আল্লামা আহমদ সালমা মহিলা মাদরাসা ৷ Allama Ahmad Salma Girls Madrasah

  • Home
  • Bangladesh
  • Patiya
  • আল্লামা আহমদ সালমা মহিলা মাদরাসা ৷ Allama Ahmad Salma Girls Madrasah

আল্লামা আহমদ সালমা মহিলা মাদরাসা ৷ Allama Ahmad Salma Girls Madrasah আদর্শবান, ধর্মীয় ও সুশিক্ষিতা মাতৃজাতি গঠনের লক্ষ্যে...

আমার হিফজ-যাত্রাফারজানা আমাতুল্লাহশুরু করার আগেআল্লাহর দেওয়া তাওফীকে আলহামদুলিল্লাহ আমার হিফজের সবক শেষ হয়েছে। আল্লাহর...
19/06/2024

আমার হিফজ-যাত্রা

ফারজানা আমাতুল্লাহ

শুরু করার আগে

আল্লাহর দেওয়া তাওফীকে আলহামদুলিল্লাহ আমার হিফজের সবক শেষ হয়েছে। আল্লাহর অনেক শুকরিয়া আদায় করছি। পরিচিত অনেক আপুদের খুব ইচ্ছা ছিল আমার হিফজ-জার্নি শুনবেন। যেদিন তারা আমাকে ধরে বসলেন, সেদিন তাদেরকে বললাম, এই বরকতময় বিষয়টা নিয়ে আমি লিখবো ইনশাআল্লাহ। পরবর্তীতে ছোট করে একটি অনুভূতি লিখি। বিস্তারিত লেখার সাহস হচ্ছিল না যে, এতো মুবারক সফরে যা কিছু পেয়েছি সব তো আল্লাহই তার আপন দয়ায় দিয়েছেন। এগুলো ব্যক্ত করার মতো অনুভবশক্তিও আমার নেই; নেই বলার মতো আদবও। শুরুতেই ছোট করে লিখেছিলাম। লেখাটি দেখে আমার উস্তায আবদুল্লাহ আল মাসউদ সাহেব আরও সুন্দর করে কিছুটা বিস্তারিত আকারে লিখতে বললেন। তাঁর কথার কারণেই বর্তমান লেখাটা লিখতে বসি। বাস্তবতা হলো হিফজের পথের এই লম্বা জার্নি বলে কিংবা লিখে সবটুকু প্রকাশ করার মত যোগ্যতা আমার নেই, পাঠক সেটা মাথায় রাখবেন। অসংখ্য অগণিত গোনাহের বোঝা কাঁধে নিয়ে কুরআন হিফজের যোগ্যতা যে আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, সেটাই তো অনেক। আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, তিনি যেন তাঁর বান্দার প্রতি অসন্তুষ্ট না হোন। আমার লেখার একমাত্র উদ্দেশ্য অন্যদেরকে হিফজের প্রতি আগ্রহী করা।

হিফজের প্রতি যেভাবে আগ্রহ জন্মাল

আল্লাহর কালাম হিফজ করার ইচ্ছাটা যেভাবে আমার মনের মধ্যে শেকড় গেড়েছিল সেই গল্পটা বলতে গেলে জীবনের শুরুর দিকে যেতে হবে। কুরআনের সাথে আমার পথচলার শুরুটা হয় আম্মুর হাত ধরে। ছোটবেলায় মাগরিবের পর আম্মুর সাথে কুরআন পড়তাম, এভাবেই একবারে ছোট বয়সে ঘরে বসে সূরা যিলযাল পর্যন্ত মুখস্থ করেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। এরপর শুরু হয়েছিল মক্তব-যাত্রা। ছোটদের মক্তবের সে ধারা আজ বিলুপ্তির পথে। সাথে আমাদের ছোটরা বঞ্চিত ভোরের বারাকাহ থেকেও। মক্তবে কুরআনে কারীম কয়েকবার পড়ে খতম করার পর হুজুর কিছু আমলী সূরা মুখস্থ করিয়েছিলেন। এতটুকু মুখস্থ দিয়েই চলছিল আমার জীবন। তারপর নিজের অন্যান্য পড়াশোনায় মশগুল হয়ে যাই। ফলে হিফজের দিকে আর তেমন মনোযোগ দিতে পারিনি। বাসায় ইসলামের ইতিহাস, সাহাবাদের জীবনী পড়তাম। সাহাবায়ে কেরামের (রিদ্বওয়ানুল্লাহি আজমাঈন) জীবনীতে কিয়ামুল লাইলে পূর্ণ কুরআনুল কারীম খতম, সূরা বাকারা খতম করা দেখে অবাক হতাম। কিছু একটা ভেতরে ভেতরে গুমরে মরতো। কিন্তু সেটা কী তা পুরোপুরি ধরতে পারতাম না। আসলে আল্লাহ তৌফিক দিলে আমিও পূর্ণ কুরআনের হাফেজা হতে পারব- এই ভাবনাটা হৃদয়পটে কখনো উদিত হয়নি।

ইসলামিক বিভিন্ন কিতাব পাঠ মানুষের জীবনে অনেক কিছু এনে দেয়; এমনকি জীবনের মোড় পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে বদলে দেয় কখনও কখনও। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে তাই অনেক বই পড়তাম আলহামদুলিল্লাহ। হিফজের স্বপ্ন প্রথম আমার দিলে একটু আসন গাড়লো একটি বইয়ের পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া থেকে। বইটির নাম ছিল ‘আমার আম্মা’। লেখক আবুল হাসান আলী নদভী (রাহিমাহুল্লাহু)। এই বইতে তিনি তাঁর সম্মানিত আম্মার জীবনের কিছু কথা পাঠকের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর আম্মার হিফজের জার্নিটা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি ছিলেন তাঁর বংশে সর্ব প্রথম কুরআনের হাফেজা। মোটামুটি একটা বাঁধা পেরিয়ে তিনি এই স্বপ্নের পূর্ণতা পেয়েছিলেন এবং তাঁর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেকে হিফজের যাত্রা শুরু করেছিল। তখন আমারও ইচ্ছে হলো অবসর সময় কুরআন হিফজের পেছনে ব্যয় করতে। আব্বু-আম্মু মনে করতেন মেয়েদের জন্য হিফজ তো কঠিন যাত্রা, তাই তাদের তেমন আশা বা ইচ্ছা ছিলো না।

আমি নিজ আগ্রহে হিফজ করা শুরু করি। ঘরে বসে এক পারা মুখস্ত করেছিলাম। এরপর একটা সময় হিফজ করা থেমে গিয়েছিল। ভেতরে ভেতরে হাফেজা হওয়ার স্বপ্নটা তখন জ্বলে আর নিভে। পরবর্তীতে যখন শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর আত্নজীবনী ‘আপবীতী’ পড়তাম, তাঁর খান্দানের নারীদের হিফজের আলোচনাগুলো আমাকে অনেক উদ্বুদ্ধ করতো। ভেতরে একটা তড়প নিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতাম। ভাবতাম, তাঁরা এবং আবুল হাসান আলী নাদবী রাহ এর আম্মাজান মুহতারামা খাইরুন্নেসা (রাহিমাহাল্লাহ) এর জীবন তো নিকট অতীতে। আর আল্লাহ চাইলে বিষয়টা অসম্ভব কিছুও না।

