অনুপ্রেরণা

অনুপ্রেরণা From Allah
For Allah
To Allah

25/01/2026

যারা পর্নো ভিডিও দেখে—সত্য কথা শুনতে চাইলে পড়ুন, না চাইলে স্ক্রল করে চলে যান।
পর্নো দেখা কোনো “দোষ” না—এটা চরিত্র ধ্বংসের প্রশিক্ষণ।
আপনি নিজেই নিজের বিবেককে খুন করছেন, ধীরে ধীরে।
পর্নো দেখলে আপনি আর মানুষ থাকেন না,
আপনি হয়ে যান একটা লালসার দাস।
যে মানুষ পর্নো দেখে— – সে চোখের নিয়ন্ত্রণ হারায়
– সে নারীর সম্মান বোঝে না
– সে বাস্তব সম্পর্কের যোগ্য থাকে না
– সে দায়িত্ব নিতে ভয় পায়
– সে নিজের দুর্বলতাকে “স্বাভাবিক” বানিয়ে ফেলে
সবচেয়ে লজ্জার কথা জানেন কী?
পর্নো দেখা মানুষ বাইরে খুব “ভালো” সাজে,
কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে চরম নৈতিকভাবে পচে যায়।
আজ আপনি মোবাইলের পর্দায় লজ্জা হারাচ্ছেন,
কাল বাস্তব জীবনে আপনার কোনো সীমা থাকবে না।
পর্নো আপনাকে শেখায়— কষ্ট ছাড়াই সুখ,
পরিশ্রম ছাড়াই উত্তেজনা,
দায়িত্ব ছাড়াই ভোগ।
আর যে মানুষ এভাবে বাঁচে—
সে কখনো পুরুষ হতে পারে না,
সে কখনো সম্মান পায় না,
সে কখনো স্থির জীবন গড়তে পারে না।
নিজেকে প্রশ্ন করুন—
আপনি কি সত্যিই এতটাই দুর্বল,
যে কয়েক মিনিটের ভিডিওর জন্য
নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে দিচ্ছেন?
আজই থামুন।
না হলে একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখবেন—
নিজেকেই ঘৃণা লাগছে।
কারণ মনে রাখবেন—
পর্নো দেখে যে আনন্দ, সেটা সুখ না—ওটা পতনের শুরু।

11/11/2025

যখন কেউ তোমার কষ্ট বোঝে না…

যখন কেউ তোমার কষ্ট বোঝে না, তখন মনে রেখো —
আল্লাহ বোঝেন।
তুমি যেই কান্না চেপে রাখো, সেটার শব্দ তিনিই শুনতে পান।
তুমি যে দোয়া নিঃশব্দে করো, সেটার উত্তরও তিনি জানেন।

জীবন যত কঠিনই হোক না কেন,
আল্লাহ কখনো তোমাকে তোমার শক্তির বাইরে পরীক্ষা দেন না।
তুমি কেবল ধৈর্য ধরো, আর তাঁর উপর ভরসা রাখো।

আল্লাহ বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"
(সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৩)

তাই মন ভেঙে ফেলো না।
তোমার দোয়া এখনো পৌঁছায়নি এমন নয় —
বরং আল্লাহ সেটার জন্য সবচেয়ে সুন্দর সময়টা বেছে রাখছেন।

06/11/2025

আমার আম্মা এমন কুরআনের আশেক ছিলেন যে বসে বসে কুরআন পড়ায় ক্লান্ত হয়ে গেলে তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তেন। আম্মাকে জিজ্ঞেস করতাম - না বুঝে কী এতো পড়ো!

আব্বার কথা বলি। যখন ক্লাস টেনে ছিলাম তখন আব্বাকে দেখতাম খুব কুরআন পড়তে। তিনি অনেক সুন্দর করে কুরআন পড়তেন। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে পড়তেন। অফিস থেকে আসরের পর বাসায় এসেই কুরআন পড়তেন। মাগরিবের পর পড়তেন,ইশার পর পড়তেন। আমার এক শিক্ষক আমাকে ডায়েরি লিখতে বলেছেন। আমি ডায়েরি তে একদিন লিখেছি- আব্বা এতো কুরআন পড়ে!!!

