22/05/2026
🌺🌺🌺 #সূর্য্য২১নাম🌺🌺🌺
⛔⛔পোষ্ট চুরি থেকে বিরত থাকুন⛔⛔
বশিষ্ঠ উবাচ
সুবর্ণরেতসস্ততঃ শংসঃ কৃষ্ণো ধামনি সংস্থিতঃ।
রাজন নামসহস্রেণ সহস্রাংশুঃ দিবাকরম্॥
স্তূয়মানন্ত তং দৃষ্ট্বা সূর্যাঃ কৃষ্ণাব্রজঃ তদা।
স্তুতশ্চ তু দর্শনং দত্বা পুনর্ধচনমব্রবীৎ॥
অনুবাদ:-হে রাজন! এরপর শ্রীকৃষ্ণের তেজঃপুঞ্জ থেকে উৎপন্ন ও স্বীয় ধামে (সূর্যমণ্ডলে) স্থিত, সহস্র রশ্মির অধিকারী দিবাকর শ্রীসূর্যদেবকে যখন কৃষ্ণপুত্র শাম্ব সহস্র নামে স্তব করছিলেন, তখন তাঁর সেই ভক্তিপূর্ণ স্তব দেখে সূর্যদেব সন্তুষ্ট হলেন। স্তবে প্রসন্ন হয়ে ভগবান সূর্যদেব শাম্বকে দর্শন দিলেন এবং এই অমৃতময় বাণী বললেন।
শ্রীসূর্য্য উবাচ🌺
শীঘ্র শীঘ্র মহাবাহো শৃণু গুহ্যতমীস্তুত।
অনলঃ নাম সহস্রেণ পঠৎসন্নং স্তবং শুভম্॥
যানি নামানি গুহ্যানি পবিত্রাণি শুভানি চ।
তানি তে কীর্ত্তয়িষ্যামি তেষা বস্মাবধারয়॥
অনুবাদ:-হে মহাবাহো (মহাবলশালী শাম্ব)! তুমি অতি শীঘ্র আমার এই অত্যন্ত গোপনীয় ও কল্যাণময় স্তোত্র শ্রবণ করো। আমার সহস্র নামের মধ্যে যে নামগুলো পরম পবিত্র, অতিশয় গোপনীয় এবং পরম মঙ্গলদায়ক, আমি তোমার কাছে সেই প্রধান নামগুলো কীর্তন করছি; তুমি তা একাগ্রচিত্তে মনে ধারণ করো।
ওঁ নমঃ শ্রীসূর্য্যমণ্ডলস্তোত্রস্য বশিষ্ঠঋষিরনুষ্টুপছন্দঃ শ্রীসূর্য্যো দেবতা। সর্ব্বরূপৈশ্বর্য্যপূর্বক সর্ব্বরোগোপশমনার্থে বিনিয়োগঃ॥
অনুবাদ:-ওঁ, এই শ্রীসূর্যমণ্ডল স্তোত্রের ঋষি হলেন বশিষ্ঠ, ছন্দ হলো অনুষ্টুপ এবং দেবতা হলেন স্বয়ং শ্রীসূর্য। সর্বপ্রকার ঐশ্বর্য লাভ এবং সর্বপ্রকার রোগ-ব্যাধি উপশমের উদ্দেশ্যে এই স্তোত্র জপে বিনিয়োগ করা হলো (অর্থাৎ এই উদ্দেশ্যে এটি পাঠ করা হয়)।
ওঁ ব্রহ্মণঃ চিন্ত্যদ্বাদ ভানুঃ বিভূজঃ রক্তবাসসঃ।
পদ্মহস্তৌ পুষ্পসঙ্কাশঃ পদ্মাদিভিরলঙ্কৃতম্॥
অনুবাদ:-যিনি ব্রহ্মস্বরূপ, চিন্তাতীত (যাঁর মহিমা মন ও বুদ্ধির অগোচর), যিনি দীপ্তিময় ভানু, দ্বিভুজ (দুটি হাতবিশিষ্ট), রক্তবস্ত্র পরিহিত, যাঁর হস্তদ্বয়ে পদ্ম শোভা পাচ্ছে, যিনি প্রস্ফুটিত পুষ্পের ন্যায় কান্তিময় এবং পদ্ম আদি দিব্য অলংকারে ভূষিত—সেই সূর্যদেবকে নমস্কার।
ওঁ বিকর্ত্তনো বিবস্বাংশ্চ মার্ত্তণ্ডো ভাস্করো রবিঃ।
লোক প্রকাশকঃ শ্রীমান্লোকচক্ষুগ্রহেশ্বরঃ॥