এরপর দ্বিতীয় বার আবার হিফজ করার প্রতি আমার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছিলো মসজিদে নববীতে কুরআনের হালাকায় ছোট ছোট বাচ্চাদের নিমগ্নতা দেখে। যে ক’দিন আল্লাহ মদীনার বাতাসে শ্বাস নেবার তাওফীক দিয়েছিলেন খুঁজে খুঁজে তাদের আশেপাশে বসে থাকতাম। নিজের ইচ্ছার পরও যা এখনও আমার তাওফীকে আসেনি তা অন্যের মাঝে দেখার মধ্যে এক ধরণের বেদনামিশ্রিত অনুভূতি আছে, যা অন্তরের সুপ্ত ইচ্ছাটাকে জিইয়ে রাখে। মসজিদে নববীর সুবিশাল শামিয়ানার নিচে বসে তাঁদের দিকে নিরবে চেয়ে থাকতাম । নিজেকে শুণ্য মনে হতো।

সে বছরই অনলাইনে এসেছিলাম অবসর সময়ে আরবীর দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে নিতে। এখানে এসে সাওদা নামে এক আপুকে পাই। তিনি কুরআনে কারীমের হাফেজা এটা বুঝতে পেরেছিলাম। ভার্সিটিতে পড়েও পরবর্তীতে তিনি হাফেজা হয়েছেন। আপুর হিফজের গল্প শুনে আম্মু-আব্বুকে জোর করে ধরলাম যে, জেনারেল লাইন থেকে এসে বড় হয়ে হিফজের তাওফীক আল্লাহ দিয়েছেন, এমন উদাহরণ তো আছে। আল্লাহ চাইলে যাকে ইচ্ছা যখন ইচ্ছা দেন, শুধু চাইতে হয় কাতর হয়ে শূণ্য হাত দুখানি পেতে। এরপর কুড়িয়ে নিতে হয় নত মস্তকে সমর্পিত হৃদয়ে। অনেক মিনতির পরে আব্বু-আম্মু পাঁচ পারা হিফজের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। একটি একাডেমিতে পাঁচ পারা হিফজের কোর্স ছিল। পরে কোন এক কারণে সেখানে হয়নি দেখে সাওদা আপু পার্সোনালি একজন উস্তাযার খবর দিয়েছিলেন। এটা আমার জন্য খাইরই ছিল আলহামদুলিল্লাহ। নয়ত এই পাঁচেই হয়তো সীমাবদ্ধ হয়ে যেতাম আমি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

আল্লাহর রহমে কোন উস্তাযার অধীনে থেকে হিফজের সবক শুরু হলো খুলনার উস্তাযার কাছে চৌদ্দশো বিয়াল্লিশ হিজরী রজব মাসের এগারোতম দিনে। আগে যে এক পারা হিফজ করেছিলাম এতো দিনে সেটা স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর ঐ মাসেই আল্লাহর রহমতে সেই বিস্মৃত পারাসহ দু’ পারা হিফজের তাওফীক পেয়ে গেলাম আলহামদুলিল্লাহ। ২০২০ সালে করোনার জন্য লকডআউন শুরু হয়ে গেলে শাবান মাস গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। ওখানে নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং রুটিনে ব্যাঘাত ঘটায় সবক শুনানো বন্ধ হয়ে গেল। তখন হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রাহিমাহুল্লাহ) এর একটা কথা মনে হতো খুব। কথার সারমর্ম এরকম ছিল, ঘন ঘন বেড়ানোতে নিয়মের ব্যাঘাত ঘটে। আমার বেলাতেও সেটাই যেন বাস্তব হলো।

সে বছরের রমাদানের চাঁদ দেখা দিলে আমরা গ্রাম থেকে বাসায় ফিরলাম। তখন থেকে আবার হিফজ করা শুরু হলো আলহামদুলিল্লাহ। রমাদান শেষ হবার একটু আগে সূরা আলে ইমরান শেষ হলো। অসুস্থতার কারণে কিছুদিন পড়া বন্ধ ছিল। উস্তাযা বললেন, রমাদানে নিয়ম বদলে যাওয়ায় এরকম অসুস্থতা হচ্ছে আপনার। ইনশাআল্লাহ রমাদানের পরে সুস্থ হয়ে যাবেন, তখন পারবেন। রমাদানের পর ঈদের জন্য গ্রামের বাড়ি যাই। গ্রামের বাড়ি যাওয়া মানে এমনিতেই সবক বন্ধ থাকা। তার উপর অসুস্থতাও তখনও কাটেনি। তাই আরো কিছু দিন থমকে ছিল আমার হাফেজা হওয়ার স্বপ্নযাত্রা।

উদ্যমতা হারিয়ে যাওয়া হিফজের পথে বেশ আশংকার বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ না করুন, উদ্যমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সবকে অনিয়মিত হওয়াই যথেষ্ট। এজন্য উস্তায আবদুল্লাহ আল মাসউদ সাহেব আমাদের অনেক সময় তরবিয়তি মজলিসে বলেন- আমরা যেন প্রতিদিন উস্তাযাকে পড়া শুনাই। একেবারে অল্প পরিমাণে হলেও। যদি কোনদিন মাত্র এক আয়াত মুখস্ত হয়, তবে সেটাই যেন শুনাই। আর যেদিন একটুও নতুন পড়া মুখস্ত করা সম্ভব হবে না, সেদিন উস্তাযার সাথে অন্তত সালাম বিনিময় করে নিতে। যাতে করে নিয়মতান্ত্রিকতা ছুটে না যায়। ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে এক্ষেত্রে উস্তায বড়দের অনেক উদাহরণও দেন তাদের জীবন থেকে। উস্তাযের মজলিসগুলো একাডেমির ওয়েবসাইটে কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে খোঁজ করলেই মিলবে ইনশাআল্লাহ। (মজলিসগুলো দেখতে ক্লিক করুন এখানে) সেখানে একটা ভিডিও আছে, যারা হিফজ শুরু করবেন ভাবছেন বা হিফজের রুটিন কেমন হবে খোঁজ করছেন তাঁদের জন্য দিক নির্দেশনা স্বরূপ। এটা খুবই উপকারী। আমার হিফজের জার্নি শুরু হবার কিছুদিন পর এটা পাবলিশড হয়েছিল। আমি এখনো মাঝে মাঝে এটা শুনি এবং হিফজে আগ্রহী ভাইবোনদের দেই। পাশাপাশি মুফতি মুশতাকুন নবী হাফিযাহুল্লাহর একটা আলোচনা আমাকে কুরআনের আযমত সম্পর্কে গভীর একটা বোধ দিয়েছিল আলহামদুলিল্লাহ। অসুস্থতা এবং অনিয়মের সাথী হয়ে কিছু হাঁটা কিছু থেমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পাঁচ পারা পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছিলাম। এরপর আমার ভাইকে করোনার থাবা অসুস্থ করে দিল। জীবন মরণ লড়াই যেন। পুরো পরিবার তখন পেরেশান। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল।। আমার পড়াশোনাটাও থমকে গেল। সেসময় হতাশার সাগরে হাবুডুবু খেতাম। একদিন উস্তাযাকে মেসেজ দিয়েছিলাম যে আবার পড়বো ইনশাআল্লাহ। ছয় নং পারা শেষ হতে হতে আবার অনিয়ম, বিভিন্ন বাঁধা-বিপত্তি এসে উপস্থিত। এক পর্যায়ে আবার পড়া বন্ধ হলো।

