Sarvapriya Gaurahari Das

Sarvapriya Gaurahari Das Bhakti, prayers, emotions, moments, melodies of Krishna Consciousness.
(1)

@@হরে কৃষ্ণ@@আগামীকাল  রবিবার পাপমোচনীএকাদশীর উপবাস। পারণ পরদিন সোমবার সকাল ০৬..৭-১০.০৭ মিনিটেরমধ্যে।!!!পাপমোচনী একাদশী ...
14/03/2026

@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামীকাল রবিবার পাপমোচনী
একাদশীর উপবাস। পারণ পরদিন সোমবার সকাল ০৬..৭-১০.০৭ মিনিটের
মধ্যে।
!!!পাপমোচনী একাদশী মাহাত্ম্য!!!
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-হে জনার্দন! চৈত্র
মাসেরকৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ওমাহাত্ম্য কৃপা
করে আমাকে বলুন।শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে
ধর্মরাজযুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক
প্রশ্নকরেছেন।
এই একাদশী সকল পাপথেকে নিস্তার বা
মোচনকরে বলে এই পবিত্রএকাদশী তিথি
‘পাপমোচনী’নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা
একবারলোমশ মুনিকে এই একাদশীরকথা জিজ্ঞাসা
করেছিলেন। তাঁরবর্ণিত সেই বিচিত্রউপাখ্যানটি
আপনার কাছে বলছি।আপনি মনযোগ দিয়ে
শ্রবণ করুন।প্রাচীনকালে অতি মনোরম
‘চৈত্ররথ’পুষ্প
উদ্যানে মুনিগণ বহু বছরধরে তপস্যা করতেন।
একসময়মেধাবী নামে এক ঋষিকুমারসেখানে
তপস্যা করছিলেন।মঞ্জুঘোষা নামে একসুন্দরী
অপ্সরা তাঁকে বশীভূতকরতে চাইল। কিন্তু ঋষির
অভিশাপেরভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইলদূরে
অবস্থান করতে লাগল।বীণা বাজিয়ে মধুর
স্বরে সে গানকরত। একদিনমঞ্জুঘোষা
মেধাবীকে
দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে।এদিকে ঋষি
মেধাবীও অপ্সরারঅনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ
হন।তখন সেই অপ্সরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও
কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত কর।ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-
ভজনবিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্যদেবকে বিস্মৃত
হন। এইভাবে অপ্সরার সাথে কামক্রীড়ায়মুনির বহু
বছর অতিক্রান্ত হল।মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে
সেইঅপ্সরা দেবলোকে ফিরে যেতে
মনস্থকরল। একদিনমঞ্জুঘোষা মেধাবী মুনিকে
বলতে লাগল-হে প্রভু, এখন আমাকে নিজগৃহে
ফিরে যাবার অনুমতি প্রদানকরুন। কিন্তু
মেধাবী বললেন-হে সুন্দরী! তুমি তো
এখনসন্ধ্যাকালে
আমার কাছে এসেছ,প্রাত:কাল পর্যন্ত আমারকাছে
থেকে যাও। মুনিরকথা শুনে অভিশাপের ভয়ে
সেইঅপ্সরা আরও কয়েক বছর তারসাথে বাস করল।
এইভাবে বহুবছর (৫৫বছর ৯ মাস ৭ দিন)
অতিবাহিত হল।
দীর্ঘকাল অপ্সরারসহবাসে থাকলেও
মেধাবীরকাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল।
মঞ্জুঘোষা পুনরায়নিজস্থানে গমনেরপ্রার্থনা
জানালে মুনি বললেন- এখনপ্রাত:কাল, যতক্ষণ
পর্যন্তআমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি,ততক্ষণ
পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।মুনির কথা শুনে ঈষৎহেসে
মঞ্জুঘোষা তাকে বলল-হে মুনিবর! আমার সহবাসে
আপনারযে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে,তা
একবার বিচার করে দেখুন। এইকথা শুনে মুনি স্থিরহয়ে
চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁরছাপ্পান্ন বৎসর
অতিবাহিতহয়ে গেছে।মুনি তখন মঞ্জুঘোষারপ্রতি
ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন-রে পাপীষ্ঠে,
দুরাচারিণী, তপস্যারক্ষয়কারীনি, তোমাকে ধিক্।তুমি
পিশাচী হও। মেধাবীরশাপে অপ্সরার শরীর
বিরূপ প্রাপ্তহল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনিরকাছে
শাপমোচনের উপায়জিজ্ঞাসা করল।মেধাবী
বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্রমাসেরকৃষ্ণপক্ষীয়া
পাপমোচনী একাদশী,সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী।
সেই ব্রতপালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতারআশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে
পিতা! এক অপ্সরারসঙ্গদোষে আমি মহাপাপ
করেছি,এর প্রায়শ্চিত্ত কি?তা কৃপা করে
আমায় বলুন। উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন-
চৈত্রমাসেরকৃষ্ণ
পক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতেরপ্রভাবে
তোমার পাপ দূর হবে। পিতারউপদেশ শুনে
মেধাবী সেই ব্রতভক্তিভরে পালন করল। তার
সমস্তপাপ দূর হল। পুনরায় তিনি তপস্যারফল
লাভ
করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐব্রত পালনের ফলে
পিশাচত্বথেকে মুক্ত হয়ে দিব্যদেহে স্বর্গে
গমন করল।হে মহারাজ! যারা এইপাপমোচনী
একাদশী পালন করেন,তাদের পূর্বকৃত সমস্ত
পাপই ক্ষয়হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ওশ্রবণে সহস্র
গোদানের ফল লাভহয়।
$$$হরিবোল$$$

 #হরে কৃষ্ণআগামী ২৭/০২/২৬ ইং রোজ শুক্রবার আমলকীব্রতএকাদশীর উপবাস। পারণ ২৮/০২/২৬ তারিখরোজ শনিবার সকাল ০৬:২২-১০:১৫ মিনিটের...
25/02/2026