অনুবাদ:-১. বিকর্তন (যিনি মহাতেজে অন্ধকার ছেদন করেন),
২.বিবস্বান (তেজস্বী),
৩.মার্তণ্ড (ব্রহ্মাণ্ডের প্রাণশক্তি),
৪.ভাস্কর (আলোকের সৃষ্টিকর্তা),
৫.রবি (সবার পূজনীয়),
৬.লোকপ্রকাশক (জগৎকে যিনি আলোকিত করেন),
৭.শ্রীমান (শোভা ও ঐশ্বর্যশালী),
৮.লোকচক্ষু (জগতের একমাত্র দর্শনেন্দ্রিয় বা চোখ) এবং
৯.গ্রহেশ্বর (যিনি সমস্ত গ্রহের অধিপতি বা রাজা)।
লোকসাক্ষী ত্রিলোকেশঃ কর্ত্তাহর্ত্তাতমিঅহা।
তপনস্তাপনশ্চৈব শুচিঃসপ্তাশ্ববাহনঃ॥
অনুবাদ:-১০. লোকসাক্ষী (যিনি জগতের ভালো-মন্দ সব কর্মের সাক্ষী),
১১.ত্রিলোকেশ (স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের ঈশ্বর),
১২.কর্তা (সৃষ্টির চালক),
১৩.হর্তা (সংহারক),
১৪.তমিঅহা/তমোহা (অন্ধকার বিনাশকারী),
১৫.তপন (যিনি নিজে উত্তপ্ত),
১৬.তাপন (যিনি জগৎকে উত্তাপ দেন),
১৭.শুচি (পরম পবিত্র) এবং
১৮.সপ্তাশ্ববাহন (সাতটি ঘোড়া বিশিষ্ট রথে যিনি আরোহণ করেন)।
গভস্তিহস্তো ব্রহ্মা চ সর্ব্বদেবনমস্কৃতঃ।
অনুবাদ:-১৯. গভস্তিহস্ত (কিরণসমূহ যাঁর হাত স্বরূপ),
২০.ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা স্বরূপ) এবং
২১.সর্বদেবনমস্কৃত (যিনি সমস্ত দেবগণের দ্বারা পূজিত ও নমস্কৃত)।
একবিংশতিরিত্যেষ স্তব ইষ্টঃ সদা মম॥
শ্রীআরোগ্য করশ্চৈব ধনধান্যার্থি ভাস্করঃ।
স্তব রাজ ইতি খ্যাতস্ত্রিলোকষু বিশ্রুতঃ॥
অনুবাদ:-সূর্যদেব বললেন—এই যে একুশটি (২১) নামের পবিত্র স্তোত্র, এটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই স্তোত্রটি মানুষের রোগ মুক্তি বা আরোগ্য প্রদান করে এবং ধন ও ধান্য দান করে। এই কারণে এই স্তোত্রটি তিন লোকে 'স্তবরাজ' (স্তবসমূহের রাজা) নামে সুপরিচিত ও বিখ্যাত।
য এতেন মহাবাহো দ্বে সন্ধ্যেঽস্তুয়মানোয়া য॥
ভৌগ্যৈঃ প্রমুচ্যতেঽতুষ্ণা সর্ব্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে।
কায়িকঃ বাচিকঞ্চৈব মানসৈশ্চৈবদুষ্কৃতম্॥
অনুবাদ:-হে মহাবাহো! যে ব্যক্তি প্রতিদিন দুই সন্ধ্যায় (সকাল ও সন্ধ্যায়) একাগ্র চিত্তে এই স্তোত্রের দ্বারা আমার স্তব করবে, সে এই সংসারের সমস্ত বন্ধন ও অতৃপ্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হবে। তার দ্বারা কৃত কায়িক (শরীরের দ্বারা), বাচিক (বাক্যের দ্বারা) এবং মানসিক (মনের দ্বারা)—এই ত্রিবিধ পাপ বা দুষ্কর্মের ফল ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে।
