বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির

বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ।। জয় মা বিজয়ার জয় ।। বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির; প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৯৭ইং, চৌমুহনী, নোয়াখালী।

দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা কেন করা হয়? Why Virgin Girls are Worshiped During Durga Puja?কুমারী পূজা, ১৯০১ সালে স্বামী বিবে...
13/10/2021

দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা কেন করা হয়? Why Virgin Girls are Worshiped During Durga Puja?
কুমারী পূজা, ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে, বেলুড় মঠ থেকে শুরু হওয়া, বাঙ্গালী হিন্দুদের দুর্গাপুজোর এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী বা মহানবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। কিন্তু সনাতন ধর্মের বহু শাস্ত্রগ্রহ্নথে কুমারী পুজার নির্দেশনা থাকলেও মাত্র ১০০ বছর আগে শুরু হয়েছে এই পুজোর সংস্কৃতি। আপনাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আজ আমাদেরও আলোচনার বিষয় এই কুমারী পূজা।

ছোট বেলা থেকেই রামায়ন ও মহাভারতে আমরা অনেক বড় বড় যজ্ঞের কথা শুনে এসেছি। এই দুর্গোৎসবের একটি বড় অঙ্গ হচ্ছে কুমারী পূজা। কুমারী পূজা নিয়ে আমাদের মধ্যে যেন কৌতূহলের কমতি নেই। ভারত ও বাংলাদেশের রামকৃষ্ণ মিশনসহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে অষ্টমীর মহাতিথিতে এই কুমারী পূজা হয়ে থাকে। তবে মতান্তরে মহানবমী তিথিতেও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। হিন্দু শাস্ত্রমতে নারীকে সন্মান ও শ্রদ্ধার আসনে বসাতে এবং দেবীর কুমারী রুপের অর্চনা করতেই এই পূজার বিধান দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও“নিজেদের পশুত্বকে সংযত রেখে নারীকে সন্মান জানানোই”- কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য।


বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তখন শরৎকাল, দক্ষিণায়ণ। দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই, ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করলেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বললেন, বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করতে। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার রাশির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, এই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা। তিনি বোধন- স্তবে তাঁকে জাগরিত করলেন। ব্রহ্মার স্তবে জাগরিতা দেবী বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চণ্ডিকামূর্তি ধারন করলেন।

অন্যমতে কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে থেকে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিযে় দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

কেউ কেউ বলে থাকেন, সেকালে মুনিঋষিরা কুমারীপুজোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে পুজো করতেন। প্রকৃতি মানে নারী। সেই প্রকৃতিরই আর এক রূপ কুমারীদের মধ্যে দেখতে পেতেন তাঁরা। তাঁরা বিশ্বাস করতেন মানুষের মধ্যেই রয়েছে ঈশ্বরের অযুত প্রভাব। কারণ মানুষ চৈতন্যযুক্ত। আর যাঁদের সৎ মন কলুষতামুক্ত, তাঁদের মধ্যে আবার ঈশ্বরের প্রকাশ বেশি। কুমারীদের মধ্যে এই গুণগুলি থাকে মনে করেই তাদের বেছে নেওয়া হয় এই পুজোর দেবী হিসেবে।


তন্ত্রসার মতে, “১ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বালিকারা কুমারী পূজার উপযুক্ত; তবে তাদের অবশ্যই ঋতুমতি হওয়া চলবে না।” মেরুতন্ত্রে বলা আছে, “সর্বকামনা সিদ্ধির জন্য ব্রাহ্মণ কন্যা, যশোলাভের জন্য ক্ষত্রিয় কন্যা, ধনলাভের জন্য বৈশ্য কন্যা ও পুত্র লাভের জন্য শূদ্রকূল জাত কন্যা কুমারী পূজার জন্য যোগ্য।” গুণ ও কর্ম অনুসারেই এই জাতি বা বর্ণ নির্ধারিত হয়। সেইজন্যই প্রচলিত শাস্ত্র অনুসারে, বিভিন্ন মিশন ও মন্দিরগুলোতে সর্ব মঙ্গলের জন্য ব্রাহ্মণ কন্যাকেই দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। সকল নারীর মধ্যই বিরাজিত রয়েছে দেবীশক্তি। তবে কুমারী রূপেই মা দুর্গা বিশেষভাবে প্রকটিত হয়েছিলেন। তাই, কুমারী রূপে নারীকে দেবীজ্ঞানে সন্মান জানানোর একটি বাস্তব উদাহরন হচ্ছে “কুমারী পূজা”। ঈশ্বরের ভাব অনন্ত, তাই যে কোনও ভাব অবলম্বন করে ঈশ্বরকে আরাধনা করা যায়। সেজন্য পূজারীরা কুমারী মাতৃরূপে ঈশ্বরকে আরাধনা করেন। কুমারী পূজা মাতৃরূপে ইশ্বরেরই একটি আরাধনা।

মনু সংহিতায় বলা হয়েছে,

যেখানে নারীরা পূজিত হন সেখানে দেবতার প্রসন্ন। যেখানে নারীরা সম্মান পান না, সেখানে সব কাজই নিষ্ফল।

