হেদায়েতের কথাシ

হেদায়েতের কথাシ 💘لا إله إلا الله محمد رسول اللّه💘
💞 "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"💞

27/05/2026
27/05/2026

ঘরে–বাহিরে বেশি বেশি তাকবীর পাঠ করুন।

27/05/2026

কুরবানী ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও বিশেষ ইবাদত।

হযরত আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে তা চলে আসছে। তবে সব নবীর শরীয়তে এর পদ্ধতি এক ছিল না। ইসলামী শরীয়তে এর যে পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে তার মূল সূত্র ‘মিল্লাতে ইবরাহীমী’তে বিদ্যমান ছিল। এজন্য কুরবানীকে ‘সুন্নতে ইবরাহীমী’ বলা হয়।

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কুরবানীর কথা খোদ কুরআন মাজীদে উল্লেখিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে জুড়ে আছে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

বহু দিন ধরে ইবরাহীম আ.-এর কোনো সন্তান হচ্ছে না। ধীরে ধীরে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সন্তান জন্মের স্বাভাবিক বয়স পার হয়ে যায়। জীবনসন্ধ্যায় দাঁড়িয়েও তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে নেক সন্তান প্রার্থনা করেন-

رَبِّ هَبْ لِيْ مِنَ الصّٰلِحِيْنَ.

হে আমার রব! আমাকে নেক সন্তান দান করুন। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০০

যত দিন যাচ্ছিল ইবরাহীম আ.-এর হৃদয়ে সন্তানের আকাক্সক্ষা ততই তীব্র হচ্ছিল এবং আল্লাহর কাছে ততই দুআ-কাতর হচ্ছিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাঁর আকাক্সক্ষা পূরণ করে একজন সহনশীল পুত্রসন্তান দান করেন। এই সন্তানের নাম রাখেন ইসমাঈল।

একজন অশীতিপর বৃদ্ধ লোক সন্তানের মুখ দেখলে কত আনন্দিত হবে সহজেই অনুমেয়। ইবরাহীম আ. শুধু আনন্দিতই হননি; আল্লাহর শোকরে তাঁর হৃদয় ভরে যায়। তিনি শোকর আদায় করে বলেন-

الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ وَهَبَ لِيْ عَلَي الْكِبَرِ اِسْمٰعِيْلَ وَاِسْحٰقَ اِنَّ رَبِّيْ لَسَمِيْعُ الدُّعَآء.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাক দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব দুআ শ্রবণকারী। -সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৩৯

ইবরাহীম আ. শামে বসবাস করতেন। একসময় আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এল, পুত্র ইসমাঈল ও তাঁর মা হা-জারকে যেন মক্কায় রেখে যান। মক্কায় তখন জনবসতি ও জীবনোপকরণ কিছুই ছিল না। তার পরও আল্লাহর নির্দেশমতো তিনি তাঁদেরকে সুদূর মক্কায় রেখে যান।

ইসমাঈল আ. ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে শুরু করেন। তিনি যত বড় হচ্ছিলেন, তাঁর প্রতি পিতার ভালবাসা তত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। যখন তিনি ছোটাছুটি করার বয়সে উপনীত হন তখন ইবরাহীম আ. এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তিনি স্বপ্নে দেখেন, একমাত্র কলিজার টুকরোকে যবেহ করছেন।

এটা যদিও স্বপ্ন ছিল; কিন্তু নবীগণের স্বপ্ন ওহীর মতো হয়ে থাকে। তাই এ স্বপ্নের অর্থ এই ছিল যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবরাহীম আ.-কে একমাত্র সন্তান ইসমাঈল আ.-কে যবেহ করার আদেশ করা হয়েছে।

ইসমাঈল আ. যদিও ইবরাহীম আ.-এর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দুআর ফল; কিন্তু তাঁর কাছে আল্লাহর আদেশ ছিল সবার উপরে। তিনি খুশিমনে এ আদেশ পালন করতে রাজি হয়ে গেলেন। কেননা সন্তান আল্লাহ্ই দান করেছেন। এখন তিনিই তাকে যবেহ করার আদেশ করেছেন। তাঁর দেওয়া সম্পদ তাঁর জন্য কুরবান করতে দ্বিধা কীসের? বান্দার জন্য এটা বরং সৌভাগ্যের বিষয়।

ইবরাহীম আ. অতীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন এবং সবগুলোতে চূড়ান্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই আদেশ পালনেও নিজের দিক থেকে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এটা যেহেতু দুইজনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল, তাই অপরজনের অভিমত জানা বা অন্তত অবহিত করা উচিত। এতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন অথবা তার কোনো দ্বিধা থাকলে বুঝানো-সমঝানো যাবে।

ইবরাহীম আ. নিজ স্বপ্নের কথা সন্তানকে জানিয়ে তাঁর অভিমত জানতে চাইলেন-

يٰبُنَيَّ اِنِّيْۤ اَرٰي فِي الْمَنَامِ اَنِّيْۤ اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَا ذَا تَرٰي.

