চকপাড়া দূর্গা মন্দির

চকপাড়া দূর্গা মন্দির চকপাড়া দুর্গা মন্দির একটি সর্বজনীন মন্দির। এই মন্দির ২৫শে ফাল্গুন ১৪২২ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এই মন্দিরে নিয়মিত পূজা অর্চনা করা হয়।

21/01/2026

দেবী সরস্বতী সৃষ্টির রহস্য

গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী, কোমরপুর,বৃন্দাবনপাড়া আশ্রমে  বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ প্রতিস্থাপন।🔎Run with
28/11/2025

গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী, কোমরপুর,বৃন্দাবনপাড়া আশ্রমে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ প্রতিস্থাপন।

🔎Run with

বিয়ের সময় শ্রীরাম ও মাতা সীতার বয়স কত ছিল?মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র এবং মাতা সীতার বিবাহকালীন বয়স নিয়ে একটি প্রশ্...
27/11/2025

বিয়ের সময় শ্রীরাম ও মাতা সীতার বয়স কত ছিল?

মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র এবং মাতা সীতার বিবাহকালীন বয়স নিয়ে একটি প্রশ্ন প্রায়শই দেখা যায়। প্রশ্নটি হলো বিয়ের সময় না কি শ্রীরাম এবং মাতা সীতার বয়স যথাক্রমে ১৩ এবং ৬ বছর ছিলো এবং এটি প্রচীনকালে সনাতন সমাজে বাল্যকালে বিবাহের সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে অপপ্রচারকারীরা উপস্থাপন করে থাকেন।
এই সমস্যাটির মূল উৎপত্তি হলো বাল্মীকি রামায়ণের অরণ্যকান্ড ৪৭।৪-১০ নং শ্লোকে। এই অংশটিতে রাবণ ছদ্মবেশে মাতা সীতার সাথে সাক্ষাৎ করলে মাতা সীতা রাবণকে নিজ পরিচয় দেবার সময় বলেছিলেন যে, আমার বয়স এই সময় ১৮ এবং আমার স্বামীর বয়স ২৫। ১২ বছর শশুড়ালয়ে থেকে সমস্ত ভোগ কে উপভোগ করে রাম লক্ষণের সাথে বনে এসেছি।
অর্থাৎ তাহলে হিসেব দাঁড়ায় যে বিবাহের সময় সীতার বয়স কেবল ১৮-১২= ৬ এবং শ্রীরামচন্দ্রের বয়স ২৫ -১২ =১৩ বছর ছিলো।
এই শ্লোকটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পূর্বে আমাদেরকে সনাতন ধর্মের মৌলিক কিছু সাংবিধানিক নিয়ম জানতে হবে-
💥 সনাতন ধর্মে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিই সনাতন ধর্মের সংজ্ঞায়ক নন, একমাত্র বেদবিহিত ধর্ম ই সনাতন ধর্ম। অর্জুন কী খেতেন, যুধিষ্ঠির কী পড়তেন, শ্রীকৃষ্ণ কয়টি বিয়ে করেছেন বা শ্রীরাম কত বছর বয়সে বিয়ে করেছেন এগুলো সনাতন ধর্মের সংজ্ঞাদাতা নয়। একমাত্র পবিত্র বেদ কী খেতে বলেছে, কী পড়তে বলেছে, কয়টি বিয়ে করা যাবে বলেছে এবং কত বছর বয়সে বিয়ে করতে পারা যাবে বলেছে তা ই কেবল সনাতন ধর্মের সংজ্ঞায়ক। আর তাই বলা হয়-
বেদপ্রণিহিতো ধৰ্ম্মো হ্যধৰ্ম্মস্তদ্বিপৰ্য্যায়ঃ অর্থাৎ বেদে যাহা 'কৰ্ত্তব্য' বলিয়া বিহিত হইয়াছে, তাহাতেই 'ধর্ম্ম' ; তদ্বিপরীত অধৰ্ম্ম । একমাত্র বেদে যা বলা হয়েছে তাই সনাতন ধর্ম, বেদ বহির্ভূত যা তা ধর্ম নহে, অধর্ম।
পবিত্র বেদেই বিয়ের বয়স সম্পর্কে মানবজাতিকে ঈশ্বর নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন যে ব্রহ্মচর্য জীবন সমাপ্ত হলে যুবক যুবতী যোগ্য সঙ্গীকে বিবাহ করবে-
🍂“ব্রহ্মচর্যেণ কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম।
