09/03/2022
।।ভালবাসা সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর।।
■শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন------- 'Name and love can conquer the universe'. সৎনাম এবং প্রেম বা ভালবাসা জগৎ জয় করে। আরও বললেন -------
'Nothing has a pull/more magnetic/than love'. 'প্রেমের মত আকর্ষণকারীই বা আর কে?'
'Love alone can control everything------- because it is the elixir of existence.'
উপরিউক্ত ভালবাসার লক্ষণ ছড়া আকারে দিলেন-------
ভালবাসা খাঁটি যখন
শুনবি তা'র কি লক্ষণা?
প্রেমাস্পদের অনাদরেও
মোটেই দুষ্ট ক্ষুব্ধ না।
(অনুশ্রুতি ১ম খন্ড, অনুরাগ, ৩৯ নং বাণী)
শ্রীশ্রীঠাকুর গল্পের মতো করে বলছেন ------ ভালবাসার test (পরীক্ষা) হ'ল, আমি যখন তোমাকে গালাগালি করি, তখন তুমি কেমন থাক। আদর করব, বুকে নেব, সেটা ভাল লাগে। আর, পিঠে যদি একটা চড় দিই, অমনিই ছুটে গেলে। তাহ'লে বুঝতে হবে তুমি ভালবাসার বাড়ির ধারেও নেই।
অন্যদিকে প্রসঙ্গের সূত্রে বলছেন ------ আমি ভাল হব, এই ভাবে ভেবে ভাল হওয়া যায় না। কাউকে ভালবেসে বরং তা সম্ভব হ'তে পারে। সেইজন্য তুমি এমন একজনকে ভালবাস, যাঁর প্রেম কাউকে বঞ্চিত করে না। তাঁকে ভালবাসতে হবে তোমার সব চাহিদা, সব তৃষ্ণা দিয়ে, সব-কিছু দিয়ে, সব দিক দিয়ে। আর, ওই ভালবাসার ফলে খারাপ ভাল যাই আসুক, তার জন্য তৈরি থাকা লাগবে। শুধু নীতিকথায় কাজ হয় না। আবার, বুদ্ধি ক'রে রকম ক'রেও কিন্তু মানুষের ব্যক্তিত্ব গজায় না। গজায় ঐরকম চলনের ফলে। ঐ যে বিল্বমঙ্গলের গল্প আছে,-------- তার মধ্যে কিন্তু ভালবাসা ছিল। চিন্তামণিকে বলত, 'চিন্তামণি! তুমি অতি সুন্দর।' মানে একজন বেশ্যাকে যেমন ক'রে কয়, তেমনি ক'রেই কইত। কিন্তু বিল্বমঙ্গলের সমস্ত behavior-এর (ব্যবহারের) মধ্য দিয়ে ভালবাসাই ফুটে বেরোত। তারপর যখন বিল্বমঙ্গল দেখল চিন্তামণি তাকে অবিশ্বাস করছে, বলছে তুমি এতদিন যদি সত্যিকারের চিন্তামণির চিন্তা করতে অর্থ্যাৎ ভগবানকে ভালবাসতে, তা'হলে তাঁকে পেতে, তখন বিল্বমঙ্গল ভাবল, আমি ভগবানকে সত্যি সত্যি ভালবাসলে তিনি তো আমাকে অবিশ্বাস করতেন না! তারপর সে ওখান থেকে চ'লে গেল। কিন্তু যাওয়ার সময়ও বলে, গরুগুলিকে খেতে দিও, পাখিগুলিকে এইভাবে যত্ন ক'রো, ইত্যাদি। তার মানে, চিন্তামণির সব affair-কেই (বিষয়কেই) নিজের ক'রে নিয়েছিল। তাই ওইরকম ভাবত। এদিকে, চিন্তামণি ভাবছিল------ 'ও মিনসে যাচ্ছে, এখনি আসবে নে। আমার জন্যে যে মড়া ধ'রে নদী পার হতে পারে, সে কতদিন আর বাইরে থাকবে।' তারপর একদিন যায়, দুদিন যায়, তিনদিন যায়, বিল্বমঙ্গল আর ফিরে আসে না। তখন চিন্তামণি পাগলের মতো হ'য়ে ওঠে। আর না পেরে শেষে বেরিয়ে পড়ল। খোঁজ, খোঁজ, খোঁজ, সব জায়গায় খোঁজে। পায় না। শেষে সেই আশ্রমে যেয়ে উপস্থিত হয়, জিজ্ঞাসা করে ------ 'এখানে কি সেরকম কেউ আছে?' সংবাদ পেয়ে বিল্বমঙ্গল বেরিয়ে এল। এসে চিন্তামণিকে দেখেই এইরকমভাবে (বলেই হাত দুখানা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে, অপূর্ব নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন) ------'চিন্তামণি! প্রেমশিক্ষাদাত্রী! গুরু আমার!' বলে এগিয়ে গেল। তখন ও-ও কাঁদে, এ-ও কাঁদে। এইভাবে এক-একজনের এক-এক ভাবে হয়। রত্নাকরের হয়েছিল, অজামিলেরও হয়েছিল। সময় হলেই সবার হ'য়ে থাকে। ওই যে রবীন্দ্রনাথের লেখা আছে, 'আজি রজনীতে হয়েছে সময় এসেছি বাসবদত্তা।'
(দীপরক্ষী, ৩য় খন্ড, ইং ৮-৫-৫৭)।
🙏🙏🙏জয়গুরু🙏🙏🙏