নুরুল কুরআন একাডেমিতে ভর্তি

এই ঝড়-ঝাপটার ভেতর দিয়েই আমি একটু একটু করে আগাচ্ছিলাম। তখন নুরুল কুরআন একাডেমি প্রতিষ্ঠা হয়েছে মাত্র। আরবিভাষা দিয়ে শুরু হলেও কিছুদিন পর হিফজ বিভাগও চালু করা হয়। আমি ভাবলাম, এখানে যদি একাডেমিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতার ভেতর দিয়ে পড়া শুরু করি, তাহলে হয়তো গাফলতির সুযোগ পাবো না। সাওদা আপু এবং সাহিদা আপুর সাথে পরামর্শ করে আবার নতুন যাত্রা শুরু হলো। সকাল আটটা থেকে এগারো টার ব্যাচে একজন উস্তাযার কাছে। আমি প্রথম থেকে ছয়পারা হিফজ করেছিলাম আগে। এখানে এসে ছাব্বিশ নং পারা থেকে শুরু করলাম। এরপর সাত থেকে শুরু করেছিলাম আবার ‌আলহামদুলিল্লাহ। এক পৃষ্ঠা সবক, সাতসবক শুরুতে দিতাম। সহপাঠী একজন আপুকে আমুখতা শুনানো হতো সময়ের অভাবে। হাতে গোনা কিছু দিন যাবার পর উস্তায একবার খবর নেবার পর চালু হলো উস্তাযাকে আমুখতা শুনানো। যতটুকু হয় ততটুকু থেকে কিছু প্রশ্নত্তর। পাশাপাশি সহপাঠী আপুকেও শুনাতাম। উস্তাযের এই পরামর্শগুলো হিফজের অনেক কঠিন সময়ে সঠিক পথ দেখাতো আলহামদুলিল্লাহ। সাথে সুইট হার্ট কুরআন কিতাব এবং তার লেখকের হিফজ বিষয়ক আলোচনা, উইথ দি কুরআন পেইজ এরকম কুরআনুল কারীম হিফজ বিষয়ক নানা আলোচনা, বয়ান, কিতাব, আর্টিকেল খোঁজ করে পড়তাম এবং এগুলো থেকে অনেক অনেকভাবে উপকৃত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। এভাবেই একটু একটু করে হাফেজা হওয়ার স্বপ্নের চারাটি পরম যত্নে বড় হতে থাকে।

আল্লাহর রহম ও ফযলে এভাবেই ছুটতে থাকি কুরআনের পথের যাত্রী হয়ে। চলতে চলতে কোথাও থমকে যাওয়া, কোথাও আটকে যাওয়ার সময়ও পার করেছি। এমন অনেক কঠিন সময়ও পার হয়েছে যেটা বলার বাইরে। সেগুলো থেকেও আল্লাহ দয়া করে মুক্তি দিয়েছেন এবং সহজ করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। সাওদা আপু এবং সাহিদা আপুকে পাশে পেয়েছি অনেক সময় (আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর শান অনুযায়ী বদলা দান করুন আমীন)। সাহস দেবার মত মানুষ সে তুলনায় খুব কমই ছিল। তবুও আল্লাহ আমার সহায় হয়েছেন বলে সহজ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। না হয় আমার কী-ই বা যোগ্যতা আছে? যা আছে তাতে সব হারানোরই কথা ছিল। কিভাবে যেন টিকেছি শত কদর্যতা মাখা এই আমি, জানি না। শুধু জানি আমার মালিক বড়ই দয়ালু ও মেহেরবান। তিনি শত অযোগ্যতা ও গুনাহের পরেও বান্দাকে সুযোগ দেন।

স্বপ্ন পূরণের সন্ধিক্ষণে

আল্লাহর অপার করুণায় শেষ বছরে আমি বেশি বারাকাহর দেখা পেয়েছি এবং নিজের ভেতরের টানাপোড়েন থেকেও মুক্তি পেয়েছি। ৪৩ হিজরীর রমাদানে আমার সবক হয়েছিল আঠারো পারা, এর মধ্যে ছয় থেকে এগারো পারা ছিল নতুন পড়া। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য গ্রুপ পাল্টে এসেছিলাম অন্য আরেক উস্তাযার কাছে। এই ব্যাচে ফজরের পর পরই পড়া শুনানো লাগত। এ বছর শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল আল্লাহ চাইলে আগামী রমাদানের আগে আমি সবক শেষ করবো। সেজন্য নিয়ত করেছিলাম একদিনে দুই তিন পেইজ করে সবক দিবো, আর অন্য দিন পেছন থেকে পড়া দিব। অর্থাৎ, সপ্তাহে তিনদিন নতুন সবক, দুদিন পেছনের কাঁচা পারা আড় একদিন সবিনা। সেসময় বারো বছরের ছোট্ট মুহসিনার সাথে আমুখতা শুনানো হতো, সাথে মাঝে মধ্যে আগের সহপাঠী ফাহমিদা আপুও থাকতেন। (এ লেখাটা যখন প্রকাশিত হচ্ছে তখন তাদের উভয়েরই হিফজ শেষ হয়েছে নুরুল কুরআন একাডেমি থেকে আলহামদুলিল্লাহ। )

নানা রকম ত্রুটি-বিচ্যুতির সাথে আমার হিফজ এগিয়ে যেতে থাকল। কখনো নিয়মিত কখনো ব্যস্ততার কারণে অনিয়মিত। এভাবেই যখন জুমাদাস সানী মাসের চাঁদ আকাশে উদিত হলো, আমার দিন আর পেইজ গুণা শুরু হয়ে গেলো। পাঁচ পারা থেকে কিছু কম বাকি আছে তখন। এদিকে রমাদান আসতে বাকি মাত্র তিন মাস। এই পর্যায়ে এসে আব্বু-আম্মুও আমাকে উৎসাহ দিলেন। সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করলেন। দ্বিগুণ উৎসাহে আমি অনেক দিন পাঁচ পেইজ করেও সবক দেওয়ার তাওফীক পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। শেষ দিকে শুধু কুরআন নিয়েই পড়ে থাকতাম।

যখন শাবান মাস আসলো, আমার পেরেশানিও বেড়ে গেল। শুধু মনে হচ্ছিল, আর কয়েকটা দিন যদি হায়াত না পাই? হিফজের এই সফর শেষ হওয়ার আগেই যদি পরকালে যাওয়ার ডাক এসে যায়? যদি আল্লাহ অগুনিত গোনাহের জন্য হিফজ শেষ করার সৌভাগ্য থেকে মাহরুম করেন? এভাবে নানান দুশ্চিন্তা আডর ভয়-আশঙ্কার ভেতর দিয়েই অবশেষে শেষ সবক শুনানোর দিনটা সমাগত হলো।

শেষ সবকের আগের দিন যখন আমার চাচা-মামা, ফুফু-খালা-আত্নীয়দের কাছে ফোনে দুআ চাচ্ছিলাম, তখন থেকেই বারবার চোখ থেকে আনন্দের অশ্রু ফোটা বেয়ে বেয়ে পড়ছিল। আমার আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়েছিল যে বিষয়টি তা হলো, যেদিন আমি হিফজের শেষ সবক শুনাই সেদিন ছিল ৪৪ হিজরীর ১৫ শাবান- শবে বরাত। মাগরিবের পর জুমে সব সহপাঠী আপুরা ও বাহির থেকে আরও অনেক আপুরা অংশগ্রহণ করলেন। সবার সেকি উচ্ছাস! আর এদিকে আমার পুরো পরিবার, আত্মীয়-স্বজন হোয়াটসঅ্যাপে এক্টিভ হয়েছে ত্রিশজনের মতো আব্বু, আম্মু ও ভাইয়ের ফোনে। আমি দিনের বেলায় বাসায় আম্মু ও আপুর কাছে পড়া শুনিয়ে মাগরিবের পর সাওদা আপু এবং সাহিদা আপুর কাছে পড়াটা আবার শুনিয়ে নিলাম। যেন সবার সামনে শেষ সবক তিলাওয়াত করতে গিয়ে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয়। তবুও নার্ভাসনেস আর অতি খুশি ও আনন্দের প্রাপ্তিতে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। শবে বরাতের ফজিলতপূর্ণ রাতে একাডেমির সকল উস্তাযা ও অন্যান্য তালিবাহদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতার ভেতর দিয়ে ইশার সময় ভাঙা ভাঙা গলায় কান্না বিজড়িত কণ্ঠে শেষ সবক শুনাই আমি। এখনও লিখেতে গিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। স্মৃতিতে ভেসে উঠছে সেদিনের সব দৃশ্য। অনুষ্ঠান শেষে ছিল উস্তাযাদের নসিহত ও আন্তরিক দুআ। নুরুল কুরআন একাডেমিতে এটাই ছিল কোন ছাত্রীর প্রথম হিফজ শেষ করার ঘটনা। তাই আয়োজনটাও ছিল সুন্দর ও গোছানো। সব মিলিয়ে আমার হিফজ শেষ করতে সময় লেগেছিল তিন বছরের মত। এর মধ্যে নুরুল কুরআন একাডেমিতে পড়েছি দুই বছর দুই মাস।

