বেদমাতা

বেদমাতা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বেদমাতা, Religious organisation, Patenga.

🌺🌺🌺 #সূর্য্য২১নাম🌺🌺🌺⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔​বশিষ্ঠ উবাচ ​সুবর্ণরেতসস্ততঃ শংসঃ কৃষ্ণো ধামনি সংস্থিতঃ।রাজন নামসহস্র...
22/05/2026

🌺🌺🌺 #সূর্য্য২১নাম🌺🌺🌺
⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔
​বশিষ্ঠ উবাচ
​সুবর্ণরেতসস্ততঃ শংসঃ কৃষ্ণো ধামনি সংস্থিতঃ।
রাজন নামসহস্রেণ সহস্রাংশুঃ দিবাকরম্॥

স্তূয়মানন্ত তং দৃষ্ট্বা সূর্যাঃ কৃষ্ণাব্রজঃ তদা।
স্তুতশ্চ তু দর্শনং দত্বা পুনর্ধচনমব্রবীৎ॥

​ অনুবাদ:-হে রাজন! এরপর শ্রীকৃষ্ণের তেজঃপুঞ্জ থেকে উৎপন্ন ও স্বীয় ধামে (সূর্যমণ্ডলে) স্থিত, সহস্র রশ্মির অধিকারী দিবাকর শ্রীসূর্যদেবকে যখন কৃষ্ণপুত্র শাম্ব সহস্র নামে স্তব করছিলেন, তখন তাঁর সেই ভক্তিপূর্ণ স্তব দেখে সূর্যদেব সন্তুষ্ট হলেন। স্তবে প্রসন্ন হয়ে ভগবান সূর্যদেব শাম্বকে দর্শন দিলেন এবং এই অমৃতময় বাণী বললেন।

​শ্রীসূর্য্য উবাচ🌺
​শীঘ্র শীঘ্র মহাবাহো শৃণু গুহ্যতমীস্তুত।
অনলঃ নাম সহস্রেণ পঠৎসন্নং স্তবং শুভম্॥
যানি নামানি গুহ্যানি পবিত্রাণি শুভানি চ।
তানি তে কীর্ত্তয়িষ্যামি তেষা বস্মাবধারয়॥

​ অনুবাদ:-হে মহাবাহো (মহাবলশালী শাম্ব)! তুমি অতি শীঘ্র আমার এই অত্যন্ত গোপনীয় ও কল্যাণময় স্তোত্র শ্রবণ করো। আমার সহস্র নামের মধ্যে যে নামগুলো পরম পবিত্র, অতিশয় গোপনীয় এবং পরম মঙ্গলদায়ক, আমি তোমার কাছে সেই প্রধান নামগুলো কীর্তন করছি; তুমি তা একাগ্রচিত্তে মনে ধারণ করো।

​ওঁ নমঃ শ্রীসূর্য্যমণ্ডলস্তোত্রস্য বশিষ্ঠঋষিরনুষ্টুপছন্দঃ শ্রীসূর্য্যো দেবতা। সর্ব্বরূপৈশ্বর্য্যপূর্বক সর্ব্বরোগোপশমনার্থে বিনিয়োগঃ॥

​ অনুবাদ:-ওঁ, এই শ্রীসূর্যমণ্ডল স্তোত্রের ঋষি হলেন বশিষ্ঠ, ছন্দ হলো অনুষ্টুপ এবং দেবতা হলেন স্বয়ং শ্রীসূর্য। সর্বপ্রকার ঐশ্বর্য লাভ এবং সর্বপ্রকার রোগ-ব্যাধি উপশমের উদ্দেশ্যে এই স্তোত্র জপে বিনিয়োগ করা হলো (অর্থাৎ এই উদ্দেশ্যে এটি পাঠ করা হয়)।

​ওঁ ব্রহ্মণঃ চিন্ত্যদ্বাদ ভানুঃ বিভূজঃ রক্তবাসসঃ।
পদ্মহস্তৌ পুষ্পসঙ্কাশঃ পদ্মাদিভিরলঙ্কৃতম্॥

​ অনুবাদ:-যিনি ব্রহ্মস্বরূপ, চিন্তাতীত (যাঁর মহিমা মন ও বুদ্ধির অগোচর), যিনি দীপ্তিময় ভানু, দ্বিভুজ (দুটি হাতবিশিষ্ট), রক্তবস্ত্র পরিহিত, যাঁর হস্তদ্বয়ে পদ্ম শোভা পাচ্ছে, যিনি প্রস্ফুটিত পুষ্পের ন্যায় কান্তিময় এবং পদ্ম আদি দিব্য অলংকারে ভূষিত—সেই সূর্যদেবকে নমস্কার।

​ওঁ বিকর্ত্তনো বিবস্বাংশ্চ মার্ত্তণ্ডো ভাস্করো রবিঃ।
লোক প্রকাশকঃ শ্রীমান্লোকচক্ষুগ্রহেশ্বরঃ॥

​ অনুবাদ:-১. বিকর্তন (যিনি মহাতেজে অন্ধকার ছেদন করেন),
২.বিবস্বান (তেজস্বী),
৩.মার্তণ্ড (ব্রহ্মাণ্ডের প্রাণশক্তি),
৪.ভাস্কর (আলোকের সৃষ্টিকর্তা),
৫.রবি (সবার পূজনীয়),
৬.লোকপ্রকাশক (জগৎকে যিনি আলোকিত করেন),
৭.শ্রীমান (শোভা ও ঐশ্বর্যশালী),
৮.লোকচক্ষু (জগতের একমাত্র দর্শনেন্দ্রিয় বা চোখ) এবং
৯.গ্রহেশ্বর (যিনি সমস্ত গ্রহের অধিপতি বা রাজা)।
​লোকসাক্ষী ত্রিলোকেশঃ কর্ত্তাহর্ত্তাতমিঅহা।
তপনস্তাপনশ্চৈব শুচিঃসপ্তাশ্ববাহনঃ॥

​ অনুবাদ:-১০. লোকসাক্ষী (যিনি জগতের ভালো-মন্দ সব কর্মের সাক্ষী),
১১.ত্রিলোকেশ (স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের ঈশ্বর),
১২.কর্তা (সৃষ্টির চালক),
১৩.হর্তা (সংহারক),
১৪.তমিঅহা/তমোহা (অন্ধকার বিনাশকারী),
১৫.তপন (যিনি নিজে উত্তপ্ত),
১৬.তাপন (যিনি জগৎকে উত্তাপ দেন),
১৭.শুচি (পরম পবিত্র) এবং
১৮.সপ্তাশ্ববাহন (সাতটি ঘোড়া বিশিষ্ট রথে যিনি আরোহণ করেন)।
​গভস্তিহস্তো ব্রহ্মা চ সর্ব্বদেবনমস্কৃতঃ।

​ অনুবাদ:-১৯. গভস্তিহস্ত (কিরণসমূহ যাঁর হাত স্বরূপ),
২০.ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা স্বরূপ) এবং
২১.সর্বদেবনমস্কৃত (যিনি সমস্ত দেবগণের দ্বারা পূজিত ও নমস্কৃত)।

​একবিংশতিরিত্যেষ স্তব ইষ্টঃ সদা মম॥
শ্রীআরোগ্য করশ্চৈব ধনধান্যার্থি ভাস্করঃ।
স্তব রাজ ইতি খ্যাতস্ত্রিলোকষু বিশ্রুতঃ॥

​ অনুবাদ:-সূর্যদেব বললেন—এই যে একুশটি (২১) নামের পবিত্র স্তোত্র, এটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই স্তোত্রটি মানুষের রোগ মুক্তি বা আরোগ্য প্রদান করে এবং ধন ও ধান্য দান করে। এই কারণে এই স্তোত্রটি তিন লোকে 'স্তবরাজ' (স্তবসমূহের রাজা) নামে সুপরিচিত ও বিখ্যাত।

​য এতেন মহাবাহো দ্বে সন্ধ্যেঽস্তুয়মানোয়া য॥
ভৌগ্যৈঃ প্রমুচ্যতেঽতুষ্ণা সর্ব্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে।
কায়িকঃ বাচিকঞ্চৈব মানসৈশ্চৈবদুষ্কৃতম্॥

​ অনুবাদ:-হে মহাবাহো! যে ব্যক্তি প্রতিদিন দুই সন্ধ্যায় (সকাল ও সন্ধ্যায়) একাগ্র চিত্তে এই স্তোত্রের দ্বারা আমার স্তব করবে, সে এই সংসারের সমস্ত বন্ধন ও অতৃপ্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হবে। তার দ্বারা কৃত কায়িক (শরীরের দ্বারা), বাচিক (বাক্যের দ্বারা) এবং মানসিক (মনের দ্বারা)—এই ত্রিবিধ পাপ বা দুষ্কর্মের ফল ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে।
​একজপ্যেন তেসর্ব্বং প্রণশ্যন্তি মমাগ্রতঃ।
এষ জপ্যশ্চ হোমশ্চ সন্ধ্যোপাসন মেবচ॥

