Swami Vivekananda Yuva Sangha

Swami Vivekananda Yuva Sangha This organization serves human being in the form of God because it is the inherent order of Swamiji

সংসারী আমাদের কি কিছু আশা আছে?" কেন থাকবে না? খুব আছে। ভগবান কি কেবল সন্ন্যাসীদের? সকলেই তাঁর সন্তান। সংসারী কে নয়? আমাদ...
03/05/2026

সংসারী আমাদের কি কিছু আশা আছে?" কেন থাকবে না? খুব আছে। ভগবান কি কেবল সন্ন্যাসীদের? সকলেই তাঁর সন্তান। সংসারী কে নয়? আমাদেরও তো সংসার আছে। দেখ না, এই তোমরা সব আছ, তোমাদের জন্যে ভাবতে হয়, মঠ-মিশনের সাধুদের জন্যে ভাবতে হয়, ঠাকুরের কাজের জন্যে ভাবতে হয়। দুঃখ-দারিদ্র্য, সুখদুঃখের কথা শুনতে হয় এবং তাতে মনে কষ্ট হয়। তবে প্রভেদ আছে-আপনার জন্যে আর পরের জন্যে ভাবনা। বিদ্যার সংসার আর অবিদ্যার সংসার। সংসারে থাক ক্ষতি নেই, তবে সংসারে না পেয়ে বসে। বাহিরে সংসার থাক, সংসারের কর্তব্য কাজ সব করে যাও, কিন্তু অন্তরে যেন ত্যাগের ভাব, নিষ্ক্রিয়, নির্লিপ্ত ভাব থাকে।

#পরমার্থ_প্রসঙ্গ

রবীন্দ্রনাথ ও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সমকালীন মহাপুরুষ হলেও তাদের সাক্ষাৎ জমেছিল একবারই। ১৮৮৩ সালের ২রা মে, চৈত্র ক...
02/05/2026

রবীন্দ্রনাথ ও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সমকালীন মহাপুরুষ হলেও তাদের সাক্ষাৎ জমেছিল একবারই। ১৮৮৩ সালের ২রা মে, চৈত্র কৃষ্ণাদশমী তিথিতে জীবদ্দশায় একবারই দেখা হয়েছিল দুই মহামানবের। একজন নির্লোভ নিরহঙ্কার নিরাভরণ সাধক, বাঙালির প্রাণের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও অপরজন নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ।

নিমন্ত্রণ পেয়ে শ্রীম, রাখাল মহারাজ সহ অন্যান্য ভক্তদের নিয়ে ঠাকুর উপস্থিত হয়েছিলেন ২৩৪ প্রফুল্ল স্ট্রিটে 'নন্দনবাগানে' ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক অনুষ্ঠানে। দুই মহামানব বিপরীত মেরুবৃত্তের, একজন ব্রহ্মবাদী অপরজন সর্বধর্মে ঋদ্ধ পরমপুরুষ এবং সাকারে বিশ্বাসী। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমে এলে পাঁচটায় উত্তর কলকাতার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে সবচেয়ে বড় কক্ষটিতে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। রবি ঠাকুরের বয়স তখন বাইশ, ঠাকুর বসেছিলেন বৈঠকখানায়, প্রার্থনাসভার শুরুতে ঠাকুরের অনুরোধে পিয়ানো বাজিয়ে নিজের রচিত একটি ব্রহ্মসঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ:

‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধূলার তরে’

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই গানটি যেন শ্রী শ্রী ঠাকুরের জন্যই রবীন্দ্রনাথের কলম থেকে নির্যাসিত হয়েছিল উক্ত সভার দু-তিনদিন আগে। শান্ত সমাহিত নিবিষ্ট মনে সেই গান শুনতে শুনতে শ্রী শ্রী ঠাকুর ভাবসাগরে ডুবে গিয়েছিলেন। সভায় উপস্থিত ব্রাহ্মভক্তসহ সকল গুণীজন কয়েক মুহুর্তের জন্য অতীন্দ্রিয় জগতের সাক্ষী থেকেছিলেন। যুবক রবিও ঠাকুরের মহিমায় বিমুগ্ধ হয়েছিলেন। ধীরে ধীরে ঠাকুরের ভাব কেটে গেলে ঠাকুর বলেছিলেন, ‘যে মানুষ বিশ্বাস করে ঈশ্বরও কর্তা আর আমিও কর্তা তার পাপকাজ হয় না। যে ঠিক ভাবে নাচতে জানে, তার পা সর্বদা তালে পড়ে। অন্তর শুদ্ধ না হলে ঈশ্বরে বিশ্বাস আসে না। ঈশ্বরের উপাসনা করতে গেলে আগে ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকতে গেলে অন্তর শুদ্ধ থাকা প্রয়োজন।’