হে আমরা বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি, তোমাকে যবেহ করছি। তাই তুমি চিন্তা করে দেখ, তোমার অভিমত কী।

কিন্তু তিনি তো ছিলেন খলীলুল্লাহর পুত্র এবং ভাবী নবী। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন-

يٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِيْۤ اِنْ شَآءَ اللهُ مِنَ الصّٰبِرِيْنَ.

হে আমার পিতা! আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা করে ফেলুন। আপনি আমাকে আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০২

এটা ইসমাঈল আ.-এর গভীর জ্ঞান ও বিনয়ের পরিচায়ক। ইবরাহীম আ. তাঁর কাছে একথা বলেননি যে, আল্লাহ তোমাকে যবেহ করার আদেশ করেছেন; তিনি একটি স্বপ্নের কথা বলেছেন মাত্র। কিন্তু ইসমাঈল আ. বুঝে ফেলেছেন, এ স্বপ্ন মূলত আল্লাহর একটি আদেশ।

দ্বিতীয়ত, তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে বিষয়টি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছেন এবং ‘আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন’ বলে এ ইঙ্গিত করেছেন যে, এই ধৈর্য একা আমারই কৃতিত্ব নয়; বরং দুনিয়াতে আরো বহু ধৈর্যশীল আছেন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে তাদের মধ্যে পাবেন। এভাবে তিনি অহংকার ও আত্মমুগ্ধতার নাম-গন্ধটুকু পর্যন্ত খতম করে চূড়ান্ত বিনয়ের প্রকাশ করলেন।

যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য রাজি হয়ে গেলেন তখন এল আসল পর্ব। ইবরাহীম আ. পুত্রকে যবেহ করার জন্য কাত করে শোয়ালেন।

যবেহের ক্ষেত্রে যদিও সাধারণ নিয়ম হল চিত করে শোয়ানো; কিন্তু ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ.-কে কাত করে শোয়ানোর উদ্দেশ্য সম্ভবত এই ছিল যে, আল্লাহ তাআলার আদেশ পালন প্রসঙ্গে তাঁরা দুইজন নিজেদের পক্ষ থেকে তো এটাই ধরে নিয়েছিলেন যে, পিতা পুত্রকে কার্যত যবেহ করবেন। তাই ইবরাহীম আ. পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন, যাতে ছুরি চালানোর সময় চেহারা নজরে না পড়ে, পাছে পুত্রবাৎসল্য উঠলে মন টলে যায়। এ থেকে অনুমেয়, এই আদেশ পালনের জন্য তাঁরা কত আন্তরিক ছিলেন।

আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনের জন্য তাঁরা যেহেতু তাঁদের এখতিয়ারাধীন সবকিছুই করে ফেলেছিলেন, তাই তাঁদের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। অনন্তর আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের এক কারিশমা দেখালেন। তিনি নিজ কুদরতে সেখানে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন। ইবরাহীম আ. আল্লাহর নির্দেশে পুত্রের স্থলে সেটি যবেহ করলেন। ইসমাঈল আ. জীবিত ও নিরাপদ থাকলেন।

কুরআনের ভাষায়-

فَلَمَّاۤ اَسْلَمَا وَتَلَّهٗ لِلْجَبِيْنِ وَنَادَيْنٰهُ اَنْ يّٰۤاِبْرٰهِيْمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْيَا اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِيْنَ، اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِيْنُ، وَفَدَيْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيْمٍ.

অতঃপর যখন তারা উভয়ে আদেশ মান্য করল এবং পিতা পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। আর আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা ছিল স্পষ্ট পরীক্ষা। এবং আমি এক মহান কুরবানীর (পশুর) বিনিময়ে তাকে (ইসমাঈল) মুক্ত করলাম। -সূরা সাফফাত (৩৭) : ১০৩-১০৭

ইবরাহীম আ.-এর এই দুম্বা কুরবানী হল, ইসলামী শরীয়তে নির্দেশিত কুরবানীর পদ্ধতির মূল সূত্র। (সামর্থ্যবান) মুসলমানদের কর্তব্য হল (নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট) পশু কুরবানী করা। এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْ.

সুতরাং আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। -সূরা কাওসার (১০৮) : ২

এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তাঁর মাধ্যমে গোটা উম্মতকে নামায ও কুরবানীর আদেশ করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দ্বীন সম্পর্কে জানতে এসেছিল। ফিরে যাওয়ার সময় নবীজী তাকে ডেকে বললেন-

أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ.

আমাকে ‘ইয়াওমুল আযহার’ আদেশ করা হয়েছে। এ দিবসকে আল্লাহ এ উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৫৭৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৪

এ হাদীস থেকে জানা গেল, আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানীর দিন কুরবানী করার জন্য বিশেষভাবে আদেশ করা হয়েছে।

মিখনাফ ইবনে সুলাইম রা. বলেন-

كُنّا وُقُوفًا مَعَ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِعَرَفَاتٍ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَيّهَا النّاسُ، عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيّةٌ.

