24/03/2026
অনেক ওহাবি আহলে খবিষ আছেন তারা বলে থাকেন ছরকারে দুজাহান রাহমাতুল্লিল আলামিন হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা মাতা উনারা নাকি ঈমানদার ছিলেন না। উনারা নাকি মুশরেক ছিলেন কাফের ছিলেন- (নাউজুবিল্লাহ)।
আবার যারা এই কথা বলেন তারা ২/১ টি হাদিস শরীফের কথাও উল্লেখ করেন ! কিন্তু উনারা যেই হাদিস গুলাকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন সেখানে নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা মাতা যে মুশরেক তা প্রমান করেনা বরং সহিহ হাদিস শরীফের ৫০ টিরো বেশি কিতাবের কোন জায়গায় একটাও হাদিস নেই নবীজির পিতা মাতা উনারা মুশরেক ছিলেন | বরং কোরআন ও হাদিস স্পষ্ট প্রমান করে উনারা ঈমানদার ছিলেন |
যদিও নবীজির পিতা মাতা উনারা নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে কালেমা পড়ে ঈমানদার হওয়ার সুযোগ পাননি কিন্তু উনারা মুশরেক ছিলেন না। উনারা ছিলেন মিল্লাতে ইব্রাহিমের উপর বিশ্বাসী অর্থাৎ এক আল্লাহয় বিশ্বাসী ছিলেন | নূর নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়্যাত প্রাপ্তির পূর্বেও আরবের কিছু লোক এক আল্লাহয় বিশ্বাসী ছিলেন। এমন কি উনাদের উভয়ের পূর্ব পুরুষ ও মহিলাগণ তৌহিদে বিশ্বাসী ছিলেন। আর হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রক্তধারায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন , সে ধারায় অর্থাৎ উনার পিতা , পিতামহ হতে উর্ধতন পুরুষের মধ্যে কেউ মূর্তি পূজক বা মুশরেক ছিলেন না। উনাদের কেউ কোন দিন গোলাম হননি বা কেউ কোন দিন ব্যভিচার করেননি | আর আল্লাহর হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র নূর মোবারক পবিত্র পুরুষগণ ও পবিত্র মহিলাগনের ঔরসের মাধ্যমেই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। অতএব কাফের মুশরেক কখনই পবিত্র এবং এমন সৌভাগ্যবান হতে পারেনা।
√ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ,
وتقلبک فی السجدین
(ওয়া তাক্বাল্লুবাকা ফিস্সাজিদীন)
অর্থ : হে নবী!আমি আপনাকে সিজদাকারীদের পৃষ্ঠের মাধ্যমে (ঔরসে)স্থানান্তরিত করেছি |
এই আয়াতে কারিমা থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হচ্ছে যে – হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হজরত আব্দুল্লাহ রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু পর্যন্ত সকল পূর্ব পুরুষই মু’মিন (ঈমানদার) ছিলেন |
(তাফসীরে মাদারিক )
√ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো ইরশাদ করেন ,
لقد جاءکم رسول من انفسکم عزیز علیہ ما عنتم-الایۃ
( লাক্বাদ জা’আকুম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম আযীযুন আলাইহি মা’আনিত্তুম )
অর্থ : নিশ্চয় তোমাদের নিকট তাশরিফ আনয়ন করেছেন, তোমাদের মধ্যে থেকে ঐ রাসূল, যাঁর নিকট তোমাদের কষ্টে পড়া কষ্টদায়ক |
[সুরা তাওবা : ১২৮ ]
এ আয়াতের انفسکم শব্দটির আরবী অক্ষরটিতে ‘যবর’ ও বর্ণিত হয়েছে | তখন আয়াতের অর্থ দাড়ায় , সর্ব-উৎকৃষ্ট, অভিজাত ব্যক্তিবর্গ থেকে এক মহান রাসূল তাশরীফ আনয়ন করেছেন
[খাসায়িসুল ক্বুবরা,তাফসীরে-ই-নঈমী ]
হজরত আনাস রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এই আয়াতে কারিমা তিলাওয়াতের সময় ‘ف’ তে যবর দিয়ে তিলাওয়াত করার পর ইরশাদ করেন , انا انفسکم
( আনা আনফাসুকুম ) অর্থাৎ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম বংশদ্ভুত |
এই প্রসঙ্গে খাসায়িসুল ক্বুবরার মধ্যে এসেছে , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ব পুরুষদের মধ্যে হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে হজরত আব্দুল্লাহ রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু পর্যন্ত কেউ মন্দ ও অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হননি |
√ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন ,
انما المشرکون نجس
