Jalkuri Poshchimpara Jame Mosque

Jalkuri Poshchimpara Jame Mosque Assalamualikum Wa Rahmatullahi Wa Baraqatu This is all from authority of Jalkuri Poshchimpara Jame Mosque, the official page of the mosque.

We are here to spread the true massage of Quran & Sunnah against the false massage. This is our main purpose!

14/12/2024

জালকুড়িতে ওয়াজ-মাহফিলের নামে যা শুরু হইছে তা কোন অংশে ভিক্ষাভিত্তি থেকে কম না। ওয়াজ-মাহফিলের উদ্দেশ্য যদি হয় কালেকশানবাজি তাহলে ওয়াজ-মাহফিলের ফায়দাটা কোথায়? যেখানে ওয়াজ-মাহফিল হবে আল্লাহ এবং তার রাসুলের পথে ডাকা, সেই ওয়াজ-মাহফিল এখন পরিনিত হয়েছে ভন্ড বক্তার নাটকবাজি।

কিছু পর্যালোচনাঃ

১। বর্তমানে জালকুড়িতে ঘটে এমন মেজর পাপ গুলো হল শিরক-কুফুর, সুদী-অর্থনীতি এবং মাসজিদ বিমুখীতা (নামাজ পরিত্যাগ করা)। যে এলাকায়ই ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয় সেখানে দাওয়াতী কাজ শুরু করা হয় তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে কিন্ত এই জালকুড়িতে ইসলামের দাওয়াতে সেই তাওহীদের দাওয়াতটা মিসিং। সুদের মত এত জঘন্য পাপ নিয়ে কোনো কথা নাই। নাই কোনো পদক্ষেপ সেই সুদ থেকে বেচে থাকার জন্য। শিরক-কুফর নিয়ে কোনো কথা নাই। জালকুড়ির ৮০% মানুষ জানেই না কোন কোন কাজ করলে শিরক হয় এবং কোন কোন কাজ করলে কুফরি হয়। জালকুড়িতে অর্ধ-শতাধিক মাসজিদ কিন্তু এই সমাজের ৯০% মানুস নামাজই পড়ে না পাচঁ ওয়াক্ত দুরে থাক। নাই কোনো এই সামস্যা নিয়ে আলোচনা। কেন মানুষকে নামাজ পরতে হবে এবং না পরলে কী হবে আখিরাতে সেই সম্পর্কে কোনো কথা হয় না আজকাল ওয়াজ-মাহফিলে। এইসব মেজর বিষয় গুলো এড়িয়ে গিয়ে কিভাবে আপনারা মনে করেন যে মানুষ শুধু তার বাবা-মার হক্ব আদায় করলেই জান্নাত? নিশ্চই বাবা-মার হক্ব অনেক অনেক গুরুত্বপুর্ন্য কিন্তু তাওহীদের পর।

২। জালকুড়ীতে যারা ওয়াজ-মাহফিল আয়োজন করেন তাদের মধ্যে ৫০% থেকে ৬০% হচ্ছে সুদখোর, নেশাখোর, লম্পট, মাদক ব্যবসায়ী এবং অসৎ চরিত্রের অধিকারী। এরা মনে করে যে, জিবনে যত পাপই করি না কেন সবই মাফ হয়ে যাবে, মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের চোখে সম্মানিত হবে শুধু বছরে কয়েকবার ওয়াজ-মাহফিল আয়োজন করলে। তারা স্টেজে উঠলে বলে যে, সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যুব সমাজ ধংস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাদের কোনো পদক্ষেপ কি আছে এই কথা বলার পূর্বে? এইসব ভন্ড প্রকৃতির মানুষ দিয়ে সমাজ কোনো দি ন পরিবর্তন হবে না বরং ধংস হবে অচিরেই।

৩। বক্তা এবং আয়োজকদের প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে কলেকশানবাজি। যত কালেকশান তত পকেট ভারী। দিন শেষে শ্রোতারা কিছুই পায় না সময় নষ্টের প্রতিফল ছাড়া। জালকুড়ির সাধারন ধর্মপ্রান মুসলিমরা এই সুক্ষ বিষয় কোনো দিন চিন্তাও করবে না কারন বক্তারা ইসলাম ছাড়া সবই আলোচলা করে তাদের সামনে।

এতো এতো খারাপ পরিবেশের মধ্যে থেকে আমরা আশা রাখি যে, একদিন জালকুড়ির মাটিতে সঠিক ইসলামের শিক্ষা দেওয়া হবে এইসব কালেকশানবাজি বাদ দিয়ে। সকল ভন্ডকে বাদ দিয়ে প্রকৃত মুমিনরা ওয়াজ-মাহফিল আয়োজন করবে এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচারে অগ্রগামী হবে। মাজার পূজারী বক্তাকে বাদ দিয়ে তাওহীদের আলেমরা আসবে তাওহীদ শিখাতে ইন শা আল্লাহ।

22/09/2023

ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) পালন করা বিদ'আত!

19/04/2023

প্রশ্ন: ঈদের নামাযের তাকবীর কি ৬ টি; নাকি ১২ টি??

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ।

এক:
এটি একটি ইজতিহাদী মাসআলা। এ নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী ও পরবর্তী ইমামদের মধ্যে মতানৈক্য আছে এবং এ মাসআলায় ১০টিরও অধিক মতামত রয়েছে।

‘আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা’ (১৩/২০৯) তে এসেছে-

মালেকী ও হাম্বলি মাযহাবের আলেমগণ বলেন: ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে তাকবীর সংখ্যা ৬টি এবং দ্বিতীয় রাকাতে ৫টি। এটি মদিনার সাত ফকীহ, উমর ইবনে আব্দুল আযিয, যুহরী ও মুযানি থেকে বর্ণিত আছে।

বুঝা যাচ্ছে- প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমাকে তারা সপ্তম তাকবীর হিসেবে গণ্য করেন এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর তাকবীরকে তারা বর্ণিত পাঁচটি তাকবীরের অতিরিক্ত তাকবীর হিসেবে গণ্য করেন।

আর হানাফী মাযহাবের অভিমত ও এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমাদের মত হচ্ছে: দুই ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ৬ তাকবীর দিতে হবে। প্রথম রাকাতে ৩ তাকবীর, দ্বিতীয় রাকাতে ৩ তাকবীর। এটি ইবনে মাসউদ (রাঃ), আবু মুসা আশআরী (রাঃ), হুযাইফাতুল ইয়ামান (রাঃ), উকবা বিন আমের (রাঃ), ইবনে যুবায়ের (রাঃ), আবু মাসউদ আল-বদরী (রাঃ), হাসান বসরী (রহঃ), মুহাম্মদ বিন সিরিন (রহঃ), ছাওরী (রহঃ), কুফার আলেমগণ ও এক বর্ণনা মতে ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর অভিমত।