আবার মহাদেব যোগিনী শাস্ত্রে বলেছেন,

শতকোটি জিহ্বায় কুমারী পূজার ফল ব্যক্ত করতে পারব না।

কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারীকন্যাকে নির্বাচন করা হয়। সাধারণত অষ্টমী বা নবমীতে কুমারী পূজা করা হয়।

দেবী পুরাণে কুমারী পুজোর সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পুজোর উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পুজো করার বিধান রয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ। কুমারী পুজোর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মাঠে নয় কুমারীকে পুজো করেন। তখন থেকে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর অষ্টমী তিথিতে বেলুড় মঠে মাহা ধুমধাম করে এই পুজোর প্রথা চলে আসছে। এছাড়াও কালীপূজা, জগদ্ধাত্রীপূজা এবং অন্নপূর্ণা পূজা উপলক্ষে এবং কামাখ্যাদি শক্তিক্ষেত্রেও কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে।




মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী দেবী মন্দিরে ও কন্যাকুমারীতেও মহা ধুমধামের সঙ্গে কুমারী পুজো হয়। কথিত আছে, কুমারীপুজো ছাড়া হোম-যজ্ঞ করেও দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। কুমারীপুজোর আগে সাধক কুমারীকে নতুন বস্ত্র, ফুলের মালা ও মুকুটে সাজান। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর ও তিলক সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তোলেন।

যোগিনীতন্য, কুলার্ণবতন্য, দেবীপুরাণ, স্তোত্র, কবচ, সহস্রনাম, তন্যসার, প্রাণতোষিণী, পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হযে়ছে। বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয়। তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সকল কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত

আলোচ্যসূচী
এক বছরের কন্যা — সন্ধ্যা
দুই বছরের কন্যা — সরস্বতী
তিন বছরের কন্যা — ত্রিধামূর্তি
চার বছরের কন্যা — কালিকা
পাঁচ বছরের কন্যা — সুভগা
ছয় বছরের কন্যা — উমা
সাত বছরের কন্যা — মালিনী
আট বছরের কন্যা — কুষ্ঠিকা
নয় বছরের কন্যা — কালসন্দর্ভা
দশ বছরের কন্যা — অপরাজিতা
এগারো বছরের কন্যা — রূদ্রাণী
বারো বছরের কন্যা — ভৈরবী
তেরো বছরের কন্যা — মহালপ্তী
চৌদ্দ বছরের কন্যা — পীঠনাযি়কা
পনেরো বছরের কন্যা — ক্ষেত্রজ্ঞা
ষোলো বছরের কন্যা — অন্নদা বা অম্বিকা
এক বছরের কন্যা — সন্ধ্যা
দুই বছরের কন্যা — সরস্বতী
তিন বছরের কন্যা — ত্রিধামূর্তি
চার বছরের কন্যা — কালিকা
পাঁচ বছরের কন্যা — সুভগা
ছয় বছরের কন্যা — উমা
সাত বছরের কন্যা — মালিনী
আট বছরের কন্যা — কুষ্ঠিকা
নয় বছরের কন্যা — কালসন্দর্ভা
দশ বছরের কন্যা — অপরাজিতা
এগারো বছরের কন্যা — রূদ্রাণী
বারো বছরের কন্যা — ভৈরবী
তেরো বছরের কন্যা — মহালপ্তী
চৌদ্দ বছরের কন্যা — পীঠনাযি়কা
পনেরো বছরের কন্যা — ক্ষেত্রজ্ঞা
ষোলো বছরের কন্যা — অন্নদা বা অম্বিকা
হিন্দুশাস্ত্রে এসব নাম জগত মাতার স্বরূপের এক একটি গুণ প্রকাশ করে। প্রায় সর্বজাতীয় কুমারী কন্যাকেই কুমারীরূপে পূজা করা যেতে পারে। তবে কুমারী পূজার জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের কুমারীকন্যাকে মনোনীত করা হয়।

কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব হলো নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে, সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশ্বজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে; তাই তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়, পূজ্যা। পৌরাণিক কল্পকাহিনিতে বর্ণিত আছে, এ ভাবনায় ভাবিত হওয়ার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পূজা করেছিলেন।

15/06/2020
দেবী কালী কে, উৎপত্তি, বিকাশ, ইতিহাস, সেকালের কালীপূজা:সনাতন ধর্মমতে কালী বা কালিকা হচ্ছেন শক্তির দেবী। কাল শব্দটির অর্থ...
27/08/2019

দেবী কালী কে, উৎপত্তি, বিকাশ, ইতিহাস, সেকালের কালীপূজা:

