Tawaqqul - তাওয়াককুল

Tawaqqul - তাওয়াককুল ইসলামের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস সম্পর্কে

আজ ১৬ই ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসে প্রথমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারপরে সকল অকুতোভয় বীর সেনাদের ...
16/12/2022

আজ ১৬ই ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসে প্রথমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারপরে সকল অকুতোভয় বীর সেনাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণ এবং দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই দেশ। আসুন আজকের এই বিজয়ের দিনে সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীন দেশ।
শুভ জন্মদিন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ 🇧🇩

ইসলামি স্বর্ণযুগ অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সমৃদ...
13/12/2022



ইসলামি স্বর্ণযুগ অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সময়কালকে বোঝায়। যা ৬২২ সালে মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শক্তির উত্থানের সময় থেকে শুরু হয়। ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদ অবরোধের সময়কে এর শেষ ধরা হয়। ১৪৯২ সালে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের আন্দালুসে খ্রিষ্টান রিকনকোয়েস্টার ফলে গ্রানাডা আমিরাতের পতনকেও এর সমাপ্তিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের (৭৮৬-৮০৯) সময় বাগদাদে বাইতুল হিকমাহর প্রতিষ্ঠার ফলে জ্ঞানচর্চার প্রভূত সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফাতেমীয় যুগে (৯০৯-১১৭১) মিশর সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, আফ্রিকার লোহিত সাগর উপকূল, তিহামা, হেজাজ ও ইয়েমেন এর অন্তর্গত ছিল। এই যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী শহর বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডো‌বা বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাণিজ্য ও শিক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আরবরা তাদের অধিকৃত অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিল। হারিয়ে যেতে থাকা অনেক ধ্রুপদি রচনা আরবি ও ফারসিতে অনূদিত হয়। আরও পরে এগুলো তুর্কি, হিব্রু ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, পারসিয়ান, ভারতীয়, চৈনিক, মিশরীয় ও ফিনিশীয় সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান তারা গ্রহণ, পর্যালোচনা ও অগ্রগতিতে অবদান রাখে।

নিঃসন্দেহে সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. ছিলেন ক্রুসেডের সর্বশ্রেষ্ঠ বীরযােদ্ধা; তেমনই বাইবার্স রহ.-ও ছিলেন অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ।...
09/08/2021

নিঃসন্দেহে সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. ছিলেন ক্রুসেডের সর্বশ্রেষ্ঠ বীরযােদ্ধা; তেমনই বাইবার্স রহ.-ও ছিলেন অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ। আইয়ুবি নরম-গরমের মিশেল ছিলেন বলে ক্রুসেডাররা তার হাতে মার খেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সীমাহীন মহানুভবতার আনুকুল্যে পার পেয়ে যেত। ধূর্ত খ্রিষ্টানদের পদে পদে ক্ষমাভিক্ষা দেওয়াতেই আরব ভূখণ্ড থেকে এদের আমৃত্যু চেষ্টা করেও তিনি সমূলে উৎখাত করতে পারেননি; বরং ইসলামের ক্ষমার সুযােগকে এরা ঢাল বানিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কেবল জেঁকেই বসেছে; কিন্তু বাইবার্স এদের এই ব্যাধি চিহ্নিত করেই কড়া দমনপত্র লিখে যান। ‘দয়া’ শব্দটিকে অভিধান থেকে ঝেড়ে ফেলে কঠোরতার ওষুধই প্রয়ােগ করে যান। তিনি ক্রুসেডারদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে ক্রমাগত কঠোর-কঠিন প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন। শুধু দুর্গের পর দুর্গ জয় করে নয়; ক্রুসেডারদের নাপাক এ আখড়াগুলােকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েই ক্ষান্তি দেন তিনি। সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে বজ্রাঘাত হেনে উদ্ধার করতে থাকেন একের পর এক হাতছাড়া হওয়া মুসলিম ভূখণ্ড। অবশেষে বাইবার্সঝড়ে টিকতে না পেরে তারা সন্ত্রস্ত হয়ে ফিরে যায় নিজেদের সীমানায়—ইউরােপে। সেতের ঘােষণা দিয়ে ভুলেও তারা আর পূর্বমুখী হয়নি। বাইবার্সঝড়েই মূলত সমাপ্ত হয় টানা ২০০ বছরের রক্তস্নাত ক্রুসেড। বাইবার্স খ্রিষ্টীয় মানসপটে ভীতিকর ত্রাস না হলে হয়তাে অনন্ত কাল চলত অভিশপ্ত এ ক্রুসেড।