একজপ্যেন তেসর্ব্বং প্রণশ্যন্তি মমাগ্রতঃ।
এষ জপ্যশ্চ হোমশ্চ সন্ধ্যোপাসন মেবচ॥
অনুবাদ:-আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে মাত্র একবার এই স্তোত্র জপ করলেই মানুষের সব পাপ তৎক্ষণাৎ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই একটি স্তোত্র পাঠ করলেই জপ, হোম (যজ্ঞ) এবং দৈনিক সন্ধ্যোপাসনার সমান পূর্ণ ফল লাভ হয়।
বলিনৈবেদ্যধর্ম্মশ্চ ধূপাগ্রঞ্চ তথৈবচ।
অন্নপ্রদানে স্নানেচ স্বনিপাতে তদঞ্চিতে॥
অনুবাদ:-পূজা, বলি, নৈবেদ্য অর্পণ, ধূপ-দীপ প্রদর্শন, অন্নদান, স্নান কিংবা যেকোনো শুভ বা বিপদের সময়ে যদি এই স্তব পাঠ করা হয়, তবে তা পরম কল্যাণ বয়ে আনে।
শুচিতোঽস্তুয়ঃ মহামংশঃ সর্ব্ব ব্যাধি হরঃ শুভঃ।
এবমুক্ত্বা তু ভগবান্ ভাস্করো জগদীশ্বরঃ॥
অনুবাদ:-পবিত্র ও শুদ্ধ হয়ে যে ব্যক্তি সূর্যদেবের এই মহান স্তোত্র পাঠ করে, তার শরীরের সমস্ত কঠিন ব্যাধি বা রোগ দূর হয় এবং জীবন শুভ ও সুন্দর হয়। জগৎ-নিয়ন্তা ভগবান ভাস্কর (সূর্যদেব) শাম্বকে এই পরম তত্ত্ব উপদেশ করার পর—
আমন্ত্র্য কৃষ্ণতনয়ঃ তত্রৈবান্তরধীয়ত।
শাম্বোপি সুব্রতাঁন্ সুস্থাঁশ্চাত্মাভিমুখবান্।
শ্রুতাঁ বৈরুক্ষঃ শ্রীমান্ তস্মাদ্রোগাদ্বিমুক্তবান্॥
অনুবাদ:-কৃষ্ণপুত্র শাম্বকে বিদায় জানিয়ে সূর্যদেব সেখানেই অন্তর্হিত হলেন (অদৃশ্য হয়ে গেলেন)। ভগবান সূর্যদেবের কৃপায় এবং এই পরম পবিত্র স্তোত্র শ্রবণের প্রভাবে রূপবান ও শ্রীমান শাম্ব তাঁর শরীরের সমস্ত কুৎসিত চর্মরোগ (কুষ্ঠ ব্যাধি) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে পুনরায় সুস্থ ও দিব্য শরীরের অধিকারী হলেন।
ইতি শাম্বপুরাণে রোগাপনয়নে শ্রীসূর্য্যবক্ত বিনির্গতঃ শ্রীসূর্য্য স্তোত্রঃ সমাপ্তঃ॥
অনুবাদ:-এইভাবে শাম্বপুরাণের অন্তর্গত, রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে স্বয়ং শ্রীসূর্যদেবের মুখপদ্ম থেকে নির্গত এই পরম পবিত্র 'শ্রীসূর্য স্তোত্র' এখানে সমাপ্ত হলো।
#শাম্বপুরাণ২৬অধ্যায়
22/05/2026
𝓢𝓻𝓲 𝓝𝓪𝓻𝓪𝔂𝓪𝓷 𝓚𝓾𝓶𝓪𝓻 𝓒𝓱𝓪𝓴𝓻𝓪𝓫𝓸𝓻𝓽𝔂
সেবায়েত
শ্রীশ্রী নৃসিংহ আখেড়া
চকবাজার চট্টগ্রাম
# # # # #