হিফজের এই জার্নিতে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার আব্বু-আম্মু, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, সাওদা আপু-সাহিদা আপু, উস্তায-উস্তাযাগণ এবং সহপাঠী বোনদের, শুভাকাঙ্ক্ষীদের এবং আমাদের নুরুল কুরআন একাডেমির। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই একাডেমির উস্তায-উস্তাযাগণ এবং সকল ছাত্র-ছাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাকবুল এবং মাবরুক করুন। আমীন।

————————————————- ————————————————- ————————————————- ———————————————

নুরুল কুরআন একাডেমিতে এই পর্যন্ত ৪ জন ছাত্রী হাফেজা হয়েছেন। তারা হলেন-

১. ফারজানা আমাতুল্লাহ

২. মুহসিনা আক্তার

৩. ইয়াসনা আরিফ

৪. ফাহমিদা জান্নাত তাসনিম

যারা হিফজ করা শুরু করেছেন বা করবেন বলে ভাবছেন তারা চাইলে আমাদের প্রিরেকর্ডেড কোর্স ‘হিফজ নির্দেশিকা কোর্স’টি করে নিতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি কীভাবে সঠিক পন্থায় হিফজের পথে অগ্রসর হবেন সেই বিষয়ে একটি পরিষ্কার গাইডলাইন পপাবেন ইনশাআল্লাহ। কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে

আমাদের একাডেমিতেও দীর্ঘ মেয়াদে হিফয করতে পরেন। আমাদের ‘হিফজুল কুরআন কোর্স’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে

আপনি চাইলে শুধু ৩০ নং পারাও (আম্মা পারা) হিফজ করতে পারেন। এর জন্য রয়েছে আমাদের ‘৩০ নং পারা হিফজ কোর্স’।

 #মহিলাদের_রোজা_সংক্রান্ত_প্রয়োজনীয়_কিছু_মাসয়ালা[নারীদের জন্য রমজান মাস সংক্রান্ত জরুরি কিছু মাসায়েল সংক্ষিপ্ত আকারে উল্...
18/03/2024

#মহিলাদের_রোজা_সংক্রান্ত_প্রয়োজনীয়_কিছু_মাসয়ালা

[নারীদের জন্য রমজান মাস সংক্রান্ত জরুরি কিছু মাসায়েল সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হলো। উল্লেখ্য যে, নিম্নোক্ত সব মাসয়ালা ফিকহে হানাফির গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি থেকে সংকলন করা হয়েছে।
লেখার সংক্ষিপ্ততার দিকে লক্ষ করে মাসয়ালার সঙ্গে সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। প্রয়োজনে নিকটস্থ ফতোয়া বিভাগ কিংবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ রইল।]

#মাসয়ালা : রমজান মাসে মহিলাদের পিরিয়ডের রোজা না রাখলে অথবা রোজা রাখার পর পিরিয়ড শুরু হলে তার জন্য পানাহার করা বৈধ। তবে অন্য লোকদের সামনে পানাহার করা উচিত নয়।
দিনের বেলায় যদি ঋতু বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তাহলে দিনের বাকি অংশে রোজাদারের মতো পানাহার ও যৌনাচার বর্জন করা ওয়াজিব। -আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪২০

এ প্রসঙ্গে হাদিসে আছে, উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো হায়েজ থেকে পবিত্রতার পর মহিলারা কি নামাজ ও রোজার কাজা আদায় করবে? তিনি বললেন, এ অবস্থায় আমাদের রোজার কাজা আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নামাজের নয়।
’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

রোজা কাজা করা আর নামাজ কাজা না করা সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) যা বলেছেন সমস্ত উলামায়ে কেরাম তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অর্থাৎ ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

#মাসয়ালা : হায়েজ (মাসিক পিরিয়ড), নেফাসের (প্রসব পরবর্তী স্রাব) সময়গুলোতে রোজা রাখা নিষেধ, তবে পরবর্তীতে এ দিনগুলোর রোজার কাজা করতে হবে।

#মাসয়ালা : পবিত্র অবস্থায় রোজা রাখার পর যদি হায়েজ শুরু হয় বা সন্তান প্রসব হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং পরে তা কাজা করতে হবে। চাই সেটা ফরজ বা নফল রোজা হোক।

#মাসয়ালা : রমজান মাসে সুবহে সাদেকের পর যদি কোনো মহিলার হায়েজ, নেফাস বন্ধ হয়ে যায় এবং সে এই সময়ের মধ্যে কোনো কিছু পানাহার না করে এমতাবস্থয় যদি সে রোজার নিয়ত করে তাহলে ওই দিনের রোজা শুদ্ধ হবে না ববং পরবর্তীতে উক্ত রোজার কাজা করতে হবে, কারণ সে দিনের শুরুলগ্নে অপবিত্র ছিল।

#মাসয়ালা : যদি কেউ পূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত পর, রাতের শেষভাগে গিয়ে পবিত্র হয় এবং তখন রাতের এতটুকু সময়ও হাতে নেই যার মধ্যে একবার আল্লাহু আকবার বলতে পারে। তবুও পরের দিনের রোজা ওয়াজিব। আর যদি ১০ দিনের কমে হায়েজ বন্ধ হয় এবং এতটুকু রাত অবশিষ্ট থাকে, যার মধ্যে তাড়াহুড়া করে গোসল করে নিতে পারে তবে ১ বারও আল্লাহু আকবার বলা যায় না। তবুও পরের দিনের রোজা ওয়াজিব হবে। এমতাবস্থায় গোসল না করে থাকলে গোসল ছাড়াই রোজার নিয়ত করে নিবে, আর যদি সময় তার চেয়েও কম থাকে তাহলে রোজা হবে না, তাই সে রোজা রাখবে না। তবে সারাদিন তাকে রোজাদারের মতোই থাকতে হবে এবং পরে কাজা করতে হবে।

#মাসয়ালা : হায়েজ, নেফাস অবস্থায় কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করা মুখস্থ হোক বা দেখে হোক জায়েজ নয়।

#মাসয়ালা : কোনো মেয়ের হেফজ করা অবস্থায় হায়েজ এসে গেলে এবং মুখস্থ করার জন্য তেলাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বা কোনো হাফেজা মেয়ের হায়েজ অবস্থায় কোরআন হেফজ করার জন্য তেলাওয়াত জারি রাখতে চাইলে মনে মনে তেলাওয়াত করবে মুখে উচ্চারণ করবে না।

#মাসয়ালা : হায়েজ, নেফাসওয়ালি মহিলা বাচ্চাদেরকে কোরআন শরিফ বানান করে শিক্ষা দিতে পারবে। তবে রিডিং পড়ানোর সময় ১ শ্বাসে পূর্ণ ১ আয়াত পড়াতে পারবে না বরং শ্বাস ভেঙ্গে ভেঙ্গে ১-২ শব্দ করে পড়াতে হবে।