শাফেয়ি মাযহাবের আলেমগণ বলেন: প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর ৭টি এবং দ্বিতীয় রাকাতে ৫টি।

আইনী (রহঃ) অতিরিক্ত তাকবীরের সংখ্যার ব্যাপারে ১৯ টি উক্তি উল্লেখ করেছেন…।[সমাপ্ত]

শাওকানী (রহঃ) বলেন: দুই রাকাত ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে ও তাকবীর দেয়ার স্থানের ব্যাপারে আলেমগণের ১০ অভিমত রয়েছে। এক. প্রথম রাকাতে ক্বিরাতের আগে ৭ তাকবীর দিবে এবং দ্বিতীয় রাকাতে ক্বিরাতের আগে ৫ তাকবীর দিবে। ইরাকী বলেন: এটি অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ী ও ইমামদের অভিমত। দুই. প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা ৭ তাকবীরের মধ্যে গণ্য— এটি ইমাম মালেক, আহমাদ ও মুযানির অভিমত।

তিন. প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকাতে ৭ তাকবীর। আনাস বিন মালেক (রাঃ), মুগিরা বিন শুবা (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ), সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহঃ) ও নাখায়ী (রহঃ) থেকে এ মতটি বর্ণিত আছে।

চার. প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমার পর ক্বিরাতের আগে ৩ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে ক্বিরাতের পর ৩ তাকবীর। এটি একদল সাহাবী, ইবনে মাসউদ (রাঃ), আবু মুসা (রাঃ) ও আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে এবং এটি ইমাম ছাওরী (রহঃ) ও ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর অভিমত…[নাইলুল আওতার (৩/৩৫৫) থেকে সমাপ্ত]

এ বিষয়ে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হচ্ছে- আয়েশা (রাঃ) এর হাদিস: “রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবীর দিতেন।”[সুনানে আবু দাউদ (১১৪৯), আলবানী সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে এ হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন এবং এটি অধিকাংশ আলেমের অভিমত]

ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) বলেন:

দুই ঈদের নামাযের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘হাসান’ সনদে বহু রেওয়ায়েত রয়েছে যে, তিনি প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবীর দিয়েছেন। কিন্তু, সাহাবায়ে কেরাম এ নিয়ে তীব্র মতানৈক্য করেছেন। অনুরূপভাবে তাবেয়ীগণ এ নিয়ে মতভেদ করেছেন।[তামহীদ (১৬/৩৭-৩৯) থেকে সমাপ্ত]

দুই:

এ ধরণের মাসআলাতে মতবিরোধ করার যথাযথ সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মতানৈক্যকারীকে নিন্দা করা যাবে না। কিভাবে নিন্দা করা হবে, যা সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত আছে। সাহাবায়ে কেরাম হচ্ছেন— ইজতিহাদের উপযুক্ত ইমাম ও সুন্নাহর অনুসারী ও অনুসৃত ইমাম।

এ কারণে ইমাম আহমাদের অভিমত হচ্ছে- ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীরের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম থেকে যে সব অভিমত বর্ণিত আছে এর সবগুলোর উপর আমল করা জায়েয। তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ তাকবীরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; এর প্রত্যেকটি জায়েয।”[আল-ফুরু (৩/২০১) থেকে সমাপ্ত]

শাইখ মুহাম্মদ বিন উছাইমীন (রহঃ) প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবীর দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: “যদি কেউ এর ব্যতিক্রম কিছু করে যেমন- প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় রাকাতে ৫ টি করে তাকবীর দেয় কিংবা উভয় রাকাতে ৭ টি করে তাকবীর দেয় যেভাবেসাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছে তাহলে ইমাম আহমাদ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীরা তাকবীরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন এবং প্রত্যেকটি জায়েয। অর্থাৎ ইমাম আহমাদ মনে করেন, এক্ষেত্রে বিষয়টি প্রশস্ত। যদি কেউ উল্লেখিত পদ্ধতির বিপরীত কিছু করে যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত আছে তাহলে এতে কোন অসুবিধা নেই। ইমাম আহমাদের মাযহাব হচ্ছে- যদি সলফে সালেহীনগণ কোন মাসআলায় মতানৈক্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট মাসয়ালায় অকাট্য কোন দলিল না থাকে তাহলে এক্ষেত্রে সবকটি অভিমতের উপর আমল করা জায়েয। কারণ তিনি সাহাবীদের কথাকে মর্যাদা দিতেন এবং মূল্যায়ন করতেন। তিনি বলেন: যদি কোন অকাট্য দলিল না থাকে; যে দলিল সাহাবীদের কোন উক্তি গ্রহণে প্রতিবন্ধক হয় না তাহলে সেক্ষেত্রে বিষয়টি প্রশস্ত। নিঃসন্দেহে ইমাম আহমাদ যে পথ অনুসরণ করেছেন সেটা উম্মতের ঐক্যের সবচেয়ে উত্তম পন্থা। কারণ কোন কোন ব্যক্তি যেসব মাসআলায় ভিন্নমত প্রকাশ করার ও ইজতিহাদ করার সুযোগ আছে সেসব মতকে উম্মতের অনৈক্য ও বিভক্তির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। এমনকি কেউ কেউ তার মুসলিম ভাইকে গোমরাহ বলতেও দ্বিধা করে না অথচ হতে পারে সে নিজেই গোমরাহ। এ যামানায় চরম আকার ধারণ করা সংকটগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। যদিও এ যামানাতে যুব সমাজের জাগরণ আশাব্যঞ্জক। এ ধরণের সংকট এ জাগরণকে নষ্ট করে দিতে পারে এবং বিচ্ছিন্নতার কারণে উম্মাহ আবার ঘুমিয়ে পড়তে পারে। কারণ কেউ যদি তার মুসলিম ভাই এর সাথে কোন ইজতিহাদী মাসয়ালায় মতভেদ করে; যে মাসআলাতে কোন অকাট্য দলিল নেই; সে ব্যক্তি ঐ ভাই থেকে দূরে সরে যায়, তাকে গালিগালাজ করে, তার সমালোচনা করে— এটি মুসিবত; এতে সবচেয়ে খুশি হয় এ জাগরণের শত্রুরা।

যদি কোন মাসআলা ইজতিহাদের উপযুক্ত হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একে অপরের ওজর গ্রহণ করা উচিত। তবে, মুসলমান ভাইদের পরস্পরের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনাতে কোন বাধা নেই। আমি বলব: আল্লাহ তাআলা ইমাম আহমাদকে উত্তম প্রতিদান দিন; যিনি এ সুন্দর পথটি গ্রহণ করেছেন: যখন সলফে সালেহীন কোন মাসআলায় মতানৈক্য করে এবং এ ক্ষেত্রে কোন অকাট্য দলিল না থাকে সেক্ষেত্রে বিষয়টি প্রশস্ত এবং সবগুলো অভিমতের উপর আমল করা জায়েয।[আল-শারহুল মুমতি (৫/১৩৫-১৩৮)]

উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম থেকে যে অভিমত বর্ণিত আছে সে অভিমতের উপর আমল করলে এতে কোন অসুবিধা নেই। যদিও উত্তম হচ্ছে— প্রথম রাকাতে ৭ তাকবীর দেয়া এবং দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তাকবীর।

17/04/2023

“The Messenger of Allah (ﷺ) turned to us and said: ‘O Muhajirun, there are five things with which you will be tested, and I seek refuge with Allah lest you live to see them:

☑️Immorality never appears among a people to such an extent that they commit it openly, but plagues and diseases that were never known among their predecessors will spread among them.
☑️They do not cheat in weights and measures but they will be stricken with famine, severe calamity, and the oppression of their rulers.
☑️They do not withhold the Zakah of their wealth, but rain will be withheld from the sky, and were it not for the animals, no rain would fall on them.
☑️They do not break their covenant with Allah and His Messenger, but Allah will enable their enemies to overpower them and take some of what is in their hands.
☑️Unless their leaders rule according to the Book of Allah and seek all good from that which Allah has revealed, Allah will cause them to fight one another''

Hadith Grade: Sahih
Hadith No: 4019
Book of Hadith: Sunan Ibn Majah

15/04/2023

ক.
মঙ্গল শোভাযাত্রা করলেই যে মঙ্গল আসে না, শিরকি পদ্ধতিতে প্রার্থনা করলেই যে কল্যাণ আসে না, তার প্রমাণ নিউ মার্কেটের দুর্ঘটনা। এই নব্য পূজারীগুলোর হুঁশ তবুও হবে না, হবার কথা না।

খ.
নিউ মার্কেটের দুর্ঘটনা ঘটার পর যথারীতি বলা হলো, ২০১৬ সালেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণ করা হয়েছিল। কোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলে তা কি ধ্বসে পড়ে নাকি আগুনে পোড়ে, তা চিন্তার বিষয়। আগুনে পোড়ার দায় মূলত কার? সিটি কর্পোরেশনের, যারা রাতে ব্যবসায়ীদের বাধা উপেক্ষা করে ফুটওভারব্রিজ ভাঙার কাজে হাত দিয়েছিল তাদের, নাকি অন্য কারও, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হয়তো কোনোদিন স্পষ্ট করাও হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

গ.
ডা. জাফরুল্লাহর জানাযা দুচোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, এই দেশের প্রথম সারির বহু নেতৃবৃন্দও একটা মুসলিম দেশের নেতা হওয়ার কতটাই অযোগ্য। ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে নামাজ। এই নামাজই যারা পরতে জানে না, তারা কীভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতা হতে পারে, যার সংবিধানেও রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে ইসলাম? নারী-নারী-পুরুষ মিশে একাকার হয়ে এমনভাবে জানাযা আদায় করেছে, যা এ দেশের সকল ধর্মানুরাগী মুসলমানকে আহত করেছে। আর নামাজ আদায়ের পদ্ধতি তো ছিল বাচ্চাদের চেয়েও আরও বেশি বাচ্চাসুলভ। আল্লাহ ক্ষমা করুন।

ঘ.
ডা. জাফরুল্লাহ কি মুমিন ছিলেন এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন? কাউকে মুমিন বলার জন্য অন্তর চিড়ে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং কারও বাহ্যিক অবস্থায় যদি তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের বিশ্বাস প্রকাশিত থাকে এবং ঈমান ভঙ্গের কোনো আচরণ-উচ্চারণ না দেখা যায়, তাহলে তাকে মুমিন বলে বিবেচনা করা হয়। ডা. জাফরুল্লাহর মধ্যে ঈমান ভঙ্গের অনেক কারণই প্রকাশিত ছিল, যা এ দেশের সকলের সামনেই বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। অন্তিম অবস্থায় সব কুফর-শিরক থেকে তাওবা এবং ঈমান-ইসলামের ওপর মৃত্যুর কোনো প্রমাণ আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা কি বৈধ হবে? তার জানাযা পড়া বা পড়ানো কি জায়েয হবে? আবার বিশেষ দলের পাগড়ি পরিহিত ইমামকে দেখা গেছে, তার জানাযা পড়াতে। এ ব্যাপারে সেই বিতর্কিত দলের অবস্থান কী, তা-ও আল্লাহ ভালো জানেন।

ঙ.
গ্রীষ্মের দাবদাহে সবার জীবন অতিষ্ঠপ্রায়। জাহান্নাম বছরে দুবার শ্বাস ছাড়ে, যেমনটা সহিহ হাদিসে এসেছে। তার প্রভাবেই প্রচণ্ড শীত ও গরম আসে। দুনিয়ার গরমেই নাভিশ্বাস বেরোচ্ছে, জাহান্নামের আজাবে যে কী পরিস্থিতি হবে, তা তো আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ সবাইকে জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন। এ বছরের গরমে শরীর ঘামাচ্ছে কম, গা পুড়ছে বেশি। বাতাসে আদ্রতা অনেক কম। একদিনে বাইকে ২৫০ কিলো রাইড করেছি। এরপর দুদিন লেগেছে শরীর স্বাভাবিক হতে। যারা রোজা রেখেও সারাদিন দৈহিক পরিশ্রম করে, তারা যে কীভাবে টিকে আছে, আল্লাহই ভালো জানেন। রিক্সাওয়ালাদের চেহারা দেখলেও বড় মায়া হয়। এই মানুষগুলোর ত্যাগের বিনিময়েই জাতি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে। অথচ জাতির উচ্চশ্রেণির কাছে এদের দাম নেই বললেই চলে। এদের দিন কাটে সামান্য রুটিরুজির সন্ধানে। আর ওদের ভাবনা চলে, কীভাবে দেশটাকে ইসলামশূন্য করা যায় সেই ফিকিরে।

কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ!
24/03/2023

কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ!

| কুরআনকে খতম করবেন না প্লিজ! |

তাজওয়ীদ শাস্ত্রে ওয়াজিব গুন্নাহ নামে একটা টার্ম আছে। আমি জীবনের প্রথমদিকে বড় একটা সময়জুড়ে ভাবতাম এটা শার’ঈ ওয়াজিব, না করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে। অনেক পরে গিয়ে বুঝেছি যে এটা শার’ঈ ওয়াজিব নয়, শাস্ত্রীয় ওয়াজিব।

তাজওয়িদ শাস্ত্র নামের একটা স্বতন্ত্র শাস্ত্র গড়ে উঠেছে কেবল কুরআন পাঠের সৌন্দর্য নিশ্চিত করার জন্য। দেখুন সাধারণ আরবি বলার সময় কিন্তু এই একই আলিফ বা তা সা নূন মিম ইত্যাদি দিয়েই ভাষাটা উচ্চারিত হয় , কিন্তু সেখানে এই মাদ্দ—গুন্নাহর কোনো ব্যাপার নেই।

আমাদের হাফেজরা সবাই কমবেশ এই শাস্ত্রের বিষয়ে জানেন, তবুও তারাবীহ সালাতে কুরআন খতমের নামে এভাবে কুরআনকে খতম করার কালচার কীভাবে গড়ে উঠল!

