মৃত্যু একদিন আসবেই

মৃত্যু একদিন আসবেই ইসলাম প্রচারের জন্য সবাই কিছু না কিছু করি।

10/06/2024

কোরবানির পশু খোঁজার আগে,পাওনাদার কে খুঁজে তার পাওনা পরিশোধ করুন।

14/05/2024
জান্নাতে নারীরা পুরুষ হুর পাবে না কেন?জান্নাতে কোনো ত্রুটি নেই, শূন্যতা নেই, অপূর্ণতা নেই। একজন মানুষের যত চাহিদা রয়েছে...
07/12/2022

জান্নাতে নারীরা পুরুষ হুর পাবে না কেন?
জান্নাতে কোনো ত্রুটি নেই, শূন্যতা নেই, অপূর্ণতা নেই। একজন মানুষের যত চাহিদা রয়েছে, তারচে অনেক বেশি কিছু সে জান্নাতে বুঝে পাবে। এ কথা কে না জানে! এরপরও কিছু মানুষ জান্নাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকে। ‘জান্নাতে পুরুষরা পাবে হুর, নারীরা কী পাবে?’ ভালো খাবার এবং পানি যেমন মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা, যৌনসুখ লাভ করাও মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও চাহিদা। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার ভেতরে এই প্রকৃতি গেঁড়ে দিয়েছেন, এটা কি তার অজানা? কখনোই নয়। বরং মানবীয় স্বভাব-প্রকৃতি, ঝোঁক-চাহিদাও তো তারই সৃষ্টি। সুতরাং যিনি আপনার ভেতরে যৌন আকর্ষণ দিয়েছেন, তিনিই তা পূরণের ব্যবস্থা করে দেবেন। আর এ কারণেই তো আপনি স্ত্রী হলে স্বামীর সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। দাসী হলে মনিবের সঙ্গে সহবাস করার বৈধতা দিয়েছেন। দুনিয়ায়ই যখন এ কথা, জান্নাতে কেন তিনি আপনাকে বঞ্চিত রাখবেন? জান্নাত তো বঞ্চনার জায়গা নয়।
জান্নাতে কত নারী এমন যাবে, যাদের স্বামী চিরস্থায়ী জাহান্নামি অথবা যাদের বিয়েই হয়নি। তো আপনার কি মনে হয়, তাদের যৌনচাহিদা পূরণের ব্যবস্থা আল্লাহ করবেন না? তিনি যাকে যতটুকু চাহিদা দিয়েছেন, তার চাহিদা পূরণের ততটুকু ব্যবস্থাও তিনি করে রেখেছেন। তাইতো পুরুষকে দিয়েছেন একসঙ্গে সর্বোচ্চ চার বিয়ের অনুমতি আর নারীকে দিয়েছেন একসঙ্গে সর্বোচ্চ এক বিয়ের অনুমতি। এর দ্বারা বোঝা যায়, কোনো পুরুষের জন্য একসঙ্গে পাঁচজনের প্রয়োজন পড়বে না। কেউ এটা দাবি করলে, সে মিথ্যা বলেছে। কোনো নারীর জন্য একসঙ্গে একাধিক স্বামীর প্রয়োজন পড়বে না। কেউ এটা দাবি করলে, সে মিথ্যা বলেছে। মৌলিক চাহিদা এর দ্বারাই পূরণ হয়ে যাবে। তাছাড়া সম্ভ্রমশীলা নারীদের মানসিকতাই আল্লাহ এভাবে গড়ে দিয়েছেন, একইসঙ্গে একাধিক পুরুষ তাকে ভোগ করবে, এটা তার আত্মমর্যাদাবোধ মেনে নেয় না। নির্লজ্জা বেহায়াদের কথা ভিন্ন, যারা গ্রুপ সেক্সেই পরম আনন্দ খুঁজে পায়। রুচি বিকৃত হয়ে গেলে নেশাদ্রব্যও তো যমযমের পানির চাইতে অধিক প্রিয় মনে হয়।
নারীর জন্য পুরুষ দরকার। এই পুরুষের ব্যবস্থা আল্লাহ দুনিয়ায়ও করবেন, জান্নাতেও করবেন। জান্নাতের হুররা হচ্ছে নারী; পুরুষ নয়। অনেক নারীর ভাবটা এমন, দুনিয়ার পুরুষদের সঙ্গে কেন জান্নাতে সংসার করতে হবে। জান্নাতি পুরুষ হুরদের সঙ্গে তাদেরকে সহবাস করতে দিলে কতই না আনন্দদায়ক হতো! আসলে বিষয় হলো, জান্নাতের হুরদের মর্যাদা কি বনি আদমের চাইতে বেশি? তারা তো সেবক; বনি আদম সেবিত। তাদেরকে সৃষ্টিই করা হয়েছে সেবার জন্য। দুনিয়ায় দেখুন, একজন স্বাধীন নারীর জন্য একজন দাস পুরুষকে কি সমকক্ষ ধরা হয়? কখনোই নয়; বরং বলা হয়, তাদের মধ্যে ‘কুফু’ (সমতা) নেই। এমনকি একসময় দাস ছিল, এখন মুক্ত হয়েছে, এমন ব্যক্তির সঙ্গে সম্ভ্রান্ত স্বাধীন নারীর বিয়ে হলেও অনেক সময় সংসারে বনিবনা হয় না। যেমনটা উম্মুল মুমিনিন যায়নাব বিন জাহাশ রা. ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর পালকপুত্র যায়দ বিন হারিসা রা.-এর সংসারে হয়েছিল। স্বামী থাকে মনিবের ভূমিকায়। এ কারণে পুরুষের জন্য দাসীর সঙ্গে সহবাস করা বৈধ হলেও নারীর জন্য দাসের সঙ্গে সহবাস করা কিন্তু বৈধ নয়। কোনোভাবেই বৈধ নয়। একই কথা জান্নাতেও। সেখানে যাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেবার জন্য, তাদেরকে আপনার মনিব বানিয়ে দিলে সেটা কখনোই আপনার জন্য প্রীতিকর হতো না। আপনার আত্মমর্যাদা ও সম্ভ্রমই তা গ্রহণে বাধা দিত এবং অন্তরকে সংকুচিত করে ফেলত।