অনডৃবান্ ব্রহ্মচর্যেনাশ্বো ঘাসং জিগীর্ষতি।।” 🍂
(অথর্ববেদ-১১/৫/১৮)
পদার্থঃ
(ব্রহ্মচর্যেণ) ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে (কন্যা)কুমারী (যুবানাং পতিং বিন্দতে) যুবা পতিকে লাভ করে (ব্রহ্মচর্যেণ) ব্রহ্মচর্য লাভ করবার পর (অনডড়্গান্ অশ্বঃ) বৃষভ ও অশ্ব সংজ্ঞক ব্যক্তি (ঘাসং জিগীর্ষতি) ভোগ্য পদার্থকে ভোগ করিতে পারে।
বঙ্গানুবাদঃ
ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করিবার পর কুমারী কন্যা যুবা পতিকে লাভ করিবে। বলবান্ ও বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিই ভোগ্য পদার্থকে সম্যক ভোগ করিতে পারে।
💥 বাল্যবিবাহ নিয়ে পবিত্র বেদ বলছে-
য়ুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ স উ শ্রেয়ান ভবতি জায়মানঃ ।
তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়ন্তি স্বাধ্যো ৩ মনসা দেবয়ন্তঃ ॥
(ঋগ্বেদ ৩/ ৮/ ৪)
অনুবাদঃ যে পুরুষ সর্বতােভাবে যজ্ঞােপবীত ধারণ ও ব্রহ্মচর্য সেবন দ্বারা বিদ্বান্ এবং সু শিক্ষিত হইয়া , সুন্দর বস্ত্র পরিধান পূর্বক , ব্রহ্মচর্য্যযুক্ত পূর্ণ যৌবন প্রাপ্ত হইয়া , বিদ্যাগ্রহণ করিয়া গৃহাশ্রমে প্রবেশ করেন , তিনিই দ্বিতীয় বিদ্যাজন্মে প্রসিদ্ধি লাভ করিয়া অতিশয় শােভাযুক্ত ও মঙ্গলকারী হন । উত্তম ধ্যানযুক্ত বিজ্ঞান দ্বারা বিদ্বানেরা সেই পুরুষকে উন্নতিশীল করিয়া প্রতিষ্ঠিত করেন । আর যে স্ত্রী পুরুষ , ব্রহ্মচর্য্য ধারণ , বিদ্যা এবং সুশিক্ষা গ্রহণ না করিয়া বাল্যাবস্থায় বিবাহ করে তাহারা নষ্ট - ভ্রষ্ট হইয়া বিদ্বান্ ব্যাক্তিদের মধ্যে সম্মান লাভ করেনা ॥
সুতরাং পবিত্র বেদ অনুযায়ী উপনয়ন গ্রহণের পর ব্রহ্মচর্য আশ্রম কাল সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যুবক যুবতীর বিয়ের কোন সুযোগ নেই এবং বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ। তাই বিয়ের বয়স নিয়ে এটাই সনাতন ধর্মের বিধান, অন্য কোথায় কে কত বয়সে বিয়ে করল তাতে সনাতন ধর্মের কিছুই যায় আসেনা।
🏵️ এই কথাপ্রসঙ্গেই বাল্মীকি রামায়ণের একটি শ্লোক দেখে নিই-
পতিসংযোগসুলভা বয়োবেক্ষ্য পিতা মম।
চিন্তামজ্যগমদ্দীনো বিত্তনাশদি বা ধন।।
(অযোধ্যাকান্ড, ১১৮।৩৪)
অনুবাদ- সীতা অনুসূয়াকে বলছেন - পিতা যখন আমাকে পতি সংযোগসূলভ দেখন তো বড় চিন্তিত হতেন। আমার পিতার ঐরূপ দুঃখ হতো যেমন কোন দরিদ্রের ধন নাশ হয়েছে।
শ্লোকটিতে সীতাকে পতিসংযোগ সূলভ বয়স বলা হয়েছে। এর সহজ অর্থ বিবাহ যোগ্য বয়স অর্থাৎ পতির সাথে সংযোগ বা গর্ভাধানে সমর্থ হওয়ার বয়স। এখন এই বয়স ন্যুনতম কত?
💥 এই বিষয়ে শুশ্রুত সংহিতাতে বলা আছে -
"পঞ্চবিংশো ততো বর্ষ পুমাণ নারী তো ষোড়শে"
অর্থাৎ পুরুষের জন্য এই অবস্থা ২৫ বর্ষ হবার পর এবং স্ত্রীর জন্য ১৬ বর্ষ হবার পর আসে।
অর্থাৎ এতে স্পষ্ট হয় যে বিয়ের সময় মাতা সীতার বয়স কমপক্ষে ১৬ ও শ্রীরামের বয়স কমপক্ষে ২৫ ছিল।
এবার আরেকটি শ্লোকে দেখব আমরা যে অযোধ্যা কাণ্ডে মাতা কৌশল্যাকে যখন শ্রীরাম নিজে এসে বনবাসের ঘোরতর দুঃসংবাদ দেন তখন মাতা কৌশল্যার বিলাপের কালে মাতা কৌশল্যা তাঁর দুঃখ কষ্ট একদিন শ্রীরাম দূর করবেন এই আশায় তিনি কতগুলো বছর অতিক্রম করেছেন সেই প্রসঙ্গে বলছেন-