এর জন্য কারা দায়ী? হাফেজরা? নাকি সাধারণ মানুষ! হাফেজ আলিমরা চাইলে কি এর কোনো প্রতিকার করতে পারতেন না? মসজিদ তো তাদেরই নিয়ন্ত্রনে। তাদের কি এতটুকু ব্যক্তিত্ব, আত্মসম্মান, লিডারশিপ কিংবা ধর্মীয় গাইরাত থাকতে নেই যে এখানটাতে তারা এতটুকু বিষয় প্রতিষ্ঠিত করবেন? এতটুকু গাট যদি না থাকে তাহলে সমাজ বদলের আশা আমরা কাদেরকে নিয়ে করি?

আজ এই প্রসঙ্গে কিছু গল্প বলব জীবন থেকে, একেবারে নিজের জীবন থেকে। কারো ভালো লাগবে, কারো হয়ত ভালো করে গায়ে লাগবে। তবু কিছু শিক্ষা থেকে যাবে। শিক্ষাটা হলো আমাদের যদি সত্যিই আত্মসমান থাকে তো সমাজ আমাদের সম্মান দিতে বাধ্য হবে; আর যদি তা না-ই থাকে তবে ফাফা হুংকার দেওয়া বন্ধ করা উচিৎ। এতে অপমানিত হওয়ার সম্ভাবনাই বৃদ্ধি পাবে।

………
আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। আমার বয়স তখন চৌদ্দ পনের’র মতো হবে। তখন আমরা যেখানে থাকতাম সেটা ছিল কিছুটা শহরতলি ধরণের। আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আমার বেশ ভালো একটা সম্পর্ক। আমাদের বাসায় মাঝেমধ্যে আসেনও।

আমি বয়সে বেশ ছোট হলেও তিনি কেমন যেন একটা সম্মান-মিশ্রিত স্নেহ করেন। একবার, তিনি তার গ্রামের বাড়ি যাবেন। আমাকে অনুরোধ করলেন, শুক্রবার জুম’আর নামাজটা একটু পড়িয়ে দিতে। ওনার শুক্রবারে বাড়িতে থাকা জরুরি।

এমনিতেও আমার বয়স কম। তাছাড়া ইমামতির দায়িত্ব কোনো এক অজানা কারণে এড়িয়ে চলতাম। রমজানের এই তারাবীহ ছাড়া মসজিদের মিম্বারের দিকে যেতাম না। কিন্তু তার উপকারের কথা ভেবে রাজি হয়ে গেলাম। স্বাভাবিক কারণেই ভেবেছিলাম, তিনি নিশ্চয়ই মসজিদ কমিটিকে বলে গেছেন। কিন্তু শুক্রবার মসজিদে গিয়ে বুঝলাম, তিনি অফিশিয়ালি তেমন কিছু বলে যাননি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হয়ত জানিয়ে গিয়েছেন।

লোকজন মোটামুটি এসে পড়েছে। এদিক-সেদিক তাকাচ্ছে ইমাম কোথায়, কে নামাজ পড়াবে। এর মধ্যে দারাজ কণ্ঠে সভাপতি সাহেব বলে উঠলেন, “নামাজ কে পড়াবে আজ? আমি বললাম, 'আমি পড়াবো, ইমাম সাহেব আমাকে বলে গিয়েছেন'। একই মহল্লায় আমাদের বাড়ি। সভাপতি সাহেব অল্পবিস্তর চেনেন ও জানেন আমাকে। কিন্তু আজ কেমন যেন না চেনার ভান করলেন। সম্ভবত বয়সের কমতির কারণে কিছুটা তাচ্ছিল্লের স্বরে বললেন, “নামাজ পড়াইতে হইলে তো আগে ইন্টারভিউ দিতে হবে”।

আমিও কেন যেন আর কম্প্রোমাইজ করলাম না। যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেতুল মেরে দিলাম সাথে সাথে। বললাম, ভালো, ইন্টারভিউটা কে নেবে শুনি এখানে? আপনি নিবেন? আমার তো ত্রিশ পারা মুখস্ত আছে, মাদ্রাসাতে পড়ি, কমবেশ মাসআলা মাসায়েলও জানা আছে। এবার আপনার কয় পারা মুখস্ত আছে আর ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া কদ্দুর করেছেন বলেন। এরপর একটু ঔদ্ধত্যের সাথেই বলেছিলাম, “আমি যে মসজিদে এই বয়সে নামাজ পড়িয়েছি সেই মসজিদে যতজন মানুষ বাথরুমে লাইন দিয়ে থাকে আপনার এই মসজিদে তো সেই ক’জন মুসল্লিও নেই, আপনি আমার কিসের ইন্টারভিউ নিবেন!”

ভদ্রলোক যারপনাই হতভম্ব হয়ে গেলেন। হেসে উড়িয়ে দিয়ে ‘ভাতিজা রাগ হইলা কেন’টাইপ কথা বলে পরিস্থিতি নরমাল করার চেষ্টা করলেন। চালাক মানুষ। হয়ত বুঝতে পেরেছেন সহজেই, আগে বাড়লে খবর আছে।

কিশোর বয়সের কিছুটা ড্যামকেয়ার ভাব আর ফটাস ফটাস কথা বলার স্বভাবের ছাপ আমার আচরণে থাকলেও এর পেছনে একটা সুপ্ত ক্ষোভ ছিলো। এখন বুঝি এটা অনেকটা যৌক্তিকও বটে। যে সভাপতি আমার ইন্টারভিউ নিতে চেয়েছিলেন তিনি ছিলেন এলাকার বিখ্যাত একজন সূদখোর। তার পেছনে লোকেরা তার নামের সাথে সূদখোর শব্দ যোগ করে ডাকত। আমার দ্বন্দের জায়গাটা ছিলো এমন যে, একজন প্রকাশ্য সূদখোর ফাসিক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে তাচ্ছিল্ল করছে। এই সুযোগ তাকে দেওয়া হবে না, শক্তভাবে প্রতিরোধ করা হবে, এবং সাথে সাথে। এই ব্যবচ্ছেদ সেই কিশোর বয়সে হয়ত আমার সামনে এত নিপুণভাবে স্পষ্ট ছিল না, তবে এখন বুঝি ব্যাক ইন দ্য মাইন্ড এটাই ছিল আমার এই শক্ত অবস্থান নেওয়ার পেছনে মূল কারণ।

