08/05/2021
#অহংকার
(মানব জীবনে ৪ প্রকার অহংকার)
❄️জন্ম ( উচ্চ কুলে জন্ম )
❄️ঐশ্বর্য (অর্থের অহঙ্কার)
❄️ শ্রী ( সুন্দর দেখতে )
❄️শ্রুত ( উচ্চ শিক্ষিত ) ।
ভক্তিবিনোদ ঠাকুর প্রত্যেকটা অহংকারের ওপরে ভজন লিখেছেন ।
আমরা উচ্চ ঘরে জন্ম গ্রহণ করে কাউকে এমনকি বৈষ্ণবদের কেউ যথাযোগ্য সম্মান করতে ভুলে যাই! কারণ আমাদের অহংকার,আমরা উচ্চ ঘরে জন্ম পেয়েছি ।
ধনের অহঙ্কারে লিখেছেন
" ধনের গৌরব কেনে কর
ধনে যদি প্রাণ দিত
ধনী রাজা না মরিত "!!
ধনে যদি প্রাণ দিত তাহলে ধনী ব্যক্তিরা মারা যেতনা । একটা লোক যখন মারা যাবে তখন এক ডাক্টরকে কোটি কোটি টাকা দিলেও কিছু করতে পারবেনা । অহঙ্কারে কিছু হবেনা , মৃতু এসে "স" করে নিয়ে যাবে ।
রূপের অহঙ্কারে লিখেছেন
" রূপের গৌরব কেনে কর
এই অঙ্গ শিতল হবে!
আখি স্পন্দনহীন হবে
চিতার আগুনে পুড়ে হবে ছাই"!!
সুন্দর যে রূপ দেখছ অন্তিম কালে হবে ছাই ।
"যে অঙ্গে আদর করো
যে বা আবরণ পর "!!
যে অঙ্গকে এত আদর করছি । সব থেকে আদর কিন্তু আমরা আমদের শরীর কেই করি । এত ক্রিম , সেম্পু , সুগন্ধী দ্রব্য , সাবান নানারকম জিনিস । একটা গ্রুপ ফটো তুললে , দেখতে ভালো না হলেও বলি " Oii যে কোনাটায় আমি" ওই তো! ওই তো !!আগে নিজেকেই দেখি , নিজেকেই সব থেকে ভালোবাসি । কিন্তু অন্তিম গতি হবে ছাই ।
এখন বিদ্যা তে আসি , আধ্যাত্মিক দৃশ্যতে বলা হয় যে " অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী " , অথবা বাংলায় অনেক সময় পদ দেয় যে "অল্প জলের মাছ তিরিঙ বিড়িং করে " । যারা জাগতিক বিদ্যায় পারদর্শি তাদের একটা অহঙ্কার আসে ।
জড় বিদ্যার ফল স্বরূপ কি -
" জড় বিদ্যা যত মায়ার বৈভব
তোমার ভজনে বাঁধা !
জন্মিয়া অনিত্য সংসারে
জীবকে করযে গাধা "!!
গাধার মতোন জীব হরি ভজন না করে সংসারের বোঝা টেনে নিয়ে চলে।
আমরা যখন মাতৃ উদরে ছিলাম তখন কষ্ট পাওয়ার ফলে ভগবানকে বলি , ভগবান ! আবার জন্ম হলে এমন ভজন করবো যাতে আর মাতৃ উদরে আসতে না হয় ।
" জননী জঠরে ছিলাম যখন
বিসম বন্ধন পাশে!
একবার প্রভূ দেখা দিয়া মোরে
বঞ্চিলে এ দিন দাসে!!
তখন ভাবিনু জনম পাইয়া
করিব ভজন তব!
জনম হইল পরি মায়া জালে
না হইল জ্ঞান লব "!!
মাতৃ উদরে বলেছিলাম প্রভু এই কৃমি কীটের এত জ্বালা , এইখান থেকে যদি আমি ভূমিস্ট হই আপনার ভজন করবো , কিন্তু জন্ম হলো মায়াতে পরে সব ভুলে গেলাম ।
জীবন অতবাহিত হলো ছোট্ট বয়সে -
" আদরের ছেলে সজনেরো কোলে
হাসিয়া কাটানু কাল
জনক জননীর স্নেহেতে ভুলিয়া
সংসার লাগিল ভাল "
একটু বড় হলাম । ওহ্ ! বাবা কি ভালোবাসে , মা কত আদর করে , তাদের মায়াতে সব ভুলে গেলাম
" ক্রমে দিনেদিনে বালক হইয়া
খেলিনু বালক সহ !
আর কিছু দিনে জ্ঞান উপজিল
পাঠ পড়ি অহরহ "!!
তারপর বড়ো হলাম , লেখাপড়া করে বড় কিছু চাকরি পেলাম , বলছি আবার গ্রামের মুখ উজ্জল করবো , মা - বাবার দুঃখ দুর করবো । বিদ্যার গৌরব হলো । বিদ্যার অহঙ্কার হলো । কিন্তু একটা জিনিস ভুলে গেলাম , মাতৃ উদরে যেটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ।
" বিদ্যার গৌরবে ভ্রমি দেশে দেশে
ধন উপার্জন করি !
স্বজন পালন করি এক মনে
ভুলিনু তোমারে হরি "!!
সব কিছু হলাম আদর্শ ছেলে , আদর্শ বন্ধু , ছাত্র , বয়ফ্রেন্ড্ সব । কিন্তু কখনো " আদর্শ ভক্ত " হওয়ার চেষ্টা করলাম না । তাই বিদ্যার গৌরব করে লাভ নেই । আসল বিদ্যা হলো" ভগবদ্ বিদ্যা " ।
" সেই বিদ্যা সত্য কহে ঈশ্বর ভজিলে
দেহ ছাড়ি চলিলে সঙ্গে তেহ চলে !
সেই সে বিদ্যার ফল জনিহ নিশ্চয়
কৃষ্ণপাদ পদ্মে যদি চিত্ত বিত্তি রয় "!!
" পড়ে কেনে লোক কৃষ্ণ জানিবারে
কৃষ্ণ যদি না হৈল তবে বিদ্যায় কি করে "!!
আসল বিদ্যা হলো কৃষ্ণপাদ পদ্ম ।
অহংকার সবসময় আমাদের নিম্নগামী করে তোলে। জড় জাগতিক ভাবেই আপনি অহংকারী হলে আপনার পতন নিশ্চিত। ভক্তি জীবনে অহংকারের পরিণতি ভয়াবহ !