জান্নাতে যদি পুরুষ হুর দেওয়াও হতো, তবুও তারা কি জান্নাতি বনি আদমের চাইতে উত্তম ও স্মার্ট হতো? কখনোই নয়। দুনিয়ার মানুষদেরকে দেখে তো আর জান্নাতি বনি আদমদের কল্পনা করতে পারবেন না। কী নেই তাদের? রূপ, গুণ, যৌনশক্তি কোন ক্ষেত্রে ত্রুটি ও স্বল্পতা দেখাতে পারবেন? ঝগড়াটে, রাগীস্বভাব, কেয়ার করে না এমন কোন বদনামের অভিযোগ সেখানের ব্যাপারে তুলতে পারবেন? এতটুকু নিশ্চিত থাকুন, আল্লাহ আপনাকে ঠকাবেন না। আপনার যা প্রাপ্য, তারচে মোটেও কম দেবেন না। তিনি কখনো বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। তার উদ্দেশে অন্তর সমর্পিত থাকলে কখনোই দুশ্চিন্তা হবে না। মনে ওয়াসওয়াসাও আসবে না।
সারা দুনিয়ায় বিপুল পরিমাণ নারী জিন্দিকদের সাথে সংসার করছে। তাদের সাথে সহবাস করছে। তাদের স্বামীরা স্বঘোষিত মুরতাদ নয়। তাদের স্বামীরা নাস্তিকও নয়। তারা নিজেদেরকে মুসলিম বলেই পরিচয় দেয়; কিন্তু আদতে তারা মুনাফিক। তারা কুফরে আকবর তথা বড় কুফরে লিপ্ত। একটি নয়; একাধিক কুফরি আকিদা লালন করে। কুফরি কথা বলে। কুফরি কাজ করে। তাদের তাকফিরের প্রতিবন্ধকতাও নেই। তাদের এমন অজ্ঞতা নেই, যা অজুহাত হিসেবে গৃহীত হবে। এমন ব্যাখ্যা নেই, যা শরিয়াহ ওজর হিসেবে বিবেচনা করবে। অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাগুলোও তাদের মধ্যে পাওয়া যায় না। উপরন্তু তারা দীনের বিভিন্ন বিষয়কে অপছন্দনীয়তার চোখে দেখে, এগুলোকে অবজ্ঞা ও হেয়জ্ঞান করে, কখনোবা উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে, এছাড়াও কুফরের বিভিন্ন প্রতীক ও কুফফারকে ভালোবাসে, তাদেরকে তাকফির না করে উল্টো তাদেরকেও হক মনে করে; এরপরও এমন পুরুষদের সাথে দিব্যি সংসার চলছে। সেসব সংসারে বাচ্চাকাচ্চাও হচ্ছে। অথচ প্রতিটা সহবাসই ছিল নিশ্চিত জিনা। এখন এসব নারী যদি তামান্না করে, তারা জান্নাতে যাবে আর জান্নাতে এসব পুরুষকেই স্বামী হিসেবে পাবে, তাহলে তাদের এই ভাবনার প্রতিও আক্ষেপই করতে হয়।
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত কথার অর্থ এটা নয় যে, সেই মা মুশরিক হলেও জান্নাতে যাবে। হ্যাঁ, তার হক আদায় করে আপনি জান্নাতি হতে পারেন; কিন্তু তার ইমান না থাকলে তিনি কখনোই মুক্তি পাবেন না। একই কথা স্বামীর ক্ষেত্রেও। স্বামীকে নিয়ে জান্নাতে থাকতে চান, ভালো কথা। তাই বলে মুনাফিক, মুলহিদ, জিন্দিক ও মুরতাদদেরকে নিয়ে সংসার করলে তাদেরকে জান্নাতে স্বামী হিসেবে তো পাবেনই না; আপনাকেও বরং ব্যভিচারিণী হিসেবে দোজখের আগুনে পুড়তে হবে দীর্ঘকাল। এরপর আপনি মুক্তি পেলেও সে কখনোই মুক্তি পাবে না। আর আপনি যদি এদের সাথে সংসারকে বৈধ মনে করেন, শরিয়তের এই বিধানকে অপছন্দনীয়তার চোখে দেখেন বা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, তাহলে আপনারও আর মুক্তি কোনোদিন কপালে জুটবে না। একই কথা বিপরীত দিক থেকেও বিবেচনা করা যায়। আর আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই যুগে পুরুষদের তুলনায় নারী জিন্দিকদের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। জিন্দিক নারীদের সঙ্গে রাতের বেলা যা মুমিন পুরুষ যা করে, তা আসলে বৈধ সহবাস হয় না; জিনা হয়। আর জিনার সন্তানদেরকেই পরিভাষায় হারামজাদা বলা হয়।