#হরে কৃষ্ণ
আগামী ২৭/০২/২৬ ইং রোজ শুক্রবার আমলকীব্রত
একাদশীর উপবাস। পারণ ২৮/০২/২৬ তারিখ
রোজ শনিবার সকাল ০৬:২২-১০:১৫ মিনিটের
মধ্যে।
@আমলকী ব্রত একাদশীর মাহাত্ম্য@
যুধিষ্ঠির বললেন-হে কৃষ্ণ! মহাফলদাতা বিজয়া
একাদশীর কথা শুনলাম।এখন ফাল্গুন মাসের
শুক্লপক্ষের একাদশী যে নামে বিখ্যাত তা
বর্ণনা করুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মহাভাগ
যুধিষ্ঠির! মান্ধাতার প্রশ্নের উত্তরে মহাত্মা
বশিষ্ঠ এই একাদশীর মহিমা কীর্তন
করেছিলেন। আপনার কাছে এখন আমি সেই
কথা বলছি। এই একাদশীর নাম 'আমলকী'।
বিষ্ণুলোক প্রদানকারী রূপে এই একাদশী
বিশেষভাবে মহিমান্বিত। একাদশীর দিন
আমলকী বৃক্ষের তলে রাত্রি জাগরণ করলে
সহস্র গাভী দানের ফল লাভ হয়। হে পান্ডুনন্দন!
পূর্বে ব্রহ্মার রাত্রিতে দৈনন্দিন প্রলয়
উপস্থিত হলে স্থাবর জঙ্গমসহ দেবতা, অসুর ও
রাক্ষস সবকিছুর বিনাশ হয়। তখন ভগবান সেরই
কারণসমুদ্রে অবস্থান করেন। তাঁর মুখপদ্ম থেকে
চন্দ্রবর্ণের একবিন্দু জল ভূমিতে পড়ে। সেই
জলবিন্দু থেকে একটি বিশাল আমলকী বৃক্ষ
উৎপন্ন হয়। এই বৃক্ষের স্মরণ মাত্র গো-দানের
ফল, দর্শনে তাহার দ্বিগুণ এবং এর ফলভক্ষণে
তিনগুণ ফল লাভ হয়। এই বৃক্ষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর
মহেশ্বর সর্বদা অবস্থান করেন। এর প্রতিটি
শাখা-প্রশাখা ও পাতায় ঋষি, দেবতা, ও
প্রজাপতিগণ বাস করেন। এই বৃক্ষকে সমস্ত
বৃক্ষের আদি বলা হয় এবং তা পরম বৈষ্ণব রূপে
বিখ্যাত। অতএব এই শ্রেষ্ঠ ব্রত সকলেরই
পালনীয়। এখন এই ব্রতের একটি অদ্ভুত ইতিহাস
আপনার কাছে বর্ণনা করছি।
প্রাচীনকালে ‌‌‌'বৈদিশ' নামে এক প্রসিদ্ধ নগর
ছিল। এই নগরে 'চৈত্ররথ' নামে এক রাজা
রাজত্ব করতেন। চন্দ্রবংশীয় পাশবিন্দুক
রাজার পুত্ররূপে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি
অত্যন্ত শক্তিমান ও ঐশ্বর্যশালী ছিলেন।
শাস্ত্রজ্ঞানেও তিনি ছিলেন সুনিপুন। তার
রা্জ্যের সর্বত্রই মনোরম আনন্দপূর্ণ এক দিব্য
পরিবেশ লক্ষ্য করা যেত। প্রজারা ছিলেন
বিষ্ণুভক্তিপরায়ণ। সকলেই একাদশী ব্রত পালন
করতেন। তার রাজ্যে কোন অভাব অমঙ্গল ছিল
না। এইভাবে প্রজাদের নিয়ে রাজা চৈত্ররথ
সুখে দিনযাপন করতে থাকেন। একসময় ফাল্গুনী
শুক্লপক্ষের দ্বাদশীযুক্তা আমলকী তিথি
সমাগত হওয়ায় রাজ্যের সকলেই এই ব্রত
পালনের সংকল্প করলেন। ঐদিন প্রাত:স্নানের
পর প্রজাদের নিয়ে রাজা ভগবান শ্রীবিষ্ণুর
মন্দিরে যান। সেখানে সুবাসিত জলপূর্ণ কলস,
ছত্র, বস্ত্র, পাদুকা, পঞ্চরত্ন ইত্যাদি দিয়ে
সাজিয়ে স্থাপন করেন। তারপর ধূপ-দীপ দিয়ে
যত্ন সহকারে মুনি- ঋষিদের দ্বারা
শ্রীপরশুরাম মূর্তি সমন্বিত আমলকীর পূজা
করেন। 'হে পরশুরাম! হে রেণুকার সুখবর্ধক! হে
ধাত্রি! হে পাপবিণাশিনী আমলকী! তোমাকে
প্রণাম। আমার অর্ঘ্যজল গ্রহণ কর। 'এইভাবে
দিনে য়থাবিধি পূজা স্তবস্তুতি নৃত্যগীত করে
রাজা ভক্তিভরে সেই বিষ্ণুমন্দিরে রাত্রি
জাগরণ করতে লাগলেন। এমন সময় দৈবযোগে
একটি ব্যাধ সেখানে উপস্থিত হয়। পূজার
সামগ্রী সহ বহু ব্যক্তিকে একত্রে রাত্রি
জাগরণ করতে দেখে সে কৌতুহলাক্রান্ত হল।
সে ভাবল- এসব কি ব্যাপার? বিষ্ণু মন্দিরে
প্রবেশ করে বসে পড়ল। কলসের উপরে স্থাপিত
বিষ্ণুমূর্তি দর্শন করল। ভগবান বিষ্ণু এবং
একাদশীর মাহাত্ম্যও সে মনোযোগ দিয়ে শুনল।
সারাদিন ঐ ব্যাধ কিছুই আহার করেনি।
এইভাবে ক্ষুধায় কাতর হয়ে সেখানে সে
রাত্রি জাগরণ করল। পরদিন প্রজাসহ রাজা
নগরের দিকে যাত্রা করলেন। সেই ব্যাধও তার
গৃহে ফিরে গেল। এরপর একসময় ব্যাধের মৃত্যু
হল। একাদশীতে রাত্রি জাগরণ ব্রত প্রভাবে
সেই ব্যাধ পরবর্তী জন্মে এক রাজ্যের অধীশ্বর
রূপে নিযুক্ত হল। জয়ন্তী নামে এক নগরী ছিল।
সেখানে বিদূরথ নামে এক রাজা বাস করতেন।
ঐ ব্যাধ বিদূরথ রাজার মহাবলী পুত্ররূপে
জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম হয় বসুরথ।এক লক্ষ
গ্রামের আধিপত্য তিনি লাভ করলেন। তিনি
ছিলেন সূর্যের মত তেজস্বী, চন্দ্রের মত
কান্তিমান ও পৃথিবীর মতো ক্ষমাশীল।
বিভিন্ন সদগুনে ভূষিত বসুরথ পরম বিষ্ণুভক্তি
পরায়ণ হন।এই মহাদাতা রাজা একবার শিকার
করতে গিয়ে পথ ভুলে যান। গভীর জঙ্গলের
মধ্যে ক্ষুধায় পীড়িত হয়ে তিনি ক্লান্তিবশত:
শুয়ে পড়েন। এমন সময় কতগুলি পর্বতনিবাসী
ম্লেচ্ছ রাজার কাছে এসে নানাভাবে
উৎপীড়ন করতে থাকে। রাজাকে তাদের শত্রু
মনে করে তারা তাকে হত্যা করতে চেষ্টা
করে। ''পূর্বে এই রাজা আমাদের পিতা-মাত,
পুত্র-পৌত্র সবাইকে মেরে ফেলেছে।
আমাদের গৃহছাড়া করেছে।"-- এইরকম বলতে
বলতে ম্ণেচ্ছরা রাজাকে হত্যা করতে উদ্যত
হয়। তারা বিভিন্ন অস্ত্র- শস্ত্রে তাঁকে আঘাত
করতে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তাদের
সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাজার কোন ক্ষতিই
তারা সাধন করতে পারেনি। তখন রাজার শরীর
থেকে নানা অলঙ্কারে বিভূষিতা এক পরমা
সুন্দরী স্ত্রী মূর্তি আবির্ভূতা হন।
মহাশক্তিধারিনী ঐ নারী অল্প সময়ের মধ্যেই
সকল পাপী ম্লেচ্ছকে নিধন করল। রাজার
নিদ্রাভঙ্গ হল। এই ভয়ানক হত্যাকান্ড দেখে
রাজা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। তিনি বলতে
লাগলেন- আহা! আমার শত্রুদের হত্যা করে কে
আমার প্রাণ রক্ষা করল, এমন কৃপালু কে আছে?
আমি তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করছি। এমন সময়ে দৈববাণী হল- ভগবান কেশব
ব্যতীত শরণাগতকে রক্ষা করবার আর কে আছে?
তিনিই শরণাগত পালক। দৈববাণী শুনে তিনি
ভক্তিযুক্ত চিত্তে গৃহে ফিরে এলেন। তারপর
প্রজাসহ মহাসুখে ইন্দ্রের মতো নিষ্কন্টক
রাজ্য ভোগ করতে লাগলেন। বশিষ্ঠ বললেন- হে
রাজন্! যে মানুষ এই পরম-উত্তম আমলকী
একাদশী ব্রত পালন করেন তিনি নি:সন্দেহে
বিষ্ণুলোক গমন করবেন।
@হরে কৃষ্ণ@

11/02/2026
🙏🙏হরে কৃষ্ণ🙏🙏আগামী ১৩/০২/২০২৬ ইং রোজ শুক্রবার বিজয়াএকাদশীর উপবাস। পারণ ১৪/০২/২০২৬ তারিখ রোজশনিবার সকাল ৬.৩২-১০.১৯ মিনিট...
11/02/2026