সনাতন ধর্মমতে কালী বা কালিকা হচ্ছেন শক্তির দেবী। কাল শব্দটির অর্থ সময় হতে পারে, আবার এটা রং ও বুঝাতে পারে কাল তথা কৃষ্ণবর্ণ, এর অর্থ হতে পারে মৃত্যুবোধক। যেমন আমরা বলি- ‘কাল’এসে গেছে, মৃত্যুর সময় সমাসন্ন, মহাকাল এসে গেছে। দেবীর নাম মহাকালীও বটে। কালীর নাম কাল না হয়ে কালী হলো এ কারণে যে শিবের অপর নাম কাল, যা অনন্ত সময়কাল বোধক। কালী হচ্ছে কাল এর স্ত্রীলিঙ্গ বোধক। মা কালী মা দুর্গা বা পার্বতী’র সংহারী রূপ। ঊনবিংশ শতাব্দীর সংস্কৃত ভাষার বিখ্যাত অভিধান শব্দকল্পদ্রুম এ বলা হচ্ছে ‘কাল শিবহ্। তস্য পত্নতি কালী।’ অর্থাৎ শিবই কাল বা কালবোধক। তাঁর পত্নী কালী। কালী হচ্ছেন মা দুর্গার বা পার্বতীর অপর ভয়াল রূপ। তিনি সময়ের, পরিবর্তনের, শক্তির, সংহারের দেবী। তিনি কৃষ্ণবর্ণা বা মেঘবর্ণা এবং ভয়ংকরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভয়ংকরেরও পূজা করেন। তিনি অশুভ শক্তি’র বিনাশ করেন। তাঁর এই শক্তি’র পূজা সনাতন সমাজকে প্রভাবিত করেছে, বিশুদ্ধ শক্তি সঞ্চারিত করেছে, অন্তর শুদ্ধি দিয়েছে, দুর্দিনের দুর্বলতায় সাহস দিয়েছে। শাক্ত সৃষ্টিতত্ত্ব মতে এবং শাক্ত-তান্ত্রিক বিশ্বাস মতে তিনিই পরম ব্রহ্ম। কালীকে এই সংহারী রূপের পরেও আমরা মাতা সম্বোধন করি। তিনি সন্তানের কল্যাণ চান তিনি মঙ্গলময়ী, তিনি কল্যাণী এটাই তাঁর প্রতি সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল আস্থা ও নির্যাস। অসুররক্ত স্নাত কোপান্বিতা এই দেবীর সংহারী মূর্তিতে কিছুটা নিবৃত্ত ও প্রশমিত করতে শিব তাঁর চলার পথে শুয়ে থাকলেন। দেবী পথ চলতে গিয়ে তাঁর স্বামী শিবকে পায়ে মাড়ালেন। এই পাদস্পৃষ্ঠতার লজ্জায় ও তার অনুশোচনায় মায়ের জিহ্বায় কামড় পড়লো। তাঁর কোপভাব স্থিমিত হলো, ছেদ পড়লো।
কালীকে যদি, বলি কল্পনা তবে সেই কল্পনাও ধর্মে বর্ণিত হয়েছে বর্তমান বিজ্ঞানের ধারণার হাজার হাজার বছর আগে। এ কথা বিজ্ঞান প্রথমতঃ স্বীকার করে যে, সৃষ্টির আদি যুগে অনন্ত ব্রহ্মা- ছিল নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত, নিশ্চিদ্র তমসায় আবৃত, অনন্ত সৃষ্টিতে তখনো আলোর সৃষ্টি হয়নি। রবি শশী তারা বা কোন আলোকবর্তিকা তখনো ছিলনা। বিজ্ঞান মতে আলোর সৃষ্টির আগে অন্ধকার ছিল। এ বর্ণনায় কান পেতে শুনলে আমরা দেখি কৃষ্ণবর্ণা মা কালী সেই যুগের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ধর্ম ও বিজ্ঞানের এখানে অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। দ্বিতীয়তঃ বিজ্ঞানের ‘বিগ্ ব্যাংগ্ তত্ত্ব’ মতে কাল বা সময় তখন সবে মাত্র সৃষ্টি হয়েছে, কাল্ বা সময় যখন সৃষ্টি হলো তথা যে দিন ভূমিষ্ঠ হলো, সেদিন নির্ধারিত হলো সেই কালেরও শেষ আছে, সংহার আছে। বিশ্ব ব্রহ্মা- সৃষ্টি যখন হয়েছে সময় এলে তা ধ্বংসও হবে। তার লয়ও অবশ্যম্ভাবী। কালী এই সংহারের প্রতিভূ, তিনি কাল এর জীবন্তকালের সীমারেখার নির্ধারণকৃত। তৃতীয়তঃ বিজ্ঞানীরা সৃষ্টির প্রথম যুগের মহাবিশ্বের যে বর্ণনা দেন তা ভয়াল ভীষণ তার মধ্যে সৃষ্টির চাইতে ধ্বংসই বেশী। প্রবল সংহারের মধ্যে দিয়ে অনন্ত ব্রহ্মা-ের সৃষ্টি। মা কালী সেই সংহারের প্রতিভূ তিনি ভয়াল দর্শনা সংহারের দেবী। সৃষ্টির সেই ক্রমবিকাশের যুগেই মা কালী মা জগজ্জননী প্রবল সংহারের মধ্যে দিয়েই তাঁর সৃষ্টি ও তাঁর কল্যাণময় রূপকে আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। মা কালী যুগপৎ কাল, কৃষ্ণবর্ণ এবং সংহারের দেবী। কিছুই ছিল না, তখন দেবী ছিলেন। এই মাতৃপূজা মাতৃমূর্তি হিন্দুধর্মের আদিকথা।