এবার বাথরুমে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো পিকিউলিয়ার কথাটা যে মসজিদে নামাজ পড়ানোর কারণে বলেছিলাম সেটার একটা গল্পটা বলি। এটা আমাদের বিভাগীয় শহরের অন্যতম বড় মসজিদ। সে মসজিদে চৌদ্দ বছর বয়সের এই কিশোরের নামাজ পড়ানোর কথা না। কিন্তু সেই মসজিদের খতিব সাহেবের সাথে আমার হিফজ উস্তাদের বিশেষ সুসম্পর্ক, আর আমার ইয়াদের ব্যাপারে আমার উস্তাদের আস্থাই ছিলো এই সুযোগ পাওয়ার মূল কারণ।

সারা মাস বেশ সুনামের সাথেই নামাজ পড়ালাম। শেষের দিন এক আজব ঘটনা ঘটল। প্রথমে সূরা কাফিরুন পড়ার সময় হাফেজ সাহেব লোকমা দিলেন, (লোকমা মানে নামাজে ভুল হলে পেছন থেকে শুধরে দেওয়া)। তিনি ছাড়াতে পারছেন না দেখে ইমাম সাহেবও লোকমা দিলেন।

কোনোমতে টেনেটুনে সালাম ফেরালাম। এরপর একেবারে শেষের সময়, সূরা ফালাক্ব আর পড়তেই পারছি না যেন। হাফেজ সাহেব, ইমাম সাহেব, মুয়াযযিন সাহেবও লোকমা দিলেন। যেন এক এক আয়াত বলে দেওয়ার পরও পড়তে পারছিলাম না। আমার নিজের অবস্থা আর না-ই বললাম, সব মুসল্লীরাও তাজ্জব। গোটা রামাদানে মাত্র মনে হয় দুইবার পেছন থেকে বলে দিতে হয়েছিল; অথচ কাফিরুন আর ফালাকে এই অবস্থা!

নামাজ শেষে খতিব সাহেব একান্তে ডেকে নিয়ে বললেন, “দেখো, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আজীবনের এক শিক্ষা ছাড়া কিছু না। আল্লাহর কালাম কেউ নিজ ক্ষমতায় হৃদয়ে রাখতে পারে না; আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় যার মধ্যে চান রাখবেন, যার কাছ থেকে চান উঠিয়ে নেবেন; তিনি না চাইলে তুমি সূরা ফালাক্বও পড়তে পারবা না। এটা মনে রাখবা, কখনও অহংকার করবা না, ইখলাস বজায় রাখবা”।

কেন কয়েক যুগ আগের ব্যক্তিগত এই গল্পগুলো বলছি এবার সেই গল্পে আসি। আমাদের মহল্লার এই মসজিদে ইমাম সাহেব নিজেও হাফেজ, তারাবিহর জন্য আরও দুজন হাফেজ রাখা হয়েছে। প্রথম দিন নামাজ পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এত দ্রুত পড়ল যে মনে হচ্ছিল কুরআনের সাথে কুস্তি চলছে। দ্রুত পড়ার সাথে যদি কম ইয়াদ যুক্ত হয় তাহলে কি যে একটা মারত্মক অবস্থা তৈরি হয় তা কেবল হাফেজরাই বোঝেন। পেঁচিয়ে এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে সেখানে, এই কখনও আয়াত বাদ কখনও শব্দ। শেষ পর্যন্ত একটা গোজামিল দিয়ে লম্বা একটা টান মেরে রুকুতে। অবস্থাটা এমন যেন নামাজে ভুল হলে তার মান-ইজ্জত কিছুই থাকবে না।

আমাদের এই তিনজন হাফেজের একজন—যিনি মসজিদের স্থায়ী ইমাম—প্রতিদিনই দু’চার রাকাতে এমন করেন। অন্য দু’জন হাফেজকে কখনও লোকমা দিতে দেখি না। তো একদিন জিজ্ঞেস করলাম, কী লোকমা দেওয়া নিষেধ আছে নাকি? ছোট হাফেজ সাহেব চূপচাপ। সম্ভবত অস্থায়ী দু’জনের রিক্রুটমেন্টে তার ভুমিকা আছে। তাই রিক্রুটকারীর মান-ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে তারা হয়ত কমিটেড।

এই যে নামাজে তিলাওয়াতে ভুল হলে লোকমা দিলে সেটাকে নিজের প্রেস্টিজ ইস্যু মনে করাটা কিন্তু একটা আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসহীনতার প্রমাণ। আমি মসজিদে নববীর মাগরিব সালাতের ছোট্ট সূরাতেও ইমামকে কুরআন ভুলে যেতে দেখেছি এবং পেছন থেকে বলেও দেওয়া হয়েছে।

আত্মমর্যাদাহীন মানুষ এমন কাজে নিজের ইজ্জত হারানোর শংকায় ভোগে যেটার সাথে ইজ্জত হারানোর কোনো সম্পর্কই হয়তো ছিল না; আবার অনেক নীচ কাজ অবলীলায় করতেও তাদের আত্মসম্মানে লাগে না। সভাপতির যে অন্যায় নির্দেশ পালন ছিলো চরম অবমাননাকর সেটাকে তারা মোটেই অসম্মানজক মনে করছে না, কিন্তু তিলাওয়াতে লোকমা খাওয়াকে তার ইজ্জতের ব্যাপার মনে করছে।

আমি অবশ্যই বলছি না ব্যতিক্রম নেই, অবশ্যই আছে; তাদের প্রতি স্যালুট। তবে সেটা এত কম যে তা আর গোনায় ধরা যাচ্ছে না; সেটা আমাদের সমাজ জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করার মতো সংখ্যায় নয় একদমই, বরং একেবারেই নগণ্য। আর নগণ্যতা অস্ত্বিত্বহীনতার মতোই। যেটা মেইন্সট্রিম সেটাই আলোচ্য বিষয়।

যাই হোক, কিছু বললাম না। চারিদিকের অবস্থা তো সুবিধার না। বাবা-মা, পরিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে, কোথাও কোনো কথাবার্তা বলা যাবে না। সহ্য করলাম। পরদিন মসজিদের সভাপতি সাহেব নামাজের আগে ইমামদেরকে আরও দ্রুত পড়ার তাগিদ দিলেন। বললেন, সৌদি আরবে নাকি তারাবীহ অর্ধেক করে দিছে। আরও দ্রুত শেষ করতে হবে, নইলে সমস্যা আছে।

ইমাম সাহেবগণ সভাপতির কথা রাখার জন্য যে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তা বুঝানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করলেন না। কিরাতে, রুকুতে, সিজদাতে, সব জায়গায় গতি যতদূর সম্ভব বাড়িয়ে দিলেন। দাঁতে দাঁত কামড়ে ১২ রাক’আত পড়ে বাসায় চলে এলাম। আর সহ্য করতে পারছিলাম না নামাজের সাথে এই কুস্তি, কুরআনের সাথে এই ঝগড়া।

ভাবলাম, আমার মনের কথাগুলো ইমাম সাহেবদের সাথে শেয়ার করি; ওনারা তো আমাদেরই মানুষ, হয়ত অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু হয়ে উঠছিল না। সেদিন ফজরের পর কিভাবে যেন তিনজনকে একেবারে একা পেয়ে গেলাম। হুজুরদের বললাম, “আপনারা তো সমঝদার লোক, আপনাদেরকে সমঝ দেওয়ার মতো কিছু নেই। আচ্ছা আপনারা যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করছেন এটা কি ঠিক হচ্ছে?