দশসপ্ত চ বর্ষাণি তব জাতস্য রাঘব।
অসিতানি প্রকাক্ষন্ত্যা ময়া দুহ্খ্য পরিক্ষয়ম্।।
(অযোধ্যাকাণ্ড, ২০।৪৫)
অর্থাৎ তোমার দ্বিতীয় জন্মের(দ্বিজত্ব বা উপনয়ন গ্রহণের পর) ১৭ বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি এই আশায় আমার সব দুঃখ তুমি অবসান ঘটাবে
( রাজ্যাভিষেক হলে)।
অর্থাৎ এই শ্লোকে দেখা যাচ্ছে বনবাসে যাবার ঠিক প্রাক্কালে শ্রীরামের বয়স তাঁর উপনয়নের সময়কালের বয়স হতে ১৭ বছর বেশী।
অশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র ১।১৭।৩ অনুযায়ী রঘুকূলের ন্যায় ক্ষত্রিয় রাজবংশের পরম্পরা অনুসারে ১১ বছর বয়সে ক্ষত্রিয় যুবকের উপনয়ন হয়-
একাদ্দশো ক্ষত্রিয়স্য
তাহলে সেই হিসেব অনুযায়ী বনবাসের প্রাক্কালে মাতা কৌশল্যার সাথে এই কথোপকথনের সময় শ্রীরামের বয়স ছিল ১১+১৭= ২৮ বছর। আগেও আমরা সুশ্রুত সংহিতা ও রামায়ণের শ্লোকের সমন্বয়ে দেখেছি শ্রীরামের বয়স বিয়ের সময় ছিল কমপক্ষে ২৫ বছর। এখন দেখছি ২৮ বছর বয়সে তাঁর বনবাস হয়েছে।
রামায়ণের সুপরিচিত দক্ষিণ ভারতীয় টীকাকার নাগোজি ভট্টও তাঁর রামায়ণ টীকা "তিলক" এ মত দিয়েছেন অযোধ্যা ত্যাগের সময় রামের বয়স ছিল ২৫। অপর সুপরিচিত টীকাকার শিবসহায় তাঁর শিরোমণি নামক টীকায় মত দিয়েছেন অযোধ্যা ত্যাগের সময় শ্রীরামের বয়স ছিল ২৮।
এখন তাহলে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখব যে বিয়ের পর বনবাসের ঘটনা ঘটার আগে কতদিন স্ত্রীকে নিয়ে তিনি অযোধ্যার রাজভবনে বসবাস করেছিলেন। তাহলেই সহজে বিয়ের বয়সটি বের হয়ে আসবে।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলেছি সমস্যাটা মূলত অরণ্যকাণ্ডের দুইটি শ্লোক নিয়ে যেখানে বলা হয়েছে-
মম ভর্তামহাতেজা বযসা পঞ্চবিংশকঃ৷৷
অষ্টাদশ হি বর্ষাণি মম জন্মনি গণ্যতে৷
উষিত্বা দ্বাদশ সমা ইক্ষ্বাকুণাং নিবেশনে৷
ভুঞ্জানা মানুষান্ভোগান্সর্বকামসমৃদ্ধিনী৷৷
( বাল্মিকী রামায়ণ, অরণ্যকাণ্ড, ৪৭ নং সর্গ, শ্লোক ৪,১০)
অর্থাৎ ছদ্মবেশী রাবণের সাথে দেখা যখন হলো মাতাসীতার তখন মাতাসীতা বলছেন আমার স্বামীর বয়স এখন ২৫ আর আমার ১৮। ইক্ষাকুবংশে বিয়ের পর ১২ বছর কাটিয়ে তারপস বনবাসে এলাম।
তাহলে বুঝা যায় বিয়ের সময় তাঁদের বয়স ছিল যথাক্রমে (২৫-১২)= ১৩ এবং (১৮-১২)=৬।
💥💥💥 কিন্তু শুভংকরের ফাঁকি এখানেই। আমরা আগেও অনেকবার ই আমাদের গবেষণামূলক বিভিন্ন প্রবন্ধে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিখ্যাত সব গবেষকদের গবেষণালব্ধ মন্তব্য উপস্থাপন করেছি রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে। গবেষকগণ একমত যে রামায়ণের উত্তর কাণ্ড মূল রামায়ণের অংশ ই নয়, এটি পরবর্তীকালের পৌরাণিক যুগে রচিত স্বার্থান্বেষীদের রচিত একটি নকল অংশ যাতে রয়েছে গর্ভবতী মাতা সীতার বনবাস, রাম কর্তৃক শূদ্র শম্বুকহত্যার বানানো গল্প যেগুলো আসলে বাস্তবে ঘটেনি। গবেষকগণ আরও বলেন রামায়ণের আদিকাণ্ডও মূলত পরবর্তীকালের ই রচনা, এর কেবল কয়েকটি সর্গ ই মৌলিক।