অথর্ব বেদ-এ কালীর উল্লেখ থাকলেও বিশেষ হিসেবে কথক গ্রাহ্য সূত্রে(১৯.৭) প্রথমবার কালীর উল্লেখ ঘটে। কালী অগ্নিদেবের সাতটি জিহ্বার একটি নাম, অগ্নিদেব হচ্ছেন আগুনের ঋগ্বেদীয় দেবতা যার উপস্থিতি মুণ্ডুক উপনিষদে বর্তমান; তবে এখানে কালী বলতে দেবী কালীকেই উল্লেখ করা হয়েছে এটা নির্ণীত করা কঠিন। কালী’র বর্তমান রূপের উপস্থিতি আমরা পাই মহাভারতের সুপ্তিকা পার্বণে, যেখানে তিনি কালরাত্রি হিসেবে অভিহিতা, যিনি পাণ্ডব সৈন্যদের স্বপ্নে দৃশ্যমান এবং পরে দ্রোণাচার্য পুত্র অশ্বত্থামা যখন তাদের আক্রমণ করলেন তখন তিনি প্রকৃত স্বরূপে আবির্ভূতা। মহাদেবী’র একটি শক্তি হিসেবে তিনি ষষ্ঠ শতাব্দীর ‘দেবী মাহাত্ম্যম’এ প্রসিদ্ধ, এবং ‘রক্তবীজ’ নামক অসুরকে পরাভূতকারী দেবী হিসেবে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখিত। রক্তবীজকে নিশ্চিহ্ন করতে দেবী নরসিংহী, বৈষ্ণবী, কুমারী, মহেশ্বরী, ব্রাহ্মী, বরাহী, ঐন্দ্রী, চামু- বা কালী এই অষ্ট-মাতৃকা রূপে সংস্থিতা। দশম শতাব্দীর ‘কালিকা পুরাণে’ পরম সত্য হিসেবে কালীকে স্তুতি করা হয়। তবে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র এক দেবী হিসেবে ষষ্ঠ শতাব্দীতে কালী প্রথম উল্লেখিত। এবং এ সকল তন্ত্রে গ্রন্থে তিনি বহির্বৃত্তে বা প্রান্তিক সীমায় বা যুদ্ধ ক্ষেত্রে স্থিতা বা দণ্ডায়মানা দেবী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি শিবের শক্তিরূপে চিহ্নিতা, এবং বিবিধ পুরাণে শিবের উপস্থিতির সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্তা। কালিকা পুরাণে তাঁকে বলা হচ্ছে ‘আদি শক্তি’, তিনি প্রকৃতির সীমার বাইরেও অধিষ্ঠাত্রী ‘পরা প্রকৃতি’।
১৬৯৯ শকাব্দে (১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে) কাশীনাথ বিরচিত ‘শ্যামাসপর্যায়বিধি’তে এ পূজার সর্বপ্রথম উল্লেখ লক্ষনীয়। পূজার প্রমাণস্বরূপ এ গ্রন্থে পুরাণ ও তন্ত্রের বচন উল্লেখিত। সপ্তদশ শতাব্দীতে বলরাম বিরচিত কালিকা মঙ্গলকাব্যে একটি বাৎসরিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান কালীকে নিবেদিত মর্মে উল্লেখিত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় প্রথম কালীপূজার প্রবর্তন করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে কালীপূজা বাংলায় বিশেষ প্রাধান্য লাভ করে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ঈশানচন্দ্র এবং কোলকাতার সমাজের বিত্তবান ও উচ্চশ্রেণীর লোকজনের মধ্যে এ পূজার প্রচলন বৃদ্ধি পায়। ক্রমে দুর্গা পূজার সাথে সাথে কালী পূজাও বিশেষত বাংলায় একটি প্রধান হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়।