🙏🙏হরে কৃষ্ণ🙏🙏
আগামী ১৩/০২/২০২৬ ইং রোজ শুক্রবার বিজয়া
একাদশীর উপবাস। পারণ ১৪/০২/২০২৬ তারিখ রোজ
শনিবার সকাল ৬.৩২-১০.১৯ মিনিটের মধ্যে।
@বিজয়া একাদশীর মাহাত্ম্য@
বিজয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য: স্কন্দপুরাণে
এই একাদশী মাহাত্ম্য এইভাবে বর্ণিত রয়েছে।
মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে
বাসুদেব! ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একদশীর
মাহাত্ম্য অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ
বললেন- হে যুধিষ্ঠির! এই একাদশী ‘বিজয়া’
নামে পরিচিত। এই একাদশী সম্পর্কে একসময়
দেবর্ষি নারদ স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা
করেছিলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন,
তা আমি এখন তোমাকে বলছি। এই পবিত্র
পাপবিনাশকারী ব্রত মানুষকে জয় দান করে
বলে ‘বিজয়া’ নামে প্রসিদ্ধ। পুরাকালে
শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের জন্য বনে
গিয়েছিলেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তিনি
পঞ্চবটী বনে বাস করতেন। সেই সময় লঙ্কাপতি
রাবণ দেবী সীতাকে হরণ করে। সীতার
অনুসন্ধানে রামচন্দ্র চতুর্দিক ভ্রমণ করতে
থাকেন। তখন মৃতপ্রায় জটায়ুর সাথে তাঁর
সাক্ষাৎ হয়। জটায়ু রাবনের সীতাহরণের সমস্ত
বৃত্তান্ত রামচন্দ্রকে জানিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
এরপর সীতা উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের
সাথে তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। ভগবান
রামচন্দ্রের কৃপায় হনুমান লঙ্কায় গমন করেন।
সেখানে অশোক বনে সীতাদেবীকে দর্শন
করে শ্রীরাম প্রদত্ত অঙ্গুরীয় (আংটি) তাঁকে
অর্পণ করেন। ফিরে এসে শ্রীরামচন্দ্রের
কাছে লঙ্কার সমস্ত ঘটনার কথা ব্যক্ত করেন।
হনুমানের কথা শুনে রামচন্দ্র সুগ্রীবের
পরামর্শে সমুদ্রতীরে যান। সেই দুস্তর সমুদ্র
দেখে তিনি লক্ষ্মণকে বললেন- ‘হে লক্ষ্মণ!
কিভাবে এই অগাধ সমুদ্র পার হওয়া যায়। তার
কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’ উত্তরে লক্ষ্মণ
বললেন- ‘হে পুরুষোত্তম! সর্বজ্ঞাতা আদিদেব
আপনি, আপনাকে আমি কি উপদেশ দেব? তবে
বক্দালভ্য নামে এক মুনি এই দ্বীপে বাস
করেন। এখান থেকে চার মাইল দূরে তাঁর
আশ্রম। হে রাঘব, আপনি সেই প্রাচীন
ঋষিশ্রেষ্ঠকে এর উপায় জিজ্ঞাসা করুন।’
লক্ষ্মণের মনোরম কথা শুনে, তারা সেই
মহামুনির আশ্রমে উপনীত হলেন। ভগবান
রামচন্দ্র ভক্তরাজ সেই মুনিকে প্রণাম করলেন।
মুনিবর রামচন্দ্রকে পুরাণপুরুষ বলে জানতে
পারলেন। আনন্দভরে জিজ্ঞাসা করলেন- হে
রামচন্দ্র! কি কারণে আপনি আমার কাছে
এসেছেন, তা কৃপা করে বলুন। শ্রীরামচন্দ্র
বললেন- হে মুনিবর! আপনার কৃপায় সৈন্যসহ
আমি এই সমুদ্র তীরে উপস্থিত হয়েছি।
রাক্ষসরাজের লঙ্কা বিজয় করাই আমাদের
প্রধান উদ্দেশ্য। যাতে এই ভয়ঙ্কর সমুদ্র
উত্তীর্ণ হতে পারি তার উপায় জানবার জন্য
আমরা আপনার কৃপা প্রার্থনা করি। মুনিবর
প্রসন্নচিত্ত পদ্মলোচন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে
বললেন- ‘হে রাম! আপনার অভীষ্ঠ সিদ্ধির জন্য
যে শ্রেষ্ঠ ব্রত করণীয় আমি তা বলছি। ফাল্গুন
মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘বিজয়া’ নামক একাদশী
ব্রতপালনে আপনি নিশ্চয়ই সৈন্যসহ সমুদ্র পার
হতে পারবেন। এই ব্রতের বিধি শ্রবণ করুন।
বিজয় লাভের জন্য দশমীর দিন সোনা, রূপা,
তামা অথবা মাটির কলস সংগ্রহ করে তাতে
জল ও আমপাতা দিয়ে সুগন্ধি চন্দনে সাজিয়ে
তার উপর সোনার নারায়ণমূর্তি স্থাপন করবেন।
একাদশীর দিন যথাবিধি প্রাতঃস্নান করে
কলসের গলায় মালা চন্দন পড়িয়ে উপযুক্ত
স্থানে নারকেল ও গুবাক দিয়ে পূজা করবেন।
এরপর গন্ধ, পুষ্প, তুলসী, ধূপ-দ্বীপ নৈবেদ্য
ইত্যাদি দিয়ে পরম ভক্তিসহকারে নারায়ণের
পূজা করে হরিকথা কীর্তনে সমস্ত দিন যাপন
করবেন। রাত্রি জাগরণ করে অখন্ড ঘি- প্রদীপ
প্রজ্বলিত রাখবেন। দ্বাদশীর দিন সূর্যোদয়ের
পর সেই কলস বিসর্জনের জন্য কোন নদী,
সরোবর বা জলাশয়ের কাছে গিয়ে বিধি
অনুসারে পূজা নিবেদনের পরে তা বিসর্জন
দেবেন। তারপর ঐ মূর্তি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে
দান করবেন। এই ব্রত প্রভাবে নিশ্চয়ই আপনার
বিজয় লাভ হবে। ব্রহ্মা বললেন- হে নারদ!
ঋষির কথামতো ব্রত অনুষ্ঠানের ফলে তিনি
বিজয়ী হয়েছিলেন। সীতাপ্রাপ্তি, লঙ্কাজয়,
রাবণবধের মাধ্যমে শ্রীরামচন্দ্র অতুল কীর্তি
লাভ করেছিলেন। তাই যথাবিধি যে মানুষ এই
ব্রত পালন করবেন তাদের এজগতে জয়লাভ এবং
পরজগতে অক্ষয় সুখ সুনিশ্চিত জানবে। হে
যুধিষ্ঠির! এই কারণে এই বিজয় একাদশী ব্রত
পালন অবশ্য কর্তব্য। এই ব্রতকথার শ্রবণ-কীর্তন
মাত্রেই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
@@হরিবোল@@

@@হরে কৃষ্ণ@@আগামী ২৯/০১/২৬ ইং রোজ  বৃহষ্পতিবার ভৈমীএকাদশীর উপবাস। পারণ ৩০/০১/২৬ ইং শুক্রবার সকাল৬.৪০-১০.২১টার এর মধ্যে।...
27/01/2026