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, হে লোকসকল! প্রত্যেক ঘরওয়ালার উপর প্রতি বছর কুরবানী আবশ্যক। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৪৭৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৭৮৮৯

ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন-

هذا حديث حسن غريب.

তাছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদানী-জীবনে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-

أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلَّ سَنَةٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় দশ বছর ছিলেন। প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৯৫৫

ইমাম তিরমিযী রাহ. বলেন-

هذا حديث حسن

উপরিউক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ থেকে বোঝা গেল, কুরবানী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য কুরবানী করা আবশ্যক।

কুরবানীর মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। এখানে কয়েকটি শিক্ষা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল :

১. কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা হল, আল্লাহর প্রতি তাওহীদের বিশ্বাসকে দৃঢ়, পরিপূর্ণ ও নিখুঁত করা। কুরবানী আমাদের এ শিক্ষা দেয় যে, ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ, আর কোনো কিছু ইবাদতের উপযুক্ত নয়। সুতরাং ইবাদত একমাত্র আল্লাহর করব। আল্লাহ ছাড়া আর কারো, আর কোনো কিছুর ইবাদত করব না। কোথাও উপাসনাধর্মী কোনো কাজ গায়রুল্লাহর জন্য হলে আমি তাতে শরীক হব না।

আল্লাহ তাআলা নবীজীকে বলেন-

قُلْ اِنَّنِيْ هَدٰىنِيْ رَبِّيْۤ اِلٰي صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ دِيْنًا قِيَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰهِيْمَ حَنِيْفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، قُلْ اِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ، لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَبِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ.

আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক আমাকে সরলপথ প্রদর্শন করেছেন, যা বিশুদ্ধ দ্বীন, ইবরাহীমের মিল্লাত, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। এরই আদেশ করা হয়েছে আমাকে এবং আমিই প্রথম আনুগত্যকারী। -সূরা আনআম (৬) : ১৬১-৬৩

এ আয়াতগুলোতে নবীজীকে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ তাওহীদের ঘোষণা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করার সময় তাওহীদের এই ঘোষণা উচ্চারণ করতেন।

জাবির রা. থেকে বর্ণিত, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দুটি দুম্বা জবাই করেছেন। তিনি যখন এগুলোকে কেবলামুখী করে শোয়ালেন তখন বললেন-

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، عَلى مِلَّةِ إِبْرَاهِيْمَ حَنِيْفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لَا شَرِيْكَ لَهٗ، وَبِذلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ.

আমি আমার মুখ তাঁর অভিমুখী করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। এরই আদেশ করা হয়েছে আমাকে এবং আমিই প্রথম আনুগত্যকারী। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫০২২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৮৯৯

২. কুরবানীর আরেকটি বড় শিক্ষা হল আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করা। তাঁর আদেশকে শিরোধার্য করা। তাঁর হুকুম-আহকাম পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইবরাহীম আ. আল্লাহর নির্দেশে বৃদ্ধ বয়সে প্রাপ্ত একমাত্র সন্তান ইসমাঈল আ.-কে যবেহ করার জন্য খুশিমনে রাজি হয়েছিলেন।

৩. কুরবানীর আরেকটি বড় শিক্ষা হল যে কোনো নেক কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা। কুরবানীর এ শিক্ষা উপরিউক্ত আয়াত ও হাদীস থেকেই আমরা পাই। অন্যত্র তা আরো পরিষ্কারভাবে এসেছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰي مِنْكُمْ.

আল্লাহর কাছে সেগুলোর গোশত পৌঁছে না এবং সেগুলোর রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৭

হাঁ, কুরবানীর পশুর কিছুই তো আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। গোশত আমরা খেয়ে নিই। রক্ত-ময়লা ফেলে দিই। তাহলে আল্লাহর কাছে কী পৌঁছে? তাঁর কাছে পৌঁছে অন্তরের নিয়ত। যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী করা হয়, তাহলে এটাই তাঁর কাছে পৌঁছবে এবং তাঁর কাছে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে। আর যদি নামদাম, লৌকিকতা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে করা হয় তাহলে তাঁর কাছে কোনো প্রতিদান পাওয়া যাবে না।

মানব ইতিহাসের প্রথম কুরবানীর ঘটনায়ও এ বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে। যখন আদম আ.-এর দুই পুত্র কুরবানী পেশ করলেন তখন একজনের কুরবানী কবুল হল, অপরজনের কুরবানী কবুল হয়নি। এ অবস্থায় তার (যার কুরবানী কবুল হয়নি) উচিত ছিল সত্য মেনে নেওয়া, কিন্তু সে উল্টো ঈর্ষাকাতর হল এবং একপর্যায়ে অপর ভাইকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হল। তখন ওই ভাই (যার কুরবানী কবুল হল) বললেন-

اِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ .

আল্লাহ তো মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। -সূরা মায়েদা (৫) : ২৭

হাদীসেও এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، مَنْ فَعَلَهُ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ، فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ.

ঈদের দিন আমরা প্রথমে নামায আদায় করি। অতঃপর ফিরে এসে কুরবানী করি। যে ব্যক্তি এভাবে আদায় করবে, সে আমাদের নিয়ম মতো করল। আর যে নামাযের আগেই পশু জবাই করল সেটা তার পরিবারের জন্য গোশত হবে, কুরবানী হবে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬১

এ হাদীস থেকে বোঝা গেল, কুরবানী শরীয়তের বিধান মোতাবেক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করতে হবে। অন্যথায় তা কুরবানী হবে না; বরং নিছক গোশত খাওয়ার আয়োজন হবে।

৪. কুরবানীর আরেকটি শিক্ষা হল, কোনো কাজেই এমনকি যদি অনেক বড় কোনো নেক কাজেরও তাওফীক হয়ে যায়, তবু অহংকার না করা, আত্মমুগ্ধতার শিকার না হওয়া; বরং বিনয়ী হওয়া এবং অন্তরে এই অনুভূতি থাকা চাই যে, এটা একমাত্র আল্লাহর দয়াই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় আমার পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা লক্ষ করেছি, ইবরাহীম আ. যখন ইসমাঈল আ.-এর কাছে নিজ স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে তাঁর অভিমত জানতে চেয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা করে ফেলুন। আপনি আমাকে আল্লাহ চাহেন তো অবশ্যই ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’

একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি দুম্বা কুরবানী করেন- একটি নিজের পক্ষ থেকে, আরেকটি উম্মতের পক্ষ থেকে। দুম্বা দুটি জবাই করার সময় তিনি বলেন-

اَللّٰهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ.

হে আল্লাহ! এটা তোমার পক্ষ থেকেই এবং তোমার জন্যই। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫০২২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ২৮৯৯

নবীজীর বিনয় দেখুন, দুটি দুম্বা কুরবানী করা সত্ত্বেও তিনি অহংকার করেননি; বরং এই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন যে, এটা আল্লাহরই দান, তিনিই এর তাওফীক দান করেছেন।

৫. কুরবানীর আরেকটি শিক্ষা হল, সন্তানকে আল্লাহর অনুগত বানানোর চেষ্টা করা। কুরবানীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি, ইবরাহীম আ. মনে মনে এমন সন্তানের কথাই ভাবতেন এবং আল্লাহর কাছেও এমন সন্তানই প্রার্থনা করতেন, যে আল্লাহর পূর্ণ অনুগত হবে, আল্লাহর জন্য জীবন দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। তিনি তা বাস্তবে প্রমাণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্দরভাবে কুরবানী করা এবং এর শিক্ষা দ্বারা আলোকিত হওয়ার তাওফীক দান করুন।

কুরবানী : ইতিহাস, গুরুত্ব ও শিক্ষা
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক: আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ।
মাসিক আল কাউসার

25/05/2026

আরাফার দিনের রোজা আমাদের জন্য কোন দিন?
প্রশ্নঃ আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আরাফার দিনের রোজা আমাদের জন্য কোন দিন???
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী! বাংলাদেশে যেদিন জিলহজ মাসের 9 তারিখ হবে সেদিনই রোজা রাখবেন। মৌলিকভাবে এটা আরাফার কোন আমল নয় বরং আরাফার দিনের তথা জিলহজ মাসের নয় তারিখের আমল। আরবি ভাষায় জিলহজ মাসের নয় তারিখকে ইয়াওমু আরাফাহ বলে। যেমনি ভাবে ১০ তারিখকে বলে ইয়াওমুন নাহার। তারপর ১১,১২,১৩ তারিখগুলোকে বলে আইয়ামুত তাশরীক।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর

প্রশ্নঃআসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আরাফার রোজা রাখব নাকি বাংলাদেশের সাথে মিল রেখে?
উত্তর

و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আমাদের দেশের চাঁদের হিসেবে যেদিন নয় যিলহজ্ব হবে সেদিনই রোযা রাখা হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে নয়।

নয় যিলহজ্বের রোযার ফযীলত সম্পর্কে আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ، وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.

আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য। এই তারিখের পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। কেননা এই রোযা আরাফার ময়দানের আমল নয় বরং আরাফার দিন তো হাজ্বীদের জন্য রোযা না রাখাই মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ،أَنّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ، فِي صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ، فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ، وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ، فَشَرِبَهُ.