#মাসয়ালা : কোনো মহিলা হায়েজ, নেফাস অবস্থায় আয়াতে সিজদার তেলাওয়াত শুনলে তার ওপর সিজদা করা ওয়াজিব নয়।

#মাসয়ালা : হায়েজ, নেফাস অবস্থায় কোরআন শরিফ স্পর্শ করা যেমন জায়েজ নয় অনুরূপভাবে কোরআনের আয়াত কোথাও লেখা থাকলে তাও স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে যদি এমন কোনো কিতাব হয় যার মধ্যে কোরআনের আয়াত অপেক্ষা অন্য কোনো লেখা বেশি থাকে তাতে হাত লাগানো যাবে, তবে আয়াতের ওপর হাত লাগানো যাবে না।

#মাসয়ালা : বর্তন, পিরিচ অথবা কাগজের ওপর যদি শুধু কোরআনের আয়াত লেখা থাকে, তাতে হাত লাগানো যাবে না, তবে পৃথক কোনো কাপড় দিয়ে তা ধরা যাবে।

#মাসয়ালা : কোরআন শরিফের গিলাফ যদি কোরআন শরিফ থেকে আলাদা হয়, তবে তা দ্বারা কোরআন শরিফ ধরা জায়েজ আছে। অনুরূপভাবে শরীরে থেকে বিচ্ছিন্ন কাপড় দ্বারাও কোরআন শরিফ ধরা জায়েজ আছে।

#মাসয়ালা : কোরআন শরিফের সঙ্গে সংযুক্ত গিলাফ এবং যে কাপড় শরীরের সঙ্গে যুক্ত আছে যেমন উড়না, জামার আস্তিন ইত্যাদি দ্বারা কোরআন শরিফ স্পর্শ করা বা ধরা জায়েজ নয়।

#মাসয়ালা : হায়েজ, নেফাস অবস্থায় ধর্মীয় কিতাব পড়া এবং সেগুলো স্পর্শ করা জায়েজ আছে। তবে যে সব স্থানে কোরআনের আয়াত লেখা আছে তা পাঠ করা যাবে না এবং সেখানে যেন হাতের স্পর্শ না লাগে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

#মাসয়ালা : হায়েজ, নেফাস অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত ছাড়া যাবতীয় জিকির-আজকার, দোয়া-দুরুদ ও তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা জায়েজ আছে। এমনকি দোয়ার নিয়তে কোরআনের আয়াতও পাঠ করা জায়েজ আছে।

#মাসয়ালা : পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লহির রাহমানির রাহিম ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলতে কোনো অসুবিধা নেই।

#মাসয়ালা : গর্ভবর্তী বা স্তন্যদানকারিনী রোজাদার মহিলার যদি রোজা রাখার কারণে বাচ্চার বা তার প্রাণহানি মা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা হয়, তবে রোজা ভেঙ্গে ফেলা জায়েজ; অন্যথায় জায়েজ হবে না।

#মাসয়ালা : ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত কারণে দেখা দেয়া স্রাব, নিয়মিত পিরিয়ডকালীন সময়ের বেশি সময়ে যা দেখা দেয়) অবস্থায় রোজা রাখা সহিহ এবং জরুরি। রোজা না রাখার অনুমতি নেই।

#মাসয়ালা : ইস্তিহাযা অবস্থায় মহিলারা নিজ ঘরে ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল ইতিকাফ করতে পারবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই ।

মাসয়ালা : ইস্তিহাযা অবস্থায় মহিলারা কোরআন শরিফ তেলাওয়াত ও স্পর্শ করতে পারবে।

#মাসয়ালা : প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের প্রতিমাসে মাসিক হওয়া আল্লাহ প্রদত্ত একটি প্রাকৃতিক নিয়ম। নিয়মিত মাসিক হওয়া স্বাস্থ্যের জন্যেও উপকারী। এ জন্য ইসলা‍মি শরিয়ত তাদের এ দিবসগুলোতে রোজা না রাখার বিধান রেখেছে। এতদসত্ত্বেও যদি কোনো নারী ঔষধ সেবনের মাধ্যমে মাসিক বন্ধ রাখে তাহলে শরিয়তের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা-নিষেধ নেই। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এরূপ না করায় উত্তম। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এমন ব্যবস্থা নেয়, তাহলে তার রোজা হয়ে যাবে। -আল বাহরুর রায়েক: ২/৪৪৯, ফতোয়ায়ে হক্কানি: ৪/১৫৮

#মাসয়ালা : বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর প্রসূতি অথবা রুগ্ন দুর্বল মহিলা, যে রোজা রাখতে পারে না, এমতাবস্থায় তার পক্ষে ফিদইয়া দেয়া যথেষ্ট নয়। যদি ফিদইয়া দিয়ে দেয় এবং পরে সুস্থ হয় এবং রোজা রাখার সক্ষমতা এসে যায়, তাহলে ওই রোজার কাজা করা জরুরি। -ফাতাওয়া দারুল উলুম: ৬/৪৭৮

#মাসয়ালা : দুধ পান করানোর দ্বারা মহিলাদের রোজা ও অজু ভাঙ্গে না। রোজা এ জন্য ভাঙ্গে না, দুধ বের হওয়াই স্বাভাবিক। রোজা তো পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকার নাম। -ফাতাওয়া দারুল উলুম: ৫/৪০৮

© কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক

08/12/2023

আমাদের মাদরাসায় ভর্তি চলছে...

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবকবৃন্দরা দ্রুত যোগাযোগ করুন।

07/11/2023

সম্মানিত মুহতামিম সাহেবের পেইজ থেকে এই স্পষ্টতার পর আশা করি বিষয়গুলো নিয়ে কেউ আর বাড়াবাড়ি করবেন না।

06/11/2023

আমাদের মাদরাসা বিষয়ে, মাদরাসার সম্মানিত মুহতামিম ও জামিয়া পটিয়ার শাইখুল হাদিসের পেইজ থেকে পোস্ট।

19/08/2022

ুরআনে_নারী

ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ.

অর্থ : আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীকে দৃষ্টান্ত হিসাবে পেশ করেছেন। তারা উভয়েই আমার দু’জন সৎকর্মশীল বান্দার বিবাহাধীন ছিল; কিন্তু তারা (স্ত্রীদ্বয়) বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে আল্লাহর পাকড়াওয়ের সামনে তারা (নূহ ও লূত) তাদের কোনো কাজে আসেনি। আর তাদেরকে বলা হল, (জাহান্নামে) প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ কর।-সূরা তাহরীম : ১০

যত নিকটাত্মীয়ই হোক আখিরাতে কাফের মুমিনের দ্বারা কোনো উপকার পাবে না। যেমন আমরা এই আয়াতে দেখি, স্বামী নবী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর কোনো উপকারে আসছেন না, কারণ স্ত্রী কুফরী করেছে। এই আয়াতের পরপরই আল্লাহ তায়ালা ফিরআউনের স্ত্রীর মাধ্যমে দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন; খোদাদ্রোহী স্বামীর স্ত্রীও ঈমান আনার দ্বারা নাজাত পেয়েছেন ও চির স্মরণীয় ও আদর্শ হয়ে আছেন।