​ অনুবাদ:-আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে মাত্র একবার এই স্তোত্র জপ করলেই মানুষের সব পাপ তৎক্ষণাৎ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই একটি স্তোত্র পাঠ করলেই জপ, হোম (যজ্ঞ) এবং দৈনিক সন্ধ্যোপাসনার সমান পূর্ণ ফল লাভ হয়।

​বলিনৈবেদ্যধর্ম্মশ্চ ধূপাগ্রঞ্চ তথৈবচ।
অন্নপ্রদানে স্নানেচ স্বনিপাতে তদঞ্চিতে॥

​ অনুবাদ:-পূজা, বলি, নৈবেদ্য অর্পণ, ধূপ-দীপ প্রদর্শন, অন্নদান, স্নান কিংবা যেকোনো শুভ বা বিপদের সময়ে যদি এই স্তব পাঠ করা হয়, তবে তা পরম কল্যাণ বয়ে আনে।

​শুচিতোঽস্তুয়ঃ মহামংশঃ সর্ব্ব ব্যাধি হরঃ শুভঃ।
এবমুক্ত্বা তু ভগবান্ ভাস্করো জগদীশ্বরঃ॥

​ অনুবাদ:-পবিত্র ও শুদ্ধ হয়ে যে ব্যক্তি সূর্যদেবের এই মহান স্তোত্র পাঠ করে, তার শরীরের সমস্ত কঠিন ব্যাধি বা রোগ দূর হয় এবং জীবন শুভ ও সুন্দর হয়। জগৎ-নিয়ন্তা ভগবান ভাস্কর (সূর্যদেব) শাম্বকে এই পরম তত্ত্ব উপদেশ করার পর—

​আমন্ত্র্য কৃষ্ণতনয়ঃ তত্রৈবান্তরধীয়ত।
শাম্বোপি সুব্রতাঁন্ সুস্থাঁশ্চাত্মাভিমুখবান্।
শ্রুতাঁ বৈরুক্ষঃ শ্রীমান্ তস্মাদ্রোগাদ্বিমুক্তবান্॥

​ অনুবাদ:-কৃষ্ণপুত্র শাম্বকে বিদায় জানিয়ে সূর্যদেব সেখানেই অন্তর্হিত হলেন (অদৃশ্য হয়ে গেলেন)। ভগবান সূর্যদেবের কৃপায় এবং এই পরম পবিত্র স্তোত্র শ্রবণের প্রভাবে রূপবান ও শ্রীমান শাম্ব তাঁর শরীরের সমস্ত কুৎসিত চর্মরোগ (কুষ্ঠ ব্যাধি) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে পুনরায় সুস্থ ও দিব্য শরীরের অধিকারী হলেন।
​ইতি শাম্বপুরাণে রোগাপনয়নে শ্রীসূর্য্যবক্ত বিনির্গতঃ শ্রীসূর্য্য স্তোত্রঃ সমাপ্তঃ॥

​ অনুবাদ:-এইভাবে শাম্বপুরাণের অন্তর্গত, রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে স্বয়ং শ্রীসূর্যদেবের মুখপদ্ম থেকে নির্গত এই পরম পবিত্র 'শ্রীসূর্য স্তোত্র' এখানে সমাপ্ত হলো।
#শাম্বপুরাণ২৬অধ্যায়
22/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

🕉️🕉️🕉 #পুরুষসূক্তম্🕉️🕉️🕉️⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔১.প্রথম মন্ত্র (১.১)​সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।স ভূম...
21/05/2026

🕉️🕉️🕉 #পুরুষসূক্তম্🕉️🕉️🕉️
⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔
১.প্রথম মন্ত্র (১.১)
​সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।
স ভূমিং বিশ্বতো বৃত্ত্বাত্যাতিষ্ঠদ্দশাঙ্গুলম্।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: সহস্র-শীর্ষা (সহস্র মস্তকবিশিষ্ট) পুরুষঃ (পরম পুরুষ) সহস্র-অক্ষঃ (সহস্র চক্ষুবিশিষ্ট) সহস্র-পাৎ (সহস্র চরণবিশিষ্ট)। সঃ (তিনি) ভূমিং (সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড বা পৃথিবীকে) বিশ্বতঃ (সর্বদিক থেকে) বৃত্ত্বা (বেষ্টন করে) দশ-অঙ্গুলম্ (দশ অঙ্গুলি পরিমিত স্থান) অত্যতিষ্ঠৎ (অতিক্রম করে বা ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন)।

​অনুবাদ: সেই পরম পুরুষ সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু ও সহস্র চরণবিশিষ্ট (অর্থাৎ তিনি সর্বব্যাপী ও অনন্ত)। তিনি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডকে সব দিক থেকে পরিব্যাপ্ত বা বেষ্টন করে আরও দশ অঙ্গুলি পরিমিত স্থান অতিরিক্ত বা ঊর্ধ্বে অবস্থান করছেন (অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের বাইরেও তাঁর সত্তা বিরাজমান)।

​২.দ্বিতীয় মন্ত্র (১.২)
​পুরুষ এবেদং সর্বং যদ্ভূতং যচ্চ ভব্যম্।
উতামৃতত্বস্যেশানো যদন্নেনাতিরোহতি।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: ইদং (এই দৃশ্যমান) সর্বং (সবকিছু) যৎ ভূতং (যা অতীতে উৎপন্ন হয়েছে) যৎ চ ভব্যম্ (এবং যা ভবিষ্যতে উৎপন্ন হবে), পুরুষঃ এব (তা সমস্তই পুরুষস্বরূপ)। উত (অধিকন্তু) [যঃ= যিনি] অমৃতত্বস্য (অমরত্বের বা মোক্ষের) ঈশানঃ (প্রভু বা নিয়ন্তা) যৎ (এবং যেহেতু তিনি) অন্নেন (ভোগ্য অন্নের দ্বারা বা জগতের দ্বারা) আতিরোহতি (অতীত হয়ে বা দৃশ্যমানরূপে বৃদ্ধি পান)।

​অনুবাদ: যা কিছু অতীতে সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যা কিছু সৃষ্টি হবে—এই সমস্ত দৃশ্যমান জগৎ পরম পুরুষেরই রূপ। শুধু তাই নয়, তিনি অমরত্ব বা মুক্তির একমাত্র অধিপতি; এবং অন্ন বা ভোগের মাধ্যমে যে জগৎ বৃদ্ধি পায়, তিনি তারও ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।

​৩.তৃতীয় মন্ত্র (১.৩)
​এতাবানস্য মহিমাতো জ্যায়াংশ্চ পুরুষঃ।
পাদোঽস্য বিশ্বা ভূতানি ত্রিপাদস্যামৃতং দিবি।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: এতাবান্ (এই দৃশ্যমান জগৎ) অস্য (এই পুরুষের) মহিমা (বিভূতি বা মহিমা)। পুরুষঃ চ (কিন্তু পরম পুরুষ নিজে) অতঃ (এই মহিমা অপেক্ষা) জ্যায়ান্ (অধিকতর মহান বা শ্রেষ্ঠ)। অস্য (তাঁর) পাদঃ (এক চতুর্থাংশ মাত্র) বিশ্বা ভূতানি (সমগ্র স্থাবর-জঙ্গম প্রাণী বা জগৎ), অস্য (তাঁর) ত্রি-পাৎ (অবশিষ্ট তিন চতুর্থাংশ) দিবি (স্বপ্রকাশ দিব্যধামে) অমৃতং (অবিনশ্বররূপে বিরাজমান)।

​অনুবাদ: এই পরিদৃশ্যমান সমগ্র জগৎ সেই পুরুষের মহিমামাত্র। কিন্তু পরম পুরুষ স্বয়ং এই জগৎ অপেক্ষা বহুগুণ শ্রেষ্ঠ ও মহান। এই মহাবিশ্বের সমস্ত ভূত বা প্রাণী তাঁর মাত্র এক চতুর্থাংশ (এক ভাগ), আর তাঁর বাকি তিন চতুর্থাংশ (তিন ভাগ) অবিনশ্বর ও অমৃতরূপে দিব্যধামে (ঊর্ধ্বলোকে) অবস্থান করছে।

​৪.চতুর্থ মন্ত্র (১.৪)
​ত্রিপাদূর্ধ্ব উদৈত্পুরুষঃ পাদোঽস্যেহাভবত্পুনঃ।
ততো বিষ্বঙ্ ব্যক্রামত্সাশনানশনে অভি।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: ত্রি-পাৎ পুরুষঃ (তিন চতুর্থাংশ বিশিষ্ট পরম পুরুষ) ঊর্ধ্বঃ (ঊর্ধ্বলোকে) উদৈত্ (উত্থিত বা নির্লিপ্ত হয়ে রইলেন)। অস্য (তাঁর) পাদঃ (এক ভাগ) পুনঃ (পুনরায় সৃষ্টির জন্য) ইহ (এই ব্রহ্মাণ্ডে) অভবৎ (প্রকট বা ব্যক্ত হলো)। ততঃ (তারপর) সঃ (তিনি) স-অশন-অনশনে (চেতন বা ভোজনশীল এবং অচেতন বা অভোজনশীল জগৎ) অভি (লক্ষ্য করে) বিষ্বঙ্ (সর্বদিকে) ব্যক্রামত্ (ব্যাপ্ত হলেন)।