আর বাল্মীকি রামায়ণের পাণ্ডুলিপিকে সম্পূর্ণরূপে আগের সেই প্রাচীন শুদ্ধরূপে নেয়া সম্ভব না হলেও বর্তমানে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিসমূহের সাহায্যে যতটা সম্ভব শুদ্ধরূপে প্রকাশ করা সম্ভব ততটা করার লক্ষ্যেই বিগত শতকের ৬০ এর দশকে ভারতশ্রেষ্ঠ সকল গবেষকগণ প্রাচ্যবিদ্যা গবেষণা সংস্থা Baroda Oriental Institute(BOI) থেকে প্রকাশ করেন বাল্মিকী রামায়ণের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি Critical Edition Of Ramayana. ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় অরণ্যকাণ্ড সংবলিত ৩য় খণ্ড। সেই অরণ্যকাণ্ডের ৪২ টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গবেষকরা সংগ্রহ করতে থাকেন এক যুগ ধরে। সেগুলোর পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ শেষে দেখা যায় তুলনামূলক বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো যেমন নেপালি লিপি, সারদা লিপি,মৈথিলী ও দেবনগরী লিপিতে পূর্বে উল্লেখিত ৪৭ নং সর্গের ৪নং শ্লোক উষিত্বা দ্বাদশ সমা ইক্ষ্বাকুণাং নিবেশনে বা আমি এখানে আসার আগে ১২ বছর ইক্ষাকু কূলে( শ্বশুরালয়ে) কাটিয়ে এসেছি অংশটি নেই, নেই প্রাচ্যবিদ গ্যাস্পার গোরেসিও এর অষ্টাদশ শতকের রামায়ণ পাণ্ডুলিপিতেও। বরং সেই শ্লোকের স্থানে বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিসমূহ অনুযায়ী BOI এর প্রকাশিত ৩য় খণ্ডের ২৩১ পৃষ্ঠায় বাল্মীকি রামায়ণ ৩.৪২.৫ নং শ্লোকে রয়েছে-
संवत्सरं चाध्युषिता राघवस्य निवेशने |
সংবৎসরং চাধ্যুপিতা রাঘবস্য নিবেশনে।
অর্থাৎ রাঘবালয়ে( শ্বশুরবাড়িতে) সীতা ১ বছর ছিলেন, তারপর বনবাসে এলেন।
অর্থাৎ ১২ বছর শ্বশুরালয়ে ছিলেন এই শ্লোকটি বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে নেই। আছে ১ বছর শ্বশুরালয়ে ছিলেন, তারপর ই বনবাস হয়।
বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে নেই ইক্ষাকুণাং শব্দটিও, আছে রাঘবস্য। তাহলে বনবাসকালে রাবণকে মা সীতার বলা-
মম ভর্তামহাতেজা বযসা পঞ্চবিংশকঃ৷৷অষ্টাদশ হি বর্ষাণি মম জন্মনি গণ্যতে৷( এখন আমার বয়স ১৮ ও আমার স্বামীর বয়স ২৫) এই শ্লোকটি দিয়ে আমরা হিসেব করলে পাই বিয়ের সময় শ্রীরাম ও মাতা সীতার বয়স ছিল যথাক্রমে-
২৫-১ = ২৪ বছর ও ১৮-১= ১৭ বছর।
তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো ১০ নং শ্লোকটির দুইটি অংশ-
১) মম ভর্তামহাতেজা বযসা পঞ্চবিংশকঃ৷৷(অর্থাৎ শ্রীরামের বয়স তখন ২৫) এবং
২) অষ্টাদশ হি বর্ষাণি মম জন্মনি গণ্যতে৷(মাতা সীতার বয়স ১৮)।
এর মধ্যে অষ্টাদশ হি বর্ষাণি মম জন্মনি গণ্যতে অংশটিও BOI প্রকাশিত বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে নেই! অর্থাৎ বনবাসের সময় শ্রীরামের বয়স এই শ্লোক অনুযায়ী ২৫ হলেও মাতা সীতার বয়স যে ১৮ ছিল তার প্রমাণ নেই। আর এরপরেও শ্লোকাংশটিকে গণনা করা হলে বিয়ের সময় মাতা সীতার বয়স দাঁড়ায় ১৭।
আবার পূর্বে উল্লেখিত অযোধ্যা কাণ্ডের ২০.৪৫ নং শ্লোক-
দশসপ্ত চ বর্ষাণি তব জাতস্য রাঘব( শ্রীরামের উপনয়নের পর আরও ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে)
অনুযায়ী বনবাসের সময় শ্রীরামের বয়স ছিল প্রায় (১৭+১১)= ২৮।