হযরত নূহ আ.-এর স্ত্রী তার মহাত্মা স্বামীর বিরুদ্ধাচারণ করত এবং তাকে পাগল বলত। তাঁর গোপন বিষয় কাফিরদের কাছে ফাঁস করে দিত। আর হযরত লূত আ.-এর স্ত্রীও ছিল স্বামীর অবাধ্য। সেও তাঁর শত্রুদের সাহায্য করত। (রুহুল মাআনী) আর ফিরআউনের স্ত্রী ছিলেন হযরত আসিয়া রা.। তিনি মূসা আ. এর উপর ঈমান এনেছিলেন। ফিরআউন এ সংবাদ জানতে পেরে তাঁকে কঠিন শাস্তি দেয়। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, চার হাত-পায়ে পেরেক পুঁতে তাঁকে প্রখর রোদে ফেলে রাখা হয়, তবুও তিনি ঈমান ত্যাগ করেননি। (তাওযীহুল কুরআন)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের ফল ভোগ করবে। এ কারণে নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও হযরত নূহ আ. ও হযরত লূত আ. এর স্ত্রী নাজাত পায়নি; বরং আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরোধিতার কারণে তাদেরকে আযাবের শিকার হতে হয়েছে। সুতরাং নাজাতের মানদন্ড হল ঈমান ও আমলে ছালেহ। অতএব নিজ আত্মীয় যত বড় ওলী বা বুযুর্গ হোক না কেন নিজে নেক আমল না করে সে পার করে নিবেন ভেবে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস শরীফে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে এসেছে। সূরা শু‘আরা এর ২১৪ নং আয়াত-

وانذر عشيرتك الاقربين

(অর্থ) ‘‘আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন’’ যখন নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং ( নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দাওয়াত ও আখেরাতের ভয় দেখালেন, একপর্যায়ে) বললেন, হে মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতেমা! হে সাফিয়্যা বিনতে আবদিল মুত্তালিব! হে আবদুল মু্ত্তালিবের সন্তানেরা! আমার সম্পদ থেকে যা চাও দিতে পারব, কিন্তু আল্লাহর পাকড়াওয়ের সামনে আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৩৫০

হাঁ, ঈমান ও আমলে ছালেহ যদি থাকে তাহলে আল্লাহ পরবর্তী বংশধরকে পূর্ববর্তীদের (সন্তান-সন্ততিকে পিতা-মাতার) সাথে মিলিয়ে দিবেন যদিও তাদের মাঝে মর্যাদার তারতম্য থাকে। সূরা তুরের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, (অর্থ) এবং যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়,তাহলে তাদের সাথে তাদের সন্তান-সন্ততিকে মিলিয়ে দিব এবং তাদের কর্মফল সামান্যও কমাব না; প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।

আলোচ্য আয়াত থেকে আরো বোঝা যায়, একের কর্ম ও কীর্তি যেমন অপরকে মুক্তি দিতে পারে না তেমনি একজনের মন্দ কর্মের ফলও অন্যকে ভোগ করতে হবে না। স্ত্রীর ঈমান না আনা ও মন্দ কর্মের জন্য না নূহ ও লূত আ. কে পাকড়াও করা হবে, না সন্তানের কারণে নূহ আ. জিজ্ঞাসিত হবেন। তবে প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে এবং প্রত্যেকেই স্বীয় কর্মের ফল ভোগ করবে।

আর প্রত্যেকের দায়িত্বে নিজের অধীনস্থদের তালীম-তরবিয়তের বিষয়টিও শামিল আছে।

আলোচ্য আয়াত থেকে আরো বোঝা যায়, আমলের ছাওয়াবের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। যিনিই ঈমান এনে নেক আমল করবেন তিনিই আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি পাবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, (অর্থ) পুরুষ হোক নারী হোক মুমিন অবস্থায় যেই নেক আমল করবে তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের আমলের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার দান করব।-সূরা নাহল : ৯৭

বিবি আসিয়া ঈমান এনেছেন এবং নেক আমল করেছেন সুতরাং তিনি নারী হয়েও শ্রেষ্ঠ ও প্রশংসিত। পক্ষান্তরে স্বামী ফিরআউন ঈমান আনেনি ফলে সে পুরুষ হয়েও নিকৃষ্ট ও ধিকৃত।

[সূত্র : মাসিক আল-কাউসার, ডিসেম্বর ২০১২ সংখ্যা]

পুরা পড়ুন.... #সুন্দরী_প্রতিযোগিতা:  #নারীর_সম্মান_না_অবমাননা?লিখেছেন : হাবীবা নাসরীনবর্তমান সময়টাই যেন প্রতিযোগিতার। স...
05/10/2017

পুরা পড়ুন....

#সুন্দরী_প্রতিযোগিতা: #নারীর_সম্মান_না_অবমাননা?

লিখেছেন : হাবীবা নাসরীন

বর্তমান সময়টাই যেন প্রতিযোগিতার। সারা বিশ্ব সেই দৌড়ে সামিল। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে আপনি টিকে থাকবেন, নয়তো ঝরে পড়বেন। সেই প্রতিযোগিতারই একটি অংশ ‘সুন্দরী প্রতিযোগিতা’।

এখন কথা হচ্ছে উল্লেখিত এই ‘সুন্দরী’ শব্দটি কিসের ভিত্তিতে ঠিক করা হয়? সৌন্দর্য’র সংজ্ঞা মূলত কী? উইকিপিডিয়া বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ এর ফাইনালে অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক প্রতিযোগীকে তার নিজ দেশের পদক অথবা বিশেষ রূপরেখার মাধ্যমে মিস ওয়ার্ল্ড ন্যাশনাল প্রিলিমিনারি বিজয়ী হতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার শুরুর আগে আবেদনপত্রের শর্তগুলি ছিল এরকম- বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণে আগ্রহী মেয়েকে অবশ্যই বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী নাগরিক হতে হবে, অবিবাহিত হতে হবে, সন্তান থাকা যাবে না, এবং বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৭ এর মধ্যে হতে হবে।

১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যের এরিক মোর্লে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতা শুরু করেন। বিকিনি প্রতিযোগিতার বিপরীতে মেধা, দেহ সৌষ্ঠবের এই প্রতিযোগিতাটি ক্রমেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠে। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আয়োজকরা ব্যয় করেন হতভাগ্য শিশুদের কল্যাণে। এখন কথা হলো, যে নারীর মেধা ও সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করা হয়, সেই নারীই এখানে কতটুকু সম্মান পাচ্ছেন! মানুষের মেধা, শারীরিক সৌন্দর্য যদি মানুষের কল্যাণে আসে তবে ক্ষতির কিছু নেই। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় আবেদন করতে হলে ‘অবিবাহিত হতে হবে, সন্তান থাকা যাবে না’- এই শর্ত দুটি নারীর জন্য কতটা সম্মানজনক?
একজন নারীর পরিপূর্ণতা মেলে তার মাতৃত্বে। মহাবিশ্বের সবকিছুই সৃষ্টি হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। আর এই মানুষের বিস্তার ঘটছে নারীর মাধ্যমে।

নারীর গর্ভে পরিপূর্ণতা পাচ্ছে মানবদেহ, নারীর মমতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে মানবজনম অথচ মিস ওয়ার্ল্ডের মতো বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় বলা হচ্ছে- নারীর সন্তান থাকা যাবে না, বিবাহিত হতে পারবে না! এখন কথা হচ্ছে, বিয়ে হলে কি একজন নারী তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে? অথবা সন্তান জন্ম দিলে কি তার মেধা বা সম্মান কমে যায়? প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য যদি হয় নারীকে সম্মান জানানো, তার মেধা আর সৌন্দর্যকে কাজে লাগানো তবে সেক্ষেত্রে এই শর্তগুলো দেয়া কতটুকু যৌক্তিক? নাকি মেধা আর সৌন্দর্য’র আড়ালে নারীকে যৌন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করাই মূল লক্ষ্য?

