05/05/2025
আজ ৬ মে ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস ২০২৫!
বালাকোট এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
উপমহাদেশের খ্যাতনামা বুজুর্গ, আযাদী আন্দোলনের অকুতোভয় বীর সিপাহসালার, ঈমানী চেতনার প্রাণপুরুষ, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, মুহাম্মাদিয়া তরিকার ইমাম ও প্রবর্তক, আমীরুল মুমিনিন ফিল হিন্দ, আওলাদে রাসূল, শহীদে বালাকোট, আমাদের উর্ধতন পীর ও মুর্শিদ, হযরত সাইয়িদ আহমদ শহীদ বেরলভি [রহঃ] এর ১৯৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস ২০২৫!
সায়্যিদ আহমদ বেরলভী (র.) উত্তর ভারতের রায়-বেরেলীর একটি বিখ্যাত হাসানী সায়্যিদ পরিবারে ১৭৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৩১ সালের ৬ ই মে পাঞ্জাবের (বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে) হাযারা জেলার বালাকোট প্রান্তরে ১০ হাজার শিখ সৈন্যের বিরুদ্ধে তিনি মাত্র ৭০০ মুজাহিদ নিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ হন ও শাহাদাত বরণ করেন, আযাদী আন্দোলনের অকুতোভয় বীর সেনানী ও অগ্রপথিক, আমীরুল মুমিনীন ,ইমামুত তরীকত ,শহীদে বালাকোট আল্লামা সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর শাহাদাতের পর ১৯৪ বছর (২০২৫ সালের হিসেবে) অতিক্রান্ত হয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর জীবন ও আদর্শের উপর ইংরেজীসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনেক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।
প্রধানতঃ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এসব রচনায় একদিকে যেমন তাঁকে স্বাধীনতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিপাহসালার এবং সত্যিকার ইসলামের একজন প্রকৃত ধারক ও বাহকরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে, তেমনি আবার কারো কারো পক্ষ থেকে তাঁকে সাম্প্রদায়িক ও ওয়াহাবী বলেও চিত্রিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রবন্ধের স্বল্প পরিসরে আমরা তাঁর সঠিক পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো এবং সে সাথে সমকালে তাঁর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা বিচার করবো।
প্রথম কথা হলোঃ
সায়্যিদ আহমদ বেরলভী (র.) ওয়াহাবী ছিলেন না। এর অনেক কারণের একটি হলো- ওয়াহাবীরা যেখানে তাসাউফ অস্বীকার করে, সেখানে তিনি হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (র.)-এর সুযোগ্য সন্তান ও খলীফা শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী (র.)-এর বিখ্যাত খলীফা ছিলেন। তিনি আমাদের ভারতবর্ষের সুপরিচিত চার তরীকা- চিশতিয়া, কাদিরীয়া, নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দিদিয়া তরীকায় খিলাফতপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তাসাউফে এমন উন্নতি ও পারদর্শিতা অর্জন করেন যে তিনি পরবর্তীতে ‘তরীকায়ে মুহাম্মদিয়া’ নামে একটি শিরক ও বিদআতমুক্ত সমন্বিত সূফী তরীকা প্রবর্তন করেন,এটা কোনো আলাদা তরীকা না বরং প্রশিদ্ধ চার তরীকারই সমন্বিত রুপ।
দ্বিতীয়তঃ
