22/01/2015
আ’লা হযরত হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসংখ্য মু’জিজা সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি মুজেজা। ইশ্ক্বে রাসূলের উজ্জ্বল নমুনা এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক মহান করুণা। যুগ সন্ধিক্ষণে যখন মুসলমানরা দিশেহারা হয়ে পড়ল, ইংরেজদের মদদপুষ্ট নজদী মতবাদের ভাব শিস্যরা ইসলামের মৌলিক আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর বিষয়াদি তুলে ধরল তাদের বক্তব্যে এবং লেখনীতে। ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছিল মুসলমানদের মধ্যে। মাথাচাড়া দিয়ে উঠে ঈমান আকীদার পরিপন্থী কার্যকলাপ। মুসলমানদের মধ্যে নেমে আসে দূর্যোগের ঘনঘটা। এমন সঙ্কটময় মূহুর্তে ভারতের বেরেলী নামক স্থানে জন্ম গ্রহন করেন এক জ্যোতির্ময়, ক্ষনজন্মা প্রতিভা। তিনিই হলেন আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান আলাইহির রাহমাতুর রহমান।
প্রকৃত পক্ষে যে সময় বাতিল মতবাদের বিভিনমুখী প্রচার প্রকাশনার বিরুদ্ধে অসাধারন প্রজ্ঞাবানের প্রয়োজন ছিল তীব্র। যুগের এ চাহিদা তাঁর আবির্ভাবে পূরন হয়। বাতিল আকিদার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন আলা হযরত। তাদের ভ্রান্ত মতবাদের খন্ডন করতে থাকেন ক্ষুরধার লেখনী, তথ্যবহুল জোড়ালো বক্তব্য এবং অকাট্য যুক্তি দিয়ে। তাঁর সংস্কারমূলক কার্যক্রম মুসলিম সমাজকে উজ্জীবিত করে। খড়-কুটোর মতই ভেসে যায় বাতিল মতবাদের অপব্যাখ্যা ও খোড়াঁযুক্তি। ফলে ইসলামের মূলধারা আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা বিশ্বাস দূঢ়ভাবে সঞ্চায়িত হয় সত্য-সন্ধানীদের হৃদয়পটে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি আরবীতে প্রথম কিতাব লিখেছেন। অব্যাহত গতিতে চলতে থাকে তাঁর কলম। প্রায় দেড় সহস্রাধিক প্রামান্য কিতাব লিখে রেখে গেছেন মুসলিম মিল্লাতের জন্য। দারুল ইফতায় বসে তিনি একই সময়ে এক হাজার চার চারটি চিঠি ও কিতাব লিপিবদ্ধ করতেন। লিখক লিখে যেতেন। প্রত্যেকের বিষয়বস্তু আলাদা আলাদা থাকতো। প্রত্যেকের লেখার ধারাবাহিকতা মূহুর্তের জন্যও বিঘিœত হতো না।
আমেরিকার জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রফেসর আলবার্ট একটি ভবিষৎবাণী করেন যে, ১৯১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বরে কয়েকটি গ্রহ সূর্যের সামনে চলে আসার দরুন উদ্ভৃত্ত মধ্যাকর্ষন পৃথিবীতে মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি করবে। আলা হযরতকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কুরআন-সুন্নাহর গবেষণার আলোকে মাহাকাশ বিজ্ঞানীদের ভবিষৎ বাণী মিথ্যা প্রমাণ করে কিতাব রচনা করেন “নূযূলে আয়াতে ফুরকান বি সুকুনি যমীন ওয়া আসমান। মার্কিন বিজ্ঞানীর ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণিত হল এবং ইসলামের এক বিশাল বিজয় হল।
ফিকাহ হানাফীর আলোকে সংকলিত ‘ফাতাওয়ায়ে রেজভিয়া’ পূর্ণ নাম ‘আল আতায়ান নবভিয়্যাহ ফিল ফাতাওয়ায়ে রেজভিয়্যাহ’ ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রের জগতে এক অমূল্য সম্পদ। হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দশক আর চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথম চার দশকে এ বিশাল ফতোয়া গ্রন্থ রচিত হয়। যা ১২ খন্ডে বিভক্ত। বর্তমানে এর আরবী ও ফারসী ইবারতের অনুবাদসহ ৩০ খন্ডে প্রকাশিত। প্রতিটি খন্ড সহস্রাধিক পৃষ্টা সম্বলিত। আরবী, উর্দু, ফার্সী এ প্রধান ভাষাগুলোতে লিখিত এ বিশাল গ্রন্থ তাঁর চমৎকার প্রজ্ঞা, গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
শায়খ মুহাম্মদ মুখতার ইবনে আত্বারিদ (আল জাভী, মুক্কা মুআযযামাহ) তিনি লিখেছেন “নিঃসন্দেহে বিজ্ঞ লেখক এ যুগের গবেষক আলিমদের বাদশাহ, আর তাঁর বরকতময় বাণী ও দর্শন সুস্পষ্ট সত্য ও বাস্তব, হুযুর সায়্যিদুল আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি মু’জিযা। যা ইমাম আহমদ রেযার হাতে আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ করেছেন।
শায়খ সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ (শিক্ষক, মসজিদে হারাম, মক্কা মুআয্যামাহ) তাঁর লেখনি সম্পর্কে বলেন, যেন মুক্তার মালা যা মধুর শব্দাবলী দ্বারা গাথা হয়েছে। এতো খোদা প্রদত্ত দান, যা বাহুর জোড়ে মিলে না।
শায়খ আয’আদ দাহ্হান বলেন, যিনি আপন সুস্পষ্ট-সাবলীল বর্ণনার মেলা প্রদর্শন করে অলষ্কার সমৃদ্ধ স্পষ্টভাষী ভাষাবীদদেরকেও নির্বাক করে দিয়েছেন।
আ’লা হযরতের জ্ঞান চর্চার ব্যতিক্রম দিক হল যে, তিনি তাঁর জ্ঞানের পূর্ণ বাহার আল্লাহ রাসূলের ভালবাসা চর্চায় প্রদর্শন করেছেন। আলা হযরত বলেছেন, ذکر انکا چھیڑۓ ہر بات میں অর্থাৎ প্রতিটি কথায়, প্রতিটি বাক্যে তাঁর যিকির করতে থাকুন।
তিনি বারংবার বলেছেন- کیجیۓ چرچا انہی کا صبح وشام অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যায় অহরহ তাঁর চর্চা করুন। বার্ক্লে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. বারবারা মিসকাফ মুহাদ্দিস-ই রেবলভীর এ বিষয়ের উপর বিশেষ করে জোর দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন “মুহাব্বতে রাসূল, মুহাব্বতে আউলিয়া এবং মুহাব্বতে মাশায়খই আ’লা হযরত বেরলভীর বৈশিষ্ট্যের মুকুট ছিল।
আ’লা হযরত নিজেই বলতেন “আমার হৃদয়কে দু’টুকরো করা হলে দেখা যাবে এক টুকরোর উপরلا اله الا الله আর অপর টুকরোর উপর محمد رسول الله লিপিবদ্দ রয়েছে।
শায়খ গোলাম মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন মাদানী লিখেছেন, তাঁর মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভান্ডার থেকে চিরস্থায়ী ধন অর্জিত হয়েছে। তিনি এ ধন মানুষের মধ্যে বন্টন করেছেন।
বলা বাহুল্য, আলা হয