জান্নাতে পুরুষেরা ৭০ জন হুর পাবে। কিন্তু নারীর জন্য কি আছে? বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নের উত্তরে যেটা পাওয়া যায় তা হল,...
07/12/2022

জান্নাতে পুরুষেরা ৭০ জন হুর পাবে। কিন্তু নারীর জন্য কি আছে? বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নের উত্তরে যেটা পাওয়া যায় তা হল, নারীরা তার (দুনিয়ার) স্বামীকে পাবে। পুরুষের জন্য ৭০ জন হুর আর নারীর জন্য দুনিয়ার স্বামী। নারীদের ভাগে তো কম দেওয়া হয়ে গেল। এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ৭০ জন হুরের কাছে নিজের স্বামী যাচ্ছে, এটা একজন নারী কীভাবে মেনে নিবে? দুনিয়াতে নারীরা তো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বঞ্চিত। জান্নাতেও কি তারা বঞ্চিত হবে?

বিষয়টি বুঝতে গেলে প্রথমে বুঝতে হবে, কোন চরিত্রের লোকেরা জান্নাতে যাবে। যখন আদম-হাওয়াকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল তখন দুনিয়াটা স্বর্গের মতনই ছিল। কোলাহল, পরিবেশ দূষন, রোগ বালাই, হিংসা, চুরি, ডাকাতি, মারামারী, খুন, ধর্ষণ এসব কিছুই ছিল না। ধীরে ধীরে মানুষ দুনিয়াকে আজকের মতন বানিয়ে ফেলেছে। দুনিয়া তো ক্ষনস্থায়ী, জান্নাত অনন্তকালের জন্য। দুনিয়ার সব মানুষকে যদি একসাথে জান্নাতে ঢোকানো হয় তাহলে ওখানের পরিবেশ নস্ট করে ফেলতে বেশিদিন লাগবে না। একজন আরেকজনের জমি দখল করবে, একজন আরেকজনের হুরকে ধর্ষণ করবে, ইত্যাদি। কে কি করবে এটা দেখানোর জন্যই আমাদের দুনিয়ার জীবন। দুনিয়াতে যাদের আকাম করে অভ্যাস আছে তারা জান্নাতে গেলেও আকামই করবে। এজন্যই বাছাই করা, সৎ চরিত্রের, আকাম-কুকাম মুক্ত লোকই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও জান্নাতে প্রবেশের প্রথম শর্ত হল ঈমান। আর ঈমানদার লোক অসত চরিত্রের হয় না। জান্নাতের নারী পুরুষ উভয়েই হবে উত্তম চরিত্রের অধিকার।

এ প্রসঙ্গে কোরআন হাদিসের আলোকে লুৎফুর রহমান ফরায়েজী , পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকার দেওয়া কিছু উত্তর জেনে নিন।

প্রশ্ন : জান্নাতি নারীর জন্য ‘পুরুষ হুর‘ থাকবে আর জান্নাতি পুরুষের জন্য জন্য নারী হুর থাকবে, এটা কতটুকু সঠিক?

উত্তর : যে মহিলার বিয়ে হয়নি, তাহলে তার জন্য অনুমতি আছে, সে ইচ্ছে করলে জান্নাতি কোন অবিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে। আর না চাইলে পুরুষ হুর আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করে তার সাথে বিয়ে করিয়ে দেবেন। (মাজমাউল ফতোয়া ১৫/৩)

২য় প্রশ্ন : দুনিয়ার কোন বিবাহিত নারী যদি জান্নাতি হয় কিন্তু তার স্বামী যদি জাহান্নামি হয় তাহলে সে নারীর কি জান্নতি ‘হুর (পুরুষ)’ থাকবে? থাকলে তার সংখ্যা হাদিস অনুযায়ী কত? আবার তার স্বামী যদি কোন সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতি হয় তাহলে সে কি তার দুনিয়ার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে? হলে ওই স্ত্রীটির আগের ‘পুরুষ হুর’দের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কি?

২য় উত্তর : জাহান্নাম থেকে মুক্তির পর স্বামীর সাথে মিলিত হবে জান্নাতি স্ত্রী। আর যদি স্বামী চিরস্থায়ী জাহান্নামি হয়, তাহলে তার এখতিয়ার থাকবে, সে ইচ্ছে করলে অবিবাহিত জান্নাতি পুরুষও বিয়ে করতে পারে, অথবা পুরুষ হুরও বিয়ে করতে পারে। একজন নারী একাধিক হুর পুরুষ পাওয়ার কথা সহিহ সনদে কোথাও বর্ণিত আছে কি না? আমাদের জানা নেই।

৩য় প্রশ্ন : তাহলে সে নারীর কি জান্নাতী হুর (পুরুষ) থাকবে? আর হাদীসের আলোকে তার সংখ্যা কত? আর একজন জান্নাতি পুরুষের বিবাহিত স্ত্রীও জান্নাতি হলে তার স্ত্রী কি হুরদের সর্দার হয়ে শুধু তার স্বামীকেই পাবে না স্বামীর সাথে সাথে আরো পুরুষ হুর পাবে? পেলে তার সংখ্যা কত?