রোজ সকালে আমার ডিউটি ছিলো আমাকে কুরআন তিলওয়াত করতে হবে। তো আব্বা আবার তদারকি করতেন। একদিন জিজ্ঞেস করলেন- হামিদ, কুরআন শরীফ পড়োস না?
আমি বলে উঠলাম না বুঝে কুরআন পড়ে লাভ কী! আমার আব্বাজান কোনো প্রত্যুত্তর করেন নি! আজকে সেই আমি এতো বদলে গেলাম। আলহামদুলিল্লাহ! এখন উত্তরায় নিজের বাড়িতে হিফজখানা খুলেছি, মক্তব খুলেছি।

হাফেজ্জি হুজুরে সংস্পর্শে এসে বদলে গেলাম। তিনি বলতেন- দুনিয়াতে এমন ভাবে থাকো, একটা শ্বাস ও যেনো আল্লাহর যিকির থেকে খালি না যায়। আর এ কথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি নিজেই। একবার আমার বাসায় তিনি আসলেন।আমার তিন বছরের মেয়েটি তখন হুযুরের কাছে গিয়ে বলে উঠলো- আপনার ঠোঁট এতো নড়ে কেন? হুযুর তখন হাসলেন।চিন্তা করুন ঠোঁটটা কী পরিমাণ নড়লে ( নিরবে যিকির করলে) একটা শিশুর চোখে ধরা পড়ে!

হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. বার বার বলতেন, কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত বড় দামী জিনিস। হযরত মাওলানা আবরারুল হক রহ. কুরআন মাজীদ তিলাওয়াতের ব্যাপারে প্রায়ই বলতেন যে, মসজিদে যাওয়ার পর যদি দেখা যায় নামাযের এখনো এক মিনিট সময় বাকী আছে, তবু একটি কুরআন শরীফ নিয়ে তিলাওয়াত করা উচিত। এক মিনিট যেতে না যেতেও যদি মুয়াযযিন সাহেব ইকামত দেয়া শুরু করেন তবু কিছু আসে যায় না। কারণ এই এক মিনিটেই যদি কমপক্ষে এক লাইনও পড়া হয় তাহলে এক লাইনে পঁয়ত্রিশটি হরফ ধরে প্রতি হরফে দশটি করে নেকী হিসেবে তিনশ পঞ্চাশ নেকী হবে। আখিরাতে একটি নেকীর জন্য মানুষ আফসোস করবে। তাই দুনিয়ায় একটি নেকী অর্জন আসলে মস্ত বড় উপার্জন। 🍀

~ প্রফেসর হামিদুর রহমান (রহ:)

04/11/2025

কখনও কখনও আল্লাহ তোমাকে দেরিতে কিছু দেন — কারণ তিনি জানেন, তুমি এখনো প্রস্তুত নও।
তিনি তোমার ধৈর্য পরীক্ষা করছেন, তোমার ঈমান শক্ত করছেন, তোমার মনকে শুদ্ধ করছেন।

যা তুমি হারিয়েছো, তা হয়তো তোমার জন্য ভালো ছিল না।
আর যা তুমি পাবে — তা হবে তোমার জন্য আরও উত্তম, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ বলেন:
"...নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই সহজি আছে."
(সূরা আশ-শারহ, আয়াত ৫–৬)

তাই হাল ছেড়ো না। আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখো।
যিনি তোমার দোয়া শুনছেন, তিনি তোমার জন্য সঠিক সময় বেছে রাখছেন।

18/10/2025

বাংলাদেশে কি হচ্ছে আসলে?

25/09/2025

জীবন কতই না অনিশ্চিত!

01/05/2025

দ্বীনদারীর ভিত্তি দুর্বল করে দেয়-কুরআন ত্যাগ। বিলম্বে সলাত। যিকির-ইবাদতহীন সময় কাটানো। গাফেলের সঙ্গ। দৃষ্টি ও যবানের লাগামহীনতা।
-শায়েখ আতিক উল্লাহ হাফি.

Send a message to learn more

পর্ন বা যেকোন যৌন আসক্তি বা বিকৃতি ছেড়ে দেবার একটা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে 'ডিজগাস্ট'। বাংলা অর্থ বিরক্তি। কিন্তু ড...
25/12/2024

পর্ন বা যেকোন যৌন আসক্তি বা বিকৃতি ছেড়ে দেবার একটা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে 'ডিজগাস্ট'। বাংলা অর্থ বিরক্তি। কিন্তু ডিজগাস্ট মানে বিরক্তির চেয়ে বেশিকিছু। ধরেন কাউকে গোবর খেতে দেখলে আপনার যে অনুভূতিটা হয়, বা মোটা মোটা শুয়োপোকা জ্যান্ত খেতে দেখলে। একটা ঘিনঘিনে ভাব, বা অভক্তি। যেমন আপনি শুনলেন পারস্যে আপন মা বা মেয়েকে বিয়ে করার রীতি ছিল আগে। এটা শোনার পর আপনার যেমনটা হচ্ছে শরীর-মনে। এইটাকে বলে ডিজগাস্ট। একটা ভেতরগত ঘৃণা + অভক্তি + বাধা + বিরক্তি। এই অনুভতিটা কীভাবে পর্ন বা হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রে আনা যায়?