শিবের উপর দণ্ডায়মানা কেন তার তিনটি ব্যাখ্যা বর্তমান এর একটি প্রচলিত কাহিনী, একটি পৌরাণিক, অন্যটি তান্ত্রিক ব্যাখ্যা। এটা বলা হয়ে থাকে যে শক্তি ছাড়া শিব হচ্ছে শব। শিবের উপর দন্ডায়মানা কালী এটাই বুঝায় যে শক্তি বাদ দিলে বস্তু মৃতমাত্র। পৌরাণিক ব্যাখ্যা মতে, পার্বতী একদিন স্বামীকে প্রশ্ন করলেন তার দশটি রূপের মধ্যে কোনটি শিবের পছন্দ ? বিস্মিত পার্বতী শুনলেন, কালীর ভয়াল মূর্ত্তিতেই শিবের সাচ্ছন্দ্য। এই ধারণাটি দেবী ভাগবত পুরাণে ব্যাখাত। দ্বাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর ভক্তিমূলক শ্যামাসঙ্গীতেও মায়ের বর্তমান রূপের এই ধারণাটি গুরুত্ব পেয়েছে। তান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁর ভয়াল রূপ সত্ত্বেও রাত দুপুরে শ্মশানে তাঁর মুখোমুখি হওয়ার সাহস অর্জন এবং অন্যদিকে তাঁর প্রতি বাঙালিদের শিশুর মতো শর্তহীন ভালবাসা উভয় ক্ষেত্রে মৃত্যুর সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও তাকে মেনে নেওয়াই মুখ্য কাজ।
দুর্গার মতো কালীও সাধারণ সর্বজনীন হিসেবে বিবেচিত। সবচেয়ে সরাসরি বহুল ভাবে তিনি পূজিতা হন মহাকালী বা ভদ্রকালী রূপে। আদি পরাপ্রকৃতি (দেবী দুর্গা) অথবা ভাগ্যবতীর দশমহাবিদ্যা রূপের একটি রূপে কালী পূজিতা হন। দেবী বন্দনার এই স্তোত্রকে বলা হয় দেবী অর্গলা স্তোত্রম্ যা নি-রূপ
'‘ওঁ সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বাত্ব সাধিকে স্মরণ্যে স্ত্রম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে। ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী দুর্গা ক্ষমা শিবা ধাত্রী স্বাহা সদা নমোহস্তুতে।’'
মধ্যযুগের শেষের দিকে বাঙালীর ভক্তিমূলক সাহিত্যে কালী ব্যাপক স্থান নিয়ে বিরাজমান। সাধক রামপ্রসাদ সেন(১৭১৮-১৭৭৫) এর মতো কালীভক্ত উপাসকরা কালীকে নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য ভক্তিমূলক গান। অথচ শিবপত্নী হিসেবে পার্বতীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে নানা কাহিনীতে উচ্চারিত হওয়া ছাড়া কালীকে অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে বাঙালীর ঘরে ঘরে আবাহনী গেয়ে পূজিত হতে কদাচিৎ দেখা গেছে। আর বাঙালির ঘরে তাঁর ভয়াল রূপের বর্ণনা, বৈশিষ্ট, অভ্যাসসমূহ উল্লেখযোগ্য কোন রূপান্তর ঘটেনি। বাংলাদেশে অনেক কালী মন্দির আছে। এর অনেকগুলোই সুপ্রাচীন। অধুনা লুপ্ত ঢাকার রমনা কালী মন্দির তেমনি একটি পুরাতন কালী মন্দির। ব্রহ্মযামলে উল্লেখ আছে ‘কালিকা বঙ্গদেশে চ’, অর্থাৎ, ‘বঙ্গদেশে দেবী কালিকা বা কালী নামে পূজিতা হন।’ নানা রূপে নানা স্থানে কালী পূজিতা হন, যেমন দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী গুহ্যকালী, মহাকালী, চামুণ্ডা ইত্যাদি নামে মাহাত্ম্যে এ কালীর মধ্যে কিছু কিছু ভিন্নতা বর্তমান। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্দিরে দশমহাবিদ্যা ব্রহ্মময়ী, ভবতারিণী, আনন্দময়ী, করুণাময়ী ইত্যাদি নামে কালী’র পূজা হয়। চট্টগ্রাম শহরের চট্টেশ্বরী শ্রী কালীবাড়ী, গোলপাহাড় শ্মশান কালীবাড়ী, দেওয়ানহাটের দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ী,সদরঘাট কালীবাড়ী, পটিয়া পিঙ্গলা কালীবাড়ী, ধলঘাট বুড়াকালীবাড়ী সহ চট্টগ্রামে অনেক প্রসিদ্ধ কালী মন্দির বর্তমান। এর প্রায় প্রত্যেকটিতে প্রত্যেক শনি ও মঙ্গলবার এবং অমাবস্যায় কালীপূজা হয়। আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা’র দিন কালীপূজা বিশেষভাবে পালিত হয়।

