ্গলঘট স্থাপনের মাধ্যমে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। একইদিন মধ্যাহ্ন ১২টা ০১ মিনিটে দীক্ষাদান, দুপুর ১টা ০১ মিনিটে গুরুমহারাজের রাজভোগ নিবেদন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৫টা ০১ মিনিটে গীতা হোমযজ্ঞের পূর্ণাহুতি এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১০টা ০১ মিনিটে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। এদিন সার্বক্ষণিকভাবে শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন চলবে।
তৃতীয় দিন ১২ মার্চ (২৭ ফাল্গুন) দীক্ষাদান, রাজভোগ নিবেদন, মহাপ্রসাদ আস্বাদন এবং সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
১৩ মার্চ (২৮ ফাল্গুন) উষালগ্নে সমবেত উপাসনার মাধ্যমে শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের পূর্ণাহুতি, বিশ্বমঙ্গল প্রার্থনা এবং ধ্বজা অবতরণের মধ্য দিয়ে মহোৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের আশ্রমাধ্যক্ষ যোগীশ্রেষ্ঠ Swami Pranjalananda Puri মহারাজ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তবৃন্দ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে মহোৎসবটি শান্তি, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সপরিবারে উপস্থিত থেকে এ মঙ্গলময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।
#তপোবন #তপোবনটিভি #স্বামী_সুরেশ্বরানন্দ_পুরী #কেন্দ্রীয়_তপোবন_আশ্রম