​অনুবাদ: তিন চতুর্থাংশ বিশিষ্ট মহান পুরুষ ঊর্ধ্বলোকে পরম শান্ত ও নির্লিপ্ত অবস্থায় অবস্থান করছেন। তাঁর বাকি এক চতুর্থাংশ অংশ এই বিনাশশীল জগতে পুনরায় সৃষ্টির জন্য ব্যক্ত হলো। এরপর তিনি চেতন (প্রাণী) ও অচেতন (জড় পদার্থ)—এই উভয়বিধ জগতের সর্বত্র ব্যাপ্ত হলেন।

​৫.পঞ্চম মন্ত্র (১.৫)
​তস্মাদ্বিরাড়জায়ত বিরাজো অধি পুরুষঃ।
স জাতো অত্যরিচ্যত পশ্চাদ্ভূমিমথো পুরঃ।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: তস্মাৎ (সেই আদি পুরুষ থেকে) বিরাট্ (ব্রহ্মাণ্ড রূপ বিরাট দেহ) অজায়ত (উৎপন্ন হলো)। বিরাজঃ অধি (সেই বিরাটের উপর বা অভ্যন্তরে) পুরুষঃ (জী্বরূপী আদিপুরুষ বা ব্রহ্মা উৎপন্ন হলেন)। সঃ (তিনি) জাতঃ (জাত হয়ে) পশ্চাৎ (প্রথমে) ভূমিং (ভূমি বা সৃষ্টিকে) অথো (এবং তারপর) পুরঃ (জীবসমূহের দেহ বা পুরীসমূহকে) অত্যরিচ্যত (অতিক্রম করে বিস্তৃত হলেন)।

​অনুবাদ: সেই আদি পরম পুরুষ থেকে সর্বব্যাপী 'বিরাট' (সমষ্টি ব্রহ্মাণ্ডদেহ) উৎপন্ন হলো। সেই বিরাটের অভ্যন্তরে আবার ব্রহ্মা বা আদি জীবপুরুষের জন্ম হলো। উৎপন্ন হয়েই তিনি নিজেকে বিস্তার করলেন এবং প্রথমে ভূমি (জগৎ) ও পরে সমস্ত জীবের দেহ সৃষ্টি করে তাদের অতিক্রম করে অবস্থান করতে লাগলেন।

​৬.ষষ্ঠ মন্ত্র (১.৬)
​যৎপুরুষেণ হবিষা দেবা যজ্ঞমতন্বত।
বসন্তো অ্যাসীদাজ্যং গ্রীষ্ম ইধ্মঃ শরদ্ধবিঃ।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: যৎ (যখন) দেবাঃ (দেবতাগণ বা প্রাণশক্তিসমূহ) পুরুষেণ হবিষা (পরম পুরুষরূপ হবি বা উপচারের দ্বারা) যজ্ঞম্ (মানস সৃষ্টিরূপ যজ্ঞ) অতন্বত (অনুষ্ঠান করেছিলেন), অস্য (সেই যজ্ঞের) বসন্তঃ (বসন্ত ঋতু) আজ্যং (ঘৃত) আসীৎ (ছিল), গ্রীষ্মঃ (গ্রীষ্ম ঋতু) ইধ্মঃ (সমিল বা যজ্ঞকাষ্ঠ) [এবং] শরৎ (শরৎ ঋতু) হবিঃ (পুরোডাশ বা অর্ঘ্য হব্য) [আসীৎ = ছিল]।

​অনুবাদ: যখন দেবতাগণ (বা সৃষ্টির আদি শক্তিসমূহ) পরম পুরুষকে হব্য বা উৎসর্গের উপাদান করে মানস যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেছিলেন, তখন সেই সৃষ্টিরূপ যজ্ঞে বসন্ত ঋতু ছিল ঘৃত (ঘি), গ্রীষ্ম ঋতু ছিল যজ্ঞের কাঠ (সমিল) এবং শরৎ ঋতু ছিল যজ্ঞের প্রধান হব্য বা নৈবেদ্য।

​৭.সপ্তম মন্ত্র (১.৭)
​তং যজ্ঞং বর্হিষি প্রৌক্ষন্পুরুষং জাতমগ্রতঃ।
তেন দেবা অযজন্ত সাধ্যা ঋষয়শ্চ যে।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: অগ্রতঃ (সৃষ্টির প্রথমে) জাতম্ (প্রকট বা উৎপন্ন) তং পুরুষং (সেই পরম পুরুষরূপ) যজ্ঞং (যজ্ঞের পশুকে) বর্হিষি (মানস যজ্ঞবেদির কুশ ঘাসের ওপর) প্রৌক্ষন্ (প্রোক্ষণ বা পবিত্র করেছিলেন)। তেন (তার দ্বারা) দেবাঃ (দেবতারা), যে চ (এবং যারা) সাধ্যাঃ (সাধ্য নামক দেবগণ) ঋষয়ঃ চ (এবং ঋষিগণ ছিলেন, তারা সবাই) অযজন্ত (যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন)।

​অনুবাদ: সৃষ্টির প্রথমে প্রকট হওয়া সেই পরম পুরুষরূপ যজ্ঞীয় পশুকে দেবতাগণ মানস যজ্ঞবেদির কুশ শয্যার ওপর স্থাপন করে প্রক্ষালন (পবিত্র) করেছিলেন। তারপর সেই আদি পুরুষকে উৎসর্গ করে দেবতা, সাধ্যগণ এবং ঋষিগণ সৃষ্টির যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন।

​৮.অষ্টম মন্ত্র (১.৮)
​তস্মাদ্যজ্ঞাত্সর্বহুতঃ সংভৃতং পৃষদাজ্যম্।
পশূংস্তাক্রেশ্চক্রে বায়ব্যানারণ্যান্গ্রাম্যাশ্চ যে।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: তস্মাৎ (সেই) সর্ব-হুতঃ (সর্বাত্মক বা সর্ব-উৎসর্গকারী) যজ্ঞাৎ (যজ্ঞ থেকে) পৃষদ্-আজ্যম্ (দধি ও ঘৃত মিশ্রিত ভোগ্য বস্তু) সংভৃতম্ (সংগৃহীত বা উৎপন্ন হয়েছিল)। সঃ (তিনি—সেই পরম পুরুষ) তান্ (সেই) বায়ব্যান্ (বায়ুমণ্ডলে বিচরণকারী বা পক্ষী), আরণ্যান্ (বন্য পশু) গ্রাম্যাঃ চ (এবং গৃহপালিত পশুদের) পশূন্ (পশুদের) চকরে (সৃষ্টি করলেন)।

​অনুবাদ: সেই সর্বাত্মক মানস যজ্ঞ (যাতে সবকিছু উৎসর্গ করা হয়েছিল) থেকে দধি ও ঘৃত মিশ্রিত সারবস্তু উৎপন্ন হলো। এবং তিনি (আদি পুরুষ) আকাশচারী পক্ষীকুল, বন্য পশুকুল এবং গ্রাম্য বা গৃহপালিত পশুদের সৃষ্টি করলেন।

​৯.নবম মন্ত্র (১.৯)
​তস্মাদ্যজ্ঞাত্সর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে।
ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তস্মাদজায়ত।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: তস্মাৎ (সেই) সর্ব-হুতঃ (সর্বাত্মক) যজ্ঞাৎ (যজ্ঞ থেকে) ঋচঃ (ঋগ্বেদের মন্ত্রসমূহ) সামানি (সামবেদের গানসমূহ) জজ্ঞিরে (উৎপন্ন হয়েছিল)। তস্মাৎ (তা থেকে) ছন্দাংসি (গায়ত্র্যাদি বৈদিক ছন্দসমূহ) জজ্ঞিরে (উৎপন্ন হয়েছিল), তস্মাৎ (তা থেকে) যজুঃ (যজুর্বেদের মন্ত্রসমূহ) অজায়ত (উৎপন্ন হয়েছিল)।

​অনুবাদ: সেই সর্বাত্মক আদি যজ্ঞ থেকেই ঋগ্বেদের মন্ত্রসমূহ এবং সামবেদের গানসমূহ উৎপন্ন হয়েছিল। তা থেকেই গায়ত্রী প্রভৃতি বৈদিক ছন্দসমূহ জন্ম নিয়েছিল এবং তা থেকেই যজুর্বেদ উৎপন্ন হয়েছিল। (অর্থাৎ বেদ অপৌরুষেয় ও ঈশ্বরের জ্ঞানস্বরূপ)।