জয় মা কালী 🙏 জয় মা বিজয়া

08/08/2018

বিঃদ্রঃপঞ্জিকা অনুসারে মঙ্গলবার সকাল 7/52 মিনিট পর্যন্ত দশমী তিথি থাকার কারণে এটা দশমী বিদ্ধ একাদশী ।তাই এই ধরনের একাদশী উপবাস দ্বাদশী দিনে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।কারণ>> দশমী তিথি যেই একাদশীতে যোগ থাকে তাতে অসুর সন্নিহিত থাকে।আর দ্বাদশী তিথি যোগ থাকলে ভগবান বিষ্ণু বা নারায়ণ তাতে অবস্থান করেন। কাজেই আজ উপবাস পালন করছি।আপনি??
======হরেকৃষ্ণ!শুভ সকাল======
পারণা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল 5/27 হইতে 9/47 এর মধ্যে। #কামিকা_একাদশী_মাহাত্ম্য>>>>>
শ্রাবণ কৃষ্ণপক্ষীয়া কামিকা একাদশীর কথা ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে যুধিষ্ঠর- শ্রীকৃষ্ণ-সংবাদে বলা হয়েছে। যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে গোবিন্দ! হে বাসুদেব! শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম এবং মাহাত্ম্য সবিস্তারে আমার কাছে বর্ণনা করুন। তা... শুনতে আমি অত্যন্ত কৌতুহলী। প্রত্যুত্তরে ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! পূর্বে দেবর্ষি নারদ প্রজাপতি ব্রহ্মাকে এই প্রশ্ন করলে তিনি যে উত্তর প্রদান করেছিলেন আমি এখন সেই কথাই বলছি। আপনি মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করুন। একসময় ব্রহ্মার কাছে ভক্তশ্রেষ্ঠ নারদ জিজ্ঞাসা করলেন-হে ভগবান! শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি, এর আরাধ্য দেবতা কে, সেই ব্রতের বিধিই বা কিরকম এবং এই ব্রতের ফলে কি পুণ্য লাভ হয় তা সবিশেষ জানতে ইচ্ছা করি।
আপনি কৃপা করে আমাকে তা জানালে
আমার জীবন ধন্য হবে।
==========================
শ্রীনারদের কথা শুনে ব্রহ্মা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। তিনি বললেন-হে বৎস! জগৎ জীবের মঙ্গলের জন্য আমি তোমার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিচ্ছি, তুমি তা শ্রবণ কর। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ‘কামিকা’ নামে জগতে প্রসিদ্ধা। এই একাদশীর মাহাত্ম্য শ্রবণে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়। ভগবান শ্রীহরির পূজা- অর্চনা অপরিমিত পূর্ণ ফল প্রদান করে। গঙ্গা গোদাবরী কাশী নৈমিষ্যারণ্য পুষ্কর ইত্যাদি তীর্থ দর্শনের সমস্ত ফল একমাত্র কৃষ্ণপূজার মাধ্যমে কোটিগুণ লাভ করা যায়। সাগর ও অরণ্য যুক্ত পৃথিবী দানের ফল,দুগ্ধবতী গাভী দানের ফল অনায়াসে এই ব্রত পালনে লাভ হয়। যারা পাপপূর্ণ সাগরে নিমগ্ন এই ব্রতই
তাদের উদ্ধারের একমাত্র সহজ উপায়।
==========================
এইরকম পবিত্র পাপনাশক শ্রেষ্ঠ ব্রত আর জগতে নেই।শ্রীহরি স্বয়ং এই মাহাত্ম্য কীর্তন করেছেন।রাত্রি জাগরণ করে যারা এই ব্রত পালন করেন তাঁরা কখনও দু:খ-দুর্দশাগ্র স্ত হন না। এই ব্রত পালনকারী কখনও নিম্নযোনি প্রাপ্ত হন না। কেশবপ্রিয়া তুলসীপত্রে যিনি শ্রীহরির পূজা করেন পদ্মপাতায় জলের মতো তিনি পাপে নির্লিপ্ত থাকেন। তুলসীপত্র দিয়ে বিষ্ণুপূজায় ভগবান যেমন সন্তুষ্ট হন, মণিমুক্তাদি মূল্যবান রত্ন মাধ্যমেও তেমন প্রীত হন না। যিনি কেশবকে তুলসীমঞ্জরী দিয়ে পূজা করেন তার জন্মার্জিত সমস্ত পাপ ক্ষয় হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মা বললেন- হে নারদ! যিনি তুলসীকে প্রত্যহ দর্শন করেন তার সকল পাপরাশি বিদূরিত হয়ে যায়, যিনি তাঁকে স্পর্শ করেন তার পাপমলিন দেহ পবিত্র হয়, তাঁকে প্রণাম করলে সমস্ত রোগ দূর হয়, তাঁকে জল সিঞ্চন করলে যমও তার কাছে আসতে ভয় পান। শ্রীহরিচরণে তুলসী অর্পিত হলে ভগবদ্ভক্তি লাভ হয়। তাই হে
কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনী তোমায় প্রণাম করি।
==========================
যে ব্যক্তি হরিবাসরে ভগবানের সামনে দীপদান করেন চিত্রগুপ্তও তাঁর পু্ণ্যের সংখ্যা হিসাব করতে পারে না। তার পিতৃপুরুষেরাও পরম তৃপ্তি লাভ করেন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! আমি আপনার কাছে সর্বপাপহারিনী ‘কামিকা’ একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করলাম। অতএব যিনি ব্রহ্মহত্যা ভ্রুণহত্যা-পাপব িনাশিনী, মহাপুণ্যফলদায়ী এই ব্রত পালন করবেন ও এই মাহাত্ম্য শ্রদ্ধা সহকারে পাঠ অথবা শ্রবণ করবেন তিনি সর্বপাপ থেকে মুক্ত হযে বিষ্ণুলোকে গমন করবেন।"হরেকৃষ্ণ"

