29/04/2026
*মাতৃ সুধা*
_বিশেষ ক্ষেত্রে শ্রীমা নিজেই বলিয়া দিতেন যে, ঠাকুর ও তিনি অভিন্ন৷_
> শ্রীযুক্ত মানদাশঙ্কর দাশগুপ্তকে শ্রীমা ১৩২৩ সালের ৫ চৈত্র তারিখের পত্রে জানাইয়াছিলেন যে, *যদি শ্রীমায়ের ধ্যান করিতেই তাঁহার বেশী ইচ্ছা হয় , তবে তাহাই করিতে পারেন ; কারণ তাঁহার ও ঠাকুরের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, শুধু রূপের পার্থক্য—যিনি ঠাকুর তিনিই শ্রীমায়ের দেহে বিদ্যমান*৷
> তাঁহার ১৩২৩ সালের ৩০ চৈত্রের পত্রেও আছে "*যেই ঠাকুর সেই আমি* ৷"
মানদাবাবু কথাটাকে আরও পরিষ্কার করিবার জন্য শ্রীমায়ের নিকট উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, "মা, উপাসনার সময় ঠাকুরের নাম জপ করা কি দরকার ?"
*মা বলিলেন " হ্যাঁ, তা করবে৷"*
ভক্ত আবার বলিলেন,
"কেন, তার কী দরকার? তুমি আর ঠাকুর তো এক৷"
এই কথা শুনিয়া *মা অত্যন্ত ব্যস্ত হইয়া বলিলেন, "না না, এক হলেও আমি কখনও ঠাকুরকে ছাড়তে বলতে পারি না*"।
একদিন জনৈক ত্যাগী ভক্তের সহিত শ্রীমায়ের আলাপ হইতেছিল। ভক্ত প্রশ্ন করিলেন, ঠাকুর কি সদা সর্বদা আপনাকে দেখা দেন, আপনার হাতে খান এখনও?"
> *মা বলিলেন, "আমরা কি আলাদা? সঙ্গে সঙ্গে জিব কাটিয়া বলিলেন, কি বলে ফেললুম*! "
স্বামী কেশবানন্দ শ্রীমায়ের মুখে ঠাকুরের কথা শুনিতে শুনিতে যেমন আক্ষেপ করিলেন যে , ঠাকুর জগতে অবতীর্ণ হইলেও দুর্ভাগ্যবশত তিনি তাঁহার দর্শন পাইলেন না , অমনি *শ্রীমা নিজের শরীর দেখাইয়া বলিলেন, "এর ভিতর তিনি সুক্ষ্মদেহে আছেন। ঠাকুর নিজমুখে বলেছেন, আমি তোমার ভেতর সুক্ষ্ম দেহে থাকব*৷'
> শ্রীযুক্ত নরেশ চক্রবর্তী দীক্ষার্থী বন্ধুকে লইয়া যে-বার জয়রামবাটী যান , *সে-বারে শ্রীমা তাঁহার হস্তে পূজাগ্রহনের জন্য ফুল আনিতে আদেশ দিয়া বলিলেন, "আমি হলদে ফুল ভালোবাসি, আর ঠাকুর সাদাফুল৷ কিশোরীকে দুরকম ফুল আনতে বলো।"*
কিশোরী মহারাজের নিকট হইতে ফুল আনিয়া নরেশবাবু ছুটিয়া আসিয়া দেখিলেন, মা আগের জায়গায়ই দাঁড়াইয়া আছেন৷ শ্রীমায়ের নিকট হইতে বামপদে পীত ও দক্ষিণপদে শ্বেত পুষ্প দিবার অস্ফুট ইঙ্গিত পাইবামাত্র নরেশবাবু আকুলহৃদয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিয়া বলিলেন, "মা, আমার ইহ-পরকালের সমস্ত ফল আমি তোমায় সমর্পণ করলুম।"
> স্বেচ্ছায় পূজাগ্রহণ করিয়া *সেদিন শ্রীমা আভাসে বুঝাইয়া দিলেন যে, তাঁহার একই দেহে শিবশক্তি সম্মিলিত—তাই ঠাকুরের শ্বেত ও মায়ের পীত পুষ্প।*
*স্বামী গম্ভীরানন্দ*
( গ্রন্থসূত্র - *শ্রীমা সারদা দেবী* )