@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামী ২৯/০১/২৬ ইং রোজ বৃহষ্পতিবার ভৈমী
একাদশীর উপবাস। পারণ ৩০/০১/২৬ ইং শুক্রবার সকাল
৬.৪০-১০.২১টার এর মধ্যে।
@ভৈমী একাদশীর মাহাত্ম্য@
শ্রীগরুড়পুরাণে মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষীয়া
একাদশী তিথিকে ‘ভৈমী’ একাদশী নামে
অভিহিত করা হয়েছে। এখন আমরা জানবো
ভৈমী একাদশী মাহাত্ম্য- যুধিষ্ঠির বললেন-হে
কৃষ্ণ! আপনি কৃপা করে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের
একাদশীর সবিশেষ বর্ণনা করুন। শ্রীকৃষ্ণ
বললেন হে মহারাজ! মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের
একাদশী ‘জয়া’ নামে প্রসিদ্ধ। এই তিথি
সর্বপাপবিনাশিনী , সর্বশ্রেষ্ঠা, পবিত্রা,
সর্বকাম ও মুক্তি প্রদায়িনী। এই ব্রতের ফলে
মানুষ কখনও প্রেতত্ব প্রাপ্তি হয় না। এই
একাদশীর নিম্নরূপ উপাখ্যান শোনা যায়।
একসময় স্বর্গলোকে ইন্দ্র রাজত্ব করছিলেন।
সেখানে অন্য দেবতারাও বেশ সুখেই ছিলেন।
তারা পারিজাত পুষ্প শোভিত নন্দনকাননে
অপ্সাদের সাথে বিহার করতেন। একদিন
পঞ্চাশ কোটি অপ্সরা-নায়ক দেবরাজ ইন্দ্র
স্বেচ্ছায় আনন্দভরে তাদের নৃত্য করতে
বললেন। নৃত্যের সাথে গন্ধর্বগণ গান করতে
লাগলেন। পুষ্পদত্ত, চিত্রসেন প্রভৃতি প্রধান
প্রধান গন্ধর্বেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রসেনের পত্নীর নাম মালিনী। পুষ্পবন্তী
নামে তাঁদের এক কন্যা ছিল। পুষ্পদত্তের
পুত্রের নাম মাল্যবান। এই মাল্যবান পুষ্পবন্তীর
রূপে মুগ্ধ হয়েছিল। পুস্পবন্তী পুনঃ পুনঃ কটাক্ষ
দ্বারা মাল্যবানকে বশীভূত করেছিল। ইন্দ্রের
প্রীতিবিধানের জন্য তারা দুজনেই নৃত্যগীতের
সেই সভায় যোগদান করেছিল। কিন্তু একে
অপরের প্রতি আকৃষ্ট থাকায় উভয়েরই চিত্ত
বিভ্রান্ত হচ্ছিল। সেখানে তারা পরস্পর কেবল
দৃষ্টিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকল। ফলে
গানের ক্রম বিপর্যয় ঘটল। তাদের এই রকম তাল-
মান ভঙ্গভাব দেখে তারা যে পরস্পর
কামাসক্ত হয়েছে, দেবরাজ ইন্দ্র তা বুঝতে
পারলেন। তখন ক্রোধবশে তিনি তাদের
অভিশাপ দিলেন-রে মূঢ়! তোমরা আমার
আজ্ঞা লঙঘন করেছ। তোমাদের ধিক! এখনই
তোমরা পিশাচযোনী লাভ করে মর্ত্যলোকে
নিজ দুষ্কর্মের ফল ভোগ কর। ইন্দ্রের
অভিশাপে তারা দুজন দুঃখিত মনে হিমালয়
পর্বতে বিচরণ করছিল। পিশাচত্ব প্রাপ্ত
হওয়ায় তারা অত্যন্ত দুঃখ ভোগ করতে লাগল।
হিমালয়ের প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে নিজেদের
পূর্বপরিচয় বিস্মৃত হল। এইভাবে অতিকষ্টে
সেখানে দিনযাপন করতে লাগল। একদিন
পিশাচ নিজপত্নী পিশাচীকে বলল- সমান্য
মাত্র পাপ করিনি। অথচ নরকযন্ত্রণার মতো
পিশাচত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। আতএব এখন থেকে
আর কখনও কোন পাপকর্ম করব না। এইভাবে
চিন্তা করে তারা সেই পর্বতে মৃতপ্রায় বাস
করতে লাগল। মাল্যবান ও পুষ্পবন্তীর পূর্ব কোন
পুণ্যবশত সেই সময় মাঘী শুক্লপক্ষীয়া ‘জয়া’
একাদশী তিথি উপস্থিত হল। তারা একটি
অশ্বত্থ বৃক্ষতলে নিরাহারে নির্জলা অবস্থায়
দিবানিশি যাপন করল। শীতের প্রকোপে
অনিদ্রায় রাত্রি অতিবাহিত হল। পরদিন
সূর্যোদয়ে দ্বাদশী তিথি উপস্থিত হল। জয়া
একাদশীর দিন অনাহার ও রাত্রি জাগরণে
তাদের ভক্তির অনুষ্ঠান পালিত হল। এই ব্রত
পালনের ফলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় তাদের
পিশাচত্ব দুর হল। তারা দুজনেই তাদের পূর্বরূপ
ফিরে পেল। তারপর তারা স্বর্গে ফিরে গেল।
দেবরাজ তাদেরকে দেখে অত্যন্ত আশ্চর্য
হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কোন
পুণ্যফলে তোমাদের পিশাচত্ব দূর হল। আমার
অভিশাপ থেকে কে তোমাদের মুক্ত করল?
মাল্যবান বললেন-হে প্রভু! ভগবান বাসুদেবের
কৃপায় জয়া একাদশী ব্রতের পুণ্যপ্রভাবে
পিশাচত্ব দূর হয়েছে। তাদের কথা শুনে
দেবরাজ ইন্দ্র বললেন- হে মাল্যবান, তোমরা
এখন থেকে আবার অমৃত পান কর। একাদশী
ব্রতে যাঁরা আসক্ত এবং যাঁরা কৃষ্ণভক্তি-
পরায়ণ তাঁরা আমাদেরও পূজ্য বলে জানবে। এই
দেবোলোকে তুমি পুষ্পবন্তীর সাথে সুখে
বাস
কর। হে মহারাজ! এই ‘জয়া’ ব্রত ব্রহ্মহত্যাজনিত
পাপকেও বিনাশ করে। এই ব্রত পালনে সমস্ত
প্রকার দানের ফল লাভ হয়। সকল যজ্ঞ ও
তীর্থের পুণ্যফল এই একাদশী প্রভাবে আপনা
হতেই লাভ হয়। অবশেষে মহানন্দে অনন্তকাল
বৈকুন্ঠ বাস হয়। এই জয়া একাদশী ব্রতকথা পাঠ
ও শ্রবণে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়।
@হরিবোল@

@@হরে কৃষ্ণ@@আগামী ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ বুধবারশ্রীশ্রী ষটতিলা একাদশী ব্রত। পারনের সময়পরদিন ১৫ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবার সকাল ০৬:...
12/01/2026

