20/05/2026
🕯️ প্রতিটি সনাতনীর জানা উচিত — ১৯৭১ সালের ২০ মে: ইতিহাসের বৃহত্তম ‘সনাতনী নিধনযজ্ঞ’ — চুকনগর গণহত্যা 🕯️
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি দেশের স্বাধীনতার লড়াই ছিল না, এটি ছিল অসংখ্য নিরীহ মানুষের রক্ত, কান্না আর আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের নাম — চুকনগর গণহত্যা।
বাস্তুভিটা, সম্পত্তি আর আপনজন হারিয়ে শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ের কারণে ১৯৭১ সালে আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার সবচেয়ে ভয়াবহ দলিল এই চুকনগর গণহত্যা।
📅 ২০ মে ১৯৭১ — আজকের দিনের মতোই এক অভিশপ্ত বৃহস্পতিবার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় হত্যা করা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ মানুষকে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী।
🔥 কেন চুকনগরে জমেছিল লাখো সনাতনীর ঢল?
এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুর, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া-সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সনাতনীদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
প্রাণ বাঁচাতে, মা-বোনের সম্মান রক্ষা করতে হাজার হাজার হিন্দু পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
খুলনার ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজার তখন হয়ে ওঠে সীমান্তমুখী মানুষের প্রধান আশ্রয়স্থল।
১৮ ও ১৯ মে — পাতখোলা বিল, কাঁচাবাজার, কাপুড়িয়া পট্টি ও কালীমন্দির প্রাঙ্গণে নেমে আসে মানুষের ঢল। সবাই ভেবেছিলেন, এক রাত বিশ্রাম নিয়ে পরদিন নিরাপদে সীমান্তের পথে যাত্রা করবেন…
কিন্তু অপেক্ষা করছিল ইতিহাসের এক ভয়ংকরতম ট্র্যাজেডি।
⚠️ মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতা
তৎকালীন আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন ও ভদ্রা নদীর খেয়াঘাটের ইজারাদার শামসুদ্দিন খাঁ পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে খবর দেয়—
“চুকনগরে হাজার হাজার হিন্দু জড়ো হয়েছে।”
এই তথ্য পাওয়ার পর ২০ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাক ও জিপভর্তি পাকিস্তানি সৈন্য চুকনগরে এসে পৌঁছায়।
🩸 সাড়ে তিন ঘণ্টার সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
🕚 সকাল ১১:৩০ থেকে 🕒 বিকেল ৩টা —
মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে অবিরাম মেশিনগানের ব্রাশফায়ার।
পাতখোলা বিল, রায়পাড়া, দাসপাড়া, তাঁতিপাড়া ও ভদ্রা নদীর তীরে থাকা হাজার হাজার নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হানাদার বাহিনী।
মানুষ বাঁচার জন্য নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল, কিন্তু পানিতেও চালানো হয় গুলি।
সেদিন ভদ্রা নদীর পানি রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে দুর্গন্ধ এড়াতে বাঁশ দিয়ে ঠেলে হাজার হাজার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
💔 লাশের স্তূপে বেঁচে থাকা ‘সুন্দরী’
পরদিন চুকনগর কলেজের সামনে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য—
এক সনাতনী মায়ের নিথর দেহের পাশে পড়ে থাকা ৬ মাস বয়সী শিশুকন্যা তার মায়ের স্তন থেকে দুধ পান করার চেষ্টা করছে।
মায়ের কপালে তখনও সিঁদুর, হাতে শাঁখা…
এরশাদ আলী মোড়ল নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
তার নাম রাখা হয় — “সুন্দরী”।
মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি শিশুটিকে একটি হিন্দু পরিবারের হাতে তুলে দেন, যাতে সে নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যেই বড় হতে পারে।
🕯️ কেন এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া উচিত নয়?
চুকনগরে শহীদ হওয়া অধিকাংশ মানুষ ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা উদ্বাস্তু সনাতনী পরিবার।
স্বাধীনতার পর তাঁদের স্বজনেরা ভেবেছিলেন — হয়তো তাঁরা ভারতে পৌঁছে গেছেন।
কিন্তু আর কোনোদিন খোঁজ মেলেনি তাঁদের…
এই হাজার হাজার নাম না জানা শহীদের রক্ত মিশে আছে বাংলাদেশের মাটিতে।
আজ, ২০ মে —
চুকনগর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আসুন আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল জানা-অজানা শহীদদের। 🙏🕯️
ওঁ শান্তি। 🕉️
📚 তথ্যসূত্রঃ
• thedailystar.net�
• bn.wikipedia.org�
Follow: সনাতন ধর্মাবলম্বী
#সনাতন_ধর্মাবলম্বী