সে অনুসারে শ্রীরাম ও মাতা সীতার মধ্যে ৭ বছরের বয়সের ব্যবধান ধরে নিলে বনবাসকালে মাতা সীতার বয়স দাঁড়ায় ২১ অর্থাৎ বিবাহকালে তাঁর বয়স ছিল ২০ এবং শ্রীরামের ২৭। অর্থাৎ যে কোন দিকেই হিসেব করলে বিবাহকালে তাঁরা যুবক যুবতী ছিলেন, ১৩ ও ৬ বছর বয়স্ক বালক বালিকা ছিলেন যা প্রচার করা হচ্ছে।
আবার রামায়ণের উত্তর পশ্চিমীয় লাহোর লিপিতে বয়স সংক্রান্ত উভয় শ্লোক ই অনুপস্থিত। উল্লেখ্য যে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলীয় পাণ্ডুলিপি আর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলীয় পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিপিসমূহই অধিকতর প্রাচীন। বাংলা অঞ্চলের লিপিতেও রামের বয়স উল্লেখিত নেই। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিপিসমূহ অনুযায়ী বনবাসকালে রামের বয়স ছিল ২৫ এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় লিপিসমূহ অনুযায়ী ২৮ বছর।
💥 শ্রীরাম ও মাতাসীতা যে সে বিয়ের সময় যুবাবস্থায় ছিলেন তার অনেক প্রমাণ রামায়ণেই পাওয়া যায়। মাতা সীতার স্বয়ংম্বরে ঋষি বিশ্বামিত্র শ্রীরাম ও ভ্রাতা লক্ষ্মণকে নিয়ে জনকপুরীতে উপস্থিত হলে রাজা জনক তাদের দেখে একথা বলেন-
গজসিংহগতী বীরৌ মার্ভূল বৃষভৌপমৌ।
যদমপত্রবিশালাক্ষী খঙ্গাতুণীর্ধনুর্ধারী।।
অশ্বিনাবিব রূপেন সমুপস্থিতযৌবনৌ।
যদৃচ্ছেবর্ণা প্রাপ্তৌ দেবলোকদিবামরৌ।।
(বাল্মিকী রামায়ণ, আদিকাণ্ড ৫০।১৮-১৯)
" হে মুনিবর! হস্তি এবং সিংহের সমান চলনশীল, দেবতার সমান পরাক্রমি তথা অশ্বিনী কুমারের মতো সমান সুন্দর এবং যৌবনকে প্রাপ্ত এই দুই কুমার কে?
এখানে "সমুপস্থিতযৌবনৌ" শব্দটি বিশেষ রূপে দ্রষ্টব্য। কারন এতে স্পষ্ট হয় যে, সেই সময় রাম ও লক্ষ্মণ দুজনেই যুবাবস্থায় সেই স্বয়ম্বর সভায় প্রবেশ করেছিলেন।
আবার তখন রাজা জনক সীতার বিবাহের সন্দর্ভে বললেন -
ভূতত্ত্নাদুত্থিতাং তাং তু বর্দ্বমানাং মমাত্মজাম্।
বরয়া মসুরাগত্য রাজানো সুনিপুঙ্গতা।।
(আদিকাণ্ড, ৬৬।১৫)
যখন আমার কন্যা সীতা বর্দ্ধমানা = প্রাপ্তযৌবনা হয় তখন বহু রাজা তাহার পাণিগ্রহনের জন্য আসে।
মূল শ্লোকে বর্দ্ধমানা শব্দটি রয়েছে । টীকাকার এর অর্থ যৌবন সম্পন্ন করেছেন। আবার অনেকে প্রাপ্তযৌবনা করেছেন। এতে স্পষ্ট জানা যায় যে, "শ্রী রাম চন্দ্রের সাথে মাতা সীতার বিবাহের পূর্বেই তাঁরা যুবাবস্থা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
আরেকটি মজার বিষয় হলো লক্ষ্যণীয় যে, মাতা সীতারা চার বোন ছিলেন তা আমরা সবাই জানি এবং মাতা সীতা সবার জ্যেষ্ঠ এবং শ্রূতকীর্তি সবার কনিষ্ঠ ছিলেন এই ৪ জনের মধ্যে। রামায়ণে উল্লেখিত যে ৪ বোনের বিয়েই একসাথে সম্পন্ন হয়। এখন মাতা সীতার বয়স সে সময় যদি অন্তত ৬ বছর ধরা হয় তবে সবচেয়ে কনিষ্ঠা কন্যা শ্রুতকীর্তির বিবাহের বয়স আনুমানিক ছিলো সর্বোচ্চ ৩ বছর যদি প্রতি সন্তানের জন্মের মধ্যে সর্বনিম্ন ১ বছরের ব্যবধান থাকে। যে কেউ ই বুঝবে যে পৌরাণিক গল্প ব্যতিত ২-৩ বছরের বাচ্চার বিয়ে কখনো ধুমধামভাবে যুবক কোন রাজকুমারের সাথে হয়না।
অপরদিকে ১২ বছর শশুরবাড়িতে থাকার পর বনবাসে যাবার যে শ্লোকটিকে কেন্দ্র করে হিসেব কষে অপপ্রচার চালানো হয় যে বিয়ের সময় শ্রীরামের বয়স ছিল ১৩ বছর সে শ্লোকটি যে মূল রামায়ণের শ্লোক নয় তা Baroda Oriental Institute পাণ্ডুলিপি পরীক্ষা করে প্রমাণ করলেও তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ রামায়ণেই আছে।