উপাসনাগৃহে উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, মাঝে মাঝে এমন ভাবে একত্রিত হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করা ভালো যাতে মন শান্ত ও শুদ্ধ হয়, মনোযোগ দৃঢ় হয়। প্রার্থনাসভা শেষ হলে, ঠাকুর সকলের সঙ্গে বসে ডাল তরকারি লুচি মিষ্টি খেয়ে সকলকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান। অসীম অনন্তকে ভালোবাসতে হলে নিজের মধ্যেও অনন্তের ছোঁয়া থাকতে হয় নয়তো একাত্মতা আসে না।

এক বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল সেই দিনটিতে, মিত্রবাড়ির সকলে অনুষ্ঠানসভা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঠাকুরের গাড়ি ভাড়া মেটাতে ভুলে গিয়েছিলেন। গাড়ি ভাড়া হয়েছিল ৩ টাকা ২ আনি। এক ভক্ত গাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন ৩ টাকা, পরবর্তীতে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে এসে ঠাকুর নিজেই দিয়েছিলেন ২ আনি। সেই গাড়িভাড়া মিত্র পরিবার থেকে আর মেটানো হয়নি, তা বাকিই রয়ে গিয়েছিল। প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটিতে দুই মহামানবের পদধূলি ধন্য মিত্রবাড়ীতে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়, কথামৃত পাঠ করা হয়, ভক্তিগীতি ও পূজার্চনা চলে।

শ্রী শ্রী ঠাকুরের সঙ্গে ব্রাহ্মসমাজের সুনিবিড় যোগাযোগ ছিল। ব্রাহ্মসমাজের অনেকেই আসতেন ঠাকুরের কাছে, তাঁর বাণী ও উপদেশ নিতে এবং ঠাকুরও যেতেন ব্রাহ্মসমাজে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রামকৃষ্ণদেবের যখন প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল তখন রবির বয়স পাঁচ বছর। শ্রী শ্রী ঠাকুর রবীন্দ্রনাথকে চিনেছিলেন তাঁর গানে। নরেনের কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের কিছু গান শুনে পরমহংসদেব বিমুগ্ধ হয়েছিলেন।

কাশীশ্বর মিত্রের বাড়ির অনুষ্ঠানের বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল তৎকালীন 'দ্য স্টেটসম্যান' পত্রিকায়। সেই প্রতিবেদনের একটি লাইনে লেখা ছিল, "The choir was led by baboo Rabindra Nath Tagore". পরবর্তীতে ত্রিষ্টুপ মুখোপাধ্যায়কে লেখা বেশ কিছু চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ, ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'মালঞ্চ' উপন্যাসে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথা উল্লেখ রয়েছে। অসুস্থ নীরজার বিছানার শীর্ষদেশে রয়েছে শ্রী শ্রী ঠাকুরের ছবি। নীরজার মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণদেবের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্বক একাধিক বাক্য বলিয়েছেন, ‘বল দাও ঠাকুর, বল দাও, মুক্তি দাও অধম নারীকে’।

১৯৩৭ সালে ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকীতে শান্তিনিকেতনে বসে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি। কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক বিশাল ধর্মসভা। দেশ বিদেশের দার্শনিক শিল্পী সাহিত্যিকদের চাঁদের হাটে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বাণী নিয়ে চলেছিল দীর্ঘ আলোচনাসভা।

ঠাকুরের প্রতি রবীন্দ্রনাথের শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা কতখানি তা উপলব্ধি করা যায় রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটি পড়ে,

বহু সাধকের
বহু সাধনার ধারা,
ধেয়ানে তোমার
মিলিত হয়েছে তারা;
তোমার জীবনে
অসীমের লীলাপথে
নূতন তীর্থ
রূপ নিল এ জগতে;
দেশ বিদেশের
প্রণাম আনিল টানি
সেথায় আমার
প্রণতি দিলাম আনি।

গতকাল ১ মে, বুদ্ধ পূর্ণিমার পূণ্য দিনে "১৩০তম রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা দিবস" ও স্বামী বিবেকানন্দ যুব সংঘ- এর ১৪তম প্রতিষ্...
02/05/2026