উম্মুল ফযল বিনতে হারেছ বলেন, তার নিকট কতক লোক ইয়াওমে আরাফায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল। কেউ কেউ বলছিল, তিনি রোযা আছেন। আর কেউ কেউ বলছিল, তিনি রোযা নেই। উম্মুল ফযল একটি পেয়ালাতে দুধ পাঠালেন। নবীজী তখন উটের উপর ছিলেন। তিনি দুধ পান করলেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১২৩

আরাফার দিন আল্লাহর রাসূল রোযা রাখেননি। একারণে ফকীহগণ হাজ্বীদের জন্য আরাফার দিন রোযা না রাখা উত্তম বলেছেন। আবু কাতাদা রা.-এর হাদীস দ্বারা ইয়াওমে আরাফায় রোযা রাখা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়।

সুতরাং বুঝা গেল, আবু কাতাদাহ রা.-এর হাদীসে ‘ইয়াওমে আরাফা’ দ্বারা নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিনই উদ্দেশ্য।
সুতরাং আমাদের দেশের চাঁদের হিসেবে যেদিন নয় তারিখ হয় সেদিনই রোযা রাখা হবে। সৌদির হিসাবে আরাফার দিন অনুযায়ী নয়। উল্লেখ্য, তাকবীরে তাশরীক সংক্রান্ত হাদীসেও ইয়াওমে আরাফা দ্বারা নয় যিলহজ্বই উদ্দেশ্য। কেননা এ আমলও আরাফার সাথে নির্দিষ্ট কোনো আমল নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, মাসিক আলকাউসার, জানুয়ারি ২০১৩ ঈ. (দুটি প্রশ্ন ও তার উত্তর : ইয়াওমে আরাফার রোযা ও কুরবানীর সাথে আকীকা)

‘ইয়াওমে আরাফা’ অর্থ নয় জিলহজ্ব। এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। কারণ এই রোযা আরাফা বা উকুফে আরাফার আমল নয়; তা ঐ তারিখের আমল। ‘ইয়াওমে আরাফা’ হচ্ছে ঐ তারিখের (নয় যিলহজ্বের) পারিভাষিক নাম। যেহেতু ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রোকন হজ্বের প্রধান রোকন উকুফে আরাফা ঐ স্থানের তারিখ হিসাবে নয় যিলহজ্বে আদায় করা হয় তাই এ তারিখেরই নাম পড়ে গেছে ‘ইয়াওমে আরাফা’। একারণে যেসব আমল আরাফা বা উকূফে আরাফার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং যিলহজ্বের নয় তারিখের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকেও ‘ইয়াওমে আরাফা’র আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, নয় তারিখে বা ঈদের আগের দিন আমলটি করতে হবে।

এ প্রয়োগের কারণে (নয় যিলহজ্বকে ‘ইয়াওমে আরাফা’ বলা) আরাফা ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে তো কোনো বিভ্রান্তি হয় না, কিন্তু দূরত্বের কারণে ঐ অঞ্চলের সাথে যেসব অঞ্চলের তারিখের পার্থক্য হয় সেখানে-যারা এই প্রয়োগের সঠিক অর্থ সম্পর্কে অবগত নয় তাদের-বিভ্রান্তি ঘটে। যেমনটা প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঘটেছে।

এ প্রয়োগের (ইয়াওমে আরাফা অর্থ নয় যিলহজ্ব) আরেকটি দৃষ্টান্ত ‘তাকবীরে তাশরীক’। এটি আরাফা বা উকুফে আরাফার বিশেষ আমল নয়। এটি শুরু হয় নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে, অথচ যে দলীল দ্বারা নয় তারিখ থেকে তাকবীরে তাশরীক শুরু হওয়া প্রমাণিত তাতেও ‘ইয়াওমে আরাফা’ শব্দই আছে। দলীলের আরবী পাঠ এই-

عن علي رضي الله عنه : أنه كان يكبر بعد صلاة الفجر يوم عرفة، إلى صلاة العصر من آخر أيام التشريق، ويكبر بعد العصر.

رواه ابن أبي شيبة في مصنفه وإسناده صحيح كما في الدراية.

আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৭৭, ৫৬৭৮

এখানেও কি ‘ইয়াওমে আরাফা’ অর্থ নয় যিলহজ্ব করা ভুল?

দ্বিতীয়ত, গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা আছে যে, ইয়াওমে আরাফার পরের দিনটিই ইয়াওমুন নাহর।

এটি প্রমাণ করে, ‘ইয়াওমে আরাফা’ একটি তারিখের নাম, আর তা হচ্ছে নয় যিলহজ্ব, যেমন ‘ইয়াওমুন নাহর’ একটি তারিখের নাম, আর তা হচ্ছে দশ যিলহজ্ব। কোনো অঞ্চলের অধিবাসীরা যদি ঐ অঞ্চলের তারিখ অনুযায়ী ইয়াওমুন নাহরের অর্থ দশ জিলহজ্ব ধরে ইয়াওমে আরাফার এমন কোনো অর্থ করেন, যদ্বারা সেখানের তারিখ হিসেবে তা হয়ে যায় আট যিলহজ্ব, তাহলে সেটা হবে এক উদ্ভট, হাস্যকর ও ইজমা বিরোধী কথা। কারণ ইয়াওমে আরাফা ও ইয়াওমুন নাহরের মাঝে আরেকটি দিন স্বীকার করে নেওয়া ইজমার সরাসরি বিরোধী।

