01/08/2026
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান চাঁদপুর এর কৃতি সন্তান মুহাম্মদ আব্দুল জলিল
মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (যিনি হাফেয এম.এ জলিল বা অধ্যক্ষ এম.এ জলিল নামেও পরিচিত) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী রাজনীতিবিদ, লেখক, গবেষক ও ইসলামিক স্কলার, যিনি ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
◼️জন্ম ও পরিচয়:
তিনি ১৯৩৩ সালে (সম্ভাব্য ১১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার আমিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার পিতার নাম মুন্সী আদম আলী মোল্লা এবং মাতার নাম মালেকা খাতুন। তিনি ছিলেন চার বোন ও ছয় ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তিনি আক্বিদা বিশ্বাসে সুন্নী, মাযহাবে হানাফী এবং তরিকায় ক্বাদেরী ছিলেন।
◼️শিক্ষা জীবন :
মুহাম্মদ আব্দুল জলিল ১৯৫৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল (হাদীস) ১ম বিভাগে বৃত্তিসহ (১৯৫৬-১৯৬৪ ইং সালে) উত্তীর্ণ হন। তারপর ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রি এবং এম এ (জেনারেল ইতিহাস) উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগে স্টাইপেন্ডসহ (১৯৬৪-১৯৭০) পাস করেন।
◼️অধ্যাপনা :
১৯৭০ সালে জেনারেল শিক্ষা সমাপ্তির পর ১৯৭২ সালে কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ছাগলনাইয়া কলেজ ও নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে ১৯৭৫ ইং সাল পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
◼️ইমাম:
উচ্চতর শিক্ষালাভের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ১৯৬৪-৭৮ ইং পর্যন্ত হযরত তারেক শাহ্ দরগাহ মসজিদে ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালন করেন।
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে ১৯৭৫ সালে ছয় মাস ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালন করে ইস্তফা দিয়ে পুনরায় চট্টগ্রাম চলে
◼️ব্যাংকে চাকুরী :
অধ্যাপনার ফাঁকে ১৯৭৩ ইং সালে এক বছর অগ্রণী ব্যাংকে প্রবেশনারী অফিসার হিসাবে কাজ করে ইস্তফা দেন।
◼️ বিসিএস :
১৯৭৩ ইং সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
◼️অধ্যক্ষ :
চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা 'র অধ্যক্ষ পদে ১৯৭৭ সালে যোগদান করেন।
১৯৭৮ সালে ঢাকা মুহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা 'র অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে স্থায়ীভাবে ঢাকা চলে আসেন। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ পদে ছিলেন।
◼️ ইসলামিক ফাউন্ডেশন :
১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯০ ইং সাল পর্যন্ত মধ্যখানে ৪ বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ইমাম ট্রেনিং প্রজেক্ট ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে ডাইরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করে
◼️ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা :
তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শাহজাহানপুর গাউছুল আযম জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা খতীব এবং আহলে সুন্নাতের নির্বাচিত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। শাইখুল মুদাররিসীন আল্লামা হাফেয মুহাম্মদ আব্দুল জলিল নিজ গ্রাম আমিয়াপুরে হযরত বিবি ফাতেমা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।
◼️রাজনৈতিক ভূমিকা:
তিনি সুন্নী ও সুফিবাদ আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-এর শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন এবং দীর্ঘ ৮ বছর দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলান।
◼️জ্ঞানচর্চা:
তাফসীর, হাদিস, আকীদা, ফিকহ এবং সুফিবাদের ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি বেশ কিছু বই ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা ও অনুবাদ করেছেন।
◼️প্রকাশনা ও সম্পাদনা :
বই , অনুবাদ গ্রন্থ এবং পত্রিকা সম্পাদনা
জলিলুল বয়ান ফী তাফসিরীল কোরআন
বোখারী শরীফের বঙ্গানুবাদ,
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,
ইরফানে শরীয়াত,হায়াত মউত কবর হাশর,
মিলাদ ও কিয়ামের বিধান,শিয়া পরিচিতি,
বালাকোট আন্দোলনের হাকিকত,
গেয়ারবী শরীফের ইতিহাস[,
কারামাতে গাউছুল আযম,
ঈদে মিলাদুন্নবী ও না’ত লহরী,
আহকামুল মাযার,
প্রশ্নোত্তরে- আকায়েদ ও মাছায়েল শিক্ষা,
ফতোয়ায়ে ছালাছা, ফতোয়ায়ে ছালাছীন,
ইসলাহে বেহেশতী জেওর, সফরনামা আজমীর কালেমার হাকিকত,
রহমাতুল্লিন আলামীন।
বুখারী শরীফসহ তার লিখিত, অনুদিত ও সম্পাদিত ২০ টি গ্রন্থের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯ টি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে মাসিক সুন্নীবার্তা প্রকাশ শুরু করেন, যা আজও চলমান আছে।
◼️জীবনাবসান:
২০০৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৭৬ বছর বয়সে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।