গতকাল ১ মে, বুদ্ধ পূর্ণিমার পূণ্য দিনে "১৩০তম রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা দিবস" ও স্বামী বিবেকানন্দ যুব সংঘ- এর ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়। উক্ত দিনে ঠাকুরের পূজার পর আলোচনা সভা, বাচ্চাদের আবৃত্তি, স্বামী বিবেকানন্দ যুব সংঘের বাৎসরিক কার্যাবলী প্রদর্শন, স্মরণিকা প্রকাশ, দিনপঞ্জি উন্মোচন- ইত্যাদি অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। দিব্যত্রয়ীর আশীর্বাদে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান।

শুভ প্রতিষ্ঠা দিবস "স্বামী বিবেকানন্দ যুব সংঘ"। রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার এই পূণ্য দিনে, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম নারায়ণগঞ্জে...
01/05/2026

শুভ প্রতিষ্ঠা দিবস "স্বামী বিবেকানন্দ যুব সংঘ"। রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার এই পূণ্য দিনে, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম নারায়ণগঞ্জের পূজনীয় অধ্যক্ষের অনুপ্রেরণা ও আশীর্বাদে, ২০১২ সালে সৃষ্ট " আত্মা মাত্রেই অব্যক্ত ব্রহ্ম" স্বামীজীর এই বাণীতে প্রতিষ্ঠিত সংঘটি দিব্যত্রয়ীর আশীর্বাদে আজ ১৪তম বর্ষে পদার্পণ করল।।
এই সংঘ এবং সংঘের প্রতিটি সদস্য আপনাদের সকলের নিকট আশীর্বাদ কামনা করছে। ।

মানবের হিতার্থ শ্রীরামকৃষ্ণ যে সকল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করিয়াছেন এবং কার্যে তাঁহার জীবনে প্রতিপাদিত হইয়াছে, তাহাদের প্রচার ...
01/05/2026

মানবের হিতার্থ শ্রীরামকৃষ্ণ যে সকল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করিয়াছেন এবং কার্যে তাঁহার জীবনে প্রতিপাদিত হইয়াছে, তাহাদের প্রচার এবং মনুষ্যের দৈহিক মানসিক ও পারমার্থিক উন্নতিকল্পে যাহাতে সেই সকল তত্ত্ব প্রযুক্ত হইতে পারে, তদ্বিষয়ে সাহায্য করা এই ‘প্রচারের’ (মিশনের) উদ্দেশ্য।
স্বামী বিবেকানন্দ
(রামকৃষ্ণ-সঙ্ঘ-স্থাপন, ২য় সভা, ৫ই মে ১৮৯৭;
যুগনায়ক বিবেকানন্দ, ৩য় খণ্ড, যুগপ্রবর্তন)

"শুভ প্রতিষ্ঠা দিবস রামকৃষ্ণ মিশন"

মানবের কল্যাণে, জীবের সেবায় নির্মিত রামকৃষ্ণ মিশনের আজ প্রতিষ্ঠা দিবস।

||বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি||অবতার স্বরূপ ভগবান বুদ্ধের জন্মতিথিতে তাঁর শ্রীচরণে শ্রদ্ধা ও প্রণাম।।
01/05/2026

||বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি||
অবতার স্বরূপ ভগবান বুদ্ধের জন্মতিথিতে তাঁর শ্রীচরণে শ্রদ্ধা ও প্রণাম।।

আগামীকালের অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সূচিআপনারা সকলে আমন্ত্রিত>> বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানসূচির পরিবর্তন হতে পারে
30/04/2026

আগামীকালের অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সূচি
আপনারা সকলে আমন্ত্রিত
>> বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানসূচির পরিবর্তন হতে পারে

নৃসিংহ চতুর্দশীর শুভেচ্ছা 🌹🌹ভগবান নৃসিংহের শ্রীচরণে সহস্র কোটি প্রণাম
30/04/2026

নৃসিংহ চতুর্দশীর শুভেচ্ছা 🌹🌹
ভগবান নৃসিংহের শ্রীচরণে সহস্র কোটি প্রণাম

*স্বামী-শিষ্য-সংবাদ* *স্বামীজী॥ নিম্ন জাতিকে উচ্চ জাতিতে পরিণত করতে পাশ্চাত্য মতে struggle for existence (জীবন-সংগ্রাম),...
30/04/2026