তৎকালীন দুই বিশ্বশক্তি মােঙ্গল ও ক্রুসেডারদের বাইবার্স যুগপৎ সফল মােকাবিলা করেন। উভয় পরাশক্তির যুদ্ধসাধ তিনি জনমের মতাে মিটিয়ে দেন। মােঙ্গল ধূমকেতু ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চ থেকে হঠাৎ হারিয়ে গেলেও খ্রিষ্টানরা সে দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। বাইবার্স-ত্রাস তাই পুরাে খ্রিষ্টজগতের মনমগজে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়। ফলে বাইবার্সকে খ্রিষ্টীয় ইউরােপ আজও মারাত্মক ঘৃণার চোখে দেখে থাকে। সযত্নে এড়িয়ে চলে। এ কারণেই ইউরােপীয় ইতিহাসবিদরা বরাবরই নিজেদের বর্বরতার নিকৃষ্টতম ইতিহাস চেপে গিয়ে বাইবার্সের কঠোরতাকে হাইলাইট করার প্রাণান্তকর কসরত করে থাকে। বােধ হয় সে জন্যই বাইবার্সের কালজয়ী সব উপাখ্যান মহাকালের আস্তরণে অনেকটা চাপা পড়ে গিয়েছে।(১)

তথ্যসূত্র
১. দ্য প্যান্থার, পৃ. ১০৮-১০৯, ইমরান আহমাদ, কালান্তর প্রকাশনী।

সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবন যখন কোনাে শহর কিংবা কোনাে নদী বা পুলের কিনারায় পৌছতেন তখন তিনি নিজে এর তীরে দাড়িয়ে যেতেন এবং...
05/08/2021

সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবন যখন কোনাে শহর কিংবা কোনাে নদী বা পুলের কিনারায় পৌছতেন তখন তিনি নিজে এর তীরে দাড়িয়ে যেতেন এবং অফিসারদেরকে হুকুম করতেন তারা যেন হাতে লাঠি নিয়ে পারাপার ব্যবস্থার প্রতি নজর রাখে। সবার আগে যেন অসুস্থ, নারী, শিশু ও দুর্বলদেরকে পার হতে দেওয়া হয়। এ আদেশও দেওয়া থাকতাে যে, সুস্থ ও শক্তিশালী লােকেরা যেন মাজুর ও অসহায়দের সহযােগিতা করে। এরপর হাতি, ঘােড়া ও অন্যান্য ভারবাহী প্রাণি পার করা হতাে। এসব বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় বলবন কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যয় করতেন; কিন্তু তার মনে শক্রর শংকা কাজ করতো না।

সিংহাসনে আরোহণের আগে বলবনের মদ্যপানের বদভ্যাস ছিল। তার মজলিস শিল্পী ও গায়কদের দ্বারা পূর্ন থাকতো। মজলিসে অনেক আমির ও নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রন করা হতো। বলবন খুব আগ্রহনের সঙ্গে তাদেরকে নিয়ে পাশা খেলতেন। মজলিসে উপস্থিত লোকদের মাঝে প্রচুর পরিমাণে সোনা-রূপা খরচ করতেন। কিন্তু ক্ষমতার বাগডোর হাতে আসার পর এ দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি সব অসমীচীন কাজ থেকে তওবা করেন। মদপান ও অন্যান্য নেশাদ্রব্যের নাম নিশানা গোটা সালতানাত থেকে দূর করেন। অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দ্বীনের সব বিধি-বিধান তথা নামাজ, রোজা ইত্যাদি পালন করতে শুরু করেন। ফরজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, চাশত ও ইশরাকের নামাজও তিনি কখনো কাজা করেননি। সর্বদা অজুর সঙ্গে থাকতেন। সুফিয়ায়ে কেরাম, ওলামা ও বুজুর্গানেদ্বীনের উপস্থিতিতে দস্তরখানে নিজে কখনো আগে হাত বাড়াতেন না।