​১০.দশম মন্ত্র (১.১০)
​তস্মাদশ্বা অজায়ন্ত যে কে চোভয়াদতঃ।
গাবো হ জজ্ঞিরে তস্মাত্তস্মাজ্জাতা অজাবয়ঃ।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: তস্মাৎ (তা থেকে) অশ্বা: (ঘোড়াসমূহ) অজায়ন্ত (উৎপন্ন হয়েছিল) চ (এবং) যে কে চ (অন্যান্য যে সমস্ত প্রাণী) উভয়াদতঃ (উভয় পাটিতে দাঁতবিশিষ্ট)। তস্মাৎ (তা থেকে) গাবঃ হ (গাভীসমূহ) জজ্ঞিরে (উৎপন্ন হয়েছিল), তস্মাৎ (তা থেকে) অজা-অবয়ঃ (ছাগল ও ভেড়াসমূহ) জাতাঃ (জাত হয়েছিল)।

​অনুবাদ: সেই যজ্ঞ থেকেই ঘোড়াসমূহ এবং যাদের ওপর ও নিচ—উভয় মাড়িতেই দাঁত আছে, এমন সব প্রাণী উৎপন্ন হয়েছিল। তা থেকেই গাভীসমূহ উৎপন্ন হয়েছিল এবং তা থেকেই ছাগল ও ভেড়াসমূহ জন্মগ্রহণ করেছিল।

​১১.একাদশ মন্ত্র (১.১১)
​যৎপুরুষং ব্যদধুঃ কতিধা ব্যকল্পয়ন্।
মুখং কিমস্য কৌ বাহূ কা ঊরূ পাদা উচ্যেতে।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: যৎ (যখন) পুরুষং (পরম পুরুষকে বা বিরাটকে) ব্যদধুঃ (দেবতারা ধ্যানে বিভক্ত করেছিলেন), কতিধা (কত প্রকারে) [তং = তাঁকে] ব্যকল্পয়ন্ (কল্পনা বা বিভাগ করেছিলেন)? অস্য (তাঁর) মুখং কিম্ (মুখমণ্ডল কী ছিল)? কৌ বাহূ (বাহুদ্বয় কী রূপে কল্পিত হয়েছিল)? কা ঊরূ (ঊরুদ্বয় কী ছিল) [এবং] পাদৌ কা উচ্যেতে (চরণদ্বয়কেই বা কী বলা হয়েছিল)?

​অনুবাদ: যখন দেবতাগণ ধ্যানের মাধ্যমে বিরাট পুরুষকে সৃষ্টির জন্য বিভক্ত করেছিলেন, তখন তাঁকে কত প্রকারে কল্পনা বা বিভাগ করেছিলেন? তাঁর মুখমণ্ডল কী হয়েছিল? তাঁর বাহু দুটি কী রূপে বর্ণিত হয়েছিল? তাঁর ঊরুদ্বয় এবং চরণ দুটিকেই বা কী বলা হয়েছিল?

​১২ দ্বাদশ মন্ত্র (১.১২)
​ব্রাহ্মণোঽস্য মুখমাসীদ্বাহূ রাজন্যঃ কৃতঃ।
ঊরূ তদস্য যদ্বৈশ্যঃ পদ্ভ্যাং শূদ্রোহজায়ত।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: ব্রাহ্মণঃ (জ্ঞানচর্চাকারী ব্রাহ্মণ) অস্য (এই বিরাট পুরুষের) মুখম্ আসীৎ (মুখমণ্ডল ছিলেন)। রাজন্যঃ (ক্ষত্রিয় বা শাসককুল) বাহূ কৃতঃ (বাহু রূপে নির্মিত বা কল্পিত হয়েছিলেন)। অস্য (তাঁর) যৎ ঊরূ (যা ঊরু বা উরুদেশ ছিল), তদ্ বৈশ্যঃ (তা বৈশ্য বা সমাজপালক ব্যবসায়ী শ্রেণী হলো)। পদ্ভ্যাং (তাঁর দুই চরণ থেকে) শূদ্রঃ (শ্রমজীবী বা সেবক শ্রেণী) অজায়ত (উৎপন্ন হলো)।

​অনুবাদ: এই বিরাট পুরুষের মুখমণ্ডল থেকে ব্রাহ্মণ (জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক), বাহুদ্বয় থেকে রাজন্য বা ক্ষত্রিয় (রক্ষা ও শক্তির প্রতীক) নির্মিত হলেন। তাঁর ঊরুদেশ বৈশ্য (অর্থনীতি ও সমাজের ধারণকর্তা) হলেন এবং তাঁর দুই চরণ থেকে শূদ্র (শ্রম ও সেবার প্রতীক) উৎপন্ন হলেন। (দ্রষ্টব্য: এটি গুণ ও কর্মভেদে সমাজের চতুর্বর্ণের একটি রূপক বা আধিভৌতিক বর্ণনা)।

​১৩.ত্রয়োদশ মন্ত্র (১.১৩)
​চন্দ্রমা মনসো জাতশ্চক্ষোঃ সূর্যো অজায়ত।
মুখাদিন্দ্রশ্চাগ্নিশ্চ প্রাণাদ্বায়ুরজায়ত।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: মনসঃ (বিরাট পুরুষের মন থেকে) চন্দ্রমাঃ (চন্দ্র) জাতঃ (উৎপন্ন হলেন)। চক্ষোঃ (চক্ষু থেকে) সূর্যঃ (সূর্য) অজায়ত (উৎপন্ন হলেন)। মুখাৎ (মুখ থেকে) ইন্দ্রঃ চ অগ্নিঃ চ (ইন্দ্র এবং অগ্নি) [অজায়তাম্ = উৎপন্ন হলেন] [এবং] প্রাণাৎ (তাঁর শ্বাস বা প্রাণ থেকে) বায়ুঃ (বায়ুদেব) অজায়ত (উৎপন্ন হলেন)।

​অনুবাদ: সেই বিরাট পুরুষের মন থেকে চন্দ্রের জন্ম হলো, তাঁর চক্ষু থেকে সূর্যের জন্ম হলো। তাঁর মুখমণ্ডল থেকে দেবরাজ ইন্দ্র ও অগ্নিদেব উৎপন্ন হলেন এবং তাঁর প্রাণ বা শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে বায়ু উৎপন্ন হলো।

​১৪.চতুর্দশ মন্ত্র (১.১৪)
​নাভ্যা আসীদন্তরিক্ষং শীর্ষ্ণো দ্যৌঃ সমবর্তত।
পদ্ভ্যাং ভূমির্দিশঃ শ্রোত্রাত্তথা লোকঁ অকল্পয়ন্।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: নাভ্যাঃ (তাঁর নাভিদেশ থেকে) অন্তরিক্ষং (মহাকাশ বা অন্তরীক্ষ লোক) আসীৎ (উৎপন্ন হয়েছিল)। শীর্ষ্ণো (মস্তক থেকে) দ্যৌঃ (স্বর্গলোক বা দ্যুলোক) সমবর্তত (সম্যক উৎপন্ন হয়েছিল)। পদ্ভ্যাং (দুই চরণ থেকে) ভূমিঃ (পৃথিবী) শ্রোত্রাৎ (কর্ণ থেকে) দিশঃ (দিকসমূহ) [অজায়ন্ত = উৎপন্ন হয়েছিল]। তথা (এইভাবে দেবতারা) লোকান্ (সমস্ত ভুবন বা লোকসমূহ) অকল্পয়ন্ (রচনা বা বিন্যাস করেছিলেন)।

​অনুবাদ: তাঁর নাভিদেশ থেকে অন্তরীক্ষ লোক (মহাকাশ) উদ্ভূত হলো, মস্তক থেকে দ্যুলোক (স্বর্গ) প্রকট হলো, চরণযুগল থেকে পৃথিবী এবং কর্ণযুগল থেকে দিকসমূহ উৎপন্ন হলো। এইভাবে দেবতাগণ সমস্ত লোক বা ভুবনসমূহ রচনা ও সুবিন্যস্ত করলেন।

​১৫.পঞ্চদশ মন্ত্র (১.১৫)
​সপ্তাস্যান্ পরিধয়স্ত্রিঃ সপ্ত সমিধঃ কৃতাঃ।
দেবা যদযজ্ঞং তন্বানা অবধ্নন্ পুরুষং পশুম্।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: যৎ (যখন) দেবাঃ (দেবতারা) যজ্ঞং (সৃষ্টিরূপ যজ্ঞের) তন্বানাঃ (অনুষ্ঠান করছিলেন), [তদা = তখন] অস্য (এই যজ্ঞের) সপ্ত (সাতটি ছন্দ বা গায়ত্র্যাদি) পরিধয়ঃ (বেদির বেষ্টনী বা পরিধি) [আসন = ছিল], ত্রিঃ সপ্ত [৩ × ৭ = ২১টি তত্ত্ব] সমিধঃ (যজ্ঞের কাঠ বা উপাদান) কৃতাঃ (করা হয়েছিল)। [এবং তাঁরা] পুরুষং পশুম্ (পরম পুরুষরূপ যজ্ঞপশুকে) অবধ্নন্ (মানস যজ্ঞস্তম্ভে বন্ধন করেছিলেন)।