13/06/2018

মাছ ও মাংস খাওয়া শিখিয়েছে কে????
→→কৃপা করে শেয়ার করুন...👏
অনেকে প্রশ্ন করে থাকে যে সনাতন
ধর্মাম্বলম্বীরা কি আগে থেকেই মাছ মাংস খেত
নাকি কেউ আমাদের শিখিয়েছে?
তাঁর উত্তর সুন্দরভাবে মহাভারতে বর্ণনা আছে ।
আসলে বৈদিক শাস্ত্র ঘাটলে দেখা যাবে আমাদের
খাদ্য কিন্তু নিরামিষ কোন মাছ ও মাংস না । তা
আমরা বেদেও দেখি সেখানেও মাছ ও মাংস
খাওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে ।
" পাষণ্ড তারা যারা প্রানি-মাংসভোজন করে।
তারা যেনপ্রকারান্তরে বিষপান করে। ইশ্বরতাদের
যেন উপযুক্ত শাস্তি প্রদানকরেন।" (ঋগ্বেদ
১০.৮৭.১৬-১৯)
"মানুষ তখনই কলুষিত হয় তখন যখনসে মাংস ভক্ষন,
সুরাপান ওজুয়া খেলায় লিপ্ত হয়।" (অথর্ববেদ ১.৬০.৭)
তাছাড়া অন্যান্য শাস্ত্রেও মাছ ও মাংসকে
নিষিদ্ধ করেছে । এখন কথা হচ্ছে আমরা যদি আর্য
হয়ে থাকি আমাদের কোন বর্ণে যদি মাছ মাংস
খাওয়া নিষেধ থাকে তাহলে এই মাছ ও মাংস
খাওয়া প্রচলন কোথা থেকে শুরু হয়?
এজন্যে আমাদের ইতিহাস ঘাটতে হবে । আসলে
আমাদের যে চারটি বর্ণ ছিল ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য ও শূদ্র তারা কেউ আগে এই মাছ ও মাংস খেত
না । আর তাঁর স্বীকৃতি বেদেও দেওয়া আছে । কিন্তু
দ্বাপরে শেষে কৃষ্ণ যখন এই ধরাধাম থেকে চলে যায়
তখন থেকেই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হয় । এই বর্ণসঙ্করের
কথা গীতায় অর্জুন কৃষ্ণকে বলেছিলেন ।
এই বর্ণসঙ্কর কি?
গীতায় ৪/১৩ নং শ্লোকে বলেছে গুণ ও কর্ম অনুসারে
চারটি বর্ণ আর চারটি আশ্রম আছে । এই চারটি
আশ্রম হচ্ছে ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাসী
আর চারটি বর্ন হচ্ছে ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র
। শাস্ত্রের নিয়মানুসারে ব্রাহ্মনের সাথে
ব্রাহ্মনের বিয়ে হবে, ক্ষত্রিয়ের সাথে ক্ষত্রিয়,
বৈশ্যের সাথে বৈশ্য আর শূদ্রের সাথে শূদ্র । তবে
ব্রাহ্মনের অনুমতি সাপক্ষে ক্ষত্রিয় সাথে
ব্রাহ্মনের বা ব্রাহ্মনের সাথে ক্ষত্রিয়ের মিলন
হতে পারে । কিন্তু যখন শুদ্রের সাথে অন্যান্য বর্ণের
মিলন হবে বা বৈশ্যের সাথে অন্যান্য বর্ণের মিলন
হবে তখনই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হবে । আর তখনই এই
বৈদিক সমাজের অধপতন শুরু হবে এই বর্ণসঙ্করের
কারনে যে সন্তান উৎপাদন হবে তা ব্যাভিচারের
কারন হয়ে দাঁড়াবে । আর সেটা আমরা দেখি
কলিযুগের শুরুতেই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হয়েছে । তবে
যে কলিযুগ থেকে শুরু হয়েছে তা নয় সেটা দ্বাপরের
শেষে থেকে শুরু হয়েছে কিন্তু তখন সেটা খুবই কম
ছিল ।
এখন আমরা দেখব এই বর্ণসঙ্করের ফলে কোন কোন
জাতি সৃষ্টি হয়েছে আর তাদের নাম কি ছিল ।
শূদ্র + ব্রাহ্মন = চণ্ডালের জন্ম হয়।
শূদ্র + ক্ষত্রিয় = নিষাদের জন্ম হয়।
শূদ্র + বৈশ্য = সূত্রধরের জন্ম হয়।
বৈশ্য + ব্রাহ্মন = বৈদেহকের জন্ম হয়।
আবার এই চণ্ডাল, নিষাদ, সূত্রধর ও বৈদেহকের সাথে
আবার মিলনের ফলে অনেক নিম্নমানের জাতির
সৃষ্টি হয় । যেমন –
বৈশ্য + ক্ষত্রিয় = সৈরন্ধ্র (মগধ দেশীয়)
সূত্রধর + সৈরন্ধ্র = আয়োগব (এরা ফাঁদ পেতে
পশুপাখি শিকার করে)
বৈদেহক + সৈরন্ধ্র = মৈরেয়ক (এরা মাংস ভক্ষণ ও
মদ্যপান করে)
নিষাদ + সৈরন্ধ্র = মদ্গুর (এরা নৌকা চালিয়ে মাছ
ধরে)
চণ্ডাল + সৈরন্ধ্র = শ্বপাক (এরা কুকুরের মাংস খায়)
আয়োগব + সৈরন্ধ্র = কর্মকার (এরা মাংস বিক্রি
করে)
মৈরেয়ক + সৈরন্ধ্র = স্বাদুকর
মদ্গুর + সৈরন্ধ্রী = ক্ষৌদ্র (এরা মাংস রান্না করে)
শ্বপাক + সৈরন্ধ্র = সৌগন্ধ
বৈদেহক + আয়োগবী = মায়াজীবী (এরা অত্যন্ত
নিষ্ঠুর ও ক্রুর স্বভাব, কাঁচা মাংস রক্ত খায়)
নিষাদ + আয়োগবী = মদ্রনাভ
চণ্ডাল + আয়োগবী = পুক্কশ (পশুদের খাটায়,
পশুমাংস ভক্ষন করে)
বৈদেহক + নিষাদ = চৌক্ষুদ্র
কর্মকার + নিষাদ = কারাবর
চণ্ডাল + বৈদেহী = সৌপাক
নিষাদ + বৈদেহী = আহিতুণ্ডিক (এরা বন্য পশু হত্যা
করে তাদের মাংস খায়)
সৌপাক + নিষাদ = অন্তেবসায়ী (এরা এমন
নিম্নজাতি যে, চণ্ডালেরাও এদের পরিত্যাগ করে।)
এভাবে চণ্ডাল ও নিষাদ শ্রেণী থেকে অসংখ্য
বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হলো এদের থেকেই মাছ ও মাংস
খাওয়া প্রচলন শুরু হলো এবং অবৈদিক সমস্ত
কার্যাকলাপগুলো শুরু হলো ।
আমরা মনে করি শূদ্ররা হলো নিচু জাতি কিন্তু
শূদ্রেদের থেকেও নিচু জাতি আছে তাদের কথা
শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা করা হয়েছে –
ভাগবতের ২/৪/১৮ নং শ্লোকে এই নিম্ন জাতির কথা
তুলে ধরেছে –
কিরাত – এই জাতিরা ভারতে থাকে । আধুনিক
বিহার ও ছোটনাগপুরের সাঁওতাল পরগনা ।
হূণ – জার্মানি এবং রাশিয়ার অধিবাসীদের হূন বলা
হয় ।
আন্ধ্র – দক্ষিন ভারতের একটি প্রদেশের অধিবাসী