বলবনের অভ্যাস ছিলাে খানার সময় আলেমদের থেকে মাসআলা জিজ্ঞেস করে সমাধান জেনে নিতেন। তিনি নিজে আমির এবং উজিরদের বাড়িতেও সাক্ষাৎ করতে যেতেন। এভাবে তাদের সম্মান বৃদ্ধি করতেন। বলবনের আরেকটি অভ্যাস ছিলাে জুমার নামাজ শেষে আলেম-ওলামাদের বাড়িতে যেতেন। শায়খ বুরহানুদ্দিন বলখি, মাওলানা সিরাজুদ্দিন সাঞ্জারি এবং মাওলানা নাজমুদ্দিন দিমাশকির মতাে বিশিষ্ট আলেম ও বুজুর্গদের সংশ্রব লাভ করতেন।

বলবন কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করতেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেউ ইন্তেকাল করলে তিনি নিজে তার জানাজায় শরিক হতেন। তার কাফন-দাফনে শরিক থাকতেন। এরপর মৃতের বাড়ি গিয়ে শােকগ্রস্ত সদস্যদের সান্ত্বনা দিতেন এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকতে বলতেন। মৃত আমিরের ওয়ারিশদেরকে বখশিশ দিতেন। ইয়াতিম নাবালেগ বাচ্চা থাকলে তার লালন-পালনের জন্যে ভাতা নির্ধারণ করতেন। সুখে-দুঃখে সর্বদা তাদের হতেন। বাহনে চড়ে কোথাও রওনা হওয়ার পর পথিমধ্যে কোথাও দীনি আলােচনার কোনাে মজলিস হলে বাহন থেকে নেমে ওয়াজের মজলিসে শরিক হয়ে যেতেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা:) এর দেওয়া বিধি বিধান খুব মনোযোগর সঙ্গে শুনতেন এবং অশ্রু বিসর্জন দিতেন।

ঐতিহাসিকগণের বর্ণনা থেকে জানা যায়, বলবনের পুরনো গোলাম ও কর্মচারী বর্ণনা করেছে যে, বলবনকে কখনো অনাবৃত মস্তকে ও নগ্নপদে দেখা যায়নি। মজলিসে তিনি কখনো অট্টহাসি দিতেন না।

বলবন বলতেন, প্রজাদের মনে বাদশাহর প্রভাব গাম্ভীর্য যত দৃঢ়ভাবে বসে ক্ষমতা ও রাজনীতির প্রভাবও হয় না।

তিনি আরও বলতেন, বাদশাহ প্রতাপশালী ও দাপুটে না হলে প্রজাদের মাঝে বিদ্রোহ এবং অবাধ্যতা দেখা দেয়। যে বাদশাহ নিজের গাম্ভীর্য ধরে রাখে সে দীর্ঘ দিন নিরাপদে শাসন করতে পারে। অন্যথায় তার রাজত্ব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। ইনসাফের নীতিমালা তখন কেবল কিতাবের শােভাবর্ধনকারীরূপে থেকে যায়। বাস্তব জীবনে একে সামনে রাখা যায় না। জুলুম-নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে যায়।

এতসব সৎগুন থাকা সত্ত্বেও বলবন বিদ্রোহ আর বাড়াবাড়িকে পছন্দ করতেন না। বিদ্রোহী সে মুসলিম-অমুসলিম যেই হোক না কেন তাকে শাস্তি প্রদানে কোনো ধরনের রেয়ায়েত করতেন না। তার শাসনামলে সালতানাতের শান্তি ও নিরাপত্তাকে নির্বিঘ্নে রাখার জন্যে বিশৃঙ্খলাকারীদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। অপরাধীকে কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ড দিতে সামান্যতম কুন্ঠাবোধ করতেন না। শামসুদ্দীন আলতামাশের আমলের যেসব আইন তার স্থলাভিষিক্তদের উদাসীনতার কারণে প্রায় উঠে গিয়েছিল তিনি এর সবগুলোকে হুবহু আগের মতোই কার্যকর করেন।