​অনুবাদ: দেবতারা যখন এই সৃষ্টিরূপ যজ্ঞের বিস্তার করছিলেন, তখন এই যজ্ঞের ৭টি পরিধি (ছন্দ বা সমুদ্র) এবং ২১টি সমিধ বা কাষ্ঠখণ্ড (৫ মহাভূত, ৫ তন্মাত্র, ৫ জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫ কর্মেন্দ্রিয় ও মন) প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর দেবতারা পরম পুরুষকেই যজ্ঞের পশুরূপে (উৎসর্গের মূল কেন্দ্র) ভাবনা বা বন্ধন করেছিলেন।

​১৬.ষোড়শ মন্ত্র (১.১৬)
​যজ্ঞেন যজ্ঞমযজন্ত দেবাস্তানি ধর্মাণি প্রথমান্যাসন্।
তে হ নাকং মহিমানঃ সচন্ত যত্র পূর্বে সাধ্যাঃ সন্তি দেবাঃ।।

​শব্দার্থ ও অন্বয়: দেবাঃ (দেবতারা) যজ্ঞেন (যজ্ঞের দ্বারা বা আত্মোৎসর্গের দ্বারা) যজ্ঞম্ (যজ্ঞরূপ পরম পুরুষের) অযজন্ত (পূজা বা যজন করেছিলেন)। তানি (সেই যজ্ঞীয় কর্ম বা নিয়মসমূহ) প্রথমানি (সর্বপ্রধান বা আদি) ধর্মাণি (ধর্ম বা সৃষ্টির নিয়ম) আসন্ (ছিল)। তে মহিমানঃ হ (সেই মহিমান্বিত উপাসকগণ) নাকং (দুঃখহীন স্বর্গলোক বা পরমধাম) সচন্ত (লাভ করেন), যত্র (যেখানে) পূর্বে (পূর্বকালের) সাধ্যাঃ দেবাঃ (সাধ্য নামক দেবতা ও ঋষিগণ) সন্তি (বাস করছেন)।

​অনুবাদ: দেবতারা যজ্ঞের (আত্মোৎসর্গের) দ্বারা যজ্ঞস্বরূপ পরম পুরুষের আরাধনা করেছিলেন। এই নিয়ম বা কর্মগুলোই জগতের প্রথম ও আদি ধর্ম বা বিধান হয়েছিল। সেই মহিমাময় উপাসকগণ পুণ্যবলে সেই পরমধাম বা স্বর্গলোক লাভ করেন, যেখানে আদি কালের সাধ্যগণ এবং দেবতারা অবস্থান করছেন।।

প্রথম ১৫টি শ্লোক অনুষ্টুপ ছন্দে এবং শেষ অর্থাৎ ১৬তম শ্লোকটি ত্রিষ্টুপ ছন্দে রচিত।
#ঋগ্বেদ১০মমণ্ডল৯০সূক্ত
21/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

🕉️  #মহর্ষিযাজ্ঞবল্ক্য_কৃত_সূর্যব্রহ্মস্তব🕉️⛔❌পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন❌⛔​৪৪​নমস্তে দেবদেবেশ সহস্রাংশো দিবাকর।জগৎপ্রকাশ...
20/05/2026