আমরা জানি রামায়ণের আদিকাণ্ডের অধিকাংশ ই অপ্রামাণিক, পরবর্তীকালের রচিত, মূল রামায়ণের অংশ নয়। সেই আদিকাণ্ডেই দেখা যাচ্ছে ঋষি বিশ্বামিত্র যখন শ্রীরামকে বনে দস্যুদের মোকাবেলা করার জন্য চাইতে রাজা দশরথের কাছে গেলেন তখন দশরথ বলছেন-
উনষোড়শবর্ষে মে রামো রাজীবলোচনঃ।
ন যুদ্ধযোগ্যতামস্য পশ্যামি সহ রাক্ষসৈঃ।।
(আদিকাণ্ড ১.২০.২)
অর্থাৎ আমার রাজীবলোচন রামের বয়স ১৬ ও হয়নি( অর্থাৎ ১৬ ছুঁই ছুঁই), সে কি ওই ভীষণ রাক্ষসদের সাথে যুদ্ধ করার যোগ্য!
অর্থাৎ আদিকাণ্ডের এই শ্লোকে দেখা যাচ্ছে শ্রীরাম ঋষি বিশ্বমিত্রের সাথে বনে যাবার কালেই তাঁর বয়স ১৬ ছুঁই ছুঁই, অর্থাৎ বিয়ে হবার আগেই ১৬। তাহলে যে শ্লোকটিকে দেখিয়ে বলা হচ্ছে বিয়ের সময় ই বয়স ছিল ১৩ তা যে অবাস্তব এখান থেকেও তা প্রমাণিত।
🏵️ আবার আগেই বলেছি গবেষকদের মতে বাল্মীকি রামায়ণের আদি ও উত্তর কাণ্ড পরবর্তীকালে রচিত বৈষ্ণব সাহিত্য যেখানে মূল রামায়ণের সাথে এই দুইটি কাণ্ড জুড়ে দিয়ে শ্রীরামকে মর্যাদা পুরুষোত্তম এর পরিবর্তে নারায়ণের অবতার দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে। আর এই ধরনের পৌরাণিক সাহিত্যের একটি বৈশিষ্ট্য হলো নায়কের বয়সকে ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো যাতে তার কৃত কর্মসমূহের মাহাত্ম্য অলৌকিক মনে হয়। যেমনটি হরিবংশে কংসবধকালে শ্রীকৃষ্ণের বয়স কিছুস্থানে যুবক লেখা থাকলেও কিছু স্থানে তাঁর অলৌকিকত্ব প্রদর্শনের জন্য তাঁকে সেখানে ১০-১১ বছরের বালক বড় বড় বিখ্যাত মল্লযোদ্ধাদের পরাজিত করছেন এরকম উল্লেখ করা হয়েছে। আদিকাণ্ডের এই শ্লোকটিতেও এই ঘটনাটিই ঘটেছে। পরবর্তীকালের বৈষ্ণব কবি শ্রীরাম একদম ১৬ বছর বয়সেই বনের দস্যুদের যুদ্ধে একা পরাজিত করেছেন এটা দেখিয়ে তাঁর মাহাত্ম্যবৃদ্ধি করেছেন, অর্থাৎ ওইসময় তাঁর বয়স আদতে আরও বেশী ই ছিল। অথচ এই বয়স কমিয়ে দেখানো শ্লোক অনুযায়ীও বিয়ের সময় তাঁর বয়স ১৬ এর অধিক ছিল, তাহলে কীভাবে বিয়ের সময় তাঁর বয়স ১৩ বলে প্রচার করছে অপপ্রচারকারীরা!
উল্লেখ্য যে সুন্দরকাণ্ডেও (৫.৩৩.১৭-১৮) মাতা সীতা ও হনুমানের মধ্যেকার একটি কথোপকথনে বিয়ের পর ১২ বছর রাম-সীতার শ্বশুরালয়ে থেকে অতঃপর বনবাসের শ্লোক পাওয়া যায়। তবে এই সীতা-হনুমান সংবাদের অংশে হনুমান ও সীতার পরস্পরের পরিচয় সম্বন্ধে বিশ্বস্ততা স্থাপনের পরেও সীতার নিজ পরিচয় দেয়ার এই অংশটিকে Camile Bulcke তার রামকথার ৩৯৬ নং পৃষ্ঠায় অস্বাভাবিক, অপ্রয়োজনীয় ও প্রক্ষিপ্ত সর্গ বলে মত প্রকাশ করেন।
BOI এর প্রকাশিত বিশুদ্ধতর পাণ্ডুলিপির সুন্দরকাণ্ডের সম্পাদক G.C Jhala তাদের স্ট্রিক্ট Methodology এর কারণে এই শ্লোকটি রেখে দিলেও মূল Appendix এ BORI বলেছে-
“The reference to 25 or 27 (regarding Rama’s age) seems to be an interpolation or later edition.” অর্থাৎ পরবর্তীকালের প্রক্ষিপ্ত রচনা শ্লোকটি এবং তাই প্রধান সম্পাদক Prof G. Bhatta ভূমিকাতে ১ বছর শ্বশুরালয়ে থাকার শ্লোকটিকেই যৌক্তিক বলে বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপিতে স্থান দিয়েছেন বলে মত দেন।