05/12/2022

জান্নাতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
“জান্নাতের মাটি আর জমীন হচ্ছে জাফরান আর কস্তুরীর।
এর ছাদ হচ্ছে আল্লাহর আসন।
শিলাখণ্ডগুলো মণিমুক্তোর।
দালানগুলো সোনারূপায় তৈরি।
গাছের শাখা-প্রশাখাগুলো সোনারূপার।
ফলগুলো মাখনের চেয়ে নরম, মধুর চেয়ে মধুর।
পাতাগুলো সবচেয়ে কোমল কাপড়ের চেয়েও কোমল।
কিছু নদী দুধের। যার স্বাদ কখনো বদলায় না। কিছু শরাবের। যারা পান করবে তাদের তৃপ্তি মিটবে। কিছু নদী পবিত্র মধুর। কিছু নদী সতেজ পানির।
যে-ফলমূল তারা চাইবে তা-ই তাদের খাবার। যে-পাখির গোশত তারা খেতে চাইবে তা-ই পাবে।
তাদের পানীয় হচ্ছে তাসনীম, সজীবতা উদ্দীপক ও কাাফূর।
তাদের পেয়ালাগুলো স্বচ্ছ, সোনারূপার তৈরি।
এর ছায়া এত বড় যে, দ্রুতগতির কোনো অশ্বারোহী এক শ বছর ধরে চললেও সেই ছায়া থেকে বের হতে পারবে না।
এর বিশালতা এত বেশি যে, জান্নাতের সবচেয়ে নিচু অবস্থানে যে থাকবে তার রাজত্বে যেসব দেওয়াল, ভবন আর বাগান থাকবে সেগুলো পার করতে হাজার বছর লেগে যাবে।
এর তাঁবু আর শিবিরগুলো যেন লুকোনো মুক্তো। একেকটা প্রায় ষাট মাইল লম্বা।
এর ভবনগুলোতে রুমের উপর রুম। তাদের নিচ দিয়ে নদী বয়ে যায়।
এগুলোর উচ্চতা যদি জানতে চান তাহলে আকাশের যেসব উজ্জ্বল তারা দেখা যায় সেগুলোর দিকে তাকান। দৃষ্টি যেসব তারার নাগাল পায় না সেগুলোও দেখার চেষ্টা করুন।
জান্নাতবাসীর পোশাক হচ্ছে রেশম আর স্বর্ণ।
তাদের বিছানায় যেসব কাঁথা থাকবে সেগুলো হবে সবচেয়ে উঁচু মাপের রেশমি কাপড়ের।
তাদের চেহারা হবে চাঁদের মতো।
তাদের বয়স হবে ৩৩। মানবজাতির পিতা আদামের অবয়বে।
সেখানে তারা শুনবে তাদের পবিত্র স্ত্রীদের গান। তার চেয়েও ভালো হচ্ছে সেখানে তারা ফেরেশতা আর নাবিদের কণ্ঠ শুনতে পাবে। এর চেয়েও ভালো হচ্ছে সেখানে তারা নিখিল বিশ্বজগতের প্রভুর কথা শুনতে পাবে।
তাদের খেদমতে থাকবে চিরতরুণ বালকেরা। তাদের নমুনা হচ্ছে ছড়ানো-ছিটানো মুক্তোদানার মতো।
তাদের স্ত্রীরা হবে পূর্ণ-যৌবনা। তাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গে যৌবনের উন্মাদনা ছড়াতে থাকবে। সে যদি তার সৌন্দর্য দেখায় তাহলে মনে হবে চেহারায় যেন সূর্য খেলে গেল। তার হাসিতে আলো চমকে উঠবে। তাদের ভালোবাসা হবে দুই আলোর মিলন। কোনো স্বামী যখন তার স্ত্রীর দিকে তাকাবে তার গালে নিজের চেহারার প্রতিচ্ছবি দেখবে। যেন কোনো উজ্জ্বল আয়নায় তাকিয়ে আছে। তার পেশি আর হাড়ের পেছন থেকে দ্যুতি ঠিকরে পড়বে।
সেই স্ত্রী যদি দুনিয়াতে তার সৌন্দর্য অবারিত করত, তাহলে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের মাঝে যা কিছু আছে সবকিছু সুন্দর বায়ু দিয়ে পূর্ণ হয়ে যেত। সব সৃষ্টি তার প্রশংসা করত, গুণকীর্তন করত। পূর্ব-পশ্চিম সব তার সৌন্দর্যে অলংকিত হতো। সব চোখ কেবল তারই দিকে ফিরে থাকত। সূর্যের আলোয় যেমন তারার আলো হারিয়ে যায়, তার সৌন্দর্যে সূর্য সেভাবে হারিয়ে যেত। পৃথিবীর বুকে সবাই তখন চিরঞ্জীব সেই মহান সত্ত্বা এক আল্লাহয় বিশ্বাসী হতো।
তার মাথার অবগুণ্ঠন পৃথিবী ও এর মাঝে যা কিছু আছে তার সবকিছুর চাইতে ভালো। সময়ের সাথে সাথে কেবল তার সৌন্দর্য বাড়তেই থাকবে। নাভির নাড়, সন্তানজন্ম, মাসিক এগুলো থেকে সে হবে মুক্ত। থুথু, মূত্র, শ্লেষ্মা ও অন্যান্য নোংরা জিনিস থেকে পবিত্র। তার যৌবন কখনো মিইয়ে যাবে না। পোশাক কখনো জীর্ণ হবে না। তার সৌন্দর্যের ধারেকাছে যায় এমন কোনো পোশাক হবে না। তার স্বামী কখনো তার কাছ থেকে বিরক্ত হবে না। স্ত্রীর মনোযোগ কেবল তার স্বামীর দিকেই থাকবে। সে তাকে ছাড়া আর কাউকে চাইবে না। স্বামীর চাওয়া-পাওয়াও কেবল তাকে ঘিরেই হবে। দুজন দুজনকে নিয়ে থাকবে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নিরাপত্তায়। মানুষ কিংবা জিনদের মধ্যে থেকে কেউ তাকে কখনো ছুঁয়ে দেখেনি।
সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞানী আল্লাহর চেহারা—যিনি সবধরনের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত—সেদিন এমনভাবে দেখা যাবে যেভাবে দুপুর বেলায় সূর্য দেখা যায়। কিংবা মেঘমুক্ত আকাশে যেভাবে চাঁদ দেখা যায়। এক আহ্বানকারী ডেকে বলবে, “জান্নাতবাসী! তোমাদের সুমহান আল্লাহ তাঁকে দেখার জন্য ডাকছেন। কাজেই তাঁকে দেখতে আসো!” তারা বলবে, “আমরা শুনলাম ও মানলাম!”
তারা সবাই যখন প্রশস্ত উপত্যকায় জড়ো হবে, মহামহিম আল্লাহ তাঁর চেয়ার আনতে বলবেন। আলোর মিম্বার আসবে। আরও আসবে মুক্তো, খনি, সোনা-রূপার মিম্বার। জান্নাতের সবচেয়ে নিচু মর্যাদার অধিকারী কস্তুরীর চাদরে বসবে। আর তার উঁচু মর্যাদায় যারা থাকবে তারা যা দেখবে সে তা দেখবে না। যখন তারা সবাই আয়েশ করবে বসবে, তখন আহ্বানকারী ডেকে বলবে, “জান্নাতবাসী! আজ তোমাদের সঙ্গে আল্লাহর এমন এক সাক্ষাত হবে যেখানে তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন!” তারা বলবে, “আবার কী পুরস্কার? তিনি কি ইতোমধ্যেই আমাদের চেহারাকে উজ্জ্বল করেননি, আমাদের ভালো কাজের পাল্লাকে ভারী করেননি, জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে দেননি? [আর কী বাকি আছে!?]”
এমন অবস্থায় হঠাৎ করে পুরো জান্নাত জুড়ে আলোর রশনিতে ভরে যাবে। তারা তাদের মাথা উঁচু করে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইবে। মহান আল্লাহ বলবেন, “জান্নাতবাসী! আস-সালামু ‘আলাইকুম!” [এই লাইনটা অনুবাদ করার সময় কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। মহান আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে নিজের মুখে সালাম জানাচ্ছেন! আল্লাহু আকবার!!!] জান্নাতাবাসীরা উত্তরে বলবে, “আল্লাহ, আপনিই শান্তি! আপনার থেকেই শান্তি আসে! আপনি সুমহান। সব সম্মান আর মাহাত্ম্য আপনারই!” সুমাহন আল্লাহ তখন তাদের দিকে তাকিয়ে হাসবেন [এই জায়গাটা লেখার সময়ও গা শিউরে উঠছিল, ভাবা যায় স্রষ্টা নিজে তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে হাসছেন। আর সৃষ্টি তা দেখছে!]। বলবেন, “জান্নাতবাসী! তারা কোথায় যারা আমাকে না দেখে আনুগত্য করত? এটাই হচ্ছে ইয়াওমুল-মাযীদ (সর্বোচ্চ দিন)!”
তারা সবাই তখন উত্তর দেবে, “আমরা সন্তুষ্ট, আপনিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান!” তিনি বলবেন, “জান্নাতবাসী! আমি যদি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট না হতাম, তাহলে আমার জান্নাতের অধিবাসী তোমাদের করতাম না!” তারা সবাই সমস্বরে বলবে, “আপনার চেহারা দেখান যাতে আমরা দেখতে পারি!” সুমহান আল্লাহ তখন তার আবরণ সরিয়ে দেবেন। তাদেরকে মহিমাময়িত করবেন। তার আলো দিয়ে মুড়ে দেবেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছে না-করতেন তাহলে এটা তাদের পুড়িয়ে ফেলত।
জনে জনে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, “তোমার কি সেই দিনের কথা মনে আছে, যখন তুমি এটা করেছ, ওটা করেছ?” তিনি তখন তাদেরকে তাদের দুনিয়ার কিছু খারাপ কাজের কথা মনে করিয়ে দেবেন।” সে তখন বলবে, “প্রভু, আপনি কি আমাদের ক্ষমা করবেন না?” তিনি বলবেন, “অবশ্যই! আমার ক্ষমা ছাড়া তুমি জান্নাতের এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতে না।”
কর্ণকুহরে এই ধ্বনি কতই না মধুর। পরকালে তাঁর মহিমান্বিত চেহারা দেখে ধার্মিকদের চোখ কতই-না শীতল হবে।”