🕉️ #মহর্ষিযাজ্ঞবল্ক্য_কৃত_সূর্যব্রহ্মস্তব🕉️
⛔❌পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন❌⛔
​৪৪
​নমস্তে দেবদেবেশ সহস্রাংশো দিবাকর।
জগৎপ্রকাশক স্বামিন্ ত্রাহি মাং ভবসংকটাৎ॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে দেবদেব, সহস্র কিরণধারী দিবাকর! আপনি সমগ্র জগতের অন্ধকার দূর করে আলোক প্রকাশ করেন। হে বিশ্বস্বামী, এই মায়াচ্ছন্ন এবং দুঃখময় সংসার-সংকট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আপনার জ্যোতি যেমন বাহ্যিক অন্ধকার দূর করে, তেমনি আমার মনের ভেতরের অজ্ঞানতার অন্ধকারও দূর করে দিন।
​৪৫
​ত্বমেব সর্বভূতানাং সৃষ্টিস্থিত্যন্তকারণম্।
ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চ ত্বমেব ত্রিগুণাত্মকঃ॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে সূর্যদেব, আপনিই জগতের সমস্ত জীবের সৃষ্টি, স্থিতি এবং বিনাশের মূল কারণ। জগতের সৃষ্টিরূপে আপনি ব্রহ্মা (রজোগুণ), পালনরূপে আপনি বিষ্ণু (সত্ত্বগুণ) এবং সংহাররূপে আপনিই রুদ্র বা শিব (তমোগুণ)। অর্থাৎ, সনাতন ধর্মের ত্রিদেব আসলে আপনারই তিনটি ভিন্ন গুণের প্রকাশ মাত্র।
৪৬
​বেদান্তবেদ্যং পরমং পবিত্রং জ্যোতিঃস্বরূপং তমসঃ পরস্তাৎ।
ধ্যায়ন্তি যং যোগিবর্যা মুনীন্দ্রী তং সর্বসাক্ষীং প্রণতোঽস্মি সূর্যম্॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: সমস্ত বেদ এবং উপনিষদের (বেদান্ত) চরম লক্ষ্য হলেন আপনি। আপনি পরম পবিত্র, জ্যোতির্ময় এবং প্রকৃতির সমস্ত অন্ধকারের অতীত এক পরম পুরুষ। বড় বড় যোগী ও মুনিগণ হৃদয়ে যাঁর ধ্যান করেন, সেই জগতের সমস্ত কর্মের একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী ভগবান সূর্যদেবকে আমি প্রণাম জানাই।
​৪৭
​যস্যাদয়েন প্রথতে জগদ্ধি যস্যাস্তভাবেন চ লীনমেব।
তং সর্বহেতুং পরমং পুরাণং সূর্যং ভজেঽহং শরণং প্রপদ্যে॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: যাঁর উদয়ে এই চরাচর বিশ্ব জাগ্রত ও কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে এবং যাঁর অস্তগমনে সমগ্র সৃষ্টি পুনরায় রাত্রির অন্ধকারে বা মহাপ্রলয়ে লীন হয়ে যায়—সেই সমস্ত কারণের আদি কারণ, পরম ও সনাতন পুরুষ সূর্যদেবের আমি ভজনা করি এবং তাঁর চরণে শরণাগত হচ্ছি।
​৪৮
​কালস্বরূপং কলনাত্মকং ত্বাং ঋতূনাং চ কর্তারমনাদিনিধনম্।
দ্বাদশাত্মন্ নমস্তুভ্যং ত্রৈলোক্যপাবনায় চ॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে প্রভু, আপনিই মহাকাল স্বরূপ। ক্ষণ, পল, দণ্ড, দিন, মাস ও বৎসরের গণনা আপনার গতি দ্বারাই নির্ধারিত হয়। আপনিই ষড়ঋতুর আবর্তন ঘটান। আপনার কোনো আদি বা অন্ত নেই। হে দ্বাদশ আদিত্য স্বরূপ (বারো মাসের বারোটি রূপ)! তিন ভুবনকে পবিত্রকারী আপনাকে আমি নমস্কার করি।
​৪৯
​ত্বত্তো জগত জাযতে দেবদেব ত্বয্যেব তিষ্ঠত্যখিলং চ সচ্চ।
ত্বয্যেব লযং যাতি সর্বত্র রূপং নমোঽস্তু তে বিশ্ববিভাবনায॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে দেবদেব, এই দৃশ্যমান জগৎ আপনার থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। আপনার তেজে ও আলোকেই এই অখিল ব্রহ্মাণ্ড টিকে আছে এবং অন্তিমে সমস্ত রূপ আপনার মাঝেই বিলীন হয়ে যায়। হে বিশ্বের পালনকর্তা ও নিয়ন্তা, আপনাকে বারবার প্রণাম।
​৫০
​ওঙ্কাররূপী পরমাক্ষরং ত্বং স্বাহা স্বধা চ ত্বমসি প্রভূতঃ।
যজ্ঞেশ্বরং যজ্ঞফলপ্রদাতং ত্বাং বিনে নাস্তি কিঞ্চিৎ ত্রিলোকে॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: বেদের আদি ধ্বনি 'ওঁ' বা ওঙ্কার হলেন আপনি। আপনিই ক্ষয়হীন পরম অক্ষর। দেবতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত 'স্বাহা' এবং পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত 'স্বধা' মন্ত্রের শক্তিও আপনি। আপনিই যজ্ঞের ঈশ্বর এবং যজ্ঞের ফলদাতা। এই তিন ভুবনে আপনার অতিরিক্ত অন্য কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব নেই।
​৫১
​প্রাণোঽসি ত্বং সর্বশরীরভৃতাং চক্ষুস্ত্বমেবাক্ষিমতাং প্রধানঃ।
মনস্ত্বমেষাং মতিদশ্চ দেব নমোঽস্তু তে সর্বজগৎপ্রদীপ॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে দেব, সমস্ত দেহধারী জীবের দেহের ভেতর 'প্রাণবায়ু' রূপে আপনিই অবস্থান করছেন। চাক্ষুষ দর্শনশক্তির মূল উৎস আপনিই, আপনিই চোখের জ্যোতি। জীবের মন এবং বুদ্ধির প্রেরণা বা শুভ বুদ্ধি দানকারীও আপনি। হে সমগ্র জগতের একমাত্র প্রদীপ, আপনাকে প্রণাম।
​৫২
​ত্বং পাবকস্ত্বং পবনস্ত্বমাপো বক্ষস্তথা ত্বং ধরণী চ খং চ।
শব্দশ্চ স্পর্শশ্চ তথা চ রূপং রসশ্চ গন্ধশ্চ মে ত্বমেব॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে সূর্যনারায়ণ, সৃষ্টির পঞ্চভূত অর্থাৎ—অগ্নি (পাবক), বায়ু (পবন), জল (আপঃ), পৃথিবী (ধরণী) এবং আকাশ (খং)—সবই আপনার প্রকাশ। শুধু তাই নয়, এই পঞ্চভূতের পঞ্চতন্মাত্র বা গুণ—শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস এবং গন্ধও আসলে আপনারই শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
​৫৩
​ত্বাং পশ্যন্তি জগতঃ চক্ষুমেকং জ্ঞানায় চ জ্ঞানবতো মনীযিণঃ।
ত্বাং ধ্যাযন্তি পরমং ব্রহ্মরূপং তং ত্বাং নমস্যে পরমাত্মরূপম্॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: জ্ঞানী ও মনীষীগণ আপনাকে সমগ্র জগতের একমাত্র দিব্য চক্ষু বা জ্ঞানের উৎস হিসেবে দর্শন করেন। যাঁরা অধ্যাত্ম সাধক, তাঁরা আপনাকে নিরাকার 'পরম ব্রহ্ম' রূপে ধ্যান করেন। সেই পরমাত্মা স্বরূপ সূর্যদেবকে আমি ভক্তিভরে নমস্কার জানাই।
​৫৪
​রোগাপহর্তা ভববন্ধনানাং মোক্ষপ্রদাতা চ ত্বমেব হংসঃ।
শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণঃ নমোঽস্তু তে॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: আপনি মানুষের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দূর করেন (আরোগ্যং ভাস্করাদ ইচ্ছেৎ)। এই মায়ারূপী ভববন্ধন থেকে মুক্তি বা মোক্ষ দান করার ক্ষমতা একমাত্র আপনারই আছে, তাই আপনি 'হংস' বা পরমাত্মা। শরণাগত, দীন ও আর্ত মানুষদের রক্ষা করা আপনার পরম ব্রত, আপনাকে নমস্কার।
​৫৫
​অগ্নিহোত্রাদিকাঃ সর্বাঃ ক্রিয়া বেদোদিদাশ্চ যাঃ।
ত্বৎপ্রসাদাৎ সিদ্ধ্যন্তি সফলং যান্তি চ প্রভো॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে প্রভু, বেদশাস্ত্রে বর্ণিত অগ্নিহোত্র যজ্ঞ থেকে শুরু করে যত প্রকার শুভ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, তার সমস্তই আপনার কৃপায় সিদ্ধ বা সফল হয়। আপনার উদয় না হলে কোনো বৈদিক কর্মের বা আহ্নিকের কাল নির্ধারণ সম্ভব হতো না।
​৫৬
​নমো নমঃ কারণকারণায় নমো নমঃ সূক্ষ্মসুখপ্রদায।
নমো নমঃ ভক্তজনপ্রিয়ায নমো নমঃ পুণ্যযশোবৃতায়॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: সমস্ত কারণের যিনি মূল কারণ, তাঁকে বারবার নমস্কার। যিনি জীবকে সূক্ষ্ম ও পরম আনন্দ প্রদান করেন, তাঁকে নমস্কার। যিনি নিজের ভক্তদের অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং যিনি পবিত্র কীর্তি বা যশোদ্বারা পরিবেষ্টিত, সেই ভগবান সূর্যদেবকে পুনঃপুনঃ নমস্কার।
​৫৭
​ত্বদীযকিরণৈর্বিশ্বং সংপুষ্টং জাযতে সদা।
ওষধীষু রসং ধেহি নমস্তে পুষ্টিবর্ধন॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: হে পুষ্টিবর্ধন দেব! আপনার দিব্য কিরণমালার দ্বারাই সমগ্র পৃথিবী সর্বদা পরিপুষ্ট ও সতেজ থাকে। আপনার আলো ও তাপ পেয়েই পৃথিবীর সমস্ত গাছপালা এবং ওষধি লতাগুল্ম রসের সঞ্চার করে ও ফলবতী হয়। আপনিই জগতের অন্ন ও প্রাণশক্তি দাতা, আপনাকে নমস্কার।
​৫৮
​হিরণ্মযেন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্।
তত্ত্বং পূষন্নপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টযে॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: (এটি ঈশোপনিষদের বিখ্যাত মন্ত্রের ভাবানুসারী) হে জগত পালনকর্তা সূর্যদেব! পরম সত্যের মুখ এক হিরণ্ময় বা জ্যোতির্ময় পাত্র (আপনার প্রখর মন্ডল) দ্বারা ঢাকা রয়েছে। প্রকৃত সত্য এবং ধর্মের উপলব্ধির জন্য আপনি কৃপা করে আপনার সেই প্রখর আবরণটি সরিয়ে নিন, যাতে আমি সেই পরম সত্যকে দর্শন করতে পারি।
​৫৯
​সপ্তাশ্বরূপমারূঢ়ং মার্তণ্ডং ভৈরবপ্রভম্।
জগৎপ্রকৃতিং অব্যক্তং নমোঽস্তু পরমেশ্বরম্॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: যিনি সাতটি ঘোড়া বিশিষ্ট রথে আরোহণ করে আছেন, যাঁর জ্যোতি মার্তণ্ড ও ভৈরবের ন্যায় প্রদীপ্ত, যিনি এই প্রকৃতির অব্যক্ত বা অদৃশ্য চালিকাশক্তি—সেই পরমেশ্বর রূপী সূর্যদেবকে আমি প্রণাম জানাই।
​৬০
​যাজ্ঞবল্ক্যকৃতং স্তোত্রং যঃ পঠেচ্ছৃণুযাদপি।
সর্বপাপবিনির্মুক্তো লভতে পরমং গতিম্॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য রচিত এই পরম পবিত্র সূর্য ব্রহ্মস্তব যে ব্যক্তি প্রতিদিন ভক্তি সহকারে পাঠ করেন অথবা শ্রবণ করেন, তিনি ইহলোকের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন এবং দেহান্তে পরম গতি বা মোক্ষ লাভ করেন।
​৬১
​আরোগ্যং ধনং ধান্যং পুত্ৰং পৌত্ৰং তথা সুষম্।
লভতে নাত্র সন্দেহঃ সূর্যস্তোত্রস্য কীর্তনাৎ॥

​অনুবাদ ও ব্যাখ্যা: এই স্তোত্র কীর্তন বা পাঠ করলে মানুষ আরোগ্য (নীরোগ শরীর), ধন-ধান্য, পুত্র-পৌত্রাদি বংশবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সুখ-শান্তি লাভ করে—এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। ভগবান সূর্যদেব তাঁর ভক্তের সমস্ত মনোষ্কামনা পূর্ণ করেন।।

মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য যখন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই ১৮টি শ্লোকে সূর্যদেবের স্তব সম্পন্ন করেন, তখন ভগবান সূর্যদেব অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। তিনি যাজ্ঞবল্ক্যকে অমর বেদজ্ঞান (শুক্ল যজুর্বেদ) এবং অক্ষয় আরোগ্য প্রদান করেছিলেন। সনাতন ধর্মে প্রতিদিন সকালে এই স্তবটি পাঠ করা অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।।
#স্কন্দপুরাণ_কাশীখণ্ড_পূর্বার্ধ৪৮অধ্যায়
20/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

পোস্ট চুরি ঠেকাবো কেমনে?আইডি লিংক কমেন্টে-
17/05/2026

পোস্ট চুরি ঠেকাবো কেমনে?
আইডি লিংক কমেন্টে-

🕉️🕉️🕉️বেদ বা জ্ঞান-স্তুতি 🕉️🕉️🕉️⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔​১১.অনাদি-নিধনং বেদং ব্রহ্মস্বরূপং সনাতনম্।জ্ঞানং দেহি মে ...
11/05/2026