BOI এর Critical Edition এর অরণ্যকাণ্ডের সম্পাদক P.C Diwanji ১ বছর শ্বশুরালয়ে থাকার শ্লোকটিকে স্থান দেয়ার প্রসঙ্গে লেখেন -“it very well suits the context.”
💥 আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় যেটি কেউ খেয়াল করেনা তা হলো এই যে নকল শ্লোকটিতে লেখা হলো বিয়ের পর রামসীতা ১২ বছর ধরে অযোধ্যায় বাস করার পর তারপর বনবাসের ঘটনা ঘটল। অথচ রামায়ণে শ্রীরামের প্রায় প্রতিটা সময়ের সব কাজকর্মের বর্ণনা থাকলেও ওই ১২ বছরের কোন কথা ই উল্লেখিত নেই, একদম ধুম করে যেন একটি অধ্যায় থেকে পরের অধ্যায়ে যেতেই মাঝখানে ১২ বছর ভ্যানিশ! এই বিষয়টি পুরো বাল্মীকি রামায়ণের রচনাশৈলীর সাথে একদম ই বেমানান কেননা বাল্মীকি রামায়ণে শ্রীরামের পদে পদে প্রতিটি সময়ের কথা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে তাই হঠাৎ করে মাঝখানের ১২ বছর নিয়ে কোন কথাই বলা হলো না এটা অস্বাভাবিক। India's most renowned christian hindi scholar নামে খ্যাত Camile Bulcke তার রামকথা অনুবাদের ৩৫৯ নং পৃষ্ঠায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেন। বিষ্ণুর একজন অবতার এভাবে ১২ বছর ধরে কিছুই করলেন না, একদম নীরবে বসে থাকলেন, সেসময়টা নিয়ে ১টি বাক্যও রামায়ণে নেই এটা অসম্ভব, নিশ্চয়ই এই ১২ বছরের কথাটি পরবর্তীকালের রচিত অংশ।
অতএব, প্রাচ্যবিদ্যা গবেষকদের বক্তব্য, বেদের বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধের নির্দেশ, আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র ও সুশ্রুত সংহিতার বিধান এবং রামায়ণে প্রাপ্ত পারিপার্শ্বিক সকল প্রমাণে এটি নিশ্চিত যে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিপিসমূহের অনুযায়ী বিয়ের সময় শ্রীরাম ও মাতা সীতার বয়স যথাক্রমে কমপক্ষে ২৪ ও ১৭ এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাচীনতর লিপিসমূহের অনুযায়ী কমপক্ষে ২৭ ও ২০ ছিল। ইতিহাসবিদেরা বলেন ভারতবর্ষে বাল্যবিবাহের সূত্রপাত হয়েছিল ৭ম শতকের দিকে যা পরবর্তীতে তুর্কি,মুঘল ইত্যাদি বহিরাগতদের আক্রমণের হাত থেকে মেয়েদের রক্ষা করার হেতুরূপে তীব্রতর আকার ধারণ করে। বৈদিক যুগের সকল লিখনিতেই নারীদের যুবাবস্থায় বিয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। অপরদিকে সনাতন ধর্মের সর্বোচ্চ সংবিধান পবিত্র বেদ স্পষ্টই বলছে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ, যুবাবস্থায় ব্রহ্মচর্য আশ্রম সমাপ্ত করেই নারী-পুরুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে। তাই পুরাণ নামক মধ্যযুগীয় কল্পকাহিনীর বইয়ের অজুহাত দিয়ে সনাতন ধর্মে বাল্যবিবাহ সমর্থনের কোন সুযোগ নেই।
ও৩ম্ শান্তি শান্তি শান্তি
Sources:
[1] Valmiki Ramayana – Hanumanta Rao
[2] Valmiki Ramayana – Rajsekhar Basu
[3] Valmiki Ramayana – Upendranatha Mukhopadhyay
[4] Valmiki Ramayana, CE – Volume 1
[5] Valmiki Ramayana with Tilaka commentary
[6] Valmiki Ramayana – IIT
[7] Aashwalayana Grihyasutra
[8] Valmiki Ramayana, CE – Volume 3
[9] Ramkatha – Camille Bulcke