05/12/2022

Battle Of Empire Fetih Movie Explain In Bangla|Islamic|History|The World Of KeyaTurkish epic action film directed by Faruk Aksoy and produced by Faruk Aksoy,...

05/12/2022

প্রশ্ন:◾ পুলসিরাত কি? এ সম্পর্কে সঠিক আকিদা এবং তার উপর দিয়ে অতিক্রম করার বর্ণনা

উত্তরঃ

🔷 পুলসিরাতের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা:

ইমাম ইবনে আবী যায়দ আল কায়রাওয়ানী (মৃত্যু: ৩৮৭ হি:) বলেন,‌ “পুলসিরাত সত্য। (জাহান্নামের উপর স্থাপিত ব্রিজ বা পুল। জান্নাতে যাওয়ার জন্য এটি অতিক্রম ব্যতীত উপায় নেই)। বান্দারা তাদের আমল অনুসারে পুলিসরাত পার হবে। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় যারা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে যাবে তাদের পার হওয়ার গতির মধ্যে কমবেশি থাকবে। (অর্থাৎ আমল অনুযায়ী কেউ দ্রুতবেগে আর কেউ মন্থর গতিতে পার হবে)। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় কিছু মানুষ তাদের আমলের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
[মুকদ্দামায়ে ইমাম ইবনে আবী যায়দ আল কায়রাওয়ানী: “আকিদা ও বিশ্বাসের মূলকথা” অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল]

🔷 পুলসিরাতের বিবরণ এবং তার উপর দিয়ে অতিক্রম করার বর্ণনা:

কিয়ামতের দিন জাহান্নামের উপর নির্মিত পুলসিরাতের উপর দিয়ে সকল মানুষকে অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে। যেসকল ঈমানদারের জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাতের ফায়সালা করেছেন তারা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবেন এবং তারা পুলসিরাত অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন আর কাফের, মুশরিক, নাস্তিক, মুনাফিকগণ এবং যাদের ওপর জাহান্নামের আগুন অবধারিত হয়ে গেছে তারা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। (মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন)

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَإِن مِّنكُمۡ إِلَّا وَارِدُهَاۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتۡمٗا مَّقۡضِيّٗا
ثُمَّ نُنَجِّي ٱلَّذِينَ ٱتَّقَواْ وَّنَذَرُ ٱلظَّٰلِمِينَ فِيهَا جِثِيّٗا

“আর তোমাদের প্রত্যেকেই তার (জাহান্নামের) উপর দিয়েই অতিক্রম করবে, এটা আপনার রবের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।” পরে আমরা উদ্ধার করব তাদেরকে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং যালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় রেখে দেব।”
[Surah Maryam, Ayah 71-72]

ولا يخفى أن القول بأن الورود هو المرور على الصراط أو الورود على جهنم وهي خامدة فيه جمع بين الأدلة من الكتاب والسنة فينبغي حمل هذه الآية على ذلك، لأنه قد حصل الجمع بحمل الورود على دخول النار مع كون الداخل من المؤمنين مبعدا من عذابها، أو بحمله على المضي فوق الجسر المنصوب علها وهو الصراط. انتهى.