@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামী ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ বুধবার
শ্রীশ্রী ষটতিলা একাদশী ব্রত। পারনের সময়
পরদিন ১৫ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবার সকাল ০৬:৪৩
মিনিট হতে ১০:১৯ মিনিটের মধ্যে।
@শ্রীশ্রী ষটতিলা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য@
মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের "ষটতিলা"একাদশীর
মাহাত্ম্য ভবিষ্যোত্তরপুরাণে বর্ণিত আছে।
যুধিষ্ঠির
মহারাজ বললেন- হে জগন্নাথ!মাঘ মাসের
কৃষ্ণপক্ষের
একাদশীতিথির নাম কি, বিধিই বা কি এবং
তার কি ফল, সবিস্তারে বর্ণনা করুন। তদুত্তরে
ভগবান
বললেন- হে রাজন! এইএকাদশী 'ষট্ তিলা' নামে
জড়তেবিদিত। এক সময় দাল্ভ্য ঋষি মুনিশ্রেষ্ঠ
পুলস্তকেজিজ্ঞাসা করেন - মর্ত্যলোকেমানুষ
েরা ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, অন্যেরসম্পদ করণ
আদি পাপকর্ম
দ্বারা নরকে গমণকরে। যাতে তারা নরক গতি
থেকেরক্ষা পায়, তা যথাযথভাবে
আমাকেউপদেশ
করুন। অনায়াসে সাধন করা যায়এমন কোন
কাজেরকাজি মাধ্যমে যদিতাদের এই পাপ
থেকে
উদ্ধারের কোনউপায় থাকে, তবে তা বলুন।
ঋষি পুলস্ত্য বললেন, হে মহাভাগ! তুমিএকটি
গোপনীয় উত্তম বিষয়াবলী প্রশ্নকরেছ। মাঘ
মাসের
শুচি, জিতেন্দ্রিয়,কাম, ক্রোধ আদি শূন্য হয়ে
স্নানার্থীপর সর্বদেবেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ এর পূজা
করবে।পূজাতে কোন বিঘ্ন ঘটলে কৃষ্ণনাম
স্মরণকরবে। রাত্রিকাল অর্চনান্তে তোমকরবে।
তারপর চন্দন, অগুরু, কর্পূর ও শর্করা প্রভৃতি
দ্বারা
নৈবেদ্য প্রস্তুত করেভগবানকে নিবেদন
করবে। কুষ্মাণ্ড,নারকেল অথবা একশত গুবাক
দিয়ে
অর্ঘ্যপ্রদান করবে ' কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃপালুস্ত্বমগতী
নাং
গতির্ভব ' ইত্যাদি মন্ত্রিতশ্রীকৃষ্ণের পূজা
করতে
হয়। ' কৃষ্ণ আমারপ্রতি প্রীত গোন ' বলে
যথাশক্তিব্রাহ্মণকে জলপূর্ণ কলস, ছত্র,
বস্ত্র,পাদুকা, গাভী ও তিলপাত্র দান করবে।
স্নান, দানাদি কার্যে কালো তিলঅত্যন্ত শুভ।
হে দ্বিজোত্তম! ঐ প্রদত্ত তিল থেকেপুনরায়
যে তিল উৎপন্ন হয়, ততো বছর ধরেদানকারী
স্বর্গলোকে বাস করে। তিলদ্বারা স্নান, তিল
শরীরে ধারণ,তিল জলে
মিশিয়ে তা দিয়ে কর্পর,তিল ভোজন এবং
তিল দান -
এই ছয়প্রকার বিধানে সর্বপাপ বিনষ্ট
হয়েথাকে। এই জন্য এই একাদশীর নাম ' ষট্তিলা
' । হে যুধিষ্ঠির! একসময় নারদও এই ষট্তিলা
একাদশীর ফল ও ইতিহাস সম্পর্কেজানতে
চাইলে যে কাহিনী
আমিবলেছিলাম তা এখন তোমার কাছে বর্ণনা
করছি।
পুরাকালে মর্ত্যলোকে এক ব্রাহ্মণীবাস
করত। সে প্রত্যহ ব্রত আচরণ ওদেবপূজাপরায়ণা
ছিল।
উপবাস ক্রমেতার শরীর অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে
গিয়েছিল। সেই মহাসতী ব্রাহ্মণীঅন্যের কাছ
থেকে দ্রব্যাদি গ্রহণ করেদেবতা, ব্রাহ্মণ,
কুমারীদের ভক্তিভরেদান করত। কিন্তু কখনও
ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান ও ব্রাহ্মণজাতি
অন্নদানকরেনি। এইভাবে বহু বছর অতিক্রান্ত
হল।আমি চিন্তা করলাম, কষ্টসাধ্য বিভিন্নব্রত
করার ফলা এই ব্রাহ্মণীর শরীরশুকিয়ে যাচ্ছে।
সে যথাযথভাবে বৈষ্ণব
দের অর্চনও করেছে, কিন্তু তাদেরপরিতৃপ্তির
জন্য
কখনও অন্নদান করেনি।তাই আমি একদিন
কাপালিক রূপ ধারণকরে তামার পাত্র হাতে
নিয়ে
তারকাছে গিয়ে ভিক্ষা প্রার্থনাকরলাম।
ব্রাহ্মণী বলল - হে ব্রাহ্মণ! তুমি কোথাথেকে
এসেছ, কোথায় যাবে,
তাআমাকে বলো।আমি বললাম - হে সুন্দরী!
আমাকে ভিক্ষা দাও। তখন মে ক্রুদ্ধ হয়ে
আমারপাত্রে একটি মাটির ঢিলা
নিক্ষেপকরল। তারপর আমি সেখান থেকে
চলেগেলাম।বহুকাল পরে সেই ব্রাহ্মণী ব্রত
প্রভাকরস্বশরীরে স্বর্গে গমন করল।
মাটিরঢেলা দানের ফলে একটিমনোরম গৃহ
সেপ্রাপ্ত হল। কিন্তু হে নারদ!
সেখানেকোন ধান ও চাল কিছুই ছিল না।
গৃহশূন্যদেখে
মহাক্রোধে সে আমার কাছেএসে বলল - আমি
ব্রত,
কৃচ্ছ্রসাধন
ওউপবাসের মাধ্যমে নারায়ণেরআরাধনা
করেছি।
এখন হে জনার্দন!আমার দুহে কিছুই দেখছি না
কেন?হে নারদ! তখন আমি তাকে বললাম -তুমি
নিজ গৃহে দরজা বন্ধ করে বসেথাকো।
মর্ত্যলোকের মানবী স্বশরীরেস্বর্গে এসেছে
শুনে দেবতাদের পত্নীরা তাকে দেখতে
আসবে। কিন্তুতুমি দরজা খুলবে না।
তুমি তাদেরকাছে ষট্ তিলা ব্রতের
পূণ্যফলপ্রার্থনা
করবে। যদি তারা সেই ফলপ্রদানে রাজি হয়,
তবেইr
দরজা খুলবে। এরপর দেবপত্নীরা সেখানে এসে
তারদর্শন প্রার্থনা করল। ষট্ তিলা ব্রতের
ফলপেলেই কেবল সেই মানবী দর্শন
দেবেনজেনে তাদের মধ্যে এক দেবপত্নী
তার ষট্ তিলা ব্রতজনীত পূণ্যফল তাকে
প্রদানকরল।
তখন সেই ব্রাহ্মণী দিব্যকান্তিবিশিষ্টা হল
এবং তার গৃহ ধনধান্যে ভরে গেল। দ্বার
উদঘাটন
করলেদেবপত্নীরা তাকে দর্শন করে
বিস্মিতহেলেন।হে নারদ! অতিরিক্ত
বিষয়বাসনা করাউচিত নয়। বিত্ত শাঠ্যও
অকর্তব্য। নিজসাধ্য মতো তিল, বস্ত্র ও অন্ন
দান করবে।ষট্ তিলা ব্রতেরপ্রভাকর
দারিদ্রতা,শারীরিক কষ্ট, দুর্ভাগ্য প্রভৃতি
বিনষ্ট হয়।এই বিধি অনুসারে তিলদান করলে
মানুষ অনায়াসে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়।।
"""হরিবোল""

@@হরে কৃষ্ণ@@আগামী ৩১-১২ ২০২৫ বুধবার শ্রীশ্রী পুত্রদাএকাদশী ব্রত। পারনের সময় পরদিন বৃহষ্পতিবার সকাল ০৬.৪১-১০:১৫ মিনিটের ...
29/12/2025

@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামী ৩১-১২ ২০২৫ বুধবার শ্রীশ্রী পুত্রদা
একাদশী ব্রত। পারনের সময় পরদিন বৃহষ্পতিবার সকাল ০৬.৪১-১০:১৫ মিনিটের মধ্যে।
@@পুত্রদা একাদশী মাহাত্ম্য@@
যুধিষ্ঠির বললেন-হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি? বিধিই বা কি, কোন দেবতা ঐ
দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার
প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল
প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে
সবিস্তারে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন-- হে মহারাজ! এই
একাদশী "পুত্রদা" নামে প্রসিদ্ধ।
সর্বপা পবিনাশিনী ও কামদা এই
একাদশীর অধিষ্ঠাত্রী দেবতা
হলেনসিদ্ধিদাতা নারায়ণ।
ত্রিলোকে এর মত শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই।
এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্বান ও
যশস্বী করে তোলেন।এখন আমার
কাছে ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ কর।
ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান
নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর রানীর নাম
ছিল শৈব্যা।
রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন।
বংশরক্ষ ার জন্য বহুদিন ধরে ধর্মকর্মের
অনুষ্ঠান
করেও যখন পুত্রলাভ হল না,তখন
রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই
সকল
ঐশ্বর্যবান
হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না।
তিনি ভাবতেন-পুত্রহীন জন্ম বৃথা ও গৃহশূন্য।
পিতৃ--
দেব--মনুষ ইহলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে
উল্লেখ আছে,তা পুত্র
বিনা পরিশোধ হয় না। পুত্রবানজনের এ
জগতে
যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের
আয়ু,আরোগ্য ,সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান
থাকে।
নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ রাজা আত্মহত্যা
করবেন বলে
স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে
দেখলেন--'
আত্মহত্যা মহাপাপ,এর ফলে কেবল দেহের
বিনাশমাত্র হবে,কিন্তু
আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না।
তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন
করলেন। বন
ভ্রমণ
করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত
হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত
কাতর হলেন।এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান
করতে
লাগলেন।
তিনি চক্রবাক,রাজহংস এবং নানারকম
মাছে পরিপূর্ণ একটি
মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন।
সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল।
তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন।
সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করচিলেন।
মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দণ্ডবৎ প্রণাম
করলেন। মুনিগণ রাজাকে বললেন--
হে মহারাজ! আমরা আপনার
প্রতি প্রসন্ন হয়েছি। আপনার
কি প্রার্থনা বলুন। রাজা বললেন--
আপনারা কে এবং কি জন্যই
বা এখানে সমবেত হয়েছেন? মুনিগণ বললেন--
হে মহারাজ!
আমরা 'বিশ্বদেব' নামে প্রসিদ্ধ। এই
সরোবরে স্নান করতে এসেছি।আজ
থেকে পাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে।
আজ
পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্র দান করে বলেই
এই
একাদশীর নাম'পুত্রদা' তাঁদের
কথা শুনে রাজা বললেন--
হে মুনিবৃন্দ! আমি অপুত্রক। তাই
পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন
আপনাদের
দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। এ
দুর্ভাগা পুত্রহীনের
প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র
প্রদান করুন। মুনিগণ
বললেন-- হে মহারাজ! আজ সেই
পুত্রদা একাদশী তিথি।তাই এখনই
আপনি এই ব্রত পালন করুন। ভগবান
শ্রীকেশবের
অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে।
মুনিদের কথা শোনার পর
যথাবিধানে রাজা কেবল
ফলমূলাদি আহার করে সেই ব্রত
অনুষ্ঠান করলেন।
দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত
সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন।
মুনিদের
প্রণাম নিবেদন
করে নিজগৃহে ফিরে এলেন।
ব্রতপ্রভাবে রাজার
যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ
হল।হে মহারাজ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা
কর্তব্য।মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে
আমি এই
ব্রত কথা বর্ণনা করলাম।
নিষ্ঠাসহকারে যারা এই
পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন
করবে,তারা 'পুত'নামক নরক
থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে। আর এই ব্রত
কথা
শ্রবণ--
কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল
পাওয়া যায়।ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে এই
মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
@হরিবোল@

