29/05/2026
আজ ভোরে মাংস কিনতে গিয়েছিলাম। সকাল সকাল না গেলে পছন্দমতো মাংস পাওয়া যায় না। গিয়ে দেখলাম, কসাই গরু জবাই করবে আমার সামনে। ভাবলাম, ভালোই হলো, দেখে শুনে নেওয়া যাবে।
গরু জবাই হলো। জবাই করার সঙ্গে সঙ্গে কসাই ছুরির মাথা দিয়ে গলার ভেতর একটি খোঁচা দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে গরু নড়াচড়া বন্ধ করে দিল, রক্ত পড়াও বন্ধ হয়ে গেল। এরপরই কসাই চামড়া ছাড়ানো শুরু করে দিলেন।
আমি কসাইকে বললাম, “রক্তগুলো বের হতে দেন, তারপর চামড়াটা ছাড়ান।”
কসাই এক গাল হেসে আমাকে উপেক্ষা করে চামড়া ছাড়াতেই থাকলেন। আমি নির্বাক তাকিয়ে রইলাম তার দিকে।
আমাদের দেশের অধিকাংশ কসাইখানায় গরুর মাংস টকটকে লাল দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে, কসাইরা গরু জবাই করার পর ছুরির মাথা দিয়ে স্পাইনাল কর্ডে খোঁচা দেয়। এতে গরু ব্রেন স্ট্রোক করে দ্রুত নিস্তেজ হয়ে যায় এবং রক্ত তেমন বের হয় না।
একটি গরুর শরীরে প্রায় ২০–২৫ লিটার রক্ত থাকে। যত কম রক্ত বের হবে, তত ওজন বাড়বে। এমনকি একটা গরুর ফুসফুসে ২০ লিটার পর্যন্ত পানি ভড়িয়ে মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রয় করা যায়।
আমাদের দেশের অনেক মানুষ অভিযোগ করে বলে, গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে এই রক্ত,, যা কসাইরা বের হতে দেয় না। অনেকেই গরুর মাংস খেলে এলার্জি হয়। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে কারণ হতে পারে, মাংসে জমে থাকা রক্ত।
রক্তে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ (toxins), ইউরিয়া, এবং ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে। সঠিকভাবে রক্ত বের না হলে এগুলো মাংসে থেকে যেতে পারে, যা হজমে সমস্যা, এলার্জি বা চুলকানি ও দ্রুত পচন হতে পারে।
অনেকেই আবার বলেন, কোরবানির মাংস খেলে কোনো সমস্যা হয় না। এর মূল কারণ হলো, কোরবানির পশুর রক্ত বের হতে সময় দেওয়া হয়, তাই সমস্যা হয় না।
সামান্য লাভের আশায় মানুষ কত কিছুই না করে।
শহরে এমন একটি কসাইয়ের দোকানও নেই, যেখানে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না। অথেনটিক গরুর মাংস বিক্রি করে, এমন দোকানও নেই বললেই চলে।
কসাইদের অভিযোগ, জবাইয়ের পর সময় দিলে চামড়া ছাড়ানো কঠিন হয়। এই কারণেই তারা দ্রুত চামড়া ছাড়িয়ে ফেলে। যদিও এই অভিযোগের তেমন কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, চামড়া ছাড়ানোর সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো গরুকে ঝুলিয়ে চামড়া ছাড়ানো। তাতে সব রক্ত দ্রুত বের হয়ে যাবে।
সচেতনতা না বাড়লে, এই অবস্থা পরিবর্তন হবে না। এবং এটি শুধু গরু নয়— খাসি, মহিষ, ভেড়া সব পশুর ক্ষেত্রেই সত্য।
(লিখেছেন— ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও)
সম্মানিত কসাই/মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, সামান্য লাভের আশায় মানুষের এত বড় ক্ষতি করবেন না। এবারের ঈদে এই বদভ্যাস/লোভ ত্যাগ করাই হোক আপনার এবারের কোরবানি।
সেইসাথে অনুরোধ যারা কোরবানি দিবেন কোরবানি শেষে পশুর রক্ত ও পচনশীল অংশ নিজ দায়িত্বে মাটিতে পুঁতে ফেলবেন, ব্যবহৃত এলাকা পর্যাপ্ত পানি/ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেবেন।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে আপনি বা আপনার শিশুই রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।
সকলের কোরবানি কবুল হোক, ঈদ আনন্দময় হোক।
ঈদ মুবারক।