আনার উপায় হল একটা সময়কাল পর্যন্ত আপনাকে এটা থেকে বিরত থাকতে হবে। ধরেন কথার কথা ১ মাস (একেক জনের একেক রকম হতে পারে) আপনি কোনোভাবে এসব থেকে দূরে থাকলেন।
- সব ডিভাইস ত্যাগ করতে পারেন। বিকল্প ডোপামিন সাপ্লাইয়ে ফোকাস করতে পারেন। সিরিয়াসলি আপনাকে এটা জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিতে হবে।
- তবলীগে চিল্লায় চলে যেতে পারেন ফোন রেখে বাটন ফোন নিয়ে।
- ৩ মাস বাটন ফোন ব্যবহার করতে পারেন।

মানে কোনোভাবে লম্বা একটা সময় আপনি এসব একদম বাদ দিবেন। এরপর যদি আপনি ঐ কাজ করতে যান, তখন ভেতর থেকে একটা সফট বাধা পাবেন। বেশ দুর্বল একটা ডিজগাস্ট অনুভব করবেন। যেমন আমার যেটা হয়েছিল তবলীগে ৩ চিল্লার সময় মেয়েমানুষ থেকে এমন নজরের হেফাজত করেছিলাম, ফিরে আসার পর কারও দিকে নজর করে তাকাতে পারতাম না, ডিজগাস্ট ফিল হতো। কিন্তু শর্ত হল, এই ডিজগাস্টটা আপনার কাজে লাগাতে হবে। একবার ডিজগাস্ট অতিক্রম করে কাজটা করে ফেললেই আবার কাজটা নর্মাল হয়ে যাবে আপনার কাছে। ডিজগাস্টটা আর থাকবে না। ডিজগাস্টকে কাজে লাগিয়ে আপনি নিজেকে ডিফোকাস করবেন, অন্য ডোপামিনদায়ী কাজে লেগে যাবেন, ডোপামিন পেলে ঐ ইচ্ছাটা চলে যাবে।

যেকোনো গুনাহের প্রতি ডিজগাস্ট কাজে লাগিয়ে ছাড়তে পারেন। ডিজগাস্টের বেড়াটা আর ডিঙাবেন না।

আপনাদের চেনাজানা কে কী টেকনিক ব্যবহার করে পর্ন ও হস্তমৈথুন থেকে মুক্তি পেয়েছে, কমেন্টে জানাতে পারেন। অন্যদের উপকার হবে।

গুনাহের কারণে তৎক্ষনাৎ কোন শাস্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হয়তো দেন না, তবে একটা নিয়ামত বান্দার হৃদয় থেকে তিনি তৎক্ষনা...
04/12/2024

গুনাহের কারণে তৎক্ষনাৎ কোন শাস্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হয়তো দেন না, তবে একটা নিয়ামত বান্দার হৃদয় থেকে তিনি তৎক্ষনাৎ তুলে নেন। সেটা হলো— ইবাদাতের আনন্দ৷

গুনাহ করার পর আন্তরিক তাওবা করার আগ পর্যন্ত বান্দা কোনোভাবেই তার ইবাদাতগুলোতে পূর্ণ আনন্দ এবং পূর্ণ উৎসাহ খুঁজে পায় না। গুনাহ করার ফলে তার হৃদয় থেকে সুকুন তথা প্রশান্তি হারিয়ে যায়। ফলে— সে সালাতে মনোযোগ দিতে পারে না, তিলাওয়াতে মনোযোগ দিতে পারে না, যিকির-আযকারে মনোযোগ দিতে পারে না।

গুনাহের দৃশ্যমান কোন শাস্তি না থাকলেও প্রাণহীন ইবাদাতের চাইতে বড় কোন শাস্তি একজন মুমিনের জন্য আর কিছু হতে পারে না।

✍ আরিফ আজাদ

গোটা সৃষ্টিজগতে এমন একটা বিন্দু, এমন একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা নেই যা তাঁর দৃষ্টির অন্তরালে। সাগরের বুকে তৈরি হওয়া...
29/11/2024

গোটা সৃষ্টিজগতে এমন একটা বিন্দু, এমন একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা নেই যা তাঁর দৃষ্টির অন্তরালে। সাগরের বুকে তৈরি হওয়া একটা ছোট্ট ঢেউ, সেই ঢেউয়ের আরো ভিতরে তৈরি হওয়া কম্পন, সেই কম্পনে ছিঁটকে যাওয়া একবিন্দু জল—সেই ঘটনাচিত্রও আল্লাহর দৃষ্টির আড়াল হতে পারে না।

