24/03/2024
🌹 আজ ২৫শে মার্চ সোমবার,২০২৪ #ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি গৌর পূর্ণিমা মহোৎসব তথা দোল উৎসব #উপবাস ব্রত।
সবাইকে দোলপূর্ণিমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।
এই গৌর পূর্ণিমা উপবাস ব্রত কিভাবে পালন করবেন সে সম্বন্ধে পোষ্টে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে 🙏
৩ টি বিষয়ে উপর আলোচনা করা হলো।
১/ #হোলিউৎসব।
২/ #দোলপূর্ণিমা উৎসব।
৩/ #গৌরপূর্ণিমা মহোৎসব।
এই ৩ টি উৎসবে #মাহাত্ম্য কি,
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে বৃন্দাবন লীলায় ব্রজবাসীগন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর অন্তরঙ্গা শক্তি রাধারানীকে একত্রে পেয়ে সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তাঁদের চরনে আবির রং ঢেলে রঞ্জিত করেন।।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধারানী ও এ আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন সমগ্র বাসীরা সহ তারা সকলে ভগবানকে আবির দিতে থাকেন।
কৃষ্ণ ভক্তরা ভগবানের চরণে রাধারাণী চরণে আবির ছুয়ে হোলি উৎসব পালন করেন।
ঐ দিনটি ছিল ফাল্গুন মাসের পুর্নিমা তিথি।।
ঐ দিনটিতে এতোটাই আনন্দ উৎসব হয় যে পরবর্তীতে বৃন্দাবন বাসীরা আর ঐ দিনটি কে ভুলতে পারেন নি দেখে, যা আজকে সমাজে দেখা যাচ্ছে সমগ্র বিশ্বজোড়ে মানুষ হোলিউৎসব পালন করছেন।।
তারপর এই দিনটি তে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আর রাধা রানীকে বৃন্দাবন ব্রজবাসীরা প্রেমানন্দে দোলনায় দোল দিয়েছিলেন বলে এই উৎসবটিকে দোল উৎসবও বলা হয়।।
দোলনায় যুগল রাধাকৃষ্ণ কে দোল দেওয়ার কারণে দোলের সন্ধিক্ষনে আর ফাল্গুনের পূর্ণিমা ছিলো তাই এর নাম দেওয়া হয়েছিল দোলপূর্ণিমা,আপনারা সকলে রাধাকৃষ্ণ কে সেদিন দোলনায় দোল দিতে পারেন।
ফাল্গুন মাসের এই পূর্নিমাকে বলা হয় দোল পূর্নিমা।।
এই উৎসবটি পরবর্তীতে সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।।
এই উৎসবটি পরে হোলি নামে খ্যাতি পায়।।
পুরাণ অনুযায়ী জানা যায় যে অত্যাচারী রাজার হিরণ্যকশিপুর দানবী বোন হোলিকা থেকে এই নামের উৎপত্তি, হোলিকা দহন থেকে।
হোলিকা ব্রহ্মাবর প্রাপ্ত ছিলেন, ব্রক্ষা তাকে বিশেষ একটা চাদর দেন যে চাদরে গায়ে জড়ালে তাকে অগ্নি কিছু করতে পারবে না, হিরণ্যকশিপুর ছিলেন বিষ্ণুবিদ্বেষী তিনি তার পুত্র কে হোলিকার দ্বারা অগ্নি কে নিক্ষেপ করে প্রহ্লাদ কে কোলে নিয়ে হোলি গায়ে চাদর দিয়ে নিয়ে, যখন প্রহ্লাদ শ্রীহরি কে ডাকতে থাকেন তখন ভগবানের বায়ু শক্তি দ্বারা হোলিকা চাদর ওরে গিয়ে প্রহ্লাদে গায়ে জড়িয়ে যায়, আর হোলিকা অগ্নি তে দহন হয়।
এই অত্যাচারী রাজা বোন অত্যাচারী হোলিকা দহন হতে দেখে অশুভ এর উপর শুভ শক্তি প্রকাশ হয় সবাই আনন্দে হোলি উৎসব পালন করতে থাকেন।
সকল প্রকার দানবীর ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে জয়লাভের প্রতিকই হলো এই রঙিন আনন্দ মহাউৎসব।।
এরপর গৌরপূ্ণিমা তিথি,
কলির অধঃপতিত জীবদের করুনা করতে
পরম করুণাময় ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হলেন শ্রীমায়াপুর নবদ্বীপ ধামে।
জীবের লাগিয়া বিলাইলেন প্রভু প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে কলিযুগের যুগধর্ম হরিনাম সংকীর্তন, শিক্ষাইলেন আচরণ করে।
সেই মহানুভবতা করুণার মূর্তি প্রকাশ রাধাকৃষ্ণ মিলিত তনুজ শ্রীশ্রী গৌরসুন্দর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি তার নিত্য গোলকবৃন্দাবন ধাম ছেড়ে, এই পৃথিবী নামক গ্রহে ভারতভূমি মায়াপুরে নবদ্বীপ ধাম নামক স্থানে পিতা শ্রীজগন্নাথ মিশ্র ও মাতা শ্রী শচীমাতার গৃহে নিমবৃক্ষের তলায় চন্দ্রোদয়ের সময় সমস্ত ব্রক্ষান্ডকে আলোকিত করে আবির্ভূত হোন ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু।
তাই বৈষ্ণব গন ভগবানের সেই আবির্ভাব তিথি চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস ব্রত পালন করে থাকে।
মহাপ্রভুর এই আবির্ভাব তিথি উপবাস ব্রত যে পালন করবেন ভক্তি শ্রদ্ধা সহকারে তার শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম ভক্তি লাভ হবে ও জন্মজন্মান্তরের পাপরাশি দূর হবে।
আমরা এই ব্রত কিভাবে পালন করতে পারি?
আমরা চন্দ্রোদয় পর্যন্ত সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যায় ভগবানকে আরতি
নানারকমে ফলের জুস, দুধ,ডাবের জল,পঞ্চমামৃত গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করিয়ে থাকি চিত্রপটে বা বিগ্রহ।
অভিষেকের পর একাদশীর মত মহাপ্রসাদ পাওয়া হয়।
যারা অসমর্থ অসুখ বিসুখ তারা ফল,জল খেতে পারবেন ভগবানের কাছে ক্ষমা চেয়ে।
আর যদি আপনাদের নিকটতম স্থানের মঠ, মন্দির বা ভক্ত বাড়ী থাকে সেখানে গিয়ে আপনারা অংশগ্রহণ করতে পারেন।
তারপর পরেরদিনে পারণ সকাল ৯:৪৩ এর মধ্যে। ভগবানকে ভোগ নিবেদন করে পেয়ে নেবেন। মহাপ্রভুর শাক,শুকতা,নিমবেগুন, মশলা কম খাবার খুব প্রিয় আপনারা তাই করতে পারেন।
এবং সারাদিনে বাকী যে সময়টা থাকবে সেসময় অযথা সময় নষ্ট না করে হরিনাম জপ ও গন্থ পড়বেন, তাতে মহাপ্রভু আরো বেশি কৃপা লাভ করবেন ভক্তিমূলক সেবা করার ম্যাধমে ভগবান শ্রীচৈতন্য হরিনামে খুশি হোন।।
🙏হরেকৃষ্ণ 🙏
ফেসবুক হতে সংগৃহীত।