পুলিন্দ – গ্রীকদের পুলিন্দ বলা হয় আর তারাই মাছ
খাওয়া শিখায় পুরো বিশ্বকে তাই তাদের ম্লেচ্ছ
বলা হয় ।
আভীর – এটা সিন্ধু প্রদেশের অপর প্রান্তে এই
জাতি বর্তমান বিশ্বে মধ্য প্রদেশ বিশেষ করে
আরবের দেশগুলো । তারাও পুরো বিশ্বকে মাছ
খাওয়া শিখায় । তাই তাদেরকেও ম্লেচ্ছ বলা হয় ।
শুম্ভ বা কঙ্ক – প্রাচীন ভারতের একটি প্রদেশের
অধিবাসী ।
যবন – বর্তমান তুরুস্কের অধিবাসীদের যবন বলা হয়
তারা মাছ ও মাংস খাওয়া দুটোই শিখায় ।
খস – এই জাতির মানুষদের গোঁফের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়
যেমন তারা হচ্ছে চীন, মঙ্গোলীয়া, কোরিয়া,
জাপান আরো অনেক দেশ ।
উপরোক্ত যে সমস্ত জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে
তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
আছে এবং তারা সমস্ত অবৈদিক পন্থায় চলত তারা
তাদের প্রচলিত কিছু ধর্ম, মত পথকে বিশ্বাস করে ।
আর তাদের করুনায় এই মহান ভারতবর্ষে আমরা
অবৈদিক কালচার শুরু করেছি তাদের থেকে আমরা
এই মাছ ও মাংস খাওয়া শিখি ।
যদিও এই মাছ ও মাংস খাওয়া হচ্ছে যক্ষ, রাক্ষস,
ভূত, পিশাচ শ্রেণীর লোকের খাবার আর সেটা
আমরা আমাদের প্রধান খাবার হিসেবে গ্রহন করে
বৈদিক সংস্কৃতিকে নষ্ট করছি । শুধু তাই না এরা
হিন্দুদের আরো অনেক অবৈদিক জিনিষ শিখিয়ে
দিয়ে গেছে । চা খাওয়া সেটা চীনেরা
শিখিয়েছে আর ব্রিটিশরাতো আছেই, প্যান্ট শার্ট
পড়া, লুঙ্গি পড়া ইত্যাদি এখনতো মেয়েরা এমন সব
ড্রেস পরে যা কিনা পাশ্চাত্যে দেশের নকল ।
বিভিন্ন ধরনের আরো খাবার যেমন ফাষ্টফুড,
চায়নিজ খাবার ইত্যাদি । এমনকি তাদের শিখিয়ে
দেওয়া কিছু নাস্তিক থিউরি, কিছু নিম্নমানের
দর্শন ইত্যাদি যা বলে শেষ করা যাবে না । যার
কারনে আমরা বৈদিক রীতিনীতি ছেড়েছি আর যা
আমাদের দুঃখ দেয় তা গ্রহন করছি । যার ফলে
আমাদের হিন্দুদের অবস্থা পুরা এলোমেলো হয়ে
গেছে ।

20/03/2018

ওঁ জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী, দুর্গাশিবা ক্ষমা ধাত্রি স্বাহা স্বধা নমোস্তুতে ।
ওঁ শরণাগত দীনার্থ পরিত্রাণায় পরায়নে,
সর্ব সার্ত্যি হরে দেবী নারায়নী নমোস্তুতে ।

।।  জয় মা বিজয়ার জয় ।।
30/09/2017

।। জয় মা বিজয়ার জয় ।।

।।  জয় মা বিজয়ার জয়  ।।
29/09/2017

।। জয় মা বিজয়ার জয় ।।

25/02/2017
ॐ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয় হে তবে।নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতি পরমেশ্বর।।
25/02/2017

ॐ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয় হে তবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতি পরমেশ্বর।।

Address

রামেন্দ্র সাহার বাড়ি, কলেজ রোড-৩৮২১, চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী, চিটাগাং, বাংলাদেশ।
Noakhali Sadar Upazila

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিজয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share