( ইন্নামাল মুশরিকুনা নাজাসুন )
অর্থ : নিঃসন্দেহে মুশরিকরা অপবিত্র |
পবিত্র কোরআন শরীফে যেহেতু আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন , মুশরিকরা অপবিত্র। তাই এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহ পাক উনার প্রিয় হাবিবের পবিত্র নূর মোবারককে কোন মুশরিক নারী পুরুষের ঔরসে রাখবেন না কখনো।
এর সমর্থনে একটা হাদিস শরীফ আছে, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে সর্বদা পূত-পবিত্র পৃষ্ঠদেশ থেকে পবিত্র গর্ভেই স্থানান্তরিত করেছেন। পবিত্র পরিচ্ছন্ন-দুটি বংশীয় ধারার উভয়টির মধ্যে আমি উত্তম বংশের অন্তর্ভূক্ত।”
[ খাসাইসুল ক্বুবরা ]
পবিত্র হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , আমি সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠদেশ সমূহ থেকে পবিত্র মাতৃগর্ভ সমূহে স্থানান্তরিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আবির্ভূত হয়েছি | [ দালায়েলুন্ নবুয়্যত ]
পবিত্র হাদিস শরীফে রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি প্রতিটি যুগে মানবজাতির সর্বস্তরের সর্বশ্রেষ্ঠ বংশে আবির্ভূত হয়েছি |
[বুখারী শরীফ, সীফাতুন্নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শীর্ষক অধ্যায় ]
হাদিস শরীফে রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা ধারাবাহিকভাবে পবিত্র পৃষ্ঠদেশ ও পবিত্র গর্ভে স্থানান্তরিত করে ভূ-পৃষ্ঠে আমার বরকতময় আবির্ভাব ঘটিয়েছেন | [ কিতাবুশ্ শেফা ]
রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন , জাহেলি যুগে “সিফাহ” নামে যেসব অপকর্ম চলত সেগুলোর কোনটার মাধ্যমেই আমি দুনিয়াতে আসিনি | [ বায়হাকী শরীফ ]
উপরোক্ত হাদীসে “সিফাহ” শব্দটির অর্থ হচ্ছে-ব্যাভিচার। ইসলামী পরিভাষায় সেটাকে যিনা বলা হয়।
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর যুগ থেকে অদ্যাবধি আমার পিতা-মাতা ও পূর্ব পূরুষগনের ঔরসে পবিত্র নিকাহ এর মাধ্যমেই আমার আগমন হয়েছে। অপবিত্র সিফাহ এর মাধ্যমে নয়।আমার পিতৃ পূরুষগন আজীবন “সিফাহ” থেকে পবিত্র ছিলেন | [ তাবরানী শরীফ ]
হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম স্বয়ং বর্ণনা করেছেন,আমি সমগ্র জাহান তদন্ত করে দেখলাম, আমি কোথাও হযরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা অপেক্ষা উত্তম পূরুষ দেখিনি, তাঁর বংশ ও গোত্র অপেক্ষা উত্তম কোন বংশ বা গোত্র আমার নজরে পরেনি, আর বনূ হাশেম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন গোত্রই আমি দেখিনি | [ তাবরানী শরীফ ]
হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম যেই বনূ হাশেম গোত্র সম্পর্কে “সেটাই সর্বোচ্চ বংশ ও গোত্র” বলে মন্তব্য করেছেন, বাস্তবতাও যে বংশের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
১৫ই সাবানের রজনীতে যখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতুল বাকি জেয়ারত করে হুজরা শরীফে ফিরে আসলেন তখন আম্মাজান আয়েশা রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনি এই জিয়ারতের মাধ্যমে কি কোন খোশ খবর পেয়েছেন ? জবাবে রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , হা আয়েশা এই জিয়ারত ও দুয়ার মাধ্যমে আল্লাহ পাক আমাকে ৫ টা খোশ খবর দিয়েছেন | তার মধ্যে একটি হলো , আমার পিতা মাতা আমার কালেমা পড়ে ঈমানদার হতে পারেন নি কিন্তু উনারা মুশরেক ছিলেন না , উনারা মিল্লাতে ইব্রাহিমের উপর বিশ্বাসী ছিলেন | আমি যখন জিয়ারত করি তখন আল্লাহ পাক আলমে বরজখের পর্দা তুলে দিয়ে আমার পিতা মাতাকে দেখার সুযোগ করে দেন , আমি উনাদেরকে আমার কালেমা পড়িয়ে ডবল মুসলমান বানিয়ে দিলাম।
অতএব পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফ থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হয় যে, নবীজির পিতা মাতা মুশরেক ছিলেন না। উনারা খাটি ঈমানদার ছিলেন এবং উনাদের মৃত্যুও হয়েছে ঈমানের উপর |