কেমন হবে সেই পুলসিরাত এবং তা অতিক্রমের সময় মানুষের অবস্থা কেমন হবে তা বিবৃত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদিসে:

▪️১. সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ثُمَّ يُؤْتَى بِالْجَسْرِ فَيُجْعَلُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْجَسْرُ قَالَ مَدْحَضَةٌ مَزِلَّةٌ عَلَيْهِ خَطَاطِيفُ وَكَلاَلِيبُ وَحَسَكَةٌ مُفَلْطَحَةٌ لَهَا شَوْكَةٌ عُقَيْفَاءُ تَكُونُ بِنَجْدٍ يُقَالُ لَهَا السَّعْدَانُ الْمُؤْمِنُ عَلَيْهَا كَالطَّرْفِ وَكَالْبَرْقِ وَكَالرِّيحِ وَكَأَجَاوِيدِ الْخَيْلِ وَالرِّكَابِ فَنَاجٍ مُسَلَّمٌ وَنَاجٍ مَخْدُوشٌ وَمَكْدُوسٌ فِي نَارِ جَهَنَّمَ حَتَّى يَمُرَّ آخِرُهُمْ يُسْحَبُ سَحْبًا
“এমন সময় জাহান্নামের উপর পুল স্থাপন করা হবে। সাহাবীগণ বললেন, সে পুলটি কেমন হবে হে আল্লাহর রাসূল?
তিনি বললেন, “দুর্গম পিচ্ছিল স্থান। এর ওপর আংটা ও হুক থাকবে, শক্ত চওড়া উল্টো কাঁটা বিশিষ্ট হবে, যা নাজদের সাদান বৃক্ষের কাঁটার মত হবে। সে পুলের উপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ পার হয়ে যাবে চোখের পলকের মতো, কেউ বিদ্যুতের মতো, কেউ বাতাসের মতো আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মতো।”

তবে মুক্তিপ্রাপ্তরা কেউ নিরাপদে চলে আসবেন, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। এ কবারে শেষে অতিক্রম করবে যে লোকটি, সে হেঁচড়িয়ে কোন ভাবে পার হয়ে আসবে।”
[সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) অধ্যায়: ৯৭/ তাওহীদ, পরিচ্ছেদঃ ৯৭/২৪. আল্লাহর বাণীঃ কতক মুখ সেদিন উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/২২-২৩)]

▪️২. সহিহ মুসলিমে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
فَيَمُرُّ أَوَّلُكُمْ كَالْبَرْقِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَىُّ شَىْءٍ كَمَرِّ الْبَرْقِ قَالَ ‏”‏ أَلَمْ تَرَوْا إِلَى الْبَرْقِ كَيْفَ يَمُرُّ وَيَرْجِعُ فِي طَرْفَةِ يْنٍ ثُمَّ كَمَرِّ الرِّيحِ ثُمَّ كَمَرِّ الطَّيْرِ وَشَدِّ الرِّجَالِ تَجْرِي بِهِمْ أَعْمَالُهُمْ وَنَبِيُّكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِّرَاطِ يَقُولُ رَبِّ سَلِّمْ سَلِّمْ حَتَّى تَعْجِزَ أَعْمَالُ الْعِبَادِ حَتَّى يَجِيءَ الرَّجُلُ فَلاَ يَسْتَطِيعُ السَّيْرَ إِلاَّ زَحْفًا – قَالَ – وَفِي حَافَتَىِ الصِّرَاطِ كَلاَلِيبُ مُعَلَّقَةٌ مَأْمُورَةٌ بِأَخْذِ مَنْ أُمِرَتْ بِهِ فَمَخْدُوشٌ نَاجٍ وَمَكْدُوسٌ فِي النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ إِنَّ قَعْرَ جَهَنَّمَ لَسَبْعُونَ خَرِيفًا ‏.
“তোমাদের প্রথম দলটি এ সিরাত বিদ্যুৎ গতিতে পার হয়ে যাবে।”
সাহাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার জন্য আমার পিতামাতা উৎসর্গ হউক। আমাকে বলে দিন “বিদ্যুৎ গতির ন্যায়” কথাটির অর্থ কি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আকাশের বিদ্যুৎ চমক কি কখনো দেখনি? চক্ষের পলকে এখান থেকে সেখানে চলে যায় আবার ফিরে আসে।”

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এর পরবর্তী দলগুলি যথাক্রমে বায়ুর বেগে, পাখির গতিতে, তারপর লম্বা দৌড়ের গতিতে পার হয়ে! যাবে। প্রত্যেকেই তার আমল হিসাবে তা অতিক্রম করবে।”
আর তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে অবস্থায় পুলসিরাতের উপর দাঁড়িয়ে এ দুআ করতে থাকবে: “হে আল্লাহ, এদেরকে নিরাপদে পৌছে দিন, এদেরকে নিরাপদে পৌঁছে দিন, এদেরকে নিরাপদে পৌঁছে দিন।”
এভাবে মানুষের আমল মানুষকে চলতে অক্ষম করে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা এ সিরাত অতিক্রম করতে থাকবে।

শেষে এক ব্যক্তিকে দেখা যাবে, সে নিতম্বের উপর ভর করে পথ অতিক্রম করছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “সিরাতের উভয় পার্শের ঝুলান থাকবে কাঁটাযুক্ত লৌহশলাকা। এরা আল্লাহর নির্দেশ ক্রমে চিহ্নিত পাপীদেরকে পাকড়াও করবে। তন্মধ্যে কাউকে তো ক্ষত-বিক্ষত করেই ছেড়ে দিবে; সে নাজাত পাবে। আর কতক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে জাহান্নামের গর্ভে নিক্ষিপ্ত হবে।”