গভীর সাগরতলে যে ক্ষুদ্র নুড়িকণা, সেই নুড়িকণার নিচে তার চেয়েও ক্ষুদ্র যে প্রাণী, সেই প্রাণীর গায়ে থাকা তারচেয়েও ক্ষুদ্র বালিকণা—সেটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা দেখেন।

ঘন গহীন অরণ্য, যেখানে আজতক কোন মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি, গাছেদের ডালপালার ঘনত্বকে ফুঁড়ে যেখানে পৌঁছাতে পারে না সূর্যের প্রখর রশ্মি, প্রকাশ্য দিবালোকেও অন্ধকারে ডুবে থাকা সেই জঙ্গলের একেবারে অবহেলিত কোণে বেড়ে উঠা একটা ছোট্ট আগাছা, যার ডগায় আজ নতুন একটা কুঁড়ি বের হয়েছে, যে কুঁড়ির সন্ধান হয়তো কোনোদিন কোন মৌমাছি পাবে না, যে কুড়ি থেকে প্রস্ফুটিত ফুলে কোনোদিন বসবে না কোন প্রজাপতি—সেই অজানা, অবহেলিত ফুলও আল্লাহর দৃষ্টির অন্তরালে নেই।
'কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ' বই থেকে...

12/11/2024

মোহাম্মদপুরের একটা ছোট মসজিদে আসরের নামায শেষ করার পর পরই ইমাম সাহেব জানালেন একটা জানাজার নামাজ আছে। সবাই যেন একটু অপেক্ষা করি।

একটু টেনশনে পড়ে গেলাম। গাড়িটা খুব ভালো জায়গায় পার্ক করে আসিনি। আশেপাশে কয়েকটা বখাটে টাইপ ছেলেকে আড্ডা দিতে দেখে এসেছি। সাইড মিরর দুইটা খুলে নিয়ে গেলে অনেকগুলো টাকা নেমে যাবে।

হাদিসে আবার জানাজার নামাজ পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। জানাজার নামাজ মানে নিজের জন্য একটা সেলফ রিমাইন্ডার। তাই হঠাৎ মনে হল জানাজাটা পরেই যাই, আল্লাহ ভরসা।

ইমাম সাহেব জানালেন, একজন মহিলা মারা গিয়েছেন। ভদ্রমহিলার স্বামী আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবেন।

একজন সত্তরোর্ধ্ব বয়স্ক লোক। সাদা পাঞ্জাবি পরা, দাঁড়িগুলোও ধবধবে সাদা।

ভদ্র লোক শুরু করলেন........

আসসালামু-আলাইকুম,

আপনারা হয়ত আমাকে চিনবেন না। আমি এলাকাতে নতুন এসেছি। আমার স্ত্রী আজ সকালে ফজরের নামাজের পর আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।

আমরা একসাথে গত ৪৫ বছর ধরে সংসার করছি। একটা ছোট সরকারী চাকরী দিয়ে আমি সংসার জীবন শুরু করেছিলাম।

সারাজীবন চেষ্টা করেছি সৎ থাকার জন্য। আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে পারি জীবনে কোনদিন এক টাকা অসৎ ভাবে আয় করিনি।

সৎ থাকার কারণে আয়ও ছিল খুব সামান্য। আমাদের তিন ছেলে এবং দুই মেয়ে ছিল। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাকেও কিছু টাকা পাঠাতে হতো। কখনো কখনো মাস শেষ হওয়ার আগে আমার বেতনের টাকা ফুরিয়ে যেত।

আমার সহকর্মীদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে গরীব ছিলাম। কিন্তু আমার স্ত্রীর কারণে আমি এটা কখনোই উপলব্ধি করতে পারিনি। উনি যে কিভাবে সবকিছু ম্যানেজ করতেন একমাত্র উনিই জানেন।

আমার সাধ্যের বাইরে জীবনে কখনো কোনদিন উনি কিছু দাবি করেননি। জীবনে কখনো আমাকে এটা বলেন নি যে, আপনি আমাকে এটা দিলেন না, ওটা দিলেন না। কখনো আমাকে আমার সামর্থ্য নিয়ে কষ্ট দিয়ে উনি কোনো কথা বলেননি। আজীবন ওনাকে শুধু সন্তুষ্টই দেখেছি।

আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার আগের শেষের ৪-৫ বছর আমার সাথেই থাকতেন। আমার স্ত্রী আমার মা-বাবারও যথেষ্ট খেদমত করেছেন। কখনো আমাকে এটা বলেন নি যে, আপনার মা-বাবার খেদমত করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

