09/01/2024
যাকে নিয়ে লিখবো, ভয় হয় কখন তিনি বলবেন এই এটা কি লিখেছিস এটা কোনো বাক্য হলো? কোন শব্দটি আগে হবে কোনটি পরে হবে এটাও এখনো শিখলি না, কবে শিখবি? এসব স্মৃতি আর কারো আছে কি না জানিনা তবে আমার আছে। সব সময় ভয়ে থাকতাম অবশ্যই ভালোবাসার ভয় কোনটা করতে গিয়ে কি ভুল করবো তাঁর চোখে পড়লে বকবেন তাই খুব হিসাব করে কথা বলা ও লেখা তৈরি করতাম। দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে পথচলা তাঁর কাছ থেকে অনুকূল দর্শনের পাঠ গ্রহণ। আজকে কেনো যেন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মিলাতে পারছি না, এমনকি তাঁর শেষ যাত্রায় অংশগ্রহণ না করা। আমি জানি এই না যাওয়ার জন্য আমি নিজেকেই কোন সদুত্তর দিতে পারবো না কিন্তু সেতো পরের কথা। আজকের এই দিনে আমি কি দিতে পারবো কোন উত্তর- কি বাবা আসছিস, আয় তাড়াতাড়ি কর, এই লেখাটা শেষ করতে হবে, ঐ বিষয়ে লিখতে হবে, অমুকের সাথে কথা বলতে হবে, তমুক কাজটা শেষ করতে হবে। কত কাজ বাকি থাকলো কবে শেষ হবে? এতো দেরি করলে হবে? কত প্রশ্নের উত্তর আমি কিভাবে দেবো তাঁকে? তাই যেতে পারলামনা। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। কত অজানা ইতিহাস, কত দুর্বোদ্ধ তত্ত্বের আলোচনা আপনারা সান্নিধ্যে হয়েছে এসব তো ফটকাবাজদের কাছে মরীচিকার মতো। আপনার কাছ থেকে উদ্বোধিত হয়ে অর্থকরী বিদ্যাকে পরিত্যাগ করেছি, নিজেকে তুলে দিয়েছি পরমপিতার দরবারে। ভাবিনি কি খাবো কোথায় থাকবো, কি করবো শিখিয়েছেন তাঁর উপর নির্ভর করো তিনি পথ দেখাবেন। হয়তো সাময়িক অসুবিধা হবে কিন্তু শেষটা ভালো হবে দেখে নিস, এই ছিল আপনার প্রদর্শন। আজকে আমি কি এসবের উত্তর দিতে পারবো? আপনি ছিলেন সব সমস্যার সমাধানে নির্ভরশীল ব্যক্তিত্ব।
হ্যাঁ ড. রবীন্দ্রনাথ সরকার (প্রতিঋত্বিক)। যাঁর সঙ্গ করতে সবাই মুখিয়ে থাকতো তিনি আজকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। শেষ সময়টা যিনি কাটিয়েছিলেন অনেকটা অবহেলায়, কিছু মানুষের বঞ্চনায়। অথচ এই মানুষটি ছিলেন বটবৃক্ষের ন্যায় অনেকের আশ্রয়, যাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন তারাই বেইমানি করে বিস্বাসঘাতকতা করে তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন অবশ্য এই মুহূর্তে নাকীকান্না শুরু করে দিয়েছেন, আপনারা জানেন কি হারালেন সাময়িক সুখের আশায়। শুরুটা করেছিলেন একেবারে খালি হাতে শূন্য থেকে তখন তো কেউ ছিলেন না। হাজার, লক্ষ মানুষের চোখের জল বন্যায় রূপান্তরিত আজকে, আর কি পাবো তাঁর মতো ঋষিপ্রতিম ব্যক্তিত্ব? একজন প্রতিলোমজ শয়তান তো তাঁকে খলনায়ক বানানোর জন্য কত জঘন্য কাজ করে যাচ্ছে আজকে অবধি। রবীন্দ্রনাথ সরকারকে জানতে হলে জানতে হবে সঠিক ইতিহাস। সেই ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৪৬সালে যশোর জেলার এক অজপাড়া থেকে। পারিবারিক বৈভব্যের মধ্যে থেকেও কতটা যুদ্ধ করে। প্রথমে নিজের পরিবারের দুর্গম বেড়াকাষ্ঠ থেকে পরিবেশের প্রতিকূল আবহাওয়া জয় করে হিমাইতপুরকে আজ বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার কারিগর আজকে ধুলায় লুটিয়ে আছে। তাঁর শব যাত্রাটিও সর্বজনীন করতে দিলো না দুরবৃত্তের দল। সময় এর সঠিক উত্তর দিবে। ঠাকুর বলেছিলেন বিচারের ভার শাস্তির ভার নিজহাতে নিতে যেও না, পরমপিতার উপর নির্ভর কর। ব্যক্তি জীবনে সবসময় এই অনুস্মরণীয় বাক্যটি অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের প্রেরণা হয়ে, শক্তির উৎস হয়ে। আজ শুধু চোখের জলে একটি বাক্যে বলতে পারি - আমার মতো অযোগ্যকে ভালোবেসে স্নেহ করে যে পথে এনেছেন পারিনি সেই নির্ভরতার প্রতিদান দিতে, ক্ষমা করে দিবেন, আবারো লোভীর মতো বলছি তমসার পার থেকে নক্ষত্র হয়ে আশীর্বাদ করবেন যদি কোনোদিন যোগ্য হয়ে আপনার অপূর্ণ কাজের বাস্তবায়ন করতে পারি সেদিন নিজেকে ধন্য মনে করবো। ভালো থাকবেন ওপারে 🙏🙏🙏।