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, “শপথ সে সত্তার, যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ। জেনে রাখ, জাহান্নামের গভীরতা সত্তর খারিফ (অর্থাৎ সত্তর হাজার বছরের পথ তুল্য)।:
[সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১/ কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: ৮০. সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতবাসী]

উল্লেখ্য যে, একটা হাদিস লোকমুখে শোনা যায় যে, “জাহান্নামের উপর নির্মিত সিরাত হেঁটে পার হতে ৪০ বছর লাগবে।” কিন্তু এমন কোনও হাদিস আমার জানা নাই এবং আমার ক্ষুদ্র অনুসন্ধানেও তা পাওয়া যায় নি।

পরিশেষে রাব্বুল আলামীনের দরবারে অতি কাতর কণ্ঠে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি মূলক কার্যক্রম করার এবং তার নিষেধ কৃত হারাম বিষয়াদি থেকে হেফাজত করেন। আরও দোয়া করি, তিনি যেন নিজ অপার করুণা বলে আমাদেরকে হাশরের মাঠের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, তাঁর বিচারের কাঠগড়ায় দণ্ডায়মান হওয়া, হিসাব-নিকাশ, আমলের ওজন এবং সর্বোপরি জাহান্নামের উপরিভাগে অবস্থিত অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও দুর্গম পথ পুলসিরাত অতিক্রম করার কঠিন মুহূর্তে আমাদের উপর দয়া করেন এবং সকল সংকটময় পরিস্থিতিতে সাহায্য করেন।‌ আমিন।
আল্লাহু আলাম।

05/12/2022

জান্নাতের নেয়ামতসমূহ অপরিসীম

জান্নাত। এটি আরবি শব্দ। অর্থ বাগান বা উদ্যান। প্রচলিত অর্থে জান্নাতকে বেহেশত বলা হয়।

ইসলামের পরিভাষায়, পার্থিব জীবনে যে সব মুসলিম আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে এবং পরকালীন হিসাবে যার পাপের চেয়ে পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে তাদের জন্য আল্লাহ যে সব স্বর্গ প্রস্তুত রেখেছেন; সেগুলোই জান্নাত।

কোরআনে কারিমে জান্নাতের যেসব নাম বলা হয়েছে সেগুলো হলো- ফিরদাউস (জান্নাতের সর্বচ্চো বাগান), দারুস সালাম (শান্তির নীড়), জান্নাতুল মাওয়া (বসবাসের জান্নাত), দারুল খুলদ (চিরস্থায়ী বাগান), জান্নাতুল আদন (অনন্ত সুখের বাগান), জান্নাতুল আখিরা (আখেরাতের আলয়), জান্নাতুন নাঈম (নেয়ামতপূর্ণ বাগান) ও দারুল মোকামা (অবস্থানের বাড়ি)।

কোরআনে কারিম ও হাদিসে জান্নাত প্রসঙ্গে বিস্তারিক বিবরণ রয়েছে। তবে কোরআনে কারিমে সব বিষয়ে জান্নাতের কথা বলা হয়নি। শুধুমাত্র ইসলামের প্রায়োগিক দিকগুলো যে মেনে চলবে তার ব্যাপারে জান্নাতের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জান্নাতে কী কী থাকবে? সঙ্গী-সাথী কারা হবে? জান্নাতের পোশাক কী হবে? সেখানে কী কী নেয়ামত থাকবে?

কোরআনে কারিমে বর্ণিত জান্নাতের বিশেষত্বগুলো হচ্ছে- ‘এর নেয়ামত, সুশীতল ছায়া, আপ্যায়ন, পানীয়, সঙ্গী-সাথী, পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিবেশকগণ, সুউচ্চ বহুতলবিশিষ্ট প্রাসাদ, বাগান ও ঝরণা, সব ইচ্ছাপূরণ, জান্নাতিদের প্রতি অভিবাদন ও মোবারকবাদ এবং সবকিছুর ওপরে আল্লাহর সন্তুষ্টি।

কোরআনে কারিমে জান্নাতকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সেসব সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-

উত্তম আবাস (সূরা আলে ইমরান: ১৪), আল্লাহর রহমতের আশ্রয় (সূরা আলে ইমরান: ১০৭), সম্মান ও মর্যাদার জায়গা (সূরা আন নিসা: ৩১), নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত (সূরা আল মায়িদা: ৬৫), শান্তির আবাস (সূরা আল আনআম: ১২৭), শান্তির ভুবন (সূরা ইউনুস: ২৫), ক্ষমা এবং বিরাট প্রতিদান (সূরা হুদ: ১১), শুভ পরিণাম (সূরা আর রা’দ: ২৯), বাগান ও নির্ঝরিণী (সূরা আল হিজর: ৪৫), বড় ভালো আবাস (সূরা আন নাহল: ৩০), বিরাট প্রতিদান (সূরা বনি ইসরাইল: ৯), ভালো প্রতিদান (সূরা আল কাহফ: ২), ভালো প্রতিদান (সূরা আল কাহফ: ৮৮), সম্মানজনক জীবিকা (সূরা আল হজ: ৫০), নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত (সূরা আল হজ: ৫৬), উৎকৃষ্টতর জিনিস (সূরা আল ফোরকান: ১০), চমৎকার আশ্রয় এবং আবাস (সূরা আল ফোরকান: ৭৬), মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিজিক (সূরা সাবা: ৪), মাগফিরাত ও বড় পুরস্কার (সূরা আল ফাতির: ৭), মাগফিরাত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদানে (সূরা ইয়াসিন: ১১), নৈকট্যের মর্যাদা ও উত্তম প্রতিদান (সূরা আস সোয়াদ: ২৫), নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম (সূরা আস সোয়াদ: ৪০), যেমন উত্তম তেমনি চিরস্থায়ী (সূরা আশ শূরা: ৩৬), উত্তম প্রতিদান (সূরা আন নাজম: ৩১), সর্বোত্তম প্রতিদান (সূরা আল হাদিদ: ১১), সর্বোত্তম প্রতিদান (সূরা আল হাদিদ: ১৮), পুরস্কার ও ‘নূর’ (সূরা আল হাদিদ: ১৯), বিরাট প্রতিদান (সূরা আত তাগাবুন: ১৫), বিরাট পুরস্কার (সূরা আল মুলক: ১২), নিয়ামত ভরা জান্নাত (সূলা আল কলম: ৩৪), প্রতিদান ও যথেষ্ট পুরস্কার (সূরা আন নাবা: ৩৬), অফুরন্ত পুরস্কার (সূরা আল ইনশিকাক: ২৫), এমন পুরস্কার যা কোনোদিন শেষ হবে না (সূরা আত ত্বীন: ৬)।