১৯৫১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে আমরা বিজয়ী হিসেবে দেখতে পাই ২০০১ সালে। আগবানী ডেরিগো নামের মেয়েটি প্রমাণ করেছিল সৌন্দর্য মানে গায়ের ফর্সা রঙ নয়। এর অর্থ কি এই দাঁড়ায় না যে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে তারা শুধু গায়ের রঙকেই সৌন্দর্য’র অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিচার করে আসছিলেন? যে প্রতিযোগিতার মূল শর্তই থাকে নারীকে অবিবাহিত হতে হবে, সন্তান থাকা যাবে না- তারা কিভাবে নারীর সঠিক মর্যাদা নিশ্চিত করবে?

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে। এর বেশ কয়েকটি কারণের একটি হচ্ছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যে নারী, তার বিয়ে হয়েছিল। এবং সেই বিয়েটি টেকেনি। বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েটি আইনগতভাবে সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। এখন অনেকেই দাবি করছেন তথ্য গোপনের অপরাধে বিজয়ী মেয়েটির মুকুট কেড়ে নেয়া হোক। কথা হলো, যে সম্পর্কটির অস্তিত্বই নেই, মেয়েটি কেন সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করবে? মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল তার মানে তিনি এর আগে একজনের শয্যাসঙ্গী হয়েছিলেন। প্রতিযোগিতার শর্তটি আসলে কী? প্রতিযোগিতায় আসার আগে কোনো পুরুষের শয্যাসঙ্গী হওয়া যাবে না? তাহলে কি আয়োজকরা মনে করেন, নারীর সৌন্দর্য নির্ভর করে তার ‘কুমারিত্বে’? তবে তো ধর্ষণের শিকার কোনো নারীও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নারীকে সম্মান জানানোর এই যদি হয় পন্থা, তবে ভেবে দেখার সময় হয়েছে নারীর সম্মান মূলত কোথায়! সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীকে যৌন পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের যে এই কৌশলী ষড়যন্ত্র- সময় হয়েছে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। নারীর মেধা, বুদ্ধিমত্তাকে পায়ে দলে শুধু তার ‘কুমারিত্বের’ওপর ভিত্তি করে যে প্রতিযোগিতা হয়, প্রত্যেক সচেতন নারীর উচিত সেই প্রতিযোগিতাকে বর্জন করা। নারীকে প্রমাণ করা জরুরি যে তার সৌন্দর্য নির্ভর করে তার মেধা, তার জ্ঞান, তার শিক্ষায়। সৌন্দর্য কখনো গায়ের রঙ আর ‘কুমারিত্বে’ থাকে না। নারীর সৌন্দর্য পরিস্ফুটিত হোক তার মস্তিষ্কের ব্যবহারে, যৌনাঙ্গের ব্যবহারে নয়।

লেখক : কবি, সাংবাদিক।

লিংক :

বর্তমান সময়টাই যেন প্রতিযোগিতার। সারা বিশ্ব সেই দৌড়ে সামিল। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে আপনি টিকে থাকবেন, নয়তো ঝরে...

 োহিঙ্গা_মুসলিম_বোনের_তাকওয়ার_কাহিনিআমি একজন রোহিঙ্গা(মিয়ানমারের) মেয়ে।তিন বছর আগেই আল্লাহর রহমতে আমি ইফতা পাশ করি। এরপর...
07/09/2017

