29/08/2026
গতপরশু দিন মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছিলাম। হয়তো মহান রবের ইচ্ছা ছিল, তাই এখনো আমার অবশিষ্ট হায়াতটুকু দুনিয়ায় লিখে রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
ঢাকার উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের পলওয়েল কার্নেশনে মোবাইলের ডিসপ্লে মেরামত করার জন্য গিয়েছিলাম। ছিলাম ভবনের ৫ম তলায়। আমার সঙ্গে ছিল বড় ছেলে মুজাহিদ বিন সারোয়ার ও জুনায়েদ বিন সারোয়ার।
হঠাৎ দেখি চারদিকে মানুষের ছুটাছুটি। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ল—উপরের তলায় আগুন লেগেছে। পুরো ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। কে আগে নিচে নামবে, সেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল।
আমি সঙ্গে সঙ্গে দুই ছেলের দুই হাত শক্ত করে ধরে বিল্ডিংয়ের পাশের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করি। সেই সময় মুজাহিদ কান্না করে শুধু বলতে থাকে, “মা কই? মা কই?”
তার মা তখনও মোবাইলের দোকানে। কোলে ছোট্ট মুয়াজ ইবনে সারোয়ারকে নিয়ে তিনিও আমাদের পিছু পিছু সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামছিলেন। কিন্তু মুজাহিদ বারবার চাইছিল তার মা যেন আমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
দুর্যোগের সময় হয়তো নীতি হওয়া উচিত—আগে নিজের জান বাঁচাও। কিন্তু একটা ছোট শিশু কি আর এসব বোঝে? তার কাছে তখন নিজের নিরাপত্তার চেয়েও মায়ের নিরাপত্তাটাই বড়।
মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে দুই হাতে দুই সন্তানকে ধরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে ভবনের বাইরে বের হয়ে আসি। আমাদের সঙ্গে আরও অনেক মানুষ আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে আসছিলেন।
আল্লাহর অশেষ রহমতে, ভবনের লোকজন ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
নিচে এসে দেখি, আমার সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। কাপড়গুলো ঘামে একেবারে ভারী হয়ে গিয়েছিল। তখনও শরীরের চেয়ে বেশি কাঁপছিল মন।
একটু ভাবুন তো—যদি আগুনের স্ফুলিঙ্গ আরও ছড়িয়ে পড়ত? যদি আগুন দ্রুত নিচের দিকে ছড়িয়ে আসত? হয়তো সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা কেউ আর বের হতে পারতাম না। হয়তো সেখানেই আগুনে পুড়ে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যেত।
জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, সেদিন আবারও খুব কাছ থেকে অনুভব করলাম। মানুষ কত পরিকল্পনা করে, কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে; অথচ পরের মুহূর্তে কী হবে, তা কেউ জানে না।
মহান আল্লাহ যেদিন হায়াত শেষ করে দেবেন, সেদিন কোনো শক্তিই আমাদের এক মুহূর্তও ধরে রাখতে পারবে না। আর যখন তিনি হায়াত বাড়িয়ে দেন, তখন মৃত্যুর এত কাছে গিয়েও মানুষ ফিরে আসতে পারে।
আলহামদুলিল্লাহ, সেদিন মহান রব আমাদের সবাইকে নিরাপদে বের করে এনেছেন। এ জন্য তাঁর দরবারে অশেষ শুকরিয়া।
হে আল্লাহ, আমাদের অবশিষ্ট জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। আমাদের সন্তানদের নেক ও নিরাপদ রাখুন এবং ঈমানের সঙ্গে জীবন ও মৃত্যু নসিব করুন। আমিন। 🤲
সবাই আমার সন্তানদের জন্য এবং আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।
Md. Sarwar Hossen (Sahide Sarwar)
Jinn and paranormal researcher.
Founder– মুমিন মুসলমান