তারা এক বাক্যে স্বীকার করলেন যে ঠিক হচ্ছে না। কেন করছেন সে কথা জিজ্ঞেস করে তাদেরকে ছোট করতে ইচ্ছে হলো না। কথাটাকে অন্যদিকে নিয়ে গেলাম। বললাম, এই আপনারাই হলেন এদেশে ইসলামী শক্তির বাস্তব প্রতিচ্ছবি; আর যে সভাপতি আপনাদেরকে ডিকটেট করছে তিনি কী তাও আপনাদের জানা। আপনারা এমন লোকদের কথায় আল্লাহর কুরআনের সাথে আদব রক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে কিভাবে অবহেলা করছেন?

ওনারা মাথা নিচু করেই শুনলেন। কোনো জবাব দিলেন না।

বললাম, দেখুন আপনারা তিনজনই মূলত ইসলাম, আপনারাই ইসলামের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ইসলাম। ওয়াজের ময়দানের চিৎকার আর হুংকার একটা ফাপানো মেকি চিত্র। আপনারা এই মসজিদের গণ্ডির মধ্যেই যদি সেক্যুলারদের চোখে চোখ রেখে একটা অকাট্য সত্য বিষয়ে শক্ত অবস্থান না নিতে পারেন তাহলে কীভাবে হবে? মসজিদে তো আপনাদের একটা কর্তৃত্ব আছে; এটা আপনাদের এক্সপার্টিজ এর কোর ফিল্ড; আপনাদের তোয়াজ করতে এখানে তারা বাধ্য; ব্যাপারটা এমন নয় যে আপনি রুখে দাড়ালে সে এসে নিজেই নামাজটা পড়িয়ে দিতে পারবে। আপনারা বলতে পারতেন, কুরআন নিয়মানুসারে যেভাবে পড়া উচিৎ সেভাবেই পড়া হবে; তারাবীহ ফরজ নামাজ নয়, যার যত রাকাত ভালো লাগে পড়বেন, কিন্তু কুরআনের সাথে বেয়াদবি করা হবে না।

ওনারা একটা রা শব্দও উচ্চারণ করলেন না।

শেষে একথাও বললাম যে, যত কমই হোক না কেন, যদি ন্যুনতম কোনো কর্তৃত্ব থাকে সেটা আপনাদের মসজিদ মাদ্রাসাতেই আছে। আপনাদের কর্তৃত্বের জায়গাটাতেই যদি আপনারা ন্যায় রক্ষার সময় বাতিলের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারেন, তাহলে রাজনৈতিক ময়দানে আপনারা কিভাবে বাতিলের মোকাবেলা করবেন? সেখানে তো আপনারা দুধভাত।

আর বলা যায় না। আমি “আপন মনে করে অনেক কথা বললাম, ভুলত্রুটি হলে মাফ করে দিয়েন” বলে উঠলাম। আশায় বুক বাধলাম, আজ থেকে নিশ্চয়ই একটা চমৎকার কুরআন তিলাওয়াত পেতে যাচ্ছি। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। পরের দিন সেই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তিই ঘটল।

আমার মন কিছুটা হতাশায় ছেয়ে গেলো; আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম।

ইমাম সাহেবদের সাথে প্রতিদিনই দেখা হয়, কিন্তু সালাম দেওয়ার সময় আর চোখে চোখ রাখতে পারি না। ওনারাও কেমন যেন একটা হাত কচলানো, অতি বিনয়ী ভাব নিয়ে থাকেন ।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

~ আবু তাসমিয়া আহমদ রফিক
প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন

সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান

Dear Brothers and Sisters!Do not delay paying your zakah (2.5% of your wealth). Give it now as a lot of daily wage worke...
22/03/2023

Dear Brothers and Sisters!
Do not delay paying your zakah (2.5% of your wealth).
Give it now as a lot of daily wage workers lost their work and job. The poor and needy are suffering and they have nothing to eat.
JazakAllah khairan

Dear Brothers and Sisters!
Do not delay to pay your zakah (2.5% of your wealth).
Give it now as a lot of of daily wage workers lost their work and job. Poor and needy are suffering and they have nothing to eat.

JazakAllah khairan

পবিত্র মাস রামাদান
22/03/2023

পবিত্র মাস রামাদান

22/03/2023

রমাদান মাসে একজন মুসলিমের সারাদিন :