োহিঙ্গা_মুসলিম_বোনের_তাকওয়ার_কাহিনি

আমি একজন রোহিঙ্গা(মিয়ানমারের) মেয়ে।
তিন বছর আগেই আল্লাহর রহমতে আমি ইফতা পাশ করি। এরপর খুব ছোট্ট একটা সংসার গড়ি। বছর যেতে না যেতেই আমাদের ঘর আলোকিত করে কোল জুড়ে আসলো এক কন্যা সন্তান।
:
হঠাৎ একদিন সেনাবাহিনীর কিছু লোক আমাদের গৃহে প্রবেশ করে। ওদেরকে দেখে আমি বোরখা পড়ে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। ওরা এসেই আমার হাত ধরে টানাটানি করতে লাগলো, যার ফলে হাত ফুসকে আমার মেয়ে নিচে পড়ে যায়। ওরা যখন আমাকে ভোগ করার জন্য বোরখায় হাত দিল, তখন সাথে সাথে আমার মাথা ঘুরে গেলো। আল্লাহকে বললাম, "ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার সামনে যিনাকারি হয়ে উঠতে চাই না, তুমি আমাকে ঈমানী শক্তি দান করো।" সাথে সাথে মনে হলো, আমি যেন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে দেরি করেছি; কিন্তু তিনি আমাকে সাহায্য করতে দেরি করেননি। সামনেই তাকিয়ে দেখি ছোট্ট একটা বটি-দা। অনেক দিন যাবৎ আমরা ব্যবহার করি না, কোন ধার নাই। সেটা হাতে তুলে নিয়ে ৬/৭ জন সেনাকে কুপিয়ে হত্যা করলাম।
:
তারপর আরো কিছু সেনা ঘরে প্রবেশ করে। এবার চারজন সেনা আমাকে ধরে রেখেছে আর দু'জন সেনা আমার ছোট্ট শিশুটির লজ্জাস্থানে অস্ত্র ঢুকিয়ে দেয়। মেয়েটি চোখের সামনে ছটফট করে মারা যায়। ইতিমধ্যে আমার স্বামী ঘরে আসলে, কিছু সেনা তাঁকে মারতে থাকে। আর আমাকে বললো, "তোর সাথে আমরা সবাই এখন খেলা করবো আর তোর স্বামী তা দেখবে; তারপর তোদেরকে হত্যা করবো।"
:
আমার স্বামী সন্তান কারোর জন্য মায়া হলো না। তখন আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম। ওদের কারো কাছে একটুও মাথা নত করিনি। হঠাৎ চোখ পড়লো এক-বস্তা ছাইয়ের উপর। জানিনা সেটা ওখানে কী করে এলো! এবার দৌড়ে গিয়ে ছাইয়ের বস্তার মুখ খুলে ওদের চোখের সামনে ছাই উড়াতে লাগলাম। আলহামদুলিল্লাহ্! আল্লাহ আমাকে তার রহমত দ্বারা ঘিরে নিলেন। প্রতিটি সেনা চোখ বন্ধ করে আমাকে গালাগালি করছিল। আমি কোন মতে একটু আড়ালে চলে গেলাম। ওরা এবার চোখ কচলাতে কচলাতে আমার স্বামীর কাছে গিয়ে তাকে জবাই করলো আর বললো, "যার বউয়ের এতো শক্তি, তার কলিজাটা দেখবো।"
ওরা সত্যি সত্যি আমার স্বামীর কলিজাটা ছিড়ে, মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ চাবাতে থাকে। আমি আর সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
:
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো। ঠিক কতক্ষণ পর জ্ঞান ফিরেছিলো তা জানিনা। উঠে গিয়ে ওযু করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে নামাজ পড়লাম। ছোট্ট একটা কাপড় দিয়ে স্বামী আর সন্তানের লাশ ঢেকে রেখে অজানার উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলাম। একটানা ৭ দিন পানি খেয়ে থাকার পর যখন আর ক্ষুধার জ্বালা সইতে পারলাম না; তখন সবুজ পাতা বা ঘাস খেতে শুরু করি।
:
একদিন ঝোপের ভিতর লুকিয়ে যোহরের নামাজ পড়ছিলাম। যখন নামাজ পড়া শেষ হলো, দেখি সেনারা আমাকে গুলি করেছে। বাহু দিয়ে অঝোরে করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। কেন জানি আমার কোন ব্যথা লাগছিলো না। মনে পড়ে গেলো সাহাবা আজমাইনদের কথা! তারা যখন নামাজ পড়তো, কাফেররা তখন পিছন দিক দিয়ে আক্রমণ করতো। এমন সাহাবাও আছে, যাদেরকে কাফেররা নামাজের মধ্যেই তীর মেরে মেরে শহীদ করেছে। তাহলে আমরা কেন এই শহীদি মরণকে বরণ করতে পারবো না! এ'সব ভাবতে ছিলাম, ততক্ষণে সেনারা অনেক কাছে চলে এলো। আল্লাহকে স্মরণ করতে করতে দৌড় দিলাম। অবশেষে পানিতে ঝাপ দিয়ে পড়লাম। এরপর কী হল জানি না…
:
হঠাৎ দেখি অপরিচিত কিছু লোক আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। শরীরের সমস্ত জায়গায় বোরখাটা ঠিকমতো আছে; কিন্তু শুধু পায়ের একটা মোজা কোথায় জানি হারিয়ে গেছে। আমি লজ্জিত হলাম! এতগুলো পুরুষ আমার পায়ের পাতা দেখছে। না জানি আল্লাহ আমাকে কি কঠিন শাস্তি দেন! তাওবা করলাম আর দৌড়ে গিয়ে ওযু করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম। পরে জানতে পারলাম যে, আমি পানিতে ভাসতে ছিলাম, তখন লাশ মনে করে এক জেলে আমাকে কিনারে উঠিয়েছে। আমি তাদের কাছে কিছু খাবার চাইলাম; কিন্তু তখন কেউ আমাকে একটু খাবারও দিলো না। বরং এক এক করে সবাই চলে গেলো।
:
আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে একজন হুজুরকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কি কোন আশ্রয় কেন্দ্র আছে। উনি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে। আমাকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে দিয়ে
আসলেন। কী আজব ব্যপার! এখানে তো অনেক কষ্টে পেট ভরে পানি খাব, তাও পারি না! আর খাবার এতটুকু যে, পেটের নিচে পড়ে থাকে। তবুও আমরা খুশি আলহামদুলিল্লাহ্!
:
কিছুদিন পর পুলিশের গাড়িতে একজন ভদ্র মহিলা আসলেন। যিনি আমাদের মেয়েদের তল্লাশি করলেন। এরপর আমাদের কিছু মেয়েদের আলাদা করলেন। বলতে পারেন, যারা দেখতে অনেক সুন্দরী, তাদেরকে আলাদা করলেন। এদিকে কিছু যুবক ছেলে আমাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে এসেছিল; কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানরা তাদের থেকে ত্রাণ নিয়ে, তাদেরকে ফিরিয়ে দিলো। চেয়ারম্যানরা আমাদের অল্প কিছু দিয়ে, উনারা সব নিয়ে চলে গেলো। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু বেশি চাওয়ার কারনে পিটুনি খেলো। এমনকি কিছু কিছু খারাপ ছেলেরা মেয়েদের বুকে, লজ্জা স্থানে হাত চালিয়ে দিলে। ফলে আমরা সবাই চুপসে গেলাম।
:
কেউ কেউ বলছিল যে, তাদের টাকা আর গয়নাও নাকি বাংলাদেশীয় শকুনগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি স্তব্ধ হয়ে মন্ত্র মুগ্ধের মতো সব শুনছিলাম। এরপর হঠাৎ একদল বয়স্ক মেয়ে এসে আমাদের আলাদা করা সুন্দরী মেয়েদেরকে নিয়ে চলে আসলো একটা হোটেলে। এই দলে আমি নিজেও ছিলাম। তারপর কি অবাক করা কাহিনিই ঘটলো! বিনা ভিসা, বিনা পাসপোর্টে আমাদেরকে গাড়িতে তুলে দিলো এবং কোথায় যেন নিয়ে গিয়ে নামালো, তা আমি জানি না। আমাদের প্রত্যেককে ঘুমের ইন্জেকশন দিয়ে ছিলো, যার ফলে আমরা অচেতন ছিলাম।
:
জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর থমকে গেলাম! অন্য কোথাও নয়, একটা পতিতালয়ে আমাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার কাছে তখন মনে হচ্ছিলো যে, আল্লাহ আমাদের উপর কঠিন পরীক্ষা চালাচ্ছেন। এ'জন্যেই বুঝি বাংলাদেশী মুনাফিক্বরা আমাদের এই অবস্থা করেছে! আল্লাহর কাছে তাওবা করলাম। নিজের হেফাজতের পুরো দায়িত্ব আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম। যিনি এত কিছুর পরও আমাকে পবিত্র রেখেছেন, তিন নিশ্চয়ই আমাকে হতাশ করবেন না।
:
মালয়েশিয়ার এক নাগরিক আমার সাথে রাত্রি যাপন করার জন্যে পতিতালয়ে এলেন। তিনি আমার নাম আর কোথায় বাড়ি সেটা জানতে চাইলে, আমি তাকে সব কিছুই বলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করে দেখি, উনি শীতে তীব্র আকারে কাঁপছেন। প্রশ্ন করলাম, এই প্রচন্ড গরমে, শীতের মতো কাঁপছেন কেন?
উনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার পিছু হেঁটে আসুন। আল্লাহর ক্বসম, আপনার কোন ক্ষতি করবো না।
:
আমি তার পিছু হেঁটে চললাম অনেক দূর পর্যন্ত। উনি এবার রাস্তার মধ্যেই আমার পায়ে ধরে বললেন, "আমি ভাল হতে চাই, আমাকে একটা সুযোগ দাও। আমি আর আল্লাহর নাফরমানি করবো না। তোমার সমস্ত দায়িত্ব আমার। তুমি রাজি হলে, আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারি।"
আমি রাজি হলাম, তিনি আমাকে নগদ দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করলেন। রোজ সে আমার কাছে আরবি আর হাদীসের কিতাব পড়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন। কিন্তু আমার মতো তো অন্যান্য মেয়ে পতিতালয় থেকে ফিরতে পারলো না। ওদের জন্য দুঃখ হয়!
:
পৃথিবীর বুকে যদি কোন কাপুরুষ রাষ্ট্র থাকে, তাহলে সেটা হলো বাংলাদেশ! যারা অসহায়দের সম্পদ লুটপাট করতে, আর নারীদের উপর নির্যাতন করতে দ্বীধাবোধ করে না। ছিঃ বাঙ্গালী জাতি! তোমাদের ঘৃণা হওয়া উচিত! কারণ তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেও জানো না। তোমাদের দেশে যখন যুদ্ধ হয়েছিল, তখন আমরা তোমাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। আর শুধু তাই নয়, তোমাদের উপর চুল পরিমাণ জুলুম কেউ করার সাহস পায়নি। আর কত তামাশা দেখবে! তোমরা আমাদের প্রতিবেশী হয়েও কেন চুপ! বুঝেছি, তোমাদের মা-বোন তো আমরা নয়।
:
হে বাংলার যুবক! তোমরাও প্রস্তুতি নাও। তোমাদের মা-কন্যা, বোন-স্ত্রীদেরকে কাঁধ শক্ত করতে বলো। কারন, অচিরেই তোমরা এমন নির্যাতিত হবে। পারবে কি তখন যুদ্ধে না গিয়ে? নারীদের ইজ্জত রক্ষা না করে ঘরের কোনে বসে থাকতে পারবে কি? পারবে???
:
মূল লেখিকা- #রোহিঙ্গা_বোন
অনুবাদক-
সংযোজক-
# কপি_করা

Address

Mozaffarabad, Khorna
Patiya

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আল্লামা আহমদ সালমা মহিলা মাদরাসা ৷ Allama Ahmad Salma Girls Madrasah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share