 #হরে কৃষ্ণআগামী  ১৬/১২/২৫ রোজ মঙ্গলবার সফলা একাদশীর উপবাস। পারন পরের দিন ১৭/১২/২৫ তারিখ সকাল  ০৬.৩৪-১০.০৮ মিনিটের মধ্যে...
14/12/2025

#হরে কৃষ্ণ
আগামী ১৬/১২/২৫ রোজ মঙ্গলবার সফলা একাদশীর উপবাস। পারন পরের দিন ১৭/১২/২৫ তারিখ সকাল ০৬.৩৪-১০.০৮ মিনিটের মধ্যে।
@সফলা একাদশীর মাহাত্ম্য@
পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম
"সফলা"। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ
সংবাদে এই তিথির মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।
যুধিষ্ঠির বললেন-হে প্রভু। পৌষ মাসের
কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম, বিধি এবং
পূজ্যদেবতা বিষয়ে আমার কৌতূহল নিবারণ
করুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন -হে মহারাজ! আপনার প্রতি
স্নেহবশত সেই ব্রত কথা বিষয়ে বলছি। এই
ব্রত আমাকে যেরকম সন্তুষ্ট করে,বহু
দানদক্ষিণাযুক্ত যজ্ঞাদি দ্বারা আমি
সেরকম সন্তুষ্ট হই না। তাই যত্নসহকারে এই
ব্রত পালন করা কর্তব্য।
পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম
"সফলা"। নাগদের মধ্যে যেমন শেষ নাগ
,পক্ষীদের মধ্যে যেমন গরুড়,মানুষের মধ্যে
যেমন ব্রাহ্মণ, দেবতাদের মধ্যে নারায়ণ
সর্বশ্রেষ্ঠ;তেমনই সকল ব্রতের মধ্যে একাদশী
ব্রতই সর্বশ্রেষ্ঠ। হে মহারাজ!যারা এই ব্রত
পালন করেন,তারা আমার অত্যন্ত প্রিয়।
তাদের এজগতে ধনলাভ ও পরজগতে মুক্তি
লাভ হয়। হাজার হাজার বছর তপস্যায় যে ফল
লাভ হয় না,একমাত্র সফলা একাদশীতে
রাত্রি জাগরণের ফলে তা অনায়াসে প্রাপ্ত
হওয়া যায়।
মহিষ্মত নামে এক রাজা প্রসিদ্ধ চম্পাবতি
নগরে বাস করতেন। রাজার চারজন পুত্র ছিল।
কিন্তু তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র লুম্ভক সর্বদা পরস্ত্রী
গমন ,মদ্যপান প্রভৃতি অসৎ কার্যে লিপ্ত ছিল।
সে সর্বক্ষন ব্রাহ্মণ,বৈষ্ণব ও দেবতাদের
নিন্দা করত। পুত্রের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে
রাজা তাকে রাজ্য থেকে বের করে দিলেন।
স্ত্রী-পুত্র,পিতা-মাতা,আত্মীয়স্বজন
পরিত্যক্ত হয়ে সে এক গভীর বনে প্রবেশ
করল। সেখানে কখনও জীবহত্যা আবার কখনও
চুরি করে জীবন ধারণ করতে লাগল। কিছুদিন
পরে একদিন সে নগরে প্রহরীদের কাছে ধরা
পড়ল। কিন্তু রাজপুত্র বলে সেই অপরাধ থেকে
সে মুক্তি পেল। পুনরায় সে বনে ফিরে গিয়ে
জীবহত্যা ও ফলমূল আহার করে দিন যাপন
করতে লাগল।
ঐ বনে বহু বছরের পুরনো একটি বিশাল অশ্বথ
বৃক্ষ ছিল। সেখানে ভগবান শ্রী বাসুদেব
বিরাজমান বলে বৃক্ষটি দেবত্ব প্রাপ্ত
হয়েছে। সেই বৃক্ষতলে পাপবুদ্ধি লুম্ভক বাস
করত। বহুদিন পর তার পূর্বজন্মের কোন পুণ্য
ফলে সে পৌষ মাসের দশমী দিনে কেবল ফল
আহারে দিন অতিবাহিত করল। কিন্তু
রাত্রিতে অসহ্য শীতের প্রকোপে সে
মৃতপ্রায় হয়ে রাত্রিযাপন করল। পরদিন
সূর্যোদয় হলেও সে অচেতন হয়েই পড়ে
রইল।
দুপুরের দিকে তার চেতনা ফিরল। ক্ষুধা
নিবারণের জন্য সে অতিকষ্টে কিছু ফল
সংগ্রহ করল। এরপর সেই বৃক্ষতলে এসে পুনরায়
বিশ্রাম করতে থাকল। রাত্রিতে
খাদ্যাভাবে সে দুর্বল হয়ে পড়ল। সে
প্রাণরক্ষার্থে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে ফলগুলি
নিয়ে-'হে ভগবান !আমার কি গতি হবে'বলে
অশ্রুপাত করতে করতে সেই বৃক্ষমূলে ,'হে
লক্ষ্মীপতি নারায়ণ!আপনি প্রসন্ন হোন'বলে
নিবেদন করল। এইভাবে সে অনাহারে ও
অনিদ্রায় সেই রাত্রি যাপন করল।
ভগবান নারায়ণ সেই পাপী লুম্ভকের রাত্রি
জাগরণকে একাদশীর জাগরণ এবং ফল
অর্পণকে পূজা বলে গ্রহণ করলেন। এইভাবে
অজ্ঞাতসারে লুম্ভকের সফলা একাদশী ব্রত
পালন হয়ে গেল। প্রাতঃকালে আকাশে
দৈববাণী হল-হে পুত্র তুমি সফলা ব্রতের পুণ্য
প্রভাবে রাজ্য প্রাপ্ত হবে। সেই দৈববাণী
শোনা মাত্র লুম্ভক দিব্যরুপ লাভ করল।
স্ত্রীপুত্র সহ কিছুকাল রাজ্যসুখ ভোগের পর
পুত্রের উপর রাজ্যের ভার দিয়ে সে সন্ন্যাস
আশ্রম গ্রহণ করল। অবশেষে মৃত্যুকালে সে
অশোক অভয় ভগবানের কাছে ফিরে গেল।
হে মহারাজ!এভাবে সফলা একাদশী যিনি
পালন করেন,তিনি জাগতিক সুখ ও পরে মুক্তি
লাভ করেন। এই ব্রতে যারা শ্রদ্ধাশীল
তাঁরাই ধন্য। তাঁদের জন্ম সার্থক,এতে কোন
সন্দেহ নেই। এই ব্রত পাঠ ও শ্রবণে মানুষের
রাজসূয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।
@হরিবোল@

 #হরে কৃষ্ণআসছে আগামী ১৫/১১/২০২৫ তারিখ রোজ শনিবার শ্রীশ্রী উৎপন্না একাদশী ব্রত।পারন পরদিন ১৬/১১/২০২৫ইং রবিবার সকাল ০৯.৪২...
13/11/2025

#হরে কৃষ্ণ
আসছে আগামী ১৫/১১/২০২৫ তারিখ রোজ শনিবার শ্রীশ্রী উৎপন্না একাদশী ব্রত।পারন পরদিন ১৬/১১/২০২৫ইং রবিবার সকাল ০৯.৪২ - ০৯.৫৩ মিনিটের মধ্যে।