বুগরা খান তার পিতা বলবনের ব্যাপারে বলতেন, যখন আমি ও আমার ভাই খান শহিদ ভাষা শিক্ষকের কাছে লেখা ও ভাষা শিক্ষালাভ করলাম তখন আমাদের পড়াশোনার শাহি জিম্মাদার
সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন এখন শাহজাদাগণ নাহু, সরফ কিংবা ফিকহ কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবে? এবং এজন্যে কোন শিক্ষক কে নিয়োগ দেওয়া হবে? বাদশাহ জবাব দিলেন, ভাষা শিক্ষক কে পুরস্কার ও উপঢৌকন দিয়ে বিদায় দেওয়া হোক। আর পুত্রদেরকে সুলতান আলতামাশের সন্তানদের জন্য বাগদাদ থেকে আনা 'আদাবুস সালাতিন' ও 'মাআসিরুস সালাতিন' নামক কিতাবসমূহ প্রাজ্ঞ ঐতিহাসিক ও বিচক্ষন উস্তাদের কাছে পড়ানো হবে। এরপর আমার পুত্ররা এমন বায়োজ্যৈষ্ঠ জ্ঞানীর সংস্রবে থাকবে; যারা ইতিহাস ও বড়দের সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন। কম হিম্মত ও নির্বোধ লোকেরা যেন তাদের পাশে আসতে না পারে; যারা এমন জ্ঞানের শিক্ষা দিবে যা আমার সালতানাতের কাজে আমার সন্তানদের কোন কাজে আসবে না। তবে দ্বীনের প্রয়োজনীর জ্ঞান তথা নামাজ, রোজা ইত্যাদির মাসায়েল তাদের শেখানো জরুরি। আর এ পরিমান জ্ঞান ইতোমধ্যেই তাঁরা অর্জন করেছে।(১)

সুলতান গিয়াসুদ্দীন বলবনের ব্যাপারে ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দীন বারানি লিখেছেন, তিনি মজলুমের পক্ষে ইনসাফের ফয়সালা করে যে পর্যন্ত তার মনে প্রশান্তি না আনতে পেরেছেন ততক্ষন পর্যন্ত ইনসাফের ক্ষেত্রে ভাই-বেরাদার, সন্তান ও আত্মীয় স্বজনের কোনো পরোয়া করতেন না। এমনকি দান-দাক্ষিণ্যের ক্ষেত্রেও না।(২)

তথ্যসূত্র
১. ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন - হাজার বছরের ইতিহাস, মুফতী মুহাম্মদ পালনপুরী রহ., পৃ. ১০৪-১০৭, মাকতাবাতুল ইসলাম।
২. তারিখে ফিরুজ শাহি, পৃ. ৪০।

https://anylearner.blogspot.com/2021/07/blog-post.html
02/08/2021

https://anylearner.blogspot.com/2021/07/blog-post.html

আবু জাফর আন-নাহহাস (মৃ. ৩৩৮ হি.) বিখ্যাত একজন আরবি ভাষাবিদ। মাআনিল কুরআন, ইরাবুল কুরআন, ইশতিকাকুল আসমা আল-হুসনা, আল-কা...

01/08/2021

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ৪ মাস আমাদের পেজ থেকে পোষ্ট দেওয়া বন্ধ ছিল, কিছু অভ্যন্তরীন সমস্যার কারনে। তবে, আমরা আজ থেকে এই পেজ থেকে পোষ্ট দেয়া শুরু করবো ইন শা আল্লাহ। তাই দ্রুত পোষ্টটি পাওয়ার জন্য পেজে লাইক দিয়ে ফলো করে রাখতে পারেন।

 #নালন্দা_ও_বখতিয়ার_খলজিবিহারে বখতিয়ার খলজির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযােগ:- "তিনি নালন্দা বিহার ধ্বংস করেন এবং সেখানকা...
01/04/2021

#নালন্দা_ও_বখতিয়ার_খলজি

বিহারে বখতিয়ার খলজির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযােগ:- "তিনি নালন্দা বিহার ধ্বংস করেন এবং সেখানকার নিরীহ ভিক্ষুদের অকারণে হত্যা করেন। আর এর পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর তথ্য চালাচালি হয়।" (ভিক্ষু= সন্ন্যাসী)

এবিষয়ে গবেষক অনির্বাণ বন্দোপাধ্যায় প্রচলিত কিছু বিতর্ক নিয়ে আলােচনা করেছেন। তার মতে, বখতিয়ারের বিরুদ্ধে নালন্দা মহাবিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করার নিরঙ্কুশ অপবাদ বহুল প্রচারিত। কোনাে কোনাে ঐতিহাসিক লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১০০ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজি ধ্বংস করেছেন। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও বখতিয়ারের এই আক্রমণের তারিখ জানিয়েছেন ১১০০ খ্রিস্টাব্দ।