والله اعلم بالصواب

25/05/2026

প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, 'আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলত

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহিমাহুমাল্লাহ) ...... আবূ কাতাদাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন। উমর (রাযিঃ) তার অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তার ও তার রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”

“উমর (রাযিঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হল। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে পর্যায়ক্রমে দু’দিন সওম পালন করে ও একদিন সওম ত্যাগ করে, তার অবস্থা কীরূপ? তিনি বললেন, এ সামর্থ্য কার আছে? (অর্থাৎ সামর্থ্য) থাকলে বেশ ভাল কথা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাউদ (আঃ) এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ?

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারাহ হয়ে যাবে।
(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬১৩, ইসলামীক সেন্টার ২৬১২)

হাদিসের মান সহিহ
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
সহিহ মুসলিম (হাদিস একাডেমী):২৬৩৬

24/05/2026

নিজেকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ও পরিবারের বাধা - উস্তাদ নোমান আলী খান (বাংলা ডাবিং) Noman Ali Khan

24/05/2026

প্রচলিত ভুল--০৯

মূলপাতা
সকল সংখ্যা
বিভাগ
লেখকবৃন্দ
আপনার জিজ্ঞাসা
পরিচিতি
যোগাযোগ
বর্ষ: ১৮, সংখ্যা: ০২
রজব ১৪৪৩ || ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রচলিত ভুল
একটি ভুল চিন্তা
বেশি জেনে জ্ঞানপাপী হয়ে মরতে চাই না!
একবার এক ব্যক্তির সাথে কথা হচ্ছিল। তাকে দ্বীনী কিতাবাদি পড়ার প্রতি উৎসাহ দিলে সে বলল, অল্প জানি, সেটাই ভালো। যতটুকু পারি, আমল করার চেষ্টা করি। বেশি জেনে জ্ঞানপাপী হয়ে মরতে চাই না!

এটি একটি ভুল চিন্তা। মুমিন এমন কথা বলতে পারে না। মুমিনের প্রতি ওহীর প্রথম বার্তাই তো ‘পড়ো’। পড়া ছাড়া মুমিনের গত্যন্তর নেই। দ্বীন অনুযায়ী চলতে হলে মুমিনকে পড়তে হবে, দ্বীন জানতে হবে।

হাঁ, জ্ঞানপাপী হওয়া হারাম। ইলম অনুযায়ী আমল না করা অন্যায়। মুমিন ইলম অনুযায়ী আমল করতে সচেষ্ট হবে। জানবেই আমলের নিয়তে। কারণ কিয়ামতের দিন যে চার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়া বনী আদমের কদম সামনে বাড়বে না তার অন্যতম হল-
.. وَعَنْ عِلْمِهِ مَاذَا عَمِلَ فِيهِ؟
..এবং তার ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে- সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে? -শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ১৬৪৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪১৭

তবে এর অর্থ কখনোই এমন নয় যে, যেহেতু ইলম সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে- সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছি, সুতরাং ইলমই শিখব না; এমনকি প্রয়োজন পরিমাণ ইলমও শিখব না!

এ চিন্তাটি ভুল। যারা আলেম তাদেরই তো জানার শেষ নেই। আজীবন জানতে থাকতে হয়; সেখানে একজন সাধারণ মানুষ যদি বলে, যতটুকু জানি এতটুকুই যথেষ্ট আর জানার প্রয়োজন নেই, তাহলে তা হবে একটি আত্মঘাতী কথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ.

ইলম অন্বেষণ করা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরয। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২২৪; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ১৫৪৫

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الَّذِیْنَ یَعْلَمُوْنَ وَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ.

বল, যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি সমান? -সূরা যুমার (৩৯) : ৯

আর জানা কথা, একজন মানুষ একবারে সবকিছু জেনে যায় না; একটু একটু করে শিখতে থাকতে হয়; আমরণ শিখলেও শেখা শেষ হয় না।

এখন কেউ যদি বলে, অল্প জানি, সেটাই ভালো। বেশি জেনে জ্ঞানপাপী হয়ে মরতে চাই না! এর অর্থ দাঁড়ায়, আমার প্রয়োজন পরিমাণ ইলম অর্জন হয়ে গেছে। আমার আর জানার প্রয়োজন নেই! অথচ স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বলছেন-

وَ قُلْ رَّبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا.

আর আপনি বলুন, হে আমার রব! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করুন। -সুরা ত্ব-হা (২০) : ১১৪

যেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দুআ করতে বলা হচ্ছে সেখানে একজন সাধারণ উম্মতীর বিষয়ে কী বলা হবে!

