09/11/2019
প্রত্যেক নবী-রাসূলগণই তাঁদের নিজ নিজ যুগে আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভ আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। অর্থাৎ মিলাদের আলোচনা করেছেন তথা মিলাদুন্নবী পালন করেছেন। যেমন - হযরত আদম আলাইহিস সালাম তাঁর প্রিয় পুত্র ও প্রতিনিধি হযরত শীস আলাইহিস সালামকে নূরে মুহম্মাদীর আলোচনা এবং তা'যীম করার জন্য এভাবে অসিয়ত করেছেন -
اقبل آدم على ابنه شيث فقال اى بنى انت خليفتى من بعدى فخذها بعمارة التقوى والعروة الوثقى فكلما ذكرت الله فاذكر الى جنبه اسم محمد فانى رأيت اسمه مكتوبا على ساق العرش وانا بين الروح والطين ثم إنى طفت السموات فلم ار فى السموات موضعا الا رأيت اسم محمد مكتوبا عليه وإن ربى اسكننى الجنة فلم ار فى الجنة قصرا ولاغرفة الا وجدت اسم محمد مكتوبا على نحور الحور العين وعلى ورق لجام الجنة وعلى ورق شجرة طوبى وعلى سدرة المنتهى وعلى اطراف الحجب وبين اعين الملائكة فاكثر ذكره فإن الملائكة من قبل تذكره فى كل ساعاتها
الخصائص الكبرى، الجزء الاول، الصفحة :- ٦
অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম আপন পুত্র হযরত শীস আলাইহিস সালাম এর উদ্দেশ্যে বললেন, হে আমার প্রিয় বৎস! আমার পরে তুমি আমার খলীফা (প্রতিনিধি)। সুতরাং এ খিলাফতকে তাক্বওয়ার তাজ ও দৃঢ় ইয়াক্বীনের সাথে আঁকড়ে ধরো। আর যখনই আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তখন তাঁর সাথে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামও স্মরণ করবে। কারণ আমি রূহ ও মাটির মধ্যবর্তী থাকা অবস্থায়ই তাঁর পবিত্র নাম মোবারক আরশের পায়ায় (আল্লাহর নামের সাথে) লিখিত দেখেছি। তারপর আমি সমস্ত আসমান ভ্রমণ করেছি। আসমানগুলোতে এমন কোন স্থান ছিল না, যেখানে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক অঙ্কিত পাইনি। রব তাআলা আমাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিলেন। জান্নাতের এমন কোন প্রাসাদ ও কামরা পাইনি, যেখানে হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক লেখা ছিল না। আমি হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক আরও লিখিত দেখেছি হুরদের সীনায়, বেহেশতের সমস্ত বৃক্ষের পাতায় পাতায়, তূবা নামক বৃক্ষ ও সিদরাতুল মুনতাহার পাতায় পাতায়, জান্নাতী পর্দাসমূহের কিনারায়, ফেরেশতাগণের চোখের মণিতে। সুতরাং হে শীস! তুমি অধিক পরিমাণে এ নামের যিকির তথা আলোচনা করতে থাকো। কেননা, ফরেশতাগণ পূর্ব হতেই এ নাম জপনায় মশগুল রয়েছে।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমনের চার হাজার বছর পূর্বে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম কা'বা নির্মাণ করার পর তা কবুলের জন্য এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর বংশে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আর্বিভাব হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এভাবে দোয়া করেছিলেন
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে আমাদের রব! তুমি এ আরব ভূমিতে আমার এ সন্তান ইসমাঈলের বংশের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে সে মহান রাসুলকে প্রেরণ করো, যিনি তোমার আয়াতসমূহ তাদের কাছে পাঠ করে শুনাবেন, তাদেরকে কোরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে তাদেরকে পবিত্র করবেন। (সুরা বাক্বারা, আয়াত ১২৯)
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিলাদ তথা আগমন সম্পর্কে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর উম্মত ও হাওয়ারীদেরকে নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিজের উম্মতের কাছে তিনি আখেরী যামানার নবীর নাম, গুণাবলী এবং তাঁর আগমনের সংবাদ প্রিয় নবীর আগমনের ৫৭০ বছর পূর্বে এভাবে বর্ণনা করেছেন -
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ
অর্থাৎ হে আমার প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা বলেছিলেন, হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমি আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন মহান রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরেই আগমন করবেন এবং তাঁর নাম হবে আহমাদ। (সুরা আস সাফ, আয়াত - ৬)
উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা সুস্পষ্ট হলো যে, আল্লাহ তাআলার সাথে কৃত অঙ্গীকার অনুযায়ী সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম নিজ নিজ যুগে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমনের আলোচনা তথা মিলাদুন্নবী পালন করেছেন। সুতরাং আজকের দিনে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা বিদআত নয় বরং সুন্নাতে আম্বিয়া তথা নবীগণের সুন্নাত।
ذکرمیلاد النبی کرتا رہونگا عمر بھر
جلتے رہو نجدیو جلنا تمہارا کام ہے
আমরা মিলাদুন্নবীর আলোচনা জীবভর করে যাবো। হে নজদীর দল! তোমরা জ্বলতে থাকো। জ্বলে মরাই তোমাদের কাজ। [আ'লা হযরত]