অথচ স্যার উলসলি হেগ বলছেন, বখতিয়ার ওদন্তপুরী আক্রমণ করেছেন ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে। আর স্যার যদুনাথ সরকার এই আক্রমণের সময়কাল বলছেন ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দ। সবচাইতে মজার বিষয় যে, বখতিয়ার খলজি বঙ্গ বিজয় করেন ১০ মে
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে। স্যার যদুনাথ সরকার বখতিয়ারের বঙ্গ আক্রমণের সময়কাল বলছেন ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দ। অন্যদিকে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে বৌদ্ধদের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা হয় ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, ধ্বংস করা তাে দূরের কথা, বখতিয়ার নালন্দার ধারেকাছেই যাননি। শরৎচন্দ্র দাশ তাঁর ‘অ্যান্টিকুইটি অফ চিটাগাঁও' প্রবন্ধে লিখেছেন, বিক্রমশীলা ও ওদন্তপুরী বিহার দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল ১২০২ খ্রিস্টাব্দে। এই তালিকায় নালন্দার উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিক মিনহাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ গ্রন্থেও নালন্দার উল্লেখ নেই। ১২৩৪-৩৬
খ্রিস্টাব্দ নাগাদ, অর্থাৎ বখতিয়ারের (১২০৬ খ্রি: মৃত্যু) বিহার জয়ের ৩১ বছর পরও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন চালু ছিল। সেসময়ে তিব্বত থেকে ধর্মস্বামী এসে নালন্দা বিহারকে চালু অবস্থাতেই দেখেছেন। সেখানে মঠাধ্যক্ষ রাহুল শ্রীভদ্রের পরিচালনায় ৭০ জন সাধু পড়াশােনা করেছেন। অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, সবাই যখন বলেন নালন্দা ধ্বংস
হয়েছে, তাহলে তাে ধ্বংস হয়েছেই। কিন্তু তা ধ্বংস করলাে কে?

অনেকে মনে করেন নালন্দা ধ্বংস আসলে হিন্দু-বৌদ্ধ সংঘাত। বুদ্ধগয়া গয়া-দর্শন রাজগীর নালন্দাপাওয়াপুরী’ নামক এক পর্যটক সহায়ক পুস্তিকায় বলা হয়েছে, “পঞ্চম শতাব্দীতে ব্রাহ্মণ দার্শনিক ও প্রচারক কুমারভট্ট এবং শংকরাচার্যের প্রচেষ্টাতেই
বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল। বারাে বৎসরব্যাপি সূর্যের তপস্যা করে তাঁরা (ব্রাহ্মণরা) যজ্ঞাগ্নি নিয়ে নালন্দার প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগারে এবং বৌদ্ধবিহারগুলিতে অগ্নিসংযােগ করেন। ফলে নালন্দা অগ্নিসাৎ হয়ে যায়। অন্য এক সুত্র তিব্বতীয় শাস্ত্র ‘পাগসাম ইয়ান জাং’-এ বলা হয়েছে, উগ্র হিন্দুরা নালন্দার গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে ডি আর পাতিল মনে করেন নালন্দার গ্রন্থাগার পুড়িয়েছিল শৈব সম্প্রদায়ের মানুষরা। কিন্তু বিশিষ্ট তাত্ত্বিক লেখক ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত নালন্দা মহাবিহার ধ্বংসের জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদীদের আক্রমণকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি তাঁর বাঙ্গলার ইতিহাস' গ্রন্থে লিখেছেন, “নালন্দার লাইব্রেরি কয়েকবার বিধ্বস্ত হয়।” তিব্বতীয় পুস্তকে উল্লিখিত হয়েছে যে, “ধর্মসগন্ধ অর্থাৎ নালন্দার
বৃহৎ লাইব্রেরি তিনটি মন্দিরে রক্ষিত ছিল। তীর্থিক (ব্রাহ্মণ) ভিক্ষুদের দ্বারা অগ্নিসংযােগে তা ধ্বংস হয়।
মগধের রাজমন্ত্রী কুকুতসিদ্ধ নালন্দায় একটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেখানে ধর্মোপদেশ প্রদানকালে জনাকতক তরুণ ভিক্ষু দুজন তীর্থিক ভিক্ষুর গায়ে নােংরা জল নিক্ষেপ করে। তার ফলে তারা ক্রুদ্ধ হয়ে ‘রত্নসাগর', 'রত্নধনুক' এবং নয়তলাযুক্ত রত্নদধি' নামক তিনটি মন্দির অগ্নিসংযােগে ধ্বংস করে। উক্ত তিনটি মন্দিরেই সমষ্টিগতভাবে ধর্মগ্রন্থ বা গ্রন্থাগার ছিল।”