আমরা কুরআনে মূসা আ. ও খাযির আ.-এর কাহিনী পড়েছি। সেখানে মূসা আ. খাযির আলাইহিস সালামের সঙ্গলাভের আবেদন করছেন এই বলে যে, আপনাকে যে ইলম দান করা হয়েছে আমি তা থেকে শিখতে চাই। কুরআনের ভাষায়-

قَالَ لَهٗ مُوْسٰی هَلْ اَتَّبِعُكَ عَلٰۤی اَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا.

মূসা তাকে বলল, আমি কি এই লক্ষ্যে আপনার অনুগমন করতে পারি যে, আপনাকে যে কল্যাণকর জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তা থেকে খানিকটা আমাকে শেখাবেন? -সূরা কাহ্ফ (১৮) : ৬৬

তো মূসা আ.-এর মত একজন মহান নবী খাযির আ. থেকে শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন সেখানে একজন সাধারণ মানুষ যদি বলে, আমার আর শেখার প্রয়োজন নেই- তা কি গ্রহণযোগ্য কথা হতে পারে?

আর যিনি ইলম অন্বেষণ করতে থাকেন এবং ইলম শিখে সে অনুযায়ী আমল-ইবাদত করেন আর যিনি ইলম অন্বেষণ করেন না- উভয়ে কখনো সমান হতে পারে না। আবু উমামা বাহেলী রা. বলেন-

ذُكِرَ لِرَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: فَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ.

قال الترمذي : هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দুই ব্যক্তির আলোচনা হল, একজন (সাধারণ) আবেদ, আরেকজন আলেম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের নগণ্য-সাধারণ একজনের উপর আমার মর্যাদা যেমন, একজন আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা তেমন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৮৫

আর ইলম শিখতে থাকা, ইলমের পথে চলা তো জান্নাতের পথে চলা। যে ইলমের পথে চলে তার জন্য তো আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। সুতরাং আমাকে ইলম শিখতে থাকতে হবে আমরণ; নিজেকে শামিল রাখতে হবে ‘তালিবুল ইলম’ তথা ইলম অন্বেষণকারীর কাতারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهّلَ اللهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الجَنّةِ.

যে ব্যক্তি ইলমের জন্য পথ চলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৪৬

তবে হাঁ, আমি যা জানব সে অনুযায়ী আমল করতে চেষ্টা করব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনী ইলম অর্জনের তাওফীক দিন এবং দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুন- আমীন। হ

চলবে....
#বেদাত_থেকে_সাবধান

24/05/2026

প্রচলিত ভুল -০৮

মূলপাতা
সকল সংখ্যা
বিভাগ
লেখকবৃন্দ
আপনার জিজ্ঞাসা
পরিচিতি
যোগাযোগ
বর্ষ: ১৮, সংখ্যা: ০৪
শাওয়াল ১৪৪৩ || মে ২০২২
প্রচলিত ভুল
একটি ভিত্তিহীন ধারণা
রমযান মাসে কি কবরের আযাব মাফ থাকে?
অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়, ‘রমযান মাসে কবরের আযাব মাফ থাকে’। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়; কুরআন-হাদীসে এ বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়নি।

তেমনিভাবে কিছু মানুষকে একথাও বলতে শোনা যায় যে, ‘দাফনের পর জুমা বা রমযান এলে কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আযাব মাফ হয়ে যায়!’ এ কথারও কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে (এপ্রিল ২০১২ ঈ.) আমরা এ বিভাগেই লিখেছি।

আল্লাহ সকলকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন! আসলে কবরের আযাব হওয়া না-হওয়ার সাথে রমযানের কোনো সম্পর্ক নেই; ব্যক্তির ঈমান ও নেক আমলের সাথে এর সম্পর্ক। ব্যক্তির উচিত ঐসকল আমল থেকে বিরত থাকা, যার কারণে কবরের আযাব হয় এবং সাথে সাথে ঐসকল আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া, যার মাধ্যমে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

তবে হাঁ, রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে তার বিশেষ ফযীলত রয়েছে। হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
.. وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنّةَ.

قال الهيثمي : رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصّحِيحِ غَيْرَ عُثْمَانَ بْنِ مُسْلِمٍ الْبَتِّيِّ وَهُوَ ثِقَةٌ.

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন রোযা রাখে এবং এ রোযা হয় তার জীবনের শেষ আমল (অর্থাৎ রোযাদার অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৩২৪; আলআসমা ওয়াস সিফাত, বায়হাকী, হাদীস ৬৫১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১১৯৩৫

অর্থাৎ রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে, আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। কিন্তু রমযান মাসে কবরের আযাব মাফ- এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না।

সম্ভবত একটি বিষয় থেকে মানুষের মাঝে এ ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে-

إِذَا كَانَتْ أَوّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، صُفِّدَتِ الشّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الْجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النّارِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنّةِ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَنَادَى مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنَ النّارِ، وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ.