সত্যি কথা বলতে পেনশনের টাকা পাওয়ার পর হজে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আমি উনাকে তেমন কিছুই দিতে পারিনি। তারপরও উনি কোনদিন আমাকে কষ্ট দিয়ে কথা বলেননি।

আমার স্ত্রী একজন নেককার মানুষ ছিলেন। উনি উত্তম আচরণের অধিকারী ছিলেন। আত্মীয়তার হক রক্ষা করেছেন। পরোপকারী ছিলেন, স্বামী-সন্তানদের হক আদায় করেছেন। উনাকে আমি কখনো কোন নামায কাযা করতে দেখিনি, আজীবন পর্দা রক্ষা করে চলেছেন। উনি ধৈর্যশীল ছিলেন এবং অল্পে সন্তুষ্ট ছিলেন।

এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে ভদ্রলোক একটু দম নেওয়ার জন্য থামলেন।

এরপর আবার বলতে শুরু করলেন,

আমি আসলে আমার স্ত্রীর হয়ে আপনাদের কাছে মাফ চাওয়ার জন্য এখানে কথা বলছি না। যে নারী ৪৫ বছর ধরে তার স্বামী-সন্তান এবং আত্মীয়দের হক রক্ষা করে চলেছেন তিনি অন্য কারো হক নষ্ট করতে পারেন না।

একজন জান্নাতি নারীর মধ্যে যা যা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন তার সবই আমার স্ত্রীর মাঝে ছিল। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ উনাকে জান্নাত নসিব করবেন।

আমি নিজে জান্নাতে যেতে পারবো কিনা আমি জানি না। আপনারা শুধু এই দোয়া করবেন আমি যেন আমার স্ত্রীর সাথে জান্নাতে একত্রিত হতে পারি।

আর আপনারা সাক্ষী থাকেন আমি আমার স্ত্রীর উপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আল্লাহ যেন উনাকে মাফ করে দেন।

পুরো মসজিদ ভর্তি মুসল্লী একসাথে বলে উঠল আমিন,আমিন, আমিন।

সাধারণত জানাজার নামাজের আগে মৃতের লোকজন সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের বক্তব্য দেন। এই ভদ্রলোক টানা চার-পাঁচ মিনিট তার স্ত্রী সম্পর্কে বললেন।

কোন মুসল্লী এতোটুকু বিরক্তি প্রকাশ করলেন না। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো একজন জান্নাতি নারীর কথা শুনলেন।

হাদিসে এসেছে, একজন মুমিন-মুমিনার জীবনে তার রবের তরফ থেকে সর্বোত্তম রিযিক হচ্ছে একজন নেককার স্বামী এবং স্ত্রী। এই ভদ্রলোকের কথা থেকে যেন সরাসরি এই হাদীসের প্রমাণ পেলাম।

মসজিদ থেকে বের হলাম একটা অপূর্ব ভালো লাগা নিয়ে। সুখী মানুষদের কথা শোনার মধ্যেও একটা সুখ আছে। চাচা আর চাচি অত্যন্ত সুখী মানুষ ছিলেন। এই সুখ স্রষ্টা সরাসরি তাদের অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন ❤️

- শাহরিয়ার আহমেদ সাদিব

05/11/2024

তাকদিরের উপর বিশ্বাস রাখলে জীবন সহজ হয়ে যায়; দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘জমিনে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোনো মুসিবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিখে রাখি না—নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ—যাতে তোমরা সে বিষয়ে আফসোস না করো, যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে এবং তোমরা সে বিষয়ে উৎফুল্ল না হও, যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন। আর আল্লাহ কোনো উদ্ধত ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।” [সুরা হাদিদ, আয়াত: ২২-২৩]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘জেনে রেখো, সমস্ত মানুষ জড়ো হয়ে যদি তোমার উপকার করতে চায়, কোনও উপকার করতে পারবে না, কেবল যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন (তা ব্যতীত)। আবার, তারা সকলে মিলে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, তবে কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, কেবল যততুটু আল্লাহ তোমার কপালে লিখে রেখেছেন (তা ব্যতীত)। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কিতাব শুকিয়ে গেছে (তাকদির নির্ধারিত হয়ে গেছে)।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৪৪০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
তাই, এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, যা আমি পাইনি, তা আমার ছিলো না আর যা আমি পেয়েছি তা আমার জন্যই নির্ধারিত ছিলো।

-Tasbeeh

Address

Pabna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অনুপ্রেরণা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share