13/08/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে সফর মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ২৮ সফর ১৪৪৮ হিজরি:
📚 ‘খোলাফা-ই-রাশেদীন’-এর পঞ্চম এবং শেষ খলিফা’, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম-এর পবিত্র ‘আহলে বাইত’-এর অন্যতম সদস্য হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী রাদ্বি আল্লাহু তা’আলা আনহু’র পবিত্র ওফাত বার্ষিকী।
🟢 জন্ম: ৪ঠা মার্চ ৬২৫* খ্রিঃ / ১৫ রমজান ৩ হিজরী।
🛑 ওফাত: ৯ বা ৩০ মার্চ ৬৭০* খ্রিঃ / ৭ সফর বা ২৮ সফর ৫০ হিজরী।
📍 পরিচয়
তিনি হুজুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম’-এর বড় দৌহিত্র এবং ইসলামের চতুর্থ খলিফা আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ও নবি নন্দিনী হযরত মা ফাতিমাতুয্ যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা-এর পুত্র । ইরাকের কুফায় তাঁর পিতার ওফাতের পর তিনি রাষ্ট্রের প্রধান বা খলিফা হিসাবে অধিষ্ঠিত হন, মদিনা থেকে অবসর নেয়া এবং আমিরে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান-এর সাথে চুক্তিতে যাবার আগ পর্যন্ত তিনি খলিফার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নবি পরিবার তথা ‘আহলে-বাইত’-এর সদস্য। পবিত্র জান্নাতুল বাকী শরিফে তাঁর মাযার অবস্থিত।
📍 বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা
তিনি "আহলে বাইত" (নবী পরিবার)-এর সদস্য হিসেবে সম্মানিত। "মুবাহালা"-র ঘটনা এবং সূরা আহযাবের আয়াতে উল্লিখিত "আহলে কিসা" (চাদরের অধিবাসী)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন হাদিসে নবী (সা.) হাসান-হুসাইনকে "জান্নাতের যুবকদের সর্দার" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
📍 খিলাফতের সময়কাল
৬৬১ খ্রিস্টাব্দে পিতা খলিফাতুল মুসলিমীন আমিরুল মু’মিনীন আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হাসান (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন। প্রায় ছয় মাস খিলাফতে থাকার পর, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গৃহযুদ্ধ এড়াতে তিনি সিরিয়ার শাসক মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সাথে সন্ধি করে খিলাফত হস্তান্তর করেন। উম্মাহর ঐক্য রক্ষার জন্য প্রজ্ঞাবান ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করা হয় (নবীর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁকে দিয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে বর্ণিত হাদিসের সূত্রে)।
খিলাফত ত্যাগের পর তিনি মদিনায় ফিরে যান এবং বাকি জীবন ইবাদত, জ্ঞানচর্চা ও সাধারণ মানুষের সেবা করে কাটান।
📍 চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী হাসান (রা.) শারীরিক গঠনে ও চেহারায় আল্লাহর প্রিয়নবি মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ্ (সা.)-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন বলে বর্ণিত আছে। তাঁর চরিত্রের কিছু বহুল উল্লিখিত দিক:
* উদারতা: তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন বলে বহু বর্ণনায় এসেছে। কথিত আছে, তিনি জীবনে একাধিকবার নিজের সমস্ত সম্পদ দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন।
* ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা: বিভিন্ন কিসসায় তাঁর সহনশীলতা ও ক্ষমা প্রদর্শনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, এমনকি যারা তাঁর প্রতি অসদাচরণ করেছে তাদের প্রতিও।
* ইবাদতপরায়ণতা: তিনি নিয়মিত হজ পালন করতেন এবং ধর্মীয় অনুশাসনে যত্নশীল ছিলেন বলে বর্ণিত।
* শান্তিপ্রিয়তা: তাঁর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো রক্তপাত এড়ানোর জন্য ব্যক্তিগত ক্ষমতার চেয়ে উম্মাহর ঐক্যকে প্রাধান্য দেওয়া — যা তাঁর খিলাফত ত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়।
🛑 ওফাত
হযরত ইমাম হাসান (রা.) ৪৯ বা ৫০ হিজরিতে (৬৬৯-৬৭০ খ্রিস্টাব্দ) মদিনায় ইন্তেকাল করেন। বিষপ্রয়োগে তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁকে মদিনার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
📓 তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।