@উৎপন্না একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য@

অর্জুন বললেন-হে দেব! অগ্রহায়নের পুণ্যকারী কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে কেন 'উৎপন্না' বলা হয় এবং কি জন্যই বা এই একাদশী পরম পবিত্র ও দেবতাদেরও প্রিয়, তা জানতে ইচ্ছা করি।
শ্রী ভগবান বললেন-হে পৃথাপুত্র! পূর্বে সত্য যুগে 'মুর' নামে এক দানব ছিল। অদ্ভূত আকৃতি বিশিষ্ট সেই দানবের স্বভাব ছিল অত্যন্ত কোপন। সে দেবতাদেরও ভীতিপ্রদ ছিল। যুদ্ধে দেবতাদের এমনকি স্বর্গরাজ ইন্দ্রকে পর্যন্ত পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেছিল। এই ভাবে দেবতারা পৃথিবীতে বিচরণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
তখন দেবতাগণ মহাদেবের কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্ত দুঃখ সবিস্তারে বর্ণনা করলেন। শুনে মহাদেব বললেন-হে দেবরাজ! যেখানে শরণাগতবৎসল জগন্নাথ, গরুধ্বজ বিরাজ করছেন, তোমরা সেখানে যাও। তিনি আশ্রিতদের পরিত্রাণকারী। তিনি নিশ্চয়ই তোমাদের মঙ্গল বিধান করবেন।
দেবাদিদেবের কথা মতো দেবরাজ ইন্দ্র দেবতাদের নিয়ে ক্ষীর সাগরের তীরে গমন করলেন। জলে শায়িত শ্রী বিষ্ণুকে দর্শন করে দেবতারা হাত জোড় করে তাঁর স্তব করতে লাগলেন। স্তুতির মাধ্যমে নিজ নিজ দৈন ও দুঃখের কথা তারা ভগবানকে জানালেন।
ভগবান নারায়ণ বললেন-হে ইন্দ্র!সেই মুর দানব কিরকম, সে কেমন শক্তিশালী, তা আমাকে বলো।
ইন্দ্র বললেন-হে ভগবান! প্রাচীনকালে ব্রহ্ম বংশে তালজঙঘা নামে এক অতি পরাক্রমী অসুর ছিল। তারই পুত্র সেই মুর অত্যন্ত বলশালী, ভীষন উৎকট ও দেবতাদেরও ভয়উৎপাদনকারী। সে চন্দ্রাবতী নামে এক পুরীতে বাস করে। স্বর্গ থেকে আমাদের বিতাড়িত করে তার স্বজাতি কাউকে রাজা, কাউকে অন্যান্য দিকপালরূপে প্রতিষ্ঠিত করে এখন সে দেবলোক সম্পূর্ণ অধিকার করেছে। তার প্রবল প্রতাপে আজ আমরা পৃথিবীতে বিচরণ করছি।
ইন্দ্রের কথা শুনে ভগবান দেবদ্রোহীদের প্রতি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন। তিনি দেবতাদের সঙ্গে চন্দ্রাবতী পুরীতে গেলেন। সেই দৈত্যরাজ শ্রী নারায়ণকে দর্শন করে পুনঃ পুনঃ গর্জন করতে লাগল। দেবতা ও অসুরের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়ে গেল। যুদ্ধে দেবতারা পরাজিত হয়ে এদিক ওদিক পালিয়ে গেল। তখন যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রী নারায়ণকে একা দেখে সেই দানব তাঁকে 'দাঁড়াও দাঁড়াও' বলতে লাগল। শ্রী ভগবানও ক্রোধে গর্জন করতে করতে বললেন-রে দুরাচার দানব! আমার বাহুবল দেখ। এই বলে অসুরপক্ষীয় সমস্ত যোদ্ধাদের দিব্য বাণের আঘাতে নিহত করতে লাগলেন। তখন তারা প্রানভয়ে নানা দিকে পালাতে লাগল। সেই সময় নারায়ণ দৈত্য সেনাদের মধ্যে সুদর্শন চক্র নিক্ষেপ করলেন। ফলে সমস্ত সেনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হল। একমাত্র মুর দানবই জীবিত ছিল। সে অস্ত্র যুদ্ধে নারায়ণকেও পরাজিত করল। তখন নারায়ণ দৈত্যের সাথে বাহু যুদ্ধে লিপ্ত হলেন।
এই ভাবে দেবতাদের হিসাবে এক হাজার বছর যুদ্ধ করেও ভগবান তাকে পরাজিত করতে পারলেন না। তখন শ্রী হরি বিশেষ চিন্তান্বিত হয়ে বদরিকা আশ্রমে গমন করলেন। সেখানে সিংহাবতী নামে এক গুহা আছে। এই গুহাটি এক-দ্বার বিশিষ্ট এবং বারোযোজন অর্থাৎ ছিয়াশি মাইল বিস্তৃত। ভগবান বিষ্ণু সেই গুহার মধ্যে শয়ন করলেন। সেই দৈত্যও তার পিছন পিছন ধাবিত হয়ে গুহার মধ্যে প্রবেশ করল। সে বিষ্ণুকে নিদ্রিত বুঝতে পারল। অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ভাবতে লাগল-আমার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিষ্ণু এখানে গোপনে শুয়ে আছে। আমি তাকে অবশ্যই বধ করব। দানবের এই রকম চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে শ্রী বিষ্ণুর শরীর থেকে একটি কন্যা উৎপন্ন হল। এই কন্যাই 'উৎপন্না' একাদশী। তিনি রূপবতী, সৌভাগ্যশালিনী, দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র ধারিনী ও বিষ্ণু তেজসম্ভূতা বলে মহাপরাক্রমশালী ছিলেন। দৈত্যরাজ সেই স্ত্রীরূপিনী দেবীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ শুরু করল। কিছুকাল যুদ্ধের পর দেবীর দিব্য তেজে অসুর ভস্মীভূত হয়ে গেল। তারপর বিষ্ণু জেগে উঠে সেই ভস্মীভূত দানবকে দেখে বিস্মিত হলেন। এক দিব্য কন্যাকে তার পাশে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন।
বিষ্ণু বললেন-হে পরাক্রান্ত উগ্র মূর্তি! এই মুর দানবকে কে বধ করল়? যিনি একে হত্যা করেছেন তিনি নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় কর্ম করেছেন।
সেই কন্যা বললেন-হে প্রভু! আমি আপনার শরীর থেকে উৎপন্ন হয়েছি। আপনি যখন ঘুমিয়েছিলেন, তখন এই দানব আপনাকে বধ করতে চেয়েছিল। তা দেখে আমি তাকে বধ করেছি। আপনার কৃপাতেই আমি তাকে বধ করেছি।
একথা শুনে ভগবান বললেন -আমার পরাশক্তি তুমি একাদশীতে উৎপন্ন হয়েছ। তাই তোমার নাম হবে একাদশী। আমি এই ত্রিলোকে দেবতা ও ঋষিদের অনেক বর প্রদান করেছি। হে ভদ্রে! তুমিও তোমার মনমতো বর প্রার্থনা কর। আমি তোমাকে তা প্রদান করব।
একাদশী বললেন-হে দেবেশ! ত্রিভুবনের সর্বত্র আপনার কৃপায় সর্ববিঘ্ননাশিনী ও সর্বদায়িনী রূপে যেন পরম পূজ্য হতে পারি, এ বিধান করুন। আপনার প্রতি ভক্তি বশতঃ যারা শ্রদ্ধা সহকারে আমার ব্রত উপবাস করবে, তাদের সর্ব সিদ্ধিলাভ হবে এই বর প্রদান করুন।
বিষ্ণু বললেন-হে কল্যাণী! তাই হোক! 'উৎপন্না' নামে পরিচিত তোমার ব্রত পালনকারীর সমস্ত ইচ্ছা পূর্ণ হবে। তুমি তাদের সকল মনোবাসনা পূর্ণ করবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। তোমাকে আমার শক্তি বলে মনে করি। তাই তোমার ব্রত পালনকারী সকলে আমারই পূজা করবে। এর ফলে তারা মুক্তি লাভ করবে। তুমি হরিপ্রিয়া নামে জগতে প্রসিদ্ধ হবে। তুমি ব্রত পালনকারীর শত্রু বিনাশ, পরমগতি দান এবং সর্বসিদ্ধি প্রদান করতে সমর্থ হবে। ভগবান বিষ্ণু এই ভাবে উৎপন্না একাদশীকে বরদান করে অন্তর্হিত হলেন।
সমস্ত ব্রতকারী ভক্তি পরায়ন হয়ে এই উৎপন্না একাদশীর উৎপত্তির কথা শ্রবণ-কীর্তন করলে শ্রী হরির আশীর্বাদ লাভে ধন্য হবেন।
@হরিবোল@

