12/05/2026
🙏🙏পুরুষোত্তম মাস 🙏🙏
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৬ই মে শনিবার থেকে আরম্ভ। প্রায় ২ বছর ৮ মাস থেকে ৩ বছর পরপর আসে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৩২ মাস ১৬ দিন ৮ ঘণ্টা অন্তর একটি অধিক মাস যোগ হয়। আর এই অতিরিক্ত মাসকেই বলা হয় পুরুষোত্তম মাস।
👏তাহলে চলুন জেনে নেই, এই মাসে কি করা উচিত, কি করা উচিত নয় এবং এই মাস পালন করলে কি ফল লাভ হয়।
পুরুষোত্তম মাস (অধিক মাস) বৈষ্ণব শাস্ত্রে অত্যন্ত পবিত্র ও বিরল মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসকে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিজ নাম “পুরুষোত্তম” দান করেছেন। শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ, পদ্ম পুরাণ ও স্কন্দ পুরাণ-এ এই মাসের মাহাত্ম্য বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
🙏পুরুষোত্তম মাসে কি করা উচিত
১. হরিনাম ও ভগবৎ ভজন
এই মাসে বেশি বেশি করে—
👉“হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র জপ
👉বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ
👉গীতা পাঠ
👉ভাগবত শ্রবণ
👉কীর্তন ও ভজন করা অত্যন্ত শুভ।
২. উপবাস ও একাদশী পালন
একাদশী ব্রত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বহু জন্মের পাপ ক্ষয় হয় বলে শাস্ত্রে বলা হয়েছে।
৩. দান-পুণ্য
অন্নদান
👉গরিবকে বস্ত্রদান
👉গীতা বা ধর্মগ্রন্থ দান
👉গরু, তুলসী ও ব্রাহ্মণ সেবা
👉অত্যন্ত ফলদায়ক বলে বর্ণিত।
৪. ব্রহ্মচর্য ও সংযম পালন
এই মাসে ইন্দ্রিয় সংযম, শুদ্ধ আচরণ, সত্যভাষণ ও অহিংস জীবনযাপন করতে বলা হয়েছে।
৫. মন্দির সেবা ও প্রদীপ দান
ভগবান বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ বা জগন্নাথ দেবের সেবা করলে বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
🙏পুরুষোত্তম মাসে কি করা উচিত নয়
১. বিবাদ, রাগ ও অন্যের নিন্দা
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
পরনিন্দা,
অহংকার,
মিথ্যা কথা,
ক্রোধ,
এই মাসের পুণ্য নষ্ট করে।
২. আমিষ ও নেশাজাতীয় বস্তু
মাছ-মাংস,
মদ,
তামাক,
নেশা
সম্পূর্ণ বর্জন করতে বলা হয়েছে।
৩. অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস
অতিরিক্ত ঘুম, অলসতা, কাম-ক্রোধে আসক্তি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
৪. প্রাণী হত্যা বা কষ্ট দেওয়া
অহিংসা পালন এই মাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষোত্তম মাসে কোন শুভ কাজ নিষিদ্ধ
শাস্ত্রমতে অধিক মাসে সাধারণত কিছু সংসারিক মাঙ্গলিক কাজ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কারণ এই মাস মূলত ভগবানের আরাধনা ও তপস্যার জন্য নির্ধারিত।
👉সাধারণত যে কাজগুলো করা হয় না
*বিবাহ,
*গৃহপ্রবেশ,
*নতুন ব্যবসা শুরু,
*মুন্ডন,
*নামকরণ,
*বড় যজ্ঞ বা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান,
*নতুন বাড়ি নির্মাণের শুভ সূচনা,
*নতুন যানবাহন ক্রয়ের শুভ মুহূর্ত
তবে— ভগবানের সেবা, জপ, তীর্থযাত্রা, দান, ব্রত, কীর্তন ইত্যাদি এই মাসে অত্যন্ত শুভ ও বহু গুণ ফলদায়ক।
কেন এসব শুভ কাজ এড়ানো হয়?
জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্র মতে অধিক মাস “সংসারিক ভোগ” অপেক্ষা “আধ্যাত্মিক সাধনা”-র মাস। তাই পারিবারিক মাঙ্গলিক কর্ম অপেক্ষা ভগবৎ ভজনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
🌹পঞ্চপাণ্ডব ও পুরুষোত্তম ব্রতের ঘটনা🌹
শাস্ত্রীয় কাহিনীতে বলা হয়, যুধিষ্ঠির সহ পঞ্চপাণ্ডব এক সময় নানা দুঃখ-কষ্ট ও বনবাসে পতিত হন। তখন ঋষিগণ তাঁদের বলেন যে পূর্বে তাঁরা পুরুষোত্তম মাসের ব্রত যথাযথভাবে পালন করেননি এবং ভগবানের বিশেষ আরাধনায় অবহেলা করেছিলেন।
পরবর্তীতে তাঁরা এই ব্রত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন—
*উপবাস
*দান
*ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা
*ধর্মকথা শ্রবণ
ইত্যাদি করেন। তখন তাঁদের জীবনে শুভ ফল আসতে শুরু করে এবং ভগবানের কৃপায় কষ্ট লাঘব হয়।
এই কাহিনীর মূল শিক্ষা হলো— মানুষ যদি ভগবানকে ভুলে শুধু অহংকার ও ভোগে মত্ত থাকে, তবে জীবনে দুঃখ আসে; আর ভক্তি, সংযম ও ধর্মপালনের মাধ্যমে জীবনে শান্তি ও কল্যাণ লাভ হয়।
👉শাস্ত্রে পুরুষোত্তম মাসের মাহাত্ম্য
পদ্ম পুরাণ-এ বলা হয়েছে যে,
এই মাসে সামান্য ভক্তিও বহু গুণ ফল দেয়।
স্কন্দ পুরাণ-এ বর্ণিত আছে— অন্য মাসে বহু যজ্ঞের যে ফল, পুরুষোত্তম মাসে ভক্তিভরে হরিনাম করলেই সেই ফল লাভ হতে পারে। এমনকি কাত্তিক মাসের দামোদর ব্রত পালনের থেকে ও ১০০০ গুণ ফল লাভ হয় পুরুষোত্তম ব্রত পালন করলে।
🙏🙏 হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে🙏🙏
#হরেকৃষ্ণ #পুরুষোত্তম #শ্রীবিষ্ণু