বুদ্ধপ্রকাশ তাঁর 'Aspects of Indian History and Civilisation' গ্রন্থে স্পষ্ট করে বলেছেন, “নালন্দায় অগ্নিসংযােগের জন্য হিন্দুরাই দায়ী।” ষষ্ঠ শতকের রাজা
মিহিরকুল বৌদ্ধদের মােটই সহ্য করতে পারতেন না। তাঁর পাটলিপুত্র আক্রমণ করার সময়ই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়। যতদূর জানা যায়, সেই সংখ্যাটি মােট তিনবার। প্রথমবার স্কন্দগুপ্তের সময়ে (৪৫৫-৪৬৭ খ্রিস্টাব্দে) মিহিরকুলের নেতৃত্বে মধ্য এশিয়ার যুদ্ধবাজ হানদের দ্বারা। উল্লেখ্য, মিহিরকুলের নেতৃত্বে হানরা ছিল প্রচণ্ডরকমের বৌদ্ধ-বিদ্বেষী। বৌদ্ধ ছাত্র ও ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। স্কন্দগুপ্ত ও তার পরবর্তী বংশধরেরা একে পুনর্গঠন করেন।

প্রায় দেড় শতাব্দী পরে তা আবার ধ্বংসের মুখে পড়ে। আর তা হয় বাংলার শাসক শশাঙ্কের দ্বারা। শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার অন্তর্গত গৌড়ের রাজা। তার রাজধানী ছিল আজকের মুর্শিদাবাদ। রাজা হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বিরােধ ও ধর্মবিশ্বাস এই ধ্বংসযজ্ঞে প্রভাব বিস্তার করে। রাজা শশাঙ্কের সঙ্গে বুদ্ধের অনুরক্ত রাজা হর্ষবর্ধনের সবসময় শত্রুতা বিরাজমান ছিল এবং খুব বড়াে একটি যুদ্ধও হয়েছিল। রাজা শশাঙ্ক যখন মগধে প্রবেশ করেন তখন বৌদ্ধদের পবিত্র স্থানগুলিকে ধ্বংস করেন, খণ্ড-বিখণ্ড করেন বুদ্ধের ‘পদচিহ্ন। বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর বিদ্বেষ এত গভীরে যে তিনি বৌদ্ধদের ধর্মীয় স্থান ছাড়াও, বুদ্ধগয়াকে এমনভাবে ধ্বংস করেন, যাতে এর আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে। রাজাদের মধ্যে অন্তর্কলহ, শত্রুতা, হত্যা ও উপাসনালয় ধ্বংস সেসময় খুব অস্বাভাবিক কিছু একটা ছিল না। রাজা জাতবর্মা ছিলেন পরম বিষ্ণুভক্ত। জাতবৰ্মা সােমপুর বৌদ্ধবিহারটি অবরুদ্ধ ও লুণ্ঠন এবং অগ্নিসংযােগে মহাবিহারটি ধ্বংস করেন। ওই মহাবিহারের মঠাধ্যক্ষ করুণাশ্রী মিত্রকেও অগ্নিদগ্ধ করে খুন করেন। হিন্দুরাজা ভােজবর্মার বেলাবলিপিতে জাতবর্মা কর্তৃক
সােমপুরের মহাবিহার ধ্বংসের ইতিহাস উল্লেখ আছে।

অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে মনে করেন, বখতিয়ার দুর্গ ভেবে বৌদ্ধভিক্ষুদের আবাসস্থল ওদন্তপুর মহাবিহার আক্রমণ করেন বিনা বাধায়। দুর্গ দখলের পর তিনি লক্ষ্য করেন দুর্গের বাসিন্দারা সকলেই মুণ্ডিতমস্তক। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানতে পারলেন, তাঁরা বৌদ্ধ আর দখলিকৃত দুর্গটি আসলে বৌদ্ধবিহার। ড. দীনেশচন্দ্র সরকার দেখিয়েছেন, ওদন্তপুর বৌদ্ধ বিহার ধ্বংস হয় ১১৯৩ সালে। এ ছাড়া আরও অনেক গবেষক বলেছেন, ওদন্তপুর ধ্বংস হয় ১১৯১-৯৩ সময়কালে। অথচ সুখময় মুখােপাধ্যায় দেখিয়েছেন, বখতিয়ার বিহার বিজয় করেন ১২০৪ সালে।

ইতিহাসে মুসলমানদের হাতে বৌদ্ধদের হত্যা বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কোন রেকর্ড দেখা যায় না। বরং ৪৪৬ খ্রিস্টাব্দে চীনে সম্রাট তাই উ বৌদ্ধদের উপর ব্যাপকভিত্তিক ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তিনি সেখানকার সব বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস এবং সব বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যা করেন। এছাড়া ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্মার বৌদ্ধদের
অন্যতম কেন্দ্র পাগান ধ্বংস করে ফেলে চীনা সেনাবাহিনী। এই ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন আজও বিদ্যমান। অপরদিকে ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে বার্মার আগ্রাসনে হিন্দুদের প্রাণকেন্দ্র অযােধ্যা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ত্রয়ােদশ শতকে কম্বােডিয়াতেও হিন্দুরা
উচ্ছেদের শিকার হয় বৌদ্ধদের মাধ্যমে। হিন্দু দেবতার স্থলে প্রতিস্থাপিত হয় বুদ্ধমুর্তি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করার পরেও অশােক হিংসা ত্যাগ করেননি। তিনি পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলে বসবাসকারী সমস্ত আজীবিক সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যার নির্দেশ দেন, যার ফলে প্রায় ১৮,০০০ মানুষ নিহত হন। এছাড়া জৈন ধর্মাবলম্বীদেরও তিনি হত্যা করেন বলেও কথিত রয়েছে।

রেফারেন্স:-
১। অনিরুদ্ধ রায়: মধ্যযুগের ভারতীয় শহর
২। দীনেশচন্দ্র সেন: বৃহৎ বঙ্গ
৩। ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান: বাংলাদেশের মুসলিম পুরাকীর্তি, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০০১, ISBN 984 410 2057
৪। এম. এ. রহিম: বাংলার সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৯৫, ISBN 984-07-4678-1
৫। সৈয়দ লুৎফুল হক: বাংলার সভ্যতা ও সংস্কৃতি, অ্যাডর্ন পাবলিকেসন্স, ঢাকা, আগস্ট, ২০১৬, ISBN 978-984-20-0456-8
৬। সরদার আব্দুর রহমান: ইখতিয়ারউদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি, দিব্যপ্রকাশ প্রকাশনী

দিল্লির শালিমার বাগ। বাদশাহ শাহ জাহানের তৃতীয় স্ত্রী আইজ-উন-নিসা বেগম (Izz-un-Nisa Begum)-এর সম্মানে নির্মিত এই বাগানটি...
01/04/2021

দিল্লির শালিমার বাগ। বাদশাহ শাহ জাহানের তৃতীয় স্ত্রী আইজ-উন-নিসা বেগম (Izz-un-Nisa Begum)-এর সম্মানে নির্মিত এই বাগানটি 'আইজজাবাদ বাগ' নামেও বেশ পরিচিত।

১৬৫৮ সালের ৩১ জুলাই এই বাগানেই মুঘল বাদশাহ আবু মুজাফ‌ফর মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর-এর অভিষেক সম্পন্ন হয়েছিলো।

Artist: Sita Ram
পোস্ট ক্রেডিট: Masud Ferdous Eshan

১৯ শতকে আঁকা উওর ও দক্ষিন আমেরিকার একটি মানচিএ। মানচিএটি একেছেন একজন উসমানীয় মানচিএকার।
22/03/2021

১৯ শতকে আঁকা উওর ও দক্ষিন আমেরিকার একটি মানচিএ। মানচিএটি একেছেন একজন উসমানীয় মানচিএকার।

Address

Panchdona
Narsingdi
1603

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tawaqqul - তাওয়াককুল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Tawaqqul - তাওয়াককুল:

Share