জান্নাতের নেয়ামত অপরিসীম। এর বর্ণনাও রয়েছে কোরআনে কারিমে। সেসব বর্ণনায় বলা হয়েছে-

‘তাদের জন্য রয়েছে চির বসন্তের জান্নাত, যার পাদদেশে প্রবাহিত হতে থাকবে নদী, সেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকনে সজ্জিত করা হবে, সূক্ষ্ম ও পুরু রেশম ও কিংখাবের সবুজ বস্ত্র পরিধান করবে এবং উপবেশন করবে উঁচু আসনে বালিশে হেলান দিয়ে, চমৎকার পুরস্কার এবং সর্বোত্তম আবাস!’ -সূরা আল কাহাফ: ৩১

‘অবশ্য মুত্তাকিদের জন্য সাফল্যের একটি স্থান রয়েছে। বাগ-বাগিচা, আঙুর, নবযৌবনা সমবয়সী তরুণীবৃন্দ এবং উচ্ছ্বসিত পানপাত্র। সেখানে তারা শুনবে না কোনো বাজে ও মিথ্যা কথা। প্রতিদান ও যথেষ্ট পুরস্কার তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। ’ -সূরা আন নাবা: ৩১-৩৬

‘কিছু চেহারা সেদিন আলোকোজ্জ্বল হবে। নিজেদের কর্ম সাফল্যে আনন্দিত হবে। উচ্চ মর্যাদার জান্নাতে অবস্থান করবে সেখানে কোনো বাজে কথা শুনবে না। যেখানে থাকবে বহমান ঝরণাধারা। সেখানে উঁচু আসন থাকবে, পানপাত্রসমূহ থাকবে। সারি সারি বালিশ সাজানো থাকবে এবং উৎকৃষ্ট বিছানা পাতা থাকবে। ’ -সূরা আল গাশিয়া: ৮-১৬

‘আর হে নবী! যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যধারা সংশোধন করে নেবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা। সেই বাগানের ফল দেখতে দুনিয়ার ফলের মতোই হবে। যখন কোনো ফল তাদের দেওয়া হবে খাবার জন্য, তারা বলে উঠবে- এ ধরনের ফলই ইতঃপূর্বে দুনিয়ায় আমাদের দেওয়া হতো। তাদের জন্য সেখানে থাকবে পাক-পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। ’ -সূরা আল বাকারা: ২৫

‘যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বাগান, তার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে। পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সঙ্গিনী এবং তারা লাভ করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তার বান্দাদের কর্মনীতির ওপর গভীর ও প্রখর দৃষ্টি রাখেন। ’ -সূরা আলে ইমরান: ১৫

‘(এ কাজ তিনি এ জন্য করেছেন) যাতে ঈমানদার নারী ও পুরুষদেরকে চিরদিন অবস্থানের জন্য এমন জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তাদের মন্দ কর্মসমূহ দূর করবেন। এটা আল্লাহর কাছে বড় সফলতা। ’ -সূরা আল ফাতহ: ৫

দৌড়াঁও এবং একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করো, তোমার রবের মাগফিরাতের দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও জমিনের মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে সে লোকদের জন্য যারা আল্লাহ ও তার রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে? এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল। ’ -সূরা আল হাদিদ: ২১

‘(হে নবী!) আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি। কাজেই তুমি নিজের রবেরই জন্য নামাজ পড়ো ও কোরবানি করো। তোমার দুশমনই শিকড় কাটা। ’ -সূরা আল কাউসার: ১-৩

মৃত্যুই একদিন সকল মুহাব্বতের অবসান ঘটাবে।আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি মানুষ তথা প্রাণীকে নির্দিষ্ট সময় সীমা দিয়ে এ পৃথিবীতে ...
01/12/2022

মৃত্যুই একদিন সকল মুহাব্বতের অবসান ঘটাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি মানুষ তথা প্রাণীকে নির্দিষ্ট সময় সীমা দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সে সময় সীমা পেরিয়ে গেলে সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। কেউ এ অমোঘ বিধান থেকে পালাতে পারবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, “প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ
করবে; আর ভালো ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে"।
-[সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫]
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেছেন,
"প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে"।
-[সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৫৭]
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন,
“তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবে, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। আর যদি তাদের কাছে কোনো কল্যাণ পৌঁছে তবে বলে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তখন বলে, 'এটি তোমার পক্ষ থেকে'। বল, 'সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে'। সুতরাং এই কওমের কী হল, তারা কোন কথা বুঝতে চায় না!"
-[সূরা আন্‌-নিসা, আয়াত: ৭৮]
আরো ইরশাদ হয়েছে, "কখনই না, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে।
[সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২৬-৩০]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা বেশি করে স্বাদ হরণকারী বিষয় অর্থাৎ মৃত্যুর
আলোচনা করবে"। [তিরমিযী, হাদীস নং ২৩০৭, তিরমিযী রহ. হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৭৯২৫, আল্লামা শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২৫৮,
আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে মাফ করে দিন; আমীন।

Address

পটুয়াখালী সদর
Patuakhali
8600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মৃত্যু একদিন আসবেই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share