*স্বামী-শিষ্য-সংবাদ*

*স্বামীজী॥ নিম্ন জাতিকে উচ্চ জাতিতে পরিণত করতে পাশ্চাত্য মতে struggle for existence (জীবন-সংগ্রাম), survival of the fittest (যোগ্যতমের উদ্বর্তন), natural selection (প্রাকৃতিক নির্বাচন) প্রভৃতি যে-সকল নিয়ম কারণ বলে নির্দিষ্ট হয়েছে, সে-সকল আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে। পাতঞ্জল-দর্শনে কিন্তু এ-সকলের একটিও তার কারণ বলে সমর্থিত হয়নি। পতঞ্জলির মত হচ্ছে, এক species (জাতি) থেকে আর এক species-এ (জাতিতে) পরিণতি ‘প্রকৃতির আপূরণের’ দ্বারা (প্রকৃত্যাপৃরাৎ) সংসাধিত হয়। আবরণ বা obstacles-এর (প্রতিবন্ধক বা বাধার) সঙ্গে দিনরাত struggle (লড়াই) করে যে ওটা সাধিত হয়, তা নয়। আমার বিবেচনায় struggle (লড়াই) এবং competition (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) জীবের পূর্ণতালাভের পক্ষে অনেক সময় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। হাজার জীবনকে ধ্বংস করে যদি একটা জীবের ক্রমোন্নতি হয়—যা পাশ্চাত্য দর্শন সমর্থন করে, তা হলে বলতে হয়, এই evolution (ক্রমবিকাশ) দ্বারা সংসারের বিশেষ কোন উন্নতিই হচ্ছে না। সাংসারিক উন্নতির কথা স্বীকার করে নিলেও আধ্যাত্মিক বিকাশকল্পে ওটা যে বিষম প্রতিবন্ধক, এ কথা স্বীকার করতেই হয়। _আমাদের দেশীয় দার্শনিকগণের অভিপ্রায়—জীবমাত্রই পূর্ণ আত্মা। আত্মার বিকাশের তারতম্যেই বিচিত্রভাবে প্রকৃতির অভিব্যক্ত ও বিকাশ। প্রকৃতির অভিব্যক্তির ও বিকাশের প্রতিবন্ধকগুলি সর্বতোভাবে সরে দাঁড়ালে পূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ। প্রকৃতির অভিব্যক্তির নিম্নস্তরে যাই হোক, উচ্চস্তরে কিন্তু প্রতিবন্ধকগুলির সঙ্গে দিনরাত যুদ্ধ করেই যে ওদের অতিক্রম করা যায়, তা নয়; দেখা যায় সেখানে শিক্ষা-দীক্ষা, ধ্যান-ধারণা ও প্রধানতঃ ত্যাগের দ্বারাই প্রতিবন্ধকগুলি সরে যায় বা অধিকতর আত্মপ্রকাশ উপস্থিত হয়। সুতরাং obstacle (প্রতিবন্ধক)-গুলিকে আত্মপ্রকাশের কার্য না বলে কারণরূপে নির্দেশ করা এবং প্রকৃতির এই বিচিত্র অভিব্যক্তির সহায়ক বলা যুক্তিযুক্ত নয়। হাজার পাপীর প্রাণসংহার করে জগৎ থেকে পাপ দূর করবার চেষ্টা দ্বারা জগতে পাপের বৃদ্ধিই হয়। কিন্তু উপদেশ দিয়ে জীবকে পাপ থেকে নিবৃত্ত করতে পারলে জগতে আর পাপ থাকে না।_* *এখন দেখুন, পাশ্চাত্য Struggle Theory (প্রাণীদের পরস্পর সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বারা উন্নতিলাভরূপ মত)-টা কতদূর horrible (ভীষণ) হয়ে দাঁড়াচ্ছে।*

_রামব্রহ্মবাবু স্বামীজীর কথা শুনিয়া স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন; অবশেষে বলিলেন, ‘ভারতবর্ষে এখন আপনার ন্যায় প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দর্শনে অভিজ্ঞ লোকের বিশেষ প্রয়োজন হইয়াছে। ঐরূপ লোকেই একদেশদর্শী শিক্ষিত জনগণের ভ্রমপ্রমাদ অঙ্গুলি দিয়া দেখাইয়া দিতে সমর্থ। আপনার Evolution Theory-র (ক্রমবিকাশবাদের) নূতন ব্যাখ্যা শুনিয়া আমি পরম আহ্লাদিত হইলাম।’_