ওয়াহাবীরা যেখানে ওলীআল্লাহ, নবী-রাসুল এমনকি হযরত রাসূলে আকরাম (সাঃ)-কেও মৃত মনে করে, সেখানে তিনি প্রিয়তম রাসূল (সা.)-কে জিন্দা নবী হিসেবে বিশ্বাস করেন। অসংখ্য বার তিনি স্বপ্নে রাসূল (সা.)-এর দীদার লাভ করেন ও তাঁর কাছ থেকে নির্দেশ ও হিদায়াত লাভ করেন।
তৃতীয়তঃ
অবিভক্ত বাংলা ও আসামে যে সব সূফী তরীকা তথা দরবার যথা- ফুরফুরা,ছারছীনা, জৌনপুর, সোনাকান্দা, ফুলতলী ইত্যাদি এগুলোর সিলসিলা এক পর্যায়ে সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভীতে যেয়ে মিলিত হয়েছে।
সুতরাং তাকে ওয়াহাবী বলা মানে এমন সূফী তরীকাকেও ওয়াহাবী বলে সাব্যস্ত করার শামিল।
বাংলা ও আসামের প্রভাবশালী সূফী নুর মোহাম্মদ নিজামপুরী (রহঃ), উপমহাদেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী (রহঃ) ,রসুলনোমা সুফি ফতেহ আলী ওয়ায়েসী (রহঃ), মুজাদ্দিদে জামান আবুবকর সিদ্দিকী (রহঃ), ছারছীনার পীরে কামেল শাহসূফী নেছারউদ্দিন আহমেদ (রহঃ), সোনাকান্দার পীরে কামেল হাফেজ ক্বারী মাওলানা আব্দুর রহমান হানাফি রহঃ, প্রখ্যাত আলিম বর্তমান আসামের করিমগঞ্জের বিখ্যাত বুযুর্গ মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ইয়াকুব বদরপুরী (র.), হযরত আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (র.)। সুতরাং যেসব বক্তা ও লেখক সায়্যিদ আহমদ বেরলভীকে ওয়াহাবী বলে চিহ্নিত করেন তাঁরা তথ্য সংকটের শিকার।
তবে তাঁকে যে ওয়াহাবী বলে অপবাদ দেওয়া হয় তার একটি কারণও আছে। আর তা হলো- ইংরেজরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম আলিমদের আরবের মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাবের অনুসারী বলে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করেছিল। উইলিয়াম হান্টারসহ অনেক লেখকই এ ধারার অপতৎপরতার সাথে যুক্ত।
ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় যে, ভারতে বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব ভারতে ইসলাম প্রচারিত হয়েছিল সূফীগণের মাধ্যমে। তাই এখানে যে ইসলাম জনগণের হৃদয়ের গভীরে শেকড় গেড়েছে সেটি সূফী আদলের ইসলাম। তাই যদি কোনভাবে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী আলিমদের সূফীবাদবিরোধী তথা ওয়াহাবী বলে চিত্রিত করা সম্ভব হয় তাহলে জনমনে তাঁদের যে উচ্চ স্থান আছে সেটা চলে যাবে এবং জনসাধারণ তাঁদের অনুবর্তী হবে না।
এই গভীর মনোসামাজিক ধর্মীয় কারণে সায়্যিদ আহমদসহ সেইসব সর্বত্যাগী সাহসী আলিমদের বিরুদ্ধে ওয়াহাবিয়াতের অভিযোগ উত্থাপন করার
অপচেষ্টা করা হয় ।
একদল নামধারী আলেম সিলসিলায়ে শাহ আহমদ সাইয়েদ রহঃ কে গালমন্দ করেন এবং ওয়াহাবী বলে গালাগাল করেন , পরিষ্কার ভাষায় তাদের বলতে চাই সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরলভীর অনুসারীরাই আজ দ্বীনের একমাত্র ধারক ও বাহক , হকপন্থী এদারা গুলোর পরিচালক এবং এই বাংলা ভারতে ইলমে নববীর পূনর্জাগরনের সিংহভাগ তাদের দ্বারাই সম্পাদিত হয়েছে।
আল্লাহ পাক হুজুর সাইয়্যিদ আহমাদ শহীদ বেরলভি [রহঃ] এর দরওয়াজা বুলন্দ করুন। আমাদেরকে তার নেক ফয়েজ, নেক তাওয়াজ্জুহ, নেক তাছার্রুফ, নেক নজর, নেক দু'আর মাধ্যমে কামিয়াবি দান করুন। 🌺🤲
Bangladesh Chhatra Hizbullah