একজন মুসলিম তাঁর দিন শুরু করবে ফজরের সালাতের আগে সেহেরী গ্রহণের মাধ্যমে। উত্তম হচ্ছে যদি রাতের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সেহেরী গ্রহণ করা যায়।আযানের আগে তিনি ফজরের সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। বাসা হতে ওজু করে আযানের আগেই মসজিদে যাবেন। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। এরপর মুয়াজ্জিন আযান দেয়ার আগ পর্যন্ত বসে বসে দোয়া দুরুদ, কুরআন তিলাওয়াত বা যিকির আযকারে মশগুল থাকবেন। আযান দিলে মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে আযানের বাক্যগুলোর পুনরাবৃত্তি করবেন। আযান সমাপ্ত হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত দুআপাঠ করবেন। এরপর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। তারপর ফরজ সালাত দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত যিকির, দুআ ও কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন। “সালাতের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সালাতেই রয়েছেন”। [ বুখারী (৬৪৭) ও মুসলিম (৬৪৯)]
জামাতের সাথে সালাত আদায় শেষে, সালাম ফিরানোর পর তিনি শরিয়ত নির্দেশিত দুআসমূহ পাঠ করবেন। এরপর চাইলে সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে থেকে যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকবেন। এটি করতে পারলে ভাল। ফজরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে আমল করতেন। এরপর সূর্যোদয়ের পর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে এবং উদয়নের পর ১৫ মিনিটের মত অতিক্রান্ত হলে তিনি চাইলে সালাতুদ্‌ দোহা তথা চাশ্‌তের নামায (সর্বনিম্ন দুই রাকাত) আদায় করবেন। এটি ভাল। আর চাইলে কিছুটা দেরী করে এই নামায পড়ার উত্তম সময়ে নামাযটি পড়তে পারেন। উত্তম সময় হলো- সূর্য আরো উপরে উঠলে এবং রোদের প্রখরতা বাড়লে। এই সময়ে নামাযটি পড়তে পারলে আরো ভাল। [মুসলিম (৭৪৮),তিরমিযী (৫৮৬)] এরপর কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ কিছু সময় ঘুমাতে চাইলে এই ঘুমের দ্বারা ‘ইবাদত ও রিযিক অন্বেষণের নিমিত্তে শক্তি অর্জনের নিয়্যত করবেন। যাতে আল্লাহ চাহেত এ ঘুমের মাধ্যমে সওয়াব পেতে পারেন। ইসলামী শরিয়ত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেগুলো পালনে যত্নবান হওয়া উচিত। এরপর তিনি তার কর্মস্থলে যাবেন। যোহরের নামাযের ওয়াক্ত নিকটে এলে যথাসম্ভব শীঘ্রই আযানের আগে অথবা আযানের পরপরই মসজিদে হাযির হবেন। নামাযের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকবেন। এরপর তিনি ২ সালামে যোহরের ৪ রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। এরপর কুরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না জামাত শুরু হয়। এরপর জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন। জামাতের পর যোহরের ২ রাকাত সুন্নত নামায আদায় করবেন। সালাত আদায় শেষে তার ডিউটির বাকী অংশ সম্পন্ন করবেন। ডিউটি শেষে তিনি বাসায় ফিরে আসবেন। যদি আসরের সালাতের পূর্বে লম্বা সময় বাকি থাকে তাহলে কিছু সময় বিশ্রাম নিবেন। আর যদি ঘুমানোর মত বেশি সময় বাকি না থাকে এবং ঘুমিয়ে পড়লে আসরের সালাত ছুটে যাওয়ার আশংকা করেন তাহলে নামাযের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত কোন কাজে ব্যস্ত থাকবেন। যেমন– বাসার লোকজনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী কিনতেবাজারে যাওয়া।নতুবা কর্মস্থল থেকে ফিরে সোজা মসজিদে চলে যাবেন এবং আসরের সালাত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবেন। আসরের পর একজন মানুষ তার নিজের অবস্থা বিবেচনা করবে। তিনি যদি মসজিদে বসে কুরআন তিলাওয়াতে নিয়োজিত থাকার মত শক্তি পান তাহলে এটা এক মহান সুযোগ। আর যদি তিনি ক্লান্তি বোধ করেন তবে এ সময়ে বিশ্রাম নিবেন; যাতে রাতে তারাবীর নামাযের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। মাগরিবের আযানের আগে তিনি ইফতারের জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এই মুহূর্তগুলোকে তিনি যেকোন ভালো কাজে ব্যয় করবেন। যেমন- কুরআন তিলাওয়াত করা, দুআ করা, অথবা পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে ভাল কোন কথা আলোচনা করা। এ সময়ের সবচেয়ে ভাল কাজ হল – রোযাদারদেরইফতার করানোতে অংশ নেওয়া। হয়তো তাদের জন্য খাবার কিনে দেয়ার মাধ্যমে অথবা তা বিতরণ করার মাধ্যমে অথবা এর ব্যবস্থাপনা করার মাধ্যমে। এই আমলের মধ্যে অপরিসীম আনন্দ রয়েছে। এটা তিনিই জানেন যিনি নিজে এ আমল করেছেন।
ইফতারের পর তিনি জামাতের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাবেন। এরপর দুই রাকাত মাগরিবের সুন্নত সালাত আদায় করবেন। বাসায় ফিরে তিনি প্রয়োজন মাফিক খাদ্যগ্রহণ করবেন। অতিরিক্ত খাবেন না। এরপর এই সময়কে তার নিজের জন্য ও তার পরিবারের জন্য কল্যাণকর কোন পন্থায় ব্যয় করবেন।যেমন – কোন কাহিনীর বই পড়া, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় হুকুম আহকামের কোন বই পড়া, প্রতিযোগিতার বই পড়া, বৈধ কোন আলাপ আলোচনায় রত থাকা অথবা অন্য যে কোন আকর্ষণীয় কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা এবং এগুলোর মাধ্যমে মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হারাম অনুষ্ঠান থেকে পরিবারের সদস্যদেরকে বিরত রাখা। কারণ চ্যানেলগুলোরজন্য এটি পিক আওয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আপনি দেখবেন এ সময় তারা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। যে অনুষ্ঠানগুলো আক্বীদা বিনষ্টকারী ও আখলাক বিনষ্টকারী বিষয়াদিতে ভরপুর থাকে।
প্রিয় ভাই, এসব অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করুন এবং আপনার অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। যাদের ব্যাপারে কিয়ামাতের দিন আপনি প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। সেদিনের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। এরপর এশার সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিন এবং মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হোন। মসজিদে গিয়ে কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হোন। অথবা মসজিদে কোন ইলমী আলোচনা অনুষ্ঠান থাকলে তা শুনুন। এরপর এশার সালাত আদায় করুন। অতঃপর ২ রাকাত এশার সুন্নত নামায আদায় করুন। এরপর ইমামের পিছনে তারাবির নামায খুশূ (আল্লাহর ভয়), তাদাব্বুর (অনুধাবন), তাফাক্‌কুর (চিন্তাভাবনা)এর সাথে আদায় করুন। ইমাম নামায শেষ করার আগে আপনি নামায ছেড়ে চলে যাবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
" إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة ". رواه أبو داود (1370) وغيره ، وصححه الألباني في "صلاة التراويح " (ص 15)
“ইমাম নামায শেষ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি তাঁর সাথে নামায আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত নামায পড়ার সওয়াব লিখে দেয়া হবে।”[হাদিসটি আবু দাউদ (নং ১৩৭০) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সংকলন করেছেন।আলবানী সালাতুত্‌ তারাবীহ অধ্যায়ে হাদিসটিকে সহীহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন]