শিষ্য স্বামী যোগানন্দের সহিত ট্রামে করিয়া রাত্রি প্রায় ৮টার সময় বাগবাজারে ফিরিয়া আসিল। স্বামীজী ঐ সময়ের প্রায় পনর মিনিট পূর্বে ফিরিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। প্রায় অর্ধঘণ্টা বিশ্রামান্তে তিনি বৈঠকখানায় আমাদিগের নিকট উপস্থিত হইলেন। স্বামীজী অদ্য পশুশালা দেখিতে গিয়া রামব্রহ্মবাবুর ক্রমবিকাশবাদের অপূর্ব ব্যাখ্যা করিয়াছেন শুনিয়া উপস্থিত সকলে ঐ প্রসঙ্গ বিশেষরূপে শুনিবার জন্য ইতঃপূর্বেই সমুৎসুক ছিলেন। অতএব স্বামীজী আসিবামাত্র সকলের অভিপ্রায় বুঝিয়া শিষ্য ঐ কথাই পাড়িল।

শিষ্য॥ মহাশয়, পশুশালার ক্রমবিকাশ-সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছিলেন, তাহা ভাল করিয়া বুঝিতে পারি নাই। অনুগ্রহ করিয়া সহজ কথায় তাহা পুনরায় বলিবেন কি?

*স্বামীজী॥ কেন, কি বুঝিসনি?*

_শিষ্য॥ এই আপনি অন্য অনেক সময় আমাদের বলিয়াছেন যে, বাহিরের শক্তিসমূহের সহিত সংগ্রাম করিবার ক্ষমতাই জীবনের চিহ্ন এবং উহাই উন্নতির সোপান। আজ আবার যেন উল্টা কথা বলিলেন।_

*স্বামীজী॥ উল্টো বলব কেন? তুই-ই বুঝতে পারিসনি। Animal kingdom-এ (নিম্ন প্রাণিজগতে) আমরা সত্য-সত্যই struggle for existence, survival of the fittest (জীবনসংগ্রাম, যোগ্যতমের উদ্বর্তন) প্রভৃতি নিয়ম স্পষ্ট দেখতে পাই। তাই ডারুইনের theory (তত্ত্ব) কতকটা সত্য বলে প্রতিভাত হয়। কিন্তু human kingdom (মনুষ্যজগৎ)-এ, যেখানে rationality (জ্ঞানবুদ্ধি)-র বিকাশ, সেখানে এ নিয়মের উল্টোই দেখা যায়। মনে কর, যাঁদের আমরা really great men (বাস্তবিক মহাপুরুষ) বা ideal (আদর্শ) বলে জানি, তাঁদের বাহ্য struggle (সংগ্রাম) একেবারেই দেখতে পাওয়া যায় না।*

*মাতৃ সুধা*_বিশেষ ক্ষেত্রে শ্রীমা নিজেই বলিয়া দিতেন যে, ঠাকুর ও তিনি অভিন্ন৷_> শ্রীযুক্ত মানদাশঙ্কর দাশগুপ্তকে শ্রীমা ১৩...
29/04/2026

*মাতৃ সুধা*

_বিশেষ ক্ষেত্রে শ্রীমা নিজেই বলিয়া দিতেন যে, ঠাকুর ও তিনি অভিন্ন৷_

> শ্রীযুক্ত মানদাশঙ্কর দাশগুপ্তকে শ্রীমা ১৩২৩ সালের ৫ চৈত্র তারিখের পত্রে জানাইয়াছিলেন যে, *যদি শ্রীমায়ের ধ্যান করিতেই তাঁহার বেশী ইচ্ছা হয় , তবে তাহাই করিতে পারেন ; কারণ তাঁহার ও ঠাকুরের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, শুধু রূপের পার্থক্য—যিনি ঠাকুর তিনিই শ্রীমায়ের দেহে বিদ্যমান*৷
> তাঁহার ১৩২৩ সালের ৩০ চৈত্রের পত্রেও আছে "*যেই ঠাকুর সেই আমি* ৷"

মানদাবাবু কথাটাকে আরও পরিষ্কার করিবার জন্য শ্রীমায়ের নিকট উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, "মা, উপাসনার সময় ঠাকুরের নাম জপ করা কি দরকার ?"
*মা বলিলেন " হ্যাঁ, তা করবে৷"*
ভক্ত আবার বলিলেন,
"কেন, তার কী দরকার? তুমি আর ঠাকুর তো এক৷"
এই কথা শুনিয়া *মা অত্যন্ত ব্যস্ত হইয়া বলিলেন, "না না, এক হলেও আমি কখনও ঠাকুরকে ছাড়তে বলতে পারি না*"।

