14/03/2026
@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামীকাল রবিবার পাপমোচনী
একাদশীর উপবাস। পারণ পরদিন সোমবার সকাল ০৬..৭-১০.০৭ মিনিটের
মধ্যে।
!!!পাপমোচনী একাদশী মাহাত্ম্য!!!
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-হে জনার্দন! চৈত্র
মাসেরকৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ওমাহাত্ম্য কৃপা
করে আমাকে বলুন।শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে
ধর্মরাজযুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক
প্রশ্নকরেছেন।
এই একাদশী সকল পাপথেকে নিস্তার বা
মোচনকরে বলে এই পবিত্রএকাদশী তিথি
‘পাপমোচনী’নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা
একবারলোমশ মুনিকে এই একাদশীরকথা জিজ্ঞাসা
করেছিলেন। তাঁরবর্ণিত সেই বিচিত্রউপাখ্যানটি
আপনার কাছে বলছি।আপনি মনযোগ দিয়ে
শ্রবণ করুন।প্রাচীনকালে অতি মনোরম
‘চৈত্ররথ’পুষ্প
উদ্যানে মুনিগণ বহু বছরধরে তপস্যা করতেন।
একসময়মেধাবী নামে এক ঋষিকুমারসেখানে
তপস্যা করছিলেন।মঞ্জুঘোষা নামে একসুন্দরী
অপ্সরা তাঁকে বশীভূতকরতে চাইল। কিন্তু ঋষির
অভিশাপেরভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইলদূরে
অবস্থান করতে লাগল।বীণা বাজিয়ে মধুর
স্বরে সে গানকরত। একদিনমঞ্জুঘোষা
মেধাবীকে
দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে।এদিকে ঋষি
মেধাবীও অপ্সরারঅনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ
হন।তখন সেই অপ্সরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও
কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত কর।ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-
ভজনবিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্যদেবকে বিস্মৃত
হন। এইভাবে অপ্সরার সাথে কামক্রীড়ায়মুনির বহু
বছর অতিক্রান্ত হল।মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে
সেইঅপ্সরা দেবলোকে ফিরে যেতে
মনস্থকরল। একদিনমঞ্জুঘোষা মেধাবী মুনিকে
বলতে লাগল-হে প্রভু, এখন আমাকে নিজগৃহে
ফিরে যাবার অনুমতি প্রদানকরুন। কিন্তু
মেধাবী বললেন-হে সুন্দরী! তুমি তো
এখনসন্ধ্যাকালে
আমার কাছে এসেছ,প্রাত:কাল পর্যন্ত আমারকাছে
থেকে যাও। মুনিরকথা শুনে অভিশাপের ভয়ে
সেইঅপ্সরা আরও কয়েক বছর তারসাথে বাস করল।
এইভাবে বহুবছর (৫৫বছর ৯ মাস ৭ দিন)
অতিবাহিত হল।
দীর্ঘকাল অপ্সরারসহবাসে থাকলেও
মেধাবীরকাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল।
মঞ্জুঘোষা পুনরায়নিজস্থানে গমনেরপ্রার্থনা
জানালে মুনি বললেন- এখনপ্রাত:কাল, যতক্ষণ
পর্যন্তআমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি,ততক্ষণ
পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।মুনির কথা শুনে ঈষৎহেসে
মঞ্জুঘোষা তাকে বলল-হে মুনিবর! আমার সহবাসে
আপনারযে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে,তা
একবার বিচার করে দেখুন। এইকথা শুনে মুনি স্থিরহয়ে
চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁরছাপ্পান্ন বৎসর
অতিবাহিতহয়ে গেছে।মুনি তখন মঞ্জুঘোষারপ্রতি
ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন-রে পাপীষ্ঠে,
দুরাচারিণী, তপস্যারক্ষয়কারীনি, তোমাকে ধিক্।তুমি
পিশাচী হও। মেধাবীরশাপে অপ্সরার শরীর
বিরূপ প্রাপ্তহল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনিরকাছে
শাপমোচনের উপায়জিজ্ঞাসা করল।মেধাবী
বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্রমাসেরকৃষ্ণপক্ষীয়া
পাপমোচনী একাদশী,সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী।
সেই ব্রতপালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতারআশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে
পিতা! এক অপ্সরারসঙ্গদোষে আমি মহাপাপ
করেছি,এর প্রায়শ্চিত্ত কি?তা কৃপা করে
আমায় বলুন। উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন-
চৈত্রমাসেরকৃষ্ণ
পক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতেরপ্রভাবে
তোমার পাপ দূর হবে। পিতারউপদেশ শুনে
মেধাবী সেই ব্রতভক্তিভরে পালন করল। তার
সমস্তপাপ দূর হল। পুনরায় তিনি তপস্যারফল
লাভ
করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐব্রত পালনের ফলে
পিশাচত্বথেকে মুক্ত হয়ে দিব্যদেহে স্বর্গে
গমন করল।হে মহারাজ! যারা এইপাপমোচনী
একাদশী পালন করেন,তাদের পূর্বকৃত সমস্ত
পাপই ক্ষয়হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ওশ্রবণে সহস্র
গোদানের ফল লাভহয়।
$$$হরিবোল$$$