সালাতুত্‌ তারাবীর পর আপনি আপনার নিজস্ব ব্যতি ব্যস্ততার সাথে সামঞ্জস্যশীল প্রোগ্রাম তৈরি করে নিন। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন:
- সমস্ত হারাম থেকে এবং হারামের আহ্বায়ক বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার বাসার সদস্যদেরকে হারাম থেকে ও হারামের যাবতীয় উপকরণ থেকে কৌশলে বিরত রাখুন। যেমন–তাদের জন্য বিশেষ কোন প্রোগ্রাম তৈরি করুন। অথবা তাদের নিয়ে শরিয়ত অনুমোদিত স্থানে ঘুরতে বের হোন। তাদেরকে অসৎসঙ্গ থেকে দূরে রাখুন। তাদের জন্য সৎ সাহচর্যের অনুসন্ধান করুন।
- কম ফজিলতপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমলে মশগুল হওয়া।
আগে আগে বিছানায় যেতে চেষ্টা করুন। ইসলামী শরিয়ত যেসব কথা ও কাজকে ঘুমের আদব হিসেবে নির্ধারণ করেছে সেগুলো পালনে যত্নবান হবেন। ঘুমের আগে যদি কিছু কুরআন তেলাওয়াত বা ভাল কোন বইয়ের কিছু অংশ পড়তে পারেন তবে তা ভাল। বিশেষ করে আপনি যদি কুরআন থেকে আপনার দৈনন্দিন পাঠ্য (ওয়াজীফাহ্) শেষ না-করে থাকেন তবে তা সম্পন্ন না করে ঘুমাবেন না।এরপর সেহেরীর আগে যথেষ্ট সময় নিয়ে ঘুম থেকে উঠুন। যাতে দুআতে ব্যস্ত হতে পারেন। কারণ এই সময় – রাতের শেষ তৃতীয়াংশ – আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা এ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করেছেন। এ সময়ে দুআকারীদের দুআ কবুলের এবং তওবাকারীদের তওবা কবুলের ওয়াদা করেছেন। তাই এই মহা সুযোগটি আপনার হাতছাড়া করা উচিত হবে না।
জুমাবার:
জুমাবার সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। তাই এই দিনের ‘ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম থাকা উচিত। এক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার :
# জুমার সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আগে আগে বের হওয়া।
# আসরের সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা এবং এ দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিলাওয়াত ও দুআতে ব্যস্ত থাকা। কারণ এ সময়ে দুআ কবুল হওয়ার আশা করা হয়।
# সপ্তাহের মাঝে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেননি তা সম্পন্ন করতে এই দিনকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। যেমন কুরআনের সাপ্তাহিক পাঠ্য (ওয়াজীফাহ) বা কোন বই পাঠ অথবা ক্যাসেট শোনা অথবা এ জাতীয় কোন ভাল কাজের কিছু অসম্পন্ন থাকলে এদিনে তা সম্পন্ন করুন।
শেষ দশক:
রমাদানের শেষ দশকে আছে লাইলাতুল কদর (ভাগ্য রজনী)। যে রাত হাজার মাস থেকে উত্তম। তাই এই দশকে মসজিদে ই‘তিকাফ করার বিধান এসেছে। লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে ইতিকাফ করেছেন। সুতরাং যার ইতিকাফ করার সুযোগ রয়েছে তার জানা উচিত এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য এক মহান করুণা। আর যার পুরো দশদিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই তিনি যে কয়দিন পারেন ইতিকাফ করতে পারেন। আর যার একেবারেই ইতিকাফ করার সুযোগ নেই তিনি যেন এ রাত্রি গুলোতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে কাটাতে সচেষ্ট হন। যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকির করা, দু‘আ’ করা। রাতজেগে এসব আমল করার জন্য তিনি যেন দিনেরবেলা বিশ্রাম নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
লক্ষণীয় কিছু বিষয় :
# এই রুটিন একটি প্রস্তাবিত রুটিন। এটি একটি পরিবর্তনযোগ্য রুটিন। যে কেউ তার ব্যতিব্যস্ততার আলোকে এটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
# এই রুটিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নতসমূহ যথাযথভাবে পালনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, এতে উল্লেখিত সবকিছুই ওয়াজিব বা ফরজ। বরং এতে অনেক সুন্নাহ ও মুস্‌তাহাব্ব কাজ রয়েছে।
# আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হল সে কাজ যা নিয়মিত করা হয় – তা অল্প হলেও। রমাদান মাসের শুরুতে মানুষ আনুগত্য ও ইবাদতের খুব যোশ নিয়ে সক্রিয় থাকে। কিছুদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকুন এবং এই মহান মাসে পালনকৃত সমস্ত কাজ নিয়মিতভাবে ধরে রাখতে সচেষ্ট হউন।
# একজন মুসলিমের উচিত এই মুবারক মাসে তার সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সচেষ্ট হওয়া। যাতে করে কল্যাণ ও ভাল কাজে এগিয়ে যাওয়ার বড় বড় সুযোগ তার হাতছাড়া হয়ে না যায়। যেমন– রমাদান মাস শুরু হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনে দিতে সচেষ্ট হওয়া। একইভাবে দৈনিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এমন সময়ে কিনতে সচেষ্ট হওয়া যখন বাজারে ভিড় থাকে না। আরেকটি উদাহরণ হল: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেখা সাক্ষাতের জন্য এমন রুটিন করে নেয়া যাতে ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে।
# এই মুবারক মাসে বেশি বেশি ইবাদত করা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভকে আপনার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণকরুন।
# সালাতের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মসজিদে হাযির হওয়ার ব্যাপারে মাসের শুরুতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত খতম (সমাপ্ত) করার সিদ্ধান্ত নিন। এই মহান মাসে নিয়মিত ক্বিয়ামুল লাইল পালন করার সংকল্প করুন। স্বীয় সম্পদ থেকে সাধ্যানুপাতে দান করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হউন।
# এই রমাদান মাসে আল্লাহ তাআলার কিতাবের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ গ্রহণ করুন। নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে হতে পারে:
-সঠিক উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত করা। ভাল একজন কুরআনের শিক্ষকের (ক্বারীর) নিকট কুরআন পড়া সংশোধন করে নেয়া। আর তা সম্ভব না হলে দক্ষ ক্বারীগণের তিলাওয়াতের ক্যাসেট অনুসরণ করা।
-আল্লাহ আপনাকে যতটুকু কুরআন হিফ্‌জ করার তাওফিক দিয়েছেন তা রিভিশন দেওয়া এবং হিফ্‌জ করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।
-কুরআনের আয়াতের তাফসীর পাঠ করা।এটা হতে পারে যে আয়াত বুঝতে আপনার সমস্যা হয় সে আয়াতের তাফসীর নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থগুলো (যেমন– তাফসীরে বাগাবী, তাফসীরে ইবনে কাছীর ও তাফসীরে সা‘দী) থেকে সেটা জেনে নেওয়া। অথবা নির্দিষ্ট কোন তাফসীর গ্রন্থ থেকে নিয়মিত পড়ার জন্য রুটিন তৈরি করে নেয়া। প্রথমে আমপারা (পারা-৩০), তারপর তাবারাকা পারা (পারা-২৯) এভাবে পড়তে থাকবেন।
-আল্লাহ তাআলার কিতাবে যে আদেশাবলী পাওয়া যায় তা বাস্তবায়নে যত্নশীল হওয়া।
আমরা দু‘আ’ করছি যাতে আল্লাহ তাআলা সিয়াম, ক্বিয়াম সম্পন্ন করার তাওফিক দানের মাধ্যমে আমাদের উপর রমাদান মাস পাওয়ার নেয়ামত পূর্ণ করে দেন। আমাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করে নেন এবং আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো মাফ করে দেন।

Address

Block A, Word 9, Jalkuri, NCC
Narayanganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jalkuri Poshchimpara Jame Mosque posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category