🕉️🕉️🕉️বেদ বা জ্ঞান-স্তুতি 🕉️🕉️🕉️
⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔
​১১.অনাদি-নিধনং বেদং ব্রহ্মস্বরূপং সনাতনম্।
জ্ঞানং দেহি মে দেবি বেদমূর্তে নমো নমঃ।।

অনাদি ও অনন্ত বেদ, যা ব্রহ্মস্বরূপ ও সনাতন। হে বেদমূর্তে, আমাকে জ্ঞান প্রদান করো, তোমাকে নমস্কার।

​১২.সত্যস্য চ পরং রূপং সত্যং বদতি সৰ্বদ।।
বেদানাং সারভূতো যো তস্মৈ সত্যায় তে নমঃ।।

তুমিই সত্যের পরম রূপ। বেদের সারভূত যিনি, সেই সত্যস্বরূপ তোমাকে নমস্কার।

​১৩.অক্ষরম্ পরমং ব্রহ্ম বেদানাং যদুপাসতে।
তস্মৈ জ্ঞান-প্রদাত্রে চ নমো বেদপ্রদায়িনে।।

যে পরম ব্রহ্মকে বেদেরা উপাসনা করে, সেই জ্ঞানদাতা বেদপ্রদায়ীকে নমস্কার।

​১৪.ধর্মস্য মূলমত্রৈব বেদানাং চ পরা গতিঃ।
তস্মৈ সর্বার্থ-সিদ্ধায় বেদমূর্তায় তে নমঃ।।

তুমিই ধর্মের মূল এবং বেদের পরম গতি। সকল অর্থসিদ্ধিদায়ক বেদমূর্তিকে নমস্কার।

​১৫.মন্ত্রসাক্ষী চ যো দেবো মন্ত্রং যঃ পালয়ত্যপি।
বেদার্থং দেহি মে দেব নমো মন্ত্রময়ায় তে।।

যিনি মন্ত্রের সাক্ষী এবং মন্ত্রের পালনকর্তা, সেই মন্ত্রময় দেবকে নমস্কার, আমাকে বেদার্থ জ্ঞান দাও।
#মৎস্যপুরাণ৩য়অধ্যায়
11/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

🌼🌞🌞🌞🌺সূর্য স্তুতি🌺🌞🌞🌞🌼🟥🟥পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন🟥🟥​১.নমঃ সবিত্রে জগতশ্চক্ষুষে জগৎপ্রসূতয়ে।সগলস্য চ সবিত্রৈ নমস্তে দেব ...
07/05/2026

🌼🌞🌞🌞🌺সূর্য স্তুতি🌺🌞🌞🌞🌼
🟥🟥পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন🟥🟥
​১.
নমঃ সবিত্রে জগতশ্চক্ষুষে জগৎপ্রসূতয়ে।
সগলস্য চ সবিত্রৈ নমস্তে দেব ভাস্করায়।।

বঙ্গানুবাদ: যিনি জগতের চক্ষু, সৃষ্টির উৎস এবং সকল প্রাণের কারণ, সেই সবিতাকে নমস্কার। হে ভাস্কর দেব, আপনাকে নমস্কার।
​২.
রশ্মিভির্ব্যাপ্য লোকান বৈ দিবাকর নমোস্তুতে।
অন্ধকারস্য হন্ত্রে চ সত্যরূপায় তে নমঃ।।

বঙ্গানুবাদ: হে দিবাকর! আপনি আপনার রশ্মি দ্বারা লোকসমূহকে পূর্ণ করেছেন, আপনাকে নমস্কার। আপনি অন্ধকার বিনাশকারী এবং সত্যস্বরূপ, আপনাকে নমস্কার।
​৩.
সপ্তাশ্বরথমারূঢ়ং প্রকাণ্ডং জ্যোতিরাত্মকম্।
তমেব সূর্যাম্ পশয়ামি ধ্যায়ামি মনসা সদা।।

বঙ্গানুবাদ: যিনি সাতটি ঘোড়ায় চড়ে রথে আরূঢ়, যিনি বিশাল জ্যোতিঃস্বরূপ, সেই সূর্যকে আমি সর্বদা মনে মনে ধ্যান করি।
​৪.
ব্যধিহরং মহাদেবং আরোগ্যপ্রদায়কং বিভূম্।
উপাসামহে নিত্যং ভানুং লোকপ্রকাশকম্।।

বঙ্গানুবাদ: যিনি ব্যাধি বিনাশ করেন, যিনি আরোগ্যপ্রদানকারী এবং বিভু, সেই লোকপ্রকাশক ভানু বা সূর্যকে আমরা নিত্য উপাসনা করি।
​৫.
ত্রিলোকসাক্ষী ভগবান্ কস্য রূপং বিরাজি।
উদয়ন্ ধ্যায়তে যস্য সৰ্বপাপং প্রনশ্যতি।।

বঙ্গানুবাদ: যিনি ত্রিলোকের সাক্ষী সেই ভগবান সূর্যের রূপ যে দেহে বিরাজমান, উদয়কালে যাঁকে ধ্যান করলে সমস্ত পাপ বিনাশ হয়।
​৬.
অনাদি-নিধনং দেবং আদিত্যং তমসঃ পরম্।
তমেব ভজতং বিপ্রাঃ সৰ্বসিদ্ধিপ্রদায়কং সদা।।

বঙ্গানুবাদ: হে বিপ্রগণ! সেই অনাদি-অনন্ত দেব আদিত্যকে ভজনা কর, যিনি অন্ধকারের পারে এবং সর্বদা সর্বসিদ্ধি প্রদান করেন।
​৭.
নমো নমস্তে সবিত্রে কর্মসাক্ষিণি তে নমঃ।
কালচক্রস্য মূলে চ নমো মূর্তিমতে প্রভো।।

বঙ্গানুবাদ: হে সবিতা, তোমাকে বারবার নমস্কার, তুমি আমাদের কর্মের সাক্ষী। তুমি কালচক্রের মূল এবং মূর্তিময় প্রভু, তোমাকে নমস্কার।
​৮.
মণ্ডলং তস্য তেজেসা যদ্ভাসতে চরাচরম্।
তস্মৈ চ তেজসে নিত্যং নমো সূর্যায় মূর্তয়ে।।

বঙ্গানুবাদ: যাঁর তেজে এই চরাচর বিশ্বমণ্ডল আলোকিত, সেই তেজঃস্বরূপ মূর্তিকে, সেই সূর্যকে নিত্য নমস্কার।
​৯.
বেদানাং সারভূতো ত্বং যজ্ঞানাং ত্বং হি দেবতা।
সূর্যরূপী চ ভগবান্ পাতু মাং তমো বিনাশয়।।

বঙ্গানুবাদ: আপনি বেদের সারস্বরূপ এবং যজ্ঞসমূহের দেবতা। হে ভগবান সূর্যরূপী, আমার অজ্ঞানতরূপ অন্ধকার বিনাশ করে আমাকে রক্ষা করুন।
​১০.
ভানুর্মান্ লোককর্তা চ কালস্য পরিমাপকঃ।
আদিত্যঃ পাতু মাং নিত্যং সর্বব্যাধিবিনাশকঃ।।

বঙ্গানুবাদ: যিনি ভানুমান, যিনি লোককর্তা এবং কালের পরিমাপক, সেই আদিত্য আমাকে নিত্য রক্ষা করুন এবং সকল ব্যাধি নাশ করুন।
#মৎস্যপুরাণ৬৭অধ্যায়
08/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

🌺🔱🌺দেবী মহিমা🌺🔱🌺⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔১.ওঙ্কাররূপিণী দেবী সৰ্ব্বতত্ত্বার্থিকা সতী।ত্বমেব জগদাধারা প্রকৃতিঃ পরমেশ...
02/05/2026

🌺🔱🌺দেবী মহিমা🌺🔱🌺
⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔
১.ওঙ্কাররূপিণী দেবী সৰ্ব্বতত্ত্বার্থিকা সতী।
ত্বমেব জগদাধারা প্রকৃতিঃ পরমেশ্বরী।।

​অনুবাদ: আপনি ওঙ্কাররূপিণী, সকল তত্ত্বের সার এবং পরম সতী। হে পরমেশ্বরী! আপনিই এই জগতের মূল আধার এবং আদি-প্রকৃতি।

​২.যা সৃষ্টিঃ স্রষ্টুরাদ্যা চ যা পালয়তি বৈ জগত।
যা সংহরতি কালে চ তস্যৈ দেব্যৈ নমো নমঃ।।

​অনুবাদ: যিনি স্রষ্টার প্রথম সৃষ্টি, যিনি এই জগত পালন করছেন এবং প্রলয়কালে যিনি সবকিছু নিজের মধ্যে সংহার করেন— সেই দেবীকে বারবার নমস্কার করি।