একদিন জনৈক ত্যাগী ভক্তের সহিত শ্রীমায়ের আলাপ হইতেছিল। ভক্ত প্রশ্ন করিলেন, ঠাকুর কি সদা সর্বদা আপনাকে দেখা দেন, আপনার হাতে খান এখনও?"
> *মা বলিলেন, "আমরা কি আলাদা? সঙ্গে সঙ্গে জিব কাটিয়া বলিলেন, কি বলে ফেললুম*! "

স্বামী কেশবানন্দ শ্রীমায়ের মুখে ঠাকুরের কথা শুনিতে শুনিতে যেমন আক্ষেপ করিলেন যে , ঠাকুর জগতে অবতীর্ণ হইলেও দুর্ভাগ্যবশত তিনি তাঁহার দর্শন পাইলেন না , অমনি *শ্রীমা নিজের শরীর দেখাইয়া বলিলেন, "এর ভিতর তিনি সুক্ষ্মদেহে আছেন। ঠাকুর নিজমুখে বলেছেন, আমি তোমার ভেতর সুক্ষ্ম দেহে থাকব*৷'

> শ্রীযুক্ত নরেশ চক্রবর্তী দীক্ষার্থী বন্ধুকে লইয়া যে-বার জয়রামবাটী যান , *সে-বারে শ্রীমা তাঁহার হস্তে পূজাগ্রহনের জন্য ফুল আনিতে আদেশ দিয়া বলিলেন, "আমি হলদে ফুল ভালোবাসি, আর ঠাকুর সাদাফুল৷ কিশোরীকে দুরকম ফুল আনতে বলো।"*

কিশোরী মহারাজের নিকট হইতে ফুল আনিয়া নরেশবাবু ছুটিয়া আসিয়া দেখিলেন, মা আগের জায়গায়ই দাঁড়াইয়া আছেন৷ শ্রীমায়ের নিকট হইতে বামপদে পীত ও দক্ষিণপদে শ্বেত পুষ্প দিবার অস্ফুট ইঙ্গিত পাইবামাত্র নরেশবাবু আকুলহৃদয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া বলিলেন, "মা, আমার ইহ-পরকালের সমস্ত ফল আমি তোমায় সমর্পণ করলুম।"
> স্বেচ্ছায় পূজাগ্রহণ করিয়া *সেদিন শ্রীমা আভাসে বুঝাইয়া দিলেন যে, তাঁহার একই দেহে শিবশক্তি সম্মিলিত—তাই ঠাকুরের শ্বেত ও মায়ের পীত পুষ্প।*

*স্বামী গম্ভীরানন্দ*
( গ্রন্থসূত্র - *শ্রীমা সারদা দেবী* )

"Give light and more light will come to you."-"যতই করিবে দান তত যাবে বেড়ে”। #জীবমুক্তি_সুখপ্রাপ্তিপৃষ্ঠা -৮২
28/04/2026

"Give light and more light will come to you."-"যতই করিবে দান তত যাবে বেড়ে”।

#জীবমুক্তি_সুখপ্রাপ্তি
পৃষ্ঠা -৮২

জীবে দয়া নয়-শিবজ্ঞানে জীবের সেবা!সর্বভূতে ঈশ্বরকে যতদিন না দেখিতে পাওয়া যায়, ততদিন যথার্থ ভক্তি বা পরাভক্তি লাভ সাধকের প...
27/04/2026

জীবে দয়া নয়-শিবজ্ঞানে জীবের সেবা!

সর্বভূতে ঈশ্বরকে যতদিন না দেখিতে পাওয়া যায়, ততদিন যথার্থ ভক্তি বা পরাভক্তি লাভ সাধকের পক্ষে সুদূরপরাহত থাকে।... কর্ম বা রাজযোগ অবলম্বনে যেসকল সাধক অগ্রসর হইতেছে, তাহারাও ঐ কথায় বিশেষ আলোক পাইবে।...

#যুগনায়ক_বিবেকানন্দ
প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা - ১১৮

Address

Missionpara
Narayanganj
1400

Telephone

+8801876282865

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Swami Vivekananda Yuva Sangha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Swami Vivekananda Yuva Sangha:

Share