23/05/2025
বিয়ের পরে দ্বীনদার বানিয়ে নিস; এর চেয় বড় ধোকা আর দ্বিতীয়টা যেন নেই।
কথাটার সাথে আমরা আমাদের সমাজ
কমবেশী সবাই পরিচিত।এটা শয়তানের কুমন্ত্রনা যা আমাদের অভিভাবকের কানে কানে এসে বলে যায় আর তাতেই ধংস হয়ে যায় হাজারো যুবকের জীবন।
কিন্তু ইসলামে বিয়ের ব্যপারে আল্লাহ্’র রাসূল (সাঃ) যেভাবে আদেশ নিষেধ করে গেছেন সে ব্যপারে বর্তমান সমাজ পুরোটাই উদাসীন।
আসুন জেনে নিই বিয়ের ব্যপারে কিছু সতর্কবাণী।⤵️
#বিয়ে_অর্ধেক_দ্বীন। তাই মানবজীবনের অপরিহার্য অংশ দাম্পত্য জীবন। বিয়ের মাধ্যমে পুরুষকে স্বামী এবং নারীকে স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর যুক্ত জীবনকে ‘দাম্পত্য জীবন’ বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবীকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে দাম্পত্য জীবনের সূচনা করেন। বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে ইসলামে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেননা দাম্পত্য-সম্পর্ক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমষ্টি। একসঙ্গে দুজন মানুষের আমৃত্যু ঘরসংসার করার বাহ্যিক প্রতিশ্রুতিই বিয়ে।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা বিয়ে করো সেই স্ত্রীলোককে, যাদের তোমাদের ভালো লাগে।’
(সুরা নিসা : ৩)।
বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ে সৌন্দর্য, সামর্থ্য, বংশগত মর্যাদা এবং বিশেষ করে দ্বীনদারিত্বের দিকে লক্ষ রাখতে হয়।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু যেন দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে উৎসাহিত করে।’
(আবু দাউদ : ২০৮২)
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা বিয়ে করো সেই স্ত্রীলোককে, যাদের তোমাদের ভালো লাগে।’
(সুরা নিসা, আয়াত : ৩)
অনেকেই বিয়ের সময় পাত্রীর সৌন্দর্য ও সম্পদকে বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখে।তন্মধ্যো দ্বীনদারিতাকে বেশী গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মিক ও ঈমানের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করো : তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী।
তবে তুমি দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবে।
নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৯০)
বিয়েতে পাত্র বাছাইয়ে পাত্রীপক্ষকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হয়। পাত্রের বাহ্যিক রূপের চেয়ে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো পাত্র বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার চরিত্র ও দ্বীনদারিত্বে তোমরা সন্তুষ্ট; তবে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও। যদি তোমরা তা না করো, তবে তা পৃথিবীতে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণ হবে।
(তিরমিজি : ১০৮৪)।
বর্তমান সমাজে পাত্র বাছাইয়ে দ্বীনদারিকে অনেকটাই উপেক্ষা করা হচ্ছে। পাত্রের চরিত্র ও দ্বীনদারিত্বের চেয়ে পাত্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে সামাজিক অশান্তি ও বিয়েবিচ্ছেদ মহামারি আকার ধারণ করেছে।
আল্লাহ্ সবাইকে দ্বীন রক্ষায় দ্বীনদার সঙ্গী দান করুন।
আমীন ইয়া রব্বাল আ’লামীন।