@@হরে কৃষ্ণ@@আগামী ০২/১১/২০২৫ ইং, রবিবার উত্থান একাদশীর উপবাস। পারণ ০৩/১১/২০২৩ ইং, সোমবার সকাল ৬.০৫ মি-৯.৫০ মিনিটের মধ্য...
31/10/2025

@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামী ০২/১১/২০২৫ ইং, রবিবার উত্থান একাদশীর উপবাস। পারণ ০৩/১১/২০২৩ ইং, সোমবার সকাল ৬.০৫ মি-৯.৫০ মিনিটের মধ্যে।
@উত্থান একাদশী মাহাত্ম্য@
স্কন্দপুরাণে ব্রহ্মা নারদ সংবাদে বর্ণিত আছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন-হে পুরুষোত্তম! কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম আমার কাছে কৃপা করে বর্ণনা করুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী 'উত্থান' বা 'প্রবোধিনী' নামে পরিচিত। প্রজাপতি ব্রহ্মা পূর্বে নারদের কাছে এই একাদশীর মহিমা কীর্তন করেছিলেন। এখন তুমি আমার কাছে সেই কথা শ্রবণ কর।
দেবর্ষি নারদ প্রজাপতি ব্রহ্মাকে বললেন-হে মহাত্মা! যে একাদশীতে ভগবান শ্রী গোবিন্দ শয়ন থেকে জেগে ওঠেন, সেই একাদশীর মাহাত্ম্য আমার কাছে সবিস্তারে বর্ণনা করুন।
ব্রহ্মা বললেন-হে নারদ! উত্থান একাদশী যথার্থই পাপনাশিনী, পুণ্যকারী ও মুক্তি প্রদানকারী। এই ব্রত নিষ্ঠা সহকারে পালন করলে এক হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ ও শত শত রাজসূয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়। জগতের দুর্লভ বস্তুর প্রাপ্তির কথা কি আর বলব। এই একাদশী ভক্তি পরায়ন ব্যক্তিকে ঐশ্বর্য, প্রজ্ঞা, রাজ্য ও সুখ প্রদান করে। এই ব্রতের প্রভাবে পর্বত প্রমাণ পাপরাশি বিনষ্ট হয়। যারা একাদশীতে রাত্রি জাগরণ করেন, তাদের সমস্ত পাপ ভস্মীভূত হয়। শ্রেষ্ঠ মুনিগণ তপস্যার দ্বারা যে ফল লাভ করেন, এই ব্রতের উপবাসে তা পাওয়া যায়। যথাযথ ভাবে এই ব্রত পালনে আশাতীত ফল লাভ হয়। কিন্তু অবিধিতে উপবাস করলে স্বল্পমাত্র ফল লাভ হয়। যারা এই একাদশীর ধ্যান করেন, তাদের পূর্বপুরুষেরা স্বর্গে আনন্দে বাস করেন। এই একাদশী উপবাস ফলে ব্রহ্মহত্যা জনিত ভয়ঙ্কর নরক যাতনা থেকে নিস্তার পেয়ে বৈকুণ্ঠগতি লাভ হয়। অশ্বমেধ যজ্ঞ দ্বারাও যা সহজে লাভ হয় না, তীর্থে স্বর্ণ প্রভৃতি দান করলে যে পুণ্য অর্জিত হয়, এই উপবাসের রাত্রি জাগরণে সেই সকল অনায়াসে লাভ হয়। যিনি সঠিক ভাবে উত্থান একাদশী অনুষ্ঠান করেন, তার গৃহে ত্রিভুবনের সমস্ত তীর্থ এসে উপস্থিত হয়।
হে নারদ! বিষ্ণুর প্রিয়তমা এই একাদশী উপবাস ফলে সর্ব শাস্ত্রে জ্ঞান ও তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করে চরমে মুক্তি লাভ হয়। যিনি সমস্ত লৌকিক ধর্ম পরিত্যাগ করে ভক্তি সহকারে এই ব্রত পালন করেন তাকে আর পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে হয় না। এমনকি মন ও বাক্য দ্বারা অর্জিত পাপরাশিও শ্রী গোবিন্দের অর্চনে বিনষ্ট হয়।
হে বৎস! এই ব্রতে শ্রদ্ধা সহকারে শ্রী জনার্দনের উদ্দেশ্যে স্নান, দান, জপ, কীর্তন ও হোমাদি করলে অক্ষয় লাভ হয়। যারা উপবাস দিনে শ্রী হরির প্রতি ভক্তি সহকারে দিন যাপন করেন, তাদের পক্ষে জগতে দুর্লভ বলে আর কিছু নেই। চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণে স্নান করলে যে পুণ্য হয়, এই উপবাসে রাত্রি জাগরণ করলে তার সহস্র গুন সুকৃতি লাভ হয়। তীর্থে স্নান, দান, জপ, হোম ধ্যান আদির ফলে যে পুণ্য সঞ্চিত হয়, উত্থান একাদশী পালন না করলে সে সমস্ত নিষ্ফল হয়ে যায়।
হে নারদ! শ্রী হরি বাসরে শ্রী জনার্দনের পূজা বিশেষ ভক্তি সহকারে করবে। তা না হলে শতজন্মার্জিত পুণ্য ও বিফল হয়। হে বৎস! যিনি কার্তিক মাসে সর্বদা ভাগবত শাস্ত্রাদি অধ্যয়ন করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে সমস্ত যজ্ঞের ফল লাভ করেন। ভগবান হরি ভক্তিমূলক শাস্ত্রপাঠে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। কিন্তু দান, জপ, যজ্ঞাদি দ্বারা তেমন প্রীত হন না। এই মাসে শ্রী বিষ্ণুর নাম, গুন, রূপ, লীলাদি শ্রবণ কীর্তন অথবা শ্রীমদ্ভাগবত আদি শাস্ত্র গ্রন্থ পাঠের ফলে শত শত গোদানের ফল লাভ করা যায়। অতএব হে মুনিবর! কার্তিক মাসে সমস্ত গৌণধর্ম বর্জন করে শ্রী কেশবের সামনে হরি কথা শ্রবণ কীর্তন করা কর্তব্য। কোনো ব্যক্তি যদি ভক্তি সহকারে এই মাসে ভক্তসঙ্গে হরিকথা শ্রবণ কীর্তন করেন, তবে তার শতকুল উদ্ধার হন এবং হাজার হাজার দুগ্ধবতী গাভী দানের ফল অনায়াসে লাভ হয়। এই মাসে পবিত্র ভাবে শ্রীকৃষ্ণের রূপ গুনাদির শ্রবণ কীর্তনে দিন যাপন করলে তার আর পুনর্জন্ম হবে না। এই মাসে বহু ফলমূল, ফুল, অগুরু, কর্পূর ও চন্দন দিয়ে শ্রী হরির পূজা করা কর্তব্য।
সমস্ত তীর্থ ভ্রমণ করলে যে পুণ্য হয়, উত্থান একাদশীতে শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মে অর্ঘ্য প্রদানে তার কোটি গুন সুকৃতি লাভ হয়। শ্রবণ কীর্তন, স্মরণ বন্দনাদি নববিধা ভক্তির সাথে তুলসীর সেবার জন্য যারা বীজ রোপণ, জল সেচন ইত্যাদি করেন, তারা মুক্তি লাভ করে বৈকুণ্ঠ বাসী হন।
হে নারদ! সহস্র সুগন্ধি পুষ্পে দেবতার অর্চনে বা সহস্র সহস্র যজ্ঞ ও দানে যে ফল লাভ হয়, এই মাসে হরি বাসরে একটি মাত্র তুলসী পাতা শ্রী ভগবানের চরণ কমলে অর্পণ করলে তার অনন্ত কোটি গুন লাভ করা যায়।
@@হরিবোল@@

Address

Bogura
Puran Bogra
5800

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sarvapriya Gaurahari Das posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Sarvapriya Gaurahari Das:

Share