​৩.ত্বং বুদ্ধিৰ্বোধরূপা চ ত্বং ধৃতিঃ ক্ষমা তথৈব চ।
ত্বমেব শক্তিঃ সৰ্ব্বস্য ত্বয়ি সৰ্ব্বং প্রতিষ্ঠিতম্।।

​অনুবাদ: আপনিই জীবের বুদ্ধি ও বোধশক্তি। আপনিই ধৈর্য এবং ক্ষমা। আপনিই জগতের সকল শক্তির উৎস এবং আপনার ওপরেই সবকিছু প্রতিষ্ঠিত।

​৪.অব্যক্তা সৰ্ব্বভূতেষু ব্যক্তা যা বিশ্বরূপিণী।
তপোবলেন যা লভ্যা তস্যৈ নিত্যং নমো নমঃ।।

​অনুবাদ: আপনি সমস্ত প্রাণীর মধ্যে অব্যক্ত (গোপন) ভাবে আছেন, আবার এই বিশ্বরূপেই আপনি প্রকাশিত। কেবল কঠোর তপোবল দ্বারাই আপনাকে লাভ করা সম্ভব।

​৫.যা সৰ্ব্বজননী দেবী সৰ্ব্বদেবময়ী তথা।
ত্বমেব সন্ধ্যা গায়ত্রী স্বাহা চ স্বধা পরম।।

​অনুবাদ: আপনি সর্বজননী এবং সর্বদেবময়ী। আপনিই প্রাতঃ ও সায়ং সন্ধ্যা, আপনিই গায়ত্রী এবং যজ্ঞের পবিত্র মন্ত্র স্বাহা ও স্বধা।

​৬.নিগুণা চ গুণাধারা নিরাকারা চ রূপিণী।
অচিন্ত্যরূপা যা দেবী তস্যৈ ভূয়ো নমো নমঃ।।

​অনুবাদ: আপনি ত্রিগুণাতীত হয়েও ত্রিগুণের (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) আধার। আপনি নিরাকার হয়েও অনন্ত রূপ ধারণ করেন। আপনার অচিন্ত্য রূপকে পুনরায় প্রণাম জানাই।

​৭.যা পরা পরমেশানি যা মূলপ্রকৃতিঃ স্মৃতা।
ত্বয়া বিনা ন কিঞ্চিৎ স্যাদেতচ্চরাচরং জগত।।

​অনুবাদ: হে পরমেশানি! আপনিই 'পরা' শক্তি এবং আপনিই 'মূল-প্রকৃতি' নামে খ্যাত। আপনি ছাড়া এই চরাচর জগতে কোনো কিছুরই অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

​৮.কালরূপা চ যা দেবী মহাকালপ্রিয়া সতী।
যয়া ব্যাপ্তমিদং সৰ্ব্বং জগদেতচ্চরাচরম্।।

​অনুবাদ: আপনি কালরূপিণী এবং মহাকালের (শিব) অত্যন্ত প্রিয়া। এই সমগ্র চরাচর জগত আপনারই চৈতন্য দ্বারা পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।

​৯.ত্বং লক্ষ্মীঃ সর্বলোকানাং ত্বং হ্রীঃ শ্রীঃ কীর্তিরেভ চ।
ত্বং মেধা ত্বং সরস্বতী ত্বমেব চ মহাদ্যুতিঃ।।

​অনুবাদ: আপনি সর্বলোকের ঐশ্বর্যরূপী লক্ষ্মী; আপনিই লজ্জা, শ্রী এবং কীর্তি। আপনিই মেধা, আপনিই সরস্বতী এবং আপনিই মহাজ্যোতি।

​১০.যা বৈষ্ণবী পরা শক্তিৰ্য। শম্ভোৰ্ধৰ্ম্মরূপিণী।
যা চ ব্ৰহ্মাত্মক। দেবী তস্যৈ নিত্যং নমো নমঃ।।

​অনুবাদ: যিনি বিষ্ণুর পরা শক্তি, যিনি মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী এবং যিনি ব্রহ্মার সৃজনী শক্তি— সেই ত্রিগুণাত্মক দেবীকে সর্বদা প্রণাম করি।

​১১.ত্বমেব বীজং জগতামহঙ্কারস্তথৈব চ।
পঞ্চভূতানি চ ত্বত্তঃ প্রসূয়ন্তে জগন্ময়ি।।

​অনুবাদ: হে জগন্ময়ি! আপনিই এই জগতের মূল বীজ এবং অহং-তত্ত্ব। ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম— এই পঞ্চভূত আপনার থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

​১২.সৰ্ব্ববাধা প্রশমনং সৰ্ব্বব্যাধিনিবারণম্।
ত্বং প্রসন্না মহাদেবি জগতঃ পরমার্থদা।।

​অনুবাদ: হে মহাদেবি! আপনি প্রসন্ন হলে জগতের সকল বাধা প্রশমিত হয় এবং সকল ব্যাধি দূর হয়। আপনিই মোক্ষরূপ পরমার্থ দান করেন।

​১৩.নমস্তে চণ্ডিকে চণ্ডি সৰ্ব্বকামার্থসাধিকে।
শরণাগতদীনার্ত্ত পরিত্রাণপরায়ণে।।

​অনুবাদ: হে চণ্ডিকে! আপনি সকল কামনা ও অর্থ সিদ্ধি করেন। আপনি শরণাগত ও আর্তজনের পরিত্রাণকারী— আপনাকে প্রণাম।

​১৪.নিধনা সৰ্ব্বদুঃখানাং নিধনা সৰ্ব্বপাপিনাম্।
শুভদা সৰ্ব্বদা দেবী ভক্তিপ্রিয়া নমোহস্তু তে।।

​অনুবাদ: আপনি সমস্ত দুঃখ নাশ করেন এবং পাপ বিনাশ করেন। আপনি সর্বদাই শুভ ফল দান করেন এবং ভক্তিতে তুষ্ট হন— আপনাকে নমস্কার।

​১৫.ত্বয়ৈব ধাৰ্য্যতে জগত ত্বয়ৈব সৃজ্যতে বিভো।
ত্বয়ৈব পাল্যতে দেবী ত্বয়ৈব চ লীয়তি।।

​অনুবাদ: হে দেবী! আপনার দ্বারাই জগত ধৃত হয়, আপনার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়। আপনিই পালন করেন এবং প্রলয়কালে আপনিই সব গ্রাস করেন।

​১৬.যোগনিদ্রা চ যা বিষ্ণোৰ্জগত স্থিতি কারিণী।
যা মোহয়তি বিপ্রেন্দ্র তস্যৈ নিত্যং নমো নমঃ।।

​অনুবাদ: যিনি বিষ্ণুর যোগনিদ্রা এবং জগতের স্থিতির কারণ, যাঁর মায়ার প্রভাবে জগত মোহিত হয়ে থাকে— সেই পরমেশ্বরীকে প্রণাম।

​১৭.ত্বং পরা পরমাত্মিকা ত্বং হি সংবিৎ সনাতনী।
অনাদিমধ্যনিধনা যা সা দেবী পরাৎপরা।।

​অনুবাদ: আপনি পরমাত্মা স্বরূপা এবং সনাতনী চৈতন্য। যাঁর আদি, মধ্য বা অন্ত নেই— সেই পরাৎপরা দেবীকে বন্দনা করি।

​১৮.ইত্যেষা দেবী মহিমা মৎস্যে প্রোক্তা পুরাতনী।
যাং শ্ৰুত্বা সৰ্ব্বপাপেভ্যঃ মুচ্যতে নাত্ৰ সংশয়ঃ।।

​অনুবাদ: মৎস্য পুরাণে বর্ণিত এই প্রাচীন দেবী মহিমা শ্রবণ করলে মানুষ সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়— এতে কোনো সংশয় নেই।

​১৯.ধন্যং যশস্যমায়ুষ্যং পুণ্যং শ্ৰুত্বা পঠেন্নরঃ।
সৰ্ব্বকামফলং লব্ধুং দেবীভক্তো ভবেন্নরঃ।।

​অনুবাদ: এই স্তুতি পাঠ করলে আয়ু, যশ ও পুণ্য বৃদ্ধি পায়। দেবীর ভক্ত হয়ে যে এটি পাঠ করে, সে সকল কামনার ফল লাভ করে।

​২০.ওং হ্রীং শ্রীং আদ্যাশক্তি দেব্যৈ নমঃ।
সৰ্ব্বমঙ্গলা মঙ্গলে শিবে সৰ্ব্বার্থ সাধিকে।।

​অনুবাদ: বীজ মন্ত্রসহ আদ্যাশক্তি দেবীকে প্রণাম। যিনি সর্বমঙ্গলা এবং সকল পুরুষার্থ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) দাত্রী।
#মৎস্যপুরাণ১৫৪অধ্যায়
02/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম

# # # # #

Address

Patenga

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বেদমাতা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share