যখন রমযানের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, (সারা মাস) একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, (সারা মাস) একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে- হে কল্যাণের প্রত্যাশী! আরো অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের যাত্রী! ক্ষান্ত হও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬৪২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১৮৮৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৫৩২

এ বর্ণনার ‘জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়’- এখান থেকে হয়ত কারো মাঝে এ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, তাহলে রমযানে কবরের আযাবও বন্ধ থাকে।

যাইহোক, রমযানে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ থাকে, প্রতি রাতে আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং রোযাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন এবং জান্নাতে দাখেল করবেন- এগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু রমযানে কবরের আযাব মাফ থাকে- এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না।

চলবে....

#বেদাত_থেকে_সাবধান

24/05/2026

প্রচলিত ভুল -০৭

একটি ভুল ধারণা
যৌতুক কি কেবল আর্থিক লেন-দেনের নাম?
যৌতুক একটি অভিশপ্ত সামাজিক ব্যাধি; যা পৌত্তলিক সমাজের প্রথা। এটি এমন একটি ‘বর্বর রসম ও জুলুম’, যা জাহেলী যুগেও ছিল না। এ উপমহাদেশের হিন্দু সমাজ থেকে তা মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ ‘আলআক্ল বিল বাতিল’ তথা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণের এক ঘৃণিত রূপ এবং বহু জুলুমের উৎস। মুমিন কোনো অবস্থায়ই কাফের-মুশরিকদের এ রীতিনীতির অনুসরণ করতে পারে না।

কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি ইরশাদ করেন-

وَ لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ.

তোমরা অন্যায়ভাবে একে-অন্যের সম্পদ গ্রাস করো না। -সূরা বাকারা (২) : ১৮৮

সমাজে বিভিন্নরূপে যৌতুকের লেনদেন হয়ে থাকে। কখনো সরাসরি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে, কখনোবা আসবাব-পত্র, বাহন, জমি-জমা, ফ্ল্যাট, বিদেশ পাঠানোর খরচ, ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু কিছু মানুষ আর্থিক লেনদেনকেই কেবল যৌতুক মনে করেন, আর্থিক লেনদেন ছাড়া অন্যান্য বিষয়কে যৌতুক মনে করেন না; বরং সেগুলোকে নিজেদের এক প্রকার হক ও প্রাপ্য মনে করেন, যদিও তা পূর্বশর্ত, সামাজিক চাপ বা প্রথার কারণে হয়ে থাকে।

তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। বিয়ের সময় বা বিয়ের আগে-পরে যে কোনো সময় কনে বা কনেপক্ষের কাছ থেকে বর বা বরপক্ষের লোকেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ দিয়ে যা কিছু উসূল করে কিংবা সামাজিক প্রথার কারণে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দেওয়া হয়, তদ্রূপ কনে বা কনেপক্ষের লোকেরা মোহর ও ভরণ-পোষণের অধিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ দিয়ে যা কিছু উসূল করে বা সামাজিক প্রথার কারণে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দেওয়া হয় সবই যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত এবং তা অন্যায়ভাবে ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্যের সম্পদ ভক্ষণের নামান্তর।

বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أَلَا وَلَا يَحِلّ لِامْرِئٍ مِنْ مَالِ أَخِيهِ شَيْءٌ، إِلّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ.

সাবধান! কারো জন্য তার ভাইয়ের সামান্য সম্পদও বৈধ নয়, যদি তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি না থাকে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫৪৮৮; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ২৮৮৩; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৪৯২

জেনে রাখা দরকার, পিতা যদি বাধ্য হয়ে নিজের কন্যাকেও কোনো কিছু দেয় তাহলে তা গ্রহণ করা তার জন্যও বৈধ নয়। তাহলে স্বামী বা শ্বশুরালয় থেকে যদি কন্যার উপহার দাবি করা হয় কিংবা কোনো তালিকা দেওয়া হয় তাহলে তা কীভাবে বৈধ হবে?

তবে হাঁ, কন্যার বিবাহের সময় বা রুখসতির সময় পিতা নিজ সাধ্য অনুসারে তাকে যে গহনাগাটি বা সামানপত্র শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উপহার দেয়, যাকে আরবীতে বলে جَهَاز ‘জাহায’, এটি বৈধ এবং প্রচলিত যৌতুকের সাথে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। তবে শর্ত হল, তা হতে হবে কোনো প্রকার সামাজিক চাপ ছাড়া, স্বতঃস্ফূর্ত ও সন্তুষ্টচিত্তে।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ হারাম ও বর্বর অন্যায় কাজটি হয় পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে। এমনকি মা-বাবা, যারা কিনা সন্তানের সবচেয়ে বড় কল্যাণকামী, তাদেরকেও অনেকসময় দেখা যায় সন্তান না চাইলেও এ হারাম কাজে বাধ্য করে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজকে মুশরিকদের এ বর্বর প্রথা থেকে রক্ষা করুন এবং সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ নসীব করুন।

চলবে...

#বেদাত_থেকে_সাবধান

Address

Narsingdi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হেদায়েতের কথাシ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share