©️

রাম মন্দিরের নতুন ধর্মধ্বজায় কোভিদার বৃক্ষ — কেন? এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কী?অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরের নতুন ধর্মধ্বজায় ...
25/11/2025

রাম মন্দিরের নতুন ধর্মধ্বজায় কোভিদার বৃক্ষ — কেন? এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কী?

অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরের নতুন ধর্মধ্বজায় যে পবিত্র বৃক্ষটি অঙ্কিত হয়েছে, তার নাম কোভিদার (Kovidara)। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এই বিশেষ গাছটি কেন নির্বাচিত হলো? রামায়ণে এর গুরুত্ব কী? বর্তমান যুগে এই গাছের নামই বা কী?

চলুন একে একে দেখে নেওয়া যাক— 🌸কোভিদার বৃক্ষ পরিচয়

🟥 বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম: Bauhinia variegata
🟥 সাধারণ নাম: কঞ্চন / কাঞ্চন / অর্কিড ট্রি (Orchid Tree)
🟥 বাংলায় প্রচলিত নাম: কঞ্চন গাছ
🟥 সংস্কৃত নাম: कोविदार (Kovidāra)

এ গাছটি তার সুন্দর বেগুনি-গোলাপি ফুল, পবিত্রতা ও ঔষধি গুণের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

📘 রামায়ণে কোভিদার গাছের গুরুত্ব:
রামায়ণে কোভিদার বৃক্ষ বহুবার উল্লেখিত হয়েছে এবং লঙ্কাকাণ্ড ও অরণ্যকাণ্ডে এই গাছের প্রসঙ্গ পাওয়া যায়।

✔ ১. অশোকবাটিকায় সীতার বাসস্থানের কাছে ছিল কোভিদার গাছ

যখন রাবণ সীতাকে অশোকবাটিকায় বন্দী করে রাখে, তখন বাগানের আশেপাশে অশোক, কদম, বিল্ব, কপিত্থ, কোভিদার ইত্যাদি বৃক্ষের উল্লেখ পাওয়া যায়।অর্থাৎ, সীতা মাতা যে বনে নির্জনে ছিলেন—সেই পরিবেশের একটি অংশ ছিল কোভিদার বৃক্ষ।

✔ ২. অরণ্যবাসের সময় রাম-লক্ষ্মণ-সীতার পথের বনাঞ্চলে এই গাছ প্রচুর ছিল বনবাসকালে যেসব বনে তারা আশ্রয় নিতেন, সেই সব বনের বৃক্ষতালিকায় কোভিদার ছিল উল্লেখযোগ্য।

✔ ৩. কোভিদারকে শুভ, পবিত্র ও স্নিগ্ধতার প্রতীক হিসেবে মানা হয়
পুরাণ ও ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যেও কোভিডারকে পবিত্রতা ,সৌন্দর্য ,স্নিগ্ধতা,শান্তির প্রতীক
হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

🟥 রাম মন্দিরের ধর্মধ্বজায় কোভিদার কেন?
রাম মন্দিরের ধর্মধ্বজায় কোভিদার বৃক্ষ রাখা হয়েছে তিনটি মূল কারণেই

✔ ১. সীতা মাতার স্মৃতি ও অশোকবাটিকার আধ্যাত্মিক সংযোগ
অশোকবাটিকায় সীতার কঠিন সময়ে পাশে থাকা বৃক্ষের মধ্যে কোভিদারও ছিল। তাই এটি সীতা মাতার পবিত্রতার প্রতীক।

✔ ২. রামায়ণের প্রকৃত বনভূমির প্রতীক
রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের বনবাসের প্রকৃত জায়গার সঙ্গে এই গাছের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

✔ ৩. শান্তি ও পবিত্রতার বার্তা বহন করে
এর ফুলের রঙ শান্তি, সৌন্দর্য ও ভক্তির প্রতীক—যা ধর্মধ্বজার আধ্যাত্মিক শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করে।

🙏 রামায়ণের প্রতিটি প্রতীক গভীর অর্থ বহন করে। কোভিদার বৃক্ষ সেই গভীর আধ্যাত্মিক স্মৃতিরই একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জয় শ্রীরাম 🚩🔥

শ্রীকৃষ্ণের মত বন্ধু নেই। 💘✅ সর্বত্র সনাতন ধর্মের প্রচার হোক।প্রচারে:- VEDA
15/11/2025

শ্রীকৃষ্ণের মত বন্ধু নেই। 💘

✅ সর্বত্র সনাতন ধর্মের প্রচার হোক।

প্রচারে:- VEDA

ভক্তবৃন্দদের মহাপ্রসাদ গ্রহণ। হরে কৃষ্ণ
08/11/2025

ভক্তবৃন্দদের মহাপ্রসাদ গ্রহণ।
হরে কৃষ্ণ

দ্বিতীয় দিনের কীর্তন চলমান। 📍স্থান: চকপাড়া কালী মন্দির, বাসুদেবপুর, নাটোর
08/11/2025

দ্বিতীয় দিনের কীর্তন চলমান।

📍স্থান: চকপাড়া কালী মন্দির, বাসুদেবপুর, নাটোর

07/11/2025

কীর্তন চলমান

চলছে প্রথম দিনের আসর। লীলা পরিবেশনায়: ভক্ত হরিদাস আপনারা সবাই সাদরে আমন্ত্রিত। 📍স্থান; চকপাড়া কালীমন্দির, বাসুদেবপুর, ...
07/11/2025

চলছে প্রথম দিনের আসর।
লীলা পরিবেশনায়: ভক্ত হরিদাস

আপনারা সবাই সাদরে আমন্ত্রিত।
📍স্থান; চকপাড়া কালীমন্দির, বাসুদেবপুর, নাটোর

১৬ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান ও লীলা কীর্তনশুভ অধিবাস 🚩📍স্থান: চকপাড়া কালী মন্দির প্রাঙ্গন, বাসুদেবপুর, নাটোর
06/11/2025

১৬ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান ও লীলা কীর্তন
শুভ অধিবাস 🚩
📍স্থান: চকপাড়া কালী মন্দির প্রাঙ্গন, বাসুদেবপুর, নাটোর

Address

Chakpara, Basudebpur